• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MI

রাজ্য

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে পালিত রামনবমী, শোভাযাত্রায় পা মেলালেন সুকান্ত ও

সারা রাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে পালিত হল রামনবমী। বুধবার সকাল থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জেলা সদর শহর বালুরঘাট মহকুমা শহর গঙ্গারামপুর বুনিয়াদপুর সহ জেলা বিভিন্ন প্রান্তে রামনবমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বাইক র্যালি হয়। এই দিন রামনবমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলান রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার।তাঁর সাথে এদিন উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরপ চৌধুরী সহ বিজেপির অন্যান্য কার্যকর্তারা। বুধবার দুপুরে গঙ্গারামপুর শহরের কালিতলা থেকে শুরু করে বাসস্ট্যান্ড বড়বাজার নিউমার্কেট এলাকায় রামনবমী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি এদিন এই শোভাযাত্রায় ও পা মেলান। সূর্যের প্রখর রোদকে উপেক্ষা করে এদিন সারা জেলা জুড়েই রামনবমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় এবং বাইক র্যালিতে প্রত্যেকের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট লক্ষণীয়।এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাট মহুকুমা শহর গঙ্গারামপুর ও বুনিয়াদপুরে সুকান্ত মজুমদারের সাথে এই শোভাযাত্রায় রামনবমী উপলক্ষে ৮ থেকে ৮০-র উপস্থিতি যেমন ছিল পাশাপাশি রামনবমী উপলক্ষে গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে সহস্রাধিক মানুষের এই মিছিলে উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
রাজ্য

রামনবমীতে অযোধ্যার 'রামলালা' বর্ধমানে, পুজোয় ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা

রামনবমী উপলক্ষ্যে অযোধ্যার রামলালা বর্ধমানে অবস্থান করছেন। একেবারে শহর বর্ধমানের মধ্যস্থল বিজয় তোরণের সামনে মন্ডপে পুজিত হচ্ছেন রামলালা। অযোধ্যার রামমন্দিরের রামলালার আদলে মূর্তি গড়ে রামনবমী উৎসব পালিত হল বর্ধমানে। বিজয় তোরণের সামনে রামলালার পুজো হয়েছে। এই পুজোর উদ্যোক্তা শ্রীরামনবমী উদযাপন সমিতি। আজ, বুধবার, সকাল ৯টায় বিজয় তোরণ চত্বরে ভগবান শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের পুজো শুরু হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টায় বর্ধমান নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে এই পুজো স্থলে মিলিত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় সন্ধ্যারতি এবং প্রসাদ বিতরনের পর কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি হইবে। বর্ধমানে রামলালার মূর্তি দেখতে ভীড় জমাচ্ছে ভক্তগন। রাজ্যজুড়ে এদিন রামনবমী উৎসব পালিত হচ্ছে।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
রাজ্য

বাংলার রামনবমী নিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, বালুঘাটে বোল্লাকালীকে স্মরণ

লোকসভা ভোটের আবহে রাম নবমীকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। বুধবার রাম নবমী। তার আগে মঙ্গলে উত্তরবঙ্গের প্রচারে মমতা-মোদীর মুখে উঠে এল রাম নবমী প্রসঙ্গ। জলপাইগুলিতে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবাণী- বুধবার রামনবমীর দিন বিজেপি অশান্তি করতে পারে। সংখ্যালঘু ভাইয়েরা অশান্তি বাড়তে দেবেন না। এর পাল্টা বালুরঘাটে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সমর্থনে প্রচারে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী।এ দিনও বাংলায় প্রচার শুরু করেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, নমস্কার! কেমন আছেন বালুরঘাটবাসী? আপনাদের সকলকে আমার বিনম্র প্রণাম। এরপরই বালুরঘাটবাসীর আবেগকে গুরুত্ব দিতে শরণ করেন মা বোল্লা কালীকে। বলেন, আমি মা বোল্লা কালীকে প্রণাম জানাই।তারপরই মোদী তৃণমূলকে তুলোধনা করে রাম নবমী প্রসঙ্গ মুখ খোলেন। তিনি বলেন, আজ মহাষ্টমী। কাল সমগ্র দেশ রাম নবমী পালন করবে। এইবার প্রথম রাম নবমী যখন অযোধ্যায় ভব্য রাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে। রাম নবমীকে রুখে দেওয়ার জন্য তৃণমূল বহু প্রচেষ্টা করেছে। কিন্তু জয় সত্যের হয়। তাই কোর্টের অনুমতিও পাওয়া গেছে। মানুষের উৎসাহ আর মা বোনদের আশীর্বাদ এটাই প্রমাণ করে বাংলায় জিত হবে বিকাশের। সবাই আজ বলছে ৪ জুন ৪০০ পার। রাম নবমীর দিন দেশজুড়ে শোভাযাত্রা বের হবে বলেও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রচারে অহরহ রাম নবমীকে বিজেপির দাঙ্গা করার দিন বলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারই পাল্টা হিসাবে এবার রাম নবমীর আগের দিন বাংলায় এসে যেন রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের তাতিয়ে দিয়ে গেলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।এ দিনও প্রচারে সন্দেশখালি ও সিএএ প্রসঙ্গের অবতারণা করেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, আমাদের বিজেপি কর্মীরা নিত্যদিন অত্যাচারিত, খুন হচ্ছেন। সন্দেশখালির ঘটনা সমগ্র দেশ দেখেছে কিভাবে তৃণমূল শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে অপরাধীদের বাঁচানোর। সরকারি জায়গাগুলি তৃণমূলের দুর্নীতির আখড়া হয়ে গেছে। প্রাইমারি শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা কোথাও গেলে তাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে।সংশোধিত নাগিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মমতা সরকার। পাল্টা মোদীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে আর শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন সিএএ-এর এর বিরোধিতা করছে। তৃণমূলের মিথ্যা গুজবে কান দেবেন না। তৃণমূলের পাপের সাজা দিন পদ্মফুলে ছাপ দিয়ে।পাশাপাশি নিজের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধামন্ত্রী বলেন, ৭০ বছরের বেশি সকল বয়স্কের আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। এই সব সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার গরীব, আদিবাসী, মহিলাদের উপকার হবে। গ্যারান্টি আসার পর তৃণমূল আরও বেশি ঘেঁটে গেছে। ওরা ভাবছে এতদিন পর্যন্ত তো মানুষকে আমরা কেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছি।বালুরঘাটবাসীকে মোদীর আশ্বাস, বিগত ১০ বছরে বিজেপি বালুরঘাটের উন্নতির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। বালুরঘাট স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশনের অন্তর্ভুক্ত করেছে। একাধিক নতুন ট্রেন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বালুরঘাট এয়ারপোর্টের জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখানে তৃণমূল সরকারের ইচ্ছেই নেই বালুরঘাটের উন্নতি করার। বন্দে ভারত ও উন্নত হাইওয়ে এখানের সমগ্র অঞ্চলের উন্নতি করবে। আপনার স্বপ্ন আমার সংকল্প। ভাই বোন আপনাকে আমি কথা দিচ্ছি আপনার স্বপ্ন সফল করার জন্য আমি নিবেদিত।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
দেশ

ভোট প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন মুখ্যমন্ত্রী

ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা ওয়াইএসআরসিপি প্রধান জগন মোহন রেড্ডি। সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। রোড-শো চলার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে কেউ। কপালে লেগে রক্তারক্তি কাণ্ড হয়। ঘটনার জেরে বন্ধ হয়ে যায় রোড-শো।বিজয়ওয়াড়ায় ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলেন ওয়াইএসআরসিপির প্রধান।সেখানে মেমান্থা সিদ্ধম র্যালি চলছিল তাঁর। হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলের সঙ্গে কথাও বলছিলেন। এই জনসংযোগ যাত্রায় বহু মানুষের ভিড় হয়েছিল। আচমকাই একটি ঢিল উড়ে আসে জগন মোহন রেড্ডির দিকে। কপালে মাঝখানে গিয়ে আঘাত করে সেটি। রক্ত বেরোতে থাকে কপাল দিয়ে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৪
রাজ্য

পুজোর পর ঈদেও বাংলায় বোনাস বৈষম্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের, অভিযোগে সরব শুভেন্দু

বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগে বরাবরই সরব থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ উঠল মমতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঈদের দিনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বোনাস বৈষম্যের অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্গা পুজো ও ঈদের সময় সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাসের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা প্রাপ্তির ছবিও তুলে ধরেছেন তিনি।বিরোধী দলনেতা এক্স হ্যান্ডেলের শুরুতেই, এক কাজ এক বোনাস-এর দাবি জানিয়েছেন। তারপর সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাসের অঙ্ক তুলে ধরেছেন।নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী সরকারি বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরে লিখেছেন, দুর্গাপুজো সময় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের ৫,৩০০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি অ্যাকাউন্টে ওই বোনাস প্রাপ্তির ছবিও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। ঈদে কিছু জেলা পুলিশ ৫,৩০০ টাকা বোনাস দিয়েছে, কয়েকটি জেলা ৬,০০০টাকা বোনাস দিয়েছে।I demand ONE JOB ONE BONUS.Bonus Amount for Civic Volunteers:During Durga Puja:-@KolkataPolice - Rs. 5,300/-@WBPolice - Rs. 2,000/-During Eid-ul-Fitr:-Some Police Districts - Rs. 5,300/-Other Police Districts - Rs. 6,000/-Why this disparity? All the Civic Volunteers https://t.co/WtzG2OhanT pic.twitter.com/0A2hP3oitv Suvendu Adhikari (Modi Ka Parivar) (@SuvenduWB) April 11, 2024এরপরই বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, কেন এই বৈষম্য? সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের বিবরণ এবং দায়িত্ব একই, তাহলে তাদের দেওয়া বোনাসের পরিমাণ এক নয় কেন?এই বৈষম্যের বিষয়টির অবসানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন শুভেন্দু। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে অনুরোধ করছি এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে এবং সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা আমাদের সকল বোন ও ভাইদের উৎসবের সময় সমানভাবে অর্থ প্রদান করতে।

এপ্রিল ১১, ২০২৪
রাজ্য

ফের বাংলায় লোকসভার টার্গেট দিয়ে গেলেন অমিত শাহ

তিনি প্রথমে বলেছিলেন, বাংলায় ৩৫ আসন চাই। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় নির্বাচনী সভা থেকে বাংলায় টার্গেট কমিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বললেন, ২০১৪ সালে বাংলার মানুষ দুটি আসন দিয়েছিল। ২০১৯-এ সেটা বেড়ে হয়েছিল ১৮, এবার ২০২৪-এ ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করতে হবে। যাতে বিজেপির গোটা দেশে আসন ৩৭০ পেরিয়ে যায়।বুধবার বালুরঘাটে নির্বাচনীয় সভায় এসে নয়া লক্ষ্যমাত্রা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিছুদিন আগে পর্যন্তও ৩৫ আসনের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলেছিলেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বাংলায় ৪২-এ ৪২ করতে হবে। তবে শাহ এদিন বললেন, ৩০ আসন চাই। আর বাংলায় বিজেপি ৩০ আসন পেরোলে কী হবে সেটাও জানিয়ে দিলেন তিনি। বললেন, বিজেপি অসমে অনুপ্রবেশ খতম করেছে। বাংলায় লোকসভা ভোটে ৩০ আসন পেলে এখানে সীমান্ত টপকে কোনও পরিন্দা বা পাখিও ঢুকতে পারবে না।কীভাবে ভোটে দেবেন সেটাও বলেছেন জনতাকে। বলেছেন, স্নান করে শিবের পুজো করে ১৯ তারিখে পদ্মপ্রতীকে বোতাম টিপতে হবে। এদিনের সভায় ভিড় দেখে খুশি প্রকাশ করেছেন অমিত শাহ। তিনি বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদারকে বলেন, আপনার ভোটের ফল তো এখানেই হয়ে গেল। বলেছেন, এত রাগে বালুরঘাটে বোতাম টিপবেন যেন কলকাতায় মমতা দিদির গায়ে কারেন্ট লাগে।বাংলায় সিএএ নিয়ে শাহ বলেছেন, হাতজোড় করে বাংলার জনতাকে বলতে চাই, মমতা দিদি বাংলার লোকেদের বোকা বানাচ্ছেন। আমি বলতে চাই, ভয় না পেয়ে যত শরণার্থী এসেছেন, তাঁরা যেন নাগরিকত্বের আবেদন করেন। কারও নাম বাদ যাবে না।কয়েকদিন আগেই ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের ধরতে এসে আক্রান্ত হন এনআইএ আধিকারিকরা। সরাসরি এনআইএ শাহের অধীনে পড়ে। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেছেন, সবাইকে উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে।

এপ্রিল ১০, ২০২৪
দেশ

খেলা হবে কিন্তু মাঠ কই

২০২১ শের বিধানসভা নির্বাচনে আবহে রাজ্যে স্লোগান উঠেছিল খেলা হবে। নির্বাচন তা কোনো রাজ্যের হোক অথবা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের নির্বাচনে অতি বিশেষ স্থান রয়েছে। সেখানে এই ধরণের স্লোগান অনেকের কাছে Infantile Disorder বলে মনে হয়েছিল। আবার অনেকের কাছে দবশ রহস্যগন্ধী মজাদার ঠেকেছিল। এবার লোকসভা নির্বাচনের প্রচার কালে কিছু কিছু ঘটনা ও দ্রুত পট পরিবর্তন দেখে মনে হচ্ছে সত্যি ই যেন দেশ জুড়ে খেলা হচ্ছে। আর সেই খেলার পিছনে ধুরন্ধর কোচের মস্তিস্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই খেলায় ফুটবলের ভাষায় বললে Movement আর দাবার ভাষায় বললে চাল দুটোতেই শাসক দল আক্রমনাত্মক Strategy বেছে নিয়েছে। আর শাসক দলের এই চলন নিয়ে অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠছে। যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পথ চলার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে।বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দলবদল INDIA জোটকে ধাক্কা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাড়া না দেওয়ায় এই জোট দেশের পূর্ব প্রান্তে অস্তিত্বহীন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। এই সব মিলিয়ে বিরোধী জোটকে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছিল। অন্য দিকে শাসকদলকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের গ্ৰেপ্তারি বিরোধী দলগুলির পালে জোরালো হাওয়া এনে দিয়েছে। এক দশক ধরে দিল্লির দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল কে এক মঞ্চে এনেছে। শুধু তাই নয় গত ৩১ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে India Gate -র জনসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ছড়িয়েছে। এর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে এবং মুম্বাইয়ে INDIA মঞ্চের জনসভা হয়েছে। কিন্তু দেশের সব প্রান্ত থেকে শীর্ষ বিরোধী নেতাদের মঞ্চে উপস্থিতি রামলীলা ময়দানে জনসভার ধার এবং ভার দুইই বাড়িয়েছে। সবকিছু কে ছাপিয়ে এই জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার বার্তায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তা দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেহারা ভবিষ্যতে কেমন হবে সেই ভাবনা কে উস্কে দিয়েছে।আরও পড়ুনঃ টাকা দাও, ভোট নাও, প্রচারে বেরিয়ে শুনতে হল শতাব্দী রায়কেINDIA -র মঞ্চ থেকে যে পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে তার প্রথম দুটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে । ১৯৫২ সাল থেকেই নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল গুলি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু এই দুটি দাবি মামুলি অভিযোগের গন্ডই ছাড়িয়ে এক বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করেছে। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় একশো চল্লিশ কোটি। এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৯৮ কোটি। তারমধ্যে ৭০-৭৫ কোটি মানুষ ভোট দেবেন। ফলে দেশের প্রথম নির্বাচন থেকে নির্বাচন কমিশন যে কাজ করে আসছে তার ক্রমশ আড়ে বহরে বাড়ছে। এই কাজ শুধু নির্বাচন করিয়ে দেওয়া নয়, নির্বাচন যেন অবাধ শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। এই কাজ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিষয়টি হলো যে দলগুলি নির্বাচনে লড়বে তারা যেন সমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে। অর্থাৎ শক্তিশালী দল আর দুর্বল দলের লড়াইয়ের জমি যেন সমান থাকে। আর জমি সমান রাখতেই আদর্শ নির্বাচনী বিধি জারি করে কমিশন। এই বিধির মূল নিশানায় থাকে শাসকদল। কারন দাপট আর প্রশাসনিক প্রভাবে শাসক দল-ই এগিয়ে থাকে। এই কারণে ই INDIA মঞ্চের প্রথম দুটি দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দাবিটি হল লোকসভা ভোটের ময়দানে সবাইকে সমান ভাবে লড়তে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। দ্বিতীয় দাবিটি হল ভোটের মুখে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারি সংস্থা গুলির ব্যবস্থা নিচ্ছে তা বন্ধ করুক নির্বাচন কমিশন।আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন বিচারপতিকে ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন মমতাঅবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি কারি নানান কৌশল ও প্রকরণের তালিকা এদেশে দীর্ঘ এবং অনেক পুরনো। এই পথ ধরেই হিংসা, ভয় দেখানো, এবং ভোট লুঠের মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ যে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়ে গিয়েছে তা নাগরিকরা বিলক্ষণ জানেন। এর পাশাপাশি রয়েছে নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করার বিভিন্ন কৌশল। আর এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি যে শাসকদল তা ও সবাই জানে। কারণ ক্ষমতা ছাড়া পেশীশক্তি বা অর্থবলের দাপট দেখানো যায় না। এই কারণেই শাসকদলকে ভোটের সময় নির্বাচন বিধির ঘেরাটোপের মধ্যে না রাখতে পারলে বিরোধী দলগুলি কে অসমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে হয়। অবশ্য সীমাবদ্ধ অঞ্চলে যেখানে তাদের ক্ষমতা থাকে সেখানে বিরোধী রাও এক ই পথে হাঁটে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বর্তমান শাসক দল রাষ্ট্রক্ষমতা কে যে ভাবে ব্যবহার করছে তা বিপজ্জনক।আরও পড়ুনঃ সুকান্ত, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার, পাল্টা দিলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতিএই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর রামলীলা ময়দান থেকে কমিশনের কাছে বিরোধীরা যে দাবি তুলেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচনে শাসকদলের রাষ্ট্রক্ষমতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তোলে। রাষ্ট্রক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভোটের মুখে প্রধান বিরোধী দল গুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করতে পারলে জেতার পথে অর্ধেক রাস্তা এগিয়ে থাকা যায়। শুধু তদন্ত কারি সংস্থা দিয়ে বিরোধী নেতাদের গ্ৰেপ্তার নয় তার সঙ্গে আয়কর দপ্তরের ও অতি সক্রিয়তা সবার নজর কেড়েছে। কংগ্রেসের আর্থিক সংস্থান বন্ধ করে নির্বাচনী ব্যয় কে কঠিন করে তুলতেই এই সক্রিয়তা কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে। বিশ্বের মধ্যে ভারত বৃহত্তর গনতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে নির্দিষ্ট সময় নিয়মিত ভোট দানের প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক পথে সম্পন্ন হওয়ার কারণেই এই সম্মান পাওয়া গিয়েছে। এর জন্য স্বশাষিত সংস্থা নির্বাচন কমিশন অবশ্যই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। তাই বিরোধীদের দুটি দাবির মুখে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ করবে তার উপর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যত কাঠামো অনেক টাই নির্ভর করছে ।

এপ্রিল ০৭, ২০২৪
বিদেশ

মোদি-র উদ্যোগে ভারত ভুটান মৈত্রী সম্পর্কে নতুন পালক

১৯৪৭ এ ভারত যখন স্বাধীন হয়, ভুটানই প্রথম দেশ যে ভারতকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ভারত ও ভুটানের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাতাবরণ তৈরী হয়। ১৯৪৯ এ ৮ ই আগস্ট প্রথম ভারত ও ভুটানের মধ্যে বন্ধুত্বের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার ভিত্তি ছিল মুক্ত বাণিজ্য ও প্রত্যপর্ণ প্রটোকলের প্রতিষ্ঠা। ভুটান ২০০৭ এ বন্ধুত্ব চুক্তির অধীনে ভারতের কৌশলগত চাহিদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন হয় এবং ভারত ও ভুটান তাদের পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থকে সর্বাধিক বা শক্তিশালী করতে সক্ষম হওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ে পরামর্শ করে। বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্কের দিক থেকে ভুটানকে ভারতের সাহায্য সবথেকে বেশি সুবিধাভোগী করে তুলেছে। লোকসভা ভোটের (২০২৪) আগে গত ২২শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটানে যান তার দ্বিতীয় দফার মেয়াদে এটি ছিল শেষ বিদেশ সফর।ভারত এবং ভুটানের মধ্যে নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ে বিনিময়ের যে ঐতিহ্য রয়েছে তারই ধারা রক্ষার্থে এই সফর করা হচ্ছে এবং প্রতিবেশী প্রথম নীতিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অনুমান করছেন ভারতীয় নাগরিকের একাংশ। শুক্রবার থিম্পুতে এক অনুষ্ঠানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভুটানের সর্বোচ্চ নাগরিকত্ব সন্মান অর্ডার অফ ড্রুক গ্যালপো তে সম্মানিত করেন। তিনিই প্রথম কোনো বিদেশী রাষ্ট্রনেতা,যাকে এই সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করে ভুটান। এই সম্মান পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, একজন ভারতীয় হিসেবে আজ আমার জীবনের একটি বড় দিন।আপনি আমাকে ভুটানের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। এই সম্মান আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটা ভারত ও ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মান।এই পুরস্কারটি 2021 সালের ডিসেম্বরে ভুটানের জাতীয় দিবসের সময় প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল।A big thank you to my brother, PM @narendramodi Ji, for visiting us. Neither his busy schedule nor inclement weather could prevent him from fulfilling his promise to visit us. This must be the #ModiKaGuarantee phenomenon! pic.twitter.com/mXkD5a4MUU Tshering Tobgay (@tsheringtobgay) March 23, 2024অনেকেই মনে করেছেন ভুটানের সাথে ভারতের এই সখ্যের ছবি নিঃসন্দেহে অস্বস্থিতে ফেলবে চীনকে যারা ভুটানের সাথে সীমান্ত চুক্তির জন্য তৎপর হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর পাওয়া যায় মালদ্বীপের পর এবার ভুটানের নির্বাচনেও চীনের উপস্থিতি থাকবে এবং তাদের লক্ষ্য থাকবে ভারতের মিত্র দেশগুলিকে পরাজিত করা। কিন্তু ভুটানের জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নির্বাচনে ভারতবন্ধু বলে খ্যাত শেরিং তোবগের দোল পিডিপিই জিতে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ভুটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মান্যবর শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বড়ভাই বলে সম্মোধন করেন। হিমালয়ের দেশে আসার কয়েক ঘণ্টা পর, প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে তিনি ভুটানের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ, তাঁর মতে তাদের সুন্দর দেশে স্মরণীয় স্বাগত করার জন্য এবং মোদী জানান তিনি আশা, যে ভারত-ভুটান বন্ধুত্ব এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর দেশের নেবারহুড ফার্স্ট নীতির অংশ হিসাবে ভুটানের সাথে ভারতের অনন্য এবং স্থায়ী সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চায়।

মার্চ ২৪, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমানের নয়া জেলাশাসক কে রাধিকা আয়ার, আরও তিন জেলায় পরিবর্তন

নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করল। মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকাকে চিঠি দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের জেলাশাসক পদে চার জনের নাম অনুমোদন করল কমিশন। বৃস্পতিবার ওই চার জেলার জেলাশাসককে পদ থেকে সরায় নির্বাচন কমিশন।২০১০ ব্যাচের আইএএস জয়শী দাশগুপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নতুন জেলাশাসক হলেন। ঝাড়গ্রামের নতুন জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে মৌমিতা গোদারা বসুকে। মৌমিতা ২০০৭ ব্যাচের আইএএস। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কে রাধিকা আয়ারের নাম জেলাশাসক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বীরভূমে শশাঙ্ক শেঠিকে নতুন জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাধিকা ২০১১ এবং শশাঙ্ক ২০১০ ব্যাচের আইএস। চার নয়া জেলাশাসকই পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এবং তারা প্রত্যকেই একাধিক বার জেলাশাসকের দায়িত্বভার পালন করেছেন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন, আগামিকাল, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে নবনিযুক্ত জেলাশাসকদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে কমিশনকে জানাতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই চার জেলার জেলাশাসকেরা কেউই আইএএস ক্যাডারের অফিসার নন। ৪ জনই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। সেই কারণেই তাঁদের জেলাশাসক পদ থেকে সরানো হয়েছে। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দেয় পশ্চিমবঙ্গের সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন। সেই আবেদনে চার জেলার জেলাশাসকের অপসারণের যে কারণ নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছেন সেই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের সংগঠন দাবি করেছে এই অপসারণ বৈষম্যমূলক। তাঁদের বক্তব্য যে কারণ দেখিয়ে ওই চার জেলার জেলাশাসকদের অপসারণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আধিকারিকদের আবেগ, নীতিতে ধাক্কা দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মার্চ ২২, ২০২৪
দেশ

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার

অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার, আবগারি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করল ইডি।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিয়ালের বাড়িতে ইডি হানা দেয় ! ভর সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ফেলে দিল্লী পুলিশের বিশাল পুলিশ বাহিনী। এর আগে ৯ বার আবগারি দুর্নীতি মামলায় ইডির সমন এড়ান আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লী হাইকোর্ট এর আগে তাঁকে রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার করে। তাঁর পরিপ্রেক্ষীতে বৃহস্পতিবার সুপ্রীম কোর্টে তার আগাম জামিনের আবেদন ও খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই দিল্লী পুলিশের ডিজি কে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেজরিয়ালের বাসভবনে সন্ধ্যায় হাজির ইডির আধিকারিকরা।কেজরিয়াল -ই ভারতের ইতিহাসে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পদে থাকাকালীন গ্রেফতার হলেন। কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও গ্রেফতার করে ইডি। সেক্ষেত্রে গ্রেফতারির আগে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সোরেন। মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পর-পরই তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আপ কর্মী-সমর্থকেরা। গোটা দিলী জুড়েই প্রতিবাদ শুরু করেন আপ সমর্থকেরা। বাজেয়াপ্ত করা হল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর মোবাইল, এলাকায় জারি ১৪৪ ধারা।

মার্চ ২১, ২০২৪
রাজ্য

ফের পুরস্কারের টোপ ব্যারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর

ভোটের প্রচারে গিয়ে ফের পুরস্কারের টোপ দিলেন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক। গতকাল নৈহাটিতে তিনি বলেন, যে পঞ্চায়েত আগামী ভোটে বেশি লিড দেবে, সেখানে আবাস যোজনার টাকা ডিসেম্বরের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল প্রার্থীর বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। ওয়াকিবহাল মহলের মত, ভোট এলেই বন্যা আসে। প্রতিশ্রুতির বন্যা। সেই প্রতিশ্রুতি যে শুধু ভোটারদের জন্য তা কিন্তু নয়। গিফট আছে দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্যও।ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বলেন, চারটে পঞ্চায়েতের জন্য একটা ঘোষণা আছে। আজকেই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, এটা আমাদের ঘোষিত নীতি যে পঞ্চায়েত এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতাবে, সেই পঞ্চায়েতের আবাস যোজনার সমস্ত টাকা এই ডিসেম্বরের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে দেবেন। যে পঞ্চায়েত এই নির্বাচনে তৃণমূলকে লিড দেবে, তাদের প্রত্যেকের বাড়ির, আবাস যোজনার টাকা ডিসেম্বরের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে দেবেন। কালকে আমডাঙায় বলেছিলাম, যে অঞ্চল লিড দেবে, তার প্রাইজ আছে। নির্বাচন কমিশনে নালিশ হল আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন কী প্রাইজ দেবেন। আমি বললাম, অকুণ্ঠ ভালোবাসা। আপনাদের মনে আছে ২০২১ সালের পরে এখানে প্রাইজ হয়েছিল, আমি আর কিছু বলছি না২০২৪-এও প্রাইজ হবে। এর আগেও ভোটের প্রচারে গিয়ে ফের পুরস্কারের টোপ দিয়েছিলেন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার নৈহাটিতে এক কর্মিসভায় যোগ দেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়। এর আগে রবিবার আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমানের সঙ্গে একটি কর্মীসভায় যোগ দেন পার্থ ভৌমিক। সেখানেও লিড দিলে পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেন তাঁরা।

মার্চ ২১, ২০২৪
দেশ

পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ না হলে মোটা টাকা জরিমানা, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অসুখ সারানোর বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো বিজ্ঞাপনের কারণে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত বছর ২১সে নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ, অবিলম্বে পতঞ্জলির এই মিথ্যা বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ সংস্থাটি অমান্য করে চলেছে বলে অভিযোগ ওঠে, ফলে এই বিষয় নিয়ে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ সে মার্চ মঙ্গলবার ভুয়ো বিজ্ঞাপন নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের প্রতিষ্ঠাতা যোগগুরু বাবা রামদেব ও সংস্থার পরিচালক অধিকর্তা আচার্য বালাকৃষ্ণকে তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি আসানউদ্দিন অমানুল্লার বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। এই মামলায় পতঞ্জলি সংস্থার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুকুল রোহিতেগি এবং বিপক্ষে ছিলেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের আইনজীবী পি এস পাটোয়ালিয়া। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি হিমা কোহলি জানতে চান, সুপ্রিম কোর্টের নোটিস অবমাননার কারণ। আইনজীবী রোহিতেগি জানান, জবাব দেওয়া হয়নি। প্রতুত্তরে বিচারপতি কোহলি জানান, আমরা এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আপনারা জবাব দেননি, ফলে নির্দেশ ও পরিণতির বিষয়টি সামনে আসে এরপরই যোগগুরু বাবা রামদেবকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশনের অভিযোগ, পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ অ্যালোপ্যাথি ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি রোগ নিরাময়েরও ভুল দাবি করে চলেছেন। সেই সব বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে ও সংস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশন। নভেম্বর মাসে এই মামলার শুনানির সময় বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও চিকিৎসা ব্যাবস্থার অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার জন্য পতঞ্জলি সংস্থাকে ভৎসনা করেছিল সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি আমানুল্লা জানান, ভবিষ্যতে এই প্রচার চালানো হলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক বার্তা দেন। জরিমানার বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে রামদেব জানিয়েছেন, কিছু চিকিৎসক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার সংস্থা পতঞ্জলিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। শুধু পতঞ্জলিই নয়, আয়ুর্বেদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এক সাংবাদ মাধ্যমে রামদেব বলেছেন, যদি আমরা মিথ্যাবাদী হই, তবে ১০০০ কোটি টাকা জরিমানা করুন। আমরা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত।

মার্চ ২১, ২০২৪
রাজ্য

দুই মন্ত্রী সম্মুখ সমরে, সংঘর্ষে মাথা ফাটল পুলিশ আধিকারিকের, শহর বনধের ডাক

দুই মন্ত্রী সম্মুখ সমরে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীশ অধিকারী ও রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। এক মন্ত্রী আরেকজনের দিকে তেড়ে যাচ্ছে, অন্য জন জবাব দিচ্ছে, এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। মঙ্গলবার কোচবিহারে দিনহাটায় প্রচারে ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে। প্রচারিত একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দুই মন্ত্রীর বাকবিতন্ডা থেকে লাঠিসোটা নিয়ে দাপাদাপি। বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনায় মাথা ফেটেছে এক পুলিশ আধিকারিকের। এই ঘটনার জেরে আজ, বুধবার দিনহাটা বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে নির্বাচনের আগে পরে বারে বারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিনহাটা। এবার লোকসভা নির্বাচন আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের দিনহাটায়। দুই মন্ত্রীর সামনেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ মুখোমুখি বাকবিতন্ডায় জড়ান। একে অপরের দিকে তেড়ে যান। এই দৃশ্য দেখে স্বভাবতই বিজেপি ও তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়৷ জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। দিনহাটার এসডিপিও মাথায় চোট পেয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ নাজেহাল হয়ে পড়ে। এমনকী মন্ত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষীদের দিকেও লাঠি নিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায় প্রচারিত ভিডিওতে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, উদয়ন গুহের জন্মদিন পালনের জন্য দিনহাটা চৌপতি এলাকায় কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। তখন ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন নিশীথ প্রামানিক। তিনি নির্বাচনী প্রচার থেকে ফিরছিলেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা করে। তা থেকে বিবাদের সূত্রপাত।বিজেপির অভিযোগ, সভা শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় দিনহাটার পাঁচমাথা মোড়ে তৃণমূলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ কনভয়ে ইট-পাটকেল, তির-ধনুক নিয়ে আক্রমণ করে তৃণমূল। এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের কাছে দিনহাটার ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার দিনহাটা বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে বিজেপি।

মার্চ ২০, ২০২৪
রাজ্য

ফের বদল রাজ্য পুলিশের ডিজি, নতুন পদে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে নিয়োগ কমিশনের

ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজির পদ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আইপিএস রাজীব কুমারকে অপসারণ করেছিল। নির্বাচনী সব প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রাজ্যের ডিজি কে হবেন তা নির্ণয়ে নবান্নের কাছে তিনটি নাম চেয়েছিল কমিশন। সেই তালিকা থেকে রাজ্যে কর্মরত সবচেয়ে অভিজ্ঞ আইপিএস বিবেক সহায়কে ডিজির চেয়েরে বসার সিলমোহর দেয় কমিশন। ওইদিনই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন বিবেক সহায়। কিন্তু ২৪ ঘন্টা না কাটতেই ফের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি পরিবর্তন করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিবেক সহায়ের বদলে নবান্নের তরফে কমিশনের কাছে পাঠানো তালিকায় নাম থাকা আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি-র দায়িত্ব দেওয়া হল। আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেল ৫টর মধ্যেই ডিজি-র দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।রাজীব কুমারের উত্তরসূরি হিসাবে আইপিএস বিবেক সহায়ের সঙ্গে আরও দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসার সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং রাজেশ কুমারের নাম নবান্ন কমিশনে পাঠিয়েছিল। তার মধ্যে থেকেই এ দিন ১৯৮৯ সালের আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি নিয়োগ করল কমিশন।কেন ২৪ ঘন্টার আগেই ডিজি-র পদ থেকে আইপিএস বিবেক সহায়কে সরাল কমিশন? সূত্রের খবর, আইপিএস বিবেক সহায়কে সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছিল। কিন্তু লোকসভা ভোট চলাকালীনই আগামী মে মাসে তাঁর অবসর। তখনও সাত দফা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট (১ জুন) বাকি থাকবে। ফলে আইন-শৃঙ্খলার অসুবিধা হতে পারে। কমিশনের যুক্তি, ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন ডিজিপি দায়িত্বে থাকলে কাজের সুবিধা হয়। তাই আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেই রাজ্যের ডিজি-র চেয়ারে বসানো হল।অপসারণের দিন রাতেই আইপিএস রাজীব কুমাকে রাজ্যের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

মার্চ ১৯, ২০২৪
দেশ

এক দেশ এক ভোট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শোরগোল চলছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আশ্বাস আর আশংকার মাঝে এবার এক দেশ এক ভোট। এই নীতি খতিয়ে দেখার জন্য গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্ডের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শীর্ষ আদালত ও হাইকোর্টের কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের মত নেওয়ার পাশাপাশি ৬৫ টি বৈঠক করেন।অবশেষে গত বৃহস্পতিবার কোভিন্ড কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। এই নীতি প্রয়োগের বছর হিসেবে ২০২৯ সাল কে চিহ্নিত করেছে কমিটি। অর্থাৎ আসন্ন লোকসভা ভোটে সরকার গঠনের পরে যে সমস্ত রাজ্যে বিধানসভার ভোট হবে তাদের মেয়াদ এই কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত স্থায়ী হবে। সেক্ষেত্রে অনেক রাজ্যে সরকারের মেয়াদই পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। যদি কেন্দ্রে বা কোনো রাজ্যে মাঝপথে সরকার ভেঙে যায় তাহলে কি হবে? কোভিন্ড কমিটির সুপারিশ হলো, সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে তবে সেই নির্বাচিত সরকার ২০২৯ সালের আগে যে সময়কাল থাকবে সেই সময় পর্যন্তই ক্ষমতায় থাকবে।এর ফলে লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভার ভোট করতে কোনো বাধা থাকবে না। রাষ্ট্রপতির কাছে কমিটির যে ২৮১ পাতার রিপোর্ট জমা পড়েছে তাতে সংবিধানের কিছু আইন সংশোধন ও নতুন আইন সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে ঘন ঘন ভোট হলে যে বিপুল অর্থ ব্যায় হয় তা এড়াতে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হওয়া উচিত। পাশাপাশি লোকসভা ও বিধানসভা ভোট হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির ভোটের সুপারিশ ও করা হয়েছে।এই সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুটি সংবিধান সংশোধনী বিল আনার কথা বলা হয়েছে।এই দুটি বিলের মাধ্যমে সংবিধানে ১৫ টি সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রথম বিলটির মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে করতে মেয়াদ ফুরোনোর আগেই বিধানসভা গুলি কে ভেঙে দেওয়া যাবে। সংসদে এই বিল পাশ করানোর জন্য রাজ্য গুলির মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মত দিয়েছে কমিটি। দ্বিতীয় বিলটির মাধ্যমে লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের জন্য একটি ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেওয়া হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। তবে দ্বিতীয় বিলটির জন্য দেশের অর্ধেকের বেশি রাজ্যে অনুমোদন প্রয়োজন বলে কমিটি জানিয়েছে।পাশাপাশি প্রথম বিলটি রাজ্য গুলির অনুমোদন ছাড়াই যাতে পাশ করাতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার তার জন্য সংবিধানের নতুন ধারা সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। কোভিন্ড কমিটির ওই সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানে নতুন ৮২(ক) ধারা সংযুক্ত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাজ্য গুলির অনুমোদন ছাড়াই ওই বিল পাশ করানোর ক্ষমতা আসবে। এই লোকসভা ভোটের পরে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা যদি কোভিন্ড কমিটির রিপোর্ট গ্ৰহণ করে তাহলে ২০২৯ সালে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হবে। সেক্ষেত্রে চলতি বছরে লোকসভা ভোট শেষ হলেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ২০২৯ সালের ভোট প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করতে হবে। যদি তাই হয় তাহলে অনেক রাজ্যের বিধানসভা মেয়াদ ই পূর্ণ সময়ের আগে শেষ হয়ে যাবে।যেমন গতবছর যে দশটি রাজ্যে বিধানসভার ভোট হয়েছে সেই রাজ্য গুলিতে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোনোর কথা ২০২৮ সালে। সেক্ষেত্রে ২০২৮ সালেই ওই রাজ্যগুলিতে বিধান সভার ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৯ সালে যদি এক দেশ এক নীতি চালু হয় তাহলে ওই রাজ্য গুলিতে সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে এক বছরের মধ্যে ই ফুরিয়ে যাবে। এই রাজ্য গুলি হল হিমাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, মিজোরাম, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগঢ় ও রাজস্থান। অন্য দিকে পাঞ্জাব , উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে ২০২৭ সালে বিধানসভার ভোট হওয়ার কথা। ওই তিন রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠিত হলেও তার মেয়াদ দুবছরের বেশি হবে না।২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল ও তামিল নাড়ু তে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোবে। ওই রাজ্য গুলিতে ভোটে যে সরকার ক্ষমতায় বসবে তার মেয়াদ তিন বছরের বেশি হবে না। দেশের ৪৭টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল কোভিন্ড কমিটি কে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল। এই ৪৭টই দলের মধ্যে ৩২টি দল এক দেশ এক ভোট নীতি কে সমর্থন করেছে। বাকি ১৫ টি দল এই নীতির বিরুদ্ধে মত জানায়। যে ৩২টি রাজনৈতিক দল এই নীতিকে সমর্থন করেছে তারা হয় বিজেপির সহযোগী নয়তো বন্ধু ভাবাপন্ন দল। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম ও DMK সহ যে ১৫ টি রাজনৈতিক দল বিরোধীতা করেছে তাদের বক্তব্য হল এই নীতি চালু হলে দেশের সংবিধানে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তা ক্ষুন্ন হবে।এর ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রের দিন ফুরোবে।পাশাপাশি যে কমিটি এই সুপারিশ গুলি করেছে তার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল গুলি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য হল দেশে ঘন ঘন ভোট হলে বিপুল অর্থ ব্যায় হয় । একসঙ্গে ভোট হলে সেই ব্যায়ভার কমানো যাবে। এছাড়াও প্রতি বছরে কোন না কোন ভোট হওয়ার ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়। এর ফলে উন্নয়নের কাজ বাধা পায়। এছাড়াও কেন্দ্রের দাবি এক দেশ এক ভোট নীতি চালু হলে নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার কমবে।

মার্চ ১৬, ২০২৪
দেশ

কি কি নথি প্রয়োজন সিএএ-এর জন্য? কিভাবে আবেদন? জানুন বিস্তারিত

CAAআর ইংরেজির সিক্সলোকসভা ভোটের মুখে CAA কার্যকর হওয়ার কথা ঘোষণা হল। এরপরেই রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। এই আইন কে ইংরেজি ছয়ের মতো দেখাচ্ছে, যা টেবিলে রেখে দেখলে একদিক থেকে মনে হবে ছয়, অন্যদিক থেকে দেখলে মনে হবে নয়। যেমন একপক্ষের বক্তব্য এই আইনের দৌলতে বহু মানুষ নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। অন্য পক্ষের দাবি এই আইনে নাগরিকত্বে টান পড়বে অনেক মানুষের। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই আইনের বলে ২০১৪ সালের ৩১ শেষ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ও পাকিস্তান থেকে যে সমস্ত হিন্দু, শিখ, জৈন, খৃষ্টান ও পার্শী ভারতে এসেছেন এবং নাগরিকত্ব চান তারা শংসাপত্র পাবেন।CAA র জন্য কি নথি লাগবে?বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে এলে সে দেশের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। সে দেশে জন্মের শংসাপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচয় পত্র, যে কোনো লাইসেন্স, জমি বা ভাড়াটে সংক্রান্ত রেকর্ড। আবেদনকারীর যিনি ওই দেশের নাগরিক ছিলেন তার প্রামাণ্য নথি। ওই নথিগুলির মধ্যে যে কোনো একটি দিতে হবেএছাড়াও যে নথি লাগবেকবে ভারতে প্রবেশ করেছেন তার প্রমান দিতে হবে। যেমন ভিসার ফটোকপি।ফরেনার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। ভারতে জনগণনার সময়ে গণনাকারীদের দেওয়া স্লিপ। ভারতীয় আধার কার্ড অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স। রেশন কার্ড, ভারত সরকারের দেওয়া জন্মের শংসাপত্র। আবেদনকারীর নামে ভারতীয় জমি বা ভাড়াটে কাগজ, প্যানকার্ড। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি সংস্থার দেওয়া কোনো নথি। ভারতীয় প্রশাসনে বা সংস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দেওয়া শংসাপত্র। আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টের প্রমান। ভারতীয় বিমা সংস্থার পলিসি। আবেদনকারীর নামে বিদ্যুতের বিল। আবেদনকারীর নামে আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নথি যদি থাকে। ভারতে কর্ম সংস্থানের নথি। ভারতীয় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি যদি থাকে। ট্রেড লাইসেন্স। বিয়ের শংসাপত্র।এছাড়াও লাগবে হলফনামাআবেদনকারীর ঠিকানা। যে দেশ থেকে এসেছেন সেখানকার শেষ ঠিকানা। পাশাপাশি জানাতে হবে ধর্ম। এই সবই জানাতে হবে ম্যাজিস্ট্রেটের সই ও সিল সহ হলফনামায়।কি ভাবে আবেদনপ্রথমে সরকারের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে আবেদনকারীকে কিছু প্রশ্ন করা হবে। শেষ পর্যায়ে আবেদনের জন্য ৫০টাকা জমা দিতে হবে। সব তথ্য ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট দিনে আবেদনকারীকে জেলা স্তরে যাচাই কমিটির কাছে উপস্থিত হতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে সব অরিজিনাল নথি। সবকিছু ঠিক থাকলে নিষ্ঠা শপথ নিতে হবে এবং লিখিত নিষ্ঠা শপথে সই করতে হবে। এরপরে ওই আবেদন যাবে রাজ্য স্তরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কাছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান চুড়ান্ত সিলমোহর দিলে আবেদনকারী পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল শংসাপত্র পাবেন।এই আইনে সঙ্গে কি নাগরিকত্ব হারানোর সম্পর্ক আছে?কেন্দ্রীয় সরকার বলছে এই আইনে কারো নাগরিকত্ব হারানোর প্রশ্ন নেই। আইন জারি হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে CAA র কারো নাগরিকত্ব যাবে না। মুসলমানদের এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। এই আইনের বলে কোনো ভারতীয় নাগরিক কে নিজের নাগরিকত্ব প্রমানে আর নতুন করে কোনো নথি দেখাতে হবে না। কিন্তু CAA চালু হওয়ার পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের যৌথ forum য়ে বিবৃতি জারি করেছেন সেখানে কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের মতে CAA র নিয়মে একটি ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই করবে। স্বাভাবিক নিয়মেই অনেক আবেদন খারিজ হয়ে যাবে। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ রয়েছে যাঁরা বহুদিন ধরে এদেশে বসবাস করছেন। তাঁদের রেশন, আধার, ভোটার কার্ড ও রয়েছে। তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তাঁরা কি নাগরিকত্ব হারাবেন? তাঁদের সব কার্ড কি বাতিল হয়ে যাবে? অন্য দেশ থেকে আসা মানুষকে নাগরিকত্ব পেতে যে সব নথি চাওয়া হয়েছে তা হয়তো দিতে পারলেন না। বা অন্য কারনে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে তাঁর পরিচিতি কি হবে? নাগরিক না অ-নাগরিক। এই জরুরি প্রশ্ন গুলির কিন্তু কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। অথচ CAA র মাধ্যমে কে নাগরিক, আর কে নয়, তার বাছাই পর্ব শুরু হবে।

মার্চ ১৬, ২০২৪
শিক্ষা

২০২৬ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন

সম্পূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পদ্ধতি। শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষা বাবস্থাতেই নয়, রাজ্যের সমস্ত রকমের শিক্ষা ব্যাবস্থার ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবার যারা মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হবে, তারা এই নতুন নিয়ম অনুসারে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তবে এখন যারা একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠছে, তারা অবশ্য ২০২৫ সালের নির্ধারিত পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণীতে হবে দুটি সেমিস্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে হবে দুটি সেমিস্টার। দুবছরে মোট চারটে সেমিস্টারে পরীক্ষা হবে। বুধবার বিকেলে এমনই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ। কিছুদিন আগে এক সংবাদ মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালেই উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসের পরিবর্তন করে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হতে পারে। এবিষয়ে তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন, যার ফলে যারা এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল তারা একাদশ শ্রেণীর পড়াশোনা শুরু করতে পারছিল না। নতুন সিলেবাসে সম্পর্কে জানতে চাইছেন পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যবলেন, দ্বাদশ শ্রেণীতে যে দুটি সেমিস্টার হবে তার প্রথমটি হবে নভেম্বরে, দ্বিতীয়টি হবে মার্চে। প্রথম পরীক্ষাটি হবে শুধু মাল্টিপল চয়েস নির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ এর উপর এবং দ্বিতীয় পরীক্ষাটিতে সবিস্তার উত্তর লিখতে হবে। পরীক্ষাগুলির নম্বর বিভাজন সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি শিক্ষা দপ্তর থেকে। শিক্ষক সংগঠনগুলি অনেকেই মনে করেছেন এই জাতীয়নীতির অনুসরণে পুড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য সামগ্রিক পাঠ্যক্রম জানা জরুরি। তবে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতে, দুটি ভাগে পরীক্ষা হলে পড়ুয়াদের কাছে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন আরো নিখুঁত হবে। একটি সেমিস্টারে খারাপ ফল হলে পরবর্তী পরীক্ষায় সেই ভুল শুধরে নেয়ার একটা সুযোগ থাকবে। আরো বলেছেন, সেমিস্টারের সিলেবাসে এমনভাবে করা হবে যাতে পুড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় কোনো ক্ষতি না হয়।

মার্চ ১৪, ২০২৪
রাজ্য

এবার লক্ষ্মীর ভান্ডারের বড় প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর, কবে থেকে চালু?

ভোট সত্যি বড় বালাই। বাজেট বক্তৃতাতেই অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন যে, আগামী মে মাস থেকে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারে মিলবে হাজার টাকা করে। বারশো করে পাবেন এসটি-এসসি ভুক্তরা। লোকসভা ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে ছাপিয়ে গেলেন বিরোধী দলনেতা। রানাঘাটের দলীয় সভায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারে মিলবে তিন হাজার টাকা করে। অর্থাৎ, এখনকার প্রাপ্যের একেবারে তিনগুণ বৃদ্ধি।মোদী সরকার দেশবাসীকে কি কি সুবিধা দিয়েছেন রানাঘাটে তারই ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তিনি জানান রাজ্য পদ্ম ফুটলে কোন কোন সুবিধা দেওয়া হবে। তখনই ওঠে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের কথা। বিরোধী দলনেতা বলেন,লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব সম্পত্তি। উনি ১ হাজার করে দেবেন বলে মা-বোনেদের মাথা কিনে নেবেন ভাবছেন। আগেই বলেছিলাম ২ হাজার করে দেব বিজেপি ক্ষমতায় এলে। আর আজ বলে গেলাম আমরা এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৩ হাজার করে দেব।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম জনকল্যাণকারী প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলার সব মহিলাই যাতে হাত খরচের টাকা পেতে পারেন সেই জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করে রাজ্য সরকার। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে উপভোক্তার সংখ্যা এখন বেড়ে হয়েছে ২কোটি ১৩ লক্ষ। যার আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে রয়েছে রাজ্য সরকার।এদিন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, বাংলায় এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এমন ফল করবে আমার মনে হয় না বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আরও দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে

মার্চ ১৩, ২০২৪
রাজ্য

ভোটে অস্ত্র CAA

কিছুদিন ধরেই হাওয়ায় ভাসছিল। অবশেষে মাটিতে নেমে এল। Citizenship Bill সংসদে পাশ হওয়ার চার বছর পরে আইনে পরিণত হল। লোকসভা নির্বাচনের দরজায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বার্তা মোদী যা বলেন, তাই করেন। আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার কয়েক মূহুর্ত পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর টুইট, সেই বার্তার ই প্রতিধ্বনি। টুইটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লেখেন,এই আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেন তা পালন করেন। ২০১৯ য়ের লোকসভা নির্বাচনে কয়েক মাস পরেই সংসদে CAA পাশ হয়। ওই নির্বাচনে বিজেপির ইস্তাহারে এই আইন চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এই আইনের লক্ষ্য ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের যে শিখ, বৌদ্ধ,জৈন, খৃষ্টান,পার্শী ও হিন্দু রা অত্যাচারিত হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের জন্য একমাত্র স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল ভারত এই বার্তা দেওয়া। CAA র ফলে তাঁরা চাইলে ভারতে সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন। আশ্রয় যারা পাবেন সেই তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখ না থাকায় সংসদে CAA Bill পাশ হওয়ার পরেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে বিল পাশ হলেও আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা থেকে সরকার বিরত থাকে।দীর্ঘ সময় ধরে সরকার আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি না করায় বিরোধীরা সমালোচনার অস্ত্র পেয়ে যায়। বিরোধীরা বলতে থাকে বিজেপি নির্বাচন এলেই ভোটার দের মেরুকরণের জন্য CAA র গাজর ঝোলাতে থাকে। লোকসভা নির্বাচনের মুখে সেই আইন চালু করে বিজেপি বিরোধীদের অস্ত্র ভোঁতা করে দিল। এই আইন চালু করে বিজেপি মনে করছে পশ্চিম বঙ্গে তাদের আসন বাড়বে। এবার নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য ৩৭০-র ও বেশি আসন পাওয়া। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বিজেপি কে হিন্দি বলয়ের বাইরের রাজ্যে আসন বাড়াতে হবে। উত্তর প্রদেশের পরে যে তিনটি রাজ্যে লোকসভার আসন বেশি রয়েছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৪৮ টি আসন), পশ্চিমবঙ্গ (৪২ টি আসন) এবং বিহার (৪০টি আসন)। তাই পশ্চিমবঙ্গে আসন বাড়ানো এবার বিজেপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় দেশভাগের কারণে ওপার থেকে চলে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের বাস। এই সম্প্রদায়ের ভোট যে দিকে যাবে সেই দলের ঝোলায় অন্তত ২১টি বিধান সভা ও তিনটি লোকসভা আসন চলে যাওয়া নিশ্চিত। মতুয়া ছাড়াও দেশ ভাগের কারণে ওপার বাংলা থেকে বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের নানা ধোঁয়াশা ও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ও উদ্বেগ বেড়েছে। CAA লাগু হওয়ায় এই অংশের ভোটারদের ও সমর্থন পেতে পারে বিজেপি। ২০১৯য-র লোকসভা নির্বাচনে CAAর আশায় মতুয়া সম্প্রদায় ভোট দিয়েছিল বিজেপি কে। তবে CAA চালু না হওয়ায় গত বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ভোট কম পাওয়ায় বিজেপির ফল খারাপ হয়। তবে দক্ষিণবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায় এবং দেশভাগের কারণে আসা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের ভোট CAA র কারণে বিজেপি পেলেও উত্তর বঙ্গে রাজবংশী ভোট বিজেপির চিন্তা বাড়াতে পারে। কারণ রাজবংশী রা চায় NRC। তাদের ধারণা উত্তর বঙ্গে বাইরে থেকে আসা ঊচ্চবর্ণের মানুষ তাদের জায়গা, জমি, কাজ, ব্যবসা সব দখল করে বসে আছে।রাজবংশী দের চোখে এরা সবাই বিদেশি। তাই রাজবংশী দের দাবি বিদেশি তাড়াতে NRC চালু করতে হবে। উত্তর বঙ্গে NRC চালুর আশায় ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে রাজবংশী রা হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছিল বিজেপি কে। উত্তর বঙ্গের সমতলে জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ রাজবংশী। মূলত এদের ভোটেই উত্তর বঙ্গের সাতটি লোকসভা আসনে বিজেপি জিতেছিল। কিন্তু NRC নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ না করায় গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজবংশীদের বড় অংশ বিজেপি কে ভোট দেয়নি। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর বঙ্গের বিজেপির ফল ভালো হয়নি। এছাড়াও বিজেপির পথে কাঁটা হতে পারে দেশের শীর্ষ আদালত। CAA র বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২০ সালে Indian Union Muslim League প্রথম মামলা করে। এর পরে ২০০ টির বেশী মামলার আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলাকারি দের মধ্যে রয়েছেন আসাদ উদ্দিন ওএইসি, জয়রাম রমেশ, এবং মহুয়া মৈত্র। এছাড়াও রয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, অসম গণপরিষদ, National Peoples party ( Assam) এবং দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগম। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি U U Lalit য়ের বেঞ্চ জানায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলার শুনানি শুরু হবে। কিন্তু তারপর থেকে এখনো শুনানি শুরু হয় নি। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী মামলা গুলি বর্তমানে বিচারপতি পঙ্কজ মিথালের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তালিকাভুক্ত রয়েছে। মামলাকারিদের আবেদনে বলা হয়েছে CAA সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারাকে ভঙ্গ করছে। সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে The state shall not deny to any person equality before the law or the equal protection of the laws within the territory of India মামলাকারিদের আবেদন CAA তে ধর্মীয় বিভাজনের ফলে সংবিধানের এই বক্তব্য কে অস্বীকার করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ আদালত যদি মামলাকারিদের আবেদনের পক্ষে রায় দেয় তাহলে সমস্যায় পড়বে বিজেপি।

মার্চ ১৩, ২০২৪
রাজ্য

সিএএ নিয়ে মোদীর ঘোষণার আগেই তীব্র আক্রমণ মমতার

সিএএ নিয়ে তৎপরতার মধ্যেই নবান্নে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের মুখে কেন কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ কার্যকরের চেষ্টা চালাল? কেন আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছিল, এবার স্পষ্ট হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও বৈষম্য মানব না। এই জন্যই কি তাহলে মতুয়াদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছিল? যাঁরা এতদিন এই রাজ্যে আছেন, লেখাপড়া করছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব কাড়ার চেষ্টা কেন হচ্ছে? এটা কেন্দ্রীয় সরকারের ছলনা। আমি গোটা আইনটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রত্যেকে এদেশের নাগরিক। তাঁদের প্রত্যেকের সামাজিক, রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সম্পত্তিগত অধিকার আছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি গোটা বিষয়টি দেখার পর নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এরাজ্যের নাগরিকদের আমি কিছুতেই নাগরিকত্ব হারাতে দেব না। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও অশান্তি হোক, সেটা আমি চাই না। রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। সেটা হতে দেব না। মুখ্যমন্ত্রী সিএএ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেও, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই জানিয়েছেন যে, সিএএ নাগরিকত্ব কাড়ার আইন নয়। এটা নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। যদিও অসমের পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ দেখে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হল, কী এই সিএএ? সংক্ষিপ্তসার হল, ২০১৯ সালে পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন এটা। আপাতত ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান নাগরিকদের এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর আগে যখন সিএএ আইন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তখনই প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই তাঁর নেতৃত্বাধীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস স্লোগান তুলেছিল, ক্যা ক্যা, ছি ছি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত প্রতিবাদের মধ্যেই সোমবার সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে সিএএ লাগু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

মার্চ ১১, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 28
  • 29
  • 30
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • ...
  • 118
  • 119
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal