• ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Gun

বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

গুন্ডাদমন বিলে রাষ্ট্রপতির ‘না’! কেন ফেরত গেল শুভেন্দু সরকারের বিল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডাদমন বিল নিয়ে বড় আইনি জট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে অনুমোদন না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে বিলের একটি অংশের সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬ নামে এই বিলটি গত ২৯ জুন বিধানসভায় পাশ হয়েছিল। প্রস্তাবিত আইনে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে একাধিক বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়ানোর আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক ভাবে আটক করার ব্যবস্থাও রয়েছে।বিল অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে এক বছর পর্যন্ত দূরে রাখার ক্ষমতাও প্রশাসনের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।প্রস্তাবিত আইনে গুন্ডা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ-এর পরিধিও বিস্তৃত করা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, জমি বা বাড়ি দখল, বেআইনি বালি তোলা এবং অবৈধ খনির মতো কাজের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত কিছু অপরাধকেও এই সংজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব ছিল।ঠিক এই মাদক সংক্রান্ত অংশ নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া নোটে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, বিলের একটি ধারায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের আওতায় এনে প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থা করার ফলে কেন্দ্রীয় মাদক আইনের সঙ্গে একই ধরনের ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের মতে, এর ফলে আইনি সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক ভাবে আটকের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে একই ধরনের ব্যবস্থা রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে রাখা হলে দুই আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট অংশটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে রাষ্ট্রপতি বিলটি স্থায়ী ভাবে বাতিল করেননি। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে রাজ্য সরকার আবার বিধানসভায় বিলটি পেশ করতে পারে। সংশোধনের পর ফের তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পথও খোলা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এর আগে এই বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল। আগস্টে আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে সেই পর্যায়ে বিলকে চ্যালেঞ্জ করে করা জনস্বার্থ মামলাগুলিকে আগাম মামলা হিসেবে দেখা হয়েছিল।রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, সরকারের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রিভার্স গিয়ার চলছে এবং বিলটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসাবেই রয়েছে।ফলে এখন মূল নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে। রাষ্ট্রপতির আপত্তির জায়গাগুলি সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় আনা হবে কি না, নাকি অন্য কোনও পথে বিষয়টি এগোবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। আপাতত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ায় প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন আইনটি আগের অবস্থায় কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
দেশ

ট্রাম্পের উপর হামলায় কড়া প্রতিক্রিয়া মোদির! কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

ওয়াশিংটনের নৈশভোজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই।শনিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে নৈশভোজ চলাকালীন আচমকা গুলি চালায় এক বন্দুকবাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক যুবক পরপর গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ট্রাম্প অক্ষত রয়েছেন। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ অন্যান্যরা। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ছয়শো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক, অভিনেতা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। নৈশভোজের পর ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে যায়।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ওয়াশিংটনের হোটেলে হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সকলেই সুস্থ রয়েছেন জেনে তিনি আশ্বস্ত। তাঁদের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনাও করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা হওয়া উচিত।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলাকারী কে, কীভাবে তিনি কড়া নিরাপত্তা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই হামলার পিছনে কোনও বড় যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ নেই এবং এটি একক হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
বিদেশ

নৈশভোজের মাঝেই গুলি! ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা, চাঞ্চল্য বিশ্বজুড়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উপস্থিতিতে নৈশভোজ চলাকালীন আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। ওয়াশিংটনের একটি হিলটন হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে চলছিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেই সময় হঠাৎ পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চলার খবর পাওয়া যায় ।ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। শনিবার রাতের এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক মার্কিন আধিকারিক। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স আনুমানিক একত্রিশ বছর এবং তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই ঘটনার পেছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী ।ঘটনার কিছুক্ষণ পর নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসাও করেন তিনি।উল্লেখযোগ্যভাবে, এই একই হোটেলে প্রায় চল্লিশ বছর আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান-এর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সেই স্মৃতি ফের সামনে আসতেই নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও বন্দুকবাজ ভিতরে ঢুকল, তা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
বিদেশ

দুপুরে হাইস্কুলে ঢুকে গুলি! মুহূর্তে লাশের স্তূপ, কাঁপছে কানাডা

কানাডার একটি হাইস্কুলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালালেন এক মহিলা বন্দুকবাজ। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি জখম হন এবং পরে মারা যান। কেন তিনি এই হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। মোট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৭৫। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের কর্মী ও পড়ুয়া মিলিয়ে অন্তত ১০০ জনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়েছে।পুলিশ স্কুলে ঢুকে এক জায়গায় ৬ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। অন্য একটি অংশ থেকে উদ্ধার হয় আরও ২ জনের দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্যে কতজন পড়ুয়া রয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি।হামলাকারী মহিলা একাই এই হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।একজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গুলির শব্দ শোনার পর সে সহপাঠীদের সঙ্গে একটি ঘরে লুকিয়ে ছিল। আতঙ্কে কাঁপছিল সবাই।এর আগে ২০২০ সালে নোভা স্কোটিয়ায় এলোপাথাড়ি গুলির ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। ফের স্কুলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় স্তব্ধ কানাডা।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যরাতে গুলির শব্দ, আকাশে ড্রোন! কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার রাজধানী

সোমবার গভীর রাতে ফের আতঙ্ক ছড়াল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বাসভবনের অদূরে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে আকাশে উড়তে দেখা যায় একাধিক ড্রোন। এই ঘটনায় শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চরম উৎকণ্ঠা।এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। তার পরই মধ্যরাতে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ মিরাফ্লোরেস প্যালেসের আশপাশে গোলাগুলি শুরু হয় এবং প্রাসাদের উপর দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই ঘটনার একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই সব ভিডিয়োর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।অন্যদিকে সংবাদসংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে ভেনেজুয়েলার প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এই ঘটনায় কারাকাসের বাসিন্দারা প্রবল আতঙ্কে পড়ে যান। অনেকেই রাতভর ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করেন, দেশে সামরিক অভ্যুত্থান শুরু হয়ে গেছে। আবার কারও মনে হয়েছে, আমেরিকা হয়তো ফের হামলা চালিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছেই থাকা এক বাসিন্দা সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন আকাশ দিয়ে প্রচুর বিমান যাচ্ছে। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, গোটা পাড়া রাস্তায় নেমে এসেছে। সকলেই ভীষণ উত্তেজিত ও আতঙ্কিত ছিলেন। অনেকেরই মনে হয়েছিল, হয়তো আমেরিকা আবার হামলা চালিয়েছে।কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মধ্যরাতের এই ঘটনায় নতুন করে অস্থিরতা বেড়েছে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে।

জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
রাজ্য

সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গত ১২ এপ্রিল, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার জাফরাবাদ গ্রামের দুই বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে উত্তেজিত জনতার একটি দল নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই জোড়া খুনের মামলার তদন্তে গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর ১৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল চার্জশিট।আজ রায় বেরিয়েছে মামলার। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ১৩ জন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি ঘোষণা করেছেন। এখানে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ধারায়(যা কয়েক বছর আগে চালু হওয়া নতুন ফৌজদারি বিধিতে ১০৩(২) ধারায় চিহ্নিত হয়েছিল) এটি দেশে দ্বিতীয় conviction.দণ্ডিত ১৩ জনের নাম হলো:১. দিলদার নদাব (২৮), ২. আসমাউল নদাব ওরফে কালু (২৭), ৩. এনজামুল হক ওরফে বাবলু (২৭), ৪. জিয়াউল হক (৪৫), ৫. ফেকারুল সেখ ওরফে মহক (২৫), ৬. আজফারুল সেখ ওরফে বিলাই (২৪), ৭. মনিরুল সেখ ওরফে মনি (৩৯), ৮. একবাল সেখ (২৮), ৯. নুরুল ইসলাম (২৩), ১০. সাবা করিম (২৫), ১১. হযরত সেখ ওরফে হযরত আলী (৩৬), ১২. আকবর আলী ওরফে একবর সেখ (৩০) এবং ১৩. ইউসুফ সেখ (৪৯)।এদের মধ্যে ৫ জনের নাম এফআইআর-এ ছিল। বাকিদের তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং তাঁদের ভূমিকার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওড়িশার ঝারসুগুডা, ঝাড়খণ্ডের পাকুড়, বীরভূমের পাইকর, হাওড়া, ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জ এবং সুতি-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তের সময় সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা থেকে প্রাথমিক সূত্র পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া গুগল ম্যাপস লোকেশন ভিজ্যুয়ালাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের মোবাইলের সিডিআর (CDR) ম্যাপে প্লট করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অপরাধের জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি এবং প্রবেশ-প্রস্থানের পথ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের হাঁটার ধরন বা গেইট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ (Gait pattern analysis) করা হয়েছিল, যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের হাঁটার ধরনের সাথে হুবহু মিলে গেছে। আদালত এই রায়ে ডিএনএ (DNA) প্রমাণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রে লেগে থাকা রক্তের ডিএনএ-র সাথে মৃত ব্যক্তিদের ডিএনএ মিলে গিয়েছে।এই মামলার সঙ্গে যুক্ত মিঠুন হালদার, ইন্সপেক্টর প্রসূন মিত্র এবং বিভাস চট্টোপাধ্যায়, এই তিন পুলিশ আধিকারিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে বলে অভিনন্দন জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। মাত্র নয় মাসের মধ্যেই দোষীদের শাস্তি সুনিশ্চিত করার জন্য জঙ্গিপুর জেলা পুলিশকেও অভিনন্দন জানিয়েছে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্তারা।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
বিদেশ

ফের আমেরিকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যু দু’জনের

ফের আমেরিকায় বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শনিবার আইভি লিগের অন্তর্ভুক্ত ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডিংয়ে আততায়ীর গুলিতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত আট জন। আচমকা এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্যাম্পাসে।ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছিল। শনিবার ছিল পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন। সেই সময়ই গুলির শব্দে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন পড়ুয়া ও কর্মীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রভিডেন্সের মেয়র ব্রেট স্মাইলি জানিয়েছেন, আইভি লিগ ক্যাম্পাস জুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং আততায়ীর খোঁজে অভিযান চলছে।হামলার প্রায় দুঘণ্টা পরেও ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীর পরনে ছিল কালো পোশাক। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে হামলার পর বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। আততায়ীকে চিহ্নিত করতে জোরকদমে তদন্ত চলছে। যদিও প্রথমে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও পরে জানা যায়, তাঁর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
বিদেশ

ক্লাস চলাকালেই গুলি! লুটিয়ে পড়লেন পড়ুয়া... আমেরিকায় নতুন করে ত্রাসের রাজ শুরু

আমেরিকার কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক ছাত্রের এবং আহত হয়েছেন আরও একজন। ঘটনার পর দ্রুতই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।মঙ্গলবার দুপুরে স্বাভাবিক মতোই ক্লাস চলছিল। বহু ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই এক যুবক এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। আতঙ্কে সবাই ছুটে পালাতে থাকে। গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই এক ছাত্র মারা যান এবং আরও একজন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার মুহূর্তের মধ্যেই ওই যুবককে ধরে ফেলে নিরাপত্তাকর্মীরা এবং পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাঁর পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলেই জানা গেছে।এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তৎক্ষণাৎ সব ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র মাইকেল ডিকরসি জানিয়েছেন, আপাতত সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকবে। বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আপাতত বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। শীঘ্রই পরবর্তী নির্দেশিকা দেওয়া হবে।কয়েক মাস আগেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফের সেই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি হলো।

ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

আরও এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার, এবার বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অপরাধে

হাতির দাঁত পাচারের ঘটনায় কলকাতা পুর এলাকার এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতারের পর এবার বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ মালদার সংখ্যালঘু সেলের এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ রাউন্ড কার্তুজ। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে মোথাবাড়ি থানার পুরাতন পটলডাঙ্গা এলাকায়।বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র মজুত, এই অভিযোগে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতের নাম আব্দুস সালাম। তার বাড়ি মোথাবাড়ি থানার পুরাতন পটলডাঙা এলাকায়। তিনি তৃণমুলের সংখ্যালঘু সেলের স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ ধৃতের বাড়িতে অভিযান চালায়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার করেছে দুটি আগ্নেয়য়াস্ত্র ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। কি কারণে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বাড়িতে মজুত করেছিল ওই তৃণমূল নেতা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেছেন, বিরোধীরা কি বলল তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। তবে দলের নেতা বা কর্মী যেই হোক অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
কলকাতা

ইডি দফতরে CISF জওয়ানের রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক তরুণী

বুধবার বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এক মহিলাকে আটক করেছে ইডি দফতর থেকে। সূত্রের খবর বেলা সাড়ে ১২ টা নাগাদ ওই মহিলা ইডি দফতরে সিজও কমপ্লেক্সের ৭ তলায় যান। সেখানে তাঁকে নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রশ্ন করেন কোথায় কার কাছে যাবেন?অভিযোগ সেই সময় আচমকা কর্তব্যরত CISF জওয়ান এর রাইফেল ধরে টানা হ্যাঁচড়া করেন মহিলারা। তারপরেই নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে ইডি দফতরে আটকে রেখে খবর দেন পুলিশ কে। পুলিশ সূত্রে খবরআটক মহিলার নাম প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু। বাড়ি সল্টলেকে।প্রাথমিক ভাবে পুলিসের অনুমান মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন। পুলিশ মহিলার বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বোঝার চেষ্টা করছে কেনও তিনি ইডি দফতরে গিয়েছিলেন।

মার্চ ১৩, ২০২৪
বিনোদুনিয়া

কেউ কথা রাখেনি, গল্প শুনে কফি খেয়ে ছবি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েই পগারপার!

টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলেই তাঁকে দুর্মুখ, ঠোঁটকাটা সহ নানাবিধ বিশেষণ ভূষিত করতে শোনা যায়। আদতে তিনি শ্রীলেখা মিত্র সরলরেখায় চলতে অভ্যস্ত। কোনও বিষয়েই তাঁর ঢাকঢাক গুরুগুরু ব্যপারটা নেই। তিনি সোজা কথাটা সোজা ভাবেই বলতে অভ্যস্ত, তাতে বোমটা যত জোরেই ফাটুক। এর আগেও বহুবার তিনি যেমন ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও গরবর দেখলে সপাট জবাব দিয়েছেন, ঠিক তেমনই জ্বলে উঠেছেন পোষ্যদের (বিশেষ করে সারমেয়) অবহেলা নিয়েও। লকডাউনে পথ কুকুরদের অবহেলা নিয়ে বারবার শিরোনামে এসেছেন শ্রীলেখা। শ্রীলেখা মিত্র এর আগে বহুবার জানিয়েছেন, তিনি ফেবার পাওয়ার জন্য কখনই কারুর কাছে নিজেকে ফেবারিট করে তুলতে চাননি। কয়েকদিন আগেই টালিগঞ্জের এক রন্ধন পটীয়সী ঘোষীকা তাঁর প্রযোজক স্বামী কে নিয়ে করা কানাঘুঁশো অভিযোগ, প্রকাশ্য মিডিয়ায় সপাট জবাব দিয়ে শ্রীলেখা বুঝিয়ে দিয়েছেন সব ক্ষারক-ই ক্ষার নয়।একসময়ের টলিউডের জনপ্রিয় লাস্যময়ী নায়িকা, এখন পরিচালক, প্রযোজক এবং অবশ্যই একজন খ্যাতানামা অভিনেত্রী। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত পরিচালিত বেশ কয়েকটা ছবি শিরোনামে উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা। কলকাতার শহরের ওপর আধারিত এই ছবিটি কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অবশ্যই দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেছিলেন ফিল্ম ক্রিটিক্স রা। সেই ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেও ছিলেন। অনেকেই সে সময় বলেছিলেন, যে অভিনেত্রী ভেনিস নিউ ইয়র্কে সমাদৃত তাঁর কি বা আসে যায় কলকাতাতে উপেক্ষা করলে। কিন্তু কিছু চলচ্চিত্র সমলোচক অনুপ্রেরণার আরাল থেকে মনে করেছিলেন, হ্যাঁ আসে! তাঁদের মতে, যখন অযোগ্যরা মঞ্চ দাপিয়ে বেড়ায় তখন অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিদের কিছু এসে যায়।ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা মেলবোর্নের ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। অবশেষে তিনি বাংলা সংস্কৃতির প্রানকেন্দ্র নন্দনে হাজির হন তাঁর নিজের প্রযোজিত, পরিচালিত ও অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি এবং ছাদ এর সৌজন্যে। এবং ছাদ শ্রীলেখার প্রযোজিত প্রথম শর্টফিল্ম। প্রযোজনা সংস্থা পসাম প্রোডাকশনস প্রযোজিত এবং ছাদ ছাড়াও আরও তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির অংশ জুড়ে একটি পূর্ণ দৈর্ঘের অ্যান্থোলজি ছবি তৈরি করার পরিকল্পনা শ্রীলেখার।এবং ছাদ ছবিটি নিয়ে তিনি প্রথম থেকেই বারবার বিড়ম্বনাই পড়েছেন। তিনি একাধিকার সামাজিক মাধ্যমে তাঁর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে প্রযোজকের জন্য আবেদন করতেও তাঁকে দেখা গেছে। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, প্রত্যাখ্যান-র সিঁড়ি পেড়িয়ে তিনি সত্যিই ছাদ তুলতে পেরেছেন। আজ আক্ষরিক অর্থেই ছাদে উঠে শ্রীলেখা নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে চাইছেন, তোমরা আমাকে বহু চেষ্টা করেও আমার ছাদে ওঠা আটকাতে পারলে না। সেই একগুচ্ছ অভিমান, আক্ষেপ, অবহেলা, বিশ্বাসঘাতকদের উদ্দেশ্যে গর্জে উঠেছে তাঁর কলম। তিনি সামাজিক মাধ্যমে উগরে দিয়েছেন সেই কথা।শ্রীলেখা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেনঃছবি তো বানিয়েছি নিজের পয়সায়, প্রচুর festival ঘুরলো। সামনেই আবার দিল্লি যাচ্ছি এবং ছাদ নিয়ে। ছবিটা বানিয়ে ইচ্ছে হয়েছিল আরো তিনটে শর্ট বানাবো তারপর অ্যান্থোলজি হিসেবে হল রিলিজ করব। নতুন পরিচালকের পাশে দাঁড়ান বলে যারা দাবি করেন তারা অনেকেই ফোন ধরেননি বা মেসেজের রিপ্লাই ব্যাক করেননি।। যারা করেছেন তারা কফি খেয়ে এবং খাইয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ছবির জন্য পয়সা দেবেন। এক ভদ্রলোক সামান্য কিছু টাকা এডভান্স করেছিলেন ছবি আরম্ভের দশ দিন আগে থেকে উনি ফোন ধরা এবং মেসেজের রিপ্লাই ব্যাক করা বন্ধ করে দিলেন। আমরা তার আগে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি লোকেশন রেইকি করেছি একটার্সদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছি কিছু কিছু টাকা এডভান্সও দিয়েছিলাম। প্রডিউসার ভদ্রলোক তখন গায়েব। এখন উনি এবং উনার পরিবার আমার কাছে সেই যৎসামান্য এডভান্স যেটা দিয়েছিলেন যা কিনা পুরোটাই খরচ হয়ে যায় তা ফেরত চাইছেন। নিয়ম মতে সেই টাকা দেওয়ার কথা নয় আমাদের সময় পরিশ্রমের কোন মূল্যই দেয়া হয়নি। তাও বলেছি ফাইন্যান্সার পেলে বা প্রোডিউসার পেলে কিছু দেবো। উনি টাকাটা দেখলেন সময়ের পরিশ্রমের মূল্যটা দিলেন না। এর মধ্যে হলো আমার টাকা চোট। আমি দমবো না ছবি তো আমি করবই দরকার হলে নিজের ফিক্স ডিপোজিট ভেঙ্গে করব। সাথে থেকো।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
রাজ্য

চোখের পলকেই বন্ধুকবাজ হাতের মুঠোয়, পুলিশকর্তাই নায়ক

কালিয়াগঞ্জে গতকাল, মঙ্গলবারই বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা বেধরক মারধোর করছে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। এর আগেও পুলিশকে ফাইলের তলায় লুকোতে দেখা গিয়েছে। এবার বঙ্গ পুলিশের মুখ উজ্জ্বল করলেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ রক্ষা করে এই পুলিশ আধিকারিকের নাম এখন মালদার ঘরে। কুর্নিশ জানাতে ভোলেনি সারা বাংলার সাধারণ মানুষও।পুরাতন মালদার মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে এদিন মার্কিন কায়দায় এক বন্দুকবাজ হাজির হয়ে যান। তবে এটাই রক্ষে মুখে হুঙ্কার ছাড়লেও ট্রিগার টেপেননি ওই বন্দুকবাজ। ক্লাসে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ব্যক্তি এই খবর জানতে পেরেই প্রথম থেকেই ঘটনার তদারকি করতে থাকেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজারুদ্দিন খান। তখন রীতিমতো পুলিশের অন্য কর্তাদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। একেবারে সাধারণ আকাশি রং এর একটা গেঞ্জি আর জিন্সের প্যান্ট পড়েই এক লম্ফে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বন্দুকবাজের ওপর। বন্দুকবাজকে কোলপাঁজা করে ধরে ফেললেন পুলিশকর্ত। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনির রোষ থেকেও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন আজারুদ্দিন খান। ডিএসপির ভূমিকায় এখন গ্রামবাসীদের মুখে সাধু সাধু রব। আর এই পুলিশকর্তাই এখন মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো নায়কের সম্মানে ভূষিত। বুধবার দুপুর পৌনে বারোটা নাগাদ পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রমোহন হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে বন্দুক বোমা নিয়ে ঢুকে পড়ে এক আততায়ী। তার দাবি পূরণ না হলে ওই ক্লাসে পাঠরত প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী এবং ক্লাস টিচারকেও প্রাণে মারার হুমকি দেয়। নিজেকে মানব বোমা বলে হুঙ্কার দিতেও ছাড়েনি সে।স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেয়েই প্রথম থেকেই বন্দুকবাজকে ধরার জন্যই সদর্শক ভূমিকা গ্রহণ করে মালদা ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। যদিও তার সঙ্গে অন্যান্য পুলিশ অফিসার কর্মীরাও ছিলেন। কিন্তু সাদা পোশাকে জেলার ওই পদস্থ পুলিশ কর্তাকে বহু গ্রামবাসীরা চিনতে পারেননি। অনেকে তো দূর দূর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওই পুলিশকর্তাকে। কিন্তু সত্যি যে তিনি হিরো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনি। প্রথম থেকেই বন্দুকবাজের ওপরেই ঈগলের মতো চোখ রেখে নজরদারি চালিয়েছিলেন ডিএসপি (ডিএনটি)। আর পলক ঝপটের মধ্যেই ক্লাসরুমের ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই বন্দুকবাজ আততায়ীকে কোলপাঁজা করে, হাত মুচরিয়ে ধরে ফেলেন পুলিশকর্তা।যদিও আজহারউদ্দিন খানের বক্তব্য, এটা আমার কর্তব্য। জীবনের পরোয়া না করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাঁচানোটাই বড় কাজ। প্রথম থেকেই ওই দুর্বৃত্তের ওপর নজর রেখেছিলাম। সুযোগ বুঝেই কোপ মারি। ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেছি। নিজের জীবন দিয়ে দিব, কিন্তু আমি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি হতে দেব না, সেটা প্রথম থেকেই ভেবে নিয়েছিলাম। এখন ওই বন্দুকবাজের এই তান্ডব চালানোর ঘটনার পিছনে কি রহস্য হয়েছে রয়েছে তা তদন্ত করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে আপাতত তাকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন আদালতে জানানো হবে। গ্রামবাসীরা আজহারউদ্দিন খানের ভূমিকায় আপ্লুত।

এপ্রিল ২৬, ২০২৩
রাজ্য

মার্কিন কায়দায় মালদার স্কুলে বন্দুকবাজ, কেন এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন?

এবার মার্কিন মুলুকের ছায়া বাংলায়। মালদার স্কুলে দেখা গেল ভয়ঙ্কর দৃশ্য। স্কুলের পড়ুয়াদের সামনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি। একহাতে পিস্তল, অপর হাতে পেট্রোল বোমা এবং গোটা গায়ে জড়ানো ইলেকট্রিক বোমা। পায়ের মোজায় লুকানো ভোজালি। এই অবস্থায় আচমকাই সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে ঢুকে পড়লো এক আততায়ী। বন্ধুক উচিয়ে এবং নিজেকে মানববোমা বলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্লাসরুমের ছাত্র-ছাত্রীদের উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে ওই ব্যক্তি। বুধবার দুপুর ১২ টা নাগাদ এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্যে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে। এমনকি ক্লাস রুমের কর্মরত এক শিক্ষিকার মাথায় বন্দুক ধরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই আততায়ীর ভয়ে ক্লাসরুমে থাকা প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষিকা ভয়ে যুবুথুবু। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্কুল চত্বরে শোরগোল পড়ে যায়।এদিকে স্কুল পড়ুয়াদের হাইজ্যাক করার ঘটনার খবর জানতে পেরে গায়ে বুলেট প্রুপ জ্যাকেট পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই আততায়ীর সঙ্গে বাইরে থেকেই কথাবার্তা চলতে থাকে। এরই মধ্যে গোটা এলাকায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতেই স্কুল চত্বরে কয়েক হাজার গ্রামবাসীর জনরোষ আছড়ে পরে। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর পুলিশ দেব বল্লভ (৪৮) ওরফে রাজু নামে ওই আততায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা সহ ধরে ফেলে।বুধবারের এমন রোমহর্ষক ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই স্কুলে পাঠরত পরিবারের ছেলেমেয়েরা অক্ষত রয়েছে কিনা, তা জানতে ভিড় করেন অভিভাবকেরা। পুলিশের হাত থেকে ধৃতকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টাও করে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা।পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম দেব বল্লভ ওরফে রাজু। তার বাড়ি পুরাতন মালদার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমুয়া এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, বেশ কয়েক রাউন্ড কার্তজ , চারটি পেট্রোল বোমা, একটি ভোজালি এবং ধৃতের শরীরে জড়ানো আরো বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক বোমা উদ্ধার হয়েছে।এমন ঘটনা কেন ঘটালো ওই আততায়ী? তদন্তকারী পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, দেব বল্লভ নামে ওই ব্যক্তি এদিন সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে ঢুকে বন্ধুক হাতে নিয়েই তার ছেলে রুদ্র বল্লভ, দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত এবং স্ত্রী রিতা বল্লভকে ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ধৃত ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং ছেলে গত এক বছর ধরে তার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। কিন্তু ধৃত ব্যক্তি ক্লাসরুমে ঢুকে হাতে বন্দুক নিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে দুষ্কৃতীরা নাকি তার স্ত্রী ও ছেলেকে এক বছর আগে তুলে নিয়ে গেছে। প্রশাসন নাকি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই তাঁকে বাধ্য হয়ে এদিন এরকম ঘটনা ঘটাতে হয়েছে।মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাই স্কুলের এক শিক্ষক দেবাশীষ শীল জানিয়েছেন , আমরা ভাবতে পারছি না যে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। কেবলমাত্র প্রথম পিরিয়ডের ক্লাস শুরু হয়েছিল সেই সময় স্কুলের একটি ছোট্ট গেট খোলা ছিল। পিঠে ব্যাগ নিয়েই ওই ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখি। এরপরই সে সপ্তম শ্রেণীর একটি ক্লাসে ঢুকে পড়ে। সেখানে তখন একজন শিক্ষিকা ক্লাস নিচ্ছিলেন। তারপরেই দেখি যে বন্দুক বার করে এবং হাতে বোমা নিয়েই তাণ্ডব শুরু করে দেয় ওই আততায়ী। তখনই আমরা পুলিশকে খবর দিই । অবশ্যই এমন ঘটনায় প্রত্যেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, একটা পারিবারিক সমস্যা রয়েছে ধৃত ওই ব্যক্তির। কিন্তু তা বলে স্কুলে ঢুকে এমন কাণ্ড ঘটাবে সেটা কেউ ভাবতেই পারেনি। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, রাসায়নিক বস্তু উদ্ধার হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই বিষয়টি সম্পর্কে বলা যাবে। তবে অভিযুক্ত দেব বল্লভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কেও এখনই কিছু পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। সমস্ত বিষয়টাই তদন্ত সাপেক্ষ।

এপ্রিল ২৬, ২০২৩
রাজ্য

ক্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল ' রাইস প্রো-টেক এক্সপোর' মেলায় স্টল নিয়ে আসা গুসকরার এক ব্যক্তির

জেলা রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের ২৪ তম ন্যাশনাল রাইস প্রো-টেক এক্সপোর মেলার মাঠেই ক্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। বর্ধমানের কল্পতরু মাঠের ঘটনা। মৃতের নাম ফাল্গুনী চ্যাটার্জী (৩২)। বাড়ি গুসকরায়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,বর্ধমানের কল্পতরু মাঠে ন্যাশনাল রাইস প্রো- টেক এক্সপো ২০২২ মেলা শেষ হয়েছে গতকালই, আজ সকাল থেকেই মেলায় আসা বিভিন্ন টেক কোম্পানি তাঁদের স্টল খালি করছিলেন। তাঁদের বিভিন্ন ভারি মালপত্র ক্রেনের সাহায্যে গাড়িতে লোড এর কাজ চলছিল সেই সময় মাঠে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন মেলাতে কৃষিজ যন্ত্রাংশ তৈরী সংস্থার কর্মচারী ফাল্গুনি চ্যাটার্জী। সেই সময় ক্রেনটি তাকে ধাক্কা মারে ঘটনাস্থলেই ক্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বর্ধমান হাসপাতালে।ফাল্গুনী চ্যাটার্জী-র দূর্ঘটনার প্রতক্ষদর্শী তার বন্ধু বিকাশ পট্টনায়েক অভিযোগ করেন, হাইড্রার ড্রাইভারের অন্যমনস্কতার জন্যই এই দূর্ঘটনা। তিনি জানান ফাল্গুনী কর ব্রাদার্স নামে এক ইলেকট্রিক কোম্পানিতে কাজ করতেন।

নভেম্বর ২৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

'মন ফাগুন' এর ৩০০ তম এপিসোড উদযাপন

২০২১ এর ২১ জুলাই প্রথম টেলিকাস্ট হওয়ার পর শন ব্যানার্জি ও সৃজলা গুহর ধারাবাহিক মন ফাগুন ৩০০ এপিসোডে পা দিল। এই ধারাবাহিকে শন ব্যানার্জি ঋষিরাজ ও সৃজলা পিহুর চরিত্রে অভিনয় করছেন। মডেল হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করা সৃজলার এটা প্রথম ধারাবাহিক। অন্যদিকে আমি সিরাজের বেগম ও এখানে আকাশ নীল ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা শন ব্যানার্জি মন ফাগুন-এর প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মন কেড়েছেন।৩০০ তম এপিসোড কেক কেটে উদযাপন করল ধারাবাহিকের সকলে। অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে উদযাপনের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয় মন ফাগুনের ৩০০ তম এপিসোড উদযাপন। মন ফাগুন লেখা একটা কেক ও কাটেন ইউনিটের সকলে।এর পাশাপাশি স্টার জলসা এই ধারাবাহিক উদযাপনের একটি ভিডিও পোস্ট করে। যেখানে কলাকুশলীরা এই ধারাবাহিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। উল্লেখ্য মন ফাগুন ধারাবাহিকে শাশ্বতী গুহঠাকুরতা, গীতশ্রী রায়, রব দে, শায়ন দে, অনন্যা সেনগুপ্ত আরও পরিচিত মুখ অভিনয় করছেন।

মে ২৬, ২০২২
রাজনীতি

আসানসোলে সবুজ ঝড়ে উড়ল গেরুয়া শিবির, বালিগঞ্জে জয়েও আতঙ্কে তৃণমূল

রাজ্য়ের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আসানসোলে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে পরপর দুবারে জয় পাওয়া বিজেপিকে। প্রায় ২ লক্ষের ওপর ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালকে পরাজিত করেছেন তৃণমূল প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহা। অন্যদিকে বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জয় পেয়েছেন ২০ হাজারের ওপর ভোটের ব্যবধানে। এখানে এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সিপিএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিম। কিন্তু এই কেন্দ্রে যে ভাবে তৃণমূলের ভোট কমেছে তাতে ঘাসফুল নেতৃত্বের যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৪ ও ২০১৯-এ জয় পেয়েছিল বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় প্রায় ১,৯৭,৬৩৭ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে পরাজিত করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার পর আসানসোল কেন্দ্রে জয় পায়নি। এই প্রথম সেখানে জয় পেয়েছে তৃণমূল। শত্রুঘ্ন সিনহা ভোট পেয়েছেন ৬,৪৬,৬৬১ ভোট পেয়েছেন শত্রুঘ্ন। প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট। অগ্নিমিত্রা পাল ভোট পেয়েছেন ৩,৫০,০১৫। শতাংশের হিসাবে ৩০%। বিজেপির প্রায় ২২ শতাংশ ভোট কমেছে গতবাবের তুলনায়।এদিকে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বিজেপিকে সরিয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় ২০হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন সিপিএম প্রার্থী সায়রা শাহ হালিমকে। বাবুল পেয়েছেন ৫০,৯৯৬ ভোট। সায়রার প্রাপ্ত ভোট ৩০,৯৪০ ভোট। বিজেপি গতবারে তুলনায় ৭ শতাংশ কম ভোট পেয়েছে। বিজেপি প্রার্থী কেয়া ঘোষ পেয়েছেন ১৩,১৭৪ ভোট। তবে এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট প্রাপ্তি কমেছে তৃণমূলের। রাজনৈতিক মহলের মতে, গতবারের থেকে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট কমায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ঘাসফুল শিবিরের।

এপ্রিল ১৬, ২০২২
বিদেশ

পোলান্ড সীমান্তের কাছে গুলিবিদ্ধ ভারতীয় পড়ুয়া, ভর্তি হাসপাতালে

কিভ থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হলেন ভারতীয় পড়ুয়া। কিভ থেকে পোলান্ড সীমান্তের দিকে আসার পথে এই পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে মাঝ পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে কিভের একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিভের একজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে কিভের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।এর আগেও রুশ হামলার মুখে পড়ে প্রাণ হারান কর্নাটকের বাসিন্দা এক মেডিক্যাল পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত পড়ুয়ার নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৯টি বিমান চালাচ্ছে বায়ুসেনা এবং দেশের বিমান সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার থেকেই উদ্ধারকাজে নেমেছে এই বিমানগুলি। এদিকে যুদ্ধ কবলিত ভিন্ দেশ থেকে ঘরে ফেরার চেষ্টা। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে সর্বস্ব লুট। কনকনে শীতে গরম জামা-জুতো লুট করতেও কার্পণ্য করেনি লুটেরা। এমন অবস্থায় এক ইউক্রেনীয় পরিবারে তিন রাতের আশ্রয় মেলে। অবশেষে প্রবাসী বাঙালির সাহায্যে পোল্যান্ডের অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে সীমান্ত পার। জীবনের এমনই ঘটনাবহুল কয়েকটি দিন কাটিয়ে আজ, শুক্রবার পোল্যান্ড থেকে উড়ানে ফিরছেন অসমের গুয়াহাটির বাসিন্দা এক যুবক। ঘটনার আকস্মিকতায় বিধ্বস্ত যুবক পিছনের কটা দিন মনে করতেই বার বার আতঙ্কিত এবং উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
কলকাতা

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চভূতে বিলীন হলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

বুধবার সন্ধ্যায় পঞ্চভূতে বিলীন হলে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে পরিসমাপ্তি ঘটল একটি অধ্যায়ের। এর আগে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় রবীন্দ্রসদনে। সেখানে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পীর দেহে পরিয়ে দেন উত্তরীয়। তিনি ছাড়াও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজন। রবীন্দ্রসদনে ছিলেন বিশিষ্ট এই শিল্পীর কন্যা সৌমী মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মাতৃস্নেহে তাঁকে কাছে টেনে নেন। শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রবীন্দ্রসদন পৌঁছন প্রবীণ বামনেতা বিমান বসু। শ্রদ্ধা নিবেদনপর্ব শেষ হলে শিল্পীর নিথর দেহ কালীঘাটের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। অন্তিম যাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান বহু মানুষ। রাস্তার দুধারে শুধু কালো মাথার ভিড়। বিকেল ছটা নাগাদ শিল্পীর দেহ পৌঁছয় কালীঘাটে। সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় গান স্যালুট। কালীঘাটে অন্ত্যেষ্টি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত এদিন তাঁকে দেখা গেল অভিভাবকের ভূমিকায়। শিল্পীর অন্তিম যাত্রার সঙ্গে অনেকেই তুলনা করেন বাঙালির ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমারের শেষ যাত্রা।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
রাজ্য

যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে আগ্নেআস্ত্র সহ দু’জন গ্রেফতার

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তৎপরতায় বানচাল হল দুস্কৃতীদের নাশকতার ছক। মঙ্গলবার সকালে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল আগ্নেআস্ত্র সহ দুই দুস্কৃতীকে গ্রেফতার করলো জেলার নাদনঘাট থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম কুতুবউদ্দিন মণ্ডল ও মনসুর মণ্ডল। তাদের মধ্যে কুতুবউদ্দিনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের ডোমকলের শাহজাদা গ্রামে। অপর ধৃত মনসুর নাদনঘাটের গোকর্ণ গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি রাইফেল, দুটি ওয়ানশটার, নগদ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফেন উদ্ধার হয়েছে। নাদনঘাট থানার পুলিশ সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই দুই ধৃতকে পেশ করে কালনা মহকুমা আদালতে। দুস্কৃতীরা কোথা থেকে, কি উদ্দেশ্যে এত আগ্নেআস্ত্র জোগাড় করে বাসে চাপিয়ে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল সেই বিষয়টি পুলিশ কর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। এই তথ্য উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী অফিসার এদিন ধৃতদের পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতদের ৭ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এখনও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় দুষ্কৃতীরা অধরাই থেকে গিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে যে কোনও ধরণের নাশকতার ছক বানচাল করতে রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একই কারণে জেলার নাদনঘাট থানার পুলিশও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে নাকা চেকিং শুরু করে। যাত্রীবাহী বাসে আগ্নেআস্ত্র পাচার হবে এমন খবর গোপন সূত্র মাধ্যমে আগেভাগেই পুলিশের কাছে পৌছায়। এই খবর আসার পরেই কালনা মহকুমার বিভিন্ন থানা এলাকার মোড়ে মোড়ে এদিন সকাল থেকে নাকা চেকিং আরও জোরদার করে পুলিশ। নাদনঘাট থানার পুলিশও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক ছিল। এদিন সকালে নাদনঘাট থানার পুলিশ হেমায়েতপুর মোড়ে বর্ধমানগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের পথ আটকে বাসের ভিতর তল্লাশি চালানো শুরু করে। তল্লাশিতে বাসে থাকা দুই দুস্কৃতির কাছ থেকে উদ্ধার হয় তিনটি রাইফেল, দুটি ওয়ান শটার সহ নগদ ১৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন। দুই দুস্কৃতীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি আগ্নেআস্ত্র গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ।এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, তদন্তের প্রয়োজনে দুই দুস্কৃতিদের এদিন আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুস্কৃতিরা কোথা থেকে আগ্নেআস্ত্র নিয়ে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল সেই বিষয়টি জানতে ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal