• ১৪ মাঘ ১৪৩২, সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Il

বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বলিউডের নিরাপত্তা ঘিরে নতুন প্রশ্ন: গভীর রাতে রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল জুহু

শনিবার গভীর রাত। ঘুমের চাদরে ঢাকা মুম্বইয়ের জুহু এলাকা। আচমকাই নিস্তব্ধতা ভেঙে চার রাউন্ড গুলির শব্দ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। লক্ষ্য বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনের এলাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যরাত পেরোনোর কিছু পরেই রোহিত শেট্টীর বাড়ির বাইরে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। কোনও হতাহতের খবর না মিললেও, ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুম্বই পুলিশ ও ফরেনসিক দল। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তদন্ত।এক প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইলে ধরা পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের তৎপরতা টহল গাড়ি, তদন্তকারী অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যস্ততা। যদিও এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।মুম্বই পুলিশ কমিশনার জানান, রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, ভীতি প্রদর্শন না কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের সামনে এসেছে বলিউডের নিরাপত্তা প্রশ্ন। কারণ, অতীত খুব দূরের নয়। ২০২৪ সালে বান্দ্রায় সলমন খানের বাড়ির সামনেও একই ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার সমাজমাধ্যমে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্ণোইয়ের গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছিল।রোহিত শেট্টীর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, আগের ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পরিচালকের নিরাপত্তাও।একাধিক ধারাবাহিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তারকাদের ঘিরে কি নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে অপরাধচক্র? নাকি এটা নিছক ভীতি প্রদর্শনের কৌশল? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর আতঙ্কের ছায়ায় আপাতত নিদ্রাহীন বলিউড।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা শুনানিতে হইচই, কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত কাউন্সিলরের

এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে শুনানি কেন্দ্রে হুলস্থুল কাণ্ড। অভিযোগের কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য অসীম বসু। শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তিনি সেখানে পৌঁছন। তারপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।গত কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা নথি নিচ্ছেন, কিন্তু তার বদলে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কাউন্সিলর অসীম বসু শুনানি কেন্দ্রে যান বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছেই তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী, রসিদ না দিলে কোনও নথি জমা না দিতে শুনানিতে আসা মানুষজনকে নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, কাউন্সিলর এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন এভাবে শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারেন না। বিষয়টি শান্তভাবে আলোচনা করা যেত। তাঁদের আরও বক্তব্য, এই ঘটনার ফলে শুনানির কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেরি হচ্ছে।ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু বলেন, মানুষ কীভাবে প্রমাণ করবেন তাঁরা কোন কোন নথি জমা দিয়েছেন, যদি কোনও রসিদ না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে নথি নেওয়ার পর রসিদ দিতে হবে। তা সত্ত্বেও কেন এই অনিয়ম চলছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রসিদ না দিলে প্রয়োজনে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন কাউন্সিলর।এই ঘটনাকে ঘিরে ভবানীপুর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
দেশ

সাইরেন বাজতেই নিভে গেল আলো, উত্তরপ্রদেশে হঠাৎ ব্ল্যাকআউট ঘিরে আতঙ্ক

সময় তখন সন্ধ্যা ৬টা। হঠাৎ সাইরেনের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা উত্তরপ্রদেশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারে ডুবে যায় রাজ্যের সবকটি জেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যোগীরাজ্যে। প্রথমে বড়সড় কোনও হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে জানা যায়, জঙ্গি হামলা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিতে গোটা রাজ্য জুড়ে একটি মক ড্রিল চালানো হচ্ছিল।প্রশাসন সূত্রে খবর, সাইরেন বাজতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন। বরেলি, মিরাট, লখনউ, কানপুর-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। এই মক ড্রিলে অংশ নেয় সিভিল ডিফেন্স, এডিআরএফ, এনডিআরএফ, দমকল এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরাও। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সে কারণে আগেই এই মহড়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, গোটা রাজ্যে ব্ল্যাকআউট করা হলেও জরুরি পরিষেবা যেমন হাসপাতাল, রেল স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিকে এর বাইরে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানেই এই মহড়া চালানো হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমস্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। সরকারের দাবি, এই মক ড্রিল সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বিমান ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ব্ল্যাকআউট ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে শত্রুপক্ষ সহজে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে না পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরের ভিতরেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২২ জানুয়ারির শোক আরও গভীর! প্রয়াত ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা ইলিয়াস পাশা

চার বছর আগে এই দিনেই, ২২ জানুয়ারি, প্রয়াত হয়েছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ সুভাষ ভৌমিক। সেই শোকের দিনেই ফের এক দুঃসংবাদ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার ইলিয়াস পাশা। লাল-হলুদ শিবিরের এক সময়কার নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের এই ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ময়দানে।ভারতীয় ফুটবলকে একাধিক তারকা উপহার দিয়েছে বেঙ্গালুরু। আমেদ খান, অরুময় নৈগম, বাবু মানি, নারায়ণস্বামী উলগানাথন, কার্লটন চ্যাপম্যানদের সেই তালিকায় ছিলেন ইলিয়াস পাশাও। ১৯৮৯ সালে আইটিআই থেকে কলকাতায় এসে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন তিনি। তার এক বছর পরেই ইস্টবেঙ্গলে নাম লেখান। গায়ে ওঠে ১৭ নম্বর জার্সি। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।ডান প্রান্তের রাইট ব্যাক হিসেবে পাশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ওভারল্যাপিং দৌড়ে বিপক্ষ রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করতেন তিনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত টানা নটি মরশুম ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছেন। এই সময়ে দুটি গোলও করেছিলেন। তার মধ্যে একটি মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালের কলকাতা লিগে ডার্বিতে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন পাশা। সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।১৯৯৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান ইলিয়াস পাশা। তাঁর নেতৃত্বেই ইরাকের শক্তিশালী ক্লাব আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয় পায় ইস্টবেঙ্গল। একই বছরে কাঠমান্ডুতে ওয়াই ওয়াই কাপও জেতে লাল-হলুদ। ইলিয়াস পাশা ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন ছবার কলকাতা লিগ, পাঁচবার ডুরান্ড কাপ, দুবার রোভার্স কাপ, চারবার এয়ারলাইন্স গোল্ড কাপ এবং একবার করে বরদলুই ট্রফি ও ফেডারেশন কাপ জেতেন। বাংলার জার্সিতে সন্তোষ ট্রফিও জয় করেছিলেন তিনি।ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও জাতীয় দলে সেই সাফল্য পাননি পাশা। শুধুমাত্র ফুটবল খেলার জন্য চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়লেও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ লাল-হলুদ শিবির।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
কলকাতা

খোলা লিফটের গর্তে পড়ে মৃত্যু! তিন বছরের শিশুর মর্মান্তিক পরিণতি কলকাতায়

নির্মীয়মান বহুতলের একটি খোলা লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার হল তিন বছরের শিশুর নিথর দেহ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এন্টালি থানার অন্তর্গত ৪/৫১ কনভেন্ট লেন এলাকায়। বুধবার রাতে ওই এলাকার একটি নির্মীয়মান বহুতলের লিফটের গর্ত থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ।পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। লিফটের গর্ত সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল, তার চারপাশে কোনও ঘেরাটোপ বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এমন একটি বিপজ্জনক জায়গা অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল।সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁরা এই মৃত্যুর বিচার চাইছেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর প্রোমোটারের কাছে বিচার চাইতে গেলে উল্টে শিশুটির বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, থানায় বেশি কিছু বললে বিপদ হতে পারে। এমনকী শিশুর মাকেই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ।এলাকাবাসীদের বক্তব্য, লিফটের গর্ত ঘিরে রাখা থাকলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। তাঁদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার আশায় নির্মীয়মান বহুতলে কোনও নিরাপত্তারক্ষী রাখা হয়নি। নিয়ম মানা হয়নি নির্মাণের ক্ষেত্রেও। তিন বছরের শিশুর মৃত্যুর পর বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে শহরের প্রোমোটার রাজ।এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ নেয়নি পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। যদিও এলাকার মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শিশুর মৃত্যুর দায় কার, তা নিয়ে জোরদার তদন্তের দাবি উঠেছে।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ঘরের মাঠে লজ্জার হার! ভারতের ‘ভিলেন’ কে, ইঙ্গিত দিলেন সানি

শুভমান গিলের নেতৃত্বে এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি ভারত। এবার ঘরের মাঠেই প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ হারতে হল টিম ইন্ডিয়াকে। বিরাট কোহলি একা লড়াই করলেও দলকে জেতাতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোথায় ভুল হল? এই সিরিজ হারের জন্য দায়ী কে? নাম না করেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর।গাভাসকর বলেন, তিনি কারও নাম নিতে চান না। তবে তাঁর মতে, ভারতের ফিল্ডিংয়ে বড় ঘাটতি ছিল। কয়েকজন ক্রিকেটার বিপক্ষকে খুব সহজে সিঙ্গল নিতে দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, রোহিত শর্মা খুব দ্রুত ফিল্ডিং করেন, বিরাট কোহলি যে কত বড় অ্যাথলিট তা সবাই জানে। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে ফিল্ডিং আরও ভালো হতে পারত। সেই কারণেই ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপসদের চাপে রাখা যায়নি। তাঁরা অনায়াসেই বড় রান করে যান।এখানেই থামেননি গাভাসকর। তিনি বলেন, যতক্ষণ না বিরাট কোহলি কাউকে পাশে পাচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর পক্ষে ম্যাচ জেতানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই ম্যাচেও কোহলি খুব কম সাহায্য পেয়েছেন। গোটা সিরিজে ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ম্যাচের শুরু। ভালো শুরু না হলে বড় রান তাড়া করা কঠিন হয়ে যায়। এই সিরিজে বারবার খারাপ শুরু করেছে ভারত, যার ফলেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে।সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়ে গাভাসকর তরুণদের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের কোহলির কাছ থেকে শেখা উচিত। কোহলি শুধু একটাই কাজ জানেন, রান করা। তাঁর লড়াকু মানসিকতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। তিনি কখনও হার মানেন না। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।কোহলির ১০৮ বলে ১২৪ রানের ইনিংসকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন গাভাসকর। তিনি বলেন, এই ইনিংস থেকে তরুণরা শিখতে পারে কীভাবে চাপ সামলাতে হয় এবং কীভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা যায়। ৩৭ বছর বয়সেও যেভাবে দ্রুত স্ট্রাইক রোটেট করেছেন কোহলি, তার তুলনা পাওয়া কঠিন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তিনি কাউকে পাশে পাননি। আর তার ফলেই ম্যাচ এবং সিরিজ দুটোই হারতে হল ভারতকে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
বিদেশ

পেট্রোলের দাম চাইতেই মৃত্যু! বাংলাদেশে গাড়ি চাপা দিয়ে খুন হিন্দু যুবক

বাংলাদেশে ফের এক হিন্দু যুবকের নৃশংস মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। রাজবাড়ি জেলায় পেট্রোল পাম্পে কাজ করা এক যুবককে গাড়ি চাপা দিয়ে পিষে মারার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম রিপন সাহা, বয়স প্রায় ৩০ বছর। অভিযোগ, পেট্রোলের দাম চাইতেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাজবাড়ি জেলার গোয়ালান্দা মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে ডিউটি করছিলেন রিপন। সেই সময় একটি কালো রঙের এসইউভি গাড়ি পেট্রোল পাম্পে আসে। গাড়িতে প্রায় ৫ হাজার টাকার তেল ভরানো হয়। কিন্তু তেল নেওয়ার পর টাকা না দিয়েই গাড়িটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। রিপন সেই সময় গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে টাকা চাইতে যান। অভিযোগ, টাকা দেওয়ার বদলে গাড়িটি তাঁর উপর দিয়েই চালিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি একটি ল্যান্ড ক্রুজার। সেটির মালিক রাজবাড়ি জেলার প্রাক্তন বিএনপি নেতা আবুল হাসান ওরফে সুজন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত আবুল হাসান অতীতে বিএনপির জেলা কমিটির ট্রেজারার ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। পেশায় তিনি একজন ঠিকাদার।ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গাড়িটি পেট্রোল ভরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রিপন ও তাঁর এক সহকর্মী সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। রিপন গাড়ির পিছনে দৌড়ান। কিছু দূর গিয়ে পেট্রোল পাম্পের আর এক কর্মী দেখতে পান, হাইওয়ের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে রিপনের দেহ। মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত ছিল তাঁর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।এই ঘটনার পর আবারও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের শেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একের পর এক হিন্দু নিগ্রহ ও হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত একাধিক হিন্দু হত্যার খবর সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
রাজ্য

শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস, বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি ও ১২ জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপে নতুন তীর্থক্ষেত্র

শিলিগুড়ি জেলার মাটিগাড়ায় এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের সূচনা হল বুধবার। মহাকাল মহাতীর্থ-সহ একাধিক জনহিতকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭.৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠতে চলা মহাকাল মহাতীর্থকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির নির্মাণ করা হবে। মন্দির চত্বরে থাকবে ভারতবর্ষের ১২টি জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপ এবং ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। দুটি প্রবেশপথ, চার কোণে চার দেবতার মূর্তি, সাংস্কৃতিক হল ও কনভেনশন সেন্টার এই মহাতীর্থকে এক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। মহাকাল মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট, যার মধ্যে ১০৮ ফুট উচ্চ ব্রোঞ্জের মূল মূর্তি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই মন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু মন্দির নয়, মহাদর্শনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তিও এখানে তৈরি করা হচ্ছে। বাংলার এই পুণ্যতীর্থ যুগ-যুগান্ত ধরে বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে।ভাষণে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভূমি। কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক, দিঘায় জগন্নাথ ধাম ও দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের পাশাপাশি রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন ও সংস্কারে নিরন্তর কাজ করেছে। তারকেশ্বর, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, জল্পেশ মন্দির, ফুল্লরা মন্দির, মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে পাথরচাপুরি মাজার, মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরএকাধিক তীর্থক্ষেত্রের সংস্কার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন, জাহের থান ও মাঝি থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, কবরস্থান সংস্কার এবং ইসকনকে ৭০০ একর জমি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ রাজ্যের সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভাবনাকেই তুলে ধরে। ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি রক্ষায় দার্জিলিং ও কলকাতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও স্মরণ করান তিনি।মতুয়া সমাজ, রাজবংশী, তপশিলি ও আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মুখে প্রচার করা যায় না, ধর্ম হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ভাষণের শেষে তিনি মহাদেবের আশীর্বাদে বিশ্বচরাচরে শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণ কামনা করেন।মাটিগাড়ার মহাকাল মহাতীর্থ প্রকল্প শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

WBFJA-র মঞ্চে সেরার শিরোপা ‘মায়ানগর’-এর, শ্রীলেখা'র শক্তিশালী অভিনয়ে উজ্জ্বল সমকালীন বাংলা ছবি

সমকালীন বাংলা সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (WBFJA)-র ২০২৫ সালের পুরস্কার মঞ্চে সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান জিতে নিল মায়ানগর (Once Upon a Time in Calcutta)। ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ছবিটি বর্ষসেরা ছবি, সেরা পরিচালক ও শ্রেষ্ট স্ক্রিনপ্লে সহ একাধিক বিভাগে সাফল্য অর্জন করে কার্যত নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।২০২১ সালে নির্মিত আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত পরিচালিত এই বাংলা ভাষার ভারতীয়-ফরাসি-নরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্রটি উইশবেরি ফিল্মস প্রযোজিত, ফর ফিল্মস, ক্যাথেরিন ডুসার্ট প্রোডাকশনস ও ডিইউওফিল্ম এএস-এর সহযোগিতায় তৈরি। এটি সেনগুপ্তের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র, যা প্রথমেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কাড়ে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৮তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়, যা বাংলা ছবির ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।মায়ানগর আসলে শুধুই একটি গল্প নয়এটি কলকাতার পরিবর্তনশীল শহুরে বাস্তবতার এক গভীর, সংবেদনশীল দলিল। ২০১৫ সাল থেকে নির্মাণাধীন এই ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের লআতেলিয়ে সিনেফন্ডেশন, সিএনসি, সরফন্ড এবং এনএফডিসি ফিল্ম বাজারের সমর্থন পেয়েছিল। পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের মতে, কলকাতার সায়েন্স সিটির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাইনোসরের মূর্তি ও পাশেই দ্রুতগতিতে তৈরি হতে থাকা ফ্লাইওভারের দৃশ্য থেকেই ছবিটির ভাবনার জন্ম। অতীতের নিদর্শন ও বর্তমানের উন্নয়নের মধ্যকার এই বৈসাদৃশ্যই মায়ানগর-এর আত্মা।এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর অভিনীত প্রধান চরিত্রটি মায়ানগর-কে শুধু গল্পের স্তরে নয়, আবেগের স্তরেও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জীবনের চাপে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর লড়াই, আত্মসম্মান রক্ষা ও টিকে থাকার সংগ্রামসবকিছু শ্রীলেখা মিত্র তুলে ধরেছেন অসামান্য সংযম ও গভীরতায়। তাঁর অভিনয়ে নেই অতিনাটকীয়তা; বরং নীরবতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও শরীরী ভাষাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি।ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা নিউইয়র্ক-এ ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাটদের সাথে নমিনেট হয়ে তিনিই একমাত্র বাঙালি অভিনেত্রী হিসেবে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার পেয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে দর্শককে মুগ্ধ করা শ্রীলেখা মিত্রের কেরিয়ারে মায়ানগর নিঃসন্দেহে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে মনে করছেন সমালোচকরা।ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অরিন্দম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, সত্রাজিৎ সরকার, অনির্বাণ চক্রবর্তী, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও নবাগত শায়ক রায়। ব্রাত্য বসু তাঁর অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (পুরুষ) বিভাগে পুরস্কৃত হন। পাশাপাশি ছবিটি সেরা চিত্রনাট্য ও সেরা সম্পাদনা বিভাগেও পুরস্কার জেতে এবং আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত সেরা পরিচালকের জন্য মনোনীত হন।সব মিলিয়ে, WBFJA-র সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে মায়ানগর প্রমাণ করলআন্তর্জাতিক ভাষায় কথা বলা সংবেদনশীল গল্প ও শক্তিশালী অভিনয় আজও বাংলা সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি। আর সেই শক্তির অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন শ্রীলেখা মিত্র, যাঁর অভিনয় মায়ানগর-কে সময়ের ঊর্ধ্বে এক শিল্পমূল্য দিয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কিউয়ি বোলারকে নিয়ে বিরাট ছেলেখেলা! নতুন বছরে পুরনো মেজাজে কোহলি......

নতুন বছরেও পুরনো মেজাজে কোহলি, সাত কিউয়ি বোলারকে নিয়ে বিরাট ছেলেখেলা! প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় ভারতের। কোহলির দাপটে বডোদরায় জয়, নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ়ে এগিয়ে ভারতবডোদরার নতুন স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন দলের এই জয়ের মূল কারিগর বিরাট কোহলি, যাঁর ব্যাট থেকে এল দায়িত্বপূর্ণ ও ম্যাচজয়ী ৯৩ রান।টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ৩০০ রান। ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস শুরুটা মজবুত করেন। প্রথম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে দাপট দেখান দুজন। নিকোলস ৬২ এবং কনওয়ে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে চার নম্বরে নামা ড্যারেল মিচেল একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৭১ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে নিউ জ়িল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। শেষ দিকে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের ঝোড়ো ব্যাটে কিউয়িরা পৌঁছয় ৩০০ রানে।ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণদুজনেই নেন ২টি করে উইকেট। হর্ষিত রানাও ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবে চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দর পুরো কোটা শেষ করতে না পারায় ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়।৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। শুভমন গিল ধীরে খেলেও দায়িত্ব নেন৭১ বলে করেন ৫৬ রান। তবে ইনিংসের আসল নিয়ন্ত্রণ নেন বিরাট কোহলি। চেনা ছন্দে, সাবলীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি।🗣️ If I look back at my whole journey, its nothing short of a dream come true. ✨🎥 Virat Kohli reflects on his incredible career after becoming the 2⃣nd highest run-getter in mens international cricket🙌👏#TeamIndia | #INDvNZ | @imVkohli | @idfcfirstbank pic.twitter.com/87BgcZlx4b BCCI (@BCCI) January 11, 2026এই ইনিংসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান পূর্ণ করেন কোহলি। পাশাপাশি কুমার সাঙ্গাকারাকে ছাপিয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর সামনে এখন শুধুই সচিন তেন্ডুলকর।কোহলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শ্রেয়স আয়ার। সহ-অধিনায়ক ৪৭ বলে ৪৯ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন। তবে কোহলি আউট হওয়ার পর হঠাৎ ছন্দ হারায় ভারত। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ায় ম্যাচ জমে ওঠে। সেই সময় চাপের মুখে দায়িত্ব নেন লোকেশ রাহুল। শেষ দিকে হর্ষিত রানার সাহসী ২৯ রানের ইনিংস এবং রাহুলের অপরাজিত ২৯ রানে ৪৯ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে বল হাতে লড়াই চালান কাইল জেমিসন। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি ভারতকে চাপে ফেললেও শেষরক্ষা করতে পারেননি কিউয়ি অধিনায়ক।সব মিলিয়ে কোহলির অভিজ্ঞতা, মাঝের ওভারের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং এবং শেষের ঠান্ডা মাথার লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই ওয়াশিংটন সুন্দরের চোট ভারতীয় শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে রইল।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৫০-র লড়াইয়ে ফিরছেন শুভমন-শ্রেয়স, পিচ নিয়ে সংশয়ে ভারতীয় থিঙ্ক-ট্যঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকা অধ্যায় শেষ। এবার ঘরের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের নতুন পরীক্ষা ভারতের। রবিবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়, যেখানে একাদশে একাধিক বদল প্রায় নিশ্চিত। চোট কাটিয়ে ফিরছেন অধিনায়ক শুভমন গিল ও সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। অন্য দিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই সিরিজ়ে বিশ্রামে রাখা হয়েছে জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ড্যকে। ফলে নতুন কম্বিনেশনেই নামতে চলেছে ভারত।ওপেনিংয়ে বদলের ইঙ্গিত নেই। যশস্বী জয়সওয়াল ও রোহিত শর্মার বাঁহাতি-ডানহাতি জুটি এক দিনের ক্রিকেটে এখনও দলের সবচেয়ে ভরসার জায়গা। তিন নম্বরে বিরাট কোহলি অবধারিত। সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর ব্যাট যে কতটা ছন্দে, তা চোখে পড়ার মতো। চার নম্বরে ব্যাট করবেন শুভমন গিল। অধিনায়ক হিসেবে চাপ থাকলেও, এক দিনের ফরম্যাটে তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। পাঁচ নম্বরে ফিরছেন শ্রেয়স আয়ার। অস্ট্রেলিয়া সফরের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন তাঁর। প্রস্তুতির অভাব নেই, তা বিজয় হজারে ট্রফিতেই বোঝা গেছে।মিডল অর্ডারে ছনম্বরে থাকবেন লোকেশ রাহুল। শেষ ম্যাচে খেলা রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও তিলক বর্মার জায়গায় এই ম্যাচে অভিজ্ঞতাকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। সাত নম্বরে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় রবীন্দ্র জাডেজানিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে যাঁর কার্যকারিতা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের।বোলিং আক্রমণে থাকবে চার বিশেষজ্ঞ। স্পিনে কুলদীপ যাদব, পেসে মহম্মদ সিরাজের জায়গা প্রায় পাকা। তাঁদের সঙ্গে দেখা যেতে পারে হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে। শেষ এক দিনের দলে থাকা অর্শদীপ সিংয়ের বদলে এই ম্যাচে সিরাজকে ফেরানো হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত।প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখছে না ভারত। কিউয়ি শিবিরে ডেভন কনওয়ে, ড্যারেল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস বা কাইল জেমিসনের মতো ম্যাচ-ঘোরানো ক্রিকেটার রয়েছেন। তার উপর ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ় হারের স্মৃতি এখনও তাজা।আর একটি বড় প্রশ্ন বডোদরার নতুন কোটাম্বি স্টেডিয়ামের পিচ। এই মাঠে প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। পিচের আচরণ এখনও অজানা। শিশিরের প্রভাবও থাকতে পারে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই অনিশ্চয়তার কথাই তুলে ধরেছেন শুভমন। সব মিলিয়ে টসের ভূমিকা বড় হয়ে উঠতে পারে। নতুন মাঠ, নতুন কম্বিনেশনরবিবারের ম্যাচে তাই চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনই নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগও ভারতের সামনে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের আগুন, নিউটাউনের বহুতলে দাউদাউ করে জ্বলল অফিস

বুধবার সন্ধ্যার পর বৃহস্পতিবার সকাল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউনের থাকদাঁড়ি এলাকার একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা।আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই তা বহুতলের একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়ে। উপরের দিকের জানলা ভেঙে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাতে হয় দমকলকে। বহুতলের ভিতর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। চারপাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ায়।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বহুতলে একাধিক বেসরকারি সংস্থার অফিস রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উপরের তলার জানলা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে দমকলে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে দুটি ইঞ্জিন পৌঁছলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরে আরও ইঞ্জিন পাঠানো হয়। বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগের দিন বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের নোনাডাঙার মাতঙ্গিনী কলোনি বসতিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছটা নাগাদ সেখানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক ঝুপড়ি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। প্রথমে দমকলের দুটি ইঞ্জিন পৌঁছলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে আরও পাঁচটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।নোনাডাঙার ওই অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক ঝুপড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। শীতের রাতে ঘরছাড়া হন বহু মানুষ। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে শহর জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বেঙ্গল টাইগার কামব্যাক! মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন দিলীপ ঘোষ

রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় মঙ্গলবার একই মঞ্চে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। পাশাপাশি বসে সভা করেন দুজনেই। শমীকের আগে বক্তব্য রাখতে উঠে দিলীপ ঘোষ জানান, তাঁরা পরিবর্তন চান। তাঁর কথায়, গত নির্বাচনে এই জায়গায় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, কিন্তু তা অর্ধেকেই থেমে গিয়েছিল। এবার সেই পরিবর্তন সম্পূর্ণ করতে হবে।বক্তব্যের মাঝেই দিলীপ ঘোষ বলেন, পরিবর্তন এমনিতেই হবে, কারণ পরিবর্তন যুগের নিয়ম। তবে তাঁরা একটু তাড়াতাড়ি সেই পরিবর্তন চান। এরপরই তিনি বলেন, অনেকেই বলতে পারেন তিনি বাইরে থাকতে আর ভালো লাগছে না বলেই মন্ত্রী হতে চাইছেন। দিলীপ ঘোষ নিজেই বলেন, তিনি নিশ্চয় মন্ত্রী হবেন। কারণ মন্ত্রী না হলে সাধারণ মানুষের কীভাবে উপকার করা যাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।দিলীপের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গরিবদের জন্য করা প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ কীভাবে পাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে গরিবদের জন্য দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধাই লুট হয়ে যাচ্ছে। তাই মন্ত্রী হয়ে সেই পরিস্থিতি বদলাতে চান বলেও জানান তিনি।দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যের কটাক্ষ করেন। কুণাল বলেন, সব পেশাতেই উন্নতির লক্ষ্য থাকে। দিলীপ ঘোষ আরএসএসের পুরনো মানুষ এবং তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের মতাদর্শগত লড়াই রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এই হতে চাই, ওই হতে চাইএই ধরনের মন্তব্য তাঁর মুখে মানায় না বলেই কটাক্ষ করেন কুণাল।কুণাল ঘোষ আরও বলেন, তপন শিকদারের পর দিলীপ ঘোষই রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে সফল সভাপতি ছিলেন। কিন্তু এখনই মন্ত্রী হতে চাই বলে বিজেপির গোটা দল যেভাবে তাড়াহুড়ো করছে, দিলীপ ঘোষও হয়তো সেই স্রোতেই ভেসে যাচ্ছেন।বেঙ্গল টাইগার ইজ ব্যাক লেখা পোস্টার ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। আর রাজনীতির ময়দানে নতুন করে সক্রিয় হয়ে এবার প্রকাশ্যেই মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা জানালেন দিলীপ ঘোষ। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
দেশ

দিল্লি দাঙ্গা মামলায় কড়া বার্তা, উমর খালিদকে জামিন নয়

মুক্তি পেলেন না উমর খালিদ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করেছে শীর্ষ আদালত। এই যুক্তিতেই দুই ছাত্রনেতার জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র আওতায় মামলা চলছে। এই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।যদিও একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য পাঁচজনকে এদিন জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গুলফিশা ফতিমা, মিরান হায়দর, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদকে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উমর খালিদ-সহ মোট সাতজন দিল্লি হাই কোর্টের জামিন সংক্রান্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রায় ঘোষণার আগে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন বিচারপতিরা। আদালতের মতে, প্রসিকিউশনের পেশ করা নথি ও তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে উমর খালিদ ও সার্জিল ইমাম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের জামিন দেওয়া যাচ্ছে না।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সব প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেকর্ড হয়ে গেলে অথবা এক বছর পর উমর খালিদ ও সার্জিল ইমাম ফের জামিনের আবেদন করতে পারবেন।দিল্লি পুলিশ তাদের চার্জশিটে দাবি করেছে, এই ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। পরিকল্পিতভাবে গোটা রাজ্যে অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়। দিল্লি পুলিশের আরও দাবি, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় এই পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্য ছিল, যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের দিকে নজর যায় এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিতর্ক আরও উসকে ওঠে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
রাজ্য

অমিত শাহের বৈঠকের পরেই কি চুপ দিলীপ? জল্পনা তুঙ্গে

খড়গপুরে চা-চক্রে বসে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ আর সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্যামেরায় কথা বলবেন না। প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন দিলীপ, তা নিয়েই ঘোরাফেরা করছে প্রশ্ন ।বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তার পরদিনই রাম মন্দির প্রসঙ্গে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। বৃহস্পতিবার দিলীপ বলেন, মন্দির-মসজিদ ইস্যু ভোটের ফলাফলে তেমন প্রভাব ফেলে না। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির এবং বাংলার মন্দির প্রসঙ্গ টানেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফৈজাবাদ আসনে বিজেপির হার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় মন্দির তৈরি করলেই যে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত, এমন ভাবা ভুল।এই মন্তব্যের পরেই অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, দিলীপের বক্তব্যে শীর্ষ নেতৃত্ব খুশি হয়নি। শুক্রবারই তাঁকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সূত্রের খবর, অমিত শাহের তরফে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও বার্তা যায় নেতাদের যেন অহেতুক মন্তব্য না করতে বলা হয়। এমনকী শাহ নিজেই বুঝিয়ে দেন, সমস্ত তথ্য তাঁর হাতেই রয়েছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, বুধবারের সেই বৈঠকে অমিত শাহ দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিলীপের মন্তব্য ভাল ভাবে নেননি শাহ, এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের। সেই কারণেই কি এবার পাকাপাকি ভাবে মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন দিলীপ, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে ঢোকার সময় দিলীপ বলেছিলেন, যা বলার সকালে বলেছেন। যদিও তার পরেও শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খড়গপুরে চা-চক্রে সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন, আর ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না। পরিস্থিতি বুঝেই কি আরও বিতর্ক এড়াতে এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে চাপানউতোর চলছেই।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

অমিত শাহের বার্তা পেয়েই অ্যাকশনে দিলীপ ঘোষ, জানুয়ারিতেই জনসভায় ফিরছেন তিনি

এদিন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দলের নির্দেশ মতোই তিনি কাজ করবেন। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, সম্প্রতি দলে একাধিক নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে আগে তিনি অবগত ছিলেন না। সেই বিষয়গুলোই তিনি বিস্তারিতভাবে জেনে নিয়েছেন।শুধু দলীয় দফতরে বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না দিলীপ ঘোষ। খুব শীঘ্রই তাঁকে জনসভাতেও দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষ জানান, জানুয়ারি মাসেই দুর্গাপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভাতেই তিনি উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, সত্যিই কি তিনি আবার মাঠে নেমে সক্রিয় রাজনীতি করবেন, উত্তরে দিলীপ বলেন, দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই তিনি কাজ করবেন। এমনকি ভোটে লড়তে বলা হলে তাতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।দলের অন্দরে আদি ও নব্য নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি এড়িয়ে যান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, নতুন নেতারা দলে এলে তাঁদের অনেক বিষয় নতুন করে বুঝিয়ে দিতে হয়। ভোটের আগে এমনটা প্রায়ই দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নব্য নেতারা তাঁকে বুঝতে পারছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, দল বুঝলেই যথেষ্ট। আর কে তাঁকে বুঝল বা বুঝল না, তা নিয়ে তিনি ভাবেন না। কাউকে বোঝানো তাঁর দায়িত্ব নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।বিজেপির ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর ধরে আন্দোলন ও লড়াই চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। বিজেপিও এবার ভিন্ন কৌশলে লড়াইয়ে নামবে বলে জানান তিনি।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কোনও সভা বা কর্মসূচিতে দিলীপ ঘোষকে দেখা যায়নি। দলীয় বহু অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল না। সেই দিলীপ ঘোষই এবার সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হলেন এবং জানালেন, খুব শীঘ্রই তাঁকে জনসভাতেও দেখা যাবে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গীতা হাতে আদালতে হাজির মেসি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা! ফের জেল হেফাজতের নির্দেশ

হাতে গীতা নিয়ে আদালতে ঢুকলেন শতদ্রু দত্ত। রবিবার তাঁর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে ঢোকার সময় দেখা যায়, ডান হাতে গীতা ধরে রয়েছেন তিনি। মুখ গম্ভীর, ধীর পায়ে আদালতের দিকে এগোতে দেখা যায় মেসির কলকাতা সফরের অন্যতম উদ্যোক্তাকে। তবে রবিবারও জামিন পেলেন না শতদ্রু।গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেই দিনই বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি রিষড়ায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তল্লাশির পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেন সিটের আধিকারিকরা। তদন্তের ভিত্তিতে শতদ্রুর প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ করা হয়, সরকারি অনুমতি পাওয়ার আগেই খাদ্য ও পানীয় সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। সরকারি পক্ষের দাবি, শতদ্রু যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি, তাই তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত নয়।দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও শতদ্রুর আইনজীবীর দাবি, আইনি লড়াইয়ে তাঁর মক্কেল এগিয়ে রয়েছেন। অন্যান্য শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কোনও সংস্থার তরফেই নিয়ম ভাঙা হয়নি। উল্লেখ্য, পুলিশি জেরায় শতদ্রু ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এবার তাঁকে পাঠানো হল জেল হেফাজতে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

নদীতে পড়ল মালগাড়ির কামরা, একের পর এক ট্রেন বাতিল ও ডাইভার্ট

আসানসোল ডিভিশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। সিমেন্ট বোঝাই একটি মালগাড়ি লাইনচ্যুত হয়ে যায় বিকট শব্দে। মোট ১৯টি বগি দুর্ঘটনায় পড়ে। বেশ কয়েকটি কামরা পাশের বরুয়া নদীতে গিয়ে পড়ে এবং বাকি কামরাগুলি পাশের লাইনে উল্টে যায়। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বিহারের শিমুলতলা স্টেশনের কাছে তেলিয়াবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মালগাড়িটি জাসিডিহ থেকে ঝাঝার দিকে যাচ্ছিল। তেলিয়াবাজার হল্ট স্টেশনের কাছে ৬৭৬ নম্বর সেতুর উপর হঠাৎই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় মালগাড়িটির ঠিক পিছনেই ছিল পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস। দুর্ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে ওই যাত্রীবাহী ট্রেনটিকে মাঝপথে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।এই দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে রেল চলাচল। একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল ট্রেনের মধ্যে রয়েছে হাওড়া-দেরাদুন কুম্ভ এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-বালিয়া এক্সপ্রেস, মোকামা-হাওড়া এক্সপ্রেস-সহ একাধিক মেমু ও লোকাল ট্রেন। পাশাপাশি বহু দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেনকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।রুট পরিবর্তন করা ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে টাটানগর-বক্সার এক্সপ্রেস, হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, হাওড়া-পাটনা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, কলকাতা-গোরখপুর পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস, যশীদিহ-পুনে সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস, আসানসোল-মুম্বই সিএসএমটি এক্সপ্রেস, রক্সৌল-হায়দরাবাদ এক্সপ্রেস, পাটনা-ধনবাদ ইন্টারসিটি, বলিয়া-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, পাটনা-হাটিয়া পাটলিপুত্র এক্সপ্রেস, কাঠগোদাম-হাওড়া বাঘ এক্সপ্রেস, বক্সার-বিলাসপুর সুপারফাস্ট, রক্সৌল-হাওড়া এক্সপ্রেস এবং গোরখপুর-আসানসোল এক্সপ্রেস।বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রেও রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। বারাণসী-দেওঘর এবং দেওঘর-বারাণসী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস নির্ধারিত রুটের বদলে গয়া ও কোডারমা হয়ে চলাচল করছে।রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের অসুবিধার জন্য তারা দুঃখিত। তবে যাত্রী নিরাপত্তা এবং দ্রুত স্বাভাবিক রেল পরিষেবা চালু করার জন্য এই সাময়িক পরিবর্তন জরুরি। যাত্রীদের যাত্রার আগে এনটিইএস বা আইআরসিটিসি অ্যাপ এবং নিকটবর্তী স্টেশন থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 66
  • 67
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

শেষ কি আমেরিকার দাপট? আইএমএফ রিপোর্টে চমক, মুখ খুললেন এলন মাস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য কি শেষের পথে? সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর সেই রিপোর্ট দেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ধনকুবের এলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে।আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মোট আর্থিক বৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেই তুলনায় আমেরিকার অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ডলারের দেশ।এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চিন এবং ভারত। একসঙ্গে এই দুই দেশের আর্থিক যোগদান দাঁড়াচ্ছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এখন এশিয়ায়।আইএমএফের রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, জার্মানির মতো দেশগুলিও। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার দেশগুলির প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট।এই রিপোর্ট সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, অবশেষে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে চিন ও ভারত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলন মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার কড়া শুল্কনীতি এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। অথচ আইএমএফের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে এই দুই দেশই।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের মিছিলে ভাতারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান, মুচকি হাসি বিরোধীদের

বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারের লড়াই চরমে উঠেছে। ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে চোর চোর স্লোগান উঠলো। তবে এই চোর চোর স্লোগান বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। ভাতারের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চোর চোর স্লোগান উঠেছে মুহূর্মুহু। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভাতারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। ভাতারের এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, মানু চোর, শান্তনু চোর। কেন তাঁদের চোর বলা হচ্ছে? মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রামপঞ্চায়েত, সর্বত্র লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। লুঠপাট চলছে। পকেট ভরছে নেতারা। তাদের দাবি, মানগোবিন্দ অধিকারীকে আর যেন বিধায়কপদের টিকিট না দেওয়া হয়। প্রার্থী করতে হবে বনমালী হাজরাকে।সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক পদের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কে হবেন বিধানসভার প্রার্থী, এখন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। বর্ধমান জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দলের তরফে দুই পক্ষের মিছিল হয়। বর্ধমানে কখনও বিধায়ক খোকন দাসের নেতৃত্বের মিছিল হয়, আবার কখনও কাউন্সিলর রাসবিহারী হালদারের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল হয়। ভাতারেও সেই অবস্থা চলছে। সেখানে একাংশ চাইছে মানু অধিকারী নয়, বনমালী হাজরাকে তৃণমূল প্রার্থী করুক। তবে তৃণমূলের মিছিলেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগানে মুচকি হাসছে বিরোধী শিবির।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal