• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bangladesh

রাজ্য

Illegally Entering: অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হল এক বাংলাদেশী যুবক। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ সোমবার রাতে ভাতারের এওরা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃত যুবক পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁর নাম অজিত বিশ্বাস। বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার সাহিলকোপা এলাকায়। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বছর ৩০ বয়সী যুবক সোমবার রাতে ভাতারের এওড়া গ্রামের কাছে ঘোরাঘুরি। যুবককে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ওই যুবক স্বীকার করে সে আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। সাড়ে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে দালাল মারফত পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে বলে যুবক জানায়। যুবক আরও বলে ভারতে অনুপ্রবেশের পর সে কোনওভাবে ভাতার থানা এলাকায় চলে এসেছে। যুবক তাঁর যে নাম ঠিকানা জানিয়েছে তা সঠিক কিনা সেটা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কি উদ্দেশ্যে ওই যুবক ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২১
বিদেশ

Boat Fire: বাংলাদেশে যাত্রিবাহী লঞ্চে বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে নিহত অন্তত ১৬, আহত ৪৮, খোঁজ চলছে নিখোঁজদের

বাংলাদেশের ঝালকাঠিতে যাত্রিবাহী লঞ্চে বৃহস্পতিবার রাত ৩টে নাগাদ আগুন লাগে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ৪৮ জনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই লঞ্চের বেশ কয়েক জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ। সেখানকার জেলা প্রশাসক মহম্মদ জোহর আলি এ কথা জানিয়েছেন।জানা গিয়েছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে লঞ্চের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের দমকল কর্তারা। যদিও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে লঞ্চের ইঞ্জিন থেকেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক অনুমান দমকল কর্তাদের। ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।এমভি-১০ অভিযান নামে একটি লঞ্চ হাজার খানেক যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। সুগন্ধী নদীতে যাওয়ার সময় আগুন লাগে ওই লঞ্চে। পরে লঞ্চটিকে দিয়াকুল গ্রামে নোঙর করানো হয়। আগুন লাগার পর অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দেন। তাঁদের একাংশ সাঁতার জানতেন। কিন্তু অনেকেই তা জানতেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে দমকলের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২১
কলকাতা

Arrest: পুরভোটের আগে শহরে ভিনদেশি যুবকদের আনাগোনা, আটক ২১, চলছে জোরদার তল্লাশি

পুরভোটের দোরগোড়ায় খাস কলকাতায় পাকড়াও ২১ জন বাংলাদেশি। বিনা নথিতেই কলকাতার আনন্দনগর এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন ওই বাংলাদেশিরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ২১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে, এদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিলনা।জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে এটিএসের একটি দল কলকাতায় আসে। তাঁরা কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসামীটিকে খুঁজতে যায় আনন্দপুর এলাকায়। এটিএসের সঙ্গেই ছিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। তখনই আনন্দপুর এলাকায় যৌথ অভিযান করতে গিয়ে ওই বাংলাদেশিদের খোঁজ পায় পুলিশ। সন্দেহবশত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। বৈধ্য নথি ছাড়াই আনন্দপুরে বসবাস করছে। কীজন্য রয়েছে বাংলাদেশিরা খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগেও এইভাবে জামাত জঙ্গিদের খোঁজ খাস কলকাতায় পেয়েছিল গোয়েন্দারা। এবার আনন্দপুরের ২১ জন বাংলাদেশি পাকড়াও-এর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।উত্তরপ্রদেশ পুলিশের জঙ্গি দমন শাখা এবং কলকাতা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রবিবার আনন্দপুরের গুলশন কলোনি এলাকা থেকে মাহফুজ়ুর রহমান নামে বছর তিরিশের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তার বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলায়। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে সন্দেহভাজন আরও ১৭ জনকে।দিন কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের জঙ্গি দমন শাখার তরফে মাহফুজুরের সম্পর্কে জানানো হয় লালবাজারকে। এ-ও জানানো হয়, কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছে সে। তার পরেই অভিযুক্তের মোবাইল টাওয়ারের অবস্থানের সূত্রে ধরে এ দিন গুলশন কলোনিতে যৌথ অভিযান চালায় উত্তরপ্রদেশ এটিএস এবং কলকাতা পুলিশের একটি দল।তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত মাহফুজুর। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত ছিল তার। তবে সে কত দিন আগে ভারতে এসেছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতের সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ আছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Abid Ali: অতিথি দেব ভব! মধ্যাহ্নভোজের আসরে অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত ব্যাটার, ভাইরাল পাকিস্তানের আবিদ আলি

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে দাপুটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে জিতেছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছে ইনিংস ও ৮ রানে। দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন পাকিস্তানের বোলাররা। তবে বোলারদের ছাপিয়ে এই টেস্টে শিরোনামে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের ওপেনার আবিদ আলি। ব্যাটিংয়ের জন্য নয়, তিনি শিরোনামে উঠে এসছেন অন্য কারণে। ম্যাচের পঞ্চম দিন বিড়ালের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন এই পাক ব্যাটার। তাঁর সেই মধ্যাহ্নভোজের ছবি ভাইরাল হয়েছে।ম্যাচের পঞ্চম দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতি চলছিল। হঠাও দেখা যায় খাবারের প্লেট হাতে ড্রেসিংরুমের বাইরে বেরিয়ে গ্যালারির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আবিদ আলি। ড্রেসিংরুমের পাশের গ্যালারির চেয়ারের নীচ থেকে একটা বিড়াল বেরিয়ে আসে। নিজের প্লেট থেকে খাবার নিয়ে আবিদ সেই খাবার বিড়ালকে খেতে দেন। বিড়ালকে খাওয়ানোর এই ভিডিও টুইট করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ক্যাপশনে লিখেছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজ আরও এক অতিথি মধ্যাহ্নভোজ করেছে।It is not only the players who are taking lunch #BANvPAK pic.twitter.com/wZ0k3ErPZW Pakistan Cricket (@TheRealPCB) December 8, 2021পশুর সেবা করে মহানুভবতার পরিচয় দিলেও সিরিজে বাংলাদেশের বোলারদের অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি আবিদ আলি। ২ টেস্টে ২৬৩ রান করে সিরিজ সেরার তকমা ছিনিয়ে নিয়েছেন। চলতি মরশুমে টেস্টে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানও তাঁরই। ৯ টেস্টে করেছেন ৬৯৫ রান।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ঘটেছে আরও একটা চমকপ্রদ ঘটনা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও বোলিং করেননি বাবর আজম। জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার বোলিং করেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে। তাও মাত্র ১ ওভার। দ্বিতীয় ওভার বোলিং করতে আসেন ম্যাচের পঞ্চমদিন শেষ সেশনে। বাংলাদেশ ইনিংসের তখন ৭৫ ওভার পেরিয়ে গেছে। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটি উইকেটে কাটিয়ে দিয়েছে প্রায় ২৩ ওভার। বাংলাদেশ তখন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি। বাবর বোলিং করতে এসে দ্বিতীয় বলেই জুটি ভাঙেন। মিরাজের প্রায় দেড় ঘণ্টার লড়াই শেষ হয় বাবরের বলে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 Word Cup : বাংলাদেশকে উড়িয়ে সেমিফাইনালের লড়াই জমিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া

টি২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ ১এ জমে উঠেছে সেমিফাইনালের লড়াই। এই গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। আর একটা জায়গার জন্য লড়াই অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে সেমিফাইনালের লড়াই জমিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। অসিদের জয়ের নায়ক অ্যাডাম জাম্পা। হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হলেও দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার। নেট রান রেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল অস্ট্রেলিয়া।সেমিফাইনালের লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ছিল সম্মান রক্ষার লড়াই। সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ বাংলাদেশ। অ্যাডাম জাম্পার স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের কোনও ব্যাটার। মাত্র ৩ জন বাংলাদেশের ব্যাটার তিন অঙ্কের রানে পৌঁছতে সমর্থ হন। সর্বোচ্চ রান করেন সামিম হোসেন।টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় বলেই লিটন দাসকে (০) তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। পরের ওভারেই সৌম্য সরকারকে (৫) বোল্ড করেন জস হ্যাজেলউড। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে মুশফিকুর রহিমকে (১) তুলে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৩ ওভারের মধ্যে ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ও মহম্মদ নইম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। নইমকে (১৭) তুলে নেন হ্যাজেলউড। এরপরই শুরু হয় অ্যাডাম জাম্পার ভেলকি। প্রথমে ফেরান আফিফ হোসেনকে (০)। দশম ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে তুলে নেন শামিম হোসেন (১৮ বলে ১৯) ও মেহেদি হাসানকে (০)। যদিও তাঁর হ্যাটট্রিক হয়নি। পরে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান (৪) ও সরিফুল ইসলামকে (০)। ১৫ ওভারে মাত্র ৭৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ১৯ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন। স্টার্ক ও হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নেন।৭৩ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে একেবারেই কঠিন ছিল না। অসিদের লক্ষ্য ছিল কম ওভারে রান তুলে নেট রান রেট বাড়িয়ে নেওয়া। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার (১৪ বলে ১৮) ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ (২০ বলে ৪০)। তাস্কিন আমেদের বলে অ্যারন ফিঞ্চ যখন ফিরে যান, অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৫ ওভারে ৫৮। পরের ওভারেই সরিফুল তুলে নেন ওয়ার্নারকে। তাস্কিন আমেদকে ৬ মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন মিচেল মার্শ (৫ বলে ১৬)। ৬.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

নভেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের লড়াই জমিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

সুপার ১২র গ্রুপ ১ থেকে ইতিমধ্যেই টি২০ বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়ে গেছে ইংল্যান্ড। বাকি জায়গার জন্য জোরদার লড়াই। লড়াই আরও জমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়। বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়াল প্রোটিয়ারা। কারণ ৩৯ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নিয়ে নেট রান রেট অনেকটাই বাড়িয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। শুরুটা ভাল করেও হঠাৎ ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২২। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে মহম্মদ নইমকে (৯) রাবাডা তুলে নিতেই ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলাদেশ শিবিরে। পরের বলেই রাবাডা ফেরান সৌম্য সরকারকে (০)। এক ওভার পরেই তুলে নেন মুশফিকুর রহিমকে (০)। রাবাডার বিধ্বংসী স্পেলে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। মাহমুদুল্লাকে (৩) তুলে নেন আনরিখ নর্টিয়ে। ৩৪ রানে ৫ উইকেটে হারিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে কিছুটা লড়াই করেন লিটন দাস (৩৬ বলে ২৪), মেহেদি হাসান (২৫ বলে ২৭)। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ৮৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৮ রানে ৩ উইকেট নেন নর্টিয়ে। ২০ রানে ৩ উইকেট নেন রাবাডা।ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম ওভারের শেষ বলে ফিরে যান রেজা হেনড্রিকস (৪)। তাস্কিন আমেদের বলে এলবিডব্লুউ হন। এরপর ১৫ বলে ১৬ রান করে মেহেদি হাসানের বলে বোল্ড হন কুইন্টন ডিকক। এইডেন মার্করাম (০) দ্রুত ফিরে গেলেও লক্ষ্য কম থাকায় সমস্যা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ভ্যান ডার ডুসেন ও অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২৭ বলে ২২ রান করে নাসুম আমেদের বলে আউট হন ডুসেন। ২৮ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন বাভুমা। ১৩.৩ ওভারে ৮৬/৪ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই নিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেল প্রোটিয়ারা। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে চাপে ফেলে দিল অস্ট্রেলিয়াকে।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : চলতি টি২০ বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন না সাকিব

টানা ৩ ম্যাচ হেরে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে নামবে মাহমুদুল্লার দল। তার আগেই ধাক্কা খেল বাংলাদেশ শিবির। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য বিশ্বকাপের বাকি দুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন দলের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন সাকিব। দলের চিকিৎসকরা বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারকে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। তারপর জানিয়ে দেন, সাকিবের পক্ষে টি২০ বিশ্বকাপে আর মাঠে নামা সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ফলে সাকিব ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের তেমন ক্ষতি হবে না। কারণ বাকি দুটি ম্যাচে সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে নামতে হবে বাংলাদেশকে। সাকিবের পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে তাঁকে কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে শিবিরে যোগ দিতে হবে। এর আগে পিঠে চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন মহম্মদ সইফুদ্দিন। তার পরিবর্তে বাংলাদেশ শিবিরে যোগ দিয়েছেন রুবেল হাসান। রিজার্ভ ক্রিকেটার হিসেবে রুবেল দলে ছিলেন।সুপার ১২তে একটা ম্যাচেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। বাকি দুটি ম্যাচ জিতে সম্মানরক্ষা করাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ শিবিরের। সাকিব ছিটকে যাওয়ায় দলের ভারসাম্য নষ্ট হবে। কারণ ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে সাকিবের। এবছর টি২০ বিশ্বকাপে শাহিদ আফ্রিদির রেকর্ড ভেঙেছেন সাকিব। এর আগে টি২০ বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল আফ্রিদির দখলে। এই বিশ্বকাপে আফ্রিদিকে টপকে গেছেন সাকিব আল হাসান। আফ্রিদির উইকেট সংখ্যা ছিল ৩৯। সাকিব দখল করেছেন ৪১ উইকেট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লসিথ মালিঙ্গা। তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩৮ উইকেট। এবছর টি২০ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের স্পিন বোলিংয়ের ওপরই বেশি নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের দুটি পর্ব মিলিয়ে সাকিব ৬টি ম্যাচে ১১টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। শ্রীলঙ্কার হাসারাঙ্গাও ১১টি উইকেট দখল করে যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছেন। সাকিব ছিটকে যাওয়ায় হাসারাঙ্গার কাছে দারুণ সুযোগ এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী হওয়ার। হাসারাঙ্গা ও সাকিবের পরেই রয়েছেন স্কটল্যান্ডের জোশ ডেভে (৯), শ্রীলঙ্কার মাহিশ থিকসানা (৮), লাহিরু কুমারা (৮) ও বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান (৮)।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ক্যারিবিয়ানদের কাছে ৩ রানে হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে গেলে দুই দলের কাছেই জেতা জরুরি ছিল। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের। গ্রুপ অফ ডেথে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ রানে হেরে সেমিফাইনালের আশা শেষ মাহমুদুল্লাদের। অন্যদিকে, জিতে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল ক্যারিবিয়ানরা। যদিও সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ। গ্রুপ লিগের বাকি দুটি ম্যাচ জেতার পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের ফলাফলের দিকে। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। আগে ম্যাচে মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাদ পড়েন লেন্ডল সিমন্স। তাঁর পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পান রস্টন চেজ। টি২০ অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়েন তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ বলে করেন ৩৯। যদিও সিমন্সের পরিবর্তে ওপেন করতে নামা ক্রিস গেল ব্যর্থ। ১০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে মেহেদি হাসানের বলে বোল্ড হন তিনি। গেল আউট হওয়ার আগে লুইসকে (৬) তুলে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। হেটমায়েরও (৯) রান পাননি। তিনি মেহেদি হাসানের শিকার। ১৬ বল খেলে ৮ রান করে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন কায়রন পোলার্ড। পোলার্ড বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই এক বল না খেলেই রান আউট হয়ে ফিরে যান আন্দ্রে রাসেল। রস্টন চেজের শট তাস্কিন আমেদের পায়ে লেগে যখন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে দেয়, তখন ক্রিজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন রাসেল। এরপরই ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। ২২ বলে তিনি করেন ৪০। শেষ পর্যন্ত জেসন হোল্ডারের (৫ বলে ১৫) সৌজন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ১৪২। পরে আবার ব্যাট করতে নেমে পোলার্ড ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। মেহেদি হাসান ২৭ রানে ২টি, শরিফুল ইসলাম ২০ রানে ২টি ও মুস্তাফিজুর রহমান ৪৩ রানে ২টি উইকেট পান। জেতার জন্য মরিয়া বাংলাদেশও এদিন ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন করেছিল। লিটন দাসের পরিবর্তে মহম্মদ নইমের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু তিনি সুবিধা করতে পারেননি। ১২ বলে মাত্র ৯ রান করে তিনি রাসেলের বলে আউট হন। সৌম্য সরকার ও মহম্মদ নঈম দুজনেই ১৭ রান করেন। ওপেন করতে নেমে শাকিব ৯ রানে আউট হন। মুশফিকুর রহিম ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। তিন নম্বরে নামাআ লিটন দাস ৪৩ বলে ৪৪ রান করে ১৯তম ওভারের শেষ বলে আউট হন। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জেতার জন্য দরকার ছিল ১৩। ৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ৫ উইকেটে ১৩৯/৫ রানে থেমে যায়। মাহমুদুল্লা ২৪ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশকে

২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপে অল্পের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল। দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ড। কার্লোস ব্রেথওয়েটের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংরেজদের। সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে এবার যে টি২০ বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেছে শুরু থেকেই প্রমাণ করে চলেছে ইংল্যান্ড। এবারও তারা খেতাবের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিপন্ন করেছে। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে ইংল্যান্ড।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লা। লক্ষ্য ছিল ভাল শুরু করে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলা। সে সুযোগ বাংলাদেশকে দেননি ইংল্যান্ড বোলাররা। আইপিএল খেলার সুবাদে আবু ধাবির পরিবেশ সম্পর্কে দারুণ ওয়াকিবহাল ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ইওয়িন মর্গান, মইন আলিরা। মন্থর উইকেটে বাংলাদেশ ব্যাটারদের আটকাতে মর্গ্যানের শুরুতেই মইনের হাতে বল তুলে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজিতে কোনও ভুল ছিল না। শুরুতেই মইনের ধাক্কায় বেসামাল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে পরপর দুবলে লিটন দাস (৯) ও মহম্মদ নইমকে (৫) তুলে নিয়ে মইন যে ধাক্কা দিয়েছিলেন, তা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসতে পারেনি। সাকিবও (৪) ব্যর্থ। তাঁকে ফেরান ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডারের আঁটোসাটো বোলিংয়ে রান তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দেন ওকস।মুশফিকুর রহিম (৩০ বলে ২৯) ও মাহমুদুল্লা (২৪ বলে ১৯) সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। বাংলাদেশ ইনিংসের শেষদিকে ধাক্কা দেন বাঁহাতি জোরে বোলার টাইমল মিলস। নুরুল হাসান করেন ১৬। নাসুম আমেদ ৯ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ।বাংলাদেশ বোলিং কোচ ওটিস গিবসন ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন, ইংল্যান্ড ব্যাটারদের অতি ইতিবাচক মানসিকতার ফায়দা তুলবেন। এদিন সে সুযোগ দেননি জেসন রয়, জস বাটলাররা। পঞ্চম ওভারে নাসুম আমেদের বলে জস বাটলার ফিরে গেলেও সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের। বাটলার ১৮ বলে করেন ১৮। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান জেসন রয় ও দাওইদ মালান। ৩৮ বলে ৬১ রান করে সরিফুল ইসলামের বলে নাসুম আমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জেসন রয়। বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ১৩ রান দুরে। ১৪.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড (১২৬/২)। দাওইদ মালান ২৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Pori Moni : মাদক মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল পরীমণির

পরীমণি মাদক আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আদালত প্রাঙ্গণে এসে গেইটের বাইরে অপেক্ষা করেন অভিনেত্রী। সাড়ে ৯টার দিকে গেট খোলা হরে তিনি মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে সোফায় বসে শুনানির জন্য অপেক্ষা করেন। সাড়ে ১০টার দিকে তার মামলার শুনানি শুরু হয় এবং শেষ হয় মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে। তারপরেই সকাল ১০.৩৭ মিনিটে পরীমণি আদালত ত্যাগ করেন।অভিনেত্রী পরীমণির বিরুদ্ধে বনানী থানার মাদক আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৫ নভেম্বর দিন রেখেছে আদালত। ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত দায়রা জজ রবিউল আলম মঙ্গলবার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শুনানির এই তারিখ ঠিক করে দেন। পরীমণি-সহ মামলার তিন আসামি মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ছুটিতে থাকায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে এ আদেশ দেন।পরীমণির পক্ষে আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভি আগের শর্তে জামিনের আর্জি জানিয়ে বলেন, এই চিত্রনায়িকার শুটিংয়ের শিডিউল আছে, সেজন্য হাজিরার একটি লম্বা তারিখ প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল শুনানিতে কোনও আপত্তি করেননি।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : সামনের বিশ্বকাপে কীভাবে সরাসরি মূলপর্বে খেলবে বাংলাদেশ?‌

এবছর টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলে সুপার ১২র ছাড়পত্র পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সামনের টি২০ বিশ্বকাপে আর যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলতে হবে না। সরাসরি খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়াও সরাসরি মূলপর্বে খেলবে।২০২২ টি২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ায়। পরের বিশ্বকাপ ১৬টি দলকে নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে আইসিসি। এই বিশ্বকাপে সুপার ১২তে খেলা ১২টি দল সরাসরি মূলপর্বে খেলবে। বাকি ৪টি দল যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে উঠে আসবে। এবছর বিশ্বকাপে দারুণ চমক দেখিয়েছে স্কটল্যান্ড, নামিবিয়ার মতো দেশগুলি। টি২০ বিশ্বকাপের আবির্ভাবেই মূলপর্বে উঠে এসেছে নামিবিয়া। ফলে এইসব দেশকে ঘিরে আইসিসির প্রত্যাশা ক্রমে বাড়ছে। তাই বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইসিসি মননে করছে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তুলতে এইসব দেশের ভুমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া সরাসরি খেলার সুযোগ পেলেও বাকি চারটি দেশকে যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলেই উঠে আসতে হবে।এদিকে, রবিবার শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পাশাপাশি আরও বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ শিবির। জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের ওপেনার লিটন দাসকে। শুধু তাঁর একারই নয়, জরিমানা হয়েছে শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার লাহিরু কুমারারও। রবিবার টি২০ বিশ্বকাপে সুপার ১২র শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ ম্যাচে লিটন দাস আউট হওয়ার পর তাঁর দিকে তেড়ে যান শ্রীলঙ্কার লাহিরু কুমারা। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গীর পাশাপাশি গালাগালিও করেন। পাল্টা জবাব দেন লিটন দাস। এরপর লাহিরু ছুটে গিয়ে লিটনকে ধাক্কা দেন। আম্পায়ার ও অন্য ক্রিকেটারদের হস্তক্ষেপে জল বেশিদূর গড়ায়নি।পরে ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথ দুই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে লিটন দাস ও লাহিরু কুমারার জরিমানা ধার্য করেন। লাহিরু আইসিসির নিয়মের ২.৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদিকে লিটন দাস দাস লঙ্ঘন করেছেন ১ নম্বর ধারা। লাহিরুর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা হয়েছে। অন্যদিকে, লিটনের জরিমানা হয়েছে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ। ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথের দেওয়া এই শাস্তি দুই ক্রিকেটারই মেনে নিয়েছেন।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা জিতল ৫ উইকেটে

আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ। সুপার ১২-র ম্যাচে মাহমুদুল্লার দলকে ৫ উইকেটে হারাল শ্রীলঙ্কা। অপরাজিত ৮০ রান করে ম্যাচের নায়ক চারিথ আসালঙ্কা। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান দানুস শনাকা। দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার মহম্মদ নঈম ও লিটন দাস। দুজনের ব্যাটেই বাংলাদেশের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত ছিল। আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি লিটন দাস। ১৬ বলে ১৬ রানগ করে তিনি লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছিল বড় রানের জন্য ক্রিজে নেমেছেন। আসালঙ্কার এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারাতে ছিল তারই ইঙ্গিত। প্রথম রাউন্ডে দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব। ফর্মে থাকা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের লেগ স্টাম্প ছিটকে দেন করুণারত্নে। ৭ বলে মাত্র ১০ রান করে তিনি আউট হন।অভিজ্ঞতার যে আলাদা মূল্য আছে বুঝিয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম রাউন্ডে ব্যাটে রান ছিল না। আসল সময়ে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ওপেনার মহম্মদ নঈমের সঙ্গে জুটি বেঁধে তোলেন ৭৩ রান। এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। ১৭তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বলে নঈম আউট হন। ৫২ বলে তিনি করে ৬২। আফিফ হোসেন ৭ রান করে রান আউট হন। ৩৭ বলে ৫৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টা ৪, ২টি ৬। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ৫ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭১/৪ তোলে বাংলাদেশ।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ বলেই ফিরে যান কুশল পেরেরা (১)। নাসুম আমেদের বলে তিনি বোল্ড হন। এরপর দলের বিপর্যয় সামাল দেন পাথুম নিসাঙ্কা ও চরিথ আসালঙ্কা। জুটিতে ওঠে ৬৯। বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। ২১ বলে ২৪ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হন নিসাঙ্কা। নিসাঙ্কাক আউট করে টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। টপকে গেলেন শাহিদ আফ্রিদিকে (৩৯)। একই ওভারে তুলে নেন আভিষ্কা ফার্নান্দোকে (০)। পরের ওভারেই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে (৬) ফেরান সইফুদ্দিন।১১ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলকে চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসেন আসালঙ্কা ও ভানুকা রাজাপক্ষে। তাঁদের ৮৬ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ৩১ বলে ৫৩ রান করে নাসুম আমেদের বলে আউট হন রাজাপক্ষে। তিনি যখন আউট হন শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৬৫। এরপর বাকি কাজ সারেন আসালঙ্কা। তিনি ৪৯ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৭ বল বাকি থাকতেই ১৭২/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : সুপার ১২–তে বাংলাদেশ, আফ্রিদির রেকর্ড স্পর্শ সাকিবের

স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ হেরে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। আদৌও সুপার ১২র ছাড়পত্র পাবে তো? দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়। তবুও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ শিবির, গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না। মরণবাঁচন ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৮৪ রানে উড়িয়ে সুপার ১২এ জায়গা করে নিল বাংলাদেশ। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে ম্যাচের নায়ক সাকিব আল হাসান। এদিন তিনি টি২০ বিশ্বকাপে শাহিদ আফ্রিদির সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড স্পর্শ করেন।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ফিরে যান আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা মহম্মদ নঈম (০)। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ও সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮১/৭ রান তোলে বাংলাদেশ। ৩টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৫০ রান করেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। অন্যদিকে সাকিব আল হাসান ৩৭ বলে করেন ৪৬। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৩টি ৬। লিটন দাস করেন ২৯, আফিফ হোসেন ২১, মুশফিকুর রহিম ৫। ৬ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ সৈফুদ্দিন। পাপুয়া নিউ গিনির হয়ে কাবুয়া মোরেয়া, ড্যামিয়েন রাভু ও আসাদ ভালা ২টি করে উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাপুয়া নিউ গিনি। ১১ ওভারের মধ্যে ২৯ রানে ৭ উইকেট হারায়। ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হল্যান্ড মাত্র ৩৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। পাপুয়া নিউ গিনিকে সবথেকে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন কিপলিন ডরিগা। তিনি দলকে টেনে নিয়ে যান। শেষ পর্যর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ৯৭ রানে শেষ হয় পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংস। ৩৪ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকলেন ডরিগা। পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংসে ধস নামান সাকিব আল হাসান। তিনি ৪ ওভারে ৯ রানে ৪ উইকেট নেন। টি২০ বিশ্বকাপে সাকিবের উইকেটসংখ্যা হল ৩৯। খেলেছেন ২৮ ম্যাচ। ৩৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষে ছিলেন পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদি। সাকিব আফ্রিদিকে স্পর্শ করেছেন। মহম্মদ সৈফুদ্দিন ও তাস্কিন আহমেদ ২টি করে উইকেট দখল করেন। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট।গ্রুপের অন্য ম্যাচে ওমানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সুপার ১২তে গেল স্কটল্যান্ড। তাদের ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। বাংলাদেশ দ্বিতীয় হয়ে সুপার ১২তে গেল। বাংলাদেশের ৩ ম্যাচে পয়েন্ট ৪। এদিন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ওমান তোলে ১২২। ১৭ ওভারে ১২৩/২ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় স্কটল্যান্ড।

অক্টোবর ২১, ২০২১
বিদেশ

Bangladesh: নিজের ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে অন্যের ধর্মকে আঘাত করতে গিয়ে

অন্যের ধর্মকে আঘাত দিয়ে নিজের ধর্মকে হেয় করা হচ্ছে। কুমিল্লা-কাণ্ড এবং তার পরবর্তী অশান্তির কড়া নিন্দা করে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।কুমিল্লার ঘটনা এবং তার পরবর্তী হিংসাপর্বের উপযুক্ত বিচারের আশ্বাসও দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামি লিগের একটি দপ্তরের উদ্বোধন কর্মসূচিতে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি বলেন, অন্য ধর্মকে অবমাননার শিক্ষা ইসলাম দেয় না। কুমিল্লার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব, পবিত্র কোরান শরিফকে অবমাননা করেছে, অন্যের ধর্মকে অবমাননা করতে গিয়ে।আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলা পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচিসাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলিকে উপযুক্ত সরকারি সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়ে হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের চেতনা অসাম্প্রদায়িক। এখানে সকলে স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারবে।প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কুমিল্লার ঘটনায় দোষী ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গভীর রাতে স্থানীয় একটি মাজার থেকে পবিত্র কোরান নিয়ে গিয়ে দুর্গামণ্ডপে রেখেছিল কুমিল্লার সুজানগরের বাসিন্দা ইকবাল। তবে এখনও পলাতক ইকবালকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

অক্টোবর ২১, ২০২১
কলকাতা

Protest: বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলা পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচি

বাংলা পক্ষ ভারতের বাঙালির অধিকার আদায়ের জাতীয় সংগঠন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সদ্য ঘটা সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে উত্তর ২৪ পরগনা শহরাঞ্চল সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে বরানগর বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত টবিনরোড অঞ্চলে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনের প্রধান বক্তা গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী-সহ নানা জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালিদের দুর্গাপুজোয় সাম্প্রদায়িক গুন্ডা আক্রমণকে ধিক্কার! বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারা বাংলাদেশ সরকারকে ধিক্কার! জামাত-এ-ইসলামি ও পাকিস্তান চেতনার বাহক সকল বাঙালি-বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করো!আরও পড়ুনঃ ছেলেকে দেখতে জেলে ছুটলেন শাহরুখঅন্যদিকে, বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন, ভারতের হিন্দি বলয়জুড়ে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে দুর্গাপুজোয় আক্রমণ ও খুনকে ধিক্কার! পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর এলাকায় বহিরাগত বিএসএফ জওয়ান দ্বারা দুর্গাপুজোয় গুলি চালানোকে ধিক্কার ! সংগঠনের ওপর শীর্ষ পরিষদ সদস্য অমিত সেন বলেন, আব্বাস সিদ্দিকী, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি-সহ ধর্মীয় হিংসার সকল উস্কানীদাতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে !বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে চাওয়া পশ্চিমবঙ্গ-বিরোধীদের ধিক্কার! তিস্তা চুক্তি ধ্বংস করো! পশ্চিমবঙ্গের ১০০০০ একর জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকার ধিক্কার! ওই জমি ফেরত চাই! বাংলাদেশে ২০১৪-র পর ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে ভারতে আসা বাঙালিকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বানানো সিএএ আইন বাতিল করো!বাংলাদেশ থেকে নিপীড়িত হয়ে ভারতে আসা বাঙালিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানো বন্ধ করো! কার স্বার্থে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার সম্পূর্ণ সিল করছেনা বিএসএফ, অমিত শা জবাব দাও! বার বার সংখ্যালঘুর উপর আক্রমণ সত্ত্বেও বাংলাদেশকে কোটি কোটি ডলার দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারকে ধিক্কার!

অক্টোবর ২১, ২০২১
বিদেশ

Bangladesh: কুমিল্লার ঘটনায় শনাক্ত মূল অভিযুক্ত!

বাংলাদেশের ঘটনায় উত্তাল ওপাড় থেকে এপাড় বাংলা। ইতিমধ্যেই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা গিয়েছে বলে দাবি করছে সেদেশের পুলিশ। কুমিল্লার একটি পুজোমণ্ডপে রাতের অন্ধকারে অন্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ রেখে যাওয়া লোকটিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। বুধবার তিনি বলেন, সিসিটিভি-র ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করার পরে পরিচয়ও মিলেছে। লোকটির নাম ইকবাল হোসেন (৩৫)। বাবার নাম নুর আহমেদ আলম। বাড়ি কুমিল্লা শহরের সুজানগরে।আরও পড়ুনঃ ১০০ কোটি টিকাকরণের পথে দেশ, ভ্যাকসিন নেই বলে চিৎকার করছে রাজ্যবাংলাদেশের সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশিত খবর অনুসারে,পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সিসিটিভি-তে দুষ্কৃতীর ছবি ওঠার পরে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নামে। তার পরেই এই অগ্রগতি। ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সেখানকার পুলিশ ও সরকার প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে। গোয়েন্দারা দেখেছেন, আফগানিস্তানে তালিবান দখলদারি কায়েম হওয়ার পরে মাস দুয়েক ধরে ঢাকার পাকিস্তানি দূতাবাস এবং তাদের সহযোগীরা খুবই তৎপর। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে শাসক দল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতেই এই হামলা ও হিংসার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কাজে বিরোধী দল বিএনপি-র হাত রয়েছে।আরও পড়ুনঃ কালনা রোডে টোটো ও বালি বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ৪, কেন এই দুর্ঘটনা?এদিকে, পুলিশের কাছে ইকবালের পরিবার দাবি করেছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে পরিবারের বাইরে অন্য কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এখনও পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশের মত, কুমিল্লার সুজানগরের এ যুবকই পবিত্র কোরান শরিফ নিয়ে কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র নানুয়া দীঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে রাখেন। এরপর তা নিয়ে দেশব্যাপী তুলকালাম ঘটে।এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত উচ্চ পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইকবাল হোসেন স্থানীয় একটি মাজার সংলগ্ন মসজিদ থেকে কোরান শরিফ সংগ্রহ করে মণ্ডপে গিয়ে ঢোকেন। মূলত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই তাকে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। এরই মধ্যে তাদের কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২১
রাজনীতি

Bangladesh-BJP: বাংলাদেশের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতায় অসন্তুষ্ট বিজেপি

বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে বুধবার অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এ দিন তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের ভূমিকায় আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। দলের অবস্থানও একই বলেই জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করেন তিনি।সুকান্ত মজুমদার বলেন, এত বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে অথচ সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফ থেকে বা মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনও ধরনের বিবৃতি আমরা পাইনি। তাঁর দাবি, যে ধরনের বিবৃতি দেওয়া উচিৎ ছিল, তা দেওয়া হয়নি।আরও পড়ুনঃ অবশেষে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাবুলগতকালই বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ করে আছেন কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র জাগো বাংলায় মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে বিজেপি কুৎসিত রাজনীতি করছে।আজ সেই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কী কথা বলেছে না বলেছে আপনারা ভবিষ্যতে ঠিক জানতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের একটি আইন সিএএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলতে পারেন যে তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘে যাবেন, সে ক্ষেত্রে তার পার্শ্ববর্তী দেশ যেখানে নাকি বাঙালিরাই থাকে সেই জায়গায় এত বড় ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলছেন না, এটা খুব চিন্তার বিষয় বলে আমার মনে হয়।

অক্টোবর ২০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চমক ওমানের, হেরে চাপে বাংলাদেশ

বেজে গেল টি২০ বিশ্বকাপের ঘন্টা। রবিবারই ওমানের আল আমেরাতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ বির উদ্বোধনী ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিল ওমান। বিশ্বকাপের আত্মপ্রকাশেই চমক মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের কাছে ৬ রানে হেরে চাপে বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডে দুটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল সুপার ১২তে খেলার সুযোগ পাবে। সেইদিক দিয়ে প্রথম ম্যাচ জিতে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল ওমান।টস জিতে এদিন পাপুয়া নিউ গিনিকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ওমান। স্কোর বোর্ডে কোনও রান যোগ হওয়ার আগেই দুটি উইকেট হারায় পাপুয়া নিউ গিনি। তা সত্ত্বেও তারা ৯ উইকেটে ১২৯ রানে পৌঁছয় অধিনায়ক আসাদ ভালা ও চার্লস আমিনির সৌজন্যে। ৪৩ বলে ৫৬ রান করেন আসাদ। আমিনি ২৬ বলে করেন ৩৭। ওমানের হয়ে অধিনায়ক জিশান মাকসুদ ২০ রানে ৪ উইকেট নেন। ব্যাট করতে নেমে দারুণ আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন ওমানের দুই ওপেনার আকিব ইলিয়াস ও যতীন্দার সিং। মাত্র ১৩.৪ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ওমানকে (১৩১/০)। আকিব ইলিয়াস ৪৩ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। আকিবের থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন যতীন্দার সিং। তিনি ৪২ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। যতীন্দারের ইনিংসে রয়েছে ৭টি ৪ এবং ৪টি ৬। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড। টস জিতে স্কটল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদ্দুলা। বাংলাদেশ স্পিনারদের বিরুদ্ধে একেবারেই দাঁড়াতে পারেননি স্কটল্যান্ডের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। ওপেনার জর্জ মুনসে ২৩ বলে ২৯ রান করেন। একসময় ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে ১৪০/৯ রানে পৌঁছে দেন ক্রিস গ্রেভস (২৮ বলে ৪৫) ও মার্ক ওয়াট (১৭ বলে ২২)। মেহদি হাসান ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। সাকিব ১৭ রান ২ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও ভাল হয়নি। ১৮ রানের মধ্যে সৌম্য সরকার (৫) ও লিটন দাসকে (৫) হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। সাকিব (২০), মুশফিকুর রহিম (৩৮), মাহমুদুল্লা (২৩), আফিফ হোসেনরা (১৮) কিছুটা লড়াই করলেও দলকে জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২০ ওভারে ১৩৪/৭ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। প্রথম ম্যাচেই হেরে চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ।

অক্টোবর ১৭, ২০২১
কলকাতা

Protest: আব্বাস সিদ্দিকির মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ তা থেকে সুরক্ষিত আছে। এখানকার বাঙালি নিজেদের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে ধর্ম নির্বিশেষে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। মৌলবাদী রাজনীতিবিদ আব্বাস সিদ্দিকির মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় অবিলম্বে পদক্ষেপ করার আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। অপরাধীদের কোনও ধর্ম হয় না এই বলে নিন্দা করে লিখিত বিবৃতি জারি করেছেন তিনি। আর তাঁর এমন বিবৃতিতেই রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে ইসকন মন্দিরে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতঘটনার নিন্দা করে অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন,গতকাল আব্বাস সিদ্দিকির উক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কংগ্রেস কোনোদিন বরদাস্ত করেনি, তার বিরুদ্ধে শতাব্দীব্যাপী লড়াই করে যাচ্ছে আগামী দিনেও করবে, শেষ রক্তবিন্দু অবধি লড়ে যাবে কংগ্রেস, ভোটের অঙ্ক-এর চেয়ে বাংলা তথা দেশের সম্প্রীতি রক্ষা কংগ্রেসের কাছে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির তরফে রাজ্যজুড়ে আজ ও আগামীকাল (১৭.১০.২০২১- ১৮.১০.২০২১) পার্শ্ববর্তী দেশের বাঙ্গালী হিন্দু ভাই বোনদের ওপর নাটকীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ও করবে।

অক্টোবর ১৭, ২০২১
বিদেশ

Bangladesh: বাংলাদেশে ইসকন মন্দিরে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

বাংলাদেশ দুর্গাপুজো মণ্ডপ ও ইস্কনের মন্দিরে দুষ্কৃতী হামলা নিয়ে ঢাকার সঙ্গে কথা বলেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী-সহ আরও ৪ আধিকারিক।বাংলাদেশের সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক হিংসাকে কেন্দ্র করে ফুটছে বাংলাদেশ। ধর্মীয় উন্মাদনার জেরে আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। একের পর এক মন্দিরে চলে ভাঙচুর। সংকটকালে ইসকন মন্দিরেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে খবর। নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মন্দিরের এক সদস্যকে।বাংলাদেশে গুজব রটিয়ে একাধিক দুর্গামণ্ডপে হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। শেখ হাসিনার সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে সন্তোষপ্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি জানান,বাংলাদেশে ধর্মীয়স্থানে হামলার বেশ কিছু বিরক্তিকর ছবি পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে দেশের সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্তা দিয়েছেন, আশা করছি নিজেদের দেশে যে কোনওরকম প্রতিক্রিয়ার মোকাবিলায় পদক্ষেপ করবে ভারত। যাতে বাংলাদেশে পরিস্থিতির অবনতি না হতে পারে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, কুমিল্লায় ধর্মদ্রোহের অভিযোগে দুর্গামণ্ডপে হামলা করে দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনার পর একাধিক এলাকায় মৌলবাদিদের আক্রমণের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা। প্রাথমিকভাবে এর পিছনে জামাত-ই-ইসলামির পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শেখ হাসিনা বার্তা দেন, আমরা আশা করছি ভারতে এমন কোনও ঘটনা ঘটবে না যা বাংলাদেশের পরিস্থিতি বা হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করবে। সব ঘটনার তদন্ত করা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। এক্ষেত্রে ধর্ম দেখা হবে না। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেব।এই হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এপার বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ। ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এদিকে বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের তুমুল আনন্দোৎসবের জায়গা দখল করেছে ভয়ভীতি আর আশঙ্কা। ৩২ হাজারের বেশি পুজো হয় বাংলাদেশে। পূজো মণ্ডপকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল সেখানে কুমিল্লার একটি পুজো মণ্ডপের অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। আমরা অসহায়, আমাদের তেমন করণীয় নেই। তবুও শর্তহীনভাবে ভাষা, সম্প্রদায়, সীমানা নির্বিশেষে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক কর্তব্য।

অক্টোবর ১৭, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal