• ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Labour

কলকাতা

মেয়ের এক আবদারেই বদলে গেল সব! তারাতলার মৃত্যুফাঁদ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরলেন শ্রমিক বাবা

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন এক শ্রমিক। আর সেই অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার পিছনে রয়েছে তাঁর ছোট্ট মেয়ের এক আবদার। কাজে যেতে না দেওয়ার জন্য মেয়ের জেদের কাছে হার মেনেছিলেন বাবা। কয়েক ঘণ্টা পরেই ভেঙে পড়ে সেই নির্মীয়মাণ গুদাম। এখন মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বারবার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন তিনি।জগদ্দলের মোমিনপুরের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র চৌধুরী প্রতিদিনের মতো বুধবার ভোরেও কাজে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। প্রতিদিন সাতশো টাকা মজুরি পেতেন। সেদিন অতিরিক্ত তিনশো টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন ঠিকাদার। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে বাড়তি আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি ধর্মেন্দ্র।কিন্তু ঠিক সেই সময় ঘুম থেকে উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট মেয়ে। তার একটাই আবদার ছিল, সেদিন যেন বাবা আর কাজে না যান। প্রথমে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মেয়ের জেদ আর ভালোবাসার কাছে হার মানেন ধর্মেন্দ্র। অতিরিক্ত আয়ের লোভ ছেড়ে বাড়িতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে, দুপুরে আচমকাই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে সেই নির্মীয়মাণ গুদাম। খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে যান ধর্মেন্দ্র। বুঝতে পারেন, সেদিন কাজে গেলে হয়তো তিনিও আর বেঁচে ফিরতেন না।শুক্রবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে সেই সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন, যিনি তাঁর পরিবর্তে সেদিন কাজে গিয়েছিলেন এবং দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে ধর্মেন্দ্র বলেন, তাঁর মেয়েই আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। মেয়ের কথা না শুনলে হয়তো তিনিও আজ বেঁচে থাকতেন না।তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মধ্যে ধর্মেন্দ্র ও তাঁর ছোট্ট মেয়ের এই ঘটনা এখন অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই শ্রমিকের কাছে এখন সবচেয়ে বড় সত্য, সন্তানের একটুকরো ভালোবাসাই তাঁর নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

জুন ২৬, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় কথা বলায় মারধর? ওড়িশায় নির্যাতনের অভিযোগ পরিযায়ী শ্রমিকের

ফের বিজেপি শাসিত ওড়িশায় বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠল। আক্রান্ত যুবকের নাম রাজা আলি। তাঁর বাড়ি হুগলির গোঘাটে। অভিযোগ, মারধরের পাশাপাশি তাঁর রোজগারের ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চরম আতঙ্কে রাতারাতি ওড়িশা ছেড়ে পালিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই যুবক। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার।ছেলের উপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজা আলির বাবা শেখ মইনুদ্দিন। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি জানান, ছেলের রোজগারেই চলত গোটা সংসার। উপার্জনের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় এখন সংসার চলবে কীভাবে, তা ভেবেই দিশাহারা পরিবার।জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস আগে ওড়িশার কটকে পাথর মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতে যান গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজা আলি। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে আগেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে তিনি প্রায় লুকিয়ে কাজ করতেন। যে ঘরে তিনি ভাড়া থাকতেন, সেখানে ঝামেলা এড়াতে বাড়ির মালিক বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দিতেন বলেও অভিযোগ।বুধবার রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাজা আলির দাবি, হামলাকারীরা সকলেই বিজেপি কর্মী। তিনি বলেন, মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয় এবং জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়।এই ঘটনার জেরে গোঘাটের বিরামপুর গ্রামে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওই গ্রামে প্রায় ১৭০টি পরিবার বসবাস করে, যাদের অধিকাংশই ভিনরাজ্যে কাজ করেন। সকলেই এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে আক্রান্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলি সফরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পরিবারের দুরবস্থার কথা জানাতে চান রাজা আলির পরিবার।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি রটানো হচ্ছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজ্য

মমতার রুদ্রমূর্তি! কোচবিহারের মঞ্চেই কেন্দ্রের নোটিস ছিঁড়ে তুফান তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

নতুন শ্রম কোড রাজ্যে লাগু হবে নাএ কথা আগেই জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার কেন্দ্রের পাঠানো সেই শ্রম আইনের প্রতিলিপি রাজ্যের হাতে আসে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই শর্তকে সম্পূর্ণ অসম্মানজনক বলে দাবি করে কোচবিহারের জনসভা থেকেই কাগজ ছিঁড়ে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দুদিনের কোচবিহার সফরে গিয়ে কেন্দ্রকে একের পর এক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইন নিয়ে। মমতার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে কেন্দ্র থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকার জন্য নতুন নিয়ম চাপানো হয়েছে, যা রাজ্য কোনওভাবেই মানবে না। তাঁর কথায়, আমরা এই শর্ত মানি না, মানবও না। এটা আমাদের অপমান করার চেষ্টা। তাই আমি এই কাগজ ছিঁড়ে ফেললাম। এটা কেন্দ্রের নোটিস নয়এটা আমার নিজের কাছে থাকা কাগজ। কেন্দ্রের কাগজ হলে তাও মানাতাম না।কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোডে বিভিন্ন রাজ্যে একই কাজের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো, পৃথক নিরাপত্তা বিধি এবং নানা জটিলতা দূর করার দাবি করা হয়েছিল। দেশের ৪৪টি আলাদা শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি নতুন কোড চালুর কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। নভেম্বর থেকেই সেই শ্রম আইন কার্যকর হয়েছে। তবে কোনও রাজ্যে এই কোড চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সিদ্ধান্তের উপর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এই নয়া কোড মানবে না। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম চালু করেছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য নোটিস-ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

পরিযায়ী বাংলার শ্রমিকদের পাশে রাজ্য পুলিশ, বিশেষ আবেদন

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি বিদ্বেষ চলছে বলে অভিযোগ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী তাঁদের কাউকে কাউকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখছে, মারধর করার মতো অভিযোগ উঠছে। এই অবস্থায় রাজ্য পুলি সোশাল মিডিয়া ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালিদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে। রাজ্য পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে বলছে, বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে যোগাযোগ করুন রাজ্য পুলিশের হেল্পলাইনে।বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে যোগাযোগ করুন রাজ্য পুলিশের হেল্পলাইনেবাংলা থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেকে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে আমরা খবর পাচ্ছি। কিন্তু যাঁরা ভুক্তভোগী, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের লোকজন এই West Bengal Police (@WBPolice) July 25, 2025বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেকে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে আমরা খবর পাচ্ছি। কিন্তু যাঁরা ভুক্তভোগী, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের লোকজন এই সমস্যার কথা কাকে জানাবেন, কীভাবে জানাবেন, সেই বিষয়ে ওঁদের কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই।বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া নাগরিকরা যদি কোনও ধরনের সমস্যায় পড়েন, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কাছে আমাদের আবেদন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার স্থানীয় থানায় জানান। জেলার কন্ট্রোল রুমেও জানাতে পারেন। এ ছাড়া, পরিবারগুলির সুবিধার্থে আমরা চালু করছি একটি হেল্পলাইন। যার নম্বর হল 9147727666 । এই নম্বরে শুধু হোয়াটস্যাপ করা যাবে। মেসেজ করে প্রয়োজনীয় তথ্য এখানে দিতে পারেন, নিজের নাম-ঠিকানাসহ। প্রতিটি তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

জুলাই ২৫, ২০২৫
দেশ

বাংলায় কথা, বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ওড়িশায়, আতঙ্কে পরিযায়ী শ্রমিকরা

ওড়িশায় (Odisha) মুর্শিদাবাদের প্রায় ৩৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখার অভিযোগ। ওড়িশার পাড়াদ্বীপ থানার পুলিশ তাদের এক ক্যাম্পে আটকে রাখে। জানাযায়, মুর্শিদাবাদের কিছু নির্মাণ শ্রমিক ওড়িশায় কাজে যায়। গতকাল পাড়াদ্বীপ থানার পুলিশ নির্মাণ শ্রমিকদের আধার কার্ড নিয়ে থানায় দেখা করতে বলে।সেই মত পরিযায়ী শ্রমিকরা থানায় দেখা করতে গেলে তাদের পুলিশ থানা থেকে নিয়ে গিয়ে একটি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের থানার পরিবর্তে অন্যত্র ক্যাম্পে আটকে রাখলো পুলিশ কিছুই জানেন না তারা।ঘটনায় বেশ আতঙ্কে রয়েছে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা।

জুলাই ০৪, ২০২৫
রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে মালদায় বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সভা

মালদার বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে মালদা শহরে জেলার সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হল। মালদার মূল সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিক। নানা রাজ্যে গিয়ে সমস্যায় পড়ে মালদা সহ নানা জেলার বাঙালিরা৷ কিন্তু অন্য রাজ্যে কাজে কেন যেত হবে? বাংলায় কি কাজ নেই? বাংলা পক্ষ ৫ বছরের লড়াইয়ে বুঝেছে, বাংলায় কাজ আছে, বাঙালির কাজ নেই। এমনকি মালদায় কাজ না থাকলে বিহার-ইউপির লোকজন এত বাড়ছে কেন? মালদা-মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন যে শিল্প তালুক তৈরি হচ্ছে সেখানে অধিকাংশই চাকরি ও কাজ করছে বিহার-ইউপির লোকজন। অথচ বাঙালি অন্য রাজ্যে কাজে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। নানা রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাদেশী সন্দেহে আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু বাংলার শহর ও শিল্পাঞ্চল গুলোয় চাকরি-কাজ- ব্যবসা বহিরাগতদের হাতে। আমরা তাই সমস্ত বেসরকারি চাকরি-কাজে ও টেন্ডারে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই।বাংলা পক্ষের দাবি, এছাড়া মালদায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে, মূলত আম নির্ভর শিল্পে আরও জোর দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং তা জেলার ছেলেমেয়েদের দিতে হবে। মালদার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। লোকাল ট্রেন নেই। মালদা থেকে শিলিগুড়ি দুই দিনাজপুর হয়ে (বিহার নয়) লোকাল ট্রেন চালাতে হবে। ফারাক্কার টোল ট্যাক্স তুলে দিতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ফারাক্কা। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে দিল্লিকে টাকা ট্যাক্স হিসাবে দিতে হবে কেন? রেলের ডিভিশন অফিস মালদা থেকে সরিয়ে ভাগলপুরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।আজকের সাংগঠনিক মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, মালদার নেতৃত্ব রফিক আহমেদ, শুভ্রজ্যোতি দত্ত, মালদার ভূমিপুত্র তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য ডঃ আব্দুল লতিফ প্রমুখ।আগামীতে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান ও ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চালুর দাবিতে জেলা জুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে বাংলা পক্ষ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

Electrocution: খড়দহ, দমদম, আগরপাড়ার পর ফের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত শ্রমিক!

খড়দহ, দমদম, আগরপাড়ার পর এবার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক কারখানা শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘরিয়া টেক্সমেকো কারখানায়। জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ওই কারখানারই শ্রমিক সোনা রায়। ৪০ বছর বয়সী সোনা রায় সাফাইয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।কিন্তু একের পর এক জায়গায় যখন বিপত্তি ঘটছে জমা জলে তখন তার মধ্যেই সোনা রায়কে কেন সাফাইয়ের কাজ করানো হল। উঠছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, জমা জলের মধ্যে কারখানা কর্তৃপক্ষ জোর করে শ্রমিকদের কাজ করাত। এমনটাই অভিযোগ করছেন মৃত শ্রমিকের সহকর্মী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। কারখানা কর্তৃপক্ষের জোর করে কাজ করানোর ফলে এই কারখানার ভিতরে জমে থাকা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল শ্রমিকের।বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হওয়া সোনাবাবুকে উদ্ধার করে ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পর মৃতের সহকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কারখানার উদাসীনতায় এই মৃত্যু বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কারখানার শ্রমিকরা।আরও পড়ুনঃ বিমানবন্দরে ভারতীয় আমেরিকানদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আপ্লুত মোদি উল্লেখ্য, এর আগে খড়দহে মারা গিয়েছেন একই পরিবারের তিনজন। আগরপাড়াতেও ঘটেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা। বুধবার বণিক ও অনুষ্কা নন্দী নামে দুই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে দমদমে। বুধবার সন্ধ্যায় পড়তে যাচ্ছিল অনুষ্কা। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় দেরি হয়ে যায়। পাশেই তার বন্ধু শ্রেয়ার বাড়ি। তাকে ডাকতে গিয়েছিল। অনুষ্কার মা জানান, বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই তারা যাচ্ছিল। উল্টোদিক থেকে একটি দুধের গাড়ি আসায় তারা পাশ কাটাতে যায়। মৃত্যু হয় তার। সব মিলিয়ে গত দুদিনে আটজন মানুষ প্রাণ হারাল বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে।শহর কলকাতা ও আশেপাশের অঞ্চলে একের পর এক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আঙুল উঠছে প্রশাসনের দিকে। চলছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
রাজ্য

Tragic Accident: মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, কাঁদাজল থেকে উঠে আসছে পরিযায়ী শ্রমিকদের দেহ

বুধবার গভীর রাতে রায়গঞ্জে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে গেল যাত্রীবোঝাই বাস। বাসটিতে ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।। আশঙ্কাজনক ৩ জন। আহতরা রায়গঞ্জ রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। আরও পড়ুনঃ সানরাইজার্সকে উড়িয়ে শীর্ষে উঠে এল দিল্লি ক্যাপিটালসজানা গিয়েছে, রাতে বাসটি ঝাড়খণ্ড থেকে লখনউ যাচ্ছিল। রায়গঞ্জের রূপাহারের কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বাসের চাকা পিছলে গিয়ে পাশের নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে। রাতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে উদ্ধার কার্যে হাত লাগান স্থানীয়রা। নয়ানজুলিতে নেমে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন বাসিন্দা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে আসে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকার্য। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে উদ্ধার কাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জল-কাদায় ভর্তি নয়ানজুলিতে বাস পড়তেই দম বন্ধ হয়ে আসে বাসে থাকা যাত্রীদের। সেখানে একাধিক শিশু ও মহিলা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি যাত্রী ছিলেন বাসে। বাসটিকে জল থেকে তোলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমান, সম্ভবত বাসের চালক মদ্যপ ছিলেন। সেজন্যই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। একাংশের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে প্রচুর গর্ত রয়েছে। সেটাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ঘটনার পর থেকে পলাতক চালক। তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছে। মৃত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
রাজ্য

Goldsmith : মহারাষ্ট্র পুলিশের হাতে গ্রেফতার মেমারির স্বর্ণশিল্পী

১২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সোনা চুরি করে এই রাজ্যে পালিয়ে আসার অভিযোগে এক স্বর্ণশিল্পীকে গ্রেপ্তার করলো মহারাষ্ট্র পুলিশ। ধৃতের নাম হরি বাগ। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার হরকালী গ্রামে তার বাড়ি। স্থানীয় থানার সাহায্য নিয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশ রবিবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ।পুলিশের দাবি, সোনা চুরির কথা ধৃত কবুল করেছে। সোমবার ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে।তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে ৫ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে মহারাষ্ট্র নিয়ে যাওয়ার জন্য মহারাষ্ট্র পুলিশের তদন্থকারী অফিসার এদিন আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।আরও পড়ুনঃ ওভালে জিতে ইতিহাস কোহলিদের, সিরিজ জয়ের হাতছানিপুলিশ জানিয়েছে, মেমারির হরকালি গ্রামের হরি বাগ কাজের সন্ধানে বছর খানেক আগে মহারাষ্ট্রে যান। তিনি সেখানকার সাংলি জেলার লাঙ্গরতলে একটি সোনার দোকানে কাজ পান। পরে ওই দেকান থেকে ১০৬.৩৭০ গ্রাম সোনা চুরি যায়। সেই বিষয়ে দোকান মালিক বিজয় মারুতি খান্ডগেলে গত ১২ এপ্রিল সেখানকার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশকে তিনি জানান, অলঙ্কার তৈরির জন্য ওই সোনা হরি বাগকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, হরি সেই সোনা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। যে সোনার মূল্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা বলে দোকান মালিক পুলিশকে জানান। এই অভিযোগের তদন্তে নেমে মহারাষ্ট্র পুলিশ মেমারি পৌছে হরি বাগকে গ্রেপ্তার করে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২১
দেশ

'E-labour' portal: অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বড় খবর

দারুণ সুখবর পেতে চলেছেন শ্রমিকরা। কেন্দ্রের তরফে আনা হচ্ছে এক নতুন পোর্টাল। বৃহস্পতিবার, ২৬ অগস্ট কেন্দ্রের তরফে ই-শ্রম পোর্টাল-র উদ্বোধন করা হবে, যা দেশের কয়েক কোটি অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা শ্রমিকদের যাবতীয় তথ্যের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করবে এবং সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে তাদের নাম নথিভুক্ত করবে।আরও পড়ুনঃ সমর্থকরা আবেগে ভাসলেও ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে কি ভাল দল গড়া সম্ভব?আমাদের দেশের নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত হলেও প্রতিটি পেশা নথিভুক্ত বা স্বীকৃত নয়। নাম নথিভুক্ত না থাকায় স্বীকৃতি বা সরকারি পরিষেবার সুযোগও পান না কয়েক কোটি মানুষ। এ বার সেই সমস্ত শ্রমিকদের কথা ভেবেই ই-শ্রম পোর্টাল আনছে কেন্দ্র। এ দিন দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ভূপিন্দর যাদব এই পোর্টালের উদ্বোধন করবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রমেশ্বর তেলি-ও উপস্থিত থাকবেন। এই পোর্টালের উদ্বোধন হয়ে গেলে শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের নানা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির সুবিধাও পাবেন তারা। নতুন কোনও প্রকল্প চালু হলেও তার সুবিধা নেওয়ার জন্যও শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, এই পোর্টালে দেশের ৩৮ কোটি শ্রমিকদেরই নাম নথিভুক্ত করা। এই শ্রেণির মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, ফুটপাথের বিভিন্ন বিক্রেতা ও গৃহস্থ বাড়িতে কর্মরতরা। এই প্রকল্পের অধীনে নাম নথিভুক্ত করা সমস্ত শ্রমিকদেরই ১২ ডিজিটের একটি ইউনিক নম্বর দেওয়া হবে, যা আগামিদিনে তাদের নানা প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাহায্য করবে।

আগস্ট ২৬, ২০২১
কলকাতা

Accident: বেপরোয়া গতি প্রাণ কাড়ল ৬ শ্রমিকের

বারুইপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৬ শ্রমিক। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য হাওড়ার স্টেশনের দিকে রওনা হয়েছিলেন ২৭ জন শ্রমিক। একই গাড়িতে ছিলেন তাঁরা। গাড়িটি সজোরে একটি ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৬ জনের। আহত অবস্থায় ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার রাত পৌনে ১২ টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।আরও পড়ুনঃ দিল্লি দরবারে যেতে চান রাজ্য বিজেপি নেতারাবারু্ইপুরের কুলতলি এলাকার রাধা বল্লভপুর মল্লিকপুরের ঘটনা।জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার কথা ছিল ওই ২৭ জন শ্রমিকের। একটি বোলেরো পিকআপ ভ্যানে সে দিকেই যাচ্ছিলেন তাঁরা। সজোরে একটি পোস্টে ধাক্কা মারে গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছজনের। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বকুলতলা থানার পুলিশ। আহতদের নিমপীঠ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কয়েকজনকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। ঘটনাস্থলে বারুইপুর পুলিশ জেলার এসডিপিও-র নেতৃত্ব বিশাল পুলিশবাহিনী যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে আনে বকুলতলা থানার পুলিশ। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত শুরু করেছে বকুলতলা থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল, আর তার জেরেই এই দুর্ঘটনা।

আগস্ট ০২, ২০২১
দেশ

Tragic Accident: ফের দুর্ঘটনার বলি ১৮ পরিযায়ী শ্রমিক

মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার মর্মান্তিক পরিণতি দেখল উত্তরপ্রদেশ। বারাবাঙ্কি এলাকায় প্রবল গতিতে ধেয়ে আসা ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হল ১৮ জনের। জখম হয়েছে আরও ২৪ জন। অযোধ্যা-লখনউ জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাম সানেহি পুলিশ স্টেশনের কাছে এই ঘটনায়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই বাসে প্রায় ১৪০ জন যাত্রী ছিলেন। এরা সকলেই ছিলেন শ্রমিক। উত্তরপ্রদেশের এই জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বাসটি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাস হরিয়ানার পালওয়াল থেকে বিহার আসছিল।লখনউ ঢোকার ২৮ কিলোমিটার আগে জাতীয় সড়কে খারাপ হয়ে যায় বাসের যন্ত্রাংশ। তা ঠিক করার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল বাসটি। বাসে আসা কিছু শ্রমিক বাসের সামনে রাস্তার ধারে ঘুমোচ্ছিলেন। সে সময়ই ঘটে এই ভয়ানক দুর্ঘটনা।আরও পড়ুনঃ বাবার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বহুতল হাসপাতাল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী ছেলেখবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। মৃতদের দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারাল এসএন সাবাত বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে বারাবঁকীতে এক পথ দুর্ঘটনায় বিহারের ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা দ্বারভাঙা, সীতামারি-সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ঘটনায় আহত হয়েছে দুডজনেরও বেশি। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

জুলাই ২৮, ২০২১
দেশ

জোশীমঠে ফের হিমবাহ ধসে নিহত ৮

ফের সেই জোশীমঠ। মাস দুয়েক আগের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের হিমবাহ ভেঙে মৃত্যু হল ৮ জনের। উদ্ধার করা হয়েছে তিন শতাধিক শ্রমিককে। এদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সূত্রে খবর, জোশীমঠের কাছে ভারত-চিন সীমান্ত লাগোয়া নিতি উপত্যকায় ওই হিমবাহটি ভেঙে পড়ে শুক্রবার রাতে। আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই বিপদে সব রকম সাহায্য করা হচ্ছে। দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবরকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকেই এই অঞ্চলে খারাপ আবহাওয়া ছিল। বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। কখনও ভারী তুষারপাতও হচ্ছিল।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ সিংহ রাওয়াত বলেন, নিতি উপত্যকার সুমনায় হিমবাহে ধস নেমে যে বিপর্যয় ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। আইটিবিপির জওয়ানদেরও প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই জোশীমঠ লাগোয়া অঞ্চলে হিমবাহ ভেঙে বড় বিপর্যয় হয়েছিল। হড়পা বানে ভেসে যায় চামোলি গ্রাম। নয়না দেবী জাতীয় উদ্যানের কাছে অবস্থিত ঋষিগঙ্গা ও তপোবন বিদ্যুৎ প্রকল্পও ধসে ধ্বংস হয়ে যায়। এক সপ্তাহ উদ্ধারকার্য চালিয়ে মোট ৭৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ১৩৫ জনকেও মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

এপ্রিল ২৪, ২০২১
দেশ

মিলছে না সাড়া, ভয় বাড়াচ্ছে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ

উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠের কাছে ধউলিগঙ্গাতে হিমবাহ ফেটে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের জেরে রবিবার ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। রেনি গ্রামে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ ওই এলাকার ৪টি ঝুলা পুল অর্থাৎ ঝুলন্ত সেতু ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। একটি সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত। মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্যের পর ওই শ্রমিকদের জীবিত থাকা সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন অনেকে।১৩.২ মেগাওয়াটের ওই বিদ্যুৎপ্রকল্পে ২০২০ সাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সেই প্রকল্পে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এই বন্যার জেরে প্রকল্পটির ১০০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। আমরা যদি ৫ কিলোমিটার নীচের দিকে আসি, তা হলে তপোবন বলে একটি জায়গা আছে। সেখানেই তৈরি হচ্ছিল এনটিপিসি-র ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। সেখানে দুটি সুড়ঙ্গে প্রচুর শ্রমিক কাজ করছিলেন। তার মধ্যে একটি সুড়ঙ্গে আটকে থাকা সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে।অপর সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ এখনও সে ভাবে শুরুই করা যায়নি। আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গ কাদায় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আইটিবিপি-র জওয়ানরা সুড়ঙ্গের বেশি ভিতরে ঢুকতেই পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র ১৫০-২০০ মিটার ভিতর পর্যন্ত যেতে পেরেছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। সোমবার সকাল থেকে ওই সুড়ঙ্গে আইটিবিপি, সেনা ও রাজ্য সরকারের উদ্ধারকারী দল ফের কাজ শুরু করবেন। ওই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে খাবার-জল পৌঁছনো গিয়েছে কি না, সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে পারেননি। তিনি বলেছেন, উদ্ধারকারীরা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আটকে থাকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বহু চিৎকার করা সত্ত্বেও কারও সাড়া মেলেনি। হতে পারে তাঁরা এক দম ভিতরে আটকে আছেন। তাই কারও কথা শুনতে পাচ্ছেন না। তাই আন্দাজে কিছু বলা সম্ভব নয়।কিন্তু এই যোগাযোগ না হওয়ায় ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও চেষ্টার খামতি রাখছেন না উদ্ধারকারীরা।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১
দেশ

কেন্দ্রের শ্রম আইনের বিরোধীতায় পথে নামছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন

নরেন্দ্র মোদী সরকারের শ্রম আইনের বিরোধীতায় এবার পথে নামছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস। কেন্দ্রের শ্রমিক বিরোধী নীতির প্রতিবাদে চলতি মাসের ২৮ তারিখে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা।উল্লেখ্য, মোদি সরকারের শ্রম আইনের বিরোধিতায় আগেই প্রতিবাদে নেমেছে বাম ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি। ১০টি শ্রমিক সংগঠন গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের শ্রমিক বিরোধী নীতির প্রতিবাদ জানাতে ২৬ নভেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ভারতীয় মজদুর সংঘের ১৯ তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হয়েছে। সম্মেলনের শেষ দিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত গোটা দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের নতুন শ্রম আইনের বিপদ সম্পর্কে বোঝানো হবে। এই কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হচ্ছে দুর্গাপুজো। তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলি বাদ দিয়ে ২৮ অক্টোবর প্রতিবাদে পথে নামা হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, মোদি সরকারের শ্রম আইনের বিরোধিতায় ডান ও বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি যখন পথে নেমেছে তখন বিএমএস কেন তাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিবাদে সামিল হচ্ছে না? বিএমএস পরিষ্কার বলেছে, মোদি সরকার যে শ্রম আইন এনেছে তা দেশের শ্রমিকদের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে বহু মানুষ কাজ হারাবেন এই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মানুষের কর্মজীবনে নিশ্চয়তা চলে যাচ্ছে।

অক্টোবর ০৭, ২০২০
নিবন্ধ

যারা অদৃশ্য রয়ে গেলেনঃ শ্রমিক ঠিকাদার বা দালালতন্ত্র!

গ্রামীণ ভারতে গরীব মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতি পরিব্রাজনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে সম্পর্ক যুক্ত। ছদ্ম বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার চাপে অনন্যোপায় হয়ে আন্তঃরাজ্য পরিব্রাজনই হয়ে ওঠে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র জীয়ন কাঠি। গ্রাম থেকে শহরে কাজ করতে গরীব মানুষের যাওয়াটা নতুন কিছু নয়, চিরন্তন কাল ধরেই সেটা হয়ে এসেছে। কিন্তু যেটা নতুন তা হল নব্য-উদারবাদের ভারতে তার সংখ্যাটা। পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গত শতাব্দির নব্বই এর দশক থেকে বাড়তে শুরু করে ২০১১ সালে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ কোটি যা দেশের মোট জনসখ্যার ৩৭ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিরিখে ২০২১ সালে যা আনুমানিক ৫৫ কোটিতে পৌঁছনোর কথা। প্রয়োজনীয়তা বা পছন্দের দ্বৈত কারণে গ্রামের গরীব মানুষের একমাত্র উপায় হলো বছরের বিভিন্ন সময় চক্রাকার বা ক্ষণস্থায়ী আন্তঃরাজ্য পরিব্রাজন। এত দিন সব মোটের উপর ঠিকঠাক চলছিল। বাদ সাধল অতিমারি, যাদের আমরা কোনওদিন দেখতে পেতাম না, তারা এখন দৃশ্যমান। কাতারে কাতারে ঝকঝকে ভারতের সুবর্ণ চতুর্ভুজ ধরে হাঁটছে এবং মরছে। আমরা তো জানতামই না, লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কি ভাবে শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিকে সচল রেখে ছিল তা না কী দেশের সরকারও জানত না। আসলে তারা ছিল, ঠিক প্রদীপের তলায় যেমন অন্ধকার থাকে বড় বড় শহরের ঘিঞ্জি বস্তিতে বা অস্থায়ী ছাউনিতে। তাদের আমরা এখন ফিরে আসতে দেখছি, কিন্ত জানি কী তারা গিয়েছিল কী ভাবে? কে নিয়ে গিয়েছিল তাদের। না জানি না, কারণ যারা নিয়ে গিয়েছিল, তারা কিন্তু অদৃশ্য। তারা শ্রমিক ঠিকাদার বা শ্রমিকদের নিজের ভাষায় দালাল। পরিযায়ী শ্রমিক নির্ভর অসংগঠিত অর্থনীতির মূল তিনটি স্তম্ভঃ পরিযায়ী শ্রমিক, পূঁজিবাদী মালিক বা শিল্পপতি এবং এই দুই পক্ষের মাঝখানে সংযোজক হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন স্তম্ভ হল শ্রমিক ঠিকাদার বা দালাল।তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিযায়ী শ্রমিকদের শোষণ যন্ত্রনার কথা বুঝতে গেলে নব্য-উদারবাদের ভারতে শ্রমিক ঠিকাদারদের ভূমিকার পর্যালোচনা জরুরি। দিল্লি, কেরালা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সারা বছর ধরে অসংগঠিত শ্রমিকদের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই কম খরচে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে এমনকি শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ও অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জোগান ও সরবরাহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংস্থার কাছে বেশ লাভজনক একটি ব্যবস্থা। আর এখানেই পারস্পারিক বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে গ্রামে শ্রমিক ঠিকাদার বা দালালদের আবির্ভাব ঘটে। খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থান সহ দৈনন্দিন সামাজিক চাহিদা মেটাতে ও বিনা সুদে টাকা ধার সহ কাজ জোগানোর ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের জুড়ি মেলা ভার। সংবিধান প্রদত্ত কাজের অধিকারের কথা যতই বলি না কেন টালমাটাল অবস্থায় জীবন জীবিকার সংকটময় সময়ে এই ঠিকাদারের ভূমিকা গ্রামের মানুষের কাছে ত্রাতার থেকে কোনো অংশে কম নয়। তাই টাকা ধারের ক্ষেত্রে মহাজনদের মাত্রাতিরিক্ত সুদ এড়াতে তারা ঠিকাদারদের কাছে অগ্রিম টাকা ধার নেয়। শর্ত একটাই চাষের কাজ শেষ হলে ভিন রাজ্যে পরিব্রাজন ও দিন মজুর হিসাবে কাজে নিযুক্তি। প্রথমবার শ্রমিকদের সঙ্গে গন্তব্যে গিয়ে তারা শ্রমিকদের শহরের ঠিকাদারদের হাতে সঁপে দিয়ে গ্রামে ফিরে আসে।পরিযায়ীদের অনেকেরই ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় এরা রোজগারের টাকা এই সমস্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে কিছু টাকা কেটে নিয়ে বাকি পাঠানো টাকা ঠিকাদাররা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সংকটের সময় দরকার হলে ঠিকাদাররা পরিযায়ীদের বাড়িতে টাকা সাহায্য করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরতার পরিবেশ তৈরি করে তাদের লাভের তাগিদে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের ঠিকাদাররা হয় সেই গ্রামের অথবা নিকটবর্তী গ্রামের বাসিন্দা। কখনও কখনও অভিজ্ঞ পরিযায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ঠিকাদারে পরিণত হয় শহরে তাদের নিজস্ব চেনাজানার নেটওয়ার্ক তৈরি হলে। সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন প্রাপ্য টাকা এবং শেষ পর্যন্ত যা পরিযায়ীদের হাতে আসে তার মধ্যে বিস্তর ফারাক হয়। এছাড়া নুন্যতম সুরক্ষা সরঞ্জাম, অসুস্থকর পরিবেশে থাকা, কোম্পানির বৈধ কাগজপত্রের অভাব যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সহজে চাপা দেওয়া যায় এসব তো আছেই। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো Inter State Migrant Workmen Act 1979, অনুসারে শ্রমিক শোষণ প্রতিরোধে সঠিক নথিভুক্তি করন, ঠিকাদারদের লাইসেন্স, পরিবহণ ভাতা সহ একাধিক নিয়ম নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে এসব খুঁজে পাওয়া মুস্কিল। একবার পরিযায়ীরা বাইরে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে পরবর্তী কালে তারা সেই ঠিকাদারদের অধীন কাজে যেতে অরাজি হন। কিন্তু পারিবারিক দায়বদ্ধতার কথা ভেবে যাওয়া বন্ধ করতেও পারেন না, শুরু হয় বিকল্প ঠিকাদারের সন্ধান। আবার কিছু অগ্রীম টাকা, একটু সুযোগের প্রলোভন এবং একসঙ্গে কমদিনে বেশ কিছু টাকা উপার্জনের সুযোগ বেকার পরিযায়ীরা ঠেলে দিতে পারেন না। এভাবেই দিনের পর দিন চলতে থাকে পরিব্রাজনের ফাঁদ, যার থেকে দুর্ভাগ্যবশত নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারাটা মুশকিল। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো আমাদের দেশে পরিযায়ীদের সংখ্যা, তাদের অবস্থান, প্রকৃতি, কাজে যাবার প্রবণতা ইত্যাদির সঠিক সরকারি হিসাব না থাকলেও এই সমস্ত ঠিকাদার ও তাদের মালিক দের কাছে যে যথেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে বললে খুব একটা অতিরঞ্জিত হবে না। অনেকটা পুরীর পাণ্ডাদের মত। শারীরিক নিপীড়ন, অধিক সময় ধরে কাজ করানো, দৈহিক অত্যাচার, রোগগ্রস্ত হওয়া এবং তার ফল স্বরূপ অর্জিত মজুরীর অনেকাংশ ব্যয় এসবের ফলে পরিব্রাজনের মূল্য ও লাভের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকে সামান্যই অবশিষ্ট।কোভিড অতিমারির প্রভাবে দেশ জুড়ে পরিযায়ীদের অস্থি মজ্জায় জর্জরিত নির্মম অবস্থার কথা আজ সবার জানা। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় দশ শতাংশ প্রত্যক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এই পরিযায়ীদের দ্বারা। ILO-এর সমীক্ষা বলছে সম্ভবত ভারতের প্রাই চল্লিশ কোটি মানুষ গ্রামে ফিরে এসে দারিদ্রতার শিকার হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হল এই অবস্থার দায় কার? রাষ্ট্রের দায়িত্ব কতটা ছিল বা কতটা হওয়া উচিত ছিল সেই নিয়ে অনেক যুক্তি তক্ক চলছহে। কিন্তু রাষ্ট্র কে বাদ দিয়ে যারা এই শোষণ যন্ত্রের আড়ালে থেকে এই ব্যাবস্থা কে ছদ্মবেশে অল্প শিক্ষিত অভাবী ঠিকাদারদের দ্বারা পরিচালনা করে এতদিন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন তারা কোথায় গেলেন? মনে রাখতে হবে যে এই বিপুল সংখ্যার পরিযায়ী মানুষ যদি পরিব্রজনের প্রচলিত ব্যাবস্থার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আগামী দিনে তা শিল্পপতিদের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না। মালিক এবং ঠিকাদার পক্ষ ভালো করেই জানে দেশে করেনা অতিমারির প্রকোপ কমলেই ওরা আবার শহরে আসতে বাধ্য হবে। আপাত ভাবে দেখলে মনে হবে মাইলের পর মাইল হেঁটে ফেরা পরিযায়ীদের অনেকেই আর এ জীবনে ফিরতে চাইবে না। কিন্তু যে দেশে মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় তিরানব্বই শতাংশ মানুষ এখনো অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সেখানে সত্যিই কি এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রামে কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। অতএব কিছু দিনের অপেক্ষার পর আবার গরীব মানুষদের বিশ্বাস অর্জনের পালা শুরু হবে ঠিকাদারদের গ্রাম ও শহর উভয় জায়গাতেই এবং পরিব্রাজনের দুষ্ট চক্রের মাধ্যমে কোনও নতুন রূপে হয়ত শ্রমিক শোষণ চলতেই থাকবে।ডঃ কুণাল চক্রবর্তীসহকারী অধ্যাপকশম্ভুনাথ কলেজ, লাভপুর,ওপ্রফেসার গোপা সামন্তভূগোল বিভাগবর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

ট্রেন্ডিং

দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

‘আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব’, প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তার গায়ে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা উচিতএই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এমনকি কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র বা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনও শিল্পগোষ্ঠীর চাপের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, গত ৭ মার্চ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য শিল্পমহলের আপত্তির কথা আদালতে জানানো হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, প্যাকেটের গায়ে সরাসরি সতর্কবার্তা না দিয়ে প্রতিদিন কতটা অতিরিক্ত চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, সেই পরিমাণ উল্লেখ করা যেতে পারে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার বিষয়টি আদালতে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বহু প্রচলিত খাবারেই ঐতিহ্যগত ভাবে চিনি ও নুনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।কেন্দ্রের এই যুক্তি শুনে আরও কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার বিষয়টি কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যখন বিষয়টি জড়িত, তখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত শীর্ষ আদালতের।আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ফলে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে আগামী দিনে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

পাইলটের শরীরে নিষিদ্ধ মাদক? ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়া বিমানের ঘটনায় তদন্তে বড় তথ্য

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড়। বিমানের পাইলটদের পরীক্ষার ফল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি সূত্র এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের প্রধান পাইলটের নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার ফল এবং বিমানের উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেননি।৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই বিমানের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট কমে যায়। ঘটনায় যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের কয়েক জন আহত হন। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।ঘটনার পর দুই পাইলটেরই বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রধান পাইলটের প্রথম পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল না। সেই কারণে নমুনা নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরের পরীক্ষাতেও গাঁজার উপস্থিতি পাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। দুই পাইলটকেই তদন্ত চলাকালীন উড়ান থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এর পাশাপাশি বিমানের যান্ত্রিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উড়ানের সময় একাধিক সতর্কবার্তা দেখা গিয়েছিল বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হাইড্রলিক ব্যবস্থা, উড়ান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় উড়ান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে শুধু পাইলটের ভূমিকা নয়, বিমানের প্রযুক্তিগত বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।প্রধান পাইলট তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই ওষুধের কারণেই পরীক্ষায় এমন ফল আসতে পারে। এই দাবি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিমানে তাঁর আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবিনকর্মীরা তাঁর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিমান সংস্থাকে পরিচালনাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে যে বা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।তবে বিমানের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি। পাইলটের পরীক্ষার ফল, বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, উড়ানের তথ্য এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিলসব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য! লালকেল্লা ঘিরে কেন বাড়ল নিরাপত্তা?

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে সতর্ক হয়েছে দিল্লি। ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে ওই রিপোর্টে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তৎপরতাও বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে গোপন ঘাঁটি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে আল কায়দার একটি শাখা। ভারতীয় উপমহাদেশে এই সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে। সংগঠনটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট হিসেবে।রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় কোনও সংগঠিত ইউনিট হিসেবে কাজ না করে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন দলের মাধ্যমে নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এই গোষ্ঠী। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ তৈরি, অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশে সংগঠনটির সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে কি না, তা নিয়েও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে সংগঠনটির সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।গত বছর নভেম্বর মাসে লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার সঙ্গে আল কায়দার যোগ থাকার তথ্যও রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে এমনিতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তার উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে আল কায়দার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার তথ্য সামনে আসায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি আরও বাড়তে পারে।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ করায় সংগঠনটির প্রকৃত পরিধি চিহ্নিত করা কঠিন। অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

আর জি করের ফাইল খুলতেই প্রথম গ্রেপ্তার! ওড়িশা থেকে পুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলার পরই বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার এবং পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকারের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জি কর কাণ্ডের পর নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।এই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি দেহ সৎকারের খরচও পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এই ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পাশাপাশি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছিল। গত সোমবার খড়দা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অভয়ার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে তাঁকে রাজ্যে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এর আগে ৯ অগস্ট আর জি কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়। পরিবারের সই ছাড়া কীভাবে দেহ সৎকার করা হয়েছিল এবং ওই প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।নির্মল ঘোষের পরিবারের বিরুদ্ধেও এর আগে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ জুলাই তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নির্মল ঘোষের নাম লটারিকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারির পর আর জি কর মামলার তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভয়ার দেহ সৎকারের ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্বপ্ন ছিল পাক আর্মিতে যোগ দেওয়ার! আইএসআইএয়ের এজেন্ট হয়ে কত বার ভারতে এসেছিল পাক জঙ্গি

বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেফতার রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, রানা মোট পাঁচ বার ভারতে এসেছিল। প্রতিবারই কলকাতায় এসে তিলজলায় ইজাজের বাড়িতে থাকত বলে জানা গিয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার কলকাতায় আসার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আসার পর ভুয়ো পরিচয়ে একাধিক সরকারি নথি তৈরি করেছিল রানা। ইজাজের বাবা যুবের আলমকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই প্যান কার্ড এবং আধার কার্ডও তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেরায় রানা জানিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই পাকিস্তান সেনায় চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপর পাকিস্তান সেনা এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই যোগাযোগের সূত্রেই সে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যুক্ত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল রানা। পাশাপাশি কাঠমান্ডুতেও তার ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই একটি মসজিদে ইজাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে গড়ায়। অভিযোগ, ইজাজের সাহায্যেই কাঠমান্ডু থেকে ভারতে ঢুকত রানা।প্রথম বার কলকাতায় আসার সময় রানার কাছে কোনও ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল না বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করত সে। পাঁচ বার ভারতে আসার সময়ই একই পথ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবার কাঠমান্ডু থেকে ইজাজই তাকে ভারতে নিয়ে আসত বলে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় রানাকে ডেকেছিলেন বুথ স্তরের আধিকারিক। কিন্তু সে হাজির না হওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ইজাজ রানার পাকিস্তানি পরিচয় সম্পর্কে জানত কি না, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, পরিচয় জানার পরেও ইজাজ তাকে নিজের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।রানার গতিবিধি নিয়েও তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। ফোর্ট উইলিয়াম ছাড়াও ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সে ঘোরাফেরা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই সব জায়গার ছবি ও ভিডিয়ো তুলে সেগুলি বিদেশে থাকা সন্দেহভাজন যোগাযোগের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ভুয়ো পরিচয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করার পর একাধিক সিম কার্ড সংগ্রহ করেছিল রানা বলেও অভিযোগ। ওই সিম ব্যবহার করেই সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার যোগাযোগের জাল কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছিল, তা জানতে ফোন ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের আগে বাংলাদেশের পথে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার ছক ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয় সে। এখন রানা ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে আর কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আগস্ট ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal