• ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cricket

খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : রোহিতের শতরানে ভর করে ঘুরে দাঁড়াল ভারত

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ভারতের। রোহিত শর্মার দুরন্ত শতরানের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের শেষে ভারত তুলেছে ৩ উইকেটে ২৭০। রোহিত ছাড়াও রান পেলেন চেতেশ্বর পুজারা ও লোকেশ রাহুল। ক্রিজে জমে গিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারেন ভারতীয় সমর্থকরা।আরও পড়ুনঃ প্রতীক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি রোহিতেরপ্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের রাশ ফের ভারতের হাতে টেনে নিয়ে এলেন রোহিত শর্মা। হিটম্যানের দুরন্ত শতরানে ভর করে বড় লিডের দিকে এগোচ্ছে কোহলি ব্রিগেড। আগের দিনের দিনের বিনা উইকেটে ৪৩ রান হাতে নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। রোহিত ২০ ও লোকেশ রাহুল ২২ রানে ক্রিজে ছিলেন। দুই ওপেনারই এদিন সতর্কভাবে খেলা শুরু করেছিলেন। ৩৪ ওভারের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারত। লোকেশ রাহুলকে (৪৬) তুলে নেন জেমস অ্যান্ডারসন। উইকেটের পেছনে তাঁর ক্যাচ ধরেন জনি বেয়ারস্টো। দ্বিতীয় সেশনে ভারতের কোনও উইকেট পড়েনি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ভারতের রান ছিল ১০৮/১।আরও পড়ুনঃ বাইশ গজের বাইরে দুরন্ত ব্যাটিং বিরাট কোহলিরমধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরও ভারতীয় দুই ব্যাটসম্যানের ডিফেন্স টলাতে পারেননি ইংল্যান্ড বোলাররা। দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রোহিত ও পুজারা। ১৪৫ বলে অর্ধ শতরান পূর্ণ করেন রোহিত। তার মধ্যে ছিল ৫টি বাউন্ডারি। জীবনের ৪৩তম টেস্টে ৭৪ তম ইনিংসে ২০৪ বলে শতরান পূর্ণ করলেন রোহিত। হাফ সেঞ্চুরি করার পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পরের ৫০ আসে মাত্র ৫৯ বলে। চা পানের বিরতিতে ১০০ রানে এগিয়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ১২৭ রান করে অলি রবিনসনের বলে ক্রিস ওকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত। ভারতের রান তখন ২৩৬/২। একই ওভারের শেষ বলে পুজারাকে (৬১) তুলে নেন রবিনসন। মঈন আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন। দিনের শেষে ভারত তুলেছে ২৭০/৩। দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারত এগিয়ে ১৭১ রানে। ক্রিজে রয়েছেন কোহলি (২২) ও জাদেজা (৯)।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : বাইশ গজের বাইরে দুরন্ত ‘‌ব্যাটিং’‌ বিরাট কোহলির

দু বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত। সেঞ্চুরি নেই বিরাট কোহলির। তাতেও অবশ্য জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি ভারত অধিনায়কের। বরং ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীর ব্যাপারে কোহলি এমন এক নজির গড়েছেন, যা কেবলমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনল্ডো, লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের রয়েছে। কোহলি মাঠের বাইরে যেভাবে খেলছেন, যে কোনও মুহূর্তে টপকে যেতে পারেন নেইমারকে। আর দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে তো কোনও কথাই নেই। সবার থেকে এগিয়ে থাকবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়ের দিক দিয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও।কোহলি যে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ক্রিকেটার, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে আয়ের দিক থেকে আইপিএলের ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই সবথেকে এগিয়ে। শুধু দেশীয় ক্রিকেটারদের মধ্যেই নয়, বিশ্বের সব ক্রিকেটারের মধ্যেও তাঁর আয় বেশি। কোহলির স্পনসর হিসেবে রয়েছে পুমা, মন্ত্র, অডির মতো সংস্থা। কোহলির ইস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিটি স্পনসর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে কোহলির আয় ৫ কোটি ৮ লক্ষ টাকা। এই মুহূর্তে তিনিই বিশ্বের সবথেকে ধনী ক্রিকেটার।আরও পড়ুনঃ প্রতীক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি রোহিতেরইনস্টাগ্রাম পোস্টের আয়ের দিক থেকে ভারতীয়দের ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। যদিও ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তেমন অ্যাক্টিভ নন। তবুও ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি। ধোনির স্পনসর হিসেবে রয়েছে ভিভোর মতো কোম্পানি। প্রতিটা স্পনসর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে ধোনির আয় ভারতীয় মুদ্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। অ্যাডিডাসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরস রোহিত। প্রতিটা স্পনসর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে রোহিতের আয় প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ। প্রতিটা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে হার্দিকের আয় ৬৫ লাখ টাকা। তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন সুরেশ রায়না। তাঁর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। প্রতিটা স্পনসর ইনস্টাগ্রাম থেকে রায়নার আয় ৩৪ লক্ষ টাকা। আর প্রতিটা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে আয় ৫১ লাখ।আরও পড়ুনঃ কোহলি নাকি অক্সফোর্ড স্ট্রিটেও জামা ছাড়া ঘুরতে পারেন? এ কী বললেন সৌরভ!১৫ কোটির বেশি ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার বিরাট ছাড়া ক্রীড়াবিদদের মধ্যে রয়েছে শুধু বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলারের। ইনস্টাগ্রামে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফলোয়ার সংখ্যা ৩৩.৭ কোটি। রোনাল্ডোর পরে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ২৬ কোটি। নেইমার রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ১৬ কোটি।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Rohit Sharma : প্রতীক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি রোহিতের

দীর্ঘ ৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরির মুখ দেখলেন রোহিত শর্মা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ওভালে পৌঁছে গেলেন সেই কাঙ্খিত শতরানে। রোহিত শর্মার দুরন্ত শতরানের সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারত। বড় রানের পথে বিরাট কোহলির দল। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। দেশের মাঠে ওই সিরিজে দুদুটি সেঞ্চুরি করে চমক দিয়েছিলেন। কিন্তু মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার অভাবে টেস্ট দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অবশ্য জায়গা পাকা করে নিয়েছিলে হিটম্যান। পরে টিম ম্যানেজমেন্ট রোহিতকে টেস্টে ওপেন করার পরামর্শ দেয়। ২০১৯ থেকে টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন রোহিত। লাল বলের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে চমক দিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে ওপেনার হিসেবে প্রথম দুটি ইনিংসে করেছিলেন ১৭৬ ও ১৭২ রান। প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওপেনার হিসেবে ১৯ ইনিংসে ১০৯৪ রান করেন রোহিত। এর মধ্যে ৪টি সেঞ্চুরি এবং ২টি হাফ সেঞ্চুরি। এশিয়ার প্রথম টেস্ট ওপেনার হিসেবে দ্রুততম ১০০০ রানের গন্ডি টপকে যান রোহিত। খেলেছিলেন মাত্র ১৭ ইনিংস। দেশের মাঠে সেঞ্চুরি এলেও বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি অধরাই ছিল ভারতের এই ওপেনারের কাছে। যদিও অভিষেক হওয়ার পর বিদেশের মাটিতে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি রোহিত। মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছেন। দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে খেলেছেন ১৬টি টেস্ট। শেষ পর্যন্ত ওভালে বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরির স্বপ্ন পূরণ হল রোহিতের। ইনিংসের ৬৪ তম ওভারে মঈন আলির বলে ৬ মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছন। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে নেন ২০৪ বল। আগের দিনই রোহিত ১৫ হাজার আন্তর্জাতিক রান পূর্ণ করেছেন। প্রথম টেস্টে তিনি করেছিলেন ৩৬ ও ১২। দ্বিতীয় টেস্টে রোহিতের ব্যাট থেকে আসে ৮৩ ও ২১। লিডস টেস্টে তিনি ১৯ ও ৫৯ রানে আউট হয়েছিলেন। রোহিত ও লোকেশ রাহুল জুটি দলকে নির্ভরতা দেয়। চলতি সিরিজে এই নিয়ে তৃতীয়বার ভারতের ওপেনিং জুটি ৫০-এর বেশি রান যোগ করল। ট্রেন্ট ব্রিজে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে উঠেছিল ৯৭ ও ৩৪। লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে রোহিত-রাহুল জুটিতে ওঠে ১২৬, দ্বিতীয় ইনিংসে। হেডিংলেতে তৃতীয় টেস্টে ওপেনিং জুটি ১ রানে ভাঙলেও দ্বিতীয় ইনিংসে উঠেছিল ৩৪। ওভালে প্রথম ইনিংসে ২৮ রানের মাথায় আউট হয়েছিলেন রোহিত শর্মা। দলের ২৮ রানের মাথাতেই ফেরেন রাহুল। তবে এদিন ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙল ৮৩ রানের মাথায়।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sourav Ganguly: কোহলি নাকি অক্সফোর্ড স্ট্রিটেও জামা ছাড়া ঘুরতে পারেন?‌ এ কী বললেন সৌরভ!‌

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে জেতার পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি খুলে উড়িয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তাঁর সেই জার্সি ওড়ানোর ঘটনায় গর্বিত হয়েছিল গোটা দেশ। এখনও সকলের মুখে মুখে ঘোরে সৌরভের সেই জার্সি ওড়ানোর ঘটনা। অনেকেই মনে করেন, তিনি সাহসী ছিলেন বলেই লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি খুলে ওড়াতে পেরেছিলেন। বিরাট কোহলি যে তাঁকে ছাপিয়ে যেতে পারেন, এই ব্যাপারে নিশ্চিত সৌরভ। কৌন বনেগা ক্রোড়পতির অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনকে পর্যন্ত সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি কোহলিকে চ্যালেঞ্জ না জানানোর জন্য।সৌরভ গাঙ্গুলি ও বীরেন্দ্র শেহবাগকে নিয়ে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানের বিশেষ এপিসোড ছিল। সেই অনুষ্ঠানে লর্ডসের ২০০২ সালে লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি ওড়ানোর প্রসঙ্গে সৌরভ প্রথমে বলেন, আমার মেয়েও একবার জিজ্ঞাসা করেছিল কেন ওই কাজ করেছিলাম। সঠিক উত্তর দিতে পারিনি। পরে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজারের বেশি রান করেছি, এত কভার ড্রাইব মেরেছে, অথচ লোকে এখনও লর্ডসের ব্যালকনির ওই জামা ওড়ানোর দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন করে। অমিতাভ এরপর সৌরভকে বলেন, তিনি যা করেছিলেন তারজন্য গোটা দেশ এখনও গর্বিত। সৌরভ বিশ্বাস করেন, কোহলিরও লর্ডসে জার্সি খুলে ওড়ানোর সাহস আছে। এরপরই তিনি অমিতাভ বচ্চনকে বলেন, কোহলিকে জার্সি ওড়ানো নিয়ে কোনও দিন চ্যালেঞ্জ করবেন না। লর্ডস তো দূরের করা, কোহলি অক্সফোর্ড স্ট্রিটেও জামা ছাড়া ঘুরে বেড়াতে পারে। সেই সাহস ওর রয়েছে। সৌরভের এই কথা শুনে অমিতাভ ও শেহবাগ দুজনেই হাসিতে ফেটে পড়েন। জার্সি খুলে ওড়ানোর সময় সৌরভ কী বলেছিলেন সে সম্পর্কে অমিতাভ বচ্চন জানতে চাইলে সৌরভ বলেন, পরে বলব। অমিতাভ তখন বলেন, আমি আন্দাজ করতে পেরেছি, কী বলেছিলে। তবে যেটা বলেছিলে, ঠিকই বলেছিলে। অনুষ্ঠানে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালের আরও মজার প্রসঙ্গ উঠে আসে। শেহবাগ ওই ম্যাচে কতটা অবাধ্য হয়েছিলেন, সে কথা তুলে ধরেন সৌরভ। তিনি বলেন, আমরা দুজনেই ওপেন করতে নেমেছিলাম। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালটা আমাদের কাছে জেতা জরুরী ছিল। কারণ, তার আগে কয়েকটা ফাইনালে হেরেছিলাম। ফাইনালে প্রথম ৮ ওভারে ভাল রানও ওঠে। রনি ইরানি বল করতে এলে শেহওয়াগকে ঝুঁকি নিতে বারণ করি। আমার কথায় সম্মতি দিলেও পরের বলই মিড অনের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মারে। ওকে গিয়ে বলি, একটা বাউন্ডারি এসে গিয়েছে তুলে শট মারার দরকার নেই। সম্মতি জানিয়ে পরের বল মিড অফ দিয়ে মাঠের বাইরে। তৃতীয় বলের আগে আবার সতর্ক করেও লাভ হয়নি। এরপর ওকে আর কিছু বলিনি। পরের দুটো বলেও চার মেরে শেষ বল হয়তো আমার কথা রাখার জন্য ডিফেন্স করেছিলেন।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : উমেশের ধাক্কা সত্ত্বেও প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

দিনের শুরুতে উমেশ যাদব ধাক্কা দিলেও ইংল্যান্ডকে তেমন বেকায়দায় ফেলা গেল না। ভারতের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। বিপর্যয় সামলে দলকে এগিয়ে দিলেন অলি পোপ, ক্রিস ওকসরা। ভারতের ১৯১ রানের জবাবে প্রথম দিনের শেষে ইংল্যান্ড তুলেছিল ৩ উইকেটে ৫৩। উমেশ যাদবের বলে দিনের শেষবেলায় আউট হয়েছিলেন অধিনায়ক জো রুট (২১)। দ্বিতীয় দিন খেলা শুরু হতেই স্কোর বোর্ডে কোনও রান ওঠার আগেই আউট হন ক্রেগ ওভার্টন (১)। তাঁকে তুলে নিয়ে টেস্ট কেরিয়ারের ১৫০ উইকেট দখল করেন উমেশ যাদব। এরপর দাওইদ মালানকেও ফেরান উমেশ। ৩১ রান করে স্লিপে রোহিত শর্মার হতে ক্যাচ দেন মালান। ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান অলি পোপ ও জনি বেয়ারস্টো। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৪২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯। পোপ পাঁচটি চারের সাহায্যে ৬৬ বলে ৩৮ এবং বেয়ারস্টো ৬৩ বলে ৩৪ রানে ক্রিজে ছিলেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর বলে জনি বেয়ারস্টো (৩৭) লেগ বিফোর হন। এরপর অলি পোপের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যান মঈন আলি (৩৫)। রবীন্দ্র জাদেজার বলে স্লিপে তিনি রোহিতের হাতে ক্যাচ দেন। সেঞ্চুরি থেকে ১৯ রান আগে শার্দুল ঠাকুরের বলে বোল্ড হন অলি পোপ (৮১)। তিনি যখন আউট হন, ইংল্যান্ড ২৫০ রানের গন্ডি পার করে গেছে। রবিনসন (৫) দ্রুত ফিরলেও ইংল্যান্ডে ২৯০ রানে পৌঁছে দেন ক্রিস ওকস (৫০)। ভারতের হয়ে উমেশ যাদব ৭৬ রানে ৩টি উইকেট নেন। বুমরা ও জাদেজা পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। শার্দুল ও সিরাজের ভান্ডারে ১টি করে।দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালই শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারত তুলেছে বিনা উইকেটে ৪৩। রোহিত ২০ ও লোকেশ রাহুল ২২ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : আবার ব্যাটিং বিপর্যয় ভারতের, বুমরার দুর্দান্ত প্রত্যাঘাত

ইংল্যান্ডের মাটিতে টস হারাটা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ওভালে চতুর্থ টেস্টেও সেই টসে হার। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আবার ব্যাটিং বিপর্যয়। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে গেলেন বিরাট কোহলিরা। দুদুটি রেকর্ড করার দিনেও দলকে নির্ভরতা দিতে পারলেন না ভারতীয় দলের অধিনায়ক। ওভাল টেস্টে মেঘলা আবহাওয়া দেখে টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দ্বিধা করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। বিরাট কোহলিরও সেইরকম পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু টস হারায় নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে লক্ষ্য ছিল বড় রান তুলে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলা। সেই আশা পূরণ হয়নি ভারতীয় দলের অধিনায়কের। তাঁর পরিকল্পনা ধাক্কা খায় প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৩ উইকেট হারানোয় বড় রানের স্বপ্নে সলিলসমাধি ঘটে। চতুর্থ টেস্টে দুই দলই দুটি করে পরিবর্তন করে মাঠে নামে। চোটের জন্য ইশান্ত শর্মা ও মহম্মদ সামিকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে মাঠে নামতে হয় ভারতকে। এদের পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শার্দুল ঠাকুর ও উমেশ যাদব। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে চতুর্থ টেস্টেও প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হয়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের স্যাম কারেনের পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পান ক্রিস ওকস। জস বাটলারের জায়গায় ওলি পোপ। আগের টেস্টের মত ভারতের দুই ওপেনার অবশ্য শুরুতে ফিরে যাননি। ওভালে বেশ সাবলীলভঙ্গীতেই শুরু করেছিলেন। প্রথম ঘণ্টায় শুধু রোহিত শর্মার উইকেটই হারিয়েছিল ভারত। ম্যাচের নবম ওভারের শেষ বলে দলের ২৮ রানের মাথায় ২৭ বলে ১১ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রোহিত। জলপানের বিরতির পর ৩৫ বলের ব্যবধানে লোকেশ রাহুল ও চেতেশ্বর পূজারাও আউট হয়ে যান। তিনটি চারের সাহায্যে ৪৪ বলে ১৭ করে অলি রবিনসনের বলে লেগ বিফোর হন রাহুল। ২৮ রানে দুই উইকেট পড়ে ভারতের। এরপর দলের ৩৯ রানের মাথায় জেমস অ্যান্ডারসন দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তুলে নেন চেতেশ্বর পুজারাকে। ৩১ বল খেলে ৪ রান করে উইকেটের পেছনে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দেন পুজারা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ভারতের রান ছিল ২৫ ওভারে তিন উইকেটে ৫৪। তিনটি চারের সাহায্যে ২৯ বলে ১৮ করে অপরাজিত ছিলেন বিরাট কোহলি। ১৯ বলে ২ রান করে ক্রিজে ছিলেন জাদেজা।অজিঙ্কা রাহানের পরিবর্তে এদিন ৫ নম্বরে নামানো হয়েছিল রবীন্দ্র জাদেজাকে। তিনিও সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ১৪ রান করে ক্রেগ ওভারটনের বলে মঈন আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। অধিনায়ক কোহলিও বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারেননি। ৯৬ বলে ৫০ রান করে অলি রবিনসনের বলে উইকেটেপ পেছনে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ধরা পড়েন। ভারতের রান তখন ১০৫/৫। ওভাল টেস্টেও খারাপ ফর্ম কাটিয়ে উঠতে পারলেন না রাহানে (১৪) ও ঋষভ পন্থ। চরিত্র বিরোধী ইনিংস খেলে ৩৩ বলে ৯ রান করে ক্রিস ওকসের বলে আউট হন তিনি। ১২৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারত। এরপর উমেশ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালান শার্দুল ঠাকুর। জুটিতে ওঠে ৬৩। এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ। ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোর হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৫৭ রান করেন শার্দুল। এরপরই ধস নামে ভারতের ইনিংসে। ৬১.৩ ওভারে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় কোহলিদের ইনিংস। ৫৫ রানে ৪ উইকেট নেন ক্রিস ওকস। রবিনসন ৩৮ রানে নেন ৩ উইকেট। অ্যান্ডারসন ও ওভারটন নেন ১টি করে উইকেট।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ররি বার্নসকে (৫) বোল্ড করেন যশপ্রীত বুমরা। একই ওভারের শেষ বলে হাসিব হামিদকে (০) তুলে নেন। তারপর রুখে দাঁড়ান দাওইদ মালান ও অধিনায়ক জো রুট।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : ‌শচীন, ধোনির রেকর্ড ভেঙে ওভালে নতুন কীর্তি বিরাট কোহলির

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটে রান নেই। ভারত অধিনায়ককে নিয়ে চারিদিকে গুঞ্জন কম হচ্ছে না। তার মধ্যেই আবার একটা রেকর্ডের মালিক হয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। ভেঙে দিলেন কিংবদন্তী শচীন তেন্ডুলকারের রেকর্ড। বিশ্বের দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২৩ হাজার রানের মালিক হয়ে গেলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতইংল্যান্ড সিরিজের চতুর্থ টেস্ট চলছে ওভালে। ওভাল টেস্ট বিরাট কোহলির ৪৪০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ৪৯০তম ইনিংসে জেমস অ্যান্ডারসনের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩ হাজার রান পূর্ণ করেন বিরাট। ২৩ হাজার রানে পৌঁছতে শচীন তেন্ডুলকারের লেগেছিল ৫২২ ইনিংস। আর রাহুল দ্রাবিড়ের লেগেছিল ৫৭৬ ইনিংস। সেই জায়গায় কোহলি ২৩ হাজার রানে পৌঁছলেন ৪৯০ ইনিংসে। বিশ্বের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে কোহলি ২৩ হাজার রানে পৌঁছলেন। তাঁর আগে এই মাইলস্টোনে পৌঁছেছেন শচীন, দ্রাবিড় ছাড়াও রিকি পন্টিং (৫৪৪), জ্যাক কালিস (৫৫১), কুমার সাঙ্গাকারা (৫৬৮), মাহেলা জয়বর্ধনে (৬৪৫)। কোহলির টেস্টে সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ২৫৪। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭০টি শতরান ও ১১৬টি অর্ধশতরান রয়েছে বিরাটের। ২৯ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান করার নিরিখে ভারত অধিনায়ক রয়েছেন ৭ নম্বরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান শচীন তেন্ডুলকারের। তিনি করেছেন ৩৪৩৫৭ রান। ৬৬৪টি ম্যাচে ৭৮২টি ইনিংসে শচীন এই রান করেছেন। এরপর রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (২৮০১৬), অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (২৭৪৮৩), শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে (২৫৯৫৭), দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক কালিস (২৫৫৩৪) এবং ভারতের রাহুল দ্রাবিড় (২৪২০৮)। তিন ফরম্যাটেই বিরাটের গড় ৫০এর উপর। শুধু শচীনের রেকর্ডই ভাঙা নয়, ওভালে এদিন আরও একটি নজির গড়েছেন বিরাট কোহলি। প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে বিদেশের মাটিতে একটা দেশের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ১০টি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির গড়লেন কোহলি। ভেঙে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ড। ধোনি ইংল্যান্ডের মাটিতে দেশকে ৯টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সুনীল গাভাসকার পাকিস্তানের মাটিতে দেশকে ৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশকে সবথেকে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডও কোহলির দখলে। তিনি মোট ৬৫টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ধোনি দিয়েছিলেন ৬০টি টেস্টে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪৯টি টেস্টে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Bangladesh : তামিমের সিদ্ধান্তে তোলপাড়ের দিনেই চমক বাংলাদেশ ক্রিকেটের

টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে চান না। তামিম ইকবালের আচমকা এই সিদ্ধান্তে তোলপাড় বাংলাদেশ ক্রিকেট। তার মাঝেই চমক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে গুটিয়ে দিল মাত্র ৬০ রানে। হঠাৎ করে কেন টি২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তামিম ইকবাল? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই, না চোট? ফেসবুক পোস্টে অবশ্য চোটের কথা উল্লেখ করেছেন। তামিম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দেশের হয়ে শেষ ১৫১৬টা টি২০ ম্যাচে আমি খেলিনি। বেশ কিছুদিন ধরে চোটের জন্য খেলতে পারছি না। চোট সারিয়ে বিশ্বকাপের আগে ফিট হতে সমস্যা ছিল না। হয়তো বিশ্বকাপের দলে আমাকে রাখা হত। যেহেতু দীর্ঘদিন টি২০ খেলিনি, তাই আমার পরিবর্তে যে তরুণ ক্রিকেটাররা ওপেন করছে, বিশ্বকাপে তাদের জায়গা কেড়ে নেওয়া ঠিক নয়। সেইজন্য বিশ্বকাপের থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এদিকে, বাংলাদেশ সফরে এসে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের মাটিতেই ফের টি ২০ আন্তর্জাতিকে নিজেদের সর্বনিম্ন রানেই গুটিয়ে গেল টম লাথামের নেতৃত্বাধীন দল। বাংলাদেশ সফরে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এদিন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কিউয়িরা। কোল ম্যাকেঞ্চির সঙ্গেই এই ম্যাচে অভিষেক হয় নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাচিন রবীন্দ্রর। ৪ ওভারেই ৯ রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের ৪ উইকেট পড়ে যায়। ম্যাচের তৃতীয় বলেই কোনও রান না করে আউট হন রাচিন রবীন্দ্র। দলের ৭ রানের মাথায় শূন্য রানে ফেরেন উইল ইয়ং। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে দলের আট রানের মাথায় আউট হন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (০)। এই ওভারের শেষ বলে টম ব্লান্ডেল (২) ফেরেন। টম লাথাম ও হেনরি নিকোলস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। দুজনেই ১৮ রান করেন। ১১ তম ওভারের পঞ্চম বলে ৪৩ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট পড়ে নিউজিল্যান্ডের। লাথাম আউট হন। এরপর ১৬.৫ ওভারেই শেষ নিউজিল্যান্ড। ১৭ রানের মধ্যে পড়ে শেষ ৬ উইকেট। ২.৫ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ১৩ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন। শাকিব আল হাসান, মহম্মদ সৈফুদ্দিন ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট দখল করেন। মেহেদি হাসানের ঝুলিতে এক উইকেট।কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে বিপর্যয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। স্পিনারদের দাপটে অসিদের মতো কিউয়িদের ব্যাটিং বিপর্যয়। অনভিজ্ঞতার জন্যই স্পিনারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। পরে জোরে বোলারদের বিরুদ্ধে রান তোলাও সহজ হয়নি মুস্তাফিজুর রহমান দারুণ ফর্মে থাকায়। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ বাংলাদেশের চট্টগ্রামেই টি ২০-তে নিউজিল্যান্ড ৬০ রানে অল আউট হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। আবার ফিরে এল সেই ষাটের অভিশাপ।জয়ের জন্য ৬১ রানের লক্ষ্যমাত্রা একেবারেই কঠিন ছিল না বাংলাদেশের সামনে। তবে জয়ে পেতে বাংলাদেশকে ১৫ ওভার অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। কোল ম্যাকঞ্চি আন্তর্জাতিক অভিষেকের প্রথম বলেই ফেরান মহম্মদ নঈমকে (১)। স্পিনার আজাজ প্যাটেল তুলে নেন লিটন দাসকে (১)। এরপর দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন সাকিব আল হাসান (২৫), মুশফিকুর রহিম (অপরাজিত ১৬), মাহমুদ্দুল্লা (১৪)। ৭ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌Kieron Pollard : ওয়াইড বল না পেয়ে এ কী করলেন কিয়েরণ পোলার্ড!‌

নজির গড়ার দিনে এ কী করলেন কিয়েরণ পোলার্ড? ওয়াইড বল না দেওয়ায় আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলেন! শুধু তাই নয়, রাগ করে ক্রিজ থেকে দুরে গিয়ে দাঁড়িয়েও রইলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও সেন্ট লুসিয়া কিংস ম্যাচে।ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের ইনিংসের ১৯ নম্বর ওভারে এই ঘটনা ঘটে। ওয়াহাব রিয়াজের বলে ব্যাট করছিলেন টিম সেইফার্ট। অফস্টাম্পের বাইরে বল করেছিলেন পাকিস্তানের জোরে বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। বল অনেকটাই দুরে ছিল। নাগাল পাননি নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান সেইফার্ট। তবুও আম্পায়ার ওয়াইড দেননি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা কিয়েরণ পোলার্ড। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত না বদলানোয় ক্রিজ থেকে সরে গিয়ে ৩০ গজের বৃত্তের কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।আরও পড়ুনঃ কেন ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন ডেল স্টেন?রাগ দেখালেও এদিন অবশ্য নজির গড়েছেন কিয়েরণ পোলার্ড। বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি২০ ক্রিকেটে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেছেন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জয় পেল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২৭ রানে হারিয়েছে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে।সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে ৪১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন পোলার্ড। ম্যাচ সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও তিনি পান। এখনও পর্যন্ত টি২০ ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৫৫৪ ম্যাচ খেলেছেন পোলার্ড। ১১০০৮ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। স্ট্রাইক রেট ১৫২.৭৪। ৫৫টি অর্ধশতরান। ১ টি শতরান। ২৯৭টি উইকেটও নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের এই অলরাউন্ডার। কিয়েরণ পোলার্ডের আগে ক্রিস গেল টি২০ ক্রিকেটে ১১ রান করেছেন। গেলের ঝুলিতে রয়েছে ১৪১০৮ রান। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক (১০৭৪৮ রান) ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (১০০১৭ রান)।আরও পড়ুনঃ দলগঠনে চমক এসসি ইস্টবেঙ্গলের, অরিন্দমকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব!ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাতে সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিরুদ্ধে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। ২৯ বলে ৪১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন পোলর্ড। ৬টি চার ও একটি ছক্কা আসে তাঁর ব্যাট থেকে। ২৫ বলে ৩৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন টিম সেইফার্ট। সেন্ট লুসিয়ার হয়ে ৪ উইকেট নেন ফাস্ট বোলার কেসরিক উইলিয়ামস।আরও পড়ুনঃ দৈনিক টিকাকরণে দেশে ফের রেকর্ড১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান সেন্ট লুসিয়া কিংসের ওপেনার রাহকিম কর্নওয়েল। ব্যর্থ হন ফ্যাফ ডু প্লেসিস সহ দলের বাকি ব্যাটসম্যান। একাই লড়াই করেন আন্দ্রে ফ্লেচার। ৫৫ বলে ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেও তিনি দলের হার এড়াতে পারেননি। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রানের বেশি তুলতে পারেনি সেন্ট লুসিয়া। নাইট রাইডার্সের হয়ে ৩ উইকেট নেন রবি রামপাল। ২ উইকেট নেন ইসুরু উদানা।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌CC Test Ranking :শীর্ষে উঠে এলেন জো রুট, রোহিতেরও নীচে কোহলি

ছয় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফের বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যানের মুকুট উঠল ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের মাথায়। ভারতইংল্যান্ড চলতি টেস্ট সিরিজে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। শুধু এই সিরিজে নয়, একবছর ধরে তাঁর ব্যাটে রানের ধারা অব্যাহত। তার পুরস্কার পেলেন রুট। নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনকে সরিয়ে বিশ্বের ১ নম্বর ব্যাটসম্যানের জায়গা দখল করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।আরও পড়ুনঃ দৈনিক টিকাকরণে দেশে ফের রেকর্ডচলতি সিরিজ শুরুর সময় টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বরে ছিলেন রুট। প্রথম দুটি টেস্টে শতরানের সুবাদে উঠে এসেছিলেন ২ নম্বরে। হেডিংলেতে তৃতীয় টেস্টে আবার সেঞ্চুরি। প্রত্যাশিতমতোই চতুর্থ টেস্ট শুরুর আগে বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট ব্যাটসম্যানের জায়গায় উঠে এলেন।নটিংহ্যাম, লর্ডস ও হেডিংলেতে তিনতিনটি সেঞ্চুরি এসেছে ইংল্যান্ড অধিনায়কের ব্যাট থেকে। এখনও পর্যন্ত ৩ টেস্টে জো রুটের রান ৫০৭, গড় ১২৬.৭৫। এই স্বপ্নের ফর্মের জন্যই নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সরিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর পর টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ১ নম্বের উঠে এলেন রুট। হেডিংলে টেস্টে রান পাওয়ায় জনি বেয়ারস্টো উঠে এসেছেন ২৪ নম্বরে, ৫ ধাপ ওপরে। ডেভিড মালান ব্যাটসম্যানদের তালিকায় উঠে এসেছেন ৮৮ নম্বরে।আরও পড়ুনঃ দলগঠনে চমক এসসি ইস্টবেঙ্গলের, অরিন্দমকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব!জো রুট শীর্ষে উঠে এলেও অবনমন হয়েছে বিরাট কোহলির। হেডিংলেতে কোহলি দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতরান করলেও ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে নেমে গিয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে। তাঁকে টপকে ৫ নম্বরে উঠে এসেছেন রোহিত শর্মা। হেডিংলিতে রোহিত দুটি ইনিংসে করেন ১৯ ও ৫৯ রান। প্রথম দশ টেস্ট ব্যাটসম্যানের তালিকা থেকে ছিটকে গেছেন ঋষভ পন্থ, তিনি এখন ১২ নম্বরে রয়েছেন। তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রান করায় চেতেশ্বর পুজারা ৩ ধাপ উঠে চলে এসেছেন ১৫ নম্বরে। অজিঙ্ক রাহানে নেমে গিয়েছেন ১৮ নম্বরে। নেমে গিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা এবং লোকেশ রাহুলও। জাদেজা রয়েছেন ৪৫ নম্বরে, রাহুল ৪৮এ।আরও পড়ুনঃ কেন ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন ডেল স্টেন?হেডিংলে টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের সেরা ৫ বোলারের মধ্যে চলে এসেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ১ ধাপ উঠে তিনি এখন পঞ্চম স্থানে। ৯ ধাপ উঠে অলি রবিনসন চলে এসেছেন ৩৬ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ে ফের ঢুকে পড়ে ক্রেগ ওভার্টন রয়েছেন ৭৩ নম্বরে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে রবিচন্দ্রন অশ্বিন দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছেন। ১ ধাপ উঠে ১০ নম্বরে রয়েছেন যশপ্রীত বুমরা। মহম্মদ সামি ১৮ নম্বরে উঠে এসেছেন। ১৯ নম্বরে নেমে গিয়েছেন ইশান্ত শর্মা। বোলারদের ক্রমতালিকায় নেমে গিয়ে ৪১ নম্বরে রয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, ৫৬ নম্বরে শার্দুল ঠাকুর।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

D‌‌ale Steyn : কেন ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন ডেল স্টেন?‌

২০১৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। একদিনের ক্রিকেট ও টি২০ ক্রিকেট খেলে চলেছিলেন। ২২ গজে আর বল হতে দাপাতে দেখা যাবে না ডেল স্টেনকে। এবার সব ধরণের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই জোরে বোলার। মঙ্গলবার এক প্রেস বিবৃতিতে নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ডেল স্টেন। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার একদিনের ও টি২০ দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না ডেল স্টেন। মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান জোরে বোলার। আইপিএলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। হয়তো সেই কারণেই পাকাপাকিভাবে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। গতবছর ডিসেম্বর থেকেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছিলেন ডেল স্টেন। অবশেষে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রেস বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, যে খেলাকে সবথেকে বেশি ভালবাসি, তাকেই বিদায় জানাচ্ছি। ক্রিকেটের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। পরিবার, সতীর্থ, সাংবাদিক ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যারা সবসময় আমার পাশে ছিল। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন ডেল স্টেন। প্রেস বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলা, অনুশীলন করা, সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটি, ভীষণভাবে মনে পড়ছে। গত ডিসেম্বর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছিলাম। এই চরম মুহুর্তের জন্য নিজের মনকে বোঝানো খুবই কঠিন কাজ ছিল। অবশেষে নিজেকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, এটাই সরে দাঁড়ানোর সেরা সময়।২০১৯তে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তারপর জাতীয় দলের হয়ে বেশকিছু টি২০ ও একদিনের ম্যাচ খেলেন। দেশের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ৪৩৯টি। ইনিংসে সেরা বোলিং ৭/৫১। একদিনের ও টি২০ ম্যাচ খেলেছেন যথাক্রমে ১২৫ ও ৪৭টি, উইকেট ১৯৬ ও ৬৪টি। ৯৫টি আইপিএল ম্যাচে ৯৭টি উইকেট নিয়েছেন। বিগ ব্যাশ, পকিস্তান সুপার লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছেন স্টেন।

আগস্ট ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌IPL : ২০২২ আইপিএলের দুটি নতুন দল কারা?‌ টেন্ডার ডাকল বোর্ড

২০২২ আইপিএলের জন্য দুটি নতুন দল নেওয়া হবে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে নতুন দল নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। নতুন দল নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ৫ অক্টোবরের মধ্যে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে টেন্ডার জমা দিতে বলা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, একটা সংস্থা একটামাত্রই টেন্ডার জমা দিতে পারবে।আরও পড়ুনঃ কেন ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানালেন ডেল স্টেন?আইপিএলের নতুন দল কিনতে গেলে কী যোগ্যতা থাকতে হবে, টেন্ডার জমা দেওয়ার নিয়ম, প্রস্তাবিত নতুন দলের অধিকার সম্পর্কিত তথ্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া ইনভাইটেশন অফ টেন্ডারএ পাওয়া যাবে। অফেরৎযোগ্য ১০ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পর ইনভাইটেশন অফ টেন্ডার পাওয়া যাবে। এই ১০ লক্ষ টাকার সঙ্গে সার্ভিস ট্যাক্স যুক্ত হবে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী বছর আইপিএলে যে নতুন দুই দল অন্তর্ভূক্ত হবে, তাদের বেস প্রাইজ ২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। টেন্ডারের মাধ্যমে দুটি নতুন দল বিক্রি করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হবে।আরও পড়ুনঃ সৌরভের চমক, ইডেনে রনজি ফাইনাল ১৬ মার্চনতুন দলের জন্য প্রথমে ১৭০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। যে সংস্থা বার্ষিক ৩ হাজার কোটি টাকা ও তার বেশি আর্থিক লেনদেন করে থাকে, একমাত্র তাদেরই আইপিএলের নতুন দল কেনার বিডে অংশ নিতে দেওয়া হবে। দেশের দুটি বড় শহরের নামে আইপিএলের নতুন দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়া হবে। শোনা যাচ্ছে আমেদাবাদের নামে একটা দলের অন্তর্ভূক্তি ঘটতে চলেছে। দ্বিতীয় দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি শহর হওয়ার দৌড়ে পুনে ও লক্ষ্মৌ। একসময় পুনে রাইজিং স্টার দলের মালিক ছিলেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। তিনি আবার ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার জন্য ঝাঁপাতে চলেছেন। আমেদাবাদ দল কেনার জন্য শিল্পপতি গৌতম আদানি ঝাঁপাতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

আগস্ট ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Ranji Trophy : সৌরভের চমক, ইডেনে রনজি ফাইনাল ১৬ মার্চ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন বাংলার সৌরভ গাঙ্গুলি। সেই রাজ্য সংস্থা কি আর বঞ্চিত থাকতে পারে? এই মরশুমে রনজি ট্রফির সব নক আউট ম্যাচ কলকাতায় আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সামনে ঘরের মাঠে রনজি নক আউটে খেলার সুযোগ। কারণ, এবছর রনজিতে অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে রয়েছে বাংলা। গ্রুপ অফ ডেথে দিল্লি, মুম্বই, কর্ণাটক। করোনা ভাইরাসের আবহেই ক্রিকেট মরশুম শুরু করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই মাঠ তৈরি রাখার ব্যাপারে সব রাজ্য সংস্থাকে নির্দেশ পাঠিয়েছে। দিল্লিতে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার নক আউট পর্বের খেলা হবে। আর রনজির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতাকে।নক আউট পর্ব শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। ফাইনাল শুরু হবে ১৬ মার্চ। ইডেন ছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মাঠ, কল্যানীতে ম্যাচ আয়োজন করা হতে পারে। রনজির গ্রুপ বিন্যাসও হয়ে গেছে। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ ট্রফি, বিজয় হাজারে ট্রফি ও রনজি ট্রফিতে ৩০টি দলকে পাঁচটি এলিট গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটা গ্রুপে ৬টি করে দল রয়েছে। প্লেট গ্রুপে খেলবে আটটি দল। ৫টি এলিট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। এলিট গ্রুপের রানার্স ও প্লেট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। সেখান থেকে আরও ৩টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। এলিট গ্রুপ এতে রয়েছে : গুজরাত, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, সার্ভিসেস, অসম। বি গ্রুপে রয়েছে : বাংলা, বিদর্ভ, হরিয়ানা, কেরল, ত্রিপুরা, রাজস্থান। সি গ্রুপে রয়েছে: দিল্লি, কর্ণাটক, মুম্বই, হায়দরাবাদ, মহারাষ্ট্র্র, উত্তরাখণ্ড। ডি গ্রুপে রয়েছে : তামিলনাড়ু, রেলওয়েজ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, গোয়া, সৌরাষ্ট্র। ই গ্রুপে রয়েছে : অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বরোদা, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, পন্ডিচেরি। প্লেট গ্রুপে রয়েছে : চণ্ডীগড়, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, বিহার, মণিপুর, মিজোরাম, সিকিম, অরুণাচলপ্রদেশ।মহিলা অনূর্ধ্ব ১৯ প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু হবে দেশের নতুন ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুম। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি। ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে রনজি ট্রফি। করোনা ভাইরাসের জন্য বেশকিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ও বিভিন্ন দলগুলিকে। প্রতি দলে সর্বোচ্চ ৩০ ও সর্বনিম্ন ২০ জন ক্রিকেটার রাখা যাবে। দলের সাপোর্ট স্টাফের সংখ্যা ১০ কিংবা তার নিচে রাখার কথা জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। করোনার জন্য একজন ফিজিশিয়ান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Akash Deep : কোহলির সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করবেন বাংলার আকাশদীপ

আইপিএলের দ্বিতীয় দফা শুরুর আগেই একের পর এক ধাক্কা খেয়েই চলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। দল প্লে অফে উঠলে পাবে না শ্রীলঙ্কার দুই ক্রিকেটারকে। সেটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। এবার আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব থেকে ছিটকে গেলেন অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর। চোটের জন্য এই স্পিনার অলরাউন্ডার আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলিতে খেলতে পারবেন না। তাঁর পরিবর্তে আইপিএলের দরজা খুলে গেল বাংলার জোরে বোলার আকাশদীপের সামনে। ওয়াশিংটন সুন্দরের পরিবর্ত হিসেবে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলে সুযোগ পেলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ নীরজে উদ্বুদ্ধ দেবেন্দ্র প্যারালিম্পিকে দেশকে এনে দিলেন রুপোইংল্যান্ড সফরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ইংল্যান্ড থেকে তঁাকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। রিহ্যাব চলছিল। এই ভারতীয় স্পিনার অলরাউন্ডারের চোট যে বেশ গুরুতর তা বোঝা গেছে সোমবার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের পক্ষ থেকে এদিন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আঙুলের চোটের জন্য সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে শুরু হতে চলা আইপিএল ২০২১র বাকি ম্যাচগুলিতে খেলতে পারবেন না ওয়াশিংটন সুন্দর। আসলে ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তিনি। পুরো ফিট না হয়ে মাঠে নামলে আবার চোট লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।ওয়াশিংটনের পরিবর্তে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর আকাশদীপকে নিলেও তিনি দলে কতটা সুযোগ পাবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, বিরাট কোহলির দল আগেই অ্যাডাম জাম্পার পরিবর্তে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ড্যানিয়েল সামসের পরিবর্তে জোরে বোলার দুষ্মন্ত চামিরাকে নিয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলে আকাশদীপ সঙ্গী হিসেবে পাবেন বাংলারই শাহবাজ আমেদকে।আরও পড়ুনঃ প্যারালিম্পিকে ডিসকাস থ্রোতে রুপো জিতলেন যোগেশ কাথুনিয়াআদপে বিহারের ছেলে হলেও বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ছোট বেলাতেই কলকাতায় চলে আসেন আকাশদীপ। বাংলার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে দাপিয়ে খেলার পর ২০১৯২০ মরশুমে রনজি দলে ডাক পান। দলকে রনজি ফাইনালে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। বাংলার হয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ৩৫টি। টি২০ ম্যাচ খেলেছেন ১৬টি। উইকেট পেয়েছেন ২১টি। বিরাট কোহলির দলে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার সুযোগ পাবেন ভেবেই আপ্লুত আকাশদীপ।

আগস্ট ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs ENG Test : অসহায় আত্মসমর্পন কোহলিদের, সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড

হেলিংলেতে তৃতীয় দিন চেতেশ্বর পুজারা ও বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন ভারতীয় সমর্থকরা। অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশায় ছিলেন। চতুর্থদিন প্রথম সেশনেই সব আশা শেষ। মধ্যাহ্নভোজের আগেই গুটিয়ে গেল ভারত। দুরন্ত রবিনসনের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন বিরাট কোহলিদের। ইনিংস ও ৭৬ রানে তৃতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড। ভারতের শেষ ৭ উইকেট পড়ল মাত্র ৪১ রানে। বাইশ গজ অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠেছিল। চতুর্থ দিন সকালের প্রথম ঘণ্টা নতুন বল সামলে নিতে পারলেই কাজটা সহজহয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে। হয়তো ম্যাচও বেঁচে যেত। কিন্তু হতাশ করলেন বিরাট কোহলিরা। ভারতের শেষ ৮ উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাতে ইংল্যান্ডের একটা সেশনও লাগল না। আগের দিনের ২ উইকেটে ২১৫ রান হাতে নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ভারত। চেতেশ্বর পুজারা ৯১ ও বিরাট কোহল ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। এদিন কোনও রান করার আগেই অলি রবিনসনের বল জাজমেন্ট দিয়ে ছাড়তে গিয়ে বিপত্তি। বল লাগে পুজারার প্যাডে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট রিভিউ নেন। টিভি আম্পায়ারের সাহায্য নিয়ে অনফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পুজারা আউট হলেন নার্ভাস নাইন্টিতে। ২০১৭ সালের মার্চে বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন। এদিন শতরান হাতছাড়া ৯ রানের জন্য।পুজারা ৯১ রানে আউট হওয়ার পর আশা ছিল বিরাট কোহলিকে নিয়ে। ম্যাচের ৮৭তম ওভারের শেষ বলে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার আউট দিয়েছিলেন। রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান ভারত অধিনায়ক। তখন তিনি ৪৬ রানে ব্যাট করছিলেন। এরপর ৯০তম ওভারের প্রথম বলে অলি রবিনসনকে চার মেরে সিরিজের প্রথম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কোহলি। ১২০ বলে টেস্ট জীবনের ২৬তম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি আসে কোহলির ব্যাট থেকে। একই ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে পৌঁছে যান ৫৫। ওভারের শেষ বলে প্রথম স্লিপে জো রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান কোহলি। কোহলি যখন আউট হন, ভারতের রান ২৩৭। কোহলি ফিরে যাওয়ার পর ধস ভারতের ইনিংসে। ১ ওভার পরেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন অজিঙ্কা রাহানে (১০)। মিছিলে পা মেলান ঋষভ পন্থ (১), মহম্মদ সামি (৬), ইশান্ত শর্মারা (২)। রবীন্দ্র জাদেজা (৩০) সামান্য লড়াই করেন। ইশান্তকে ফিরিয়ে রবিনসন ইনিংসে ৫ উইকেট দখল করেন। তাঁর দুরন্ত স্পেল ভারতের হার নিশ্চিত করে দেয়। ওভারটন নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন অ্যান্ডারসন ও মঈন। ২৭৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। ম্যাচের সেরা রবিনসন।

আগস্ট ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

C‌heteshwar Pujara : চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটে সমালোচকদের জবাব

২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের সেই জুটির কথা আজও বীরগাথা হয়ে আছে ক্রিকেট ইতিহাসে। ফলোঅনে বাধ্য হয়েও টেস্ট জিতেছিল ভারত। আরও একটা টেস্টের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। সেটা আবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই। ২০০২ সালে নটিংহ্যাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৫০রও বেশি রানে পিছিয়ে থেকে টেস্ট ম্যাচ বাঁচিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির ভারত। হেডিংলেতে কি তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে টিম ইন্ডিয়া? ৩৫৪ রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকে দুরন্ত লড়াই কোহলিদের। ভারতকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ছন্দে ফেরা চেতেশ্বর পুজারা।আগের দিনের ৮ উইকেটে ৪২৩ রান হাতে নিয়ে খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। শুক্রবার অবশ্য ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে বেশি বাড়তে দেননি ভারতীয় বোলাররা। তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ। প্রথমে ফেরেন ক্রেগ ওভারটন। তিনি ৪২ বলে ৩২ রান করে মহম্মদ সামির বলে এলবিডব্লুউ হন। রবিনসন কোনও রান না করেই যশপ্রীত বুমরার বলে বোল্ড হন। ৪৩২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।আরও পড়ুনঃ ইতালিয়ান ফুটবলে সি আর সেভেন যুগের পরিসমাপ্তি, যোগ দিচ্ছেন ম্যান ইউতেএরপরই ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডের বোলারদের সামলাতে নেমে পড়েন রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুলরা। ভারতের দুই ওপেনার ভালোই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ছন্দ কাটে ক্রেগ ওভারটনের দুর্দান্ত একটা আউটসুইংয়ে। তাঁর বল লোকেশ রাহুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে দ্বিতীয় স্লিপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। বাঁদিকে শরীর ছুঁড়ে একহাতে দুরন্ত ক্যাচ নেন জনি বেয়ারস্টো। এরপর শুরু হয় রোহিত ও পুজারার লড়াই। এদিন অন্য পুজারাকে দেখা গেল। আগের তুলনায় অনেক বেশি কম্পোজড। রোহিত শর্মাকেও অন্যরকম মনে হল। ১২৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রোহিত। মধ্যাহ্নভোজের সময় ভারতের রান যেখানে ১ উইকেটে ৩৪ ছিল, চা বিরতিতে গিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১১২।আরও পড়ুনঃ আর নিজের পায়ে হাঁটতে পারবেন না ক্রিস কেয়ার্নস?চা পানের বিরতির পরপরই ধাক্কা খায় ভারত। অলি রবিনসনের বলে এলবিডব্লুউ হয়ে সাজঘরে রোহিত। ১৫৬ বলে তিনি করেন ৫৯। পুজারার সঙ্গে জুটিতে তিনি তোলেন ৮২ রান। এরপরই ব্যাট হাতে অন্য ভুমিকায় দেখা গেল চেতেশ্বর পুজারাকে। যেন সমালোচকদের জবাব দিতেই মাঠে নেমেছেন। ৯১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। কোহলির ব্যাটিংয়েও বড় রানের ইঙ্গিত। এখন দেখার ২০০২ সালের নটিংহ্যামের স্মৃতি হেডিংলেতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে কিনা কোহলি ব্রিগেড। ৭৪ ওভারে ভারত তোলে ১৯৪/২। সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান তখন দুরে ছিলেন পুজারা (৮২)। তৃতীয় দিনের শেষে ভারত ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২১৫। পুজারা ৯১ ও কোহলি ৪৫ রানে ক্রিজে রয়েছেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারত এখনও ১৩৯ রানে পিছিয়ে।

আগস্ট ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

C‌hris Cairns : আর নিজের পায়ে হাঁটতে পারবেন না ক্রিস কেয়ার্নস?‌

নিজের পায়ে আর দাঁড়াতে পারবেন না ক্রিস কেয়ার্নস? এমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন একসময়ের বিশ্ব কাঁপানো নিউজিল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার। অস্ত্রোপচার চলার সময়ই স্ট্রোক হয়। তার ফলে প্যারালাইসিসের কবলে পড়ছেন। কেয়ার্নেস দুই পা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে গেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।নিউজিল্যান্ড ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরেই সপরিবার অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস করেন ক্রিস কেয়ার্নস। সেখানেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রান বাঁচানোর জন্য সিডনিতে নিয়ে এসে দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি ক্যানবেরা ফিরে এসেছেন। কিন্তু দুই পা পক্ষাগ্রস্থ হয়ে পড়ায় কেয়ার্নসের স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকন্ঠা থেকেই গেছে।আরও পড়ুনঃ ইতালিয়ান ফুটবলে সি আর সেভেন যুগের পরিসমাপ্তি, যোগ দিচ্ছেন ম্যান ইউতেকেয়ার্নসের আইনজীবী অ্যারন লয়েড বলেছেন, কেয়ার্নসকে বাঁচাতে জরুরিভিত্তিতে হৃদযন্ত্রে সার্জারি করতে হয়েছিল সিডনিতে। সার্জারি সময় আবার মেরুদণ্ডে স্ট্রোক হয়। এতেই তাঁর দুই পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। কেয়ার্নসের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও স্থিতিশীল। অস্ট্রেলিয়ারই এক নামী স্পাইনাল হাসপাতালে কেয়ার্নসের রিহ্যাব চলবে বলে জানিয়েছেন লয়েড।আরও পড়ুনঃ চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটে সমালোচকদের জবাবকেয়ার্নসের অসুস্থতাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলে অ্যাওর্টিক ডিসেকশন। যে কারণে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রেখে তাঁকে সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যে শিরার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে যায় সেই অ্যাওর্টার ভিতরের স্তর ছিঁড়ে গিয়েছিল। এর ফলে প্রাণ সংশয় তৈরি হয় কেয়ার্নসের। সিডনির হাসপাতালে জরুরীকালীন অস্ত্রোপচারে প্রাণ বাঁচানো গেলেও পুরো সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহেই লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম থেকে বের করে আনা হয় কেয়ার্নসকে। তিনি পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছেন এবং কথাবার্তাও বলতে শুরু করেছেন।আরও পড়ুনঃ আবার সেঞ্চুরি রুটের, হেডিংলেতে চালকের আসনে ইংল্যান্ড১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক কেয়ার্নসের। ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৬২টি টেস্ট, ২১৫টি একদিনের ম্যাচ ও ২টি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ক্রিস কেয়ার্নসের বাবা ল্যান্স কেয়ার্নসও নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। ২০০৮ সালে কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে তাঁকে দীর্ঘ আইনি রাস্তায় হাঁটতেও হয়। ২০১২ সালে তিনি ললিত মোদীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা জেতেন লন্ডনের আদালতে। এরপর লু ভিনসেন্ট ও ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ফের কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ তোলেন। মামলার খরচ জোগাড়ে তাঁকে অকল্যান্ড কাউন্সিলে ট্রাক চালানো ও বাস শেল্টার পরিষ্কারের কাজ নিতেও হয়েছিল।

আগস্ট ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌IND vs ENG Test : আবার সেঞ্চুরি রুটের, হেডিংলেতে চালকের আসনে ইংল্যান্ড

লর্ডস টেস্টে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর দেশের বোলারদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। আশায় ছিল, হেডিংলেতেও জ্বলে উঠবেন। কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেন না যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সামিরা। ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় টেস্টে চালকের আসনে ইংল্যান্ড। আবার অধিনায়কোচিত সেঞ্চুরি জো রুটের। চলতি সিরিজে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক সেরে ফেললেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ভারতের প্রথম ইনিংস ৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর প্রথম দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল বিনা উইকেটে ১২০। ররি বার্নস ৫২ ও হাসিব হামিদ ৬০ রানে ক্রিজে ছিলেন। প্রথমদিন যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই দ্বিতীয় দিন শুরু করে ররি বার্নসহাসিব হামিদ জুটি। সকালের পরিবেশের কথা ভেবে প্রথম ৩০ মিনিট ভারতীয় বোলারদের কিছুটা সমীহ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। পরে সময় যত গড়িয়েছে, দাপট দেখিয়েছেন বার্নস ও হামিদ। ওপেনিং জুটিতে দুজনে তোলেন ১৩৫ রান। জুটি ভাঙেন মহম্মদ সামি। তিনি তুলে নেন ররি বার্নসকে। ৬১ রান করে বোল্ড হন বার্নস। দলের ১৫৯ রানের মাথায় ফেরেন অন্য ওপেনার হাসিব হামিদ। ৬৮ রান করে তিনি রবীন্দ্র জাদেজার বলে বোল্ড হন। রুট নামার পর ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ড দারুণ সচল ছিল। এই সময় ভারতীয় বোলাররা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। জুটি ভাঙতে ৮০ ওভার শেষ হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নেন কোহলি। কোনও লাভ হয়নি। কোহলি নতুন বল নিতেই রুটের দাপট যেন বেড়ে গিয়েছিল। মধ্যাহ্নভোডের বিরতির সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১৮২/২। সেখান থেকে চাবিরতিতে ২৯৮/৩।দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর ডেভিড মালানেন সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক জো রুট। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওঠে ১৩৯ রান। ২৯৮ রানের মাথায় ইংল্যান্ড তৃতীয় উইকেট হারায়। ৭০ রান করে মহম্মদ সামির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মালান। এরপর জনি বেয়ারস্টোকে সঙ্গে নিয়ে দলের লিড বাড়ানোর ফাঁকে দুরন্ত শতরান উপহার দেন রুট। বেয়ারস্টোকে (২৯) তুলে নেন সামি। রুট এদিন কেরিয়ারের ২৩তম টেস্ট শতরান পূর্ণ করলেন মাত্র ১২৪ বলে। ১২টি চারের সাহায্যে। রুটের বিধ্বংসী ফর্ম, সেই সঙ্গে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানেরই অর্ধশতরানের সুবাদে রানের পাহাড় করছে ইংল্যান্ড। ১৬৫ বলে ১২১ রান করে যশপ্রীত বুমরার বলে বোল্ড হন রুট। ইংল্যান্ডের রান তখন ৩৮৩। পরের ওভারেই জাদেজার বলে আউট হন মঈন আলি (৮)। ইংল্যান্ডকে ৪০০ রানের গন্ডি পার করে দেন স্যাম কারেন ও ক্রেগ ওভারটন।

আগস্ট ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Kolkata Knight Raiders : সাউদিকে নিয়ে কেন আশায় বুক বাঁধছে কলকাতা নাইট রাইডার্স?‌

স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। সেপ্টেম্বরেই সন্তানের জন্ম দেবেন। এই সময়ে স্ত্রীর পাশে থাকতে চান প্যাট কামিন্স। তাই আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলিতে তিনি খেলতে পারবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা আগেই কলকাতা নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছিলেন কামিন্স। কামিন্সের পরিবর্তে নিউজিল্যান্ডের জোরে বোলার টিম সাউদিকে দলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চেন্নাই সুপার কিংস, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পর এবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে দেখা যাবে সাউদিকে। ২০১১ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলে অভিষেক ঘটে টিম সাউদির। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দলের হয়ে টানা আইপিএল খেলেছেন। পরপর দুবার আইপিএলে খেলার সুযোগ হয়নি নিউজিল্যান্ডের এই জোরে বোলারের। শেষবার আইপিএল খেলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে। এখনও পর্যন্ত আইপিএলে ৪০টি ম্যাচ খেলেছেন সাউদি। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৮টি উইকেট। সেরা বোলিং ২৪ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট। ইকনমি ৮.৭৩। সবমিলিয়ে সাউদি মোট টি২০ ম্যাচ খেলেছেন ২০১টি। উইকেট নিয়েছেন ২২৪টি। সেরা বোলিং ১৬ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট। ব্যাট হাতে ৮১৪ রান করেছেন, দুটি অর্ধশতরান রয়েছে। সর্বাধিক স্কোর ৭৪। সাউদি দলে আসায় খুশি কলকাতা নাইট রাইডার্স কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিতে ম্যাচ উইনার সাউদির অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছেন তিনি।আইপিএলের বাকি ম্যাচ খেলতে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী রওনা হবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার আগে মুম্বইতে রয়েছেন ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। তারই মধ্যে বড় চমক দিল শাহরুখ খানের দল সাউদিকে দলে নিয়ে। তবে প্যাট কামিন্সের না থাকাটা বড় ধাক্কা কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে। চলতি আইপিএলে বোলিংয়ের পাশাপাশি পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলকে ভরসা দিচ্ছিলেন কামিন্স। যদিও সাউদির ব্যাটের হাতও খুব একটা খারাপ নয়। সাউদাম্পটনে ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে সফল হন সাউদি। ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের প্রয়োজনের সময় তিনি করেছিলেন ৪৬ বলে ৩০ রান। একটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই ভারতের রান টপকাতে সুবিধা হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের।

আগস্ট ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Mohammad Siraj : আবার আক্রমণের শিকার?‌ এবার জবাব দিলেন মহম্মদ সিরাজ

অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর উদ্দেশ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য উড়ে আসায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল ক্রিকেটবিশ্ব। ইংল্যান্ড সফরে আবার আক্রমণের শিকার মহম্মদ সিরাজ। তবে এবার বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যর শিকার হতে হয়নি। হেডিংলেতে তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন গ্যালারি থেকে তাঁর উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে মারা হল বল। তবে চুপ করে থাকেননি মহম্মদ সিরাজ। সেই দর্শককে পাল্টা জবাবও দেন। গ্যালারিতে বসে থাকা ওই দর্শকের দিকে তাকিয়ে আঙুল তুলে ইশারায় কিছু দেখান সিরাজ। এই ভিডিও যথেষ্ট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় তৃতীয় সেশনে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করছিলেন মহম্মদ সিরাজ। সেইই সময় গ্যালারি থেকে এক দর্শক সিরাজকে উদ্দেশ্য করে বল ছোঁড়েন। ভারতীয় দলের এই জোরে বোলার প্রথমে লক্ষ্য করেননি। বল ছোঁড়ার ঘটনাটা চোখে পড়েছিল উইকেটকিপার ঋষভ পন্থের। তিনি বিষয়টা অধিনায়ক কোহলিকে জানান। এরপর কোহলি মহম্মদ সিরাজকে নির্দেশ দেন, বল বাইরে ফেলে দেওয়ার জন্য। অধিনায়কের নির্দেশ মতো সিরাজ বল বাইরে ফেলেন। সেই সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছে গিয়ে গ্যালারির দিকে ডান হাতের একটা আঙুল তুলে দেখান সিরাজ। এরপর বাঁহাত দিয়ে শূন্য দেখান যিনি বল ছুঁড়েছিলেন, সেই দর্শককে উদ্দেশ্য করে। ভারতীয় দলের এই জোরে বোলার হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন, সিরিজে ভারত ১০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন ভারতীয় দলের উইকেটকিপার ঋষভ পন্থ। বিষয়টিকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক আখ্যাও দিয়েছেন। আন্তজার্তিক ক্রিকেটে বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে ফেলা মহম্মদ সিরাজ এই ব্যাপারে বেশ খানিকটা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগ্য জবাব দিতে হয়, তা তিনি রপ্ত করে ফেলেছেন। লিডসে গ্যালারির দিকে তাঁর ইশারা করাই প্রমাণ। তবে সিরাজের দিকে বল ছোঁড়ার ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

আগস্ট ২৬, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 16
  • 17
  • 18
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বৃষ্টি থামার নাম নেই! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলায় নাছোড় বৃষ্টি এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার দাপট অব্যাহত। সামনে পুজো। তাই কবে বৃষ্টি কমবে, কবে মিলবে পরিষ্কার আকাশের দেখা, সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা উপকূল, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় রয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে এখনও বাংলায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ফলে বৃষ্টির পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটছে না।বুধবার কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার থেকে বদলাতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দক্ষিণবঙ্গে যখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় নতুন করে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাংলার আকাশ থেকে বর্ষার দাপট কবে পুরোপুরি কাটবে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal