শত্রুর রাতের ঘুম উড়বে? ওড়িশার উপকূলে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, ভারতের বড় শক্তিবৃদ্ধি
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও এক বড় সাফল্য ভারতের। বৃহস্পতিবার ওড়িশা উপকূলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষায় নির্ধারিত সব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সাফল্যের ফলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হল বলে মনে করা হচ্ছে।প্রলয় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র। এটি তৈরি করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। তবে এটি দূরপাল্লার অস্ত্র নয়। সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর অন্যতম বিশেষত্ব হল, একসঙ্গে প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে এটি। ফলে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।প্রলয়ের সফল পরীক্ষার কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি লিখেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ওড়িশা উপকূলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করা হয়েছে। বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষাটি নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য পূরণ করেছে। ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সাফল্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে ভারত। গত বছরের ডিসেম্বরে পিনাকা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। একই সময়ে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাতেও সাফল্য এসেছিল।এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষাও করেছিল ভারত। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ওই ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। সর্বোচ্চ দুই টন ওজনের অস্ত্র বহন করতে পারে এটি। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালামের সম্মানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নামকরণ করা হয়েছে কে সিরিজ হিসাবে।সব মিলিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুত এগোচ্ছে ভারত। স্থল, জল এবং আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক শক্তির কথা মাথায় রেখে ভারতের এই ধারাবাহিক সাফল্য কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

