• ২০ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Malda

রাজ্য

৩৮ বছর পর স্বপ্নপূরণ! সিএএ শংসাপত্র পেয়ে আবেগে ভাসলেন মালদহের উদ্বাস্তু

এসআইআর নিয়ে রাজ্যের উদ্বাস্তুদের এক বড় অংশের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঠিক সেই আবহেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মালদহের এক বাসিন্দা। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে দীর্ঘ ৩৮ বছর কাটানোর পর অবশেষে সিএএ-র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন সত্যরঞ্জন বারুই। নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের সিএএ-তে আবেদন করার আবেদনও জানিয়েছেন সত্যরঞ্জন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কারও প্ররোচনায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।মালদহ জেলার হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামনগোলা থানার চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুল্কিমারি গ্রামের বাসিন্দা সত্যরঞ্জন বারুই। তিনি বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে নির্যাতনের মুখে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সিএএ-র জন্য আবেদন করেন। গত বছরের অগস্ট মাসে আবেদন জমা দেওয়ার পরে সম্প্রতি তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেয়েছেন।এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের মানুষ সত্যরঞ্জনের বাড়িতে ভিড় করেন। পরে তাঁর বাড়িতে যান হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মুও। তিনি সত্যরঞ্জনকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান। নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে আপ্লুত সত্যরঞ্জন বলেন, সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়ে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি চিরকৃতজ্ঞ বলেও জানান। একই সঙ্গে উদ্বাস্তু সমাজের মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, সিএএ-তে আবেদন করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করুন এবং কারও কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।সত্যরঞ্জন জানান, বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে তিনি ভারতে এসেছিলেন। এতদিন নাগরিকত্ব না থাকায় মনে ভয় ছিল। এখন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সেই ভয় কেটে গিয়েছে। তাঁর গ্রামেও বহু মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেছেন। তিনি শংসাপত্র পাওয়ার পরে আরও অনেকে আবেদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান। এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক উপেক্ষা করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আবেদনও করেন তিনি।এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, তাঁদের দল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে না। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যেভাবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, একজন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ায় সমস্যার সমাধান হয় না। বহু মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেছেন, সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
রাজ্য

মালদহ থেকে বন্দে ভারত স্লিপার চালু, অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

বাংলা সফরের প্রথম দিনেই মালদহে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদা টাউন স্টেশন থেকে এ দিন দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন এই ট্রেন অসমের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেন চালু হতেই খুশির হাওয়া মালদহ জুড়ে। উদ্বোধনের পরে ট্রেনের ভিতরে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মালদহে একটি জনসভাও করেন তিনি।সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেই অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে বের করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে সেটা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতারাই বছরের পর বছর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় বসবাস করতে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জমি সুরক্ষিত নয়, কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, টাকা লুট হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।মালদহের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার এলে মালদহের আম নির্ভর অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাজ্যে আরও বেশি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে। রেশম চাষিদের জন্য কোটি টাকার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাট শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার সব রকম চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে যখন তৃণমূল কেন্দ্রের অংশ ছিল, তখন এমএসপি ছিল ২৪০০ টাকা, আর এখন তা বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে।বন্যাত্রাণ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, বহুবার ত্রাণের টাকা দেওয়া হলেও সেই টাকা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা টাকা পায়নি। তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হলে এই সব দুর্নীতি বন্ধ হবে।আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীভাঙন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সব ভেসে যায়, আর বন্যাত্রাণ নিয়ে কী হয়েছে, তা মানুষ নিজেরাই ভালো জানেন।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে বড় সিকিউরিটি অ্যালার্ট, বন্দে ভারত স্লিপারকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র!

আর হাতে গোনা কয়েক ঘণ্টা, তারপরই মালদহ থেকে ছুটবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। তবে এই আনন্দের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আরপিএফ। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ও কালো পতাকা দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে।আজ দুপুরে মালদা টাউন রেলস্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন ট্রেনের। তার আগে আরপিএফের পক্ষ থেকে কালিয়াচক থানার আইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুবোধ কুমার সাউ নামের একজন ব্যক্তি ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কিছু দুষ্কৃতীরা ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে হামলার চেষ্টা করতে পারে।আরপিএফের আশঙ্কা অনুযায়ী, জামিরঘাটা, খালতিপুর, চমগ্রাম, শঙ্খপাড়া, নিউ ফরাক্কা, বল্লালপুর, ধুলিয়ান, বাসুদেবপুর ও তিলডাঙা এলাকায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কালো পতাকা দেখানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই কালিয়াচক থানাকে স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।এর আগে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে একাধিকবার পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তখন রেল কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবার যাতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

মন্ত্রীর কন্যার নাম ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও রি-ভেরিফিকেশনের নোটিশ! নতুন করে চাঞ্চল্য

মালদহের মোথাবাড়ির বিধায়ক ও রাজ্যের সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বড় মেয়ের নামে এসআইআর-এ রি-ভেরিফিকেশনের জন্য নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী খুবই ক্ষুব্ধ। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নোটিশ সাধারণ মানুষকেও হয়রানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।মন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বড় মেয়ে ফিজা বিনতে আলম বর্তমানে আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন। ইউএসএ-তে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকার কথা নয়। ২০২৫ সালের তালিকায় নাম রয়েছে। সম্প্রতি এসআইআর শুরুর পর নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছেন ফিজা। বাবার নাম এবং ভোটার কার্ড সংযুক্ত করেছেন তিনি। তারপরও খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম এসেছে এবং হিয়ারিংয়ের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এভাবেই বিজেপির প্রভাবেই কমিশন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। আমার মেয়ের নাম-ই শুধু নয়, অনেক সাধারণ ভোটার যথেষ্ট নথি দেওয়ার পরও হিয়ারিংয়ে নোটিশ পাচ্ছেন। এভাবে মানুষকে হয়রানি করে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কেউ জয়ী হতে পারবে না।এই ঘটনায় জেলা রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা বিজেপি নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়ালেও, তৃণমূল কংগ্রেস প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ না করার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।ফিজা বিনতে আলমের পরিবার সম্পর্কে জানা গেছে, মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী মহম্মদ মেহবুব আলম কালিয়াচকের একজন ব্যবসায়ী। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে, বড় মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। সাবিনা নিজে মোথাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক হলেও কালিয়াচকের চাঁদপুরের বাসিন্দা।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
রাজ্য

ভোটের আগে মুর্শিদাবাদে বড় চমক! অধিকার যাত্রায় নামছে মিম

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ নজর পড়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে। কারণ, বাংলায় ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন বা মিম। ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করতেই এবার মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে শুরু হচ্ছে AIMIM-এর অধিকার যাত্রা।দল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অধিকার যাত্রার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি, বঞ্চনা এবং অধিকারকে সামনে রেখে জোরালো আন্দোলনের বার্তা দেওয়া হবে। এই যাত্রায় উপস্থিত থাকবেন AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি ও মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ। তাঁর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।সম্প্রতি মালদহে মিমের সক্রিয়তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সন্ধ্যা নামলেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন দলের কর্মীরা। অনেক মানুষ, যাঁরা আগে এই দলের নামও শোনেননি, তাঁরাও এখন সরাসরি মিমের সঙ্গে যোগাযোগ পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বাংলায় মিমের প্রভাব বাড়ছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সদ্য শেষ হওয়া বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে AIMIM। সেই ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে দলটির তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। একাধিক জেলায় সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি মালদহেও অনেক মানুষ মিমে যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি দলের।মিম নেতৃত্ব জানিয়েছে, মালদহ জেলার ১২টি বিধানসভার প্রতিটিতেই তারা প্রার্থী দেবে। এর মধ্যে সাতটি বিধানসভায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদও রয়েছে দলের রাজনৈতিক লক্ষ্য তালিকায়। এর আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি মিমের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে পারেন। তার মধ্যেই অধিকার যাত্রা শুরু হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে চলছিল বিবাদ, লাইভ ভিডিওর পর রহস্যমৃত্যু মালদহের যুবকের!

বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি ক্রমে এতটাই বেড়ে যায় যে স্ত্রী আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ ভিডিও করার পর রহস্যজনকভাবে মৃত পাওয়া গেল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কালিতলা মোবারকপুর এলাকার যুবক দুর্লভ সাহাকে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্লভ একটি শোরুমে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী মৌসুমী সাহার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। কয়েক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হলেও সংসারে শান্তি ছিল না। দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, নিয়মিত বিবাদের জেরে মৌসুমী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চাঁচোলে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।পরিবারের অশান্তি আরও বাড়ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে লাইভ ভিডিওর পর শনিবার সকালে দুর্লভের দেহ উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পর অবশেষে দেশে ফেরা! অন্তঃসত্ত্বা সোনালির বিস্ফোরক অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন মালদহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর আট বছরের ছেলে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন। দেশে ফিরেই সোনালি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে আট মাসেরও বেশি সময় তাঁরা চরম কষ্টে ছিলেন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, আমরা বহুবার অনুরোধ করেছিলাম। তবুও বিএসএফ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল।সোনালি এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। জানিয়েছেন, আর কোনওদিনও দিল্লি ফিরতে চান না। স্বামী-সহ বাকিরা ফিরতে না পারায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সোনালির পরিবারের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা উচিত।উল্লেখ্য, কাজের খোঁজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর এলাকার সোনালি বিবি ও সুইটি বিবিদের পরিবার। অভিযোগ, তাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও ১৭ জুন দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। কারণতাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলছিলেন, এবং সেই কারণেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়। ঠিক সেই সন্দেহের জেরেই ২৬ জুন ছজনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।সেই সময় সোনালি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশে ঢোকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে এবং মামলা রুজু করে। একশোরও বেশি দিন তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। অবশেষে সোমবার ওই মামলায় জামিন পান সকলেই।ঘটনা পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত স্পষ্ট জানায়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দিল্লি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও সঞ্জয় হেগড়ে আরও জানান, সোনালির স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেনতাঁদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি। সিলিসিটর জেনারেল এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশ চাইতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তুষার মেহতা দাবি করেন, সোনালি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি, মানবিক কারণেই শুধু সোনালি ও তাঁর ছেলেকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিলই রয়ে গিয়েছে। সোনালি দেশে ফিরলেও তাঁর স্বামী ও পরিবার কবে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

মায়ের কোল থেকে শিশুচুরি, প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সিসিটিভি দেখে খোঁজ পুলিশের

ভরদুপুরে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের কন্যা শিশুকে চুরি করে চম্পট। এই ঘটনার পর মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় মালদার মোথাবাড়ির বাঙ্গিটোলা সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা। সোমবার দুপুর নাগাদ এমন ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে না পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নবমাতৃকা মনিকা বিবি। পরে স্থানীয়রা জল ছিটিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে মনিকা বিবি মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতালে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক মধ্যবয়স্ক মহিলা মনিকার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছবি সংগ্রহ করে আশপাশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও মনিকা বিবির সদ্যোজাত কন্যা সন্তান শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এদিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আউটডোরের বেঞ্চে বসে ছিলেন মনিকা। ওই সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে একটি অচেনা মহিলা এগিয়ে এসে বলেন, তিনি নাকি শিশুর কান্না থামাতে সাহায্য করবেন। শিশুকে কোলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনিকা চিকিৎসকের ডাকে এগিয়ে যান। আর সেই সুযোগেই শিশুকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয় ওই মহিলা।মনিকা অভিযোগে জানান, মেয়ের ঠান্ডা লেগেছিল, খুব কান্না করছিল। ওই মহিলা বলেছিল কোলে নিয়ে চুপ করাবে। আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই সে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। শিশুটির কাকা আশরাফুল হক বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তা নেই। ভরদুপুরে বাচ্চা চুরি হয়ে গেল! এখানে যে এমন অপরাধ চক্র সক্রিয়, তা বুঝতেই পারিনি।মোথাবাড়ি থানার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানান, সিসিটিভি পরীক্ষা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা এলাকার বিশেষ নজরদারি চলছে কারণ ওই হাসপাতাল থেকে খুব কাছেই গঙ্গার ওপারে ঝাড়খণ্ডের সীমানা। কালিয়াচক এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট দেখা গেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।মালদা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর। দিনে-দুপুরে এত লোকজনের সামনে থেকে শিশু চুরি। এমন ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে পাহারা বা নজরদারির কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বহু রোগীর আত্মীয়ই বলছেন, চুরি চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। ইতিমধ্যেই ছবি ও তথ্য সব থানায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার আশাতেই ব্যাকুল পরিবার।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

৭ হাজার জীবন্ত ভোটার গায়েব, হাজার হাজার মৃতের নাম তালিকায়—মালদহে চরম গরমিল

মালদহের ভোটার তালিকা ঘেঁটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ। তালিকা হাতে নিয়ে দেখা গেলএখনও জীবিতদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটার হিসেবে রয়েছেন হাজার হাজার মৃত মানুষ। শুধু তাই নয়, জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আরও কয়েক হাজার আসল ভোটারকে। যে পরিস্থিতি ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।সূত্রের খবর, মালদহ জেলায় ভোটার তালিকায় খোঁজ মিলছে না ৭ হাজার ১৭১ জন ভোটারের। এঁদের বাড়িতে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছয়নি, এবং স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সন্ধানও পায়নি। অন্যদিকে একই তালিকায় রয়ে গিয়েছে ৫ হাজার ৫৭২ জন মৃত ব্যক্তির নাম। ২০২৫ সালের এখনও কার্যকর তালিকায় মৃতদের নাম দেখে অবাক হয়ে যান কমিশনের আধিকারিকরা।বৃহস্পতিবার এসআইআরস্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনএর কাজ পর্যালোচনা করতেই মালদহে আসে কেন্দ্রীয় কমিশনের প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ ভারতী। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলা প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে তাঁরা জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে একে একে তালিকার ত্রুটি, মৃত ভোটারদের নাম এবং অনট্রেসযোগ্য ভোটারদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।জেলায় কোন কোন বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা, সেই হিসেবও উঠে আসে বৈঠকে। দেখা যায়ইংরেজবাজার কেন্দ্রে নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক, ১১৭৩ জন। এরপরেই সুজাপুরে ৯৯৬ জন, রতুয়ায় ৯৪৪ জন, মানিকচকে ৮৩০ জন এবং বৈষ্ণবনগরে ৭৮৬ জন ভোটারের হদিশই মিলছে না।শুধু নিখোঁজ নয়, তালিকায় মৃতদের সংখ্যাও কম নয়। মৃত ভোটারের সংখ্যায়ও শীর্ষে ইংরেজবাজারএখানে মৃত হয়েও তালিকায় নাম রয়েছে ১০১৭ জনের। সুজাপুরে ৮২২, রতুয়ায় ৬৮২, মানিকচকে ৬৪১, মালদহ কেন্দ্রেই ৬১৯ এবং বৈষ্ণবনগরে ৫৯৪ জন মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে।কমিশনের নির্দেশপদ্ধতি মেনে দ্রুত নোটিস দিয়ে মৃতদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং যাঁদের খোঁজ নেই তাঁদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বৈঠকের শেষে কমিশনের প্রতিনিধিদের বার্তাও স্পষ্টএভাবে ভোটার তালিকার ভুল-ত্রুটি চলতে দেওয়া যাবে না।মালদহের এই বিশাল গরমিল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ভোটের আগে এমন চিত্র সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
রাজ্য

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানে মালদার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানের জয়পুরে উদ্ধার হল মালদার পরিযায়ী শ্রমিক হরিবোল ঘোষের দেহ। রবিবার রাজস্থান পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করার পর বুধবার দুপুরে কফিনবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ পৌঁছায় চাঁচল মহকুমার নরদিপুর গ্রামে। গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের আবহের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।হঠাৎ নিখোঁজ, তারপর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শ্রমিকের নাম হরিবোল ঘোষ (৩৮)। গত ৯ অক্টোবর রাজস্থানের জয়পুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহে সহকর্মী শ্রমিকরা ফোন করে জানান যে হরিবোল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এরপর পরিবার পুখুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।তবে ঘটনাটি ভিনরাজ্যের হওয়ায় মালদার পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানাতে পারেনি। ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গেও পরিবারের যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।হরিবোলের পিসতুতো দাদা রতন কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার থেকে ওর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ঠিকাদারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। রবিবার রাজস্থান পুলিশ ফোন করে জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় হরিবোলের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ও আত্মহত্যা করতে পারে না। পরিশ্রমের উপার্জিত টাকা ছিনতাই করতেই ওকে খুন করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভবুধবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের বহু শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে গ্রাম থেকে অন্তত তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে। ফলে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে। এক শ্রমিক পরিবারের সদস্য বলেন, বিনা সুরক্ষায়, না জানি কী ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। এখন আর সাহস হচ্ছে না।রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ামালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।পরিবারের দাবি সঠিক তদন্ত চাইহরিবোল ঘোষের পরিবার দাবি করেছে, তাঁর কাছে রোজগারের মোটা অঙ্কের টাকা ছিল। সেই টাকাই লক্ষ্য করে তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

SIR-এর তৃতীয় দিনেই ফাঁস কেলেঙ্কারি! তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে ফর্ম বিলির অভিযোগ

বাংলা জুড়ে চলছে এসআইআর (SIR) ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিশেষ অভিযান। আজ তৃতীয় দিনেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মালদহের চাঁচলে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসেই নাকি ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছিলেন এক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, কর্তব্যরত বিএলও অলোক চক্রবর্তী ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার নিয়ম ভেঙে, সরাসরি চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝর্ণা দাস বর্মণের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক, বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।চাঁচলের বিজেপি নেতা প্রশান্ত পাল বলেন, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বিএলওদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করতে হবে। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে, তারা পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। এটা স্পষ্টতই বিধি ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানাব।অভিযোগের মুখে পড়া বিএলও অলোক চক্রবর্তী অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনও অনিয়ম করেননি। তাঁর কথায়, আমি শুধু ফর্মগুলো গোছাচ্ছিলাম। বিলি করা হচ্ছিল না। প্রথম দিন হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছিল, তাই ওই জায়গায় বসে কাজ করছিলাম।অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি, বিজেপি অকারণে রাজনৈতিক রঙ চড়াচ্ছে। মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাপতি জানিয়েছেন, বিএলওদের পাশে থাকেন বিএলএ-২, যিনি তাঁদের কাজে সাহায্য করেন। সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়, তাই এই সমন্বয় জরুরি। বিজেপি হয়ত এসব নিয়ম জানে না।তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ভাইরাল হতেই চাঁচল ও মালদহ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। কমিশনের নির্দেশ মেনে পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের চোখ এখন সরাসরি সেই পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট বিএলওর দিকে।রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নানা প্রান্তে যখন এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে নানা বিভ্রান্তি চলছে, তখন এমন ঘটনায় কি আরও সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত হল? এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

মালদার অধ্যাপক অপহরণ কাণ্ড : ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

অবশেষে অপহরণের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার হলেন মালদার পলিটেকনিক অধ্যাপক তাপস কুমার মন্ডল (৩৬)। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে বুধবার রাতে তাঁকে উদ্ধার করে মালদা ও পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশের যৌথ টিম। ঘটনায় মোট ছজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ধৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকায়। আরেকজন অমৃত হালদার, যিনি মালদার মানিকচকের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অমৃতই গত ছমাস ধরে অধ্যাপকের নড়াচড়া লক্ষ্য করছিল। তাঁর মাধ্যমেই কাঁথির দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। মাস্টারমাইন্ড কার্তিক গুচ্ছেদের নেতৃত্বে অপহরণকারীরা একটি টিম তৈরি করে অধ্যাপককে তুলে নিয়ে যায়।অপহরণের দিন৮ সেপ্টেম্বর মালদা থেকে পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অধ্যাপক তাপস মন্ডল। মাঝপথেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ওইদিন রাতেই ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অধ্যাপকের স্ত্রী রাখি মন্ডল। পরদিন, ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণকারীরা রাখিদেবীর মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে তিন কোটি টাকা দাবি করে।কীভাবে উদ্ধারপুলিশ জানিয়েছে, অপহরণকারীরা তমলুকের একটি গেস্ট হাউস ভাড়া নিয়ে অধ্যাপককে আটকে রেখেছিল। মুক্তিপণের দাবির পাশাপাশি বন্দুক দেখিয়ে ভিডিও কলে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। অপহরণকারীদের ফোন ট্র্যাক করেই তমলুকের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ। এরপর বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে অধ্যাপককে উদ্ধার করে এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ধৃতদের জেরা করে উঠে আসে অমৃত হালদারের নাম।ধৃতদের পরিচয়গ্রেপ্তারদের নাম কার্তিক গুচ্ছেদ, রিয়াদ শেখ, সুরাজ শেখ, কালু শেখ, নাজিমুদ্দিন খান (সকলের বাড়ি কাঁথিতে) এবং অমৃত হালদার (মানিকচক, মালদা)। জানা গিয়েছে, অমৃত এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।পুলিশি পদক্ষেপবৃহস্পতিবার মালদায় সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্ভব জৈন জানান, তদন্ত এখনও চলছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে সাত দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।অধ্যাপক তাপস মন্ডল মালদার ইংরেজবাজার শহরের মহানন্দাপল্লির বাসিন্দা ও জলপাইগুড়ি পলিটেকনিকের অধ্যাপক। স্ত্রী রাখি মন্ডলও সরকারি কর্মচারী। তাঁদের আড়াই মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫
রাজ্য

শৌচাগারের ট্যাঙ্কি বানাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, মৃত দুই

নির্মীয়মান বাড়ির শৌচাগারের ট্যাঙ্কি ভেঙে মৃত্যু হল দুই ভাইয়ের। এই ঘটনায় জখম হয়েছে আরও একজন শ্রমিক । তাঁর চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শনিবার সন্ধ্যা ছটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার শহরের সুকান্তপল্লি এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই ভাইয়ের নাম উজ্জল মন্ডল (২৮) এবং অসিত মন্ডল (২৫)। তাঁদের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার বাগবাড়ি বাগরড এলাকায়। আহত হয়েছেন অমল মন্ডল(২৫)। তার বাড়ি রতুয়ার করমনি এলাকায়। এদিন তিনজন সুকান্তপল্লি এলাকার একটি নির্মীয়মান বাড়ির শৌচাগারের ট্যাঙ্কির ভেতরে সাটারিং খুলছিল। সেই সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সাটারিংয়ের কাঠ এবং কংক্রিটের চাঙর । এই দুর্ঘটনার সময় তিনজন জখম হলে তাদেরকে মালদা মেডিকেল কলেজে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসাকেরা দুইজন শ্রমিককে মৃত বলে জানিয়ে দেয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির মালিকের নাম প্রসেনজিৎ বর্মন। পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষক। সেখানেই তিনি একটি নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন। পুলিশ বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।শৌচাগারের ট্যাঙ্কি বানাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, মৃত দুই

জুন ২১, ২০২৫
রাজ্য

মৌমাছি তাড়া খেযে প্রাণ বাঁচতে ছাদ থেকে লাফ, মৃত গৃহবধূ

মৌমাছির তাড়া খেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে গিয়ে শেষমেশ জীবনটাই চলে গেল। দোতলার খোলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক গৃহবধুর। মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাটি ঘটে মানিকচক থানার ধরমপুর এলাকায়। এই ঘটনার পর ওইদিনই অচেতন অবস্থায় ওই গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করান তার পরিবারের লোকজন। বুধবার মৃত্যু হয় ওই গৃহবধুর। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন মাথার পিছনে গুরুতর আঘাতের জেরে মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রাধা মন্ডল (৫৫)। ওই মহিলার তিন ছেলেমেয়ে রয়েছে। তার স্বামী পেশায় কৃষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , এদিন বিকেলে বাড়ির খোলা ছাদে রান্না করার জন্য খড়ি রাখা ছিল। সেই জ্বালানি ছাদ থেকে আনতে যায় ওই গৃহবধু। ওই বাড়ির পাশে রয়েছে একটি লিচু গাছ। সেখানেই মৌমাছির চাক ভেঙে যাওয়ায় আচমকাই ওই গৃহবধূর ওপর আক্রমণ করে। তড়িঘড়ি মৌমাছির তাড়া থেকে বাঁচতেই খোলা ছাদ থেকে নিচে লাফ দিয়ে দেয় ওই মহিলা। সে সময় মাথার পিছনে জোরালো আঘাতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি । এরপর স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে সেদিনই মালদা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বুধবার সকালে মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। মৃতের এক আত্মীয় বিনয় মন্ডল জানিয়েছেন, দিদির বাড়ির ছাদের পাশে একটি লিচু গাছ আছে। সেখানেই এদিন কয়েকটি অল্প বয়সী ছেলে ঢিল মেরে লিচু পারছিল । সেই সময় মৌমাছির চাকে ঢিল লেগে ভেঙে যায়। তখন দিদি ছাদে খড়ি সংগ্রহ করছিল। মৌমাছির ঝাঁক দিদির ওপর হামলা করে। পালাতে গিয়ে বেসামাল হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যায় দিদি।

জুন ১২, ২০২৫
রাজ্য

চায়ের দোকানে খুন, গ্রেফতার তৃণমূলের উপ-প্রধানের দুই ভাই

পূর্ব আক্রোশ বসত এক ব্যক্তিকে রড দিয়ে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মোহাম্মদ বাবলু (৪৫)। তাঁর বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার গিরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতলাটোলা গ্রামে। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। এদিন বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন বাবলু। আচমকাই কয়েকজন দুষ্কৃতী রড দিয়ে আঘাত করে। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জঙ্গি পুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকার একটি বুথে তৃণমূল কম ভোট পায়, তা নিয়ে এলাকায় গন্ডগোল বাধে। সেই গন্ডগোলের জেরে এখনও অনেকেই বাড়ি ছাড়া। পূর্বের আক্রোশ বসে এই হামলা বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডে কংগ্রেস বেশি ভোট পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের কিছু মাস্তান তাদের ধমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। খুনের ঘটনায় উপপ্রধানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বাবলু শেখের খুনের ঘটনায় পুলিস উপপ্রধান কারু শেখের দুই ভাই তানজিল শেখ ও আসগার শেখ ওরফে হারু শেখকে গ্রেপ্তার করে। দুইজনকে এদিন ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের আবেদন জানিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

জুন ১০, ২০২৫
স্বাস্থ্য

দিনের পর দিন কাজ করেও বেতন জোটেনি, শেষমেশ অবস্থান-বিক্ষোভ মালদা মেডিক্যাল কলেজে

দিনের পর দিন বেতন না মেলায় অবশেষে ক্ষোভ দানা বাঁধলো মেডিক্যাল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। কাজ করেও তাঁদের বেতন জোটেনি। বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিলেন মালদা মেডিকেল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মী। এদিন সকাল থেকেই মেডিকেল কলেজের ট্রমা কেয়ার ভবনের সামনের অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন অস্থায়ী কর্মীরা। যতক্ষণ পর্যন্ত বেতন সমস্যা না মেটানো হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে বলেও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হওয়া অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পরিশ্রম করেও প্রতিমাসে নিয়ম করে বেতন মিলছে না। এই মেডিকেল কলেজের হাউসকিপিং, নিরাপত্তারক্ষী সহ বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ১৮১ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। ১৪ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন প্রত্যেকেই। কিন্তু বেতনের সময় এলেই আর নিয়ম করে তা দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মীদের ছয় মাসের বেতন মেলেনি। আবার কেউ চার মাস এবং তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে গণস্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দেওয়া হলেও কোনওরকম সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই নিজেদের বকেয়া বেতনের দাবিতে এদিন কর্মবিরতির ডাক দিয়ে এভাবে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছে। এদিন বিক্ষোভকারী এক অস্থায়ী কর্মী অম্লান মিশ্র বলেন, আমি নিজে ছয় মাস ধরে বেতন পাইনি। অথচ মেডিকেল কলেজের প্রতিদিনই ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা ডিউটি করছি। আমার মতো শতাধিক অস্থায়ী কর্মী মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছে না। অথচ আমরা কর্তব্যে কোনও সময় গাফিলতি করি না। মালদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থ প্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, নির্দিষ্ট একটি এজেন্সির মাধ্যমেই ওই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করেন। এখানে মেডিকেল কলেজের কোনও হাত নেই। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জুন ০৯, ২০২৫
রাজ্য

খুন করে টুকরো টুকরো দেহ বালি, সিমেন্টে ঢালাই, গ্রেফতার কাকিমা

এ যেন বলিউডের সেই বিখ্যাত হান্ডেড ডেজ সিনেমা। ১৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি নির্মীয়মান বাড়ির ঢালাই সিমেন্টের মেঝে খুঁড়ে এক ঠিকাদারের টুকরো করা দেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। কাকিমার সঙ্গে ওই ঠিকাদারের পরকীয়া সম্পর্কের জের এবং মোটা টাকার লেনদেনকে ঘিরেই এই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। চাঁচল মহকুমার পুখুরিয়া থানার কোকলামারি এলাকার বাসিন্দা ওই ঠিকাদার সাদ্দাম নাদাপ (৩৬)। তার কাকিমা মৌমিতা হাসানের বাড়ি ইংরেজবাজার শহরের কৃষ্ণপল্লী বাপুজী কলোনি এলাকায়। মৌমিতার স্বামী রহমান নাদাপ, তিনি পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার শহরের বাপুজি কলোনি এলাকার কাকিমা মৌমিতা হাসানের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিল ভাইপো সাদ্দাম। লেবার সরবরাহের পাশাপাশি জমি জায়গার বেচা কেনার সঙ্গে যুক্ত ছিল সাদ্দাম নাদাল। গত ১৮ মে ইংরেজবাজার শহরের বাপুজী কলোনি এলাকার অফিস থেকে রাতে বাড়ি ফেরার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় সাদ্দাম। সেই সময় তার কাছে ছিল ব্যবসার ২৫ লক্ষ টাকা। এই বিষয়ে ইংরেজবাজার থানায় পুখুরিয়া থেকে এসে তার পরিবারের লোকেরা নিখোঁজের লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে সাদ্দামের কাকিমাকে সন্দেহ করে নির্দিষ্ট নাম দিয়ে ২৩ মে আবারপ অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী নাসরিন খাতুন। এরপরই পুলিশ রবিবার সাদ্দামের কাকিমা মৌমিতাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি জেরায় মৌমিতা স্বীকার করে তার বাবার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে নিয়ে গিয়ে ভাইপোকে সুপারি কিলারের সাহায্যে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন এলাকায় মৌমিতার বাবার বাড়ি। সেখানেই তাদের একটি বাড়ি তৈরি হচ্ছে। সেই বাড়িতেই গত ১৮ মে সাদ্দামকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে আসে তার কাকিমা মৌমিতা। সাদ্দামের সঙ্গে তার কাকিমার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল গত পাঁচ বছর ধরে। এরপরই সেখানে সুপারি কিলারের সাহায্য নিয়ে খাসি কাটার মতো সাদ্দামের দেহ টুকরো করা হয়। সেই দেহের অংশ নির্মীয়মান বাড়ির মেঝেতে পুঁতে দিয়ে রীতিমতো বালি সিমেন্টের ঢালাই করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পিছনে তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতীর সাহায্য নিয়েছে ধৃত ওই মহিলা। সোমবার তপন এলাকা থেকেই মৃত ওই ঠিকাদারের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মোটা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই কাকিমার সঙ্গে গোলমাল চলছিল ভাইপো সাদ্দামের। তার জেরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এদিকে আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত মৌমিতা হাসান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। তার স্বামী ও নাবালক সন্তানকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পথের কাঁটা দূর করতে তিনি এভাবে খুন করেছে।

জুন ০৩, ২০২৫
রাজ্য

মেয়ের প্রথম জন্মদিনে রক্তদান শিবির! সাধুবাদ মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের

মেয়ের প্রথম বছরের জন্মদিনের মাধ্যমে মালদা মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকের রক্ত সংকট মেটানোর বার্তা নিয়ে এগিয়ে এলেন দাস পরিবার। বুধবার সকাল থেকেই বাড়ির একমাত্র মেয়ের প্রথম বছরের এই জন্মদিনকে ঘিরেই ধুমধাম ভাবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাটুলি এলাকার দাস পরিবার। বাড়ির সামনেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ভ্রাম্যমান রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় দাস পরিবারের পক্ষ থেকে। আর এই রক্তদান শিবিরের প্রথম রক্তদাতা হিসাবে ছোট্ট এক বছরের আদিক্সা দাসের বাবা দেবাশীষ দাস স্বেচ্ছায় রক্তদান দিয়ে কর্মসূচি সূচনা করেন। এদিন এই জন্মদিন উপলক্ষে বিকেল পর্যন্ত দেবাশীষবাবুর আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। দেবাশীষবাবুর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ , স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।মালদা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থপতিম মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন , নানান রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলি মাঝে মধ্যেই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছেন। এদিন ইংরেজবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাটুলি এলাকায় এক বছরের ছোট্ট আদিক্সা দাসের জন্মদিন উপলক্ষেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলেন তাঁর বাবা দেবাশীষ দাস। সঙ্গ দিয়েছিলেন দেবাশিষবাবুর স্ত্রী কোয়েল সাহা দাস। এদিন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে ভ্রাম্যমান ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের একটি বড় গাড়ি ছোট্ট মেয়ে আদিক্সা দাসের বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হয়। সেই ভ্রাম্যমান গাড়িতেই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ব্যবসায়ী দেবাশিষবাবুর পুরাটুলি এলাকায় নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। পরিবারের একমাত্র মেয়ে আদিক্সার জন্মদিনে এমন পরিকল্পনা অনেক আগে থেকে নিয়েছিলেন দেবাশিষবাবু এবং তার স্ত্রী কোয়েল সাহা দাস । আর সেটা কার্যত বাস্তবে করে দেখালেন। ব্যবসায়ী দেবাশিষ দাস বলেন, মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত রোগীর আত্মীয়েরা এক ইউনিট রক্তের জন্য কিভাবে ব্লাড ব্যাংকে ছোটাছুটি করছে। মাঝেমধ্যেই দেখি মেডিকেল কলেজের রক্তের সংকট রোগীদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। আমিও একসময় হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। তাই এদিন মেয়ের জন্মদিনে এমন ভাবেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের শিবির করেছি। আমার আত্মীয় পরিজন বন্ধু-বান্ধবরা অনেকেই এগিয়ে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছবি দাস জানিয়েছেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ । আমার এলাকার দাস পরিবার তাদের বাড়ির একমাত্র মেয়ের প্রথম জন্মদিনে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছেন । তাদের এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এভাবেই সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।

মে ২৯, ২০২৫
রাজ্য

মালদায় ফের শুট আউট, লিচুবাগানে গুলিবিদ্ধ যুবক

গুলিকাণ্ড থামছেই না মালদায়। ফের শুট আউট। লিচুবাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ যুবক উদ্ধার। কালিয়াচক থানার মোজমপুর এলাকার ঘটনা। করিম খান নামে ওই যুবক বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশেই লিচু বাগান জোগাচ্ছিল ওই যুবক। গতকাল রাত দশটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা খবর পান করিম খানকে কেউ বা কারা গুলি করেছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা লিচু বাগানে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় নীচে পড়ে রয়েছে করিম। এরপরই তাকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে কে বা কারা করিম শেখকে গুলি মেরেছে কিছুই বুঝতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন কালিয়াচকের মজমপুর কয়েক মাস ধরে শান্ত ছিল। কিন্তু নতুন করে আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। এর আগে মালদার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বাবলা সরকারকে দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুন করেছিল।

মে ২৬, ২০২৫
রাজ্য

পহেলগাঁওতে বাংলার কিশোর নিখোঁজ, পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার

কাশ্মীরে জনমজুরি করতে গিয়ে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১২ দিন ধরে ঘরের ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য পুলিশ, প্রশাসন এবং এলাকার মন্ত্রী ও সাংসদদের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। গত ৯ মে ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই রহস্যজনকভাবে কাশ্মীরে কাজ করতে যাওয়া হরিশ্চন্দ্রপুরের ১৯ বছর বয়সী কিশোর আসফাক হক নিখোঁজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিখোঁজ ওই কিশোরের পরিবারের লোকেরা হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই শ্রমিক আসফাক হকের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাটিওন গ্রামে। তারা তিন ভাই এক বোন। বাড়ির বড় ছেলে আশফাক।আসফাকের বাবা আকবর আলি জানিয়েছেন, গত একমাস আগে কাশ্মীরের আপেল বাগানে কাজ করছিল ছেলে। এরপর পহেলগাঁওয়ে একটি বিল্ডিং নির্মাণ সংস্থায় শ্রমিকের কাজ করছিল। এরই মধ্যে সেখানে সন্ত্রাসী হামলা আর তারপরেই ভারত - পাকিস্তান সংঘর্ষ শুরু হয়। গত ৯ মে ছেলে বাড়িতে ফোন করেছিল। আমাদের ফোন করে বলেছিল কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। যে কোন উপায়ে সে মালদার বাড়িতে ফিরে আসবে। ওইদিন রাতেই শেষ কথা হয়েছিল। তারপর থেকে ছেলের কোনও খোঁজ নেই। জানি না ছেলে কোথায় আছে। তবে আমরা চাই ছেলে সুস্থ মতো বাড়িতে ফিরে আসুক। আর ওকে কাশ্মীরে যেতে দেব না কাজ করতে। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তাজমুল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলব। দ্রুত যাতে আসফাকের সন্ধান পাওয়া যায় , সে ব্যাপারে চেষ্টা চালাব। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

মে ২২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

মিঠুন জল্পনা উড়িয়ে শেষমেশ রাহুলই ভরসা! রাজ্যসভায় যাচ্ছে বিজেপির পুরনো সৈনিক

রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। বাংলা থেকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রাহুল সিনহাকে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় মোট পাঁচটি আসন ফাঁকা রয়েছে। তার মধ্যে চারটি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল। বাকি একটি আসনে কাকে প্রার্থী করবে বিজেপি, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। একাধিক নাম ঘুরছিল রাজনৈতিক মহলে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাহুল সিনহার নামেই সিলমোহর দিল।মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ছয়টি রাজ্যের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। বিহার, অসম, ছত্তীসগঢ়, হরিয়ানা, ওড়িশা এবং বাংলা থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বিহার থেকে প্রার্থী হচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। অসম থেকে তেরাস গোয়ালা ও যোগেন মোহন, ছত্তীসগঢ় থেকে লক্ষ্মী বর্মা, হরিয়ানা থেকে সঞ্জয় ভাটিয়া এবং ওড়িশা থেকে মনমোহন সমল ও সুজিত কুমারের নাম ঘোষণা হয়েছে।বাংলার ক্ষেত্রে পঞ্চম আসনে বিজেপির ভরসা রাহুল সিনহা। এর আগে অনন্ত মহারাজ ও শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় গিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাহুলের নাম। তিনি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক। তবে গত কয়েক বছরে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে তেমন দেখা যায়নি। দলের অন্দরেই অনেক সময় তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে আলোচনা ছিল।শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকেই রাহুল সিনহাকে আবার সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। বিভিন্ন সভা, মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। একইভাবে দিলীপ ঘোষকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নির্বাচনের আগে পুরনো মুখদের সামনে আনার কৌশল নিয়েছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাহুল সিনহা এখনও পর্যন্ত যে কটি নির্বাচন লড়েছেন, সবকটিতেই পরাজিত হয়েছেন। চারবার বিধানসভা এবং পাঁচবার লোকসভা নির্বাচনে লড়ে জিততে পারেননি তিনি। মোট নয়বার ভোটে হেরেছেন। বরাবরই তাঁর আক্ষেপ ছিল, রাজ্য সভাপতি হলেও কখনও বিধায়ক বা সাংসদ হতে পারেননি। রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেলেন তিনি।আগামী ১৬ মার্চ বাংলার পাঁচটি আসনে রাজ্যসভা নির্বাচন হবে। চারটি আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমারকে। সেই তালিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। বিশেষ করে মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমারের নাম ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে।পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি আসন বিজেপির দখলে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। তবে সেই আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে জল্পনা ছিল প্রবল। রাহুল সিনহার পাশাপাশি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং এক পদ্মশ্রী প্রাপক সঙ্গীতশিল্পীর নামও শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দলের পুরনো মুখের উপরেই ভরসা রাখল বিজেপি।

মার্চ ০৩, ২০২৬
রাজ্য

এক ভোটার, দু’টি কেন্দ্র! এসআইআর চূড়ান্ত তালিকায় বড়সড় গরমিল ফাঁস

মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোট এবং একাধিক জায়গায় একই নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এনুমারেশন ফর্ম পূরণ, শুনানি এবং তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেই তালিকাতেই এবার ধরা পড়ল বড় গরমিল। একই ভোটারের নাম পাওয়া গেল দুই আলাদা বিধানসভা কেন্দ্রে। এক জায়গায় শ্যামপুকুর, অন্য জায়গায় অশোকনগর। শুনানির পরও কীভাবে দুজায়গায় নাম থেকে গেল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, ওই ভোটার এবং তাঁর বাবার নাম দুই জায়গাতেই একই রয়েছে। শুধু বয়সে সামান্য পার্থক্য। একটি কেন্দ্রে বয়স লেখা ৫৬ বছর, অন্য কেন্দ্রে ৫৮ বছর। ডিসেম্বর মাসেই সিইও দফতর জানিয়েছিল, ওই ভোটারকে শোকজ করা হয়েছে। কেন তিনি দুই বিধানসভা কেন্দ্রে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ বিষয়টি আগে থেকেই কমিশনের নজরে ছিল। তবুও চূড়ান্ত তালিকায় দুজায়গায় তাঁর নাম থেকে যাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।শ্যামপুকুর উত্তর কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্র। অশোকনগর উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত। কীভাবে এই ভুল থেকে গেল, তা জানতে চেয়ে দুই জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় ৬২ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। আবার প্রায় ৬০ লক্ষ নাম রয়েছে অমীমাংসিত তালিকায়। তাঁদের নথি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে একই ভোটারের নাম দুই জায়গায় থাকার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়াল।

মার্চ ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বাহিনী ও কর্মী সঙ্কট, বাংলায় একদিনে ভোট অসম্ভব! অবশেষে মানল নির্বাচন কমিশন

বাংলায় এক দফায় বিধানসভা ভোট করার প্রস্তুতি শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাহিনীর অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত ভোটকর্মীর অভাবের কথা জানিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিল রাজ্য সরকার। তাদের দাবি ছিল, একদিনে ভোট করা বাস্তবে সম্ভব নয়। অবশেষে দুদিনের পর্যালোচনা বৈঠকের পর রাজ্যের সেই বক্তব্যই মানতে বাধ্য হল কমিশন। সিইও কার্যালয় সূত্রে খবর, এক দফায় নির্বাচনের ভাবনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। তবে কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৯ মার্চ দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল। দুদিন রাজ্যে থেকে তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবেন। তার আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ মহাপরিচালক, আইনশৃঙ্খলা বিভাগের শীর্ষ কর্তা ও জেলাশাসকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লি থেকেও দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ আধিকারিক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।বৈঠকে স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, প্রয়োজন মতো বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি বাহিনী যাতে কোনও রকম আতিথেয়তা গ্রহণ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে রাজ্য পুলিশকে।এ বার বিধানসভা ভোটে ওয়েব কাস্টিং নিয়েও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, নজরদারির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীদের আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একজন কর্মী চার ঘণ্টার বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। দায়িত্ব শেষের পর লিখিতভাবে জানাতে হবে ওই সময়ের মধ্যে কী কী দেখেছেন। পরবর্তীতে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দায় নিতে হতে পারে। প্রয়োজনে ওয়েব কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরও নিয়োগ করা হতে পারে।কমিশনের প্রতিনিধি দল রাজ্য সফর সেরে ফেরার পরই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দফা ভোটের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের পালটা আঘাত? কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান, ভাইরাল বিস্ফোরণের ভিডিও

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল কুয়েতে। তেহরানে হামলা চালাতে গিয়ে কুয়েতের মাটিতে ভেঙে পড়ল আমেরিকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ পনেরো। প্রাথমিক অনুমান, ইরানের হামলার জেরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানটি। যদিও শেষ মুহূর্তে পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে জানা যাচ্ছে।ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাঝ আকাশে বিস্ফোরণের পর আগুন জ্বলতে জ্বলতে প্রায় তিরিশ সেকেন্ড চক্কর খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে যুদ্ধবিমানটি। এই ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি আমেরিকা বা কুয়েত। একাংশের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে। আবার অন্য একটি সূত্রের মতে, ভুলবশত মিত্রপক্ষের হামলাতেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এর পর থেকেই পালটা আঘাত হানছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে।রবিবার ইরান রিভলিউশনারি গার্ড দাবি করে, তারা আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের উপর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমেরিকার তরফে এখনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।এই পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। ইরান-আমেরিকা সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

মার্চ ০২, ২০২৬
দেশ

হরমুজ বন্ধ, তেলের দামে আগুন! চাপে ভারত, বাড়বে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। শেয়ার বাজারে ধস নামার পর এবার তেলের দামে বড় উল্লম্ফন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কার্যত থমকে গেছে। তার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে।সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি আশি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। শুক্রবার এই দাম ছিল প্রায় বাহাত্তর দশমিক নয় ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনে ব্যারেল প্রতি প্রায় দশ ডলার বৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভারতের উপরও পড়ছে। কারণ দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে।পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, ব্যারেল প্রতি দশ ডলার দাম বাড়লে ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ তেরো থেকে চোদ্দ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকার বেশি।বর্তমানে ভারতের হাতে চুয়াত্তর দিনের তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ আসে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও এই পথেই আসে। সারা বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় কুড়ি শতাংশ সরবরাহ হয় এই প্রণালী দিয়ে। ফলে এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়েই চাপ বাড়ছে।এখন বিকল্প উৎসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নয়াদিল্লি। আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা-সহ ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত এক বছরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছে ভারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এখন নজর হরমুজ প্রণালী কবে খুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজার কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর।

মার্চ ০২, ২০২৬
রাজ্য

বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার মাঝেই তফশিলি সমাবেশে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, নজর মতুয়া গড়ে

রাজ্য জুড়ে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার মাঝেই তফশিলি ভোটে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে তফশিলি সমাবেশের আয়োজন করেছে ঘাসফুল শিবির। সেখানে তফশিলি জাতি ও উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।লোকসভা নির্বাচনের আগেও তফশিলি সংলাপ কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। সেই সময় তফশিলি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও সেই রণকৌশলেই ফিরছে দল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিধায়ক, সংগঠক ও নেতা উপস্থিত থাকবেন।বৈঠকে থাকছেন ভোট কুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনও। তফশিলি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কীভাবে জনসংযোগ বাড়ানো যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মতুয়া গড়। সম্প্রতি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মতুয়া সমাজের বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে।রাজ্যের একশোরও বেশি বিধানসভা আসনে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের প্রভাব রয়েছে। ফলে ভোটের অঙ্কে এই সম্প্রদায়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে যে রূপরেখা তৈরি হবে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে দুয়ারে দুয়ারে প্রচার চালাবেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রচার গাড়ি নিয়ে তফশিলি অধ্যুষিত গ্রাম ও এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের সমস্যা, দাবি এবং অভাব-অভিযোগ শোনা হবে বলে দল সূত্রে জানা গিয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে নদিয়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তফশিলি জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বাস। উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটের হার ছিল প্রায় পঁয়তাল্লিশ থেকে ছেচল্লিশ শতাংশ। এবার সেই হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই তফশিলি সমাবেশকে বড় কৌশল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ০২, ২০২৬
বিদেশ

মুসলিম বিশ্বে একঘরে ইরান! দূতাবাস বন্ধ করল আমিরশাহী, তেহরানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের লাগাতার হামলায় রক্তাক্ত একাধিক মুসলিম দেশ। সৌদি আরব, কাতার, ওমান-সহ বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কার্যত একঘরে করার পথে হাঁটল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তেহরানে থাকা তাদের দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানে নিযুক্ত কূটনীতিকদেরও ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বের। তার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান। শনিবার ও রবিবার দুবাই, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।ইরানের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আরব দেশগুলি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এভাবে আগ্রাসী হওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নিজেদের যুদ্ধ অন্য দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।কিন্তু সতর্কবার্তার পরও হামলা থামেনি। বরং আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় আমিরশাহী। সে দেশের বিদেশমন্ত্রক জানায়, এই হামলা সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। কয়েক দশকের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ইরানে দূতাবাস বন্ধ করল আমিরশাহী।শনিবার মার্কিন হামলার পরই দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাম জুমেইরাহ অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা-র কাছেও বিস্ফোরণের খবর মেলে। নিরাপত্তার কারণে খালি করে দেওয়া হয় ওই ভবন।রবিবারও হামলা অব্যাহত থাকে। আবুধাবির একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুবাইয়ের রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে ছোড়া রকেট আছড়ে পড়ে। একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। মুসলিম বিশ্বের বড় অংশ ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগুন কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।

মার্চ ০২, ২০২৬
দেশ

মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে, দিল্লিতে তৎপরতা! নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেই কড়া বার্তা দিলেন মোদী

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার গভীর রাতে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়। সূত্রের খবর, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদনও জানিয়েছেন মোদী।শনিবার থেকে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আমেরিকাও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। পালটা আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান। একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতে ফিরে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পরই নেতানিয়াহুকে ফোন করা হয় বলে জানা গিয়েছে।সামাজিক মাধ্যমে মোদী জানান, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মত জানান তিনি।এদিকে ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।রবিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গেও কথা বলেন মোদী। সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে আশ্বাস দিয়েছেন, কঠিন সময়ে ভারত পাশে রয়েছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন মোদী। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিশেষ সম্মানও দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সফর শেষে ভারতে ফেরার আগেই ইরানের উপর যৌথ হামলা শুরু হয়। ফলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে ভারত।হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেল আমদানিও প্রভাবিত হচ্ছে। দেশে ফিরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা, তেল আমদানি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এখনই ইরান থেকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের কারণে পরিস্থিতি জটিল। কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে সকলকে।মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের। যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মার্চ ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal