• ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২, শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

PURBA BARDHAMAN

রাজ্য

রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে কালনা কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সংঘর্ষ- জখম চার পড়ুয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি নিজেই লজ্জায় মুখ লুকোতেন।কারণ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেবে এমনটা তাঁর কাছে ছিল কল্পনারও অতীত। কিন্তু বাস্তবেই শুক্রবার এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা কলেজে। রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে তৃণমূলের দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালনা কলেজ চত্ত্বর। সংঘর্ষে আহত হন চার জন।তাঁদের মধ্যে এক ছাত্র আবার রক্তাত হন মাথা ফেটে যাওয়ায় ।এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন কালনা নিবাসী আপামোর রবীন্দ্র অনুরাগী।কালনা কলেজ জেলার একটি ঐতিহ্যশালী কলেজ হিসাবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। সেই কলেজ কবিগুরুর একটি নতুন আবক্ষমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলেজে পৌছান কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও কালনা পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। অনুষ্ঠান শুরুর খানিক আগেই বেঁধে যায় অশান্তি। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে কেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সেই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য ছাত্র ছাত্রীরা কলেজে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেদেয়। বিক্ষোভের জেরে চেয়ারম্যান ও বিধায়ক কেউই আর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না। তারই মধ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সমর্থক ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে দলের অপর গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি। পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে পেটাতে শুরু করে। তা নিয়ে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে নেয়। মারধোরে মাথা ফেটে রক্তাত্ত হয় এক ছাত্র। বেশ কিছু সময় বাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান কার্যত ভেস্তে যায়।এদিনের সংঘর্ষের ঘটনা বিষয়ে কালনা নিবাসী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহ-সভাপতি শেখ নইম আলী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অনিয়ম করে কলেজে নানা কাজ কর্ম হচ্ছে। তা নিয়ে এর আগে সংগঠনের তরফে আমরা কালনা কলেছের প্রিন্সিপালকে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। তবুও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রিন্সিপাল কোন কাজ করেন নি। এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেটাতেও কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে জানানো হয় না। অনুষ্ঠানের বিষয়ে শুধু জানতেন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। এঁরাই কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষের মধ্যে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করতে চাইছে। এইসব বিষয় নিয়েই এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা কলেজে আন্দোলন করছিল। তখন বিধায়কের অনুগতরা লাঠি-সোটা দিয়ে তাদের মারধোর শুরু করে। মারধোরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সদস্য এক ছাত্র রক্তাত হয়। আরও দুজন ছাত্র আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত বিধায়ক পুত্র সহ কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে শেখ নইম আলী জানিয়েছেন।বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহসভাপতির এইসব দাবী মানতে চান নি। পাল্টা তিনি দাবী করেন, এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছে বহিরাগতরা। তাঁরা কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছে। বিধায়ক আরো দাবী করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানাবেন, আর কাদের জানাবেন না সেট কলেজ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যাপার। নিমন্ত্রন তো আর জোর করে নেওয়া যায় না। এদিন যাঁরা কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হলেও আমি তাঁদের সমর্থন করার মতো কিছু দেখছি না। বিধায়ক এও জানান, যাঁরা এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁদের সবার শাস্তি হোক সেটাই তিনি চান।প্রিন্সিপাল তাপস সামন্ত জানান, মূলত দুটি ডিপার্টমেন্ট এদিন ছোট খাটো করে কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। কলেজ পরিচালন সমিতি, দুটি বিভাগের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং এলাকার বিধায়ক, চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তা নিয়ে তারা গত দুদিন ধরে জানতে চাইছিল। প্রিন্সিপাল আরো বলেন, ওদেরকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। ভিড় বাড়লে ক্যাওস হবে। তাই এদিন কলেজে যাতে ভিড় কম থাকে তারজন্য বেশী কাউকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয় নি। এইসব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এদিন কলেজে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এমনটা না হলেই ভালো হত ।

মে ২১, ২০২২
রাজ্য

কর্মী ঘাটতিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পূর্ব-বর্ধমান সহ রাজ্যের ৪৯০ টি লাইব্রেরির খবরে নড়ে চড়ে বসলো রাজ্য

গ্রন্থাগার অনেক থাকলেও নেই গ্রন্থাগারিক বা গ্রন্থাগার কর্মী। আর তার কারণেই তালা পড়ে গিয়েছে খোদ রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর নিজের জেলা পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ১২ টি গ্রন্থাগ্রারে। আর সারা রাজ্যে তালা পড়েছে ৪৯০ টি গ্রন্থাগারে। এছাড়াও কর্মী হীনতার কারণে রাজ্যের সর্বত্রই এখন দুরাবস্থায় ধুঁকছে গ্রামীন গ্রন্থাগার গুলি। তা নিয়ে হতাশ বাংলার বই প্রেমিরা। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হলেও রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী দাবি করেছেন, কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।যুগযুগ ধরেই বলা হয়ে আসছে অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হল বই। আর গ্রন্থাগার অর্থাৎ লাইব্রেরি হল সেই বইয়েরই আবাসস্থল। তাই মূলত বাঙালির বই পড়ার আগ্রহ থেকেই রাজ্যে ১৫০০টির মতোন গ্রামীন গ্রন্থাগারের উৎপত্তি হয়। তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৫১ টি গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগার দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দেড় শতাধীক গ্রন্থাগার গুলি পরিচালনার জন্যে সরকারী ভাবে প্রথম থেকেই ৩৪০ জন স্টাফ অনুমোদিত হয়ে আছে। আগে ছিলেনও তাই। কিন্তু বর্তমান সময় পর্যন্ত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মী মিলিয়ে ২৬২ জন কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁদের শূণ্য পদে নতুন করে আর কোনও নিয়োগ হয় নি। ফলে এখন পূর্ব বর্ধমান জেলায় কর্মরত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মী মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮ জন।একই কারণে গোটা রাজ্যেও তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার কর্মীর ঘটতি। দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যে ৪ হাজারের বেশী গ্রন্থাগার কর্মীর পদ এখন শূন্য হয়ে রয়েছে। তারমধ্যে প্রায় হাজারের বেশী গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরিয়ান) শূন্য পদ রয়েছে ।এত বিশাল সংখ্যক গ্রন্থাগার কর্মীর ঘাটতির কারণেই এখন কার্যত ধুঁকছে পূর্ব বর্ধমান সহ গোটা রাজ্যের গ্রামীণ গ্রন্থাগার গুলি।কর্মীদের কথায় জানা গিয়েছে, গ্রন্থাগার গুলির দুরাবস্থা কাটার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তৃণমূল সরকার তৃতীয় বার রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর। গত বছরের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেয়। ২০২১ এর আগষ্ট মাস থেকে গ্রন্থাগারিক শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে রাজ্যের গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের তরফে ঘোষণা করা হয়। তাতে বলা হয়, প্রথম দফায় ৭৩৮ টি গ্রন্থাগারিক শূন্য পদে নিয়োগ হবে। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরিও সেই কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল আজও যেমন দেখা যায়নি, কাজের কাজও কিছু হয়নি। এমনটাই অভিযোগ, দুর্দশাগ্রস্ত গ্রন্থাগার গুলির পরিচালন কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের। তাঁরা এও জানান, সম্প্রতি রাজ্য সরকার রাজ্যের ২৩ জেলা মিলিয়ে মোট ৭৩৭ টি গ্রামীণ লাইব্রেরিতে লাইব্রেরিয়ান শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারও যদি ঘোষণা মতো কাজ না হয় তবে আরো বহু পাঠাগারে তালা পড়ে যাবে।জেলা গ্রন্থাগারিক (পূর্ব বর্ধমান) নির্মাল্য অধিকারী জানিয়েছেন, গ্রন্থাগার কর্মীর সীমাহীন ঘাটতির কারণে জেলায় এখন প্রায় ১২ টি গ্রন্থাগার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাকি গ্রন্থাগার গুলি কোনরকমে সপ্তাহে একদিন বা দুদিন চালু রাখা হচ্ছে শুধুমাত্র সম্পদ টুকু বাঁচিয়ে রাখার জন্যে। তাও সব জায়গায় গ্রন্থাগারিক দিয়েই যে গ্রন্থাগার চালু রাখা যাচ্ছে, এমনটাও নয়। সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার জন্যে এক একজন গ্রন্থাগার কর্মী বা গ্রন্থাগারিককে এখন একাধীক গ্রন্থাগারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এমনকি বহু গ্রন্থাগারিক পদ শূন্য থাকায় বেশীরভাগ জায়গায় গ্রন্থাগার কর্মীদেরকেই গ্রন্থাগার সামলাতে হচ্ছে ।তালা বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা জেলার গ্রন্থাগার গুলির অন্যতম একটি হল জামালপুর সাধারণ পাঠাগার। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ১৯৩৬ সালে এই পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার পর থেকে ঐতিহ্যশালী এই পাঠাগারটি স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল। কিন্তু গত ৭ মাস কাল যাবৎ এই পাঠাগারটির দরজা তালা বন্ধ হয়েই পড়ে রয়েছে। কারণও সেই একটাই। এই পাঠাগারের পাঠাগারিক ও পাঠাগার কর্মী অবসর নেওয়ার পর তাঁদের শূন্য পদ আজও পূরণ হয় নি। পাঠাগারটির পরিচালন কমিটির সভাপতি অরুপ মল্লিক ও যুগ্ম সম্পাদক দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন,স্বাধীনতার আগে তৈরি হয়েছিল জামালপুর সাধারণ পাঠাগার। কর্মী শূণ্যতার কারণে সেই পাঠাগারের দরজায় যে তালা পড়ে যাবে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধীকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনও অবধি কোন সুরাহার ব্যবস্থা হয় নি। একই রকম পরিণতির অপেক্ষায় দিন গুনছে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর ব্লকের জাড়গ্রামের মাখনলাল স্মৃতি পাঠাগার। পাঠাগারিক ও পাঠাগার কর্মীরা অবসর নেওয়ার পর এখন একজন মাত্র দপ্তরী কাম বুক বাইন্ডার এই পাঠাগারটির হাল ধরে আছেন। ওই বুক বাইন্ডারই অন্য পাঠাগার সামলে সপ্তাহে ১-২ দিন মাখনলাল স্মৃতি পাঠাগারটি খুল বসছেন। এমন দুরাবস্থায় ধুঁকছে জেলার আরো অনেক পাঠাগার। তাই স্বাভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, কবে কাটবে বাংলার গ্রামীন পাঠাগার গুলির এই দুরাবস্থা?এরই উত্তর পাবার জন্যে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তথা মন্তেশ্বরের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, কাগজে কলমে রাজ্যে লাইব্রেরির সংখ্যা ২৪৮০টি। এর মধ্যে গ্রামে রয়েছে ১৫০০টি লাইব্রেরি। তবে ২৬ টি লাইব্রেরির কোন অস্তিত্বনেই। ২৪৫৪ টি লাইব্রেরির মধ্যে ৪৯০ টি লাইব্রেরি এখন বন্ধ রয়েছে কর্মীর অভাবে। ১৯০০ কিছু বেশী লাইব্রেরি এখন চালু রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৬০০ লাইব্রেরি এখন অ্যাডিশনাল চার্জে চলছে। মন্ত্রী জানান, লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদ পূরণে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হওয়ায় রাজ্যে ৭৩৭টি লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিকঠাক কাজ চললে আগামী চার মাসের মধ্যে ৫০ শতাংশ লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদে ফিলাপ পক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটা হয়েগেলে অ্যাডিশনাল চার্জ আর কাউকে নিতে হবে না। পাশাপাশি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি এও জানান, আমফানে রাজ্যের লাইব্রেরি গুলির প্রায় ১০ লক্ষ বই নষ্ট হয়েছে। আর কোথায় কিভাবে বই নষ্ট হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। গ্রন্থাগার মন্ত্রীর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন লাইব্রেরী খোলা থাকার দিন এবার এবার শেষ হতে চলেছে। এবার থেকে শুধু মাত্র প্রতি সপ্তাহের রবিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে দপ্তর।

মে ১৭, ২০২২
রাজ্য

অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে হাজির হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া

এ যেন একেবারেই উলোট পূরাণ। কোভিড অতিমারির প্রভাব কেটে গেলেও অফলাইনে পরীক্ষা দিতে নারাজ কলেজ পড়ুয়ারা। তাঁরা সরব হয়েছে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবীতে। এমনকি দাবি আদায়ের জন্যে হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে জমায়েত করে বিক্ষোভও দেখায়। যদিও পড়ুয়াদের এই দাবির বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন তা তাঁদের কথাতেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে সমস্ত কলেজ আছে সেইসব কলেজের ছাত্রছাত্রীরাই এদিন অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কাটোয়া কলেজের ছাত্র কিরণময় ভট্টাচার্য বলেন, কোভিড কাল থেকে এতদিন অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল ঠিকমতন হয়নি। এই সময় যদি ইউনিভার্সিটি বলে যে সমস্ত পরীক্ষা অফলাইন হবে তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁরা অফলাইনের পরিবর্তে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার দাবী করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না পর্যন্ত এই দাবী মেনে নিচ্ছে ততক্ষণ বিক্ষোভ চলবে বলে জানান ছাত্র-ছাত্রীরা। গুসকরা মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়া চৈতালী দত্ত বলেন, এখন অফলাইনে পরীক্ষা নিলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। তাই তাঁরা চাইছেন ক্লাস যেহেতু অনলাইনে হয়েছে, সেই কারণে পরীক্ষাও হোক অনলাইনে। একই দাবীতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকেও ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।অন লাইন পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভযদিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা স্পষ্ট জানিয়েদেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছে। এখনো ওই সিদ্ধান্ত বহাল আছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ৬৩ টি কলেজে ৩৫ হাজার পড়ুয়া আছে বলেও উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন।

মে ১৭, ২০২২
রাজ্য

দাগী দুস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ও তৃণমূল নেতার ছবি, সোচ্চার সিপিএম ও বিজেপি

গুলি ভর্তি পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া এক দুস্কৃতি এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের নেতাদের। ধৃত ওই দুস্কৃতির নাম সম্পদ জুই ওরফে বাবু। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সেহারাবাজারের পাওয়ার হাউস পাড়ায়। গত মঙ্গলবার ভোররাতে বর্ধমান-অরামবাগ রোডের ফকিরপুর ঢাল এলাকায় নাকা চেকিং চলার সময়ে সে পাইপগান ও কার্তুজ সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়।বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি ধৃত সম্পদ জুই খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের অত্যন্ত ঘনিষ্ট একজন তৃণমূল কর্মী।যদিও বিরোধীদের এই দাবি মানতে চাননি খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক।রায়না থানার পুলিশ অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো ধৃতের রাজনীতির রং বিচার না করে তাঁকে ওইদিনই বর্ধমান আদালতে পেশ করে।বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে সে ওই বেআইনি আগ্নেআস্ত্র কোথা থেকে পেল এবং কি উদ্দেশ্যে সে ওই আগ্নেআস্ত্র নিয়ে স্কুটিচেপে রাতে বাইরে বেরিয়ে ছিল।ধৃতের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার ফের তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। তবে সম্পদকে এখন শ্রীঘর বাসেই থাকতে হবে বলে পুলিশ কর্তাদের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বোমা, গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে। সেই মতো রায়না থানার পুলিশও তৎপরতা জারি রাখে। আর তাতেই পাইপগান ও কার্তুজ সহ সম্পদ জুই এর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।জেলা বিজেপির সহ- সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,সম্পদ জুই তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে যুক্ত।এমনকি সে নিজেকে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের ঘনিষ্ট বলেই এলাকায় জাহির করতো ।এই সম্পদ জুই কেই রায়না থানার পুলিশ ২০১৮ সালে প্রচুর গাঁজা সহ গ্রেপ্তার করেছিল।মাদক সংক্রান্ত সেই মামলায় সম্পদ জুই দীর্ঘদিন জেলও খাটে।তার পর অপকর্ম চালানোর জন্য সে তৃণমূলে ভিড়ে গিয়ে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল সেটাও সবাই জানে।। সেই সম্পদ জুই গত মঙ্গলবার রায়না থানার পুলিশের নাকা চেকিংয়ে গুলি ভর্তি পাইপগান ধরা পড়ে ।এই ঘটনা তুলে ধরে বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বাবু দাবি করেন , সম্পদ জুই শুধু যে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি করতো এমনটা নয়। সে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবিনচন্দ্র বাগেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ট বলেই সবাই জানেন। তৃণমূলের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের সঙ্গেই দেখা যেত।সেই সব ছবি এখনও সামাজিক মাধ্যমে ঘোরা ঘুরি করছে।পাশাপাশি সৌম্যরাজবাবু এও দাবি করেন,সম্পদ জুই গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরও একবার প্রমান হয়েগেল বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি আদৌ কোন কাজেই লাগেনি। তাই শাসক দলের লোকজন এখনও বেআইনি আগ্নেআস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত স্পর্ধা দেখাচ্ছেন।অন্যদিকে খণ্ডঘোষ নিবাসী জেলা সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষ বলেন,পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া সম্পদ জুই যে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ছিল সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করা ছবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।শুধু বিধায়কই নন,ছবিতে সম্পদ জুই এর গা ঘেঁষে খণ্ডঘোষের আর এক তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরা কেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিনোদ বাবুর দাবি , এটা ব্যতিক্রমী কোন ঘটনা নয়। আসলে এই প্রথম রাজ্যে একটা সরকার চলছে যেটা সমাজ বিরোধী (Anti Social) দ্বারা পরিচালিত । সেই কারণেই শাসক দলের নেতা ও বিধায়কদের কাছাকাছি এখন দুস্কৃতি অথবা সমাজ বিরোধীরাই থাকছে ।এটাই বাংলার সব থেকে বড় লজ্জা বলে বিনোদ ঘোষ মন্তব্য করেন।বিরোধীরা এইসব অভিযোগ করলেও ছবি দেখার খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ বলেন,এটি সেহারাবাজারে হওয়া তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানের ছবি। তবে আমার পাশে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি যে সম্পদ জুই তা তিনি জানেন না। সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনও না। অনুষ্ঠান চলাকালীন ওই ব্যক্তি কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সেটাও আমার আজানা। ছবিটা কিভাবে ছড়িয়ে গেল সেটাই বুঝতে পারছেন না বলে বিধায়ক নবীনচন্দ্রবাগ জানিয়েছেন। অপর তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরাও একই ভাবে জানিয়েদেন, সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনই না। ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরও কেউ নন। রাস্তার ধারে রাতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠান চলার সময়ে কখন ওই ব্যক্তি তাঁর ও বিধায়কের পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন সেটাও অজানা বলে সঞ্জীব বাবু জানিয়েছেন।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

টাওয়ার বসানোর নামে বড়সড় প্রতারণাচক্র পুলিশের জালে, বর্ধমানে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

টাওয়ার বসানোর বড়সড় প্রতারণচক্রের পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানা। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীর হাতে তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।মাঝে-মধ্যেই মোবাইলের টাওয়ার বসানো নিয়ে কোনও কোনও না চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর সেই ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। তখন আর হা-হুতাশ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এবার পরিত্রাতার ভূমিকায় পুলিশ। এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তৎপরতায় সাইবার ক্রাইম থানার প্রচেষ্টায় উদ্ধার হয়েছে প্রতারণার পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান উল্লাসের বাসিন্দা ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জীর কাছে তাঁর হাসপাতালের ছাদে রিলায়েন্স জিও ইনফোকম টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব আসে। একইসঙ্গে মোটা অংকের রিটার্নের প্রলোভন দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন চার্জ, ফিজ, ফিক্সড ডিপোজিট-এর নাম করে ২০ লক্ষের ওপর টাকা ওনার কাছ থেকে নেওয়া হয়। উনি পরে প্রতরণার শিকার হন বুঝতে পেরে গত গতবছর ৮ নভেম্বর এই বিষয়ে ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জী পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানায় কেস করেন। সাইবার থানা ঘটনার তদন্তে নেমে গতকাল এই কেসের আসামিকে গ্রেফতার করে। প্রতারিত হওয়া পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীকে ফিরিয়ে দেয়।

মে ১৩, ২০২২
রাজ্য

অজস্র ডিম সমেত একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধার করে আগলে রেখেছেন বন কর্মীরা

বর্ষা নামতেই বনকর্মীদের তৎপরতায় একের পর এক জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে ডিম সমেত বিষধর সাপ। এখন বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে বনদফতরের কর্মীদের রক্ষণাবেক্ষনে ও পরিচর্যার মধ্যে ডিম আগলে রয়েছে বিষধর সাপ গুলি। ডিম ফুটে কবে সাপের বাচ্চা বের হয় তারই অপেক্ষায় এখন অপেক্ষমান বন কর্মীরা।বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দিনের মধ্যে শহর বর্ধমান সহ জেলার অন্য কয়েকটি জায়গা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬টি গোখরো ও ৪ টি চন্দ্রবোড়া রয়েছে। বর্ধমান শহরের সরাইটিকর ভাসাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ডিম সমেত প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করা হয়। রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। মা সাপটিকে ডিম থেকে সরিয়ে উদ্ধার করতে হিমসিম খেতে হয়। ডিম সমেত সাপটিকে রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। সেখানেই পরে আরো ১১টি ডিম পাড়ে ওই সাপটি। এরপর ফের গত মঙ্গলবার রায়না থানার বাঁকুড়া মোড় এলাকার একটি রাইস মিলের ভিতর থেকে ২৭টি ডিম সহ প্রায় চার ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করে বন কর্মীরা। এই সাপটি ও তাঁর ডিম গুলিও রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে।রমনাবাগানে কর্মরত বন দফতরের এক আধিকারিক অনিয়েছেন, ডিম সমেত মা সাপ গুলিকে প্রথমে কয়েকদিন একসঙ্গে রাখা হয়। কারণ সেই সময়ে সাপ ক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। ফোঁসফোঁস আওয়াজ করে। ডিমগুলি ছেড়ে যেতে চায় না। ঝুঁকি নিয়ে তাদের সরানো হয়। আধিকারিকের কথায় আরও জানা গিয়েছে, প্রথমে ডিম গুলি দুটি পৃথক বাক্সে রাখা হয়। ডিম ফোটানোর জন্য বিশেষ পদ্ধতি নেওয়া হয়। যাতে বাক্সের মধ্যে তাপমাত্রা ঠিক থাকে।সেই মত ব্যবস্থাও নেওয়া হয় যাতে ২৬ থেকে ২৮দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চা বেরিয়ে আসার পর প্রথম কিছুদিন তাদের পিঁপড়ে খাওয়ানো হবে। পরে মাংস দেওয়া হবে। একটু বড় হয়ে গেলে সেগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। জেলার বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, বর্ষা শুরুর প্রাক্কালে সাপের উপদ্রব বাড়তে শুরূ করায় মানুষজনকে সতর্ক ও সচেতন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে বন দফতর।

মে ১১, ২০২২
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ায় আকাদেমী পুরস্কার ফেরালেন বাংলার লেখিকা

বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আর তা জানার পরেই প্রতিবাদ স্বরুপ অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা ত্যাগ করলেন বর্ধমানের খাগড়াগড় নিবাসী লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন ।পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যদিও লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।এই বছরই প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যাঁরা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাঁদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি।তারা বাংলার বেশ কাছু পথিতযশা সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে কবিতা বিতান কাব্যগ্রন্থের জন্যে প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনিত করেন। সোমবার ২৫ শে বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্য সরকার আয়োজিত কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা আকাদেমি রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দবতরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গান সহ নানা বিষয়ে গবেষণা রয়েছে। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০ টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার। পাশাপাশি রত্নাদেবী এও বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেনে তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন ,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে পাওয়া আকাডমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় দাবী করেন, সোমবার মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। কারণ এতে পুরস্কারের গরিমা রক্ষিত হয়নি। তিনি মনে করেন, সাহিত্য সাধনার বিষয়। সেই সাহিত্য বিষয়ে কাউকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি কোনওভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে না।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

শহর কলকাতার অনুকরণে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের পরিচিতিতেও স্থান করে নিলেন বিশ্বকবি ও বিদ্রোহী কবি

মনীষীদের নামেই পরিচিতি পেয়ে আসছে বাংলার রাজধানী শহর কলকাতার একাধীক রাজপথ। তা নিয়ে কলকাতাবাসীর গর্বের অন্ত নেই। তবে আর শহর আঁকড়ে থাকা নয়। এবার শহর ছাড়িয়ে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের নামকরণেও জায়গা করে নিলেন বাংলার মনীষীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে চালু হল বাইপাশ রোড। শুধু মনীষীদের নাম দিয়েই দায় সারেননি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্তারা। সুসজ্জিত বেদী তৈরি করে বাইপাশ রোডের এক প্রান্তে কাজী নজরুল ইসলাম আর অপর প্রান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তিও বসানো হয়েছে।কবিগুরুর জন্মদিবস সোমবার ঘটা করে পালিত হয় জামালপুরে। ওই দিনই ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আগামী ২৪ মে বিদ্রোহী কবীর জন্মদিবসের দিন তাঁরও মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কলকাতা শহরের অনুকরণে মূর্তি বসিয়ে গ্রামের সড়ক পথের নামকরণ হওয়ায় যারপরনাই খুশি জামালপুর বাসী।ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গায়েছে ,জেলার মেমারি থেকে ৪০ কিমি পথ পেরিয়ে পৌছানো যায় হুগলীর তারকেশ্বর। সেই দিকে যেতে ১৫ নম্বর এই রাজ্য সড়কে জামালপুরের পুলমাথা এলাকা থেকে বাঁক ঘুরে হাফ কিমির মতো পথ গেলেই পড়ে দোবাঁধি এলাকা। এই দোবাঁধি এলাকাতাতেই একই রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি রাস্তা গিয়েছে দামোদরের উপরে থাকা হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুতে ওঠার জন্য। অপর ভাগটি দিয়ে সোজা তারকেশ্বর যাওয়া যায়। বাইপাস রোডটি জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছ অবধি গিয়ে তারকেশ্বর যাবার রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। এই এলাকাটিকে জামালপুর ব্লকের হেডকোয়ার্টার হিসাবেই ধরা হয়। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি নিজস্ব তহবিল থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে এই দোবাঁধি এলাকাতে প্রতিস্থাপন করেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। আর পুলমাথা এলাকায় কাজী নজরুল ইসলামের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয়েছে।পাশাপাশি সমিতির তরফে আনুমানিক হাফ কিমি-র এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথের নাম করণ করা হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল বাইপাশ।এই বিষয়ে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন বলেন, এলাকার উন্নয়নে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি অনেক কাজ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল বাইপাস রোডের দুই প্রান্তের এক প্রান্তে বিশ্বকবি ও অন্য প্রান্তে বিদ্রোহী কবির পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসিয়ে সড়ক পথে একটা পরিচিতি দেওয়া। কলকাতা কিংবা অন্য জেলার মানুষজন যখন গ্রামীন এলাকার এই পথ ধরে যাবেন তখন তাঁরাও শহরের ছোঁয়া খুঁজে পাবেন। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ্য ভূতনাথ মালিক বলেন, সদিচ্ছা থাকলে গ্রামকেও শহরের আদলে সাজানো যায়। আমরা সেই লক্ষেই যেমন এগিয়ে যেতে চাইছি ,তেমনি চাইছি বাংলার বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও মনীষীদের মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জীবন ও দর্শনকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে। তাই পঞ্চায়েত সমিতি এমন কর্মকাণ্ডে সামিল হয়েছে। জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছে যে জায়গায় বাইপাশ রোডটি শেষ হচ্ছে সেই খানে আগামী আর কয়েক মাসের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হবে। তখন বাইপাশ রোডটির এক প্রান্ত রবীন্দ্র- নজরুল বাইপাশ, আর অপর প্রান্ত রবীন্দ্র -বিবেকানন্দ বাইপাশ নামেই পরিচিতি পাবে। ভূতনাথবাবু এও জানান, শ্রীচৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য জামালপুর ব্লকের কুলীন গ্রামের পরিচিতি সারা দেশ জুড়ে রয়েছে। হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান এই কুলীন গ্রাম। এই গ্রামেরই ভূমিপুত্র মালাধর বসু প্রথম ভাগবত শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেছিলেন। সেই মালাধর বসুকে সন্মান জানিয়ে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি মেমারি-জৌগ্রাম রোডের কুলীনগ্রাম সংলগ্ন দত্তপাড়া মোড়ে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর ওই জায়গাটিকে মালাধর বসু মোড় নামেই পরিচিতি দেওয়া হবে।বিডিও (জামালপুর)শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, জামালপুরের বাইপাশ রোডটি দুই বরেণ্য মানুষের পরিচয়ে পরিচিতি পাবে এটাই সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। মূর্তি প্রতিস্থাপনের মধ্যদিয়ে আগামী দিনে বাংলার আরও অনেক গুণীজন ও মনীষীকে জামালপুর বাসীর সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে পালিত বিশ্বকবির ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী

সোমবার সারা রাজ্যে মহা সমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন পালিত হল। কবিগুরু বাংলা ও বাঙালির আবেগ। মানুষের সুখ দুঃখ হতাশা সহ যেকোনও অনুভূতিতেই তাঁর গান আমাদের প্রেরণা। আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁর কবিতা / গানের ছন্দে ছন্দে বেঁচে থাকার অপার অনুপ্রেরণা। কবির কথায়ঃ- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ক্যাথিড্রাল রো তে কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাট্যকার ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবুল বাসার, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা। বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছর একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করল। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়েই প্রাতঃকালীন কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচন্ড দাবদাহের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অকাল গৃষ্মের ছুটি পরে যাওয়াতে তাঁরা কবি প্রনাম আয়োজন করেন সুর্যাস্তের পর।কবি বরণ অনুষ্ঠানসংস্থার প্রানপুরুষ তথা সভাপতি অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, দাবদাহের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় হটাৎ করে গরমের ছুটি পড়ে যাওয়াতে আমরা প্রথমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়ে পড়ি কচি-কাঁচাদের কথা ভেবে। বিগত দু-বছর তাঁরা করোনার চোখরাঙ্গানীতে গৃহবন্দি ছিল। তাই আমরা বিদ্যালয়ের সকলে বসে ঠিক করি, সুর্যাস্তের পর যদি আমরা অনুষ্ঠানটা করি তাহলে বাচ্চাদের আর গরমে কোনও সমস্যা হবে না।তিনি জনতার কথা কে আরও জানান, ছাত্রদের-ই জন্য বিদ্যালয়, তারা সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলে এ আনন্দে-র কোনও মুল্যই থাকে না। বিদ্যালয় তাঁদের পদধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। আজকের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কোনও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলবো না। ছাত্রদের সকলের অনুষ্ঠান-ই ছিলো মনমুগ্ধকর। কবি প্রনাম আদপে গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজা, কবির কথাতেই বলিঃ-শিশু হবার ভরসা আবারজাগুক আমার প্রাণে,লাগুক হাওয়া নির্ভাবনার পালে,ভবিষ্যতের মুখোশখানাখসাব একটানে,দেখব তারেই বর্তমানের কালে।নৃত্য, সঙ্গীত ও নটকে সাজানো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছিলো জমজমাট। এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী-তে তাদের থিম ছিল তবু মনে রেখো...। বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি ডাকঘর নাটক অবলম্বনে একটি ছোট্ট উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। অমলের ঘর থেকে বাইরে আসার আকুল আর্তি মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন নাগ জনতার কথা কে জানান, ডাকঘর নাটকে কবিগুরুর সৃষ্ট এক অমর চরিত্র অমল। অসুস্থ অমলের গৃহবন্দী দশা-য় যে মনকষ্টে ভুগেছে, তা বিশ্ববাসী বিগত দুই বছরে মরমে মরমে বুঝতে পেরেছে। তিনি এক যুগোত্তীর্ণ কবি সাহিত্যিক, সর্বকালে তাঁর রচনা প্রাসঙ্গিক, তিনি শতবর্ষ পুর্বে লিখে গেছেনঃ- আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে--আজি হতে শতবর্ষ পরে।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

চেরি ফল, কমলা ও লিচু দিয়ে সাজানো গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে গিয়ে তাক লাগালো বর

বিয়ে করতে যাবার আগেই রীতিমতো সেলিব্রিটি বনে গেলেন বর। আর এর কারণটাও যথেষ্ট সড়া ফেলে দেওয়ার মতোই। ঐতিহ্য মনে নতুন ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত বর অভিষেক ঘোষ মাথায় টোপর চাপিয়ে ও গলায় রজনীগন্ধার ঝুলিয়ে বিয়ে করতে যাবার জন্য রওনা হন ঠিকই। কিন্তু বরের গাড়িটি অর্থাৎ বাহনটি ছিল একেবারে ব্যতিক্রমি সাজে সজ্জিত। ফুল নয়, তার বদলে চেরি ফল, লিচু ,কমলা লেবু আর লিচুর পাতা দিয়ে অপরুপ ভাবে সাজানো ছিল বরের গাড়ি। যা দেখে নেটিজেনদের পাশাপাশি মুগ্ধ কণে পরিবারের সদস্যরাও।বর অভিষেক ঘোষের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার হরগোবিন্দপুর গ্রামে। নিজের বিয়েতে ব্যতিক্রমি কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগে সংস্কৃতি মনস্কো অভিষেকের। তাই এই ব্যাপারে সে বেছে নেয় বিয়ে করতে যাবার গাড়িটিকেই। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। এর জন্যে অভিষেক যোগাযোগ করে জামালপুরের হাটতলা এলাকা নিবাসী শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পালের সঙ্গে। তিনি অভিষেককে ফুলের বদলে হরেক রকম ফল দিয়ে বিয়ে করতে যাবার গাড়িটি সাজানোর প্রস্তাব দেন।সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাত অভিষেক লুফে নেয়। চেরি ফল ,লিচু, কমলা লেবু আর লিচু গাছের পাতা দিয়ে সাজানো চারচাকা গাড়িতে চড়েই অভিষেক বৃহস্পতিবার রাতে পাত্রীর বাড়ি মেমারির দেবীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।এর আগে আঙুর আর চেরি ফল দিয়ে বরের গাড়ি সাজিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পাল। আর এবার লিচু, চেরি ফল আর কমলা লেবু দিয়ে বরের গাড়ি সাজিয়ে সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন ফুল দিয়ে বরের গাড়ি সাজানোটার মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। সেই তুলনায় হরেক রকম ফল দিয়ে বরের গাড়ি সাজানোর মধ্যে আলাদা একটা চমক থাকে। অভিষেকও তাঁর নিজের বিয়েতে তেমন চকমই দিতে চেয়েছিল। তাই ৩ কেজি চেরি ফল,২৬ কেজি লিচু, ৬০ টি কমলা লেবু ও লিচু গাছের পাতা দিয়ে বর অভিষেকের গাড়িটি নজরকাড়া ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন। বর হিসাবে অভিষেককে বাকিদের থেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরতেই এতসব কর্মকাণ্ড বলে শিল্পী দাবী করেছেন।অভিষেক ঘোষ জানান, বিয়ে করতে যাবেন বলে তাঁর বাহন টিকে শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পাল যে ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন তা এককথায় অভিনব। এর সব ক্রেডিটটাই শিল্পীর। শিল্পীর এই ভাবনার তারিফ তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজনও না করে পারেন নি। অভিষেক এও বলেন,ফল দিয়ে সাজানো গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে গেছি দেখে কনে বাড়ির আমন্ত্রিতরাও মুগ্ধ। আমিও বাহবা কুড়োলাম।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
রাজ্য

মৃত ব্যক্তির নামে বাংলা আবাস যোজনার ঘর অনুমোদন করিয়ে টাকা লুট - ফের কাঠগড়ায় তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত

কেউ মারা গিয়েছেন প্রায় আট বছর আগে। আবার কেউ পাঁচ বছর আগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাতে আর কি যায় আসে বাংলা আবাস যোজনার অর্থ লুটেরাদের।কাগজে কলমে এই সকল মৃত ব্যক্তিদের নামে বাংলা আবাস যোজনার ঘর অনুমোদন করিয়ে লুট কে নেওয়া হল সেই ঘরের টাকা। এমন ঘটনা জানাতে পরেই সোমবার পূর্ব বর্ধমানের কালনা ১ ব্লকের বিডিও-র দ্বারস্থ হলেন মৃতর পরিজনরা। তাঁরা এই দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত স্থানীয় নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েতকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। ব্লক প্রসাসন অভিযোগের তদন্ত করে কি ব্যবস্থা নেয় সে দিকেই এখন তাকিয়ে মৃতর পরিজনরা।বাংলা আবাস যোজনা নিয়ে কালনার নান্দাই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে এই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ উঠলো এমটা নয়।চার দিন আগেই কিছু প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালানো ব্যক্তি বাংলা আবাস যোজনার ঘরের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিডিও কে অভিযোগ জানান। নান্দাই পঞ্চায়েতের দুপসা গ্রাম নিবাসী প্রতিবন্ধী মহসীন মণ্ডল ওই দিন প্রশাসনকে জানান ,কাগজে কলমে তিনি বাংলা আবাস যোজনায় ঘর পেয়েছেন ঠিকই।কিন্তু ঘরের টাকা তিনি পান নি। দুর্নীতি করে তাঁর আই ডি নম্বর ব্যবহার করে ঘরের টাকা অন্য ব্যক্তি হাতিয়ে নিয়েছে। এই দুর্নীতিতে নান্দাই পঞ্চায়েতের প্রধান ও গ্রাম সদস্য যুক্ত বলেও ওই দিন প্রশাসনকে জানান মহসীন মণ্ডল। একই দিনে নান্দাই পঞ্চায়েতের আশ্রম পাড়া নিবাসী বুলু দেবনাথও একইরকম অভিযোগ এনে ওই বিডিওর দ্বারস্থ হন। তিনিও বাংলা আবাস যোজনায় এই আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপ প্রধান ও ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার কে কাঠগড়ায় তোলেন।এই ঘটনার পর চার দিন কাটতে না কাটতে এদিন ফের বাংলা আবাস যোজনা নিয়ে নান্দাই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আরো চঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন একাধীক বাসিন্দা। স্থানীয় দুপসা গ্রাম নিবাসী ভ্যাবল মোল্লা এদিন বিডিওকে জানান, তাঁর মা নুরনাহার বিবি ১০১৪ সালের ৩০ জুলাই মারা গিয়েছেন। তার পর কাগজে কলমে তাঁরা মায়ের নামে বাংলা আবাস যোজনার ঘর অনুমোদন হয়। কিন্তু ঘরের টাকা তাঁরা কেউ পান নি। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তাঁর মায়ের নামে অনুমোদিত হওয়া ঘরের টাকা অন্য জন হাতিয়ে নিয়েছেন। ভ্যাবল মোল্লা ছাড়াও স্থানীয় কুতিরডাঙা মিবাসী শিখা মধু এদিন বিডিওকে অভিযোগে জানান, তাঁর বাবা মহাদেব মধু ২০১৭ সালে মারা যান। তার পরে তাঁর বাবার নামে বাংলা আবাস যোজনার ঘর অনুমোদন হলেও ঘরের টাকা তাঁরা পান নি। জালিয়াতি করে অন্যজন তাঁর বাবার নামে অনুমোদিত হওয়া ঘরের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই দুই জন ছাড়াও কুতিরডাঙা নিবাসী সুশীলা বিশ্বাসও একই ধরণের অভিযোগ করেছেন। এমন কি প্রকৃত গৃহহীন কে বঞ্চিত রেখে দোতলা বাড়িতে বসবাস করা অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি নিজের স্ত্রীর নামে বাংলা আবাস যোজনার ঘরের টাকা তুলে নিয়েছেন বলে এদিন অনেকে অভিযোগ করেছেন।এদিকে বাংলা আবাস যোজনা নিয়ে একের পর এক এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসতেই মুখ লুকিয়েছেন নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝুমুর ঘোষ ও উপ-প্রধান লিয়াকত শেখ। বিষয়টি নিয়ে এদিও তাঁরা কেউই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হতে চান না । বিডিও (কালনা- ১) সেবন্তী বিশ্বাস এদিন জানান, অভিযোগের তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে তদন্তে খুব তাড়া তাড়ি সত্য সামনে আসবে। তদন্তে অনিয়ম কিছু ধরা পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এপ্রিল ২৬, ২০২২
রাজ্য

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হস্টেলে ব্যাপক তান্ডব সুপার ও ৪ দুষ্কৃতীর, শেষমেশ ঠাঁই শ্রীঘরে

নিম্নমানের খাবার খেতে দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল হোস্টেলে থাকা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা। সেই প্রতিবাদী পড়ুয়াদের উপর বদলা নিতে যাওয়া হোস্টেল সুপার ও তাঁর মস্তান বাহিনীর হাতেই শেষে পড়লো পুলিশের হাতকড়া। বহিরাগত মস্তানদের সঙ্গে নিয়ে হোস্টেলে থাকা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন হোস্টেল সুপার সহ পাঁচ জন। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। আহত পড়ুয়ারা সকলেই মেমারির দুর্গাডাঙা এলাকায় থাকা আল আমিন মিশন স্কুলের হোস্টেলের আবাসিক। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল সেখ হাসিবুল আলম,মোজাফর সেখ,সেখ কিতাবুল,সেখ আব্বাস ও সেখ সফিকুল। ধৃতরা মেমারির দুর্গাডাঙা সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে হাসিবুল আলম হলেন আল আমিন মিশন হোস্টেলের সুপারেনটেনডেন্ট। জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শুক্রবার পাঁচ ধৃতকেই পেশ করে বর্ধমান আদালতে।বিচারক সকল ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবী করেছে আক্রান্ত পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকরা। আহত পড়ুয়ারা জানিয়েছেন,তাঁরা মেমারির আল আমিন মিশন স্কুলের ছাত্র। মিশনের হোস্টেলে থেকেই তাঁরা পড়াশুনা করেন।তাঁদের কেউ এই বছরের উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী,আবার কেউ দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন । এই পড়ুয়ারা অভিযোগে জানিয়েছেন,বেশ কিছুদিন যাবৎ তাঁদের হোস্টেলে নিম্নমানের খাবার খেতে দেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানেয় খাবার খেতে দেওয়া নিয়ে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। সেই প্রতিবাদ মেনে নিতে পারেননি হোস্টেলের সাপারেনটেনডেন্ট। তাই বদলা নিতে হোস্টেল সুপার শেখ হাসিবুল আলম বৃহস্পতিবার রাতে বহিরাগত একদল মস্তানকে হোস্টেলে ঢুকিয়ে দেন। হোস্টেল সুপারের নেতৃত্বে ওই বহিরাগতরা রড, লাঠি দিয়ে হোস্টেলে থাকা ১৫-২০ জন উচ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারধোর করে আহত করে। এমনকি বহিরাগত মস্তানরা হোস্টেলে ভাঙচুরও চালায়। তা নিয়ে রাতে হোস্টেলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মেমারি থানার পুলিশ ও স্থানীয় সহৃদয় মানুষজন হোস্টেলে ছুটে আসেন। তাঁরাই সকল আহত পড়ুয়াদের উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। ছাত্রদের তোলা এই অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন মিশন স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কেউ সংবাদ মাধ্যমে কোন প্রতিকৃয়া দিতে চান নি।তবে আহত পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে পড়ুয়ারা। বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সুপ্রভাত চক্রবর্তী জানিয়েছেন,পড়ুয়াদের মারধোরের ঘটনায় পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। হোস্টেল সুপার সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এপ্রিল ২২, ২০২২
রাজ্য

সল্প পরিশ্রমে বেশী আয়ের নেশায় চোলাই মদ পাচার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার তিন মহিলা

খেতমজুরি বা পরিচারিকার কাজ কোনটাই পছন্দ নয়। আবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থেও মন পোষাচ্ছে না।তাই বেশী রোজগারের ধান্দায় তিন মহিলা নিপাট গৃহবধূর ছদ্মবেশে শুরু করেছিলেন চোলাই মদ পাচারের কাজ।তবে অবশ্য বেশীদিন তাঁরা পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এই কাজ চালিয়ে যেতে পারলেন না। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সেহারাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে প্রচুর চোলাই মদ সহ ওই তিন মহিলা কে ধরে ফেলে। পুলিশের দাবী চম্পা দাস, পুতুল দাস ও চাঁপা দাস নামের তিনি মহিলার কাছ থেকে প্রচুর চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এদিনই পেশ করে বর্ধমান আদালতে। রায়না থানা এলাকার আর কোন গ্রামের মহিলা চোলাই মদ পাচারের কাজে যুক্ত হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারেও পুলিশ খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে ছানা গিয়েছে, চোলাই মদ পাচারে অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তিন মহিলার বাড়ি দক্ষিণ সেহারাবাজার এলাকায়। একেবারে নিপাট সাধারণ পরিবারের গৃহবধূর বেশে প্রতিদিন সাতসকালে ব্যাগে কিছু নিয়ে এই মহিলারা আসতেন সেহারাবাজার ফাঁড়ির অধীন শ্রীধর এলাকায়। তাঁরা যে আসলে চোলাই মদ পাচারকারী তা পুলিশের কেউ কল্পনাও করতে পারেন নি। কিন্তু গোপন সূত্রে সেহারাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য রাজেশ মাহাতো জানতে পারেন ওই তিন মহিলা চোলাই মদ পাচার করতেই প্রতিদিন সকালে শ্রীধর বাজারে আসেন। এরপরেই এদিন সকালে রাজেশ মাহাতোর নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী শ্রীধর বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চোলাই মদ সহ বমাল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় চম্পা দাস, পুতুল দাস এবং চাঁপা দাস নামের তিন মহিলা। রায়না থানার পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, ধৃত মহিলাদের কাছ থেকে ৭৫ লিটারের মত চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে। ওই মদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ধরায় মামলা রুজু করে ধৃত তিন মহিলাকেই এদিন বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।দক্ষিণ সেহারাবাজার এলাকার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, অল্প পরিশ্রম করে বেশী রোজাগারের নেশাতেই এই মহিলারা চোলাই মদ পাচারে কাজে নেমে পড়েছিলেন। তবে মহিলাদের এই কাজে নামানোর পিছনে যাঁরা জড়িত রয়েছে তাঁদেরও খুঁজে বার করা দরকার। এলাকাবাসীর আশঙ্কা চোলাই মদ বিক্রী বন্ধে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে পুলিশী অভিযান বাড়ানো হয়ে। সর্বত্র চলছে চোলাই মদের কারবারীদের ধরপাকাড়। এইসবের কারণে চোলাই মদের পুরুষ কারবারীরা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের চোলাই মদ পাচারের কাজে সামিল করে থাকতে পারে।

এপ্রিল ২১, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে হঠাৎ একইসঙ্গে ১২ জন স্কুলপড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য

শনিবার বর্ধমান দুনম্বর ব্লকের সামন্তী উচ্চ বিদ্যালয় হঠাৎ করে একইসঙ্গে ১২ জন স্কুলপড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রাথমিক অনুমান স্কুলের সামনে বিক্রি হওয়া বরফ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। এরপরে ওই স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে আসা হয় পাহাড়হাটী ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে।তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কোনওরকম খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্কুল পড়ুয়ারা। মূলত ডিহাইড্রেশনের কারণেই এ দিন তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।এদিনের এই ঘটনার পর হাসপাতালে অসুস্থ স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করলেন মেমারি দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মামনি মর্মু।

এপ্রিল ১০, ২০২২
রাজ্য

গাড়িতে সরকারি স্টিকার ব্যবহার করে ছাগল চুরির অভিযোগ বর্ধমানে, গাড়ি ভাংচুর-আটক দুই

সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে চলছে ছাগল চুরি। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে চুরি করতেই গাড়িতে ব্যবহার সরকারি স্টিকার বলে অভিযোগ। অভিনব এই ছাগল চুড়ির ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার সড়াইটিকর পঞ্চায়েতের শান্তিপাড়ায়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ।গাড়িতে থাকা দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানাগেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সড়াইটিকর পঞ্চায়েতের শান্তিপুর থেকে এক এক করে ছাগল গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজলেও তা মিলছে না, এই বিষয়ে কেউ কেউ বর্ধমান থানায় ছাগল হারানোর অভিযোগও দায়ের করে। শাকিব হোসেন খান ও রেহেনা বিবি বলেন, ছাগল চুরির পাশাপাশি প্রত্যেকদিন এলাকাতে কালো কাঁচ ও সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি ঘোরাফেরা করছে। তাতেই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। বৃহস্পতিবার ফের এলাকাতে ওই সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি দেখা যায়। তা আটকাতে গেলে পালানোর চেষ্টা করে। কোনওক্রমে স্থানীয়রা গাড়িটা আটকালে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় চারটি ছাগল। তারপর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায় এবং গাড়ির চালক ও তার সঙ্গে থাকা একজনকে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্টিকার লাগিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ছাগল চুরির চলছিল।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
রাজ্য

গাড়িতে সরকারি স্টিকার ব্যবহার করে ছাগল চুরির অভিযোগ বর্ধমানে, গাড়ি ভাংচুর-আটক দুই

সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে চলছে ছাগল চুরি। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে চুরি করতেই গাড়িতে ব্যবহার সরকারি স্টিকার বলে অভিযোগ। অভিনব এই ছাগল চুড়ির ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার সড়াইটিকর পঞ্চায়েতের শান্তিপাড়ায়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ।গাড়িতে থাকা দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানাগেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সড়াইটিকর পঞ্চায়েতের শান্তিপুর থেকে এক এক করে ছাগল গায়েব হয়ে যাচ্ছে। এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজলেও তা মিলছে না, এই বিষয়ে কেউ কেউ বর্ধমান থানায় ছাগল হারানোর অভিযোগও দায়ের করে।শাকিব হোসেন খান ও রেহেনা বিবি বলেন, ছাগল চুরির পাশাপাশি প্রত্যেকদিন এলাকাতে কালো কাঁচ ও সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি ঘোরাফেরা করছে। তাতেই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। বৃহস্পতিবার ফের এলাকাতে ওই সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি দেখা যায়। তা আটকাতে গেলে পালানোর চেষ্টা করে। কোনওক্রমে স্থানীয়রা গাড়িটা আটকালে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় চারটি ছাগল। তারপর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায় এবং গাড়ির চালক ও তার সঙ্গে থাকা একজনকে বর্ধমান থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্টিকার লাগিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ছাগল চুরির চলছিল।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
রাজ্য

ফের গলসির গ্রামে বোমা উদ্ধার, এলো সিআইডির টিম

পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি ১ নং ব্লকের সুন্দলপুর গ্রামে একটি পুকুর পাড়ের পাশের জমিতে উদ্ধার হল তাজা বোমা। একটি ঘি এর জারে তাজা বোমা উদ্ধার করে গলসি থানার পুলিশ। গলসি এলাকার একের পর এক গ্রামে বোমা উদ্ধারের ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। এই নিয়ে গলসি এলাকায় বেশ কয়েকবার বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।গতকাল রাতে পুকুর পাড়ে বোমার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় গলসি থানার পুলিশ। রাত থেকেই এলাকা ঘিরে রাখে গলসি থানার পুলিশ। খবর দেওয়া হয় সিআইডি বোম ডিস্পোজাল টিমকে। সিআইডি বোম ডিস্পাজাল টিমের প্রতিনিধিরা বোমাগুলি পাশেই একটি নির্জন জায়গায় নিস্ক্রিয় করে।কোথা থেকে কিভাবে এল ওই তাজা বোমা তার তদন্ত গুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের থেকে জানা গিয়েছে, গ্রামের মোড়ের খানিক দুরে নাপিত বাগান পুকুর। সেই পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ইট গাদার পাশে একটি জারে উদ্ধার হয় ৮ টি তাজা বোমা।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
রাজ্য

ঘটনার তিন দিন পরেও স্বামীর পারলৌকিক কর্ম হল না, সিবিআই তদন্ত চায় সন্তোষপুরও

খুনের বাদলা নিতে বগটুইয়ের কায়দায় খুনি ও তাঁর পরিজনদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। সোমবার বিকালে পূর্ব বর্ধমানের গলসির সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ এমন ঘটনা ঘটানোর পরেই পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানে নামে। পুলিশ ৩৯ জনকে গ্রেফতারের পর থেকে এখন কার্যত পুরুষ শূণ্য রামগোপালপুর পঞ্চায়েতের সন্তোষপুর গ্রাম। আর তাতেই বিপাকে পড়ে গিয়েছেন উৎপল ঘোষ (৩৩) এর স্ত্রী সাধনা ঘোষ ও তাঁর পরিবার। কারণ গ্রামে এখন নাপিত, ব্রাহ্মণ কেউ নেই।স্বামীর পারলৌকিক কাজ সম্পাদনের জন্য ক্ষৌরকর্ম পর্যন্ত তাঁরা করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য বুধবার পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষেভ উগরে দিয়েছেন সাধনাদেবী। পাশাপাশি তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্তও দাবি করেছেন।ছেলের সাথে অসহায় উৎপল ঘোষ-র স্ত্রী সাধনা ঘোষকৃষি প্রধান গলসির সন্তোষপুর গ্রাম হঠাৎ করে এই ভাবে খবরের শিরণামে জায়গা করে নেওয়ার নেপথ্য কারণটাও যথেষ্ট শিহরণ জাগানো। স্ত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিলেন এই গ্রামেরই বাসিন্দা উৎপল ঘোষ (৩৩)। শুধু প্রতিবাদ করাই নয়, স্ত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় জড়িত প্রতিবেশী মনোজ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনি গলসি থানায় অভিযোগও জানিয়ে ছিলেন। তারই বদলা নিতে রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুড়ুর দিয়ে কুপিয়ে উৎপল ঘোষকে নৃশংস ভাবে খুন করে মনোজ ঘোষ। রাতে মাথায় কুড়ুল গেঁথে থাকা অবস্থায় এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার হয় উৎপলের মৃতদেহ। মৃতর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্তে নেমে গলসি থানার পুলিশ ওই রাতেই মনোজ কে আটোক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। উৎপলকে নৃশংস ভাবে খুন করার কথা জেরায় মনোজ পুলিশের কাছে স্বীকারও করে নেয়। পুলিশ মনোজ ঘোষকে গ্রেফতারের পর সেমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে তদন্তের প্রয়োজনে ৪ দিন পুলিশি হেপাজতে নিয়েছে।ভষ্মীভুত গাড়িএই পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও মনোজের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে উৎপলের মৃতদেহ বাড়িতে ফেরার পর। তা আঁচ করে গ্রামে পুলিশও চলে যায়। তারই মধ্যে গ্রামের উত্তেজিত মানুষজন মনোজ ও তাঁর জ্যাঠা এবং কাকার বাড়িতে চড়াও হয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পোড়ে মনোজ ও তাঁর জ্যাঠা, কাকার বাড়িতে থাকা একাধিক গাড়ি ও খড়ের পালুই। আগুন নেভানোর জন্য খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছে বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও খুনের ঘটনার বদলা নিতে বাগটুইয়ের কায়দায় খুনি ও তার পরিজনদের বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রামের ৩৯ জনকে গ্রেফতার করে।ভষ্মীভুত ট্রাকটারপুলিশের এই গ্রেপ্তারি নিয়ে এদিন প্রশ্ন তুলেছে নিহত উৎপল ঘোষের স্ত্রী সাধনাদেবী। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নিরপরাধ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। অথচ অপরাধীরা এখনও দিব্যি গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুনি মনোজ ঘোষকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার বাবা কার্তিক ঘোষ ও কাকা হারাধন ঘোষকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। এখনও গ্রেফতারির ভয়ে গোটা গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে রয়েছে।গ্রামে ব্রাহ্মণ নেই, নাপিত নেই। স্বামীর মৃত্যুর তিন দিন পরও পারলৌকিক কাজ সম্পাদনে জন্য ক্ষৌরকর্ম করার রীতি থাকলেও তা করতে পারা গেল না। এইসবের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ সাধনাদেবী এদিন বলেন, আমি চাই সিবিআই আমার স্বামীকে খুনের ঘটনার তদন্তু করুক। নিহত উৎপল ঘোষের কাকা ভরত ঘোষও বলেন, পুলিশ ঠিক মত কাজ করছে না। যার বাড়ি থেকে অস্ত্র গেল উৎপলকে খুন করার জন্য তাকে পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনিও সিবিআই তদন্ত চাইছেন। যদিও জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন বলেন, পুলিশ খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব দিক বিবেচনা করেই পুলিশ তদন্ত করছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা বর্ধমান জিআরপিতে, জোর করে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ

পাঞ্জাব থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলো জিআরপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোরে লুধিয়ানা থেকে বর্ধমান স্টেশনে নামেন ৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা মালদার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা।তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের বাইরে বসে থাকার সময় জিআরপি থানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একজন লক্লার্ক মাস্ক না পড়ার জন্য তাদের প্রত্যেককে ৪৫০ টাকা ফাইন করে। সেই ছবি তাঁরা নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে। সেই ভিডিওতে দেখা যায় টাকা নেওয়ার সময় গালিগালাজ করছেন জিআরপির লক্লার্ক ওই শ্রমিকদের।শ্রমিকদের অভিযোগ, টাকা দিলেও তাঁদের এর জন্য কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি। সামসুল হক নামে ওই লক্লাকের এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে গেলে বাধা দেওয়া হয়।

এপ্রিল ০৫, ২০২২
রাজ্য

গলসি-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে সিআইডির বিশেষ দল

পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার অন্তর্গত সন্তোষপুরে অগ্নিকান্ডের তদন্তে কলকাতা সিআইডির ফরেন্সিক ফিঙ্গার টিমের বিশেষ দল। এই দলে রয়েছেন সিআইডির ইন্সপেক্টর সৈবাল বাগচিসহ চার জন। এঁদের মধ্যে একজন ফোটগ্রাফার ও দুজন ফিঙ্গারপিন্ট এক্সপার্ট রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এই টিম গলসি থানায় আসে। তারপর থানার একজন অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সন্তোষপুট গ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি ও গাড়িগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।সন্তোষপুর এলাকা থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৩৯জন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে গলসী থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজত নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ৩৯ জন ধৃতের মধ্যে অনেকেই নির্দোষ। তাঁদের অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাঁরা মূল অভিযুক্ত তাদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে গ্রামবাসীরা।

এপ্রিল ০৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • 19
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ! ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন মমতা, তীব্র চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনকে

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর দুইটায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেখানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মীরা।এই কর্মসূচির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন যে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতেই তিনি পথে নেমেছেন। জানা গিয়েছে, এই ধরনা কর্মসূচিতে তাঁর পাশে থাকবেন সেই সব মানুষ যাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংশোধন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু ভোটারও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।বঙ্গের এই সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রক্রিয়ার শুনানির শেষ পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগী ভোটারদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান। সেখানে তিনি অভিযোগ জানান এবং সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলেন। তবুও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়নি বলে দাবি তৃণমূলের।তৃণমূল সূত্রের দাবি, বর্তমানে প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে তেষট্টি লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও প্রায় ষাট লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনীতিতে বহুবার দেখা গিয়েছে, যখনই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনও সংকট তৈরি হয়েছে, তখনই তিনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন।ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রায় কুড়ি বছর আগে ধর্মতলার অনশন মঞ্চ থেকেই বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। সেই একই জায়গায় আবারও ধরনায় বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ করা এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি রুখে দেওয়া। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে সেই নির্বাচনের কোনও অর্থ থাকে না। তাঁর অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার পরেও দিল্লির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সব জায়গায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবুও বহু মানুষের নাম এখনও তালিকায় নেই। সেই কারণেই বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে তিনি শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসছেন। পাশাপাশি তিনি সকলকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এটি শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি বাংলার সম্মানের প্রশ্ন।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

আকাশ ছুঁয়ে ধেয়ে এল মৃত্যু! যে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রে খামেনির শেষ, সেই প্রযুক্তিই আনছে ভারত

অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন একটি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ব্লু স্প্যারো। এটি একটি বিশেষ ধরনের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। একই ধরনের প্রযুক্তি এখন ভারতও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর জন্য পরীক্ষা ও সংযোজন করছে বলে খবর।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের সময় প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে গিয়ে আঘাত হানে সেটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ এবং আক্রমণের ধরন এতটাই জটিল যে সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব।ব্লু স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক সময় মহাকাশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়। কারণ এটি প্রথমে একটি বুস্টার রকেটের সাহায্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় প্রান্তসীমা পর্যন্ত উঠে যায়। তারপর সেখান থেকে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে আবার নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি হয়ে যায়। ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে এটিকে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।এই ক্ষেপণাস্ত্রে জিপিএস ও ইনর্শিয়াল নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এমনকি একটি ভবনের নির্দিষ্ট ঘরকেও লক্ষ্য করে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল এই স্প্যারো পরিবারের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছিল মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অনুকরণে পরীক্ষা চালানোর জন্য। পরে সেই প্রযুক্তিকেই আরও উন্নত করে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই ভারত নিজেদের বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে রকস ও গোল্ডেন হরাইজন নামে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।রকস ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ব্লু স্প্যারো প্রযুক্তির একটি উন্নত সংস্করণ। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। জিপিএস না থাকলেও এটি নিজস্ব সেন্সর ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।এ ছাড়াও গোল্ডেন হরাইজন নামে একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত না পেরিয়েও শত্রু দেশের অনেক গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।ভারত ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৫ সালে অপারেশন সিন্দুর চলাকালীনও ইসরায়েলি প্রযুক্তির বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কথা সামনে আসে।সেই সময় নির্ভুল লক্ষ্যভেদের জন্য স্পাইস কিট ব্যবহার করা হয়। এগুলির সাহায্যে সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্রে পরিণত করা যায়। এছাড়া হারপি ও হারপ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয় বলে জানা যায়।ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সেই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ব্যবস্থাটি আকাশপথে আসা শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা তৈরি করতে সাহায্য করে।এ ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ও ইসরায়েলি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোন এবং র্যাম্পেজ ক্ষেপণাস্ত্রও বিভিন্ন গভীর আঘাত হানার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা আরও অনেক গুণ বাড়বে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরায়েলের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

ব্রিগেডের মঞ্চে বড় চমক দিতে চলেছেন মোদি! বাংলার জন্য কী ঘোষণা আসতে পারে? জল্পনা তুঙ্গে

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আগামী শনিবার বড় জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভা থেকেই বড় কোনও ঘোষণা করতে পারেন তিনি বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে দল।দলীয় সূত্রের দাবি, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই বাংলার মানুষের জন্য একটি বড় প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বার্তা দিতে পারেন যা সরাসরি বাংলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে সামনে আসবে। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটি শুধু রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, প্রশাসনিক ও উন্নয়নের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই এই ঘোষণাকে ঘিরে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজ্যে নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের প্রচারে গতি আনতে একের পর এক বড় প্রতিশ্রুতি সামনে আনছে। সম্প্রতি এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয়, রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে, আট মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্য সরকারি পদ পূরণ করা হবে এবং যুবকদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেই কারণেই ব্রিগেডের সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে যদি বড় কোনও অর্থনৈতিক বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়, তবে তা বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী ঘোষণা করতে চলেছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে ব্রিগেডের সভাকে ঘিরে জল্পনা এবং কৌতূহল দুটোই ক্রমশ বাড়ছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

তেল সংকটের আশঙ্কার মাঝেই বড় স্বস্তি! রাশিয়া থেকে তেল কিনতে ভারতের পথে আর বাধা নেই

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে তেল সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিল আমেরিকা। এর ফলে আপাতত বড় স্বস্তি পেল নয়া দিল্লি।কিছু দিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, দেশে প্রায় পঁচিশ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেল সরবরাহে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে ভারতের প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। কিন্তু আগে রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার শর্তে ভারতের উপর শুল্ক কমিয়েছিল আমেরিকা। সেই কারণে ভারত আদৌ রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।অবশেষে সেই জট কাটল। আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড়পত্র দিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই অনুমতি ত্রিশ দিনের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মার্চ থেকে এই সময়সীমা কার্যকর হয়েছে এবং তিন এপ্রিল পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারবে।আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেনেট সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার জ্বালানি কর্মসূচির ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ত্রিশ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তিনি ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকার কাছ থেকেও তেল কেনা বাড়াবে বলে তারা আশা করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। তবে রাশিয়া ও চিনের তেলবাহী জাহাজকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।খবরে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় রাশিয়ার প্রায় পঁচানব্বই লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। রাশিয়া আগেই জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ভারত এই তেল ব্যবহার করতে পারে।এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই আলোচনার পর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, এই সংকটের প্রভাব ভারতে খুব বেশি পড়বে না।তারই মধ্যে আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে আপাতত তেল সরবরাহ নিয়ে বড় স্বস্তি পেল ভারত। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি কত দিন চলবে এবং বিশ্ব বাজারে তেলের দামে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

মার্চ ০৬, ২০২৬
দেশ

বড় সিদ্ধান্ত কর্নাটকের! ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য বন্ধ সমাজমাধ্যম, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও সমাজমাধ্যমের প্রভাব ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কর্নাটক সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করেছেন, ষোলো বছরের নিচে কোনও শিশু সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। রাজ্যের বাজেট পেশ করার সময় বিধানসভায় এই ঘোষণা করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ও সমাজমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে পড়াশোনা, আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়ছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, শিশুদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্নাটক দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। এর আগে আন্ধ্রপ্রদেশ এবং গোয়া সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছিল। তবে সবচেয়ে আগে কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল কর্নাটক সরকার।রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই রাজ্যেই শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার প্রস্তাব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। গত মাসে সরকার স্কুল ও কলেজে ষোলো বছরের নিচে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার বিষয়েও ভাবনা শুরু করেছিল।মুখ্যমন্ত্রী এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা সমাজমাধ্যম আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, অনেক পড়ুয়া এই কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে এবং মানসিক সমস্যার মুখেও পড়ছে।সরকারের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইলের পর্দায় সময় কাটালে পড়াশোনার ফল খারাপ হতে পারে। আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। পাশাপাশি অজানা ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কাও থাকে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাদক চক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে প্রশাসনের দাবি।বিশ্বের বিভিন্ন দেশও শিশুদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে শুরু করেছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারও ষোলো বছরের নিচে কিশোরদের জন্য একাধিক সমাজমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।কর্নাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সবার।মেটা বিবরণ: শিশুদের মোবাইল ও সমাজমাধ্যম আসক্তি ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত কর্নাটক সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করলেন, ষোলো বছরের নিচে শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মার্চ ০৬, ২০২৬
বিদেশ

জেন জ়ির সমর্থনেই কি ইতিহাস? গণনায় এগিয়ে বলেন্দ্র, বড় ধাক্কা খেতে চলেছেন ওলি

নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে ভোট গণনা। আর গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় বড় চমক দেখা যাচ্ছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-কে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলেন্দ্র। সেই জনপ্রিয়তাই এখন ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।ঝাপা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, চুয়াত্তর বছর বয়সি ওলিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বলেন্দ্র। যদি এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে নেপালের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।বলেন্দ্র শাহের পরিচয় প্রথমে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কাঠামোগত প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। বর্তমানে তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়-এ গবেষণা করছেন। কিছুদিন তিনি টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবেও কাজ করেছেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি-তে যোগ দেন রবি লামিছানে-র নেতৃত্বে। দুই হাজার বাইশ সালে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন।নেপালের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বলেন্দ্র শাহ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেখানে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সেই আন্দোলনের জেরে নেপালের নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত হন কে পি শর্মা ওলি। আন্দোলনের সময় একাংশ বিক্ষোভকারী বলেন্দ্র শাহকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী।সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন বলেন্দ্র শাহ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এবার নির্বাচনের ফলাফল যদি তাঁর পক্ষে যায়, তাহলে তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও তুলে ধরতে পারে তাঁর দল।তবে বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি অতীতে একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ভারতের কিছু অঞ্চলকে নেপালের অংশ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। দুই হাজার তেইশ সালের জুন মাসে নিজের কার্যালয়ে নেপালের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন বলেন্দ্র। সেই মানচিত্রে ভারতের কয়েকটি অঞ্চলকে বৃহত্তর নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপালের পরিস্থিতির উপর তারা নজর রাখছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালে শান্তি, অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতাকে ভারত সবসময় সমর্থন করে। নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্য ভারত কাজ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের জন্য মোট দুইশো পঁচাত্তর জন সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে একশো পঁয়ষট্টি জন সরাসরি ভোটে এবং একশো দশ জন অনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

মার্চ ০৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে রাজ্যপাল পদ ছাড়লেন সিভি আনন্দ বোস! বাংলায় আসছেন বিতর্কিত আর এন রবি?

ভোটের আগে হঠাৎই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সি ভি আনন্দ বোস (Bengal Governor)। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বড় দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পোস্টেই উঠে এসেছে বাংলার সম্ভাব্য নতুন রাজ্যপালের নাম (Bengal Governor)।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে আর এন রবি-কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে (Bengal Governor)। তবে এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আগে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।কে এই আর এন রবি, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাঁর পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তিনি উনিশশো ছিয়াত্তর সালের কেরল ক্যাডারের ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক। জন্ম বিহারের পাটনায়, ১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশসেবার লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেন।কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে। তিনি দীর্ঘদিন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-তে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়। পরে তিনি ভারত সরকারের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটি-র চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নাগা শান্তি আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিল সমস্যার সমাধানে তিনি ভারত সরকারের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে দেশের উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদেও নিয়োগ করা হয়।পরবর্তীতে তিনি রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল ছিলেন। সেই সময় কিছুদিনের জন্য মেঘালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। এরপর ২০২১ সাল থেকে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে কাজ করছেন।তবে তামিলনাড়ুতে তাঁর সময়কাল বারবার বিতর্কের কেন্দ্রেও এসেছে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এক সময় তাঁকে কেন্দ্রের এজেন্ট বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। পরে রাজ্য সরকার তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও যায়। অভিযোগ ছিল, রাজ্যপাল দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক বিল আটকে রেখেছিলেন।এবার সেই বিতর্কিত রাজ্যপালের নামই ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। তাই আর এন রবি এলে সেই সংঘাত কি আবার নতুন করে শুরু হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।

মার্চ ০৬, ২০২৬
কলকাতা

হরমুজ প্রণালীর টানাপোড়েন, গ্যাস সরবরাহে চাপ! নতুন ডবল সিলিন্ডার আপাতত বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পড়তে শুরু করেছে। ইরান ও ইজরায়েল-এর সংঘাতের মধ্যে নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেল সংস্থাগুলির তরফে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ কোনও গ্রাহক নতুন করে দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা দেওয়া হবে না।জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যাতে রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে এখন একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, আপাতত তাদের সেই একটি সিলিন্ডার নিয়েই চলতে হবে। গ্যাস ডিলারদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হলে রান্নার গ্যাস সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাকে এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে মনে করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় রান্নার গ্যাসের উৎস অনেক কম এবং মজুতও তুলনামূলকভাবে সীমিত। দেশের মোট চাহিদার প্রায় আশি থেকে পঁচাশি শতাংশ রান্নার গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর বেশির ভাগই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ত্রিশ দিনের রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ যদি দেরিতে পৌঁছয়, তাহলে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে।এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক মানুষ আগেভাগে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। এতে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শহরের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেই কারণেই সাধারণ মানুষকে অযথা বেশি সিলিন্ডার মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে পেট্রল পাম্পগুলিতেও। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরো ভরে নিচ্ছেন। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, এখনই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তেলের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে।ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়া জানিয়েছেন, এখনও তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে দামের কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর দাবি।মেটা বিবরণ: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি সরবরাহে। নতুন করে ডবল গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ তেল সংস্থার, সাধারণ মানুষকে অযথা মজুত না করার পরামর্শ।

মার্চ ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal