• ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Election

রাজ্য

৭ হাজার জীবন্ত ভোটার গায়েব, হাজার হাজার মৃতের নাম তালিকায়—মালদহে চরম গরমিল

মালদহের ভোটার তালিকা ঘেঁটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ। তালিকা হাতে নিয়ে দেখা গেলএখনও জীবিতদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটার হিসেবে রয়েছেন হাজার হাজার মৃত মানুষ। শুধু তাই নয়, জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আরও কয়েক হাজার আসল ভোটারকে। যে পরিস্থিতি ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল।সূত্রের খবর, মালদহ জেলায় ভোটার তালিকায় খোঁজ মিলছে না ৭ হাজার ১৭১ জন ভোটারের। এঁদের বাড়িতে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছয়নি, এবং স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সন্ধানও পায়নি। অন্যদিকে একই তালিকায় রয়ে গিয়েছে ৫ হাজার ৫৭২ জন মৃত ব্যক্তির নাম। ২০২৫ সালের এখনও কার্যকর তালিকায় মৃতদের নাম দেখে অবাক হয়ে যান কমিশনের আধিকারিকরা।বৃহস্পতিবার এসআইআরস্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনএর কাজ পর্যালোচনা করতেই মালদহে আসে কেন্দ্রীয় কমিশনের প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ ভারতী। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলা প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে তাঁরা জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে একে একে তালিকার ত্রুটি, মৃত ভোটারদের নাম এবং অনট্রেসযোগ্য ভোটারদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।জেলায় কোন কোন বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা, সেই হিসেবও উঠে আসে বৈঠকে। দেখা যায়ইংরেজবাজার কেন্দ্রে নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক, ১১৭৩ জন। এরপরেই সুজাপুরে ৯৯৬ জন, রতুয়ায় ৯৪৪ জন, মানিকচকে ৮৩০ জন এবং বৈষ্ণবনগরে ৭৮৬ জন ভোটারের হদিশই মিলছে না।শুধু নিখোঁজ নয়, তালিকায় মৃতদের সংখ্যাও কম নয়। মৃত ভোটারের সংখ্যায়ও শীর্ষে ইংরেজবাজারএখানে মৃত হয়েও তালিকায় নাম রয়েছে ১০১৭ জনের। সুজাপুরে ৮২২, রতুয়ায় ৬৮২, মানিকচকে ৬৪১, মালদহ কেন্দ্রেই ৬১৯ এবং বৈষ্ণবনগরে ৫৯৪ জন মৃত মানুষের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে।কমিশনের নির্দেশপদ্ধতি মেনে দ্রুত নোটিস দিয়ে মৃতদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং যাঁদের খোঁজ নেই তাঁদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বৈঠকের শেষে কমিশনের প্রতিনিধিদের বার্তাও স্পষ্টএভাবে ভোটার তালিকার ভুল-ত্রুটি চলতে দেওয়া যাবে না।মালদহের এই বিশাল গরমিল ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ভোটের আগে এমন চিত্র সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
কলকাতা

“এসআইআর বন্ধ করুন”—নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার, আতঙ্কে রাজ্য

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক ও অমানবিক। অবিলম্বে প্রক্রিয়া বন্ধ বা স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কয়েক হাজার বিএলও দিনরাত রাস্তায় ঘুরে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, নেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এতে এমন সব ভুল-ত্রুটি তৈরি হবে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বইতে হবে। অনেক প্রকৃত ভোটার ভুলবশত বাদ পড়ে যেতে পারেন। মমতার কথায়, এভাবে চাপিয়ে দেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়বে।চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আত্মহত্যা, অসুস্থতা, হতাশার খবর আসছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে। ইতিমধ্যেই এক বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ওপর ভয়ঙ্কর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মমতার দাবি, এই পরিস্থিতি বোঝার বদলে কলকাতার সিইও দপ্তর উল্টো বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে, শোকজ করছে, কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অমানবিক করে তুলছে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় দায়িত্ব কি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করা সম্ভব? ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ডেটা আপলোড করার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, চরম চাপে ভুলভ্রান্তি অনিবার্য, আর ভুল ফর্ম জমা পড়লে প্রকৃত ভোটারই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে লিখেছেন, এই প্রক্রিয়া যে উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের ভয়, দুর্দশা ও অস্থিরতা সরাসরি অনুভব করছেন। সেই কারণেই এসআইআর স্থগিত বা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও চান।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর আতঙ্ক কি এবার বিএলওদের জীবন বিপন্ন করছে? সেরিব্রাল অ্যাটাকে পক্ষাঘাতের শিকার তপতী

এসআইআর ঘিরে রাজ্যজুড়ে যখন আতঙ্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন হুগলির কোন্নগরের বিএলও তপতী বিশ্বাস। বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো এনুমারেশন ফর্ম বিলি করতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই রাস্তার মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রাই তাঁকে দ্রুত কোন্নগর পুরসভার হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, তপতীদেবীর সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছে এবং এর ফলে তাঁর শরীরের বাঁ দিক পুরোপুরি অবশ হয়ে গিয়েছে।তপতীর স্বামী প্রবীর বিশ্বাস জানাচ্ছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্ত্রী প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন। এসআইআর সংক্রান্ত কাজের চাপ, মানুষের প্রশ্নের জবাব দেওয়া, এবং প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম বিলি করার চাপ আর নিতে পারছিলেন না তিনি। প্রবীরের কথায়, ও খুবই চিন্তায় ছিল। মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এমন অবস্থায় আর কাজ চালানো সম্ভব ছিল না।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের তরফে তপতী বিশ্বাসকে বিএলও-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, আপাতত তপতীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখছেন।এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে নানা আশঙ্কা, গুঞ্জন ও ভুল বোঝাবুঝি ছড়িয়েছে। অনেকের মনেই বাড়ছে অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং দেশছাড়া হওয়ার ভয়। শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রমাগত কাজের চাপে বিএলওরাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে। তপতী বিশ্বাসের এই ঘটনা সেই আতঙ্ক-চাপের আরেকটি নির্মম প্রতিচ্ছবি।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

চেয়ারের লড়াই শুরু! চিরাগের উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে BJP-তে চাপ

বিহার ভোটের ফল বেরোনোর পরই যেন বদলে গেল পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রচার পর্বের শেষদিনেই চিরাগ পাসওয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, তিনি চান উপমুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা হয়তো নির্বাচনী বক্তব্যের আবেগ। কিন্তু ফল বেরোতেই দেখা গেল, ছোট দল নিয়েও তিনি বড় কাজ করে ফেলেছেন। এলজেপি মাত্র ২৯টি আসনে লড়েই দখল করেছে ১৯টিযা বিহারের ক্ষমতার অঙ্কে বড় ভূমিকা রাখার মতো সাফল্য।এত বড় ফলের পর চিরাগ যে নিজের দাবি আরও জোরে তুলবেন, তা আগেভাগেই অনুমান ছিল। সেই দাবির পথেই যেন হাঁটা শুরু করে দিলেন তিনি। শনিবার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন চিরাগ। রাজনৈতিক মহলে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যে নীতীশের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তিনি সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই নীতীশের সঙ্গেই এখন উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।২০২০ সালের ভোটে এলজেপি ১৩০ আসনে লড়েও মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছিল। কিন্তু সেই ভোট কাটাকাটিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেডিইউ। সেই সময় থেকেই নীতীশচিরাগ সম্পর্কের তিক্ততা চরমে ওঠে। কিন্তু ২০২৫এর আগে বিজেপি ফের চিরাগকে এনডিএতে ফিরিয়ে আনে এবং নীতীশের সঙ্গেও দূরত্ব কমায়। এবার সেই ঘনিষ্ঠতা বিজেপির জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করে দিতে পারে।সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিমুখে ছবি পোস্ট করেছেন চিরাগ। সঙ্গে লিখেছেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এলজেপির প্রার্থীদের প্রতি তাঁর সমর্থন প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক মহল বলছে, চিরাগের প্রশংসার লক্ষ্য BJPর দিকে স্পষ্ট বার্তানীতীশকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান। আর তার সঙ্গে তাঁর নিজের দাবিও জোরদার হবেউপমুখ্যমন্ত্রীর পদ চাই তাঁর দলে।বিহারের বিদায়ী মন্ত্রিসভায় দুই ডেপুটি সিএমই বিজেপির। কিন্তু যদি চিরাগ সরাসরি উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করেন, তবে BJPর পক্ষে সেই দুই চেয়ার ধরে রাখা কঠিন হবে। আবার চিরাগকে রাগানোও ঝুঁকির। কারণ ভবিষ্যতে যদি BJP আর JDUর মধ্যে কোনও টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চিরাগই হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ।বিহার রাজনীতির অঙ্ক তাই আবারও বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেআর তার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রামবিলাস পাসওয়ানের উত্তরাধিকারী, যুবা বিহারী চিরাগ পাসওয়ান।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

নকশাল-অধ্যুষিত অঞ্চলে রেকর্ড ভোট—কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

বিহার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ যখন তুঙ্গে, তখন বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরব হয়ে সোজাসুজি ভরসা দিলেন কমিশনকে। বিশেষত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) নিয়ে যে আপত্তি উঠেছিল, সেই ইস্যুতে তিনি বললেনভোটাররা, বিশেষ করে যুবসমাজ, ভোটার তালিকা বিশুদ্ধকরণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তাঁর কথায়, পরিষ্কার ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের মূল ভিত, তাই সব রাজনৈতিক দলকেই বুথ স্তরে ভোটার তালিকা যাচাইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত।বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং বিরোধীদের তোলা অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। তিনি দাবি করেন, যে সব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা। মোদীর মতে, যুবসমাজ এখন অনেক বেশি সচেতনতালিকা থেকে নকল নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার যুক্ত করাকে তারা গুরুত্বের চোখে দেখে, তাই এই পরিশোধন প্রক্রিয়া অনিবার্য।বক্তৃতায় আরজেডিকে সরাসরি নিশানা করেন মোদী। তিনি বলেন, জঙ্গল রাজ এবং কট্টা সরকার-এর কথা আগে কেউ চ্যালেঞ্জ করত না, কিন্তু এখন সময় বদলে গিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণাকট্টা সরকার কখনও ফেরার নয়। এই বক্তব্যে মোদী জানিয়ে দেন যে পুরনো অভিশাপের দিন শেষ, এবং মানুষ এখন উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ রাজনীতি চায়।বিহারের রায়কে গণতন্ত্রের বড় জয় বলে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব এলাকা আগে নকশাল-প্রভাবিত ছিল বা উপেক্ষিত ছিল, সেখানকার ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি গণতন্ত্রের শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ এখন ভোটব্যবস্থাকে বিশ্বাস করে, এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের মত প্রকাশ করতে আগ্রহী।মোদীর মতে, এই ফলাফল শুধু কোনও এক দলের জয় নয়, বরং মানুষের আস্থার জয়, এবং পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলবিহার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
কলকাতা

SIR-এ ঝড়! বিহারের ভোটে হাওয়া বদলে দিল তিন অক্ষরের শব্দ—বাংলায় কি নিশ্চিত ভূমিকম্প?

বিহারের ভোটে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা হল SIRস্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন। তিন অক্ষরের এই শব্দই সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, সরকার নাকি ভোটার তালিকা কাটাছাঁট করে বিরোধী ভোট সাফ করার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে এত বিতর্ক প্রায় কখনও হয়নি। আজ যখন বিহারের রায় স্পষ্টনীতীশ কুমার ও NDA-র জয়জয়কারস্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই SIR ইস্যু ভোটে কতটা প্রভাব ফেলল?এই প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে আরও একটি কারণে২০২৬ সালে বাংলার ভোট। বাংলাতেও চলছে SIR প্রক্রিয়া। ফলে বিহারের ফলাফলের পর SIR ঘিরে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে Popular Sovereignty, অর্থাৎ শেষ কথা বলছেন জনতাই। বিরোধীরা যতই ন্যারেটিভ তৈরি করুক, জনতার মন যে কোন দিকে ঘুরে গিয়েছে, সেটা ঠিকমতো বুঝতে পারেনি তারা। SIR ইস্যুকেই তারা রাজনৈতিক Bandwagon Effect হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেষ হাওয়া যেন উলটেই গেল।বিগত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন SIR-এর নোটিফিকেশন জারি করে। মৃত, ভুয়ো এবং অনুপস্থিত ভোটার বাদ দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। ২৫ জুন থেকে শুরু হয় ফর্ম ফিলআপ। ১ অগাস্ট বেরোয় খসড়া তালিকা। এরপর দাবি-আপত্তির শুনানি। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তেড়ে আসে। আরজেডি, কংগ্রেস, বামসবাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিরোধীরা সরাসরি বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করে।সবচেয়ে জোরালো ছিলেন তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, SIR করে বিরোধীদের ভোট কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেনখসড়া ভোটার তালিকায় নাকি তাঁর নিজের নামই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেনSIR হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশন নাকি বিজেপির হয়ে কাজ করছে।কিন্তু এই সব অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি বিজেপি বা নীতীশ কুমারের দল। তাদের বক্তব্য, SIR চলছে বহু বছর ধরে, ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার এটাই সঠিক উপায়। বিজেপির প্রেম শুক্লা কটাক্ষ করে বলেন, SIR নিয়ে কংগ্রেস যত কথা বলেছে, তার ফলেই তারা এখন ১টা সিটে এসে দাঁড়িয়েছে।শেষ পর্যন্ত দেখাই গেলবিহারের ভোটাররা বিরোধীদের অভিযোগ মানল না। তারা SIR নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে NDA-র সঙ্গেই দাঁড়াল। NDA ২০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে গেল। SIR ইস্যু নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছিল, তার প্রভাব ভোটে খুব একটা টের পাওয়া গেল না।বাংলাতেও এখন SIR নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক। BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছেন, ভোটার যাচাই করছেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছেএই প্রক্রিয়ায় নাকি অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী, মতুয়া, রাজবংশীএই ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে বিজেপি নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম কেটে দেবে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে। বিজেপিকেও এক হাত নেন। তাঁর দাবি, SIR হচ্ছে বিজেপির সুবিধা করার অপারেশন, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন। অখিলেশ যাদবও মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, বিহারে যে খেলা SIR নিয়ে হয়েছে, তা বাংলায় বা উত্তরপ্রদেশে চলবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেনএবার আমরাও খেলব।অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছেSIR-এ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আগেও হয়েছে। ভুয়ো, মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম কাটলেই স্বাভাবিক তালিকা তৈরি হবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবিবাংলায় প্রায় ১ কোটি ভুয়ো/অবৈধ ভোট রয়েছে। এগুলো বাদ পড়লে তৃণমূলের ভোট মার্জিন কমবে। এমনকি বিজেপির দাবিSIR শুরু হওয়ার পরই অনেক অবৈধ ভোটার নাকি এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।তাহলে বিহারের মতো বাংলাতেও কি SIR-এ বদলে যাবে সমীকরণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত কিন্তু বিভক্ত। একাংশ বলছেবিহারের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতি এক নয়, তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি বিশাল। আবার অন্য পক্ষের মতেবিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের তফাৎ মাত্র ৪-৫ শতাংশ। SIR-এর কারণে ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে গেরুয়া শিবিরই লাভবান হতে পারে।শেষ পর্যন্ত কোন ভবিষ্যৎ ঘটবে তা জানতে হলে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া পথ নেই। তবে বিহারের ছবিটা স্পষ্টমহাগঠবন্ধনকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নীতীশ কুমার ও NDA-ই এগিয়ে ২০৮টি আসনে, আর বিরোধীরা মাত্র ২৮টিতে। বিশাল ব্যবধানে NDA-র রিটার্ন।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারের ভোটে লালু পরিবারের ‘ডাবল শক’—তেজস্বী ও তেজপ্রতাপ দু’জনেই সংকটে

রাঘোপুরযে আসনকে একসময় বলা হতো লালু-রাজের অটুট দুর্গ। যেখানে জিতেছেন লালু প্রসাদ যাদব, জিতেছেন তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, এমনকি লড়াইয়ে জিতে গিয়েছিলেন পুত্র তেজস্বী যাদবও। কিন্তু সেই লালু-দুর্গেই এবার বদলে গেল হাওয়া। সকাল থেকে শক্ত হাতে লড়াই ধরে রাখলেও তৃতীয় রাউন্ডের গণনায় দেখা গেল, পিছিয়ে পড়েছেন তেজস্বী। তাঁকে ১,২৭৩ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সতীশ কুমার।গঙ্গা ঘেরা বৈশালীর রাঘোপুর বরাবরই আরজেডির অটোমেটিক জয়-এর আসন। ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত এখানে লড়ছেন তেজস্বী। আগের নির্বাচনে ৩৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছে না। অদ্ভুতভাবে আবারও সামনে চলে এসেছে ২০১০সেই বছরই একই সতীশ যাদব রাবড়ি দেবীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। এবার কি সেই ইতিহাসই তেজস্বীর বিরুদ্ধে ফিরছে? উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি, কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।আরজেডির সঙ্কট শুধু তেজস্বীকে ঘিরে নয়। বিপদে তেজপ্রতাপ যাদবও। প্রণয়ঘটিত বিতর্কের জেরে তাঁকে সম্প্রতি বহিষ্কার করেছে বাবা লালু প্রসাদ যাদবই। বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয়। দলছাড়া হয়ে তেজপ্রতাপ নিজেই গড়েন নতুন দলজনশক্তি জনতা দল। মহুয়া কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ে নামলেও সেখানেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তৃতীয় রাউন্ডের গণনায় দেখা যাচ্ছে, এলজেপির প্রার্থী সঞ্জয় কুমার সিংয়ের কাছে তিনি পিছিয়ে আছেন প্রায় ১০ হাজার ভোটে। একসময় রাজনীতির রাজপুত্র বলা হলেও বিহারের হাই ভোল্টেজ ভোটে তেজপ্রতাপ এখন যেন লাস্ট বেঞ্চার।লালু পরিবারের দুই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর এই টালমাটাল অবস্থায় প্রশ্ন উঠছেআরজেডির ক্ষমতার দুর্গ কি তবে সত্যিই ভেঙে পড়ছে? রাঘোপুরের মাটি কি হাতছাড়া হচ্ছে লালু পরিবারের?

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহার ভোটে কেন হারল আরজেডি? নীতীশের এক ঘোষণাতেই খেলা ঘুরল

বিহারের ভোটে মোদী ম্যাজিকের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিল এনডিএ-র সম্মিলিত ম্যাজিক। গণনা শুরু হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেলবিহারে ফের এনডিএ-র সরকার। নীতীশ কুমারের অভিজ্ঞ হাত, সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির জুটিএই দুই ফ্যাক্টরই ভোটারদের মন জিতে নিয়েছে। উন্নয়নের স্রোতে গা ভাসিয়ে বিহার এবার নতুন অধ্যায়ে ঢুকতে চলেছে। কিন্তু কীভাবে এত বিপুল সমর্থন পেল এনডিএ? কোন কোন প্রতিশ্রুতি আসলে ভোটের ছবি পুরো বদলে দিল?সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে নীতীশ কুমারের মহিলাদের জন্য ঘোষণা করা আর্থিক প্যাকেজ। রাজ্যের প্রায় ১.৩ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা ঢুকে যাওয়ায় মহিলাদের ভোটে রেকর্ড ভিড় দেখা গেছে। এই নির্বাচনে ৭১ শতাংশেরও বেশি মহিলা ভোট দিয়েছেনযা বিহারের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তেজস্বী যাদব যদিও ২৫০০ টাকার স্কিম ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু নীতীশের দশ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়নেই বাজিমাৎ।আলাদা করে প্রভাব ফেলেছে ফ্রি বিদ্যুতের ঘোষণা। ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাওয়ার সিদ্ধান্ত বিহারের গ্রামের, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে। বহু পরিবার যেখানে প্রতিদিন অর্ধ অন্ধকারে দিন কাটাত, সেখানে এই সুবিধাই ভোটের অন্যতম বড় চালক।আরও বড় গেম চেঞ্জারপেনশন। বিহারের প্রায় ১.২ কোটি প্রবীণ নাগরিকের পেনশন ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত এনডিএ-কে প্রবল বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বহু প্রবীণ ভোটার জানিয়ে দিয়েছেন, এই এক প্রতিশ্রুতি তাঁদের জীবনে বড় বদল আনে। নীতীশকেও এই স্কিম জনদরদী নেতার ভাবমূর্তিতে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বেকারত্ব, ক্ষোভসব ছাপিয়ে ভোটগণনায় এই স্কিমগুলিই শেষ কথা বলেছে।প্রচারের ময়দানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁরা উন্নয়নের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বারবার তুলে ধরেছেন আরজেডির আমলের জঙ্গলরাজ। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে কাট্টা শব্দও শোনা গেছে, যা বিহারের পুরনো ভয়কে মনে করিয়ে দিয়েছে বহু ভোটারের। ফলত, ভয় ও উন্নয়নদুই মিশ্রণেই ভোটারদের বড় অংশ এনডিএ-র দিকে ঝুঁকেছে।সব মিলিয়ে উন্নয়ন, আর্থিক সাহায্য, সরকারি স্কিম এবং বিরোধীদের প্রতি অবিশ্বাসএই চার স্তম্ভই এনডিএ-র বিপুল জয়ের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
কলকাতা

বিহারের ফল বাংলায় প্রভাব ফেলবে? কুণাল ঘোষের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক

আর মাত্র কয়েক মাস পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক সেই সময়েই বিহারে এনডিএ-র বিপুল আসনজয় বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি শিবিরে এখন একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছেবিহার পারলে বাংলা-ও পারবে। বিহারের জয়ের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের বহু নেতা প্রকাশ্যে দাবি করছেন, এবার পালা বাংলার।এই উচ্ছ্বাসের পাল্টা জবাব দিতে বেশি সময় নিলেন না তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যবাংলার মাটি আলাদা, বাংলার ভোটের চরিত্রও আলাদা। বিহারের ফল বাংলায় কপি-পেস্ট হবে না। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। বিহারে SIR শেষ হওয়ার পরই ভোটগ্রহণ হয়েছে। বাংলাতেও ইতিমধ্যে SIR শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সে কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রক্রিয়া শেষ হলেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অবশ্য দাবি করেছেন, বাংলায় SIR-এর প্রভাব বিজেপির পক্ষে যাবে।কিন্তু কুণাল ঘোষ এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করেছেন। বিহারের প্রাথমিক গণনা চলাকালীনই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে দেনবিহারের ভোট বাংলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের কাছে উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মানএই সবই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবারও আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।কুণালের অভিযোগ, বাংলায় SIR এবং তার সঙ্গে জড়িত নানা প্রক্রিয়ায় বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চক্রান্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও ক্ষমতার অপব্যবহারও হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তবে তৃণমূল যে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে BJP-র সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেবে, সেকথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন।এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যে বিজেপি বিরোধীতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থবিহারের ফল আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।বিজেপির হুমকিকে তিনি কড়া সুরে এদিন আক্রমণ করেছেন। বলেন, বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দেওয়ার কোনো মানে নেই। বাংলার মানুষের আত্মসম্মান ও অধিকারকে আঘাত করে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে ভোট পাওয়া যায় না। বাংলায় বছরজুড়ে একটাই নামমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উন্নয়ন-মডেল অনুসরণ করছে বহু রাজ্য। তাই বাংলার মানুষও সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করে, ভবিষ্যতেও করবে। শেষেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেনবাংলার সঙ্গে বিহারের কষ্টকল্পিত তুলনা করে সময় নষ্ট করবেন না।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারের জয়ের পর বাংলায় উল্লাস—পরিবর্তনের বার্তা কি আরও জোরালো?

বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। মহাগাঁটবন্ধন কার্যত আইসিইউ-তে, আর সেই জয়যাত্রার রেশ এবার ছুঁয়ে গেল ভোটমুখী বাংলাকেও। হাওড়া ব্রিজ থেকে হুগলি, নদিয়া থেকে উত্তরবঙ্গবাংলাজুড়ে পদ্ম শিবিরের উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না। হাওড়া ব্রিজের ওপর গেরুয়া আবির উড়ে উঠল, বাজনার তালে নাচলেন বিজেপি কর্মীরা। স্থানীয়দের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিজয়োল্লাসে মাতল হাওড়া জেলা। শোনা গেল একের পর এক জয়ধ্বনিমোদি, মোদি।উত্তরবঙ্গে উৎসব আরও উচ্ছ্বাসমুখর। জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে ঢাক বাজিয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লাড্ডু খাইয়ে বিজেপি কর্মীরা খেললেন অকাল হোলি। পুরো এলাকা গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে উঠল। সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখগুলোও আজ আনন্দে মেতে উঠলেন। গেরুয়া আবিরে ভিজে গিয়ে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিলেনবিহারের পর এবার বাংলার পালা, পরিবর্তন আর বেশি দূরে নয়।ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়েও শুক্রবার দুপুরে বাজি ফাটিয়ে আবির খেললেন কর্মীরা। স্লোগানে গর্জে উঠলবিহার দেখিয়েছে, বাংলা দেখবে। নদিয়ার রানাঘাটে ঢাকের তালে তালে নেচে বিজয়োল্লাস করলেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপির কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হল লাড্ডু।হুগলির শেওড়াফুলি থেকেও উঠল উল্লাসের ঝড়। বিজেপি কর্মীরা আবির ছড়িয়ে মানুষকে মিষ্টি বিলি করলেন, হাতে তখন বিহার পারল, বাংলাও পারবে লেখা পোস্টার। সিঙ্গুরের বুড়া শান্তি এলাকাতেও দেখা গেল একই ছবিদলীয় কার্যালয়ের সামনে পথচলতি মানুষকে লাড্ডু বিলি করে বিজেপি কর্মীদের একটাই দাবিবিহারের জয় বাংলা নির্বাচনে আগাম ইঙ্গিত।বিহারে এনডিএ-র অভাবনীয় জয়ের ঢেউ এখন বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তাঁদের দাবিসময় মাত্র, বাংলাতেও গেরুয়া ঢেউ আসবেই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

চূড়ান্ত ফ্লপ! বিহারে কেন মুখ থুবড়ে পড়ল প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী?

২০২০ সালের ডিসেম্বরেও প্রশান্ত কিশোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেনবাংলায় বিজেপি একশো আসন ছুঁতে পারবে না। সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও গিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পর বিহার নির্বাচনে তাঁর কথামতো কিছুই ঘটল না। উল্টে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে যে রাজনৈতিক মহলে এখন সেটাই বড় আলোচ্য। ভোটের আগে প্রশান্ত বলেছিলেন, জেডিইউ পঁচিশের বেশি আসন পাবে না, নীতীশ কুমার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। একটিও মিলল না। বরং স্পষ্ট হয়ে গেলবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর দল জন সুরাজ পার্টির প্রভাব কার্যত শূন্য। শুধু নিজের জিত নয়, অন্য দলের ভোট কেটে ফেলার মতো শক্তিতেও পৌঁছতে পারেনি তাঁর দল। ভোটকুশলী হিসাবে তিনি যত সফল, রাজনীতিতে সরাসরি নেমে যেন হয়েছেন জলহীন মাছ।প্রশান্ত কিশোর রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন একেবারে কর্পোরেট সাজে। সারা দেশে ভোটকুশলী হিসাবে সাফল্যের ছাপ, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা, বিহারে তিন বছরের পদযাত্রা, বিশাল তাবড় তাবড় সভাসব মিলিয়ে শুরুটা ধুমধাম করেই হয়েছিল। কর্পোরেট ধাঁচে দল ঘোষণা, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রচার, ভিনরাজ্যের পরিযায়ী বিহারীদের আলাদা করে টিম বানিয়ে প্রচারের কৌশলসবই ছিল যথেষ্ট চমকপ্রদ। আর তার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তুমুল প্রচার।কিন্তু এনডিএ বনাম মহাজোটের পুরনো লড়াইয়ের মাঝখানে তৃতীয় শক্তি হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত স্বপ্নই থেকে গেল। প্রশান্তর জন সুরাজ পার্টি নতুন রাজনীতি, নতুন ভোর, জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠাএসবই বলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু রাজনীতির বাস্তব মঞ্চে সেই ঝলক দেখা গেল না। সংবাদমাধ্যমে মাঝে মাঝে ইন্টারভিউ, নানা বড় দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচইএসব যথেষ্ট ছিল না। বিহারের মতো রাজ্যে শুধু কর্পোরেট প্রচারে রাজনীতি হয় না, সেটা তিনি হয়তো বোঝেননি। বঙ্গে সিপিএম যে ভুল করেছিলমাটির মানুষের কাছে না গিয়ে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ানির্ভর প্রচারেপ্রশান্ত সেই ভুলই যেন আরও বড় পরিসরে করলেন।এবং ভুল এখানেই শেষ নয়। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাঁর বিপরীতেই গিয়েছে। প্রথমে ঘোষণা করেছিলেনদুর্নীতিতে অভিযুক্ত কাউকে নেবেন না, অন্য দলের কাউকে আনবেন না, দলের প্রথম সভাপতি হবেন দলিত সম্প্রদায়ের। কোনও প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত পালন করলেন না। আর সবচেয়ে বড় ধাক্কাতিনি নিজে ভোটে লড়লেনই না। যিনি নন্দীগ্রামের মতো কঠিন আসনে মুখ্যমন্ত্রীকে লড়াইয়ের পরামর্শ দেন, যিনি সবসময় বলেন শীর্ষনেতাদের উচিত নিজেরাই ভোটে নামাসেই প্রশান্ত কিশোরই এবার নিজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করলেন। কেন? তার উত্তর একমাত্র তিনিই জানেন। কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তই দলকে সম্ভাব্য যে সামান্য জয়ের সুযোগ ছিল, তাও কেড়ে নিয়েছেএটা ভোটের ফলেই স্পষ্ট।বিহারের রাজনীতিতে শুধু ভাবনা বা কৌশল যথেষ্ট নয়এখানে প্রয়োজন জাতপাতের গভীর সমীকরণ, গ্রামীণ স্তরের সংগঠন, এবং শক্তিশালী দলীয় কাঠামো। এগুলো গড়ে তুলতে সময় লাগে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখানো বা কর্পোরেট স্টাইলে প্রচার বিহারের মতো বাস্তব রাজনীতির মাটিতে টেকে না। তিন বছর সময় নিয়ে পুরো রাজ্যজুড়ে একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করানো যায় না। ভুলে গেলে চলবে নালালুপ্রসাদ যাদব ক্ষমতায় ওঠার আগে বহু বছর ধরে লড়ে গেছেন। নীতীশ কুমার প্রথম দুই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও ভেঙে পড়েননি।এখন প্রশ্নপ্রশান্ত কিশোর কি এ পরাজয়ে হতাশ হবেন? নাকি বিহার বদলাও স্লোগান নিয়ে আরও গভীরে নামবেন মানুষের মাঝে? আগামী দিনেই জানা যাবেএই ব্যর্থতা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শেষ, নাকি নতুন শুরুর পাথেয়।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

২০ আসনে এগিয়ে যুবনেতা—তেজস্বীর সামনে কি নতুন চ্যালেঞ্জ চিরাগ?

বিহারের রাজনীতিতে একসময় প্রশ্ন উঠেছিলবাবা রামবিলাস পাসওয়ানের মতো বিশাল মাপের নেতা হতে পারবেন কি তাঁর ছেলে চিরাগ পাসওয়ান? রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, সন্দেহ আর নানান সমালোচনার মুখে বহুবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত সমালোচনাই মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তরুণ তুর্কি। বাবার নাম, বাবার শক্ত জমি, আর নিজের পরিশ্রমসব মিলিয়ে চিরাগের রাজনৈতিক উত্থান আজ আলোচনার কেন্দ্রে। ভোটের মাঠে তাঁর স্ট্রাইক রেট এখন ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। ২৯টি আসনে লড়াই করে ২০টিতেই এগিয়ে তাঁর লোক জনশক্তি পার্টি।তবে এই সাফল্যের পিছনে পথ মোটেই সহজ ছিল না। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে দারুণ চাপে পড়ে গিয়েছিল এলজেপি। ১৩০টি আসনে প্রার্থী দিলেও ফল আসে হাতে গোনা একটিতে। যদিও বেশ কিছু আসনে ভোট কেটে জেডিইউর ক্ষতি করেছিল চিরাগের দল, তবু সেই ফলেই প্রশ্ন উঠেছিলচিরাগ আদৌ কি রামবিলাসের যোগ্য উত্তরসূরি? পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন পাঁচ বছর আগে রামবিলাসের ভাই পশুপতি কুমার পারস দল ভাঙিয়ে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন। সেই ভাঙনে চিরাগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসময় টলমল করে উঠেছিল।কিন্তু চিরাগ হাল ছাড়েননি। নিজেকে তিনি গর্ব করে বলেন যুব বিহারী। বাবার তৈরি দলিত ভোটব্যাঙ্ককেই শক্ত ভিত্তি বানিয়ে আবারও নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কঠোর পরিশ্রমের ফলই হয়তো২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ম্যাজিক দেখালেন তিনি। বিহারের মাত্র পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েই পাঁচটিতেই জয়, এককথায় ১০০ শতাংশ সাফল্য। এনডিএর ভরসা তিনি যে বিফল করেননি, তা এক লাফেই প্রমাণ হয়ে যায়। মোদি সরকারের ৩.০ মন্ত্রিসভায় জায়গা পান এই তরুণ নেতা।এরপর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আসন বণ্টনেও নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দেন চিরাগ। জেডিইউ-বিজেপির ইগো লড়াই-এর মাঝেই নিজের দলের জন্য ২৯টি আসন কেটে আনেন তিনি। এমনকি শোনা যায়, দলের শক্তি বাড়াতে একসময় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মেলানোর কথাও ভেবেছিলেন।শেষ পর্যন্ত এনডিএ চিরাগের ক্যারিশমাকেই অগ্রাধিকার দেয়। বরাদ্দ হয় ২৯টি আসন। তার মধ্যে ২২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এলজেপি প্রার্থীরা। স্পষ্টবিহার রাজনীতিতে তেজস্বী যাদবদের জোরদার টক্কর দিতে উঠে আসছেন নতুন মুখ, রামবিলাস পাসওয়ানের উত্তরাধিকার আজ সুরক্ষিত, এবং সেই ঐতিহ্যের আলো হয়ে জ্বলছেন চিরাগ নিজেই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারে লালুর ‘দুর্গ’ ভেঙে চুরমার! ভোটে আরজেডির সর্বনাশ কেন?

বিহার ম্যয় যাব তাক রহেগা আলু, তাব তক রহেগা লালুএক সময় এই একটাই লাইনই বিহারের রাজনীতিকে বুঝিয়ে দিত। লালু প্রসাদ যাদব মানেই বিহারের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎআর সেই রাজনীতিরই নাম ছিল আরজেডি। কেউ কেউ সেই সময়কে বিদ্রূপ করে জঙ্গলরাজও বলতেন। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। বিহারের ক্ষমতার আসনে নেই লালু, নেই তাঁর দলও। তবু এত বছরেও কখনও তাঁদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এই বছরের বিধানসভা ভোটে সেই অস্তিত্বই যেন বিপন্ন হয়েছে।ভোটগণনা চলছে আর স্পষ্ট হয়ে উঠছে ফলের রূপরেখা। নীতীশ-মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ই আবারও বিহারের গদি ধরে রাখতে চলেছে। ২৪৩টি আসনের মধ্যে দুপুরের পর থেকেই ২০০র ওপরে আসনে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের ছবি মলিন, কার্যত লড়াই এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। মাত্র কয়েক ডজন আসনে এগোতে পেরেছে তারা। দিন গড়ালে সংখ্যাটা আরও স্পষ্ট হবে, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছেএই ভোট মহাগঠবন্ধনের জন্য সবচেয়ে কঠিন বার্তা বয়ে আনছে।প্রশ্ন উঠছেএমন পতন কেন? ২০২০ সালের নির্বাচনেও যাঁরা এনডিএর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছিলেন, আজ তাঁরা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন কীভাবে? তখন মহাগঠবন্ধন ১১০টি আসন পেয়েছিল, একা আরজেডি পেয়েছিল ৭৫টি। কংগ্রেস পেয়েছিল ১৯টি আসন। কিন্তু এবারের ছবিটা ভয়ঙ্করভাবে আলাদা। দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত আরজেডি এগিয়ে মাত্র ২৯টিতে, কংগ্রেস মাত্র ৫এ।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধসের নেপথ্যে প্রধান কারণ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই মহাগঠবন্ধনের ভেতরে অশান্তি ছিল। অনেকেই অভিযোগ তুলছেনসমন্বয় রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন তেজস্বী যাদবই। সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রার্থী বাছাই নিয়েও তীব্র নাখোশি ছড়িয়েছে।তেজস্বী ঘোষণাই করেছিলেন, চলতি নির্বাচনে যাদব সম্প্রদায় থেকে ৫৭ জন প্রার্থী দেবেন। কথামতোই প্রার্থী তালিকায় যাদবদের সংখ্যা অর্ধশতকের উপরে। গত নির্বাচনের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ। ভোটারদের একাংশ এর মধ্যে স্পষ্ট পক্ষপাত দেখেছেন। অভিযোগ উঠেছেউচ্চবর্ণ ও যাদব ভোট টানার নেশায় তেজস্বী পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের সরিয়ে দিয়েছেন। ফলে মাঠে নেমে ক্ষোভ জমেছে দলীয় কর্মী স্তর থেকেই।তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতিঘরে ঘরে সরকারি চাকরি। তেজস্বীর এই প্রতিশ্রুতিকে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রথম দিন থেকেই আলটপকা মন্তব্য বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের কাছেও প্রতিশ্রুতি ততটাই অবাস্তব মনে হয়েছে। বহু ভোটারই মনে করেছেনএটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। আর সেই জায়গাতেই প্রচারের মাঠে পিছিয়ে পড়েছে আরজেডি।ফলাফল এখনও সম্পূর্ণ নয়। কিন্তু যে সংকেত মিলছে, তাতে বলা যায়মহাগঠবন্ধনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ক্ষমতা নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ কীভাবে বাঁচাবে তা-ই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

এনডিএর পুরনো অস্ত্র ‘লালুর ভয়’— এবার ফাঁস করলেন প্রশান্ত কিশোর!

বিহারে প্রথম দফার ভোট শেষ। রাজ্যজুড়ে রেকর্ড ভোটিং ৬৪.৬ শতাংশ। রাজনৈতিক দলগুলো যখন অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ফের আলোচনায় এলেন প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, লালু প্রসাদ যাদবের ভয় দেখিয়ে ভোট জিততে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি!বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের কথায়, বিজেপি এবং এনডিএর একমাত্র অস্ত্র এখন লালুর ভয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি বিহারের ভোটারদের মনে লালু প্রসাদ যাদবের ভয় ঢুকিয়ে দিতে চাইছেন। কারণ, তাঁর আর বলার মতো নতুন কিছু নেই। গত কয়েক দশক ধরে এনডিএ-র মূল স্ট্র্যাটেজিই হচ্ছে এই ভয় দেখিয়ে ভোট তোলা যাতে মানুষ ভাবে, কাজ হোক বা না হোক, অন্তত জঙ্গলরাজ ফিরে আসেনি।কিশোর আরও বলেন, কিন্তু সময় বদলে গেছে। আজকের বিহারের মানুষ বিকল্প খুঁজছে। সেই বিকল্প জন সুরজ। মোদি যদি বলেন জঙ্গলরাজ ফিরবে না, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এত বছর পরেও আপনি (এনডিএ) কেন?রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে বিজেপিকে চাপে ফেলবে। তাঁর দল জন সুরজ-এর বার্তা ইতিমধ্যেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের প্রচারে জঙ্গলরাজ প্রসঙ্গ তুলে আরজেডি ও তেজস্বী যাদবকে আক্রমণ করেছিলেন। মোদি বলেন, বিহারের তরুণরা যেন পুরোনো প্রজন্মের মুখে শোনে, লালুর আমলে কেমন ছিল অপরাধের দৌরাত্ম্য। এনডিএ বিহারকে সেই জঙ্গলরাজ থেকে মুক্ত করেছে।বিহারের রাজনীতিতে জঙ্গলরাজ শব্দটি বহু বছর ধরে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচার অস্ত্র। লালু প্রসাদ যাদবের শাসনকাল যেখানে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে রাজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল আজও রাজনৈতিক প্রচারে ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের বক্তব্যে এবার সেই প্রচারই প্রশ্নের মুখে।প্রথম দফার ভোটে ৬৪.৬ শতাংশ ভোট পড়েছে যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০০ সালে ভোট পড়েছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, বিহারের মানুষ এবার আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী, বেশি সক্রিয়। ফলে, দ্বিতীয় দফার আগে প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য নিছক কৌশল নয়, বরং দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে জন সুরজ-এর পক্ষে পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
দেশ

‘বিহারের ছেলেরা ডাক্তার হতে চায়, গুন্ডা নয়’— নির্বাচনী সভায় গর্জে উঠলেন মোদি

বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের জোরালো রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ। জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তোপ দাগলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল তথা তেজস্বী যাদবকে। সাফ বার্তা, বিহারের শিশুরা এখন স্টার্ট-আপের স্বপ্ন দেখে, তারা আর গুন্ডারাজ চায় না।শনিবার বিহারের এক নির্বাচনী সভায় মোদি বলেন, আরজেডি আজ বিহারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিষ খাওয়াচ্ছে। তারা চায় শিশুরা তোলাবাজ, দুষ্কৃতী হয়ে উঠুক। কিন্তু বিহারের ছেলেমেয়েরা এখন বিজ্ঞানী হতে চায়, চিকিৎসক হতে চায়, উদ্যোক্তা হতে চায় গুন্ডা নয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জঙ্গলরাজের সময়কার ভয়াবহতা বিহারের মানুষ ভুলে যায়নি। আজ যারা সেই সময়ের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। মোদি দাবি করেন, তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে আরজেডি আবারও সেই জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যেখানে বন্দুক, তোলাবাজি আর দুর্নীতি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক একটি ভাইরাল ভিডিওর প্রসঙ্গও। সেখানে দেখা গিয়েছিল, আরজেডির এক সভায় এক কিশোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বন্দুক আর তোলাবাজির কথা বলছে। মোদি সরাসরি সেই ভিডিওর ইঙ্গিত দিয়েই বলেন, শিশুদের মুখে এই ধরনের কথা আরজেডির সংস্কৃতি প্রকাশ করছে। বিহারের মা-বাবারা কি চান তাঁদের সন্তান এমন হোক? না কি চান, তাঁদের সন্তান দেশের গর্ব হয়ে উঠুক?বিহারের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, আজকের বিহার আর লালুর আমলের বিহার নয়। আজ এখানে নতুন রাস্তা হচ্ছে, শিল্প আসছে, বিনিয়োগ বাড়ছে। এখানে কাট্টা নয়, কম্পিউটার তৈরি হচ্ছে। এখানে কুশাসন নয়, কর্মসংস্থান হচ্ছে।এর আগেও একাধিকবার বিহারে দাঁড়িয়ে আরজেডি ও কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, বিহারে এখন দুজন যুবরাজ। একজন দুর্নীতির যুবরাজ, অন্যজন জঙ্গলরাজের যুবরাজ। আর এই দুই পরিবার মিলে বিহারকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।প্রধানমন্ত্রী এদিনও স্মরণ করিয়ে দেন সেই পুরনো পাঁচ ক-এর কথা লালু আমলে জঙ্গলরাজ মানে ছিল পাঁচ ক: কাট্টা, ক্রুরতা, কটুতা, কুশাসন আর করাপশন। এখন বিহারের মানুষ সেই সময় আর দেখতে চায় না। তারা উন্নয়ন চায়, সুরক্ষা চায়, শিক্ষা চায়।তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি শিবির দাবি করেছে, এটাই বাস্তব চিত্র বিহারের মানুষ লালু রাজের ভয়াবহতা ভুলতে পারেনি। অন্যদিকে আরজেডি শিবিরের পাল্টা দাবি, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন নয়, ভয় দেখিয়ে ভোট চাইছেন। মানুষের সমস্যার কথা তিনি ভুলে গিয়েছেন।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
বিদেশ

বাংলাদেশে ভোটের ঢাক বেজে গেল! ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। শুক্রবার এই ঘোষণা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নির্বাচনের দিনক্ষণের ইঙ্গিতের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-রাজনীতি। হাসিনা সরকারের প্রতিনিধি ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন শফিকুল। অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে আগের প্রশাসনের সুবিধাভোগীরা।নেত্রকোনার সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শফিকুল আলম বলেন, আগের সরকারের আমলে যারা সুবিধা নিয়েছে, তারাই এখন নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। ওরা ফ্যাসিস্ট সরকারের পেইড লোক। ওদের কথায় কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা সরকারের কাজের ইতিবাচক দিক জনগণের কাছে পৌঁছে দিক সেটাই এখন দরকার।এদিকে ভোটের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। জানা গিয়েছে, শরিক দলগুলির জন্য ৪০টি আসন ছাড়বে তারা। এর মধ্যে এনসিপি ৫টি আসন পেতে পারে বলে সূত্রের খবর। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ফাঁকা রাখছে ৬৩টি আসন। সেই আসন নিয়ে চলছে শরিকদের মধ্যে দর কষাকষি। প্রকাশ্যে অনেকেই বড় দাবি জানালেও, আড়ালে অনেকে ১-২টি আসনেই সমঝোতায় রাজি হচ্ছেন।বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে জাতীয় সরকার গঠন করার আগে রাজপথের সহযোদ্ধাদের ভোটের ময়দানেই যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তবে উদ্বেগের কারণ, দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামছেন।এই অবস্থায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে গাজিপুরের ঘটনা। গাজিপুর-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে চাওয়া এনামুল হক মোল্লাহকে অস্ত্র-সহ আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে শ্রীপুরের বরকুল গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েছেন আরও ছয় সহযোগী। এনামুল ছাত্রদলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরে সৌদি আরবের মক্কা মিছফালাহ শাখা বিএনপির সভাপতি হন। বিএনপির টিকিট না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ২০১৭ সালে তিনি নাম পরিবর্তন করে সৌদি আরবে চলে যান। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, ফেব্রুয়ারির ভোট শুধু সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয় বরং গণতন্ত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্যের এক কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
দেশ

তেজস্বী, তেজপ্রতাপ, অনন্ত সিং—বিহারে ভোট মানে এখন তারকা বনাম বাহুবলীর যুদ্ধ

বিহার মানেই রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রদেশ। আর আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে সেই অগ্নিপরীক্ষা। সকাল ৭টা বাজতেই রাজ্যের ১৮ জেলার ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। কোথাও ভোট চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত, আবার নিরাপত্তার কারণে কিছু বুথে বিকেল ৫টার মধ্যেই শেষ হবে ভোট। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। প্রথম দফার এই ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে এনডিএ জোটের ভবিষ্যৎ, কারণ নীতীশ সরকারের ১৫ জন মন্ত্রী আজ ভাগ্যপরীক্ষায় নেমেছেন।এর মধ্যে রয়েছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী (তারাপুর) ও বিজয় কুমার সিনহা (লখীসরাই)। আলিনগরে বিজেপির প্রার্থী গায়িকা মৈথিলি ঠাকুর। অন্যদিকে মোকামা থেকে জেডিইউ টিকিটে লড়ছেন বিতর্কিত বাহুবলী প্রাক্তন এমএলএ অনন্ত সিং, যার বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। জন সুরাজের সমর্থক দুলারচাঁদ যাদব হত্যাকাণ্ডের পরেও তাঁর প্রভাব এলাকায় এখনো অটুট।প্রথম দফার ভোটে মুখোমুখি হয়েছেন রাজনীতির প্রায় সব তারকাই। মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তেজস্বী যাদব লড়ছেন রাঘোপুর থেকে, আর তাঁর বড় ভাই তেজপ্রতাপ যাদব লড়ছেন মহুয়া থেকে। ভোটের সকালে পটনায় ভোট দিতে যান লালুপ্রসাদ যাদব, রাবড়ী দেবী ও তাঁদের দুই পুত্র। ভোট দিয়ে বেরিয়ে লালু বলেন, বদল হবেই। অন্যদিকে তেজস্বী ভোটের পর সাংবাদিকদের বলেন, জনতা এবার পরিবর্তন চায়, আমরা আশাবাদী।ভোটের সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন, আজ গণতন্ত্রের উৎসব। সকল ভোটারদের অনুরোধ, উৎসাহভরে ভোট দিন। আগে ভোট, পরে আহার ও বিশ্রাম। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে।বৃহস্পতিবারের ভোট চলছে পাটনা, দ্বারভাঙ্গা, মধেপুরা, সহরসা, মুজফ্ফরপুর, গোপালগঞ্জ, সিওয়ান, সারণ, বৈশালী, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, লখীসরাই, মুঙ্গের, শেখপুরা, নালন্দা, বক্সার ও ভোজপুরে। এই জেলাগুলির বেশিরভাগ জায়গাতেই আরজেডির ভালো প্রভাব রয়েছে। এনডিএর হয়ে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে জেডিইউ৫৭ জন। বিজেপি লড়ছে ৪৮ আসনে, আর চিরাগ পাসওয়ানের দল লড়ছে ১৩ আসনে। বিপরীতে মহাগঠবন্ধনের সবচেয়ে শক্তিশালী দলে লালুর আরজেডি লড়ছে ৭২ আসনে, কংগ্রেস ২৪-এ, আর লিবারেশন ১৪ আসনে।এই দফায় ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ভোটার। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে ৪৫ হাজার বুথে ভোট হচ্ছে, এবং প্রতিটি বুথে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এখনও পর্যন্ত কোনো বড় অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি।প্রথম দফার ভোটে মাঠে নেমেছেন শুধু রাজনীতিকই নন, বিনোদন জগতের মুখরাও। আলিনগরে লড়ছেন গায়িকা মৈথিলি ঠাকুর, ছপরায় আরজেডি প্রার্থী হয়েছেন ভোজপুরী গায়ক খেসারীলাল যাদব। ফলে ভোটযুদ্ধ এখন পরিণত হয়েছে এক তারকাময় সংঘর্ষে।আগামী ১১ নভেম্বর হবে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট, আর গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। বিহারের রাজনীতি এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক মোড়েনীতীশ- মোদি জোট কি আবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, নাকি লালু পরিবারের মহাগঠবন্ধন ফিরিয়ে আনবে বিহারে নতুন অধ্যায়? ভোটযুদ্ধের প্রথম দিনই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবার লড়াই সহজ হবে না কারও জন্যই।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
কলকাতা

BLO-দের জন্য বড় খবর— এবার থেকে পূর্ণসময়ের কাজ, শিক্ষকরা কি আর স্কুলে ফিরবেন না?

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ BLO মানে ফুল-টাইম কাজই করতে হবে। কোনও দ্বিধা, সন্দেহ, অস্পষ্টতা আর নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবু অনেকেই ভাবছিলেন, দিনের এক ভাগ ভোটার তালিকার কাজ করে পরে আগের দপ্তরে ফিরতে হবে কিনা। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন ফের জানিয়ে দিয়েছে BLO-দের দায়িত্ব সম্পূর্ণ সময়ের জন্যই।জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফলে আপাতত শিক্ষক-বিএলওরা ধরেই নিচ্ছেন, স্কুলে তাদের এখন যাওয়া লাগবে না। কারণ কমিশন খুব পরিষ্কার করে দিচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সময়ে BLO-দের একটাই কাজ SIR-এর দায়িত্ব পূর্ণ সময় পালন করা। অন্য কোনও কাজ নয়।যদিও বিহার প্রশাসন তাদের BLO-দের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু বাংলা এখনও মুখ্যসচিবের কোনও আলাদা নির্দেশ পায়নি। তাই শিক্ষক সমাজের এক বড় অংশ বলছে, কমিশনের নির্দেশই যথেষ্ট আপাতত ক্লাসে ফিরতে হবে না। কিন্তু তাতে নতুন সমস্যা SIR কালে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার স্কুলে শিক্ষক ফাঁকা হয়ে পড়ার আশঙ্কা। শিক্ষা দফতরেরই মাথাব্যথা বেড়েছে।রাজ্যের যুগ্ম সিইও অরিন্দম নিয়োগী জানিয়েছেন, ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত SIR পুরোপুরি ফুলটাইম কাজ হিসেবেই ধরা হবে। সেইমতো সব জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও EROদেরকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে SIR। আর প্রথম দিনেই বিভ্রান্তি চরমে ওঠে BLO-দের মধ্যে। অনেকেই ফর্ম পাননি, কারও হাতে দেওয়া হয়েছে একটির বদলে মাত্র এক কপি, কারও আই-কার্ডই নেই এমন অভিযোগও ওঠে।সবে শুরু হল কাজ, কিন্তু তার আগেই বিতর্ক, বিভ্রান্তি, আর নির্দেশাবলীর ঢল। মাঠে নামা BLO-রা বলছেন বুঝে উঠতেই দিন শেষ! তবে কমিশন চূড়ান্ত করে দিল দুই নৌকোয় পা নয়, আপাতত শুধু ভোটার তালিকাই।

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
দেশ

"অপারেশন সিঁদুর ভুলতে পারেনি পাকিস্তান-কংগ্রেস", নতুন করে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির

বিহারের আরায়ায় রবিবার নির্বাচনী প্রচারে এসে কংগ্রেস ও আরজেডিকে একযোগে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল জাতীয় নিরাপত্তা, কাশ্মীর, এবং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ।মোদি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাকিস্তান ও কংগ্রেসদুই পক্ষই এখনও ধাক্কা সামলাতে পারেনি। পাকিস্তানে বিস্ফোরণের সময় কংগ্রেসের রাজপরিবারর ঘুম নষ্ট হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মন্তব্যআমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সন্ত্রাসীদের ঘরে ঢুকে মারব। অপারেশন সিঁদুর সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছে। সঙ্গে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মোদি। বলেন, এটি তাঁর গ্যারান্টি ছিল এবং আজ তা বাস্তব।বিহার রাজনীতিতে মহাগঠবন্ধনের দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস কখনওই তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করতে চাইনি। কিন্তু আরজেডির চাপেই কংগ্রেসকে রাজি হতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়আরজেডি বন্দুক ঠেকিয়ে কংগ্রেসকে সিএম প্রার্থী ঘোষণা করাতে বাধ্য করেছে।মোদি দাবি করেন, কংগ্রেস-আরজেডির মধ্যে গভীর বিরোধ আছে, এবং নির্বাচন শেষে তারা পরস্পরকে দোষারোপ করবে। তাই তাঁদের উপর আস্থা রাখা যায় না। মহাগঠবন্ধনের ইস্তেহারকে তিনি মিথ্যার আর প্রতারণার দলিল আখ্যা দেন। এনডিএর ঘোষণাপত্রকে বলেন সত্ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, যা বিহারের উন্নয়নের জন্য তৈরি।এদিন ১৯৮৪র শিখবিরোধী দাঙ্গার কথাও টেনে আনেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস আজও সেই সময়ের দোষীদের সম্মান দিচ্ছে। তিনি বলেনআরজেডির নাম জঙ্গলরাজের সঙ্গে জড়িত, আর কংগ্রেসের পরিচয় শিখ গণহত্যার সঙ্গে। বিহার ভোটমাঠে শেষ দফা প্রচারে তাই তীব্র হচ্ছে ভাষার লড়াই। একদিকে এনডিএর উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে পরিবর্তনের ডাকদুই পক্ষের জোর প্রচারের মধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ভোটযুদ্ধের ময়দান।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
দেশ

ভোটের উত্তাপে বিস্ফোরণ, গুলির আতঙ্ক! জন সূরজ পার্টির কর্মী খুনে ধরা জেডিইউ নেতা

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর আগেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক আক্রমণপ্রতিআক্রমণের মাঝেই এবার সামনে এল রক্তাক্ত ঘটনা। প্রশান্ত কিশোরের দল জন সূরজ পার্টির কর্মী দুলারচন্দ যাদবের মৃত্যুর মামলায় গ্রেফতার হলেন ক্ষমতাসীন জেডিইউ-র মোকামা কেন্দ্রের প্রার্থী অনন্ত সিং। পটনা পুলিশের হাতে শনিবার, ১ নভেম্বর তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।ুীদুলারচন্দ যাদব গত বৃহস্পতিবার মোকামায় জন সূরজ পার্টির প্রার্থী পীযূষ প্রিয়দর্শীর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেই ভরা সভাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। প্রথমে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শোনা গেলেও ময়নাতদন্তে প্রকাশগুলি নয়, গুরুতর শারীরিক আঘাত, বিশেষত পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।দুলারচন্দ অনেক দিন আরজেডি-র প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। লালু প্রসাদ যাদবের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। পরে PKর জন সূরজ পার্টিতে যোগ দেন।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সভার মাঝেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধেছিল। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ঘটে এই মৃত্যুর ঘটনা। এবং সে সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিং।গ্রেফতারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পীযূষ প্রিয়দর্শী বলেন, পুলিশ ঠিক কাজ করেছে। তবে এই পদক্ষেপ আরও আগে হওয়া দরকার ছিল। এটা কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। এফআইআর হওয়ার পরই গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এখন দেখার তদন্ত কতদূর এগোয়।অন্য দিকে গ্রেফতারির আগে অনন্ত সিং দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রাক্তন সাংসদ সূরজভান সিংকে দায়ী করেন তিনি। উল্লেখ্য, সূরজভান সিংয়ের স্ত্রী বীণা দেবী এবার আরজেডি-র প্রার্থী।ঘটনার গুরুত্ব দেখে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি কড়াভাবে বজায় রাখতে হবে এবং রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন বিন্দুমাত্র নষ্ট না হয়।বিহারের ভোটযুদ্ধ এখনও শুরুই হয়নি, আর তার আগেই রক্তঝরা সংঘর্ষে জর্জরিত রাজনৈতিক ময়দান। আগামীর দিনগুলো যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • ...
  • 36
  • 37
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

যুদ্ধের বাজারেও ভারতের বিরাট সাফল্য! বৃদ্ধির পূর্বাভাস এক ধাক্কায় বাড়াল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বড় সুখবর দিল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। চলতি অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। আগে এই হার ৬.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার।সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে। এর আগে গত জুলাইয়ে ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। নতুন অনুমান অনুযায়ী, বৃদ্ধির সম্ভাবনা ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থাকতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। আগে ওই অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, আগামী দুবছরেও দেশের অর্থনীতির গতি বজায় থাকার আশা করছে সংস্থাটি।এর আগে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কও চলতি অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছিল। এ বার আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের রিপোর্টেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলল।ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর পিছনে কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। সংস্থার মতে, দেশের বাজারে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী। সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ভাল ফল অর্থনীতির বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, ভারতের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল জনসংখ্যা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।তবে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের অনুমান, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৭ সালে তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।অন্য দিকে, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অর্থনীতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই দেশগুলির সম্মিলিত আর্থিক বৃদ্ধির হার ৩.৭ শতাংশ হতে পারে। আগে এই হার ৩.৮ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনুমান ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান আগামী দিনেও আর্থিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দেশ

সূর্যকান্তকে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট, বিজেপির আক্রমণের মুখে পিছু হটল কেরল কংগ্রেস?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পদত্যাগ দাবি করে কেরল কংগ্রেসের একটি পোস্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্কের পর এ বার প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে কেরল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মুছে দিয়েছে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ওই পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভ এবং রাজধানীতে জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পরেই কেরল কংগ্রেসের সরকারি সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা যদি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে, তা হলে যেন তিনি পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি, তাঁর পরিবর্তে এই বিষয় সামলাতে পারবেন, এমন কাউকে খুঁজে নেওয়ার কথাও লেখা হয় ওই পোস্টে। বার্তাটি সামনে আসতেই কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় ওই পোস্টের ছবি ভাগ করে নেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি আগেই বলেছিলেন, কংগ্রেসের পরবর্তী নিশানা হবে বিচারব্যবস্থা। কংগ্রেস দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, দেশবিরোধী শক্তিগুলি একজোট হচ্ছে। এর মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক ভারতীয়দেরও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান রিজিজু।বিতর্ক বাড়তে থাকায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ জানান, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের অজান্তে এবং তাঁদের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই ওই পোস্ট করা হয়েছিল।কী পরিস্থিতিতে ওই পোস্ট করা হয়েছিল, তা দল খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছেন সানি। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। সমাজমাধ্যমে এমন কোনও পোস্ট করা হলে, যা দলের এই অবস্থানের সঙ্গে মেলে না, তা কেরল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত বলে গণ্য করা যাবে না।প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে এক দিকে বিজেপির আক্রমণ, অন্য দিকে কেরল কংগ্রেসের ব্যাখ্যাসব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর বেড়েছে। বিতর্কিত পোস্ট প্রত্যাহার এবং দায়ী ব্যক্তিকে সরানোর সিদ্ধান্তের পরেও এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোর আগেই বড় ধাক্কা সুজিত বসুর, জামিনের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে

এক সময় দুর্গাপুজোর আগে থেকেই কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে ভিড় জমত দর্শনার্থীদের। রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর এই পুজো ছিল শহরের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু এ বার ছবিটা অন্য রকম। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে দুর্গাপুজোর সময় তাঁকে জেলেই থাকতে হতে পারে।জামিনের আবেদনটি প্রথমে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে উঠেছিল। শুনানির শেষে বিচারপতি অভিযোগ করেন, সুজিতের আইনজীবীরা তাঁর কক্ষ থেকে একটি ফাইল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এর পরেই বিচারপতি মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান। পরে মামলাটি যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। সেখানেই সুজিতের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তবে শুনানির সময় বিচারপতি জামিন খারিজের নির্দিষ্ট কারণ জানাননি।আদালতে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে চাকরির জন্য ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ইডির আরও দাবি, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কয়েক কোটি টাকা মিলেছে বলে আদালতে জানিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা।এই মামলায় সুজিতের আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন মধ্যস্থতাকারী অয়ন শীল। ইডি আগে হাই কোর্টে দাবি করেছিল, অয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিভিন্ন সময়ে ১৫২ জনের চাকরির জন্য সুজিত বসু সুপারিশ করেছিলেন।অন্য দিকে, সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁদের বক্তব্য, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁদের মক্কেলকে জেলে আটকে রাখা ঠিক নয়। ইডি এই গ্রেফতারিকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করতে পারবে না বলেও দাবি করেন তাঁরাসুজিতের আইনজীবীদের আরও বক্তব্য, ২০১৬ সালের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখালেও, ২০২৪-২৫ সালে সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে তাঁর নাম ছিল না। তাঁদের দাবি, সুজিতের বাড়ি কলকাতায়। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যখনই ডাকা হবে, তিনি হাজির হতে পারবেন। তদন্তে সহযোগিতা করতেও তিনি প্রস্তুত।গত ১১ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলে মনে করছে ইডি। তবে এই মামলায় ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

শঙ্কুদেবের পুজোয় হাজির শুভেন্দু অধিকারী, পার্ক স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

পার্ক স্ট্রিটে এ বার প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। প্রথম পুজো ঘিরে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আলাদা আবেগ থাকবেই। সোমবার রাতে সেই পুজোর উদ্বোধনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে দুর্গোৎসব, সংস্কৃতি ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিজেপির দুই নেতা।অনুষ্ঠানে সুকান্ত বলেন, পার্ক স্ট্রিটে আগে দুর্গাপুজোর আয়োজন হত না। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় পশ্চিমবঙ্গে ১২ হাজারেরও বেশি নতুন পুজো শুরু হয়েছে। আগের সরকারের আমলে পুজো করার জন্য উদ্যোক্তাদের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সুকান্ত। বক্তব্যের শেষে জয় শ্রীরাম স্লোগানও তোলেন তিনি।সোমবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে শঙ্কুদেবের পুজোর উদ্বোধন করতে যান শুভেন্দু। সেখানে উপস্থিত বিজেপি নেতাদের একে একে নাম করে উল্লেখ করেন তিনি। তার পর বলেন, একদম রাষ্ট্রবাদী টিম পুরো হাজির।বক্তৃতায় পার্ক স্ট্রিটের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, এই এলাকায় মাঝেমধ্যে টুকরে টুকরে গ্যাং-এর উৎপাত দেখা যেত বলে তাঁর দাবি। দুর্গাপুজোর আবহে পার্ক স্ট্রিটকে পবিত্র ও শুদ্ধ করার কথাও বলেন তিনি। এই পুজো ধরে রাখার জন্য উদ্যোক্তাদের আবেদন জানান শুভেন্দু। সুযোগ হলে পুজোয় এসে প্রসাদ খাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরা বজায় রাখার উপর জোর দেন শুভেন্দু। পিতৃপক্ষ ও মহালয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ বার পিতৃপক্ষে কাউকে কাঁচি নিয়ে বেরোতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, পবিত্রতা ও সংস্কৃতি বজায় রেখেই দুর্গাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।এ দিকে, কলকাতা জুড়ে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ঘিরে ব্যস্ততা চলছে। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে উমা আগমনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের দুর্গাপুজোর উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রোনের প্রদর্শনী এবং আতশবাজির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় তিন হাজার ঢাকির একসঙ্গে ঢাক বাজানো ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।১১ অক্টোবর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা হয়। এ বছরের পুজোর ভাবনা বন্দে মাতরম্। ভারতের জাতীয় সংগীতের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশভাগের ইতিহাস মণ্ডপে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।১২ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ৯১তম বর্ষের পুজোর উদ্বোধন হয়। এ বছরের ভাবনা বিয়ন্ড সাউন্ড। শহরের কোলাহলের বিপরীতে শান্তি ও নিজের অন্তরের ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই মণ্ডপে। শ্রীভূমির দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দেশ

ভোট চুরির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে রাহুলদের মামলা, আবেদনেই ১৪টি ভুল! ২২০ টাকা কম জমা?

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে যৌথ মামলা দায়ের করেছেন তাঁরা। কিন্তু মামলা দায়েরের পরেই নতুন সমস্যা। আদালতের রেজিস্ট্রি জানিয়েছে, বিরোধীদের আবেদনে মোট ১৪টি ত্রুটি রয়েছে। এমনকি আদালতের ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন বিরোধী জোটের নেতারা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোট চুরির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। সেই দিনই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যৌথ মামলা দায়ের করেন তাঁদের আইনজীবীরা।কিন্তু আদালতের রেজিস্ট্রির প্রাথমিক পরীক্ষায় আবেদনে একাধিক ভুল ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। রেজিস্ট্রির দাবি, মোট ১৪টি ত্রুটি রয়েছে ওই আবেদনে। তার মধ্যে অন্যতম হল আদালতের ফি বাবদ ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া। এ ছাড়া, নয় জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র জমা পড়েনি বলেও জানানো হয়েছে।কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আবেদনের কয়েকটি অংশে অক্ষর অত্যন্ত ছোট হওয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে রেজিস্ট্রি। দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন প্রতিলিপি জমা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি, কয়েকটি নথির লেখা অস্পষ্ট, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত এবং আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা ও পৃষ্ঠা নম্বরের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করার পরেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোতে পারবে।এই যৌথ মামলায় আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির।সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন নামে নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১০ দফা প্রতিকার চেয়েছেন বিরোধী নেতারা।বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার নিরীক্ষা করানোর দাবিও জানানো হয়েছে।বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।সোমবারের মিছিলের আগে বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, ভোট চুরির অভিযোগের নিষ্পত্তি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ এবং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ফের চালু করার দাবিতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া।তবে প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন গ্রহণ করেননি। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বলেই তিনি এই আবেদন খারিজ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে বিরোধীদের অভিযোগ জানানোর পথ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা। সাধারণ নাগরিক হোন বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রত্যেকেই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।এখন বিরোধীদের আবেদনে চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করতে হবে। তার পরেই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোবে। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

‘যারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু ভাবেনি…’, দুর্গাপুজোর মঞ্চ থেকে কাদের নিশানা অগ্নিমিত্রার?

দুর্গাপুজোর আগে ভারতবিরোধী শক্তির বিনাশ চেয়ে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে শেষ করে দাও মা। যারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এত দিন কিছুই ভাবেনি, সেই বদমাইশদেরও শেষ করে দাও। সোমবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি প্রাক-পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও একই প্রসঙ্গে সরব হন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আরও শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু দেশের উন্নতির পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইছে, তাদের বিনাশের জন্য মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, যারা নিজেদের স্বার্থের বাইরে কিছু ভাবেনি, তাদেরও যেন মা দুর্গা শেষ করে দেন। দেশ ও রাজ্য থেকে এই ধরনের শক্তির বিনাশই তাঁর প্রার্থনা।এ দিন দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আতশবাজির প্রদর্শনীও উপভোগ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানান তিনি। উৎসবের দিনগুলিতে সতর্ক থাকার আবেদনও জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা।পুজোর সময়ে জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে বলে জানান তিনি। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা রাস্তায় থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদনও জানান অগ্নিমিত্রা।বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির বিরোধিতা করা হবে, বিজেপিকে ঘিরে এমন প্রচারও খারিজ করেছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে এই প্রচার ঠিক নয়। আগামী দিনে আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মানুষের পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, আগামী দিনেও পাশে থাকুন, আরও অনেক কিছু হবে।সোমবারের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পুন্নাম্বলম এস, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
কলকাতা

দিল্লির পর কলকাতায় ‘জ্ঞানেশ কুমার হটাও’ মিছিল! পথে নামতে পারেন মমতা, কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

দিল্লির আন্দোলনের আঁচ এ বার কলকাতাতেও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা। তাতে মমতা নিজেও যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি মিছিলে হাঁটবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তেই কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর সময়ে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবারের মিছিলের প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা এবং তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের অভিযোগও প্রচারপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলায় জেলায়ও কর্মসূচির বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে খবর।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিরোধী নেতাদের একাংশ। এই ইস্যুতে দিল্লিতে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে বলে খবর।এই আবহেই কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির। দুপুর দুটো নাগাদ মিছিল শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মিছিলে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও ঘোষণা হয়নি।সোমবার রাতে কলকাতায় একটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে এই কর্মসূচি নিয়ে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বেরোতে দেব না। সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, রাজাবাজার থেকে এক পা এগোতে দেব না। প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ফোর্সও নামাতে বলেছি। বেরোতে দেব না। কোনও বিশৃঙ্খলা করতে দেব না দুর্গাপুজোর সময়ে।মিছিল ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে খবর। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পার্ক সার্কাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজাবাজার থেকে মিছিল কোন পথে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেবেন কি না, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দেশ

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা, পরদিনই ব্যারিকেড টপকে ঢোকার চেষ্টা! আটক ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা

যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করা যাবে না। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি। সেই নির্দেশ ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপের হুঁশিয়ারি, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দিলে গোটা দেশকেই প্রতিবাদের মঞ্চ করে তুলবেন তাঁরা। আর সেই ঘোষণার পরদিনই যন্তর মন্তরে পৌঁছে গেলেন দলের কয়েক জন নেতা। কিন্তু সেখানে ঢোকার চেষ্টা করতেই তাঁদের আটক করে পুলিশ।সোমবার দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দলের তরফে দাবি করা হয়, ওই সময়ের মধ্যে নতুন করে প্রতিবাদের স্থান এবং দিনক্ষণ জানাতে হবে। তা না হলে বড় পদক্ষেপ করা হবে। এর পরেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় দিল্লি পুলিশ। প্রতিবাদের জন্য তিনটি বিকল্প জায়গার কথা জানানো হয়েছে বলে খবর।সেই বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে রামলীলা ময়দান। তবে সূত্রের দাবি, সেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য জায়গা বুক করতে খরচ হতে পারে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। চলতি বছরের জন্য বুকিংও ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে প্রতিবাদের নতুন জায়গা পাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে ককরোচ জনতা পার্টি।নিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে যন্তর মন্তর থেকেই আন্দোলন শুরু করেছিলেন দলের সদস্যেরা। তাই ওই জায়গায় বিক্ষোভ বন্ধের নির্দেশে ক্ষুব্ধ তাঁরা। অভিজিৎ দীপের বক্তব্য, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে দেওয়া না হলে গোটা দেশই প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে।এই হুঁশিয়ারির পরদিন মঙ্গলবার ভোরে যন্তর মন্তরে পৌঁছে যান দলের নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। অভিজিতের প্রকাশ করা একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, লোহার গেট ও পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে দিতেই ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন দলের নেতারা।কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের আটক করে পুলিশ। দলের কয়েক জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনার একাধিক ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।নেতা-কর্মীরা আটক হলেও আন্দোলন থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তাঁর দাবি, প্রতিবাদকে আটকানো যাবে না। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিকল্প জায়গা নিয়ে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে দলের সংঘাত কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal