• ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Festival Of Colour

রাজ্য

দোলের দিন দোকান না খোলায় মারধর, দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, তিরে পঞ্চায়েত প্রধানের অনুগামীরা

মদ্যপানের অভিযোগ, দোকান না খোলায় মারধর, পাল্টা অভিযোগ। এতেই জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান। যা নিয়ে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা। বাগদার কৃষক বাজারের সামনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসের উল্টোদিকের দোকান। অভিযোগ এখানে প্রতিদিন মদ্যপান করে প্রধানের অনুগামীরা। সাম্প্রতিক দোকানের সামনে বসতে নিষেধ করেছিল দোকানের মালিক। অভিযোগ, হোলির দিন কেন দোকান খোলেনি সেই আক্রোশে দোকানের মালিক রাজু বিশ্বাস ঘর থেকে বেরোতেই তাকে হেনস্তা করে। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রধানের অনুগামীরা একত্রিত হয়ে রাজু বিশ্বাসকে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাজুকে বাঁচাতে গেলে তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ির উদ্দেশ্য করে বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জিত সরদার ইট নিয়ে আক্রমণ করে, তার ছোড়া ইঁট ওই মহিলার লাগে বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় রাজু বিশ্বাসের দোকান। এই বিষয়ে বাগদা থানার দ্বারস্থ হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। প্রধান কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।অন্তঃসত্ত্বা মহিলা অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনের দোকানে বিভিন্ন সময় মদ্যপান করে গালাগাল করে প্রধানের অনুগামীরা। গতকাল তাঁর স্বামীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করলে স্বামী প্রতিবাদ করতেই তাঁকে মারধর শুরু করে। তিনি ঠেকাতে গেলে তাঁকে ধাক্কা মারা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের আশ্বাসে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন । যদিও এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত শুভেন্দু মন্ডল। শুভেন্দুর দাবি, একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করছিল দোকান মালিক, তিনি ঠেকাতে গেলে তাকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। তিনিও পাল্টা থানায় অভিযোগ করেছেন রাজুর বিরুদ্ধে। বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। পুলিশ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

বিশ্ব কবির বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব ১১ মার্চ, এবারও প্রবেশ নিষেধ সাধারণের

কবি গুরুর বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব হবে ১১ মার্চ। এবারও গতবারের মতো সাবেকি প্রথায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বসন্ত উৎসব। সেখানে একমাত্র বিশ্বভারতীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্তরাই অংশ গ্ৰহণ করতে পারবে। এবারও সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকছে। শুক্রবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসন্ত উৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কর্মীমণ্ডলীর বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিনয় কুমার সোরেন, পাঠভবন, শিক্ষাসত্র সহ বিভিন্ন ভবনের অধ্যক্ষ এবং আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক জানান, যেহেতু গৌর প্রাঙ্গন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এখানে কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠানে পাঁচ লক্ষ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। পৌষ মেলা হয় মেলার মাঠে। সেখানে ৬ দিন ধরে মেলা হয়েছে। তাই জনসমাগমের সংখ্যা ভাগ হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী সাধারণত দোলের দিন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে না। আশ্রমে বসন্ত উৎসবের সাথে যুক্ত নয় কোনও ধর্মীয় অনুষঙ্গ। তাছাড়া হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে এবারও বিশ্বভারতী বেশি সতর্ক। ১১ মার্চ পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্তোৎসব করবে বিশ্বভারতী। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বহাল থাকছে। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষা করতে এবার সতর্ক বিশ্বভারতী। স্বাভাবিক ভাবে দোলপূর্ণিমার দিন হচ্ছে না বসন্তোৎসব। দোলপূর্ণিমা ১৪ মার্চ৷ তার কয়েক দিন আগে ১১ মার্চ বসন্তোৎসব পালন করবে বিশ্বভারতী। কারণ, ১৪ মার্চ শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় থিক থিক করে৷ তাই ওই দিন বসন্তোৎসব করলে বহিরাগতরা আশ্রমে প্রবেশ করে যেতে পারে৷ এদিন, বসন্তোৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন। তাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বিশ্বভারতীতে বসন্তোৎসব হতো আশ্রম মাঠে৷ আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘন্টা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হত৷ উৎসবের সূচনার পরেই বহিরাগতদের তাণ্ডবের সাক্ষী বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক, শান্তিনিকেতনবাসী সকলেই৷ এই আশ্রম মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চৈতি বাড়ি, গৌরপ্রাঙ্গণ, ঘন্টা তলা, কালো বাড়ি, রামকিঙ্কর বেইজের মূল্যবান ভাস্কর্য প্রভৃতি। তাতেও আবির ছুঁড়ে দেওয়া হতে পারে৷ এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বসন্তোৎসব শেষে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসজুড়ে মিলত মদের রাশি রাশি বোতল, প্ল্যাস্টিক প্রভৃতি। এমনকি, বহিরাগতদের হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে বিশ্বভারতীর বহু ছাত্রীকে। এই বিশ্বভারতী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে আর বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার দিয়ে বসন্তোৎসব করতে চায় না বিশ্বভারতী। তাই এবারও বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না৷ রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যের মধ্যদিয়ে পড়ুয়ারা উদযাপন করবে বসন্তোৎসব।শেষবার ২০১৯ সালে আশ্রম মাঠে হয়েছিল বসন্তোৎসব। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উৎসব। ২০২১ সাল থেকে তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বসন্তোৎসবে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন৷ এমনকি, ভিড় এড়াতে দোলপূর্ণিমার দিন বসন্তোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৫
উৎসব

আড়াল আবডালেও যেন 'রাজনীতির রঙ' না লাগে! রঙ নিয়ে ছুতমার্গী রঙীন বাঙালি

দিনগুলি মোর - সোনার খাঁচায় রইল না- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। বাঙালির কোনও অনুষ্ঠানই সম্পূর্ন হয় না কবিগুরুর গান ছাড়া, সে পয়লা বৈশাখ হোক বা বসন্ত উৎসব। সোনার খাঁচার সোনার দিন অনেকটা কল্পনিক লাগলেও বাঙালি আজও রঙ খেলে, সে হোলি বা দোলযাত্রা বা বসন্ত উৎসব যে নামেই হোক।রাত পোহালেই দোলযাত্রা। সাজো সাজো রব বাজারে। নিত্যসামগ্রীর দোকানের নিত্যদ্রব্য সরিয়ে সাময়িক ভাবে জায়গা হয়েছে রঙ-র। নানা রঙের শোভায় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। অতীতে লাল, হলুদ, গোলাপি, নীল, কমলা মত স্বাভাবিক কয়েকটি রঙের আবির-ই দেখা যেত, এখন নানা-রঙের বাহার। বেনিআসহকলা (বেগুনী, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) বাইরেও বেশ কিছু রঙের দেখা মিলছে বাজারে।শহর বর্ধমানে রঙের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, অপ্রচলিত (uncommon) রঙের চাহিদা-ই সবচেয়ে বেশী এইবারে। ভরা ভোট মরসুমে কেউই তাঁর নিজের রঙ চেনাতে নারাজ। তাই লাল, নীল, সবুজ বা গেরুয়ার পরিবর্তে অপ্রচলিত রঙের দিকেই বেশী ঝুঁকেছেন জনগণ। শহরের তেঁতুলতলা পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দোল উৎসবে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নিজ-নিজ দলের রঙের আবিরই কিনছেন।এবারে লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই দোলযাত্রা অনুষ্টিত হতে চলেছে। শিল্পাঞ্চল থেকে বর্ধমান গ্রামীণ-এ শুরু হয়ে গেছে জোড় প্রচার পর্ব। শহর থেকে শহরতলী চলছে দোলের প্রস্তুতি। মল থেকে শুরু করে ছোট-বড় বাজারে আবির ও রঙের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বাজারে কচি কাঁচাদের ভিড় লক্ষণীয়। রঙের ব্যাপারীরা জানাচ্ছেন, ক্রেতাদের মধ্যে এ বার আবিরের চাহিদা বেশী। কিন্তু তারা আবিরের রঙ নিয়ে বেশ সজাগ। সাধারণ ভাবে যে যে রঙ (লাল, নীল, সবুজ, গেরুয়া) রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত বা কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাপ বহন করে, সেই সেই রঙের আবিরের থেকে তারা এড়িয়েই চলছেন। এবারে ক্রেতারা মজেছেন হলুদ, বেগুনি, আকাশি, হালকা গোলাপির মত অনেক নাম না জানা রঙে।রবিবার বর্ধমানে বিরহাটার এক রঙের দোকানে ক্রেতা জানান, এবারে বেশীরভাগ স্কুলের পরীক্ষা হয়ে রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের রঙ মেখে শরীর খারাপ হয়ে পরীক্ষা খারাপ হবে-র মত ব্যাপার নেই। তাই বাচ্ছারা এবারে জোড় কদমে রঙ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্ধমান শহরে বেশ কয়েকটি জায়গায় দোল উৎসব পালন করার আয়োজন করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র টাউনহলে এক দোল উৎসব কমিটির আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী দোল উদযাপন অনুষ্ঠান চলছে।বর্ধমান শহরের বীরহাটার আবির বিক্রেতা জনতার কথা কে জানান, এবারে গোলা রঙের চাহিদা সেই ভাবে নেই বললেই হয়, তাঁর বদলে আবিরের চাহিদা দারুন। বিক্রেতার দাবি, এ বার সবচেয়ে বেশি বিক্রী হচ্ছে হলুদ ও আকাশি আবির। তার পরে বেগুনি ও হালকা আকাশি রঙের আবিরও কিনছেন ক্রেতারা।পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রধান দুই শহর কালনাও বর্ধমান-এ নির্ধারিত দোলের দিনে কোনোরূপ রঙ খেলা হয় না। প্রথামত এইদিন বর্ধমান মহারাজার পরিবার তাঁদের অধিষ্টাত্রী দেবীর পায়ে আবির দিয়ে দোল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, এবং পরের দিন শহরের আম জনতা সকলে রঙের উৎসবে মাতেন। মহারাজাদের শাসনকাল থেকেই এই রীতি চলে আসছে যা আজও প্রবাহমান।শহরের এক বাচিক শিক্ষা কেন্দ্র শ্রুতিশ্রীর প্রধান সুদেষ্ণা আচার্য জনতার কথা কে জানান, তাঁরা তাঁদের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালন করছেন। এবার তারা তাদের উৎসব নতুন পল্লী আদি কালীবাড়িতে পালন করছেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা কোনও অনুষ্ঠান-ই কবিগুরুকে ছাড়া পালন করতে পারিনা, সে ভাবেই তাঁর গান ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান......র মধ্যেই আমরা আমাদের মনের রঙের ফেরী করব আগামীকাল।।বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জনতার কথা কে বলেন, দোল মানেই রঙের উৎসব। দোল মানেই শত দুঃখকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেকে রঙিন করে তোলা। সকল দুঃখ কষ্টকে দূরে সরিয়ে রেখে আনন্দের পথে এগিয়ে চলাই জীবন। আর এই রঙের উৎসব পরিবারের সাথে কাটানোতেই তাঁর সবচেয়ে বেশী অনন্দ বলে তিনি মনে করেন।

মার্চ ২৪, ২০২৪
রাজ্য

জামালপুরে দোল খেলতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত রাজ্য বিজেপি নেতা

শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবার পথে দুস্কৃতি হামলার শিকার হলেন রাজ্য বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায়। ঘটনা বিষয়ে এদিন সন্ধ্যায় জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কল্যান চৌবে। তাঁর অভিযোগের তীর যদিও তৃণমূলের দিকেই। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি নেতার আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার উল্টোডাঙ্গা নিবাসী কল্যাণ চৌবে দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি রাজ্য বিজেপিরও সদস্য। জামালপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে কল্যান চৌবে জানিয়েছেন, শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন তিনি জামালপুরের রাজারামপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। সামনের গাড়িতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। পিছনের গাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যা। বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ তাঁরা মেমারি তারকেশ্বর রোডে মসাগ্রাম লেবেল ক্রসিং এর কাছে পৌছান। কলাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর গাড়ির সামনে বিজেপির একটি পতাকা লাগানো ছিল। এছাড়াও ড্যাসবোর্ডে রাখা ছিল উত্তরীয় ও ব্যাচ। এইসব দেখেই মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায় থাকা দুস্কৃতি দল তাঁকে প্রাণে মেরে দেবার উদ্দেশ্যে আচমকাই তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। কল্যাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনক্রমে তাঁকে ও তাঁর পরিবার সদস্যদের রক্ষা করেন। হামলায় তাঁদের দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন কল্যাণ চৌবে। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ফের স্বপরিবার রাজারামপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিজেপি নেতা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির নেতার আনা এই অভিযোগ কতটা সত্য তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জেলা তৃণমূলের মুখপত্র প্রসেনজিৎ দাস। পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন, ওই বিজেপি নেতার বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজনই হয়তো এইসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের তদন্তেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

মার্চ ১৯, ২০২২
রাজ্য

প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে দোল পূর্ণিমায় রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হন না বর্ধমান ও রাধাবল্লভবাটির বাসিন্দারা

দোল পূর্ণিমার দিন সারা বাংলা মাতোয়ারা থাকলো রঙের উৎসবে।কিন্তু সুপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে এই দিনটিতে আবিরের রঙে রাঙা হন না রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের বাসিন্দারা।এখানে দোল উৎসব পালিত হয় দোল পূর্ণিমার পরের দিন ।রাজা না থাকলেও শতাব্দী প্রাচীন কাল ধরে রাজরীতি মেনেই এই ভাবেই রঙের উৎসব পালন করে চলেছেন বর্ধমানবাসী। একই রকম ভাবে সাবেকী রীতি মেনে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের। রাধাবল্লভবাটি মৌজায় দোল পূর্ণিমার পরদিন পালিত হয় দোল উৎসব। যা জোড়া রাধাবল্লভের দোল নামেই খ্যাত।দোল পূর্ণিমার দিন বর্ধমানবাসী কেন রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হন না তার পিছনেও রয়েছে দেবতাদের প্রতি ভক্তির কাহিনী। কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেন। প্রথম দিন অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনটি বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল ঠাকুর দেবতার দোল উৎসবের দিন। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে খেলা হবে দোল। পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে মানব সাধারণের রঙের উৎসব। সেই রীতির আজও সার্থক উত্তরাধিকারী বর্ধমানের মানুষ। ঐতিহ্য মেনে আজও দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রাচীন বর্ধমানের প্রানকেন্দ্র সর্ব্বমঙ্গলা বাড়িতে দোল উৎসব পালিত হয় এবং বর্ধমানবাসী পরের দিন দোল উৎসব পালন করে।একই রকম ঐতিহ্য মেনে দোল উৎসবের পরদিন জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবে মাতোয়ারা হন জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজা এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রায় চারশো বছর ধরে জোড়া রাধাবল্লভ পূজিত হয়ে আসছেন জামালপুরের রায় পরিবারের মন্দিরে। শনিবার রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে তারপর বিকালে রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হবেন জামালপুরবাসী। মন্দির প্রাঙ্গনে বসবে মেলা। জোড়া রাধাবল্লভের পুজো দেখতে আশপাস এলাকারও বহু মানুষ মন্দির প্রাঙ্গনে এইদিন জড়ো হন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় আজও অন্যতম ঐতিহ্যের সাক্ষ বহন করেচলেছে জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব।জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথা। জামালপুরের রায় পরিবারের সদস্য প্রশান্ত কুমার রায় জানালেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন রাজপুত। প্রায় চার শতাধিক বছর কাল আগে রাজস্থান থেকে বর্ধমানে বানিজ্য করতে এসেছিলেন তাদের রাজপুত সিংহ বংশিয় এক পূর্ব পুরুষ। বর্ধমান জেলার জামালপুরে তিনি আস্তানা গাড়েন। শত্রু আক্রমণ ঠেকাতে গড়কাটা হয় আস্তানার চারপাশ জুড়ে। সেই গড়কাটার সময় মাটি থেকে উদ্ধার হয় রাধাকৃষ্ণের অষ্টধাতুর একটি মূর্তি। রাধাকৃষ্ণ মূর্তিটি রাজপুত পরিবারের কাছে রাধাবল্লভ নামে পরিচিতি পায়। আস্তানা এলাকায় ছোট্ট একটি মন্দির গড়ে রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ শুরু করে রাজপুত পরিবার। সেই সমসাময়িক কালেই কোন এক বৈষ্ণব সাধক ওই মন্দিরের সামনে কষ্টিপাথরের কৃষ্ণ মূর্তি এবং অষ্ট ধাতুর রাধা মূর্তি ফেলে রেখে দিয়ে চলে যান। সেই থেকে দোল উৎসবের পরদিন প্রতিপদ তিথিতে জোড়া রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ হয়ে আসছে রাধাবল্লভ মন্দিরে। প্রশান্ত বাবু জানালেন পূর্বতন বর্ধমান মহারাজা জামালপুরের কয়েকটি মৌজা এলাকার জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাদের পূর্ব পুরুষদের। সেই সময় কালেই রাধাবল্লভ কে স্মরণ করে এখানকার জমিদারি মৌজা রাধাবল্লভবাটি মৌজা নামে পরিচিতি পায়। বর্ধমান মহারাজা কর্তৃক রায় উপাধিতে ভূষিত হয় রাজস্থান থেকে জামালপুরে আস্তানা গাড়া সিংহ পরিবার। ভক্তিতে ভর করেই জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবের দিনেই রঙের উৎসবে মাতেন জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজার বাসিন্দারা।রায় পরিবারের অপর সদস্য পার্থপ্রতিম রায় জানালেন, দোল পূর্ণিমার দিন রাধাবল্লভ মন্দির প্রাঙ্গনে পরিবারের সকল সদস্য মিলে চাঁচর পোড়ান। পূর্ণিমার পর দিন প্রতিপদ তিথিতে বংশের মন্দিরে হয় রাধা বল্লভের পুজোপাঠ। পার্থপ্রতিম বাবু বলেন, রাধাবল্লভের ভোগ অন্নে শুক্তো চাই। এদিন সকাল থেকে শুরু হয় পুজোপাঠ। রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে বিকালে মন্দির চত্ত্বরে এলাকাবাসী আবির খেলায় মাতেন। সন্ধ্যায় বিতরণ করা হয় অন্ন ভোগ।

মার্চ ১৮, ২০২২
নিবন্ধ

নব বসন্ত (ছোট গল্প)

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান--- গান বাজছে পাশের মাঠে। আপন মনে গানটির দিকে পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে বন্ধ জানালা টা খুলে দাঁড়িয়ে পড়ল নীলিমা। যে জানালা গত এক বছর কেউ খুলতে পারে নি। শুভ্র বসনা নীলিমা জানালার গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে। আজ দোল, তাই প্রতি বছরের মত বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে পাড়ার ক্লাব থেকে। প্রতি বছর হয়। নীলিমাদের বাড়ি ঠিক মাঠের পাশে। নীলিমার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা যায় বিকেলবেলা রঙীন প্রজাপতির মতো বাচ্চারা খেলে বেড়ায়। বয়স্করা হাঁটতে আসে। আজ দোল সবাই মেতেছে আবীরের রঙে। নীলিমার মন পড়ে এমনই এক দোলের দিনে হলুদ শাড়ি পড়ার তাকে হলুদ আবীর গালে মাখাতে মাখাতে কিছু যেন বলতে চেয়েছিল একজোড়া চোখ। তখন বুঝতে পারে নি, বলা যায় বুঝতে চায় নি। কারণ অনেক দেরী হয়ে গেছে, ততদিনে নীলিমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে দিব্যেন্দুর সাথে। ও তখন তৃতীয় বর্ষে পড়ে। গ্রাজুয়েশন করে বিয়ে হয় ওর। তারপর আর দেখা হয়নি তার সাথে।বিয়ের পর খুব আনন্দে কাটছিল নীলিমার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা নীলিমার জীবনের সব রঙ কেড়ে নেয়। সেই চরম আঘাতে ও নিজেকেও হারিয়ে ফেলে। একটু একটু করে নিজেকে আবার জীবনের ছন্দে আনার চেষ্টা করছে ও, সেই চেষ্টা করছে যার সাহায্যে সে আর কেউ নয় সেই চোখ জোড়া যার ছিল। যদিও নীলিমা জানত না, কারণ দুর্ঘটনার পর ওদের যে হাসপাতালে নিয়ে যায় আকাশ সেখানকার ডাক্তার। নীলিমা আজ জানালায় দাঁড়িয়ে নিজের অতীত আর বর্তমান নিয়ে ভাবছে। এই দোল, রঙ ছিল ওর ভীষণ প্রিয়--নীলা এখানে কী করছিস মা? পিছনে এসে মা জিজ্ঞাসা করে। তোর চোখে জল কেন? বলেছি না কাঁদবি না। তুই এরকম করে থাকলে আমার কি ভালো লাগে। একটা হলুদ রঙের শাড়ি বিছানার উপর রেখে বলেন এই শাড়িটা পড়ে নীচে চল দেখবি কারা এসেছে। এই বলে নীলিমার শাশুড়ি মা চলে যায়। নীলিমা ভাবে হঠাৎ তাকে কেন সাদা থানার ছেড়ে রঙীন শাড়িটা পড়তে বললো! ও ভাবতে ভাবতে নীচে নামে---কাদের কথা শোনা যাচ্ছে, খুব চেনা লাগছে গলা গুলো ভাবে সে। দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে বসার ঘরের পর্দাটা একটু সরিয়ে অবাক হয়ে যায় নীলিমা। আকাশের সাথে আজ ও ওর মা বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। এবার কী করবো আমি?? ভাবে নীলিমা। আকাশ শুধু ওকে চিকিৎসা করে না শুশ্রূষা করে সঙ্গ দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে। বহুবার বোঝাতে চেয়েছে নতুন করে জীবন শুরু করার কথা। না কিছুতেই আজ ও পারবে না সব সংস্কার পেরিয়ে যেতে। এইসব ভাবছে নীলিমা এমন সময় কই নীলা মা ভিতরে এস বলে ডাকে নীলিমার শ্বশুর মশায়। ভীরু পায়ে ঘরের ভেতর গিয়ে দাঁড়ায়। তোমাকে যে তোমার মা শাড়িটা দিয়ে এল তুমি পরলে না! অবাক চোখে তাকায় নীলিমা। ও কী ভুল শুনছে! নাকি স্বপ্ন দেখছে ভাবে! না মা তুমি ঠিক শুনছো, আমি তোমাকে রঙীন শাড়িটা পড়তে বলছি। আকাশ আমার চোখ খুলে দিয়েছে। ও আমাদের ছেলে হয়ে এসেছে মা তুমি ওকে ফিরিয়ে দিও না। আমি বাবা হয়ে তোমার কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাইছি। আমি তোমাকে বৈধব্য পালন করতে বলে মহা ভুল করেছি। যা নীলা পড়ে আয় শাড়িটা আকাশ নিজে কিনে এনেছে বলেন আকাশের মা। নীলিমার হাত ধরে ঘরে নিয়ে গিয়ে শাড়ি পড়িয়ে আগের মতো সাজিয়ে নিয়ে আসে আকাশের মা। আজই আশীর্বাদ করে যাই আসছে বৈশাখ মাসে শুভ দিন দেখে আমার ঘরের লক্ষ্মী কে নিয়ে যাবে ---- বলে আকাশের বাবা। তাই হোক আমার ঘরের লক্ষ্মী আপনার হোক বলে চোখ মেলে নীলিমার শ্বশুর মশায়। এমন সময় একমুঠো হলুদ আবীর নিয়ে নীলিমার মুখে মাখিয়ে দিতে দিতে আকাশ বলে সারাজীবন এইরকম রঙীন থাকবেনীলিমার দুচোখ আকাশ কে বলে সেই না বলা কথা তুমি এভাবেই আমাকে রাঙিয়ে রেখো সারা জীবন পাশের মাঠে বেজে ওঠে নব বসন্তের দানের ডালি-----

মার্চ ১৮, ২০২২

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

কালীঘাটে হঠাৎ সিআইডি, মমতার আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে ঢুকতেই বাড়ল রহস্য

ফের কালীঘাটে দেখা গেল সিআইডির তৎপরতা। তবে এবার তদন্তকারীরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাননি। পরিবর্তে তাঁরা পৌঁছন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আত্মীয় বসবাস করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই ওই এলাকায় সিআইডির কয়েকজন আধিকারিককে দেখা যায়। তাঁরা সরাসরি একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে যাওয়ার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করেন। এরপর তাঁরা সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন।প্রতিবেশীদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বোন থাকেন। তদন্তকারীরা সেখানেই গিয়েছিলেন। তবে কী কারণে এই সফর, কোন মামলার সূত্রে তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সই জাল সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে তদন্ত জোরদার হয়েছে। এর আগে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জায়গায় তদন্তকারীরা গিয়েছেন। কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।যদিও সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের তরফে সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবুও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটে সিআইডির নতুন পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী তাপস রায়ের বক্তব্য, তদন্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই এবং আইন অনুযায়ী যা করার, তা-ই করা হচ্ছে।তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত। ঠিক কোন মামলার সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে তদন্তকারীরা পৌঁছলেন, সেই উত্তর এখনও সামনে আসেনি। আর সেই কারণেই কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

দরজার বাইরে পুলিশ, ভিতরে নিষেধাজ্ঞা! মমতার বাড়িতে কী ঘটল বৃহস্পতিবার সকালে?

কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে বৃহস্পতিবারও তৈরি হল অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। লালবাজারের পক্ষ থেকে আরও কয়েকজন নিরাপত্তা আধিকারিককে পাঠানো হলেও তাঁদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে সকাল থেকেই কালীঘাটের বাড়ির সামনে শুরু হয় নতুন জল্পনা।সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নতুন নিরাপত্তারক্ষী নিতে রাজি নন। তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তুষ্ট বলেই জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই নতুন করে পাঠানো নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রহণ করা হয়নি।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে কিছু সময়ের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তাঁকেও বাইরে বেরিয়ে আসতে বলা হয়। জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের গ্রহণ করতে চান না এবং সিদ্ধান্ত না বদলানো পর্যন্ত তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।বর্তমানে কালীঘাটের বাড়ির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলের কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মী। তাঁদের সঙ্গে সীমিত সংখ্যক পুলিশকর্মীও রয়েছেন। অন্যদিকে বাড়ির বাইরে কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল চালাচ্ছেন।জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুরনো নিরাপত্তারক্ষীকে তাঁদের আগের ইউনিটে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের ফেরানোর আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ বলে দাবি করেছেন।তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও কাটছাঁট করা হয়নি। তাঁর উচ্চস্তরের নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবেই নতুন নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নতুন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের প্রত্যাবর্তন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির হ্যাটট্রিক, রোনাল্ডোর ব্যর্থতা! শেষ বিশ্বকাপেই কি ভেঙে পড়ছে স্বপ্ন?

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সামনে এখন জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য ট্রফি জিতলেও এখনও বিশ্বকাপ অধরা। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য এবারই সম্ভবত তাঁর শেষ সুযোগ।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজত্ব করছেন রোনাল্ডো। দুই হাজার তিন সালে দেশের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনও পর্তুগালকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। দলের সেরা সাফল্য এখনও উনিশশো ছেষট্টি সালের তৃতীয় স্থান অর্জন।এই বিশ্বকাপে নামার আগে থেকেই রোনাল্ডোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বয়স এখন একচল্লিশ। অনেকের মতে, আগের মতো গতি ও ধার আর নেই তাঁর খেলায়। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর সেই সমালোচনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে একই দিনে লিওনেল মেসির দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক মাধ্যমে রোনাল্ডোকে নিয়ে কটাক্ষও শুরু হয়েছে।পর্তুগালের প্রাক্তন ফুটবলার আন্তোনিও সিমোয়েসের মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, রোনাল্ডো অনেক সময় দলের চেয়ে নিজের খেলাকে বেশি গুরুত্ব দেন। যদিও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পর্তুগাল দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জার্সিতে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যাই প্রমাণ করে তিনি এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।তবে পরিসংখ্যান অন্য আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় জয়ে রোনাল্ডো মাঠে ছিলেন না। সেই কারণে অনেকেই মনে করছেন, তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার সময় এসেছে পর্তুগালের। আবার অন্য একটি অংশের মতে, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচের মানসিক শক্তির জন্য এখনও রোনাল্ডোর বিকল্প নেই।এই বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, রোনাল্ডোর ফুটবল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও হতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ জিততে পারলে তাঁর কেরিয়ার পূর্ণতা পাবে। আর যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার জীবন থেকে বিশ্বকাপ ট্রফির অপূর্ণতা হয়তো কোনও দিন মুছে যাবে না।এখন প্রশ্ন একটাই, শেষ সুযোগে কি ইতিহাস গড়তে পারবেন রোনাল্ডো? নাকি বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে? সেই উত্তর খুঁজতেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

স্পিকারের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর! বিরোধী দলনেতা নিয়ে হাই কোর্টে বড় মোড়

বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বহাল থাকবেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করল না আদালত।রাজ্যের পালাবদলের পর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে। অন্যদিকে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন, অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। সেই দাবি এবং জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত কয়েক দিন ধরে মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, কীভাবে নিশ্চিত হওয়া হয়েছিল যে কোন পক্ষের সমর্থন বেশি।শুনানির সময় স্পিকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথমে জমা দেওয়া চিঠিতে বিধায়ক দলের বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য ছিল না। পরে সেই সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। এর মধ্যেই কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন, তাঁদের নামে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।অন্যদিকে সন্দীপন সাহার পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে একটি পৃথক চিঠি জমা দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। সেই নথি বিবেচনা করেই স্পিকার তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিরোধী ব্লকের নির্বাচিত নেতৃত্বের বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আগামী আটাশে জুলাই ফের এই মামলার শুনানি হবে।উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই এই নির্দেশ এসেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই রায়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাতে সাময়িক ইতি টানল কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

শেষ মুহূর্তে বড় রায়! মোদির যোগ দিবস নিয়ে হাই কোর্ট যা বলল, বদলে গেল সব হিসাব

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রেড রোডেই যোগ দিবস পালন করা যাবে। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দ্রুত রেড রোড খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।একুশে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই উপলক্ষে রেড রোডে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য কয়েক দিনের জন্য রেড রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত অন্তর্বর্তী কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের পথে আর কোনও বাধা থাকল না। তবে আদালত জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য পুলিশকে বিকল্প পথের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি একুশে জুনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দ্রুত রেড রোড খুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।আদালত মামলাকারী পক্ষ এবং রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলবে, তবে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে তার কোনও প্রভাব পড়ছে না।এদিকে যোগ দিবসকে ঘিরে শহরজুড়ে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। একুশে জুন রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে প্রধান অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। তার আগে বিশে জুন গঙ্গাবক্ষে বিশেষ যোগাভ্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় পাঁচশো নৌকোয় একযোগে যোগাভ্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, মিলেনিয়াম পার্ক, বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট এবং বেলুড়-দক্ষিণেশ্বর সংলগ্ন এলাকায় এই বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাশাপাশি ড্রোন প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।হাই কোর্টের এই নির্দেশের পর যোগ দিবসের প্রস্তুতিতে প্রশাসনের গতি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কলকাতার অন্যতম বড় কর্মসূচির পথে আপাতত সমস্ত আইনি জট কেটে গেল।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সবচেয়ে ভরসার নেতাই কি দিলেন বড় ধাক্কা? দলীয় তহবিল ঘিরে অরূপের চিঠিতে তোলপাড়

এক সময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতাদের অন্যতম। কিন্তু এখন সেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন তিনি।সূত্রের খবর, বারো জুন একটি চিঠি পাঠিয়ে অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলের সংসদীয় ও পরিষদীয় শিবিরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার আবেদন জানান তিনি।তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি বলেই জানা যাচ্ছে। কারণ তার আগেই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ জুন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ব্যাঙ্ককেও তা জানানো হয়েছিল।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছিল। কালীঘাটে একাধিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে মতবিরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে খবর। এমনকি তাঁকে ডাকা হলেও সব সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।এরই মধ্যে মেসি-কাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নও ওঠে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের দাবি।রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা ছড়িয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অরূপ।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, যখন তাঁর কাছ থেকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন কেন বারো জুন তিনি ব্যাঙ্কে এই চিঠি পাঠালেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর পিছনে অন্য কোনও কৌশল থাকতে পারে। আবার অন্য অংশের দাবি, তিনি হয়তো দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সন্দীপন সাহার বক্তব্য, অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন মনে করেছিলেন যে অ্যাকাউন্টে কোনও অনিয়ম হতে পারে। সেই কারণেই তিনি ব্যাঙ্ককে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন।তবে এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন নেতা অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ শুধুই প্রশাসনিক উদ্বেগ, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে লুকিয়ে থাকা ভাঙল! তিনবার এড়িয়ে শেষে থানায় অরূপ, সামনে এল মেসি-কাণ্ডের নতুন মোড়

অবশেষে মেসি-কাণ্ডের তদন্তে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর আগে পুলিশের পাঠানো তিনটি নোটিসের পরও তিনি হাজিরা দেননি। ফলে তাঁকে ঘিরে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় দশটার আগে তিনি থানায় পৌঁছন এবং তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন।মেসি সফরকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত গত ডিসেম্বর মাসে। ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, মেসির অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় সত্তর হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তার মধ্যে প্রায় বাইশ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন এবং সেগুলির একটি অংশ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল।শুধু টিকিট বিতর্কই নয়, মেসির সফরের সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। তবে তিনি বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান।যদিও এই মামলায় আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। হাই কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সতেরো অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। সেই নির্দেশের পরই তাঁর এই হাজিরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মেসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দলের একটি চিঠি ঘিরে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মেসির উপস্থিতির সময় মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের ভেতরে কোনও বিশেষ অতিথি বা ভিআইপির থাকার অনুমতি ছিল না। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ।মেসির ব্যবস্থাপনা দলের দাবি, ছবি তোলার সময় বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগের ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা। এই সমস্ত অভিযোগের জেরেই মেসি-কাণ্ডের তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

অ্যাসিড হামলায় প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন! বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে গোল করে ইতিহাস গড়লেন কঙ্গোর নায়ক

পাঁচ বছর আগে ভয়াবহ এক অ্যাসিড হামলায় বদলে গিয়েছিল তাঁর জীবন। মুখ ঝলসে গিয়েছিল, দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারাতে বসেছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর ফুটবল জীবন হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু স্বপ্নকে হার মানাতে পারেনি সেই ভয়ঙ্কর আঘাত। আজ সেই ফুটবলারই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।কঙ্গোর তারকা ইয়োয়ান উইসার জীবন যেন এক রূপকথার গল্প। বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিরুদ্ধে তাঁর করা একটি গোল শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, ইতিহাসও তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব এখন তাঁর নামের পাশে।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার থেকে আসা বল দুরন্ত হেডে জালে জড়িয়ে দেন উইসা। সেই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা কঙ্গো। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দেওয়ায় আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে দেশজুড়ে।কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ভয়াবহ এক অধ্যায়। দুই হাজার একুশ সালের এক জুলাই নিজের বাড়িতে ভয়ঙ্কর অ্যাসিড হামলার শিকার হন উইসা। এক নারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে আচমকা মুখে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়। এমনকি তাঁর মেয়েকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকদের একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়। চোখের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। পরে আদালতে উইসা জানিয়েছিলেন, সেই মুহূর্তে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন তাঁর চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর অভিযুক্ত নারীকে হত্যাচেষ্টা এবং অপহরণের দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের রায় এলেও উইসার জীবনের ক্ষত সহজে মুছে যায়নি। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।তবুও তিনি হার মানেননি। ধীরে ধীরে মাঠে ফিরেছেন, নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। পরিবারের সমর্থন এবং সন্তানদের কথা ভেবেই তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শক্তি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।আজ সেই উইসাই বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন। অ্যাসিড হামলার বিভীষিকা থেকে উঠে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে গোল করা শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়, এটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ।কঙ্গোর মানুষ আজ তাঁকে শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, আশা এবং সাহসের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনে যত বড় ঝড়ই আসুক, স্বপ্নকে থামানো যায় না।

জুন ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal