• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

DGP

দেশ

এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ সুপ্রিম কোর্টের, চাপে প্রশাসন

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোলের অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর-এর কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো এবং হিংসার অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পান্ডেকে শোকজ করেছে শীর্ষ আদালত। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর-এ শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসে। কোথাও বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, আবার কোথাও অফিসে ঢুকে আধিকারিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।এই সব অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, হুমকি, হিংসা এবং ভয় দেখিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআর দায়ের হয়নি বলেও জানানো হয় আদালতে। এর পরই শীর্ষ আদালত রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেয়।ডিজি পীযূষ পান্ডে এই শোকজের কী জবাব দেন, সেটাই এখন দেখার। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। তাঁদের নথি যাচাইয়ের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, ডিজিকে শোকজ করার অর্থই হল রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীকে শোকজ করা, যেহেতু পুলিশ দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

রাজীব কুমারের অবসরের আগেই বড় মোড়, ডিজি বিতর্কে মামলা তুলে নিচ্ছেন রাজেশ কুমার

আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর নিচ্ছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। তাঁর অবসরের পর রাজ্যের পরবর্তী ডিজি কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা চলছিল। সেই জটিলতা আরও বেড়ে যায়, যখন আইপিএস রাজেশ কুমার ইউপিএসসি-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজেশ কুমার।রাজ্যের বিদায়ী ডিজি রাজীব কুমারকে ইতিমধ্যেই বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউপিএসসি-র দাবি ছিল, কোনও স্থায়ী ডিজির অবসর নেওয়ার অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাবিত নামের প্যানেল পাঠাতে হয়। সেই হিসেবে রাজ্যের উচিত ছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই তালিকা পাঠানো। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই প্যানেল পাঠায় ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর। সম্প্রতি সেই তালিকা ইউপিএসসি ফেরত পাঠায়।এর আগে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল নির্দেশ দিয়েছিল, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের পাঠানো সিনিয়রিটির তালিকা থেকে ইউপিএসসি নাম বাছাই করবে। ২৮ জানুয়ারির মধ্যে তিন জনের নাম চূড়ান্ত করে রাজ্যকে জানাতে হবে এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্যকে নতুন ডিজি নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু ইউপিএসসি সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে।এই পরিস্থিতিতে আইপিএস রাজেশ কুমার অভিযোগ করেন, ডিজি হওয়ার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মামলার ভিত্তিতে ট্রাইবুনাল নির্দেশ দেয়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ডিজি পদের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা নতুন করে ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার বুধবার আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নামের তালিকা দিল্লিতে পাঠিয়েছে।এদিকে, রাজেশ কুমারের করা আদালত অবমাননার মামলার শুনানি ধার্য ছিল আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তার আগেই, ৩১ জানুয়ারি রাজীব কুমারের অবসর হচ্ছে। অবসরের পরে এই মামলার আর কোনও বাস্তব গুরুত্ব থাকবে না বলেই মনে করছেন রাজেশ কুমার। সেই কারণেই তিনি ক্যাট থেকে আদালত অবমাননার মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে রাজ্য পুলিশের ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা কিছুটা হলেও মিটতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার সুপ্রতিম সরকার, সরলেন মনোজ ভর্মা

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে পুলিশপ্রধান কে হবেন, তা নিয়ে চলছিল টানাপোড়েন। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। রাজীব কুমারের অধ্যায় শেষ হচ্ছে। শনিবার তাঁর অবসরগ্রহণের দিন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৮ জানুয়ারি তাঁর বিদায় সংবর্ধনা হয়ে গিয়েছে। বিদায়ের আগেই রাজ্য সরকার নতুন ডিজির নাম ঘোষণা করল। তবে স্থায়ী নয়, আবারও ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই।রাজ্যের নতুন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ডিজি করা হল আইপিএস পীযূষ পান্ডেকে। বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেই পদ থেকেই সরাসরি রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ দায়িত্বে বসলেন তিনি। পীযূষ পান্ডে এর আগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রথম কমিশনার ছিলেন। এক সময় তিনি কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনেও কাজ করেছেন। এসপিজিতেও দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।পীযূষ পান্ডে ডিজি হওয়ায় ফাঁকা হল মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার পদ। সেই জায়গায় দায়িত্ব পেলেন মনোজ ভর্মা। এতদিন তিনি কলকাতা পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এবার তাঁকে সরিয়ে ডিরেক্টর অব সিকিউরিটির দায়িত্ব দেওয়া হল। কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইপিএস সুপ্রতিম সরকার। এতদিন তিনি রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) ছিলেন। এবার শহরের আইনশৃঙ্খলার ভার তাঁর কাঁধে।এই রদবদলের তালিকায় আবার ফিরল বিতর্কিত নাম বিনীত গোয়েলের। আরজি কর কাণ্ডের পর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদ হারান তিনি। পরে পদত্যাগ এবং হাইকোর্টে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতদিন তিনি এডিজি-আইজি এসটিএফের দায়িত্বে ছিলেন। এবার তাঁকে রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদে বসানো হল। তাঁর জায়গায় এসটিএফের দায়িত্ব পেলেন জাভেদ শামিম।পুলিশের পাশাপাশি দমকল দফতরেও বড় রদবদল হয়েছে। এতদিন দমকলের ডিজি ছিলেন রণবীর কুমার। সম্প্রতি আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। আগুন লাগার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই আবহেই দমকলের ডিজি পদে বদল আনা হল। নতুন দমকল ডিজি হলেন অনুজ শর্মা।এ ছাড়াও ডিজি কারেকশাল হোম পদে আনা হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মুরলিধর শর্মা। ব্যারাকপুর কমিশনারেট থেকে তাঁকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় ব্যারাকপুরের দায়িত্ব দেওয়া হল প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠীকে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নতুন কমিশনার হলেন আকাশ মাঘারিয়া।একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে এই রদবদল রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ফের কি রাজীব কুমার? রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদ ঘিরে বড় প্রশ্ন

আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর নিচ্ছেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার। তাঁর সরকারি বিদায় সংবর্ধনার দিনও ঠিক হয়েছে ২৮ জানুয়ারি। গত দুবছর ধরে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে ছিলেন তিনি। তাঁর অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের পরবর্তী ডিজি কে হচ্ছেন।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকার যে পুলিশকর্তাদের নাম ডিজি পদের জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে রাজীব কুমারের নামও। এর জেরে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাঁকেই কি আবার ডিজি পদে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের পরবর্তী ডিজি পদের জন্য মোট আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নাম প্রস্তাব করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওই তালিকায় রাজীব কুমারের পাশাপাশি রয়েছেন আইপিএস রাজেশ কুমারও। গত বুধবার এই তালিকা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার প্রথমে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কাছে সিনিয়র আইপিএস অফিসারদের নামের একটি প্যানেল পাঠায়। সেখান থেকে ইউপিএসসি তিন জনের নাম বেছে রাজ্যকে পাঠায়। ওই তিন জনের মধ্য থেকেই রাজ্য সরকার একজনকে স্থায়ী ডিজি হিসেবে নিয়োগ করে।রাজ্যের পাঠানো তালিকায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার, আইপিএস রাজেশ কুমার এবং আরও ছয় জন সিনিয়র আইপিএস অফিসার রণবীর কুমার, দেবাশিস রায়, অনুজ শর্মা, জগমোহন, এন রমেশ বাবু ও সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। একটি সূত্রের দাবি, পরবর্তী স্থায়ী ডিজি পদের জন্য পীযূষ পাণ্ডে, রাজেশ কুমার এবং রণবীর কুমারের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। পীযূষ পাণ্ডে প্রাক্তন এসপিজি অফিসার এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও এই তিন জনের মধ্য থেকেই যে পরবর্তী ডিজি হবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের শেষ স্থায়ী ডিজি ছিলেন মনোজ মালব্য। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিজি অবসরের সময় রাজ্যের যে আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসার ছিলেন, তাঁদের নামই ইউপিএসসি-র কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের নামও তালিকায় রয়েছে।এর আগে স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার একবার নামের তালিকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া আটকে যায়। ইউপিএসসি জানায়, ডিজি অবসরের অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাবিত নামের প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল। অর্থাৎ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠাতে হত। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই তালিকা পাঠিয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ফলে সেই প্যানেল ফেরত পাঠানো হয়।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন আইপিএস রাজেশ কুমার। ১৯৯০ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার বর্তমানে রাজ্যের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মুখ্যসচিব। তাঁর দাবি, ডিজি হওয়ার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ট্রাইবুনাল নির্দেশ দেয়, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নতুন করে ডিজি পদের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে রাজ্য সরকারকে।

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
কলকাতা

নিরাপত্তায় গাফিলতি? রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করে চাঞ্চল্য তদন্ত কমিটির

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে শোকজ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ওই কমিটির তরফে ডিজিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক পুলিশ আধিকারিককেও শোকজ করা হয়েছে। তবে এই প্রথম রাজ্য পুলিশের বর্তমান ডিজিকে এ ভাবে শোকজ করা হল বলে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।গত শনিবার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে। মেসিকে এক ঝলক দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ ভাঙচুরে নামে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্টেডিয়ামের একাংশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।ঘটনার দিন মেসি মাঠে প্রবেশের আগেই যুবভারতীতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। বিশৃঙ্খলার পরে তিনি সাংবাদিক বৈঠকও করেন। সেই ঘটনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েই তদন্ত শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনার দায় ঠিক করতে নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখছে।তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই এবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা রাজীব কুমারকে শোকজ করা হল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর লিখিত জবাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের অন্দরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

ফের বদল রাজ্য পুলিশের ডিজি, নতুন পদে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে নিয়োগ কমিশনের

ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজির পদ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আইপিএস রাজীব কুমারকে অপসারণ করেছিল। নির্বাচনী সব প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রাজ্যের ডিজি কে হবেন তা নির্ণয়ে নবান্নের কাছে তিনটি নাম চেয়েছিল কমিশন। সেই তালিকা থেকে রাজ্যে কর্মরত সবচেয়ে অভিজ্ঞ আইপিএস বিবেক সহায়কে ডিজির চেয়েরে বসার সিলমোহর দেয় কমিশন। ওইদিনই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন বিবেক সহায়। কিন্তু ২৪ ঘন্টা না কাটতেই ফের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি পরিবর্তন করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিবেক সহায়ের বদলে নবান্নের তরফে কমিশনের কাছে পাঠানো তালিকায় নাম থাকা আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি-র দায়িত্ব দেওয়া হল। আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেল ৫টর মধ্যেই ডিজি-র দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।রাজীব কুমারের উত্তরসূরি হিসাবে আইপিএস বিবেক সহায়ের সঙ্গে আরও দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসার সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং রাজেশ কুমারের নাম নবান্ন কমিশনে পাঠিয়েছিল। তার মধ্যে থেকেই এ দিন ১৯৮৯ সালের আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ডিজি নিয়োগ করল কমিশন।কেন ২৪ ঘন্টার আগেই ডিজি-র পদ থেকে আইপিএস বিবেক সহায়কে সরাল কমিশন? সূত্রের খবর, আইপিএস বিবেক সহায়কে সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছিল। কিন্তু লোকসভা ভোট চলাকালীনই আগামী মে মাসে তাঁর অবসর। তখনও সাত দফা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট (১ জুন) বাকি থাকবে। ফলে আইন-শৃঙ্খলার অসুবিধা হতে পারে। কমিশনের যুক্তি, ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন ডিজিপি দায়িত্বে থাকলে কাজের সুবিধা হয়। তাই আইপিএস সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কেই রাজ্যের ডিজি-র চেয়ারে বসানো হল।অপসারণের দিন রাতেই আইপিএস রাজীব কুমাকে রাজ্যের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করেছে রাজ্য প্রশাসন।

মার্চ ১৯, ২০২৪
রাজ্য

রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সরাল কমিশন, ওই পদে এলেন বিবেক সহায়

রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ আইপিএস রাজীব কুমারের অপসারণের কয়েক ঘন্টা পরই নয়া ডিজি বেছে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের ডিজি হলেন আইপিএস বিবেক সহায়। রাজীব কুমারের বদলে রাজ্য পুলিশের ডিজির পদে নিয়োগের জন্য ৩ জন আধিকারিকের নাম নবান্নের থেকে জানতে চেয়েছিল কমিশন। জানা যায়, সেই তালিকায় নাম ছিল বিবেক সহায়, রণবীর কুমার এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের। রাজ্যের পাঠানো সেই তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন ডিজি পদে সিলমোহর দিল আইপিএস বিবেক সহায়ের নামে।আগামী মে মাসে আইপিএস বিবেক সহায়ের অবসরগ্রহণের কথা। সেই কারণেই তাঁর ডিজি হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে, সেই সিনিয়ারিটির দরুন-ই লোকসভা ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বেছে নিয়েছে কমিশন। গত নভেম্বর মাস থেকে ডিজি (হোমগার্ড) পদে কাজ করছিলেন আইপিএস বিবেক সহায়।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচারে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। সে সময় তাঁর প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন আইপিএস বিবেক সহায়।শনিবার লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ওই দিন থেকেই দেশ জুড়ে কার্যকর হয় আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি। সেই বিধি জারির ৪৮ ঘন্টা পরই কমিশন রাজীব কুমারকে ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দেয়। ওই আইপিএস-কে নির্বাচনী কোনও প্রক্রিয়ার অংশ না করারও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

মার্চ ১৮, ২০২৪
রাজ্য

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তমত রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি হলেন রাজীব কুমার, শুভেচ্ছা জানিয়েও খোঁচা তৃণমূল নেতার

রাজ্য পুলিসের নতুন ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার আইপিএস রাজীব কুমার। বুধবার মমতা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রাজীব কুমারকে নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে তিনি কলকাতার পুলিস কমিশনার থাকাকালীন। এহেন আইপিএসকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিজি পদমর্যাদায় উন্নীত করায় বিরোধীরা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতে কসুর করছেন না। ইউপিএসসি-র কিছু নিময়ের ফেরে, আপাতত রাজীব কুমার ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে কাজ করবেন।কলকাতা পুলিসের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমার তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের প্রধান সচিবের পদে কর্মরত ছিলেন। বুধবার মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজীবের এই পদন্নোতির কথা জানানো হয়। রাজীব কুমার কলকাতার পুলিস কমিশনার থাকাকালীন তাঁর নাম একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিল। ২০১৩ তে বহু চর্চিত সারদা অর্থ লগ্নি সংস্থার মামলায় তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল সিট গঠন করে রাজ্য সরকার। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিধাননগর পুলিস কমিশনারের দায়িত্বে থাকা রাজীব কুমারকে সিট-এর দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।২০১৩ তে সারদাকাণ্ডে প্রাক্তন সাংবাদিক ও তৎকালীন তৃণমূলের সাংসদ এবং বর্তমানে ওই দলেরই মুখপাত্র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিলেন রাজীব কুমার। এবং ২০১৯ সালে সেই সারদা অর্থ লগ্নি সংস্থার মামলাতেই রাজীব কুমারকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সারদা মামলার তথ্য প্রমান লোপাটের মত ভয়ানক অভিযোগ তোলে। বেশ কিছুদিন লুকোচুরি খেলার পর রাজীব কুমারকে সেই সময় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে হয়। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাঁর বাসভবনে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তার প্রতিবাদে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময় সিবিআই দাবি করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদা-সহ একাধিক অর্থ লগ্নি সংস্থার টাকা ও সুবিধা কারা ভোগ করেছিলেন সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সে সময় সিবিআই আরও জানায়, তাঁরা তদন্তে রাজীব কুমারের থেকে কোনও রকম সহযোগিতা পাননি।প্রসঙ্গ: রাজীব কুমার ডিজি।উনি দক্ষ অফিসার। মাঝখানে ওঁর সঙ্গে তীব্র বিরোধ ছিল। কালীপুজোর দিন CM-এর বাড়িতে বহুদিন পর দেখা ও সৌজন্যবিনিময় হয়।রাজীব, আপনাকে শুভেচ্ছা। তবে কখনও কারুর কথা শুনে আমার মত কোনো নির্দোষের জীবন নষ্ট করতে যাবেন না। এসব ভগবান ক্ষমা করেন না। Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) December 27, 2023রাজীব কুমারকে রাজ্য পুলিসের নতুন ডিরেক্টর জেনারেল-র (ডিজি) পদে বসানোর খবরে তৃণমূলের দলীয় মুখপাত্র ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েও তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। রাজীবকে দক্ষ আইপিএস অফিসার বলার পরমুহুর্তেই কুণালের কটাক্ষঃউনি দক্ষ অফিসার। মাঝখানে ওঁর সঙ্গে তীব্র বিরোধ ছিল। কালীপুজোর দিন CM-এর বাড়িতে বহুদিন পর দেখা ও সৌজন্য বিনিময় হয়।রাজীব, আপনাকে শুভেচ্ছা। তবে কখনও কারুর কথা শুনে আমার মত কোনও নির্দোষের জীবন নষ্ট করতে যাবেন না। এসব ভগবান ক্ষমা করেন না।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩
কলকাতা

প্রেসিডেন্সির বন্দি নিখোঁজের তদন্ত করবে ডিজিপি মর্যাদার আধিকারিক, নির্দেশ হাইকোর্টের

সংশোধনাগার থেকে বন্দি নিখোঁজ মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিল প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সংশোধনাগারের ক্যামেরা চলছে। লাইভ ছবি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ড (ডিভিআর) থেকে সেই রেকর্ড সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। অভিজ্ঞ, পেশাদারদের দেখানো হলেও, তারাও ওই রেকর্ড উদ্ধার করতে পারেননি। কিন্তু প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের এই রিপোর্টে মোটেই খুব একটা সন্তুষ্ট নয় আদালত। রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালতের মন্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি রাতেই ছাড়তে হল? তিনি কোথায় আছেন? ভিডিও ফুটেজ নেই। খাতায় কোনও রেকর্ড নেই।রাজ্যের তরফে আরও বলা হয়েছে, যখন তাকে আনা হয়েছিল তখন ওয়ার্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি দেখার জন্য রাজ্যের তরফে রাজীব কুমারের নাম প্রস্তাব দেওয়া হয়। মামলাকারীর আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাঁর হাতে দায়িত্ব না দিতে। বরং মামলাকারীর আইনজীবী সওয়াল করেন, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বা এএসজিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে দুই পক্ষের মন্তব্য শোনার পর আদালতের নির্দেশ, পুলিশকে দায়িত্ব দেব না, সরাসরি যার নিয়ন্ত্রণে জেল আছে।পাশাপাশি এই মামলায় জেল কর্তৃপক্ষের যে গাফিলতি ছিল তা-ও উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতেই ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, এমন পুলিশ আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, যিনি সরাসরি জেলের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই মামলায় জেল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী অমিতেশ বন্দোপাধ্যায় বলেন, জেলের ক্যামেরা চলছিল। লাইভ ছবিও উঠেছে। কিন্তু ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ড (ডিভিআর) কাজ না করায় রেকর্ড হয়নি। ওই বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের দেখানো হলে তাঁরাও ফুটেজ উদ্ধার করতে পারেননি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ ফেব্রুয়ারি।

জানুয়ারি ২১, ২০২২
কলকাতা

রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সরাল নির্বাচন কমিশন

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে রদবদল। এ বার সরানো হল রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে। তাঁর জায়গায় আসছেন নীরজনয়ন পাণ্ডে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি নীরজনয়নের হাতে রাজ্য পুলিশের দায়িত্ব তুলে দিতে। একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত এমন কোনও পদে বীরেন্দ্রকে রাখা যাবে না। নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে যোগ দিতে পারেন নীরজনয়ন। এক সময় সিবিআই-তে ছিলেন তিনি।বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। তার পরেই কমিশনের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে তারা। প্রসঙ্গত, এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে থাকা জাভেদ শামিমকেও সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে পাঠানো হয় দমকলের দায়িত্বে। আর যিনি দমকলের দায়িত্বে ছিলেন সেই জগমোহনকে আনা হয় এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা আধিকারিক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বীরেন্দ্র। পরে সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ অবসর গ্রহণ করলে বীরেন্দ্রকে ডিজি পদে বসিয়ে, সুরজিৎকে রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা করা হয়।

মার্চ ০৯, ২০২১
কলকাতা

নাড্ডার কনভয়ে 'হামলা'র ইস্যুতে ফের মুখ্যসচিব, ডিজিপিকে তলব কেন্দ্রের

আইপিএস নিয়ে বিতর্কের ্মাঝেই মুখ্যসচিব এবং ডিজিপিকে তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে এই মুহুর্তে যা পরিস্থিতি এবং কাজের চাপ রয়েছে সে ক্ষেত্রে কোনওভাবেই ডিজিপি এবং মুখ্যসচিবকে ছাড়া যাবে না। ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও এ বিষয়ে কোনও জবাব আসেনি কেন্দ্রের তরফে। নাড্ডার দু-দিনের রাজ্যসফরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল রাজ্য। তাঁকে ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। আর তার ওপর হামলার অভিযোগেই কড়া পদক্ষেপ করে কেন্দ্র। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে দিল্লিতে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আরও পড়ুন ঃ তৃণমূলের ক্ষতি হবে না, শুভেন্দুর দলত্যাগ প্রসঙ্গে সুব্রত যদিও নাড্ডা-কাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানায়, দিল্লিতে যাচ্ছেন না ডিজি ও মুখ্যসচিব। মুখ্যসচিবের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি দীর্ঘ চিঠিতে রাজ্য সরকার জেপি নাড্ডার সফরে তাঁদের দায়িত্ব, ভূমিকা ও হামলা-পরবর্তী তদন্তমূলক কাজকর্মের বিস্তারিত খতিয়ান ব্যাখ্যা করেছে এবং চিঠির একেবারে শেষে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু রাজ্য সরকার গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, ফলে মিটিংয়ে স্টেট অফিসিয়ালসদের নিয়ে কেন্দ্রের বসাটা এই মুহূর্তে নিষ্প্রয়োজন।

ডিসেম্বর ১৮, ২০২০
রাজ্য

জেপি নাড্ডার গাড়িতে হামলা, মুখ্যসচিব - ডিজিকে তলব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গতকালই রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে নিজের রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন। সুত্রের খবর সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাড্ডা-সহ অন্য বিজেপি নেতাদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি রাজ্যের পুলিশ। রাজ্যপালের এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডিজিপি বীরেন্দ্রকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আগামী ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে হাজিরা দেওয়ার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সুত্রের খবর। আরও পড়ুন ঃ চলতি মাসেই রাজ্যে অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মনে করছে, রাজ্যের নিরাপত্তার দায় মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্য কোনও ভিআইপির নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বীরেন্দ্রর কাছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হবে। রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হলে তাঁদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হতে পারে। তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও সুত্রের খবর।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal