• ১ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Gift

বিনোদুনিয়া

মাতৃ দিবসে মা কে বিশেষ উপহার শাহরুখ কন্যা সুহানার

১৯০৮ সালের ৮ মে মাতৃ দিবস পালনের সূচনা হয়েছিল। আনা জার্ভিস নামে এক আমেরিকান মহিলা তাঁর প্রয়াত মায়ের সম্মানে গির্জায় উপাসনার আয়োজন করেন। সেই থেকেই নাকি শুরু হয় Mothers Day পালন। সেই থেকে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর এই দিনটি মাতৃ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। মাতৃ দিবসে মা তথা ইন্টিরিয়র ডিজাইনার গৌরী খানকে ভালোবাসা উপহার দিলেন মেয়ে সুহানা খান। এদিন মায়ের জন্য বিশেষ উপহার এনেছিলেন শাহরুখ-গৌরী কন্যা। একটা সাদা এবং গোলাপী ফুলের তোড়া মাকে উপহার দিয়েছেন সুহানা। শুধু তাই নয়, ভালোবাসা জানিয়ে একটি নোটে আরিয়ান খানের বোন লিখেছেন, শুভ মাতৃ দিবস মা, ভালোবাসি, তোমার সুহানা। এ দিন ফুলের তোড়ার ছবি শেয়ার করার পাশাপাশি মেয়ে সুহানা খানের একটি না দেখা ছবিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন গৌরী খান। এই পোস্ট দেখে নেটিজেনরা খুবই খুশি। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির কমেন্ট বক্সে মা ও মে দুজনকেই ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। কমেন্ট করেছেন অনেক সেলিব্রিটিরাও।

মে ১০, ২০২২
নিবন্ধ

সেরা উপহার (ছোট গল্প)

ডঃ মির্জা, ১২৩ নং কেবিনের পেশেন্ট মিঃ মিত্রের আজ তো ডিসচার্জ? ওনার বাড়ির লোক কেউ এখনো আসেনি কী করবো? বলে নার্স যিনি ছিলেন ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে রইলেন---আচ্ছা আমি দেখছি আপনি একটা কাজ করুন বিলিং সেকশনে গিয়ে বলুন ওনার বিল রেডি করে আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমি ততক্ষণ পেশেন্টের সাথে কথা বলে আসি।এই বলে ডাক্তার এগিয়ে গেলেন কেবিনের দিকে।কেমন আছেন স্যার?অনেক ভালো আছি আজ। সিস্টার বলছিলেন আজ আমার ছুটি হয়ে যাবে? আমার সব রিপোর্ট ঠিক আছে তো?হ্যাঁ স্যার আপনার সব রিপোর্ট ওকে। এবার আপনি আমার সঙ্গে যাবেন।আপনার সঙ্গে যাব! বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলেন ডাক্তারের দিকে।হ্যাঁ আপনার জন্য আমার বাড়িতে অনেকে অপেক্ষা করে আছে ; আপনাকে আমার সঙ্গে আজ আমার বাড়িতে যেতে হবে।আমার জন্য আপনার বাড়িতে অপেক্ষা করে আছে? কে? কে অপেক্ষা করে আছে?আছে আছে আপনার খুব কাছের মানুষজন তারা। আর হ্যাঁ আপনাকে বলা হয়নি আপনার স্ত্রী ও আমার বাড়িতেই আছেন।স্যার বিলিং সেকশন থেকে জ্যোতির্ময় দা একটু পরেই আপনার সঙ্গে দেখা করবেন। পেশেন্টের সব বিল রেডি। সিস্টার এর মধ্যে এসে ডাক্তার কে বললেন।ওকে সিস্টার, আপনাকে আর একটা রিকোয়েস্ট করব? হ্যাঁ স্যার বলুন না কি করতে হবে?আপনি পেশেন্টের সব জিনিস একটু গুছিয়ে ওনাকে একটু রেডি করে দেবেন প্লিজ?হ্যাঁ, স্যার অবশ্যই।হয়ে গেলে আমাকে খবর দেবেন।ঠিক আছে স্যার।আমি তাহলে আর দুজনকে দেখে নিয়ে চেম্বারে বসছি। আর একটা কথা আজ আমি বিকেলে আসবো না। প্রয়োজন হলে অবশ্যই কল করবেন। এই বলে ডাক্তারবাবু বেরিয়ে গেলেন।সিস্টার এবার পেশেন্টের কাছে মানে মিঃ মিত্রের কাছে গিয়ে বলেন ---- কাকাবাবু, এবার তো রেডি হতে হবে আপনাকে। বাড়ি যেতে হবে তো? হ্যাঁ মা বাড়ি তো যাব। কিন্তু ডাক্তার বাবুযে বলে গেলেন ওনার বাড়ি নিয়ে যাবেন।হ্যাঁ, হ্যাঁ ওটাও তো বাড়ি নাকি?জানেন এই ডাক্তার বাবুর মতন মানুষ হয় না। উনি ভগবানের দূত।আপনাকে যেদিন এখানে নিয়ে আসে আপনার গ্রামের ছেলেরা সেদিন ওনার তাড়াতাড়ি বাড়ি যাবার কথা ছিল, ওনার মেয়ের সেদিন জন্মদিন ছিল।উনি বেরিয়ে যাবেন এমন সময় একটা কল এলো। মনে হয় আপনার ওখান থেকেই।আমার ওখান থেকে?হ্যাঁ মনে হয়। মনে হয় কেন তাই কারণ আপনার আসার পর স্যার যে ভাবে সব সামলে নিলেন সেটাই।আর উনি তো আপনার গ্রামের ছেলে। এখন এখানে থাকেন ফ্যামিলি নিয়ে।আপনি যে অবস্থায় এসেছিলেন উনি ছাড়া এ শহরের কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারত না। আর এই পরিস্থিতিতে আপনার ভর্তি এখানে তো উনি ই করালেন।উনি শুধু আপনার চিকিৎসাই আপনাকে রক্ত দিয়েও বাঁচিয়েছেন।কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে নাতখন উনি নিজের রক্ত দিলেন। যাতে ওনার রক্ত ই দেওয়া হয় সব ব্যবস্থা করেন।আপনার স্ত্রী ও তো মনে হলো ওনাকে খুব ভালো চেনেন। ওনাকে তো ডাক্তার বাবুর স্ত্রী এসে ওনার বাড়ি নিয়ে গেলেন।স্যার তো বললেন আপনি ওনার বাবার বন্ধু।এতক্ষণ বিনায়ক বাবু নার্সের কথা হাঁ করে শুনছিলেন। এবার বললেন এই পোষাকের আড়ালে মুখ গুলো তোমাদের বোঝা যায় না। তাই হয়তো বুঝতে পারিনি।কিন্তু তোমাদের ডাক্তার বাবু কেন পরিচয় দিলেন না।তাতো বলতে পারবো না। তবে উনি সবাই কে বলেছিলেন আপনার স্পেশাল কেয়ার নিতে। আপনি ওনার বাবার মতো। উনি নিজেও আপনার কেমন কেয়ার নিলেন দেখুন।বিনায়ক বাবু নিজের মনে বলে উঠলেন নিজের ছেলে খবরই নেয় না, তাকে মানুষ করতে পারলাম না। আর ছাত্র যাকে কবে পড়িয়েছি নিজেরইমনে নেই সে আমাকে সারিয়ে তুললো।আচ্ছা সিস্টার কি নাম ডাক্তার বাবুর?ডঃ ইমরান আলী মির্জা; আমরা ডঃ মির্জা বা ডঃ ইমরান বলি।আমাদের ওদিকে বাড়ি বললে তাই না?হ্যাঁ উনি তো তাই বললেন। আর তাছাড়া আপনার গ্রাম থেকে যারা এসেছিল তারা তো পরিচিত মনে হলো। স্যার কে তো অনেকে নাম ধরে ডাক ছিল।অন্যমনস্ক ভাবে বিনায়ক বাবু বললেন ওঃনিন আপনার ব্রেকফাস্ট এসে গেছে আপনি খেয়ে নিন। হাত স্যানিটাইজ করে নিন।বিনায়ক বাবু কি বললেন বুঝতে না পেরে সিস্টার সামনে খাবার এগিয়ে দিয়ে বললেন খেয়ে নিয়ে চেঞ্জ করবেন। আপনার সব গুছিয়ে দিয়েছি।আপনি খান আমি স্যার কে বলে আসি।একঘন্টা পরে হুইল চেয়ারে করে বিনায়ক বাবু কে নিচে নিয়ে এলো দুজন। ডাক্তার নিচে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বিনায়ক বাবুকে যত্ন করে গাড়ির সামনের সিটে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে নিজে স্টিয়ারিং এ বসলেন।পিপিই পোষাক এর বাইরে ডাক্তারকে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন বিনায়ক বাবু।মনে মনে ভাবেন যাকে একদিন অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, অপমান করে ছিলেন নিজের ছোটো বেলার বন্ধু ইদ্রিস কে। আজ সেই ছেলে আমার প্রান বাঁচাতে বদ্ধপরিকর শুধু নয়, আমাকে বাবার আসনে বসিয়েছে। চোখে জল এসে গেল তার।এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ি এসে দাঁড়াল একটা সুন্দর ছোট্ট বাগান ঘেরা বাড়ির সামনে।ইমরান নিজে গাড়ি থেকে নেমে আস্তে করে সিট বেল্ট খুলে বিনায়ক বাবুকে বললেন বাবা বাড়ির ভিতরে চলুন।ইতিমধ্যে বাড়ির ভিতরের থেকে বেরিয়ে এসেছেন সবাই। সামনে ইমরানের বাবা, পিছনে তার দুই নাতি নাতনী কে নিয়ে তার মেয়ে।বিনায়ক বাবুর পা যেন চলছে না; বুকের ভেতর টা কেমন মোচড় দিয়ে উঠেছে।নাতনী এসে হাত ধরে বললো দাদু ভেতরে চলো আজ আমাদের বাড়িতে তোমার জন্য মা অক্ষয় তৃতীয়ার পূজোর আয়োজন করেছে। তুমি সুস্থ হয়ে গেছো তাই।তারপর আজ ঈদ , সবাই মিলে হিহি করে খুশির ঈদ পালন করবো। আজ সত্যিই আমাদের খুশির দিন।এমন সময় বিনায়ক বাবুর স্ত্রী বিমলা বেরিয়ে এসে বললেন আজ ইদ্রিস ভাই আর আমার ইমু না থাকলে কী যে হতো সে একমাত্র ঈশ্বর জানেন।আর বন্ধু ও মেয়ের জন্য বুকে এত ব্যথা পুষে রেখেছো অথচ মুখে ভাব দেখাও যেন কিছুই যায় আসে না।মেয়ে এতক্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার বাবা কে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। বাবা মেয়ে দুজনের মুখে কোনো কথা নেই শুধু চোখে জল।এমন সময় পরিবেশ হালকা করতে এগিয়ে এলেন বন্ধু ইদ্রিস---- কি বেয়াই ঘরের ভিতরে চলো। সব কথা কি এখানেই হবে। আমি যে দাবার ছকের পেতে বসে আছি। কুড়ি বছরের খেলা বাকি আছে। সব খেলতে হবে। তাড়াতাড়ি সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠো।নাতি এসে দাদুর হাত ধরে ভিতরে নিয়ে চললো।ইন্দ্রাণী ইমরানের কাছে এসে বললো----ঈদের সেরা উপহার আজ তুমি আমাকে দিলে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তোমাকেই যেন স্বামী হিসেবে জন্ম জন্ম পাই।ইমরান বললো এবার ভিতরে চলো এই আনন্দ যেন অক্ষয় হয় তার পূজো করবে চলো।সবাই আনন্দের সঙ্গে অক্ষয় তৃতীয়ার পূজো ও ঈদ পালন করলেন বহু দিন পর একসাথে।

মে ০৮, ২০২২
রাজ্য

'সন্তান পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী নন’, বিয়ের অতিথিদের এই পাঠ দিলেন শিক্ষক বাবা

একমাত্র কন্যা অদিতির বিয়ের আয়োজনে কোন খামতি রাখেননি বাবা। ফুল,মালা ও আলোক রোশনাইয়ে নিখুঁত ভাবে সাজানো হয় বিয়ে বাড়ি।বুধবার সারাটা দিন বিয়ে বাড়ি ভরে থাকে সানাইয়ের সুর মুর্ছনায়। এতকিছুর মধ্যেও ওই বিয়ে বাড়িতে সবথেকে বেশী নজরকাড়া ছিল পাত্রীর শিক্ষক বাবা শ্যামাপ্রসাদ দাসের দেওয়া সচেতনতার পাঠ। তিনি বিয়ে বাড়িতেই কন্যা সন্তান নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা তুলে ধরা বড়বড় ফ্লেক্স টাঙিয়েছেন। তাতে উল্লেখ থাকে সন্তান হোক পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী না।নিজের মেয়ের বিয়েতে শুধু এই বার্তা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি শ্যামাপ্রসাদ বাবু। তিনি রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারির আকারে বিয়ে বাড়ির মূল ফটকে পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখেন। বুধবার রাতে বিয়ে বাড়ির অন্দরে প্রবেশের পর এইসব চাক্ষুষ করে অতিথিরা কার্যত থমকে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে তাঁরা পাত্রীর বাবার এমন ভাবানার তারিফ না করেও পারেননি।শ্যামাপ্রসাদ দাসের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে।তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন তাঁদের পারিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা তেমন ছিল না। তবুও সমস্ত প্রতিকুলতাকে জয় করে মা সরস্বতীদেবীর প্রেরনায় লেখাপড়া চালিয়ে যান মেধাবী ছাত্র শ্যামাপ্রসাদ।বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে সাফল্যের সঙ্গে তিনি স্নাতক হন। পরে তিনি স্কুল শিক্ষকতার চাকরি পান। এরপর সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরে। তবে শ্যামাপ্রসাদ বাবুর জীবনে বড় অঘটন ঘটে যায় কয়েক বছর আগে।হঠাৎতই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শ্যামাপ্রসাদ বাবুর স্ত্রী কাকলীদেবী। তখন তাঁর একমাত্র কন্যা অদিতি অনেক ছোট। শ্যামাপ্রসাদ বাবু নিজেই একদিকে পিতা ও অন্যদিকে মাতার ভূমিকা নিয়ে তাঁর কন্যার যাবতীয় দায় দায়িত্ব পালন করেন। বাবার বিজ্ঞান প্রীতিকে অনুসরণ করে অদিতিও সম্প্রতি কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করে । এরই মধ্যে অদিতির সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে মালদার মথুরাপুর নিবাসী পেশায় ইঞ্জিনিয়ার যুবক স্বর্ণাঙ্কু সাহার। মেয়ের পছন্দের পাত্রকেই নিজের জামাই করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শ্যামাপ্রসাদ বাবু। বুধবার বিয়ের দিনেও মেয়ের ভাব ভালবাসার বিষয়টি তিনি একেবারে লিখিত ভাবেই সাজিয়ে গুছিয়ে জনসমক্ষে তুলে ধরেন।সন্তান হোক পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী না।একমাত্র কন্যার বিয়ের দিনই কেন বিয়ে বাড়িতে কন্যা সন্তান জন্মানোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরলেন? এর উত্তরে শ্যামাপ্রসাদবাবু বলেন, বিজ্ঞান ভিত্তিক কি কারণে সন্তান পুত্র বা কন্যা হয়ে জন্মায় তা বহু মানুষের কাছেই অজানা রয়ে আছে। তার কারণে এখনকার যুগেও বহু মানুষ মনে করেন কন্যা সন্তান জন্মানোর দায় শুধু মাত্র মায়ের। তাই কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য মায়েদের নির্যাতন হজম করতে হয়। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপরাধে অনেক মায়ের প্রাণ খোয়ানোর মত ঘটনায় ঘটছে। অথচ বিজ্ঞান বলছে,সন্তান পুত্র হোক বা কন্য তার জন্য মাতা কোন ভাবেই দায়ী নয় । অন্ধ ধারনা থেকে মানুষ্য সমাজমুক্ত হতে না পারলে কোন কন্যা সন্তানের বাবা মা তাঁদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে থাকতে পারবেন না। তাই মেয়ের বিয়েতে বিজ্ঞানের এই পাঠ সবার সমক্ষে তুলে ধরেছেন বলে শ্যামাপ্রসাদ বাবু জানান। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, কোভিড অতিমারির জেরে দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি তাঁর মেয়ের বিয়েতে উপহার সামগ্রী নিয়ে আসার ব্যাপারে নিয়েধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানান।বিয়ে বাড়িতে সবার উপলব্ধির জন্য শ্যামাপ্রসাদ বাবু বিজ্ঞানের যে পাঠ দিয়েছেন ,তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে অদিতি ও জামাই স্বর্ণাঙ্কু। তাঁরা বলেন, এটাতো বিজ্ঞান সম্মত ভাবেই প্রমানিত সন্তান পুত্র বা কণ্যা যাই হোক- তার জন্য মাতা কোন ভায়েই দায়ী নন। এর কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অদিতি বলেন, নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইতেই আমরা পড়েছি আমাদের মানব শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম আছে । তার মধ্যে একজোড়া ক্রোমোজোম হল সেক্স ক্রোমোজোম ।সেটা আমাদের মায়ের শরীরে XX। আর বাবার শরীরে XY। এই সেক্স ক্রোমোজোম-ই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে সহায়তা করে। বৈজ্ঞানিক ভাবেই এটা প্রমানিত যে বাবা ও মায়ের শরীরে থাকা অর্ধেক অর্ধেক ক্রোমোজোম সন্তান পেয়ে থাকে। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্রোমোজোম যদি আমরা ধরি তাহলে বাবার শরীর থেকে আসতে পারে X বা Y এর মধ্যে যে কোন একটি। মাতার শরীরে X ছাড়া যেহেতু অন্য আর কোন ক্রোমোজোম ভ্যারিয়েন্ট থাকে না তাই মায়ের শরীয় থেকে আসে শুধুমাত্র একটি X ক্রোমোজোম। তাই সন্তান যে হবে তাঁর সেক্স ক্রোমোজোম XX বা XY হতে পারে। ওই সন্তান পুত্র বা কন্যা যাই হোক তার জন্য মাতার কোন ভূমিকা থাকে না। পুরুষের ইচ্ছাতে এর সমস্ত কিছু না হলেও বৈজ্ঞানিক ভাবে বলা হয়েছে সন্তান পুত্র বা কন্যা যাই হোক তার পিছনে মূখ্য ভূমিকা পুরুষেরই থাকে। এত কিছু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মাতার জরায়ু থেকে সন্তান জন্ম নেয় বলে কন্যা সন্তান জন্মালেই মায়েদের দায়ী করা হয়। মানুষের এই ভুল ধারণা ভাঙতে তাঁর বাবা বিয়ে বাড়িতে আগত সব অতিথিকে যে পাঠ দিয়েছেন সেটা যথেষ্টই সময়োপযোগী ও যুক্তি সঙ্গত বলে অদিতি দাবি করেছে। জামাই স্বর্ণাঙ্কু বলেন, শনিবার বৌভাতের দিন তিনি মালদার বাড়িতে অতিথিদের একই পাঠ দেবেন। তার পিছনে উদ্দেশ্য একটাই থাকবে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া মায়েদের লাঞ্ছনা গঞ্জনা থেকে মুক্তি দেওয়া। বুধবার অদিতির বিয়েতে উপস্থিত থাকা অতিথি অঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও যুথিকা দাস বলেন, কন্যার বিয়েতে কন্যা সন্তানের জন্ম নিয়ে কন্যার বাবার এমন বিজ্ঞান ভিত্তিক পাঠদান কার্যতই নজিরবিহীন। ওই পাঠদান থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই সচেতন হলে সমাজেই মঙ্গল হবে ।

মার্চ ১১, ২০২২
নিবন্ধ

ঈশ্বরের দান- The Gift of God (ছোট গল্প)

আজ বাড়িতে সকাল থেকেই হৈচৈ, সাজ সাজ রব; সারা বাড়ি বেলুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে। আজ পল্লব আর অঞ্জনার নয়নের মনি ওদের মেয়ে অপালার জন্মদিন।ওদের নিস্তরঙ্গ জীবন আনন্দময় করতে এইদিনেই অপালাকে কোলে পেয়েছিল অঞ্জনা। বিয়ের সাত বছর পরেও কোলে কেউ আসেনি। তাই জীবনটা ছন্দহীন হয়ে পড়েছিল। সাদামাটা জীবন ; সকালে উঠে রান্না সেরে শাশুড়িমা, শ্বশুর মশায় কে যথা সম্ভব দেখে সব সামলে অফিসে যাওয়া আবার অফিস থেকে ফিরে গতানুগতিক কাজ। এভাবেই চলছিল। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে কিন্তু কোনো সমস্যা নাই বলেছে, বলেছে দেরি হবে। অঞ্জনা মাতৃ হৃদয় কেঁদে ওঠে বারবার । তাই সে রোজ অফিসে যাওয়ার পথে যে হনুমানজির মন্দির টা পরে রোজ সেখানে আসাযাওয়ার পথে প্রণাম করে। আর প্রতি মঙ্গলবার পুজো দেয়। বছর পাঁচ আগে সে রকম এক মঙ্গলবার অফিস থেকে সেদিন ফিরতে দেরি হয়েছিল অঞ্জনার। বাস থেকে নামলো যখন আশপাশের সব দোকান মোটামুটি বন্ধ হয়ে গেছে। অঞ্জনা অভ্যাস মতো সেদিনও পুজো দেওয়ার সামগ্রী নিয়ে ছিল। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় মন্দির বন্ধ হয়ে গেছে দেখে মন্দিরের দরজায় জিনিস গুলো রেখে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াতেই যেন বাচ্চার আওয়াজ পেল। মনের ভুল বলে বেরিয়ে আসার জন্য যেই পা বাড়িয়েছে আবার শুনতে পেল। না এবার স্পষ্ট শুনেছে। এদিক ওদিক দেখ্তেই মন্দিরের এক কোনে দেখল কি যেন নড়ছে। কাছে গিয়ে মুঠো ফোনের আলোয় যা দেখল তা বিশ্বাস করতে পাচ্ছিল না। প্রথম টায় হতভম্ব হয়ে গেছিল অঞ্জনা। তারপর যখন বুঝল যে সত্যি দেখ্ছে আশপাশে কেউ আছে কিনা সেজন্য চিত্কার করে জানতে চাইলে কারো আওয়াজ পেল না যখন তখন ছোট্ট প্রাণ টাকে কোলে তুলে নিল হনুমানজীর আশীর্বাদ মনে করে। মনে হলো যেন হনুমান জী এতো দিনে মুখ তুলে চেয়েছে।অঞ্জনা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়ির দিকে চলল। দরজা খুলে পল্লব দেরির কারণ জিজ্ঞাসা করবে কোলে বাচ্চা দেখে অবাক হয়ে গেল। ভিতরে ঢুকে সব খুলে বলল সবাই কে। শাশুড়ি মাও বাচ্চা টিকে হনুমান জীর আশীর্বাদই বললেন। আদরের সঙ্গে সবাই মেনে নিল বাচ্চাটিকে। বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে গেল। এইভাবেই বেশ কেটে গেলো ; তিন বছর পর অঞ্জনার কোলে এলো ওদের ছেলে অদ্রিজ। দুই ভাই বোন কে নিয়ে ওদের জীবন আনন্দে ভরে উঠলো। না ছেলে হওয়ার পর কিন্তু অপালার আদর একটুও কমেনি কারো কাছে , ও যে ওদের সবার কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। আজ সবার নয়নের মনি অপালার জন্মদিন। তাই বাড়িতে হইহই রব। সে যে পাঁচ বছরের হলো।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
দেশ

ভালোবাসা'র বিশেষ দিনে ১০ টাকার গোলাপ ১৫০ টাকাই বিকচ্ছে

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। সারা বিশ্বের চরাই উতরাই পেরিয়ে ভারত হয়ে গ্রাম বাংলাতেও ঢুকে পরেছে এই বিশেষ দিনের উৎসব। এই দিনটি উপলক্ষ্যে উপহার দেওয়ার জন্য একটি গোলাপের চাহিদা আকাশছোঁয়া। শহরতলীর ফুল বাজারে একটি গোলাপের দাম ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা অবধি পৌছে গেছে। তাতেও খরিদ্দারের অভাব নেই। কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে তরুন-তরুনী-র বক্তব্য, ভালোবাসার মুল্য এইভাবেই চোকাতে হয়। এই বিশেষ দিনটি ভ্যালেন্টাইন্স ডে নামেই অধিক পরিচিত। ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে সারা বিশ্বেই ভালবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষক সহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা এই দিনে একে অন্যকে তাদের ভালবাসা নিবেদন করে থাকে। আর পাঁচটা অনুষ্ঠানের মত এটি কোনও বিশেষ ধর্মবলম্বিদের অনুষ্ঠান হিসাবে দেখা হয় না। ধর্ম-মত নির্বিশেষে এই দিনটিকে পালন করা হয়। এই দিনে বিভিন্ন বিনোদন পার্ক ও সিনেমা হল, মল ভালবাসার মানুষে পরিপূর্ণ থাকে। এই বিশেষ দিনে প্রিয়জনকে সবাই ফুল ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে থাকে।এই দিনটি বেশ কিছুদিন আগে অবধিও তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে সেভাবে পালন করা হত না। মুলত যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য দেশের মানুষজনের মধ্যেই এটা সীমাবদ্ধ ছিল। বহু মানুষের ধারনা তৃতীয় বিশ্বে এই দিনটির জনপ্রিয়তার দাবীদার এক বহুল জনপ্রিয় কার্ড এবং গিফট প্রস্তুতকারী সংস্থা আর্চিস। এখন এই দিনটি সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে দেশে আনন্দ উন্মাদনার সাথে পালন করা হয়। পালন করলেও, আমরা অনেকেই এই দিনটি বিশেষত্ত্ব না জেনেই পালন করি। কেন এই দিনটিকে ভালোবাসার দিন বলা হয়ে থাকে? এর অর্থ যাঁরা পালন করছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই জানেন না। এই দিনটি কিভাবে বা কোথা থেকে ভালোবাসার দিন হয়ে উঠলো? ইউরোপের দেশ ইতালি-র রোমে প্রাচীনকালে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল রোমান দেবতাদের রানী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। সেখানকার মানুষজন জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে বিশ্বাস করত। অনেকের মতে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি সেই কারনেই ভালোবাসা দিন বলে মানা হয়। আবার মতান্তরে অনেক বলে থাকেন, রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে সারা দেশে বিবাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এবং তিনি আরও নিদান দেন কোনও যুবক বিবাহ করতে পারবেন না। তাঁরদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তাঁর যুক্তি ছিলো যুবকরা যদি বিবাহ করে তবে যুদ্ধ করবে কে? সম্রাটের এই ভয়ঙ্কর ঘোষণায় প্রতিবাদ করেন এক যুবক। তাঁর নাম ভ্যালেন্টাইন। সাহসী এই যুবকের প্রতিবাদে অশনি সংকেত দেখেছিলেন সম্রাট ক্লডিয়াস। রাজ-বিদ্রোহের শাস্তি স্বরুপ তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ঘুম থেকে ওঠার আগেই ভোরবেলা তাঁর শিরচ্ছেদ করে ফেলা হয়। ভালোবাসার জন্য প্রান বলিদান দেওয়া ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতেই এই দিনটিকে ভালোবাসার দিন হিসাবে পালন করা হয় এটা আরেক শ্রেনী মানুষের মতামত।তবে সেটিও সর্বজনগৃহীত মতবাদ নয়। প্রচুর দ্বিমত আছে। আরেক শ্রেনী মানুষজনের ধারনা, তৎকালীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীদের প্রতি ছিলেন দারুন স্নেহপরায়ণ। অসুস্থ মানুষের তিক্ত ওষুধ খেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই তিনি সেই ওষুধের সাথে দুধ, ওয়াইন, মধু ইত্যাদি নানাবিধ সুস্বাদু জিনিস মিশিয়ে এক মিশ্রন বানিয়ে দিতেন। পরে সেই ডাক্তার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, সবং সেই সময় রোমে খ্রিস্টধর্ম একেবারেই জনপ্রিয় ছিল না। খ্রিস্টধর্মাবলম্বি-দের শাস্তি দেওয়া হতো। কোনও একদিন রোমের এক কারা প্রধান তাঁর অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের কাছে এনেছিলেন। চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইন তাঁকে কথা দিয়েছিলেন তিনি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ট চেষ্টা করবেন মেয়েটিকে দৃষ্টি ফিরে পেতে। মেয়েটির চিকিৎসা চলাকালিন হঠাৎ একদিন রোমান সেনাবাহিনী ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তিনি তাঁদের আচরণে বুঝতে পেরেছিলেন যে, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। মতান্তরে জানা যায় ২৬৯ অথবা ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর আগে ভ্যালেন্টাইন সেই মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট কিছু লিখে রেখে গিয়েছিলেন। তাঁকে হত্যার করার পর সেই কারা প্রধান চিরকুটটি তাঁর মেয়েকে দিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ইতি, তোমার ভ্যালেন্টাইন। মেয়েটি চিরকুট খুলে তার ভিতরে হলুদ রঙের ত্রৌকস ফুলের সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল। ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় সারা দিয়ে মেয়েটির দুচোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। কথিত আছে ভালবাসার এই অমর কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা ভালোবাসার দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করা হচ্ছে।৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন্স ডের ঘোষণা করা হলেও প্রথম দিকে বিশ্বব্যাপী সেইভাবে জনপ্রিয়তা পাইনি। ভ্যালেন্টাইন দিবসের কারণে খ্রিস্টীয় চেতনা বিনষ্ট হওয়ার অভিযোগে ১৭৭৬ এ ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন্স উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডের তৎকালীন ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিক ভাবে এই দিনটির উৎযাপন নিষিদ্ধ করেছিল। এছাড়া অস্ট্রিয়া,হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিনটি জনগণ ও সরকারিভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।বিংশ শতাব্দিতে এসে ভ্যালেন্টাইন্স ডে কদর দারুন ভাবে প্রচার পাই। বর্তমানে পাচ্য ও পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে পালন করা হয়। ভালবাসা দিনে উদযাপনের জন্য মানুষের অর্থনৈতিক ক্রয় ক্ষমতা অনুযায়ী কার্ড, ফুল, চকোলেট ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে থাকেন।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Ahmed Khan : স্ত্রী কে বার্থ ডে স্পেশাল গিফট আহমেদ খানের

স্ত্রীর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে সবাই তার প্রিয় মানুষটিকে পছন্দের জিনিস দিতে চাইবেন। বিশেষ দিনে বলিউডের পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার আহমেদ খান তার স্ত্রী কে যা গিফট করলেন সত্যিই নজরকাড়া একটা উপহার। অনেকেরই এই গিফট দেখে মাথায় হাত দিতে হবে। স্ত্রী শায়রা আহমেদ খানকে তাঁর জন্মদিনে দুর্লভ ব্যাট মোবাইল গাড়ি উপহার দিয়েছেন বাঘি-৩ র পরিচালক। ১৯৮৯ সালে ব্যাটম্যান সিনেমায় ব্যবহৃত গাড়ির অনুকরণেই তৈরি হয়েছে এই গাড়ি। একবার কেউ গাড়িটি দেখলে আর চোখ ফেরাতে পারবেন না। উপহার পেয়ে দারুণ খুশি শায়রা। এই খুশির খবর সোশ্যাল মিডিয়াতেই স্বামীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন, স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় তিনি আপ্লুত। কমেন্ট বক্সে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন দিশা পাটানি, জেলেনিয়া ডিসুজা-সহ অনেকেই। ব্যাট মোবাইল গাড়ির সঙ্গে রীতিমতো পোজ দিয়ে ছবি তুলেছেন শায়রা আহমেদ। সেই ছবি নেটদুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sourav Birthday: জন্মদিনে বাড়িতে গিয়ে সৌরভকে শুভেচ্ছা মমতার, ‘‌দিদি’‌কে ‘‌দাদা’‌র দুর্দান্ত উপহার

নাসরীন সুলতানাবুধবার রাত ১২ টা বাজার পর থেকেই ভরে যাচ্ছিল মোবাইলের ইনবক্স। একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা। প্রিয়জনদের। যাদের কাছে মোবাইল নম্বর নেই, টুইটারই ভরসা। শুভেচ্ছার বন্যায় তিনি যে ভেসে যাবেন, সেটা জানা কথাই। যতই হোক জন্মদিন। তার ওপর নামটা সৌরভ গাঙ্গুলি। সারা বিশ্বে ভক্তর সংখ্যা তো কম নেই। তাই অন্য মাত্রা পেল মহারাজের জন্মদিন। বিকেলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে সৌরভের বাড়িতে হাজির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।আরও পড়ুনঃ হুগো বৌমৌসকে তুলে নিয়ে আবার মুম্বইয়ের ঘর ভাঙল এটিকেমোহনবাগানঅন্যান্য বছরের থেকে এবারের জন্মদিনটা সম্পূর্ণ আলাদা। পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে কোভিড ১৯। মহা ধুমধাম, বিশাল আয়োজন, তেমন কোনও ব্যাপার নেই। একেবারেই ঘরোয়া। বুধবার ঘড়ির কাঁটা ১২টা স্পর্শ করতেই হাজির বড় কেক। স্ত্রী ডোনা, কন্যা সানা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে রাতেই কেক কাটেন সৌরভ। এরমধ্যেই স্ত্রী ডোনার কাছ থেকে দামী ব্র্যান্ড নিউ এমআই আল্ট্রা ১১ মোবাইল উপহার পান সৌরভ। ১২জিবি+ ২৫৬ জিবি ভ্যারিয়ান্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই মোবাইলের দাম ৬৯,৯৯৯ টাকা।আরও পড়ুনঃ ৫৫ বছরের শাপমুক্তি, এই প্রথম ইউরো কাপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ডবৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাড়িতে ভক্তদের ভিড়। কেক, ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির অনেকেই। সৌরভ গাঙ্গুলি ফ্যান ক্লাবের সদস্যরাও কেক, পুস্পস্তবক নিয়ে হাজির। সুদূর চন্ডীগড় থেকে এসেছিলেন কয়েকজন ভক্ত, জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। খাদ্য রসিক বলে পরিচিত ছিলেন সৌরভ। কিন্তু সাম্প্রতিক অসুস্থতার জন্য খাদ্যতলিকা থেকে অনেককিছুই বাদ গেছে। মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। মাছের বিভিন্ন পদ দিয়ে হল জন্মদিনের সেলিব্রেশন। সৌরভের জন্মদিনে অন্যমাত্রা এনে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিকেলে তিনি সৌরভের বাড়িতে হাজির হন। মহারাজের হাতে পুস্পস্তবক তুলে দেন মমতা ব্যানার্জি। দিদিকে সিল্কের শাড়ি ও মিষ্টি উপহার দেন সৌরভ। জন্মদিনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালেন মহারাজ।আমার প্রিয় দাদি। শুভ জন্মদিন। আপনার সামনে একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুখী বছর কামনা করি|My beloved Dadi. Happy birthday. Wishing you a healthy and happy year ahead. pic.twitter.com/wX9WlPZpPU Sachin Tendulkar (@sachin_rt) July 8, 2021ভক্তদের পাশাপাশি এদিন মহারাজের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন সতীর্থরা। শচীন তেন্ডুলকার যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বীরেন্দ্র শেহবাগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ, হরভজন সিং, সুরেশ রায়না, ওয়াসিম জাফররা। সবথেকে চমকপ্রদ টুইট শচীনের। বাংলায় টুইট করে তিনি লিখেছেন, আমার প্রিয় দাদি। শুভ জন্মদিন। আপনার সামনে একটি স্বাস্থ্যকর এবং সুখী বছর কামনা করি। বীরেন্দ্র শেহবগ টুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, দাদার চিন্তাভাবনার সঙ্গে কয়েকজনের মিল রয়েছে। দাদা তোমার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। হরভজন সিং লিখেছেন, আমার ক্যাপ্টেনকে শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমি সবসময় তোমাকে ভালবাসি।

জুলাই ০৮, ২০২১
নিবন্ধ

পিতৃদিবসে বাবাকে খোলা চিঠি এক কন্যার

আজ পিতৃদিবস। আমাদের ছোটবেলায় এরকম কিছুর নাম শুনিনি । বোধহয় কারও জানা ছিল না যে বছরের বিশেষ কোন দিন বাবাদের জন্যও হয়। আমাদের শৈশব ছিল পিতৃময়। সংসারের সিদ্ধান্ত সব বাবাই নেবে, আমরা কি করব, কোথায় পড়ব, কি ভাবে সংসার চলবে সব কিছু। খুব ছোটতে বাবা আমাকে ভোরবেলা উঠিয়ে জল খাইয়ে নিয়ে যেত বাথরুমে। সকাল ৭টায় রিকশা আসবে স্কুলে নিয়ে যেতে।স্কুল থেকে ফিরে বাবাকে দেখতে পেতাম না, বাবার তখন অফিস। কিন্তু দুপুরগুলো চলতো বাবার করে দেওয়া রুটিনে। অঙ্ক দেওয়া থাকত খাতাতে। অঙ্ক কষে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া। সেটাও আগাম বলে দিত বাবা। সন্ধ্যেয় এসে পড়াতে বসা। যখন একটু বড় হলাম, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সাইকেল চালানো শিখতে হবে। আমাদের মফস্বল শহরে কোন বাস সার্ভিস ছিল না। আর রিকশা ভাড়া দিয়ে টানা যাচ্ছে না। তখন তেরো বছরের কিশোরীর চোখে ভয়, লজ্জা সব। সাইকেল আর শেখা হয় না। মাঠে বিকেলে অনেকে খেলছে, কিশোর থেকে কিছু যুবকও। তাদের চোখের সামনে পিঠে পড়লো বিরাশি সিক্কার এক থাপ্পড়। সদ্য কিশোরী আমার মুখ চোখ লাল হয়ে চোখে জল। মারলো তো বাবাই , কিন্তু এত ছেলের সামনে? মুগ্ধ দৃষ্টি গুলো কেমন বদলে গেল ব্যঙ্গের হাসিতে। কিন্তু ওমা! দিব্যি সাইকেল টাও চলতে থাকলো গরগড়িয়ে। একটু হাত সরগর হতেই বাবার সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে হাজারদুয়ারী। বাবা বড় সাইকেল-এ সামনে, আমি পিছনে লেডিস ছোট লাল সাইকেল আমার। বোর্ড-এর পরীক্ষা, ভোরে ওঠা নিয়ে আমি নাজেহাল। ভোরে উঠতে পারি না, বাবা এলো কফির কাপ হাতে। গরম গরম কফি খেয়ে আমি আবার ঘুমে। এইভাবেই কেটে চলে দিন। ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন। বাবা পৌঁছাতে গেল আমাকে, সেদিনটা টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। বাবা আমাকে পৌঁছে টুকিটাকি জিনিস কিনে ফিরে যাচ্ছে, আমি দাঁড়িয়ে আছি দরজায়। বাবা বারবার বলছে তুই ভেতরে না গেলে আমি যাই কি করে আর আমি বলছি, তুমি যাও তারপরে তো যাব আমি। এই পহলে তুম-পহলে তুম এর টানাপোড়েনে কে যে জিতেছিল আজ আর মনেও নেই। বিয়ের পরে আমার ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম কাজ ছিল বাবাকে ফোন করা। ততদিনে বাবা অনেকটাই অসুস্থ, তবু ঘড়ির কাঁটা ৭টা ছুঁলেই ফোন আসত, তুমি কি আমাকে ফোন করতে ভুলে গেলে? তুই নয় তুমি, সম্বোধনেই ধরা পড়ত উষ্মা। তারও পরে তখন আমি মা, সন্তান পালনের টুকিটাকি বাবা আমাকে শিখিয়েছিল। বিশেষত, বাচ্চার খাওয়া-দাওয়া। আমার অতি দুরন্ত মেয়েকেও সামলেছে অপটু হাতে। তখন আমি জীবন যুদ্ধে পাগলপ্রায়। যখন একটু গুছিয়ে বসেছি, কন্যা আমার কাছেই। অফিস থেকে ফেরার পথে বিউটি পার্লার এ বসে আছি। উদ্দেশ্য, কিঞ্চিৎ সৌন্দর্য বৃদ্ধি। বাবার ফোন আসতেই কেটে দিলাম, দ্বিতীয় ফোনটা আসতে ধরলাম। নাহলে রিং করা থামাবেন না উনি। বললাম পার্লার এ আছি, পরে করছি ফোন ঘন্টা খানেক পরে আবার ফোন, বাধ্য হয়ে ধরে বললাম, এখনও হয়নি, শেষ হলে করছি আমার বাবার রাগে ক্ষোভে উক্তি, এখনও ওই পার্লার-এ বসে আছিস, ছোট থেকে এত মন দিয়ে যদি অঙ্কটা করতিস তাহলে কোথায় যে থাকতিস আজ! এবং হতভম্ব আমার প্রত্যুত্তর, এটা কি এইসময় ই মনে এলো তোমার! বাবা চলে গেছে, না বলেই। যে বাবা কিছু আমাকে না বলে করত না, কিরকম যেন এই সিদ্ধান্তটা একাই নিয়ে নিল। বাবাকে কোনদিন বলা হলো না তোমাকে ভালোবাসি। কোনওদিন জীবনে যা ভুল করেছি নতজানু হয়ে স্বীকার করা হল না। বলা হলো না বাবা তোমাকে ছেড়ে থাকা এখনও ভালো করে শেখা হয়নি আমার। অসমাপ্ত শিক্ষা নিয়ে কি করে চলবো আমি। কিছুই তো বলা হল না। তাহলে এতগুলো বছরে কি কথা বললাম আমি বাবার সঙ্গে? এতগুলো জরুরি কথা কি করে বাকি থেকে গেল? কবে শেষ করব এই অসমাপ্ত কথোপকথন আমি আর আমার বাবা? সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

জুন ২০, ২০২১
কলকাতা

ভোটের ভেট, ট্যাবের পর ফুটবল

একেই বলে ভোটের বালাই। বিধানসভা ভোটের আগে স্কুলে স্কুলে ফুটবল বিতরণের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে সাইকেল, বই, খাতা, পোশাক ও জুতো পায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাব কেনার জন্য সবাইকে ১০ হাজার করে টাকা পাঠানো হচ্ছে। এবার, ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলায় আরও বেশি করে উৎসাহ দিতে স্কুলে ফুটবল পাঠানোর কথা ভাবছে সরকার।করোনা অতিমারি সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাস থেকে টানা স্কুল বন্ধ। তবে প্রত্যেকের মিড-ডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বিতরণে ছেদ পড়েনি। আগামী মাসে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা চলছে। রাজ্যের জেলবন্দি আসামিদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়। কেউ ছবি আঁকেন, কেউ ছেনি-হাতুড়ি হাতে স্থাপত্যকলায় মনোনিবেশ করেন। গান, আবৃত্তি, অভিনয়-সহ নানা সাংস্কৃতিক কাজেও আসামিদের উৎসাহ দেয় কারা দফতর। কিছুদিন আগে সংশোধনাগারের সদস্যরা এক লক্ষ ফুটবল তৈরি করেছেন। কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস জানিয়েছেন, সংশোধনাগারের সদস্যদের তৈরি ৫০ হাজার ফুটবল ইতিমধ্যে বিভিন্ন ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছে। বাকি ফুটবলগুলো পড়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেগুলো স্কুলে বিতরণের কথা ভাবা হচ্ছে। এই কারণে আসামিদের হাতে তৈরি ফুটবল স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে সরকার।

জানুয়ারি ৩১, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal