• ১ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

West BEngal

রাজ্য

শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডবের পর ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড়! বাংলায় কী প্রভাব পড়বে দিতওয়াহার?

শ্রীলঙ্কার উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহা এখন ভারতের দিকে এগোচ্ছে। তবে আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঝড়ের সরাসরি কোনও প্রভাব বাংলায় পড়বে না। ঝড়টি তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলের কাছাকাছি এসে সমুদ্রের মধ্যেই শক্তি হারাবে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হাওয়ার গতিপথ বদলাচ্ছে, যার ফলে বাংলায় তাপমাত্রার ওঠানামা শুরু হয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে কমছে রাতের তাপমাত্রা। রাতের দিকে সামান্য উষ্ণতা থাকলেও সকালবেলা হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। দু-একটি জায়গায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের কাছাকাছি নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কলকাতার তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে রয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ১৫ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারের পর ধীরে ধীরে আরও নামবে তাপমাত্রা। শুক্র ও শনিবার নাগাদ কলকাতায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রিতে এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে ১১ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে। উইকেন্ডে শীতের আমেজ ফের জোরালো হতে পারে।উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় আপাতত তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তন নেই। বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে। তবে মালদহ ও দুই দিনাজপুরে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি আবার পারদ নামতে শুরু করবে।দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দিতওয়াহা উপকূলের কাছে এলেও সমুদ্রেই শক্তি হারাবে। ঝড়টি স্থলভাগ থেকে ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করবে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে হরিয়ানার উপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার সম্ভাবনাও আছে।কলকাতায় আগামী কয়েকদিন সকালে হালকা কুয়াশা থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকায় সকাল-সন্ধ্যায় শীতের আমেজ কিছুটা কম থাকবে। দিনের বেলাতেও শীত বিশেষ অনুভূত হবে না। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে, কোথাও আংশিক মেঘ দেখা যেতে পারে। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৯ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকবে ৪৮ থেকে ৯৪ শতাংশের মধ্যে।দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তাপমাত্রার খুব একটা বদল হবে না। মঙ্গলবারের পর থেকে পরের দু-তিন দিনে প্রায় তিন ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে। শুক্রবার নাগাদ কলকাতা ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভালো রকম ঠান্ডা পড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে ভোরের দিকে। উপকূলের জেলাগুলিতে কুয়াশার প্রভাব বেশি হতে পারে। তবে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।উত্তরবঙ্গেও শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। সকালে ও রাতে শীতের আমেজ থাকবে, কিন্তু দিনের দিকে শীত অনেকটাই কম অনুভূত হবে। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির কাছে থাকতে পারে। মালদহে পারদ থাকবে প্রায় ১৭ ডিগ্রির ঘরে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে সকালের দিকে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি। উইকেন্ডে পাহাড়ি এলাকাতেও কুয়াশা বাড়তে পারে

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
রাজ্য

দু’টি নিম্নচাপের ধাক্কা, শীত কি তবে বিদায় নিচ্ছে? বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদল

একসঙ্গে দুটি নিম্নচাপের প্রভাবে ফের বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গে সামান্য বেড়েছে তাপমাত্রা। এই রকম আবহাওয়া সোমবার পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে আবার তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে। আপাতত কলকাতার তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১৪ ডিগ্রির ঘরে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকেও নিচেই থাকবে। অনেক জেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৭ থেকে ১৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। শনিবার ও রবিবার কুয়াশার সম্ভাবনাও বাড়বে। তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশা দেখা যেতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশার প্রভাব বেশি হতে পারে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।মঙ্গলবার থেকে আবার ঠান্ডা বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য কম। গতকাল বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেটিও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচে।উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই শীতের জাঁকিয়ে উপস্থিতি। পাহাড়ি শহর দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সকাল ও রাতের দিকে শীতের প্রভাব স্পষ্ট। দিনের বেলায় অবশ্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

ঔপনিবেশিক নামের অবসান, বাংলার রাজভবন এখন জনগণের ‘লোক ভবন’

বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-এর আবেদনে এবার সিলমোহর দিল কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক ছাপ সরিয়ে রাজভবনের নতুন নাম ঠিক হল লোক ভবন। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর ইতিমধ্যেই রাজভবনের এক্স হ্যান্ডেলের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে লোকভবন। সেই এক্স হ্যান্ডেল থেকেই নতুন নামকরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগ তৈরি করতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক নাম ছেড়ে এবার মানুষের রাজভবন হিসেবেই পরিচিত হতে চলেছে লোক ভবন।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
দেশ

‘ভুয়ো ভোটারে সরকার বৈধ?’ কমিশনের সামনে বিস্ফোরক প্রশ্ন তৃণমূলের

একুশ জুলাই শহিদ মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারিই দিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা SIR ঘিরে সমস্যা তৈরি হলে বাংলা ছেড়ে দিল্লি যেতে এক মুহূর্তও দেরি হবে না। কয়েক মাসের ব্যবধান। বাংলায় SIR শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিল। শুক্রবার সকালে দিল্লির বুকে নির্বাচন কমিশনের দরজায় হাজির হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল।দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-এর নেতৃত্বে মোট ১০ জন সাংসদ কমিশনের দফতরে যান। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকেই এই প্রতিনিধি দল গঠন করে দিয়েছিলেন অভিষেক নিজেই। সেই দলে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল এবং সাকেত গোখলে।শুক্রবার প্রায় দুঘণ্টা ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ডেরেকরা। বৈঠক শুরুর আগেই কমিশনারের হাতে একটি তালিকা তুলে দেন তৃণমূল সাংসদরা। সেই তালিকামৃতের তালিকা। ডেরেকের দাবি, SIR-এর জেরে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই তালিকাই আমরা কমিশনারের হাতে তুলে দিয়েছি। ওদের হাতে রক্ত লেগে আছে।বৈঠকে মোট পাঁচটি প্রশ্ন তুলে ধরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। প্রথম প্রশ্ন ছিল, ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিতেই যদি শুধু SIR শুরু হয়, তা হলে ত্রিপুরার মতো রাজ্য বাদ কেন? দ্বিতীয় প্রশ্নযাঁদের আজ কমিশন ভুয়ো বলছে, তাঁদের ভোটেই তো গঠিত হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, তা হলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারও কি অবৈধ? তৃতীয় প্রশ্নে বিএলও-দের মৃত্যুর দায় কারসেই প্রশ্ন তোলা হয় কমিশনের সামনে। চতুর্থ প্রশ্নে তৃণমূল দাবি করে, বাংলায় বিজেপির নেতারা যখন প্রকাশ্যে বলছেন ১ কোটি ভোটার বাদ যাবে, তখন মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে কেন এবং কেন তা থামানো হচ্ছে না। পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, বিহারে ভোটের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা দেওয়া হল, অথচ বাংলায় সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ পর্যন্ত করাতে রাজি নয় কমিশনএর কারণ কী?তৃণমূল সাংসদদের দাবি, এই পাঁচটি প্রশ্নের কোনওটারই সরাসরি উত্তর কমিশন দেয়নি। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ডেরেক বলেন, তৃণমূল SIR-এর বিরোধী নয়। আমরা চাই এটা সঠিকভাবে হোক। কিন্তু আমরা যে প্রশ্নগুলি করেছি, তার কোনওটারই উত্তর দেওয়া হয়নি। নানা কথা বলা হয়েছে, শুধু মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শতাব্দী রায় যখন মৃতের তালিকাটি কমিশনারের হাতে দেন, তখন তাঁর মুখে বিস্ময় ধরা পড়ে বলেও দাবি তৃণমূল নেতাদের।রাজনৈতিক মহলের মতে, SIR ঘিরে রাজ্য-দিল্লি সংঘাত এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে যে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তারই বাস্তব রূপ দেখা গেল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দরজায়। এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
দেশ

অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার ‘বঙ্গ মিশন’! ডিসেম্বরে বাংলায় আসছেন মোদী ও শাহ?

অঙ্গ, কলিঙ্গ জয় হয়েছে। এবার নজর একটাইবঙ্গ। বিজেপির রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্টে এখন কার্যত এটাই সবচেয়ে বড় টার্গেট। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে সমস্ত কৌশল কাজে লাগাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। তারই অঙ্গ হিসেবে ডিসেম্বর থেকেই বাংলায় টানা কর্মসূচি শুরু করতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলের খবর, নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার আগেই রাজ্যে বাকি থাকা সব কর্মসূচি সেরে ফেলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।দলের শীর্ষ সূত্রের দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বাংলায় মোট ১০টি বড় কর্মসূচির আবেদন জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তার মধ্যে আলিপুর, দমদম ও দুর্গাপুর মিলিয়ে ইতিমধ্যেই তিনটি কর্মসূচি হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে আরও সাতটি। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই সেই কর্মসূচিগুলি একের পর এক সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সময়কালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।পরের বছর একযোগে তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনঅসম, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ। দক্ষিণে বিজেপির সংগঠন এখনও তুলনায় দুর্বল। অসমে গেরুয়া শিবিরের ভিত যথেষ্ট মজবুত। ফলে রাজনৈতিক লড়াইয়ের আসল ময়দান হয়ে উঠছে বাংলা। এখানেই সবথেকে কঠিন পরীক্ষা। সেই কারণেই কোনও খামতি রাখতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব।বৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা-র বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিহারের নির্বাচনী কৌশল রচনার নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকেরা। অঙ্গ জয়ের সাংগঠনিক মডেল যাঁরা দাঁড় করিয়েছিলেন, এবার তাঁদেরই দায়িত্ব আরও বাড়তে চলেছে বলে সূত্রের খবর। বিহারের পর বাংলা ও তামিলনাড়ুতেও জয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যেই এবার ওই অভিজ্ঞ নেতাদের নামানো হচ্ছে নির্বাচনী ময়দানে।রাজনৈতিক মহলের মতে, অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বাংলাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিজেপি। সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে গোটা নির্বাচনী রণকৌশল সাজানো হচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলা টানা কর্মসূচির মাধ্যমেই এই লড়াইয়ের সূচনা করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

শুভেন্দুর অভিযোগের মাঝেই পুলিশে রুটিন ট্রান্সফার? বদলি বহু শীর্ষ আধিকারিক

রাজ্যে এই মুহূর্তে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। আর ঠিক তিন মাস পরেই শুরু হবে নির্বাচনী বিধি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি রাজ্যের তিন জন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠিও দেন। এই আবহেই রাজ্যে পুলিশের উচ্চপদে বড়সড় রদবদল করল নবান্ন।এক ধাক্কায় বদল হয়েছে একাধিক জেলার পুলিশ সুপার। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহাকে মেদিনীপুর রেঞ্জের ডিআইজি পদে পাঠানো হয়েছে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারিকে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদলি করে মালদহের পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন মালদহের পুলিশ সুপার থাকা প্রদীপ কুমার যাদবকে পাঠানো হয়েছে উত্তর দিনাজপুর ট্র্যাফিক বিভাগে।আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশীকে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকারকে রাজ্যের এসএসআইবি পদে উন্নীত করা হয়েছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত উপেশ জ্ঞানপতকে আলিপুরদুয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার মহম্মদ সানা আখতারকে বদলি করে আসানসোলদুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে ডেপুটি কমিশনার করা হয়েছে। এসএসআইবি পদে থাকা ড. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশকে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌমদীপ ভট্টাচার্যকে পাঠানো হয়েছে বাঁকুড়ায়। নিউটাউন বিধাননগর কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার মনভ সিংলাকে ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমারকে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজ্য পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। সেই ভিডিও সামনে এনে শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। সেই ঘটনার পরেই এই রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে।তবে নবান্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ রুটিনমাফিক প্রশাসনিক রদবদল। এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনার কোনও যোগ নেই বলেই জানানো হয়েছে। তবুও ভোটের আগে এই ব্যাপক বদলি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
কলকাতা

এসআইআর নিয়ে কমিশনের দরজায় তৃণমূল! শুক্রবার বৈঠকে কী বিস্ফোরক তথ্য দেবে দল?

এসআইআর নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের দরবারেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাতেই রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ই-মেল করে কমিশনের কাছে বৈঠকের আবেদন জানান। সেই আবেদনের জবাব এসেছে দ্রুত। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা বৈঠকের সময় নির্ধারিত।কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর চলাকালীন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাজেই তৃণমূলের বক্তব্যও শোনা হবে। শুধু তৃণমূল নয়, আরও চারটি রাজনৈতিক দলকে একই দিনে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কারা সেই দলতা স্পষ্ট না করলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।তৃণমূলের চার প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেবেন। গেরুয়া শিবির, বাম, কংগ্রেসসব পক্ষই কাছে নজর রাখছে, কারণ এসআইআর-কে ঘিরে অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগ চলছেই।তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি CEC জ্ঞানেশ কুমারকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ১ হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছিল চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দিয়ে এসআইআর-এর কাজ করানো যাবে না। বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশিকা বহাল ছিল। তাহলে রাজ্যের সিইও অফিস কীভাবে এমন নিয়োগের প্রস্তাব দিলএই প্রশ্ন এখন বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে।এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র কোনও সরকারি বা আধা-সরকারি স্থাপনাতেই হওয়া উচিত। বেসরকারি জায়গা সাধারণত নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষায় এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আবার শাসক-বিরোধী লড়াইতেও এই ইস্যু বাড়িয়ে দিতে পারে উত্তেজনা।এসআইআর বা Social Impact Review এখনই ভোটের আগে সবচেয়ে আলোচিত কিওয়ার্ড হয়ে উঠেছে। শুক্রবারের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

৯ দিনের মিশন! ব্যাগ গুছিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ অভিষেকের—তৃণমূলের ভিতরে কি চাপা উত্তেজনা?

ব্যাগ গুছিয়ে ৯ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন, এই কদিন আর বাড়ি ফেরা চলবে নাসোমবারের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এমনই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাদের। SIR-এর কাজ প্রায় শেষের দিকে, তবুও জেলার কাজের গতিপ্রকৃতি এবং দিদির দূত অ্যাপে তথ্য আপলোডে নিয়মিত ঢিলেমি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন করে ১৩ জনের একটি বিশেষ টিম তৈরি করে দিলেন অভিষেক। এই সদস্যরা আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দেখবেন SIR প্রকল্প ঠিকমতো হচ্ছে কি না, বিএলএ২রা কাজ কীভাবে সামলাচ্ছেন এবং অ্যাপে যেসব তথ্য তোলা দরকার, তা আদৌ ঠিকভাবে আপলোড হচ্ছে কি না।পার্টির তরফে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, যে সব নেতা বিএলএ২ হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের অ্যাপে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তথ্য ঠিকমতো তুলছেন না তাঁরা। অভিষেক এদিন বৈঠকে সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই ১৩ জন নেতাকে পৃথক পৃথক জেলায় পাঠানো হয়। তাঁদের বলা হয়েছে কোঅর্ডিনেটর। কাজ সম্পূর্ণ না হলে কেউ ফিরতে পারবেন না। জেলায় জেলায় তৃণমূলের তৈরি ওয়ার রুমেও যেতে হবে তাঁদের।এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মানস ভুঁইয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বেচারাম মান্না, দিলীপ মণ্ডল, সুজিত বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয়ন গুহ, সামিরুল ইসলাম-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মূল দায়িত্বমাঠ পর্যায়ে SIR কাজ গতি পাওয়া, অভিযোগ শুনে সমাধান করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিদিন রিপোর্ট দেওয়া।এদিকে বিজেপি মনে করছে, তৃণমূলের এই জরুরি মোতায়েন আতঙ্কেরই প্রমাণ। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মন্তব্য করেছেন, যখন শিয়রে যম থাকে তখন এমনই উত্কণ্ঠা দেখা দেয়। তৃণমূলের মধ্যেও সেই একই অবস্থা। এখন অবিশ্বাস আর হতাশা বাড়বে। এটা গৃহযুদ্ধের আগের পর্ব। এভাবেই তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে।cরাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে অভিষেকের এই কড়া শৃঙ্খলাবিধান এবং সংগঠনকে আবার মাঠে নামানোর উদ্যোগদলের ভিতরে চাপা অস্থিরতারই প্রতিফলন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, এটি কেবলই সংগঠনের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার রুটিন ব্যবস্থা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর ফর্ম আপলোডে বিপত্তি, বিএলও-কে আটকে রেখে বিক্ষোভ! মাথাভাঙ্গায় উত্তেজনা

কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় এসআইআর-এর ফর্ম আপলোড করতে গিয়েই তৈরি হল বড়সড় বিপত্তি। আর সেই বিপত্তি ঘিরেই উত্তেজনা ছড়াল পচাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাংকোবা এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, বিএলও অ্যাপে ফর্ম আপলোড না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা প্রথমে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান, পরে উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে তাঁকে আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।মাথাভাঙ্গার ২৪৩ ও ২৪৪ নম্বর বুথে কয়েক দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে ৪২৫ জনের নাম উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে নতুন তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়যে ৪২৫ জনের নাম গায়েব বলা হয়েছিল, তাঁদের নামই রয়েছে পূর্ণাঙ্গ তালিকায়। তার পর থেকেই গ্রামবাসীরা উদ্বেগে ছিলেন, তাঁদের নাম অ্যাপে ঠিকমতো আপলোড হচ্ছে কি না।এদিন বিএলও সেই ৪২৫ জনের তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে গেলে অ্যাপে বারবার সাকসেসফুল নয় দেখায়। ওই মুহূর্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। আপলোড না হওয়া মানেই আবার তাঁদের নাম মুছে গেল কি নাএই আশঙ্কায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, গ্রামের একদল মানুষ বিএলও-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং পরে তাঁকে আটকে রাখেন।বিএলও ঘটনাস্থলেই বুঝিয়ে বলেন, যান্ত্রিক কোনও গোলযোগের কারণে তখনই সাকসেসফুল দেখাচ্ছে না, তবে ২৬ তারিখের পর এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, অ্যাপ পরে নিজে থেকেই আপডেট নেবে এবং নাম ঠিকমতো আপলোড হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্বস্ত হননি গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগসিরিয়াল নম্বর ৪১৭ থেকে ৮৪৬ পর্যন্ত কোনও নামই অ্যাপে উঠছে না, আর এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে এলাকার এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করছেন।উত্তেজনা বাড়তে থাকতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও প্রশাসন। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরা শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে তাঁদের নাম আবার মুছে যাচ্ছে কি না। আর সেই উদ্বেগই মুহূর্তে অশান্তির রূপ নেয়। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

ঘূর্ণাবর্তে আটকে শীত! কলকাতায় শীতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও কেন ঢুকতে পারছে না উত্তুরে হাওয়া?

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই হঠাৎ করে নেমে এসেছিল শীতের ছোঁয়া। এক লাফে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৭ ডিগ্রিতে, আর শহরবাসী ভেবেছিলএবার বুঝি আগেভাগেই এসে পড়ছে শীত। কিন্তু ঘূর্ণাবর্ত আর পূবালী হাওয়ার জোড়া খাঁড়া পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা ফের চড়তে শুরু করায় কলকাতায় শীতের যে আমেজ তৈরি হয়েছিল, তা একেবারে মিলিয়ে যায়।তবে বুধের সকালেই ফের খানিকটা নামল পারদ। কলকাতার তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ১৮ ডিগ্রির আশপাশে। যদিও শহরবাসী শীতের হালকা ছোঁয়া পেলেও আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেনএখনই জাঁকিয়ে শীত নামার সম্ভাবনা কম। দক্ষিণবঙ্গে যে শীতল উত্তুরে হাওয়া ঢোকার কথা, সেই পথেই ফের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন ঘূর্ণাবর্ত। সঙ্গে পূবালী হাওয়ার টান। ফলে শীতল বায়ুর প্রবেশপথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৯ ডিগ্রি, বুধবার তা সামান্য নেমে ১৮ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে। তবে আগামী দুতিন দিনে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টি নেই, আকাশ একেবারে পরিষ্কারতবে তাই বলে শীত যে জমিয়ে পড়বে, তার নিশ্চয়তা নেই।এদিকে জেলায় জেলায় শীতের দাপট জোরকদমে চলছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলদার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারসব জায়গাতেই ঘন কুয়াশায় ঢেকেছে সকাল। সাধারণত এই সময় যতটা ঠান্ডা থাকে, তার তুলনায় এবার একটু বেশি উষ্ণ হলেও কুয়াশার চাদরে মুড়েই শুরু হচ্ছে দিন। পাহাড়ে ঘোরার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য আবহাওয়া আপাতত মনোরম হলেও তাপমাত্রা কবে নামবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারছেন না আবহবিদরা।সবটাই নির্ভর করছে ঘূর্ণাবর্ত কাটার ওপর। যতক্ষণ না উত্তুরে হাওয়ার পথ পুরোপুরি খুলছে, ততক্ষণ কলকাতায় শীত ঠিকমতো নামবে না। তাই শহরবাসী এখনও অপেক্ষায়কবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে পড়ে লেপ-কম্বল বের করার সময় আসবে।

নভেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

ফর্ম না–পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ, পূর্ব পুটিয়ারিতে বৃদ্ধার মৃত্যুর পর আলোচনায় প্রশাসনিক বিভ্রান্তি

কলকাতার পূর্ব পুটিয়ারিতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা এক বৃদ্ধা আগুনে পোড়া অবস্থায় প্রাণ হারালেনএমনই দাবি করেছেন তাঁর পরিবার। মৃতার নাম যমুনা মণ্ডল, বয়স ৬৭। পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এলাকায় ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি হচ্ছিল। আশপাশের বাড়িগুলিতে ফর্ম পৌঁছোলেও তাঁদের বাড়িতে পৌঁছায়নি। সেই কারণেই যমুনা দেবী অস্বাভাবিক আতঙ্কে ভুগছিলেন।যমুনার ছেলে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল বলেন, তাঁর মায়ের আগে থেকেই স্নায়ুর সমস্যা ছিল। ফর্ম না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। গত শনিবার তাঁরা অবশেষে এনুমারেশন ফর্ম পান। কিন্তু তাতেও যমুনা দেবীর ভয়ের অবসান হয়নি বলে দাবি পরিবারের। সোমবার সকালে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে দক্ষিণ দমদম থেকেও সামনে এসেছে আর-একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানকার আরএন গুহ রোডের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ হাজরা, বয়স ৪৬, কয়েকদিন ধরে এসআইআরসংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, বৈদ্যনাথ বাবুর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল নাএই বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলছিল। দুদিন আগে গভীর রাতে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর মোবাইল ফোন বাড়িতেই পড়ে ছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আজ তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এসআইআরনিয়ে তৈরি হওয়া ভয়ই তাঁকে চরম পদক্ষেপে ঠেলে দিয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভয় ও বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করেছে। আবার বিজেপির অভিযোগ, আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোট রাজনীতি করছে রাজ্যের শাসকদলই।ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। কিন্তু দুই পরিবারের মর্মান্তিক ক্ষতি পাহাড়প্রমাণ প্রশ্ন তুলছেএসআইআরসম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কেন, এবং এই আশঙ্কা দূর করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন কি না।(মানসিক চাপ বা সংকটে থাকলে যেকোনও সময় কিরণ ১৮০০-৫৯৯-০০১৯ হেল্পলাইনে সাহায্য পাওয়া যায়।)

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
রাজ্য

হাওয়ার দাপটে ঠান্ডা জোরালো! বাংলায় পারদ নামছে নভেম্বরের মাঝেই

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার সামনে এল এমন তথ্য, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৯ এমএম ক্যালিবারের তিনটি কার্তুজযার মধ্যে দুটি তাজা এবং একটি ফাঁকা শেল। সাধারণ মানুষের হাতে এ ধরনের কার্তুজ থাকে না। সাধারণত সেনাবাহিনী বা বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থার কাছেই এই ধরনের কার্তুজ থাকে। ফলে বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য।সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠছেকার্তুজগুলি কি বিস্ফোরণের সময়ই ছিল, নাকি পরে কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে রাখা হয়েছে তদন্তকে ঘোলাটে করতে? ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি কার্তুজ খতিয়ে দেখছেন। সেগুলির উৎপত্তি থেকে শুরু করে ব্যবহারের সম্ভাব্য সময়সবই যাচাই হচ্ছে দ্রুতগতিতে।এদিকে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং এনআইএ তদন্ত আরও জোরদার করেছে। বিশেষত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজের একাধিক কর্মীর উপর নজর বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিস্ফোরণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ১৫ জন চিকিৎসকের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।তদন্তকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওখলা অফিসেও হানা দিয়েছেন এবং বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেছেন। বিস্ফোরণের সময় গাড়িতে ছিলেন ডঃ উমর। জানা গিয়েছে, তিনি বিভিন্ন হাওয়ালা রুটের মাধ্যমে ২২ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে এবং তার ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী ছিল, তাও এখন তদন্তের কেন্দ্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। লালকেল্লার মতো সংবেদনশীল এলাকার পাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় একের পর এক তথ্য সামনে আসায় গোটা রাজধানীতে আবারও ছড়িয়েছে উদ্বেগ।তদন্ত যত এগোচ্ছে, রহস্য ততই গভীর হচ্ছে। কার্তুজ উদ্ধার, নিখোঁজ চিকিৎসক, হাওয়ালা লেনদেনসব মিলিয়ে বিস্ফোরণের পেছনে কোনও বড় চক্র সক্রিয় থাকার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এখনও পাওয়া তথ্য বরফের চূড়া মাত্র। আসল সূত্র পাওয়া গেলে উঠে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

লালকেল্লা বিস্ফোরণে বাংলার যোগ! উত্তর দিনাজপুর থেকে মেডিক্যাল ছাত্র গ্রেফতার, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

দিল্লির লালকেল্লার বাইরে যে বিস্ফোরণ-কাণ্ড দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, সেই মামলায় উঠে এল বাংলার যোগ। উত্তর দিনাজপুরের সূর্যাপুর বাজার এলাকা থেকে এনআইএ শুক্রবার ভোরে গ্রেফতার করেছে হরিয়ানার আলফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস পড়ুয়া যাহ নিশার আলমকে। জাতীয় তদন্ত সংস্থার বিশেষ দল গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সকালেই তাকে আটক করে। হঠাৎ এই গ্রেফতারি ঘিরে এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাহ নিশারের আদি বাড়ি পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় হলেও তাঁর পৈতৃক ভিটে ডালখোলা থানার কোনাল গ্রামে। বহু বছর আগে তাঁর বাবা তৌহিদ আলম কাজের সূত্রে লুধিয়ানা গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হন। তবুও গ্রাম-পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক আজও অটুট। কয়েক দিন আগে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে মা ও বোনকে নিয়ে কোনাল গ্রামে এসেছিলেন নিশার। কিন্তু সেই সফরেই তাঁর জীবনে নামল ঝড়বিয়ের আনন্দের মাঝেই এনআইএ তাকে তুলে নিয়ে যায়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের তদন্তে প্রথমেই তাঁরা লুধিয়ানায় তৌহিদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেই জানা যায় যাহ নিশার এখন উত্তর দিনাজপুরে। খবর মিলতেই দ্রুত উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যায় এনআইএর বিশেষ দল। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেই নিশারকে চিহ্নিত করা হয় বলে দাবি। তাঁর ফোনের সিগন্যাল দেখাচ্ছিল সূর্যাপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা। তারপরই সেখানে হানা দিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রথমে তাকে ইসলামপুরে জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হয়, পরে আরও তথ্যের খোঁজে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।এদিকে যাহ নিশারের গ্রেফতারির খবরে হতবাক পরিবার এবং গ্রামের মানুষ। তাঁর কাকা আবুল কাশেম বলেন, ভাইপোকে আমরা ছোটবেলা থেকেই শান্ত-স্বভাবের ছেলে হিসেবে চিনি। সে পড়াশোনা ছাড়া অন্য কোনও বিষয়েই মাথা ঘামায় না। গ্রামের লোকেরাও একই কথা বলছেনশান্ত, ভদ্র, শিক্ষিত পরিবারের ছেলে। এমন বিস্ফোরক ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যাওয়া তাদের কাছে অবিশ্বাস্য।এই গ্রেফতারি শুধু পরিবারকেই নয়, গোটা গ্রামকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট জানায়নি, তবে তারা মনে করছে, দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে যাহ নিশারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। এখন নজর সকলেরশিলিগুড়িতে চলা জেরা থেকে কী নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

শীতের আনন্দে আচমকা ব্রেক! রবিবার থেকে বাড়বে পারদ, ঘন কুয়াশায় রাজ্যের জেলাগুলিতে বিপত্তি

রাজ্যের আবহাওয়া হঠাৎই বদলে যেতে চলেছে। টানা কয়েক দিন ধরে শীতের হাওয়া আর কম তাপমাত্রার জেরে সকাল-সন্ধ্যায় জমে থাকা ঠান্ডায় সকলে শিরশিরানি টের পাচ্ছিলেন। অনেকের ঘরে ফ্যান বন্ধ, কেউ কেউ বের করে ফেলেছেন গরম জামা। শনিবার সকালেও সেই একই শীতল আমেজ। পশ্চিম দিক থেকে বাধাহীন শীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে, ফলে তাপমাত্রা নেমেছে স্বাভাবিকের দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে। কিন্তু এই শীত-জমাট পরিস্থিতির শেষ হতে চলেছে খুব দ্রুতই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রবিবার থেকেই পুরো আবহাওয়ায় শুরু হবে বড় ধরনের বদল।শনিবার পর্যন্ত যদিও বঙ্গোপসাগরে কোনও আবহাওয়াগত সিস্টেম ছিল না, তাই বৃষ্টির সম্ভাবনাও ছিল না। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টে যাবে হাওয়ার গতিপথ। রবিবার থেকে রাজ্যে ঢুকবে পূবালী বাতাস, সঙ্গে বেড়ে যাবে আর্দ্রতা। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় রবিবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে, পারদ উঠে আসবে স্বাভাবিকের কাছাকাছি। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কমে গিয়ে রাজ্যের আকাশে থাকবে জলীয় বাষ্পের আধিক্য। কুয়াশা বাড়বে উত্তর ও দক্ষিণদুই বাংলাতেই, বিশেষত ভোরবেলায় দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে গিয়ে ২০০ মিটারে নামতে পারে। পাহাড়ি জেলা এবং উপকূলের এলাকাগুলিতে কুয়াশার দাপট আরও বেশি থাকবে, কোথাও কোথাও দেখা যেতে পারে মেঘলা আকাশও।এদিকে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত, যার প্রভাব পড়ছে শ্রীলঙ্কার উপকূলে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকাতেও তৈরি হয়েছে আরেকটি আপার এয়ার সার্কুলেশন। এই দুটি সিস্টেম মিলেই রাজ্যের বাতাসে আর্দ্রতা বাড়াবে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।উত্তরবঙ্গে এখনই তেমন কোনও বড় পরিবর্তন নেই। সেখানে চলবে শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। স্বাভাবিকের থেকে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপমাত্রা নিয়েই আগামী ৬-৭ দিন বজায় থাকবে শীতের আমেজ।কলকাতায় শনিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের প্রায় তিন ডিগ্রি নীচে। রাতের পারদ এখনো ১৭ ডিগ্রি ঘরে। তবে রবিবার থেকে শহরের তাপমাত্রা বেড়ে পৌঁছতে পারে ১৯ বা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ঘোরাফেরা করেছে ৪১ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে।অর্থাৎ, কয়েক দিন যে জোরালো শীতের আভাস মিলছিলসেটি রবিবার থেকেই নরম হতে চলেছে। শীত-হাওয়া সরলেও ভোরের কুয়াশা কিন্তু আরও ঘন হবে। ফলে সকালবেলার যাতায়াতে বাড়তে পারে সমস্যাও।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
কলকাতা

SIR-এ ঝড়! বিহারের ভোটে হাওয়া বদলে দিল তিন অক্ষরের শব্দ—বাংলায় কি নিশ্চিত ভূমিকম্প?

বিহারের ভোটে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা হল SIRস্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন। তিন অক্ষরের এই শব্দই সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, সরকার নাকি ভোটার তালিকা কাটাছাঁট করে বিরোধী ভোট সাফ করার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে এত বিতর্ক প্রায় কখনও হয়নি। আজ যখন বিহারের রায় স্পষ্টনীতীশ কুমার ও NDA-র জয়জয়কারস্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই SIR ইস্যু ভোটে কতটা প্রভাব ফেলল?এই প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে আরও একটি কারণে২০২৬ সালে বাংলার ভোট। বাংলাতেও চলছে SIR প্রক্রিয়া। ফলে বিহারের ফলাফলের পর SIR ঘিরে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে Popular Sovereignty, অর্থাৎ শেষ কথা বলছেন জনতাই। বিরোধীরা যতই ন্যারেটিভ তৈরি করুক, জনতার মন যে কোন দিকে ঘুরে গিয়েছে, সেটা ঠিকমতো বুঝতে পারেনি তারা। SIR ইস্যুকেই তারা রাজনৈতিক Bandwagon Effect হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেষ হাওয়া যেন উলটেই গেল।বিগত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন SIR-এর নোটিফিকেশন জারি করে। মৃত, ভুয়ো এবং অনুপস্থিত ভোটার বাদ দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। ২৫ জুন থেকে শুরু হয় ফর্ম ফিলআপ। ১ অগাস্ট বেরোয় খসড়া তালিকা। এরপর দাবি-আপত্তির শুনানি। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তেড়ে আসে। আরজেডি, কংগ্রেস, বামসবাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিরোধীরা সরাসরি বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করে।সবচেয়ে জোরালো ছিলেন তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, SIR করে বিরোধীদের ভোট কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেনখসড়া ভোটার তালিকায় নাকি তাঁর নিজের নামই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেনSIR হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশন নাকি বিজেপির হয়ে কাজ করছে।কিন্তু এই সব অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি বিজেপি বা নীতীশ কুমারের দল। তাদের বক্তব্য, SIR চলছে বহু বছর ধরে, ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার এটাই সঠিক উপায়। বিজেপির প্রেম শুক্লা কটাক্ষ করে বলেন, SIR নিয়ে কংগ্রেস যত কথা বলেছে, তার ফলেই তারা এখন ১টা সিটে এসে দাঁড়িয়েছে।শেষ পর্যন্ত দেখাই গেলবিহারের ভোটাররা বিরোধীদের অভিযোগ মানল না। তারা SIR নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে NDA-র সঙ্গেই দাঁড়াল। NDA ২০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে গেল। SIR ইস্যু নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছিল, তার প্রভাব ভোটে খুব একটা টের পাওয়া গেল না।বাংলাতেও এখন SIR নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক। BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছেন, ভোটার যাচাই করছেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছেএই প্রক্রিয়ায় নাকি অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী, মতুয়া, রাজবংশীএই ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে বিজেপি নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম কেটে দেবে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে। বিজেপিকেও এক হাত নেন। তাঁর দাবি, SIR হচ্ছে বিজেপির সুবিধা করার অপারেশন, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন। অখিলেশ যাদবও মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, বিহারে যে খেলা SIR নিয়ে হয়েছে, তা বাংলায় বা উত্তরপ্রদেশে চলবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেনএবার আমরাও খেলব।অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছেSIR-এ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আগেও হয়েছে। ভুয়ো, মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম কাটলেই স্বাভাবিক তালিকা তৈরি হবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবিবাংলায় প্রায় ১ কোটি ভুয়ো/অবৈধ ভোট রয়েছে। এগুলো বাদ পড়লে তৃণমূলের ভোট মার্জিন কমবে। এমনকি বিজেপির দাবিSIR শুরু হওয়ার পরই অনেক অবৈধ ভোটার নাকি এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।তাহলে বিহারের মতো বাংলাতেও কি SIR-এ বদলে যাবে সমীকরণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত কিন্তু বিভক্ত। একাংশ বলছেবিহারের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতি এক নয়, তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি বিশাল। আবার অন্য পক্ষের মতেবিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের তফাৎ মাত্র ৪-৫ শতাংশ। SIR-এর কারণে ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে গেরুয়া শিবিরই লাভবান হতে পারে।শেষ পর্যন্ত কোন ভবিষ্যৎ ঘটবে তা জানতে হলে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া পথ নেই। তবে বিহারের ছবিটা স্পষ্টমহাগঠবন্ধনকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নীতীশ কুমার ও NDA-ই এগিয়ে ২০৮টি আসনে, আর বিরোধীরা মাত্র ২৮টিতে। বিশাল ব্যবধানে NDA-র রিটার্ন।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
কলকাতা

বিহারের ফল বাংলায় প্রভাব ফেলবে? কুণাল ঘোষের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক

আর মাত্র কয়েক মাস পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক সেই সময়েই বিহারে এনডিএ-র বিপুল আসনজয় বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি শিবিরে এখন একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছেবিহার পারলে বাংলা-ও পারবে। বিহারের জয়ের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের বহু নেতা প্রকাশ্যে দাবি করছেন, এবার পালা বাংলার।এই উচ্ছ্বাসের পাল্টা জবাব দিতে বেশি সময় নিলেন না তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যবাংলার মাটি আলাদা, বাংলার ভোটের চরিত্রও আলাদা। বিহারের ফল বাংলায় কপি-পেস্ট হবে না। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। বিহারে SIR শেষ হওয়ার পরই ভোটগ্রহণ হয়েছে। বাংলাতেও ইতিমধ্যে SIR শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সে কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রক্রিয়া শেষ হলেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অবশ্য দাবি করেছেন, বাংলায় SIR-এর প্রভাব বিজেপির পক্ষে যাবে।কিন্তু কুণাল ঘোষ এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করেছেন। বিহারের প্রাথমিক গণনা চলাকালীনই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে দেনবিহারের ভোট বাংলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের কাছে উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মানএই সবই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবারও আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।কুণালের অভিযোগ, বাংলায় SIR এবং তার সঙ্গে জড়িত নানা প্রক্রিয়ায় বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চক্রান্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও ক্ষমতার অপব্যবহারও হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তবে তৃণমূল যে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে BJP-র সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেবে, সেকথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন।এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যে বিজেপি বিরোধীতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থবিহারের ফল আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।বিজেপির হুমকিকে তিনি কড়া সুরে এদিন আক্রমণ করেছেন। বলেন, বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দেওয়ার কোনো মানে নেই। বাংলার মানুষের আত্মসম্মান ও অধিকারকে আঘাত করে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে ভোট পাওয়া যায় না। বাংলায় বছরজুড়ে একটাই নামমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উন্নয়ন-মডেল অনুসরণ করছে বহু রাজ্য। তাই বাংলার মানুষও সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করে, ভবিষ্যতেও করবে। শেষেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেনবাংলার সঙ্গে বিহারের কষ্টকল্পিত তুলনা করে সময় নষ্ট করবেন না।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারের জয়ের পর বাংলায় উল্লাস—পরিবর্তনের বার্তা কি আরও জোরালো?

বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। মহাগাঁটবন্ধন কার্যত আইসিইউ-তে, আর সেই জয়যাত্রার রেশ এবার ছুঁয়ে গেল ভোটমুখী বাংলাকেও। হাওড়া ব্রিজ থেকে হুগলি, নদিয়া থেকে উত্তরবঙ্গবাংলাজুড়ে পদ্ম শিবিরের উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না। হাওড়া ব্রিজের ওপর গেরুয়া আবির উড়ে উঠল, বাজনার তালে নাচলেন বিজেপি কর্মীরা। স্থানীয়দের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিজয়োল্লাসে মাতল হাওড়া জেলা। শোনা গেল একের পর এক জয়ধ্বনিমোদি, মোদি।উত্তরবঙ্গে উৎসব আরও উচ্ছ্বাসমুখর। জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে ঢাক বাজিয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লাড্ডু খাইয়ে বিজেপি কর্মীরা খেললেন অকাল হোলি। পুরো এলাকা গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে উঠল। সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখগুলোও আজ আনন্দে মেতে উঠলেন। গেরুয়া আবিরে ভিজে গিয়ে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিলেনবিহারের পর এবার বাংলার পালা, পরিবর্তন আর বেশি দূরে নয়।ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়েও শুক্রবার দুপুরে বাজি ফাটিয়ে আবির খেললেন কর্মীরা। স্লোগানে গর্জে উঠলবিহার দেখিয়েছে, বাংলা দেখবে। নদিয়ার রানাঘাটে ঢাকের তালে তালে নেচে বিজয়োল্লাস করলেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপির কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হল লাড্ডু।হুগলির শেওড়াফুলি থেকেও উঠল উল্লাসের ঝড়। বিজেপি কর্মীরা আবির ছড়িয়ে মানুষকে মিষ্টি বিলি করলেন, হাতে তখন বিহার পারল, বাংলাও পারবে লেখা পোস্টার। সিঙ্গুরের বুড়া শান্তি এলাকাতেও দেখা গেল একই ছবিদলীয় কার্যালয়ের সামনে পথচলতি মানুষকে লাড্ডু বিলি করে বিজেপি কর্মীদের একটাই দাবিবিহারের জয় বাংলা নির্বাচনে আগাম ইঙ্গিত।বিহারে এনডিএ-র অভাবনীয় জয়ের ঢেউ এখন বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তাঁদের দাবিসময় মাত্র, বাংলাতেও গেরুয়া ঢেউ আসবেই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

রাত বাড়লেই কাঁপছে কলকাতা! নভেম্বরেই বাংলায় শীতের হানা, কুয়াশায় ঢাকা ভোর

বঙ্গজুড়ে নেমে এসেছে শীতের আমেজ! নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ঠান্ডার দাপট চোখে পড়ার মতো। উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের জেলা গুলিতে কয়েকদিন ধরেই সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ক্রমশ নামছে। আর এবার সেই শীতল হাওয়া এসে পৌঁছেছে রাজধানী কলকাতায়ও। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, এ বছরের শীতের মরশুমে বৃহস্পতিবারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ঠান্ডা দিন কাটাল কলকাতা।এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও নেমেছে ২.৬ ডিগ্রি নিচে, যা ২৮ ডিগ্রির ঘরে স্থির হয়েছে। অর্থাৎ দিন-রাতের ফারাক যতটা কমছে, ততটাই তীব্র হচ্ছে শীতের ছোঁয়া। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিনে আরও কিছুটা নামবে পারদ।নভেম্বরের শুরু থেকেই হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে গিয়েছে গোটা বাংলা। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমসব জায়গাতেই ভোরবেলা ঠান্ডার আমেজ এখন স্পষ্ট। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে সকালের দিকে ঘন কুয়াশা, হাতে গরম চা নিয়েই শুরু হচ্ছে দিন। পার্বত্য অঞ্চলে কুয়াশার দাপট আরও বেশি।কলকাতা ও আশেপাশের জেলাতেও রাত বাড়লেই ঠান্ডা বেড়ে যাচ্ছে। সকালবেলায় রাস্তায় নেমে কুয়াশা, গায়ে হালকা উষ্ণতা জড়ানো পোশাকসব মিলিয়ে শীতের আগমন যেন আগেভাগেই ধরা দিয়েছে। আবহবিদদের মতে, এবার হয়তো নভেম্বরেই জাঁকিয়ে পড়তে পারে শীত, যা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।আপাতত রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হাওয়া শুকনো থাকায় শীত আরও দ্রুত নামবে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির ঘরে, পুরুলিয়ায় পারদ আরও নামার ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস।বাংলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যেও শীতের দাপট তীব্র হচ্ছে। রাজধানী দিল্লিতে শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, চণ্ডীগড় ও উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে ঠান্ডা সতর্কতা।এই নভেম্বরেই এমন ঠান্ডা? তা হলে কি এবার সত্যিই আগেভাগে নামবে শীত, আর দীর্ঘস্থায়ী হবে এই হিমেল আমেজ? কফির কাপে ধোঁয়া উঠছে, আর শহরজুড়ে উষ্ণ আলোয় ভাসছে শীতের শুরুবাংলা যেন তৈরি নতুন শীত-উৎসবের জন্য।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫
রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ ডিগ্রির নিচে পারদ, কলকাতায়ও ঠান্ডার কামড় শুরু!

অবশেষে রাজ্যে জাঁকিয়ে নামল শীত। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাংলাজুড়ে ঠান্ডার কামড় আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও রাজ্যের পশ্চিম জেলাগুলিতে হালকা কুয়াশা আর শীতল বাতাসে জমে উঠেছে আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শীতল পশ্চিমী হাওয়ার জেরে এবার পারদ নামছে দ্রুত।রাজ্যের পশ্চিম জেলাগুলিতে যেমন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। সকাল-বিকেল গায়ে চাদর জড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে অনেকেরই। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, অন্তত শনিবার পর্যন্ত শীতের এই আমেজ বজায় থাকবে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্য বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণাবর্ত ছিল তা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকাতেও একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি, উত্তর তামিলনাড়ু ও সংলগ্ন অঞ্চলে আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। যদিও এই সিস্টেমগুলির প্রভাব বাংলার আবহাওয়ায় খুব একটা পড়ছে না, বরং ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহে আরও নামছে তাপমাত্রা।উত্তরবঙ্গের দিকেও নেমেছে হালকা কুয়াশা। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে সকালবেলায় ঘন কুয়াশার পরত দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে ভোরবেলায়। তবে আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।কলকাতায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই কারণে সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় সূর্যের তেজ সামান্য বাড়ছে।অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও শীতের দাপট বেড়েছে। দিল্লি, রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশেও রাতের দিকে পারদ দ্রুত নামছে। তবে দক্ষিণ ভারতে, বিশেষ করে কেরল ও মাহেতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।সবমিলিয়ে, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের দাপট স্পষ্ট বাংলার আকাশে। ঠান্ডা হাওয়ার দাপটে সকালবেলায় গরম পোশাকের খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতা সহ রাজ্যের সর্বত্র। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বছর স্বাভাবিক সময়েই আসছে শীত, আর ডিসেম্বরের শুরুতেই পারদ নামতে পারে আরও নিচে।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

শীত এল অবশেষে! ১৯ ডিগ্রির নিচে কলকাতার পারদ, উত্তর-পশ্চিমের হাওয়ায় কাঁপছে বঙ্গে

অবশেষে নামল পারদ, নেমে এল কলকাতার অন্দরে শীতের ছোঁয়া। শুক্রবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের শেষ আপডেট অনুযায়ী, শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চারপাশে হালকা ঠান্ডা হাওয়া, সকালের দিকে ঘন কুয়াশা নভেম্বরের শুরুতেই যেন ডিসেম্বরের আবহ।আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, শীতের দফা এখনই শেষ নয়, বরং শুরু হচ্ছে প্রকৃতির শীতল অধ্যায়। আগামী তিন থেকে চার দিনে আরও অন্তত ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে পারদ। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই, ফলে দিনভর আকাশ থাকবে ঝকঝকে নীল।পশ্চিমী হাওয়ার প্রভাব এখন রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইছে পুরোদমে। এর জেরেই রাজ্যের তাপমাত্রা একে একে নামছে ১৫ ডিগ্রির ঘরে। এদিন বাঁকুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৪.৫ ডিগ্রিতে, শ্রীনিকেতনে ১৪.৯, পুরুলিয়ায় ১৫, কল্যাণীতে ১৫.৩, উলুবেড়িয়ায় ১৬, মেদিনীপুরে ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতায় ১৯.২ আর দমদমে ১৯.৪ ডিগ্রিতে থেমেছে পারদ।বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন ভোরবেলায় ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলবে কলকাতা, হাওড়া, হাবড়া ও আশপাশের অঞ্চলগুলি। তুলনায় দাপট বেশি থাকবে উপকূলের জেলাগুলিতে। তবে এই ঠান্ডা এখনও পূর্ণ শীত নয়, বরং তার প্রাক্কাল।আবহাওয়ার মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। পূর্ব বাংলাদেশ ও গাল্ফ অফ মানার অঞ্চলেও রয়েছে আরও দুটি ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি উত্তর পাঞ্জাবে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। যদিও এই ঘূর্ণাবর্তগুলির কোনও বড় প্রভাব পড়ছে না দক্ষিণবঙ্গে, ফলে হাওয়া এখন পুরোপুরি শীতের অনুকূলে।শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ঘোরাফেরা করছে ৩৮ থেকে ৮২ শতাংশের মধ্যে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরবর্তী কয়েকদিনে শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে ভোরের দিকে ঠান্ডা আরও প্রকট হবে।শীতপ্রেমীদের মুখে ইতিমধ্যেই হাসি ফিরেছে। শহরের দোকান-বাজারে দেখা মিলছে শীতের পোশাকের জৌলুস। সকাল-সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে ভিড় বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ গরমের পর শহরবাসীর কাছে এই হালকা শীতই এখন এক টুকরো স্বস্তি।

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • 19
  • ...
  • 34
  • 35
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal