• ১৫ মাঘ ১৪৩২, সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Clash

রাজ্য

রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে কালনা কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সংঘর্ষ- জখম চার পড়ুয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি নিজেই লজ্জায় মুখ লুকোতেন।কারণ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেবে এমনটা তাঁর কাছে ছিল কল্পনারও অতীত। কিন্তু বাস্তবেই শুক্রবার এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা কলেজে। রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে তৃণমূলের দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালনা কলেজ চত্ত্বর। সংঘর্ষে আহত হন চার জন।তাঁদের মধ্যে এক ছাত্র আবার রক্তাত হন মাথা ফেটে যাওয়ায় ।এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন কালনা নিবাসী আপামোর রবীন্দ্র অনুরাগী।কালনা কলেজ জেলার একটি ঐতিহ্যশালী কলেজ হিসাবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। সেই কলেজ কবিগুরুর একটি নতুন আবক্ষমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলেজে পৌছান কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও কালনা পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। অনুষ্ঠান শুরুর খানিক আগেই বেঁধে যায় অশান্তি। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে কেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সেই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য ছাত্র ছাত্রীরা কলেজে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেদেয়। বিক্ষোভের জেরে চেয়ারম্যান ও বিধায়ক কেউই আর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না। তারই মধ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সমর্থক ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে দলের অপর গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি। পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে পেটাতে শুরু করে। তা নিয়ে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে নেয়। মারধোরে মাথা ফেটে রক্তাত্ত হয় এক ছাত্র। বেশ কিছু সময় বাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান কার্যত ভেস্তে যায়।এদিনের সংঘর্ষের ঘটনা বিষয়ে কালনা নিবাসী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহ-সভাপতি শেখ নইম আলী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অনিয়ম করে কলেজে নানা কাজ কর্ম হচ্ছে। তা নিয়ে এর আগে সংগঠনের তরফে আমরা কালনা কলেছের প্রিন্সিপালকে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। তবুও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রিন্সিপাল কোন কাজ করেন নি। এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেটাতেও কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে জানানো হয় না। অনুষ্ঠানের বিষয়ে শুধু জানতেন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। এঁরাই কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষের মধ্যে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করতে চাইছে। এইসব বিষয় নিয়েই এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা কলেজে আন্দোলন করছিল। তখন বিধায়কের অনুগতরা লাঠি-সোটা দিয়ে তাদের মারধোর শুরু করে। মারধোরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সদস্য এক ছাত্র রক্তাত হয়। আরও দুজন ছাত্র আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত বিধায়ক পুত্র সহ কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে শেখ নইম আলী জানিয়েছেন।বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহসভাপতির এইসব দাবী মানতে চান নি। পাল্টা তিনি দাবী করেন, এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছে বহিরাগতরা। তাঁরা কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছে। বিধায়ক আরো দাবী করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানাবেন, আর কাদের জানাবেন না সেট কলেজ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যাপার। নিমন্ত্রন তো আর জোর করে নেওয়া যায় না। এদিন যাঁরা কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হলেও আমি তাঁদের সমর্থন করার মতো কিছু দেখছি না। বিধায়ক এও জানান, যাঁরা এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁদের সবার শাস্তি হোক সেটাই তিনি চান।প্রিন্সিপাল তাপস সামন্ত জানান, মূলত দুটি ডিপার্টমেন্ট এদিন ছোট খাটো করে কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। কলেজ পরিচালন সমিতি, দুটি বিভাগের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং এলাকার বিধায়ক, চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তা নিয়ে তারা গত দুদিন ধরে জানতে চাইছিল। প্রিন্সিপাল আরো বলেন, ওদেরকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। ভিড় বাড়লে ক্যাওস হবে। তাই এদিন কলেজে যাতে ভিড় কম থাকে তারজন্য বেশী কাউকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয় নি। এইসব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এদিন কলেজে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এমনটা না হলেই ভালো হত ।

মে ২১, ২০২২
রাজনীতি

বিধানসভায় তৃণমূল-বিজেপি বিধায়কদের তুমুল হাতাহাতি, জখম বেশ কয়েকজন, সাসপেন্ড ৫ বিজেপি বিধায়ক

রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডের ঢেউ আছড়ে পড়ল বিধানসভায়। সোমবার দিনের শুরুতেই বিজেপি বিধায়কদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য বিধানসভার অন্দর। বগটুইতে নিরীহ মানুষজনের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। স্পিকার তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বেড়ে যায় বিক্ষোভ। সেই সময় ওয়েলে যুযুধান দুই শিবির। হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় বিজেপি ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে। পরে জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বিজেপি বিধায়করা। তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের কার্যত হাতাহাতিতে গেরুয়া শিবিরের ১০ বিধায়ক আহত হয়েছেন বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। জানা গিয়েছে, বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা মনোজ টিগ্গার জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। চশমা ভেঙে যায় এক বিধায়কের। চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নাক ফেটে গিয়েছে। এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। অসিতবাবুর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দ্বারা প্রহৃত হয়েছেন তিনি।Absolute pandemonium in the West Bengal Assembly. After Bengal Governor, TMC MLAs now assault BJP MLAs, including Chief Whip Manoj Tigga, as they were demanding a discussion on the Rampurhat massacre on the floor of the house.What is Mamata Banerjee trying to hide? pic.twitter.com/umyJhp0jnE Amit Malviya (@amitmalviya) March 28, 2022সোমবার বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। একে অপরের উপর হামলে পড়েন বলে অভিযোগ। জামা ধরে টানাটানি, হাত চালানোর পাশাপাশি কারও কারও মুখের কথাও আগলহীন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে বিধানসভার মত প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণ নিঃসন্দেহে প্রশ্নের অবকাশ রাখে। বিধানসভায় যে ঘটনা ঘটেছে ইতিমধ্যেই তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই ঘটনার জেরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, বিধায়ক মনোজ টিগ্গা-সহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ফোন করেন। গোটা বিষয়টি জানতে চান। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের একজন বিধায়ককে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তিও করা হয়েছে। ২১০ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছেন অসিত মজুমদার। এই সমস্ত বিষয়ে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে বলেন, যে ঘটনা ঘটল সেটা অনভিপ্রেত। বিধানসভার নিয়মকানুন নিয়ে পড়াশোনা করেন না। বিধানসভার গুরুত্ব তাঁরা বোঝেন না। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই বিধানসভার সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা তৈরি হবে। কীভাবে সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায় সেটাও দেখা হবে বলে জানান বিধানসভার অধ্যক্ষ।

মার্চ ২৮, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল নেতা খুনে অগ্নিগর্ভ রামপুরহাট, ঝলসে মৃত্যু ১২ জনের

বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। বগটুইতে পর পর বাড়িতে আগুন। অগ্নিদগ্ধ বাড়িগুলি থেকে ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে দমকল। বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, একটি বাড়িতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছে সিআইডি এবং ফরেন্সিক টিম। হেলিকপ্টারে রামপুরহাট যাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম (বীরভূমের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা), আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিত সিনহা।রামপুরহাটের এই এলাকা কয়েকমাস ধরেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। আট মাসে আগে বাড়ি ফেরার পথে খুন হয়েছিলেন ভাদু শেখের মেজো ভাই। জানা গিয়েছিল, রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এর পর সেই একই কায়দায় খুন হলেন তৃণমূলের উপপ্রধান। আর তার ঠিক পরপরই গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এতজনের মৃত্যু। ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে তদন্তকারী দল পাঠানো হচ্ছে রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে। সূত্রের খবর, সিআইডি টিম যাচ্ছে সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে প্রাথমিকভাবে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। তাঁর দাবি, ৭টি বাড়িতে আগুনের ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।সোমবার রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে বোমা হামলায় তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের মৃত্যু হয়। ভাদু রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন। তাঁর বাড়ি রামপুরহাট থানা এলাকার বগটুই গ্রামে। সেখানে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন ভাদু। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে পালায় এক দল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর স্থানীয়েরা রক্তাক্ত অবস্থায় ভাদুকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ভাদুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ওই গ্রাম। পর পর বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন,সোমবার রাতে তিন জনের ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার সকালে আরও সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সাত জনই একটি বাড়িতে ছিলেন। দমকলের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বারো জনের মৃত্যু হয়েছে। বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, তিন চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। টিভি ফেটে আগুন লাগে। দমকল, পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, তার পর বলব। তবে উপপ্রধান খুনের সঙ্গে এর যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনুব্রত।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজনীতি

প্রার্থী বদল নিয়ে তুমুল হট্টগোল তৃণমূলে, এলাকায় এলাকায় বিক্ষোভ

প্রার্থী বদল নিয়ে অসন্তোষের জেরে এলাকায় এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত। শনিবার তা কার্যত ধর্মঘটের আকার নেয় কিছু জায়গায়। কামারহাটি পুরসভার ১ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বদলের দাবিতে রবিবার কারখানা বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।১০৮টি পুরসভার (দার্জিলিং ছাড়া) নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করা হয় শুক্রবার বিকেলে। পরিস্থিতি ঘোরালো হয় তার পরেই। তৃণমূলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং মিডিয়া গ্রুপে বিশদ প্রার্থিতালিকা প্রকাশিত হয়। তার পরেই রাজ্যের নানা জায়গা থেকে বিক্ষোভ, অবরোধ, প্রতিবাদের খবর আসতে থাকে। একাধিক নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক তাঁদের অসন্তোষের কথা জানাতে থাকেন দলের উপরতলায়। এর পর রাতেই প্রার্থিতালিকা প্রকাশে বিভ্রান্তি স্বীকার করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, চূড়ান্ত তালিকা জেলা সভাপতিদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও রাজ্যজুড়ে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। শনিবার দিনভর তার রেশ দেখা গেল জেলায় জেলায়।হুগলিরও রিষড়া, চুঁচুড়া ও তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় তুমুল বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। রিষড়ার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঝুম্পা দাস সরকারের নাম না থাকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারকেশ্বর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ নইমের পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে অমরেন্দ্রনাথ সাঁপুইকে। এর প্রতিবাদে পদ্মপুকুর এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান দলের কর্মীরা। পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থী বদলের দাবি উঠছে জোড়াফুল শিবির থেকে। মেমারি পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। বর্ধমান পুরসভাতেও কয়েকজন প্রার্থী বদল করার দাবি উঠেছে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বর্ধমান রাজবাড়ির সামনে পথ অবরোধও করেন বিক্ষোভকারীরা।প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভের আবহ বাঁকুড়াতেও। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মীদের একাংশ। প্রার্থী-ক্ষোভে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মেদিনীপুর শহরও। শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙামাটি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্ষোভ-বিক্ষোভের পর্ব চলছে তৃণমূলে।দক্ষিণবঙ্গের মতো প্রার্থীতালিকা নিয়ে ক্ষোভের আঁচে ফুটছে উত্তরবঙ্গের তৃণমূল শিবিরও। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বদলের দাবিতে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। ক্ষোভের আবহ ডালখোলা পুরসভার তৃণমূল শিবিরেও। সেখানে কয়েক জন প্রার্থী বদলের দাবি তুলে মিছিল করেন তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। প্রার্থী বদলের দাবিতে কোচবিহার চার নম্বর ওয়ার্ডে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। কামেশ্বরী রোডে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ঘণ্টাখানেক অবরোধের ফলে যানজট তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
রাজ্য

অবৈধ বালি খাদান ও ওভারলোড গাড়ি নিয়ে সরব তৃণমূলের একাংশ, বর্ধমানে হামলার মুখে সরকারি আধিকারিকরা, ছড়াল উত্তেজনা

নদ-নদী থেকে বালি লুট ও বালির ওভার লোডিং বন্ধে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কে কার কথা শোনে। মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন তার কোন কিছুই পূর্ব বর্ধমান জেলায় মানা হচ্ছে না বলে এতদিন জেলাবাসী অভিযোগ করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি নিয়ে খোদ খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ জেলা প্রশাসনের দফতরে অভিযোগ জানালেন। পাশাপাশি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা ভূতনাথ মালিকও ওভারলোড বালির লরি চলাচল নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ইদিলপুরের বালি খাদানে বালির গাড়ির চালান চেক করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন ভূমি দফতরের আধিকারিকা। যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ শ্যামল কুমার পাঁজা ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, খণ্ডঘোষের শশঙ্গা অঞ্চলে দামোদর নদে বেশ কয়েকটি অবৈধ খাদান চলছে। তার মধ্যে গৈতানপুর মৌজায় থাকা একটি অবৈধ বালি খাদান দীর্ঘদিন যাবৎ ধারাবাহিক ভাবে অনুপম পাঁজা নামে এক ব্যক্তি চালিয়ে যাচ্ছেন।গত ২৮ জানুয়ারি খণ্ডঘোষ বিএলআরও এবং এসডিএলআরও দফতরের আধিকারিকগণও ওই বালি খাদান খতিয়ে দেখতে আসেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে তাঁর প্রমাণ করেন খাদানটি সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবেই চলছে। তার পরেও ওই অবৈধ খাদান থেকে আরও বেশি পরিমাণে খননকার্য চলছে। শ্যামলবাবু তাঁর অভিযোগে আরও জানিয়েছেন, এলাকার মানুষজন অবৈধ বালি খাদান বন্ধ করার কথা অনুপম পাঁজাকে বলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে অনুপম পাঁজা এলাকার মানুষজনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁর খাদান নিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। অনুপম পাঁজার এমন বক্তব্যে এলাকার বাসিন্দা মহলে ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই অবৈধ বালি খাদান নিয়ে যে কোনওদিন এলাকায় বড়সড় অশান্তির ঘটনা ঘটে যেতে পারে।এমন আশঙ্কার কথাও প্রশাসনকে জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব কর্মাধ্যক্ষ।অবৈধ বালি খাদানযদিও এইসব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অনুপম পাঁজা। তিনি বালির চালান দেখিয়ে দাবি করেন বৈধ ভাবে লিজ পেয়েই তিনি তাঁর খাদান চালাচ্ছেন। তাঁর খাদান অবৈধ বলে যিনি দাবি করছেন তিনি সঠিক বলছেন না। বিএলআরও দফতরের লোকজন একদিন তাঁর বালি খাদান মাপজোক করতে এসেছিলেন। সেই কাজে তিনিও তাঁদের সাহায্য করেছিলেন। কোনও অনিয়ম ধরা পড়ার কথা বিএলআরও দফতরের কেউ তাঁকে জানায়নি। অনুপম পাঁজা এও জানান, শ্যামল পাঁজা এমন অভিযোগ আগেও তাঁর বিরুদ্ধে করেছিলেন। কারণ ওনার ব্যক্তিগত কিছু দাবিদাওয়া আছে। যা তিনি পূরণ করেননি। তাই শ্যামল পাঁজা প্রশাসনের কাছে এইসব মিথ্য অভিযোগ করছেন বলে অনুপম পাঁজা মন্তব্য করেছেন। খণ্ডঘোষ ব্লকের বিএলআরও রোহিত রঞ্জন ঠাকুর জানিয়েছেন, শশঙ্গা অঞ্চলে অবৈধ বালি খাদান চলছে এমন কোন অভিযোগের এদিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ব্লক ভূমি দফতরে কিছু জানাননি। তবে তাঁরা অনুপম পাঁজার খাদান নিয়ে এনকোয়ারি করে ছিলেন। সব খতিয়ে দেখে তাঁরা অনিয়ম কিছু পাননি। সেই রিপোর্ট জেলার ভূমি আধিকারিককে (এডিএম এলআর ) পাঠিয়ে দিয়েছেন।পরে এসডিএলআরও দফতর থেকেও আধিকারিকরা এসে অনুপম পাঁজার খাদান খতিয়ে দেখে যান। ওনারা কি রিপোর্ট দিয়েছেন সেই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে খণ্ডঘোষের বিএলঅরও জানিয়েছেন।অবৈধ বালি খাদান চলার অভিযোগ শুধু খণ্ডঘোষের বাসিন্দারাই অভিযোগ তুললেন এমনটা নয়।জামালপুরের জোড়বাঁধ, পুলমাথা ও সারাংপুর এলাকায় অবৈধ বালিখাদান চলছে বলে ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছিল।এখনও জোড়বাঁধ এলাকায় দামোদর থেকে দেদার চলছে বালি লুট। এই বিষয়ে ওই বালি খাদানের প্রাক্তন লিজ হোল্ডার বাসুদেব মাজি ওরফে হোবেকে ফোন করা হলে তিনি জানান, জোড়বাঁধে দামোদর থেকে বালি তোলার লিজ এবার কেউ পায়নি। তাই তিনি জোড়বাঁধ থেকে বালি তোলেন না। স্থানীয় কাঁঠালতলা এলাকায় যাঁর বালি খাদান রয়েছে তাঁরাই জোড়বাঁধ থেকে এখন বালি তোলেন। বালি কারবারি বাসুদেব মাঝির এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় জোড়বাঁধে দামোদর থেকে বালি লুটের অভিযোগ মোটেই অসত্য নয়। জোড়বাঁধের পাশাপাশি জামালপুরের বেরুগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দারাও অবৈধ বালিখাদান ও ওভারলোড বালির লরি চলাচল নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেরুগ্রাম অঞ্চলেও প্রকাশ্যে অবৈধ বালি খাদান চলছে। বিষয়টি জানার পর সম্প্রতি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক নিজে ব্লকের ভূমি দফতরে গিয়ে অবৈধ বালি খাদান বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এই অঞ্চলে দামোদরে নৌকা নামিয়েও বালি তুলে পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে পুলিশি অভিযানে বালি চোর ধরা পড়ার পর। বেরুগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ছাড়াও ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শয়ে শয়ে ওভারলোড পাথর ও বালির লরি কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাওয়ার সড়ক পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। বহু সংখ্যায় ওভারলোড বালির লরি যাতায়াতের কারণে সদ্য তৈরি হওয়া ওই পাকা পিচ রাস্তা সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। অথচ প্রশাসনের কেউ এই বিষয়টি নিয়ে হেলদোল দেখাচ্ছেন না। ক্ষুব্ধ জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক বলেন, রাস্তা বাঁচাতে এরপর হয়তো জামালপুরের জনপ্রতিনিধিদেরই পথে নেমে ওভারলোড বালি ও পাথরের লরি ধরতে হবে।সরকার ওভারলোড গাড়ি চলাচল বন্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার পরেও কিভাবে ওভার লোড বালির লরি সড়ক পথে চলাচল করছে তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার বলেও ভূতনাথ মালিক জানিয়েছেন।বিরোধীরা যদিও দাবি করেছে, কোথায় কিভাবে বালি লুট হচ্ছে তার সবই জানেন পুলিশ ও শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা। তার পরেও জনপ্রতিনিধিদের যে সব অভিযোগ করছেন সেটা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। জনপ্রতিনিধিদের আনা এইসব অভিযোগের মাঝেই বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ইদিলপুরে বালি ঘাটে বালির চালান খতিয়ে দেখতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হলেন ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। চালান বিহীন বালি বোঝাই একটি ট্র্যাক্টর ধরা নিয়ে বালিঘাটে থাকা লোকজন ভূমি দফতরের আধিকারিদের উপরে চড়াও হয়। তাঁরা আধিকারিকদের গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ডিএসপি(হেডকোয়ার্টার) অতনু ঘোষালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ধরপাকড়। কয়েকদিন আগে তেলিপুকুর সংলগ্ন এলাকায় বলিঘাট পরিদর্শনে এগিয়ে একই ভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেরিয়ে বারে বারে ভূমি দফতরের আধিকারিকদের এইভাবে হেনস্থার শিকার হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের কর্তারা। অতিরিক্ত জেলা শাসক (এডিএম এলআর) ঋদ্ধি ব্যানার্জী জানিয়েছেন, খণ্ডঘোষের শশাঙ্গা অঞ্চলে অবৈধ বালি খাদান চলছে এমন অভিযোগ কেউ তাঁকে জানায়নি। তবে গৈতানপুরে থাকা অনুপম পাঁজার বালি খাদান নিয়ে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ অভিযোগ করেছিলেন। বিএলআরও এবং এসডিএলআরও দফতরের আধিকারিকরা ওই খাদান নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। রিপোর্ট এখনও দেখা হয়নি। রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরে ওই খাদানের বিষয়ে জানাতে পারবেন। জামালপুরের জোড়বাঁধ ও বেরুগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ ভাবে বালি খাদান চলা ও কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাওয়ার রাস্তায় ওভারলোড বালির গাড়ি অতিমাত্রায় চলছে এমন অভিযোগও কেউ তাঁর দফতরে জানায়নি। আভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলে অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন। এদিনের ইদিলপুরের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, বালির গাড়ির চালান দেখতে চাইলেও বালির গাড়ির লোকেদের গাত্রদাহ হচ্ছে। সেই জন্য তারা বারে বারে ভূমি দফতরের লোকজনের উপর চড়াও হচ্ছে। এদিনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

Group Clash: বালি খাদানের দখল নিয়ে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে চললো গুলি, জখম ১

বালিখাদানের দখল নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হল এক তৃণমূল কর্মী। জখম ওই তৃণমূল কর্মীর নাম শেখ পান্নালাল ওরফে ফটিক। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের ইদিলপুর এলাকায়। এই ঘটনা নিয়ে এদিন সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকালে। ওইদিন বর্ধমানের সদরঘাট এলাকায় পিকনিক করতে গিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকজনের মধ্যস্থতায় তখনকার মত অশান্তি মিটে গেলেও রবিবার সকালে ফের অশান্তি বাঁধে। অভিযোগ, শেখ ফটিক এদিন সকালে বালিখাদে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি বিরুদ্ধ গোষ্ঠির সুনীল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বোমাও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ফটিক জানিয়েছে, গুলি তাঁর পায়ে লাগে। ফটিককে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় বর্ধমান হাসপাতালে। এলাকায় দখলদারি কায়েম করতেই ছেলে ফটিকের উপরে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মা মদিনা বিবি। যদিও তিনি এই ঘটনাকে গোষ্ঠী সংঘর্ষ বলে মানতে চাননি। মদিনা বিবি দাবি করেছেন, যাঁরা তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে তারা বিজেপির লোক। ঘটনার পর স্থানীয় বালি ব্যবসায়ী রাজনাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, শেখ ফটিক রবিবার সকালে দলবল নিয়ে তার ভাই অরুন চৌধুরীর বাড়িতে হামলা করে।এমনকি তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। বাড়িতে থাকা একটি মোটর সাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। রাজনাথ চৌধুরী দাবি করেন, হামলা চালানোর সময়ে শেখ ফটিক তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়। তবে পান্নালাল কিভাবে গুলিবিদ্ধ হল সে বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করে রাজনাথ চৌধুরী। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ যাই থাক বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। উত্তেজনা থাকায় এলাকাজুড়ে চলছে পুলিশি টহলদারি।জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগ্নেআস্ত্র কি ভাবে এল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারি ০২, ২০২২
রাজ্য

SFI vs TMCP: টিএমসিপি-এসএফআই-এর সংঘর্ষে উত্তপ্ত উত্তরপাড়ার কলেজ, জখম দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন

টিএমসিপি এবং এসএফআই সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির উত্তরপাড়ার প্যারীমোহন কলেজ। বৃহস্পতিবার কলেজ চত্বরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ওই দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যেরা। মারপিটে জখম হয়েছেন দুপক্ষেরই বেশ কয়েক জন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে এসএফআইয়ের তরফে।সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর অভিযোগ, কলেজের সামনে দিয়ে তাদের মিছিল যাওয়ার সময় মারধর করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)। বৃহস্পতিবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং হুগলিতে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি-সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে উত্তরপাড়া স্টেশন থেকে উত্তরপাড়া কলেজ স্ট্যান্ড অবধি মিছিল করে এসএফআই। মিছিল শেষে ছিল সভাও। সংগঠনের অভিযোগ, সভার পিছনে থাকা কয়েক জন সমর্থককে তুলে নিয়ে এসে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। যদিও টিএমসিপি সমর্থকদের পাল্টা অভিযোগ, এসএফআই সমর্থকরাই কলেজে ঢুকে অশান্তি পাকিয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে সাত-আট জন জখম হয়েছেন। তাঁদের উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।অভিযোগ, সভায় পিছনের দিকে থাকা বেশ কিছু এসএফআই সমর্থককে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় টিএমসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে এসএফআই। যদিও টিএমসিপি সমর্থকদের দাবি, এসএফআই সমর্থকরা কলেজে এসে ঝামেলা করে। কলেজে সেই সময় পরীক্ষা চলছিল। এর জেরেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ।দুপক্ষেরই অভিযোগ, ক্রিকেটের ব্যাট, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় তাদের। এমনকী পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ছিল বলেই অভিযোগ। এসএফআইয়ের সভার অস্থায়ী মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে হাজির হয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশের বিশাল বাহিনী।এ প্রসঙ্গে উত্তরপাড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলী বোর্ডের সদস্য তাপস মুখোপাধ্যায় বলেন, এসএফআইয়ের সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। পায়ের নীচে মাটি তো নেই, তাই এসব গল্প তৈরি করছে। এই কলেজের একজন অধ্যাপক ছিলেন। এখন আছেন কি না জানি না। উনিই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোকে উষ্কে নিয়ে এসেছেন। শান্তিপূর্ণ এলাকায় অশান্তি পাকাতে এসব ছল।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২১
রাজ্য

BJP-Clash: পূর্ব বর্ধমানে প্রকাশ্যে বিজেপির অন্তর্কলহ

ফের প্রকাশ্যে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব।প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সভাপতির সভার আগেই তাঁদের সামনেই তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বর্ধমান জেলার দাঁইহাট শহরে। দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দলের কর্মীরা। সভার শুরুর আগেই ভাঙচুর করা হয় চেয়ার টেবিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। আরও পড়ুনঃ বর্ষা বিদায়ের আগাম সুখবর শোনাল হাওয়া অফিসএদিন বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ দলের একাংশ বিজেপির বর্ধমান পূর্ব (গ্রামীণ) জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ ও দাঁইহাট নগর কমিটির সভাপতি অনুপ বসুকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দুই নেতাকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কৃষ্ণ ঘোষ ও অনুপ বসুর মতন নেতাদের জন্য একুশের নির্বাচনে ফল খারাপ হয়েছে বিজেপি। তাঁদের আরও অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর ওই নেতারা কর্মীদের কোনও খোঁজখবর রাখেনি। সেই ক্ষোভেই এদিন ওই দুই নেতার পদত্যাগের দাবি জানান দলের কর্মীদের একাংশ।জানা গিয়েছে, শুক্রবার পূ্র্ব বর্ধমানের দাঁইহাটের বাগতিকর এলাকায় বিজেপির বর্ধমান পূর্ব (গ্রামীণ) জেলা কার্যালয় অফিসে বিশেষ সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষের। আলোচনা সভার পর বিকেলে নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতিকে সম্বর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষ সেখানে পৌঁছনোর আগেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

অক্টোবর ২২, ২০২১
কলকাতা

Fake Voter: ভুয়ো ভোটারকে ঘিরে ধুন্ধুমার খালসা হাইস্কুলে

ভবানীপুরে খালসা হাইস্কুলে ভুয়ো ভোটার ঘিরে তুমুল গোলমাল বিজেপি-তৃণমূলের। বিজেপির অভিযোগ, ভুয়ো ভোটার এনে ভোট করাচ্ছে তৃণমূল। পাল্টা শাসকদলের অভিযোগ, ভুয়ো ভোটার এনে অশান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপি। এই নিয়েই ভোটকেন্দ্রের ভিতর মারামারি শুরু হয়ে যায়। এক যুবককে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সংখ্যাও বাড়ানো হয়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, কোনও প্রমাণপত্র ছাড়া অন্য একজনের স্লিপ নিয়ে ভোট দিতে এসেছে ওই ছেলেটি। সিআরপিএফ জিজ্ঞাসা করায় ও কোনও জবাব দিতে পারেনি। ও তৃণমূলের লোক। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করে গোটা ঘটনার দায় বিজেপির ঘাড়েই ঠেলেছে।আরও পড়ুনঃ ৩৫ কোম্পানির ঘেরাটোপে তিন বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু ভোটগ্রহণএদিকে ভুয়ো ভোটার নিয়ে উত্তেজনার পরই খালসা হাইস্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছল জয়েন্ট সিপি নীলাঞ্জন বিশ্বাস। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকও। বিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল খালসা হাইস্কুলে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে গিয়ে দেখেন, এক যুবক সেখানে রয়েছেন। তাঁর হাতে কোনও রকম পরিচয়পত্র নেই, অন্যান্য কোনও পরিচয়পত্র নেই। অথচ তিনি ভোট দিতে ঢুকেছেন। তখন তাঁরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। অভিযোগ, এরপরই বিজেপির লোকজন ওই যুবককে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে আসেন। ওই যুবক তৃণমূলেরই লোক বলে দাবি করেছে বিজেপি।পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বিজেপি অশান্তি পাকাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বিজেপি। যে ছেলেটিকে মারধর করা হয়েছে, বিজেপির লোকজন দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে আটকে রাখে। এর সঙ্গে ভুয়ো ভোটারের কোনও সম্পর্কই নেই। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটদান পর্ব চলছিল। বিজেপির প্রার্থী ঢুকতেই গোলমাল শুরু হয়। যদিও বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের বক্তব্য, গোটা রাজ্যটাই ভুয়ো আইপিএস, পুলিশ আধিকারিকে ভর্তি হয়ে রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Dilip Ghosh: 'আমায় খুনের চেষ্টা করা হয়েছে, স্থগিত করা দরকার ভবানীপুরের উপনির্বাচন'

সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি ভবানীপুরে। এদিন যদুবাবুর বাজারে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের সমর্থনে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিক্ষোভের মধ্যে পড়েন। প্রবল বিক্ষোভ আর ধাক্কাধাক্কিতে বাধ্য হয়ে বন্দুক বের করে দিলীপকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা। দিলীপ বলেন, আজ প্রচারের শেষ দিনে যেভাবে গুন্ডা দিয়ে, প্রচার বন্ধ করা হল, বিজেপিকে আটকাবার চেষ্টা করা হয়েছে, এর দ্বারা প্রমাণিত ভবানীপুরের মানুষ ভয়ের পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। এখন এই গুন্ডাদের সামনে সাধারণ মানুষ কীভাবে বেরিয়ে গিয়ে ভোটটা দেবেন? তাঁরা তো নিরপেক্ষ ভাবে ভোটটা দিতেই পারবে না! তাঁরা যদি বিজেপিকে ভোট দেবে বলে তাহলে তো সম্ভবই নয়, বাড়ি থেকে বেরনো! সে জন্য যে পরিস্থিতির মধ্যে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য ভোট করছে সরকার, তাতে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন সম্ভব নয়। স্থগিত করা দরকার। বলেন, আমি নিজে ভুক্তভোগী। তাই আমার অধিকার আছে বলার। দাবি করছি নির্বাচন বন্ধ হওয়া উচিত।আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরে দিলীপের প্রচারে ধুন্ধুমার, মাথা ফাটল বিজেপি কর্মীরকয়েক দিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরেছেন দিলীপ। কিন্তু ভবানীপুরে ভোটের প্রচারে বিরোধী পক্ষের মূল টার্গেট হলেন তিনিই। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এদিন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। আহত হন বেশ কয়েকজন। এদিকে খবর পেয়েই যদুবাবুর বাজারে পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং দীনেশ ত্রিবেদী, অর্জুন সিংরা।দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের প্রচারে বাধা দেন। তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণে এক কর্মীর মাথা ফাটে। তাঁকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। যদিও তার পরেও তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, স্থগিত করা দরকার এই ভোট। আইন পরিস্থিতি ঠিক হলে তার পর ভোট হোক। নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এদিনের বিক্ষোভের ভিডিও পোস্ট করে দিলীপ লেখেন, মাননীয়ার খাস তালুক ভবানীপুরে একজন জনপ্রতিনিধির উপর যেভাবে হামলা হল এই রাজ্যে তাতে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সুরক্ষিত? আজ তৃণমূলের গুন্ডা দিয়ে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার এলাকায় যে ভাবে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হল, আমাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল সেটি শাসকদলের জঘন্য, ভয়াবহ রূপটিকে তুলে ধরে। এর পরও কি সুস্থ নির্বাচন আশা করা যায়??এদিকে এদিনের ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং সরাসরি অভিযোগ করেন মমতার নির্দেশেই দিলীপ ঘোষের ওপর এই হামলা হয়েছে। তাঁর কথায়, মমতা খোদ এই আক্রমণ করাচ্ছেন, ভোট এখানে হতেই দেবে না। কমিশন পদক্ষেপ না করলে ভোট বন্ধ হোক। একই সুর শোনা গিয়েছে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের গলায়। বলেন, আমরা স্তম্ভিত! একশোজন তৃণমূল কর্মীকে ট্রেনড করে পাঠানো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে আক্রমণের জন্য। আর পুলিশ কী করছিল?

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Group Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের উত্তপ্ত গলসি, এলাকায় পুলিশি টহল

বিধানসভা ভোটে অভাবনীয় ফল হওয়ার পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের। তার জেরে মাঝে মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ঘটে চলেছে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা। মাঝে কয়েকদিন শান্ত থাকার পর ফের তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ঘে উত্তপ্ত হল গলসির ১ ব্লকের পারাজ গ্রাম। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া দুই গোষ্ঠীর অশান্তি সোমবারও অব্যাহত থাকে। সংঘর্ষে দুই গোষ্ঠীর তিনজন আহত হয়েছেন। উত্তেজনা থাকায় গ্রামে জারি রয়েছে পুলিশ টহল। সংঘর্ষের ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অরপকে দায়ী করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশ টনার তদন্ত শুরু করেছে।পারাজ এলাকার তৃণমূল কর্মী আনন্দ শেখ জানিয়েছেন, রবিবার রাতে মুফুল শেখ ওরফে বাপি গোষ্ঠীর লোকজন তাঁদের গ্রামের এক তৃনমুল কর্মীকে মারধর করে। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এদিন বেলায় ফের গ্রামের দলীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা বাঁধে। তার কারণ হিসাবে আনন্দ শেখ দাবি করেন, রবিবার রাতে এক তৃণমূল কর্মীকে মারধোরের ঘটনার বিচার চাইতে গ্রামের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদেরকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। ঘটনার কথা জানতে পেরে গলসি থানার পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে এনে তাঁদের উদ্ধার করে।যদিও আনন্দ শেখের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেনঅপর গোষ্ঠীর তৃণমূল কার্যকর্তা মফুল শেখ। পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন,কিছু দুস্কৃতী তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। সেই সময় দলীয় অফিসে কেউ ছিল না। কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাঁদের কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়। তাঁরা আনন্দ শেখ ও তাঁর বেশ কিছু লোককে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাদের সকলকে দলীয় কার্যালয় থেকে নিয়ে যায়। এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকা যাতে ফের অশান্ত না হয় তার জন্য দলীয় কার্যলয়ের বাইরে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। একই সঙ্গে মফুল শেখ বলেন, রবিবার রাতের মারধোরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ গ্রাম্য বিষয়। ওই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। গলসি ১ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
কলকাতা

Post Poll Violence: অভিজিতের দেহ নিয়ে পুলিশ-বিজেপি ধুন্ধুমার

ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দেহ দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে হাতে পেল পরিবার। বৃহস্পতিবার কলকাতার এনআরএস হাসপাতালের মর্গ থেকে দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। কিন্তু এই দেহ নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের চরম বচসা বাধে। হাসপাতাল চত্বরে কার্যত ধস্তাধস্তি চলে দুপক্ষের মধ্যে। অবশেষে দেহ নিয়ে বিজেপি কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্য এবং বিজেপি নেতা-কর্মীরা। উল্লেখ্য, বুধবারই শিয়ালদা কোর্টের তরফে অভিজিৎ সরকারের দেহ ও ডিএনএ রিপোর্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আরও পড়ুনঃ ক্যালেন্ডার স্ল্যাম জয়ের দিকে আরও একধাপ এগোলেন জকোভিচবৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সেইমতো এনআরএস হাসপাতালের মর্গে পৌঁছে যান অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার-সহ পরিবারের সদস্যরা। সেখানে যান বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল, শিবাজি সিংহ রায়, দেবদত্ত মাজি-সহ নেতা-কর্মী। অভিযোগ, পরিবারের হাতে দেহ তুলে দিতে ঢিলেমি করে পুলিশ। দেহ লোপাটের চেষ্টা করে প্রশাসন। এই অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজির বিরুদ্ধে পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিজেপি সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয় মৃত অভিজিৎ সরকারের দেহ।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২১
রাজ্য

Khagragarh : তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অশান্তি অব্যাহত বর্ধমানের খাগড়াগড়ে

তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে ফের উত্তপ্ত হল বর্ধমানের খাগড়াগড়। দরজার তালা ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি দুয়ারে সরকার প্রকল্পে মানুষজনকে সাহায্যের জন্য রাখা নথিপত্রও নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এইসব ঘটনা নিয়ে একগোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এলাকা বারবার উত্তপ্ত হওয়ায় অতিষ্ট খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা।আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারামনেরতৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রবিবার অশান্ত হয় খাগড়াগড়। এরপর এদিন ফের খাগড়াগড় এলাকা উত্তপ্ত হল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে।এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের অনুগামী মহম্মদ হোসেন এদিন দাবি করেন, পুলিশের নির্দেশে রবিবার তাঁদের দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। তবুও রাতে কিছু দুষ্কৃতী কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে এলাকার মানুষকে সাহায্য করার জন্য যে সব নথিপত্র রাখা হয়েছিল সেইসবও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা পিয়ারী বিবি অভিযোগে বলেন, রান্না খাওয়া-দাওয়া করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন গুন্ডামি অসহ্য হয়ে উঠছে।আরও পড়ুনঃ অক্টোবরেই চরম আকার নেবে তৃতীয় ঢেউ!যদিও এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিরোধী গোষ্ঠীর মহম্মদ ইনসান। পালটা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, এলাকার যাবতীয় অশান্তির মূলে রয়েছে শেখ ফিরোজ ও তার অনুগামী শেখ হোসেন সহ তাঁর দলবল। ওরাই নিজেদের গোষ্ঠীর মেয়েদের নিয়ে এসে বাসিন্দাদেরর মারধর করিয়েছে। এছাড়াও ক্লাব নিয়ে নানা বেনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি চলছে বলেও মহম্মদ ইনসান দাবি করেছেন।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ত্রিপুরা-চ্যালেঞ্জে নতুন তাস দেবএই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, সবটাই স্থানীয় ঘটনা। এর সাথে দলের কোনো যোগ নেই। এটা গোষ্ঠীকোন্দলের ব্যাপার নয়। ক্লাবের ব্যাপার হতেও পারে। এলাকায় কোন গোষ্ঠী নেই।

আগস্ট ২৩, ২০২১
দেশ

Border Clash: অসম-মিজোরাম সীমান্ত সংঘর্ষের বলি ৬ পুলিশকর্মী

অসম-মিজোরাম সীমান্তের সংঘর্ষে মৃত্যু অসমের ৬ পুলিশকর্মীর। সোমবার দুপুরে ওই অশান্তির পর টুইট করে এই খবর জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জানিয়েছেন অসম পুলিশের ৬ জওয়ান নিহত হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সাংবিধান নির্ধারিত সীমান্ত রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এই ছয় পুলিশকর্মীর। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিক টিটির তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেলেন শরথ কমলঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় আট কৃষকদের ঘর জ্বালিয়ে দেয় কিছু দুষ্কৃতী। তারপরই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সীমান্তবর্তী ওই এলাকা। মিজোরাম পুলিশের ডিআইজি লালবিয়াকথাঙ্গা খিয়াংলে জানিয়েছেন, ওই আট কৃষকদের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও সেখানে কেউ ছিলেন না। সেই ঘটনা ঘটে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ। এই ঘরগুলি অসমের সীমান্তবর্তী গ্রাম ভাইরেংলের কৃষকদের। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তদন্ত চলছে।আরও পড়ুনঃ চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের ৫ রাজ্যের করোনা সংক্রমণঅভিযোগ, গত ১১ জুলাই মিজোরামের এক কৃষকের খেত, বাগানও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়েই অশান্তি শুরু হয়। সীমান্তের দিকে লাঠি নিয়ে ছুটে যায় দুই রাজ্যেরই কিছু লোক। এরপরই সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া অসম সরকারের একটি টিমের গাড়ি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে সে দিন। আর তারপর থেকে জারি আছে অশান্তি। দিন দুয়েক আগেই উত্তর-পূর্বের সব মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। আর তারপরই আজকের এই ঘটনা।আরও পড়ুনঃ সুযোগ পেলেন অভিমন্যু, ভারতীয় টেস্ট দলে একসঙ্গে বাংলার ৩এ দিন অশান্তির পর মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা টু্ইটে লিখেছেন, এ সব এখনই বন্ধ হওয়া উচিৎ। অমিত শাহকে বিষয়টিতে নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অন্য একটি টুইটে তিনি দেখিয়েছেন, অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন এই ঘটনায়। তাঁর দাবি, নিরপরাধ মানুষকে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে দুষ্কৃতীদের হাতে। অন্যদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও টুইটে অমিত শাহকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।

জুলাই ২৬, ২০২১
রাজ্য

Harowa: হাড়োয়ায় শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

তৃণমূলের শহিদ দিবসে পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার-কাণ্ড হাড়োয়ায়। দলেরই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক মহিলা-সহ ২ জনের। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উভয়পক্ষের ১২ জন।বুধবার গোটা রাজ্যের সঙ্গে হাড়োয়ার ট্যাংরামারি গ্রামেও আয়োজন করা হয়েছিল শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান। সেখানেই পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এর মধ্যেই চলে গুলি। পুলিশ সূত্রের খবর, নিহতরা হলেন লক্ষ্মী সর্দার(৬২) ও সন্যাসী সর্দার(৩৮)।আরও পড়ুনঃ শশাঙ্কের সঙ্গে কফি ডেটে গেলেন শ্রীলেখা, তারপর!পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ফের তারা দলের এক প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে তৃণমূলে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে হাড়োয়ার বাছড়া মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকায় দলের আদি এবং নব্যদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। গুলি-বোমার লড়াইয়ে উত্তপ্ত ছিল এলাকা। তারই মধ্যে এ দিন সকালে এক পক্ষ দলীয় পাটি অফিসের সামনে ২১ শে জুলাই উপলক্ষে দলের পতাকা তোলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।এদিন দলীয় পতাকা তোলা হয়ে গেলে হইহুল্লোড় করার পর খাওয়া শেষে দুপুর আড়াইয়ে নাগাদ এক পক্ষ যখন বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয় সে সময়ে অতর্কিতে তাদের উপর আক্রমণ অন্য গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরু হয় মুড়িমুড়কির মত গুলি ও বোমা বৃষ্টি। বাড়ি ফেরার পথে ওই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান লক্ষ্মী মণ্ডল। গুলি এসে লাগে লক্ষ্মীর পেটে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বুকে গুলি লাগে সন্যাসী সর্দারের। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জুলাই ২১, ২০২১
রাজ্য

Galsi: গলসিতে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম আনিসুর মণ্ডল ওরফে কালো, চণ্ডীচরণ দাস ও শেখ নূর আলম। পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার বোলপুর গ্রামে চণ্ডীদাসের বাড়ি। অপর দুই ধৃত গলসির কড়কডাল গ্রামের বাসিন্দা। গলসি থানার পুলিশ বুধবার রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।আরও পড়ুনঃ বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় জখম বিজেপি নেত্রীপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশের তৈরি বসার মাচা ভেঙে দেওয়া নিয়ে বুধবার বিকালে কড়কডাল গ্রামে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৪ মহিলা-সহ উভয়পক্ষে ১০ জন জখম হন।জখমদের মধ্যে ৭ জনকে পুরষা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর থাকায় সেখান থেকে কয়েকজনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।আরও পড়ুনঃ কেন দ্বিতীয় বিয়ে করলেন না পূজা ভাট!আক্রান্ত শেখ নূর আলম পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকাল ৪টে নাগাদ লাঠি, রড, শাবল প্রভৃতি নিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর বোন, মা, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়দের মারধর করার পাশাপাশি তারা তাঁর বাড়িতে থাকা ২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে পালায়। অপরদিকে সফিকুল মল্লিকের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৪টে নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে খলসেগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁর আর্তনাদ শুনে ভাই ছুটে আসেন। তাঁকেও মারধর করা হয়। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে গলসি থানার পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। সিজেএম ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

জুলাই ১৫, ২০২১
রাজ্য

TMC Clash: তৃণমূল নেতার জমি দখল করল তৃণমূল নেত্রী, প্রকাশ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব

লাল ঝান্ডা পুঁতে দিয়ে এক তৃণমূল নেতার চাষের জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার চকদিঘী পঞ্চায়েতের পাহাড়পুর গ্রামে । ঘটনার বিষয়ে জমির মালিক কাশিনাথ সরকার শুক্রবার ওই তৃণমূল নেত্রী শিখা রায় ও তাঁর ছেলে সুমন্ত রায়ের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। কাশিনাথ সরকারের বাড়ি জামালপুরের চকদিঘীর পাহাড়পুর গ্রামে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসাবেই এলাকায় তিনি পরিচিত। পুলিশকে এদিন কাশিনাথবাবু জানিয়েছেন, পাহাড়পুরে জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে তাঁর ৬৯ শতক চাষ জমি রয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তাঁর বাবা হরিসাধন সরকার ১৯৪৯ সালে রেজিস্ট্রি করে দলিল দ্বারা ক্রয় করেন পাহাড়পুর গ্রাম নিবাসী ফকির বাগদির কাছ থেকে। যে সম্পত্তি তাঁর বাবার নামেই ভূমি দপ্তরে আর-এস ও এল-আর রেকর্ডে নথিমুক্ত রয়েছে।ওই জমিতে দীর্ঘকাল তাঁর বাবা চাষ করে এসেছেন বলে কাশিবাবু দাবি করেন।একই সঙ্গে তিনি জানান, জীবিতাবস্থায় তাঁর বাবা হরিসাধন সরকার ওই ৬৯ শতক চাষ জমি দলিল করে তাঁকে লিখে দিয়ে যান ।আরও পড়ুনঃ পুরসভার কর্মী বদলিতে বিধায়কের সম্মতি! শোরগোল বর্ধমানে কাশিনাথবাবু দাবি করেন, প্রায় ৭০-৭১ বছর ধরে তাঁর বাবা ও পরবর্তিতে তিনি ওই জমি চাষ করে আসছেন। কাশিনাথ বাবুর অভিযোগ, নিজেকে পাহাড়পুর এলাকার তৃণমূল নেত্রী বলে দাবি করা ফকির বাগদির বৌমা শিখা রায় তাঁর ছেলে সুমন্ত রায়কে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অন্য কারওর ট্র্যাক্টর নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাঁর জমি চষে দেয়। এরপর প্রথমে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ঝান্ডা ওই জমিতে পুঁতে দেয়। পরে আবার ওই জমিতে বেগুন চারা লাগিয়ে দিয়ে তৃণমূলের ঝান্ডা সরিয়ে শিখাদেবী ও তাঁর ছেলে লাল একটি ঝান্ডা পুঁতে দিয়ে বেআইনিভাবে এদিন তাঁর জমির দখল নিয়েছে বলে কাশিনাথবাবু অভিযোগ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অফিসেও এদিন তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খাঁনের ইন্ধনেই শিখা রায় ও তাঁর ছেলে বেআইনিভাবে তাঁর জমির দখল নিয়েছে । তাই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছেও এই বিষয়ে সবিস্তার অভিযোগ জানাবেন বলে এদিন কাশিনাথবাবু জানান। কাশিনাথ সরকারের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী শিখা রায় বলেন, তাঁর শ্বশুরমশাই ফকির বাগদি পাগল ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে পূর্বে অনেকে তাঁর শ্বশুর মশাইয়ের জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে তাঁর শাশুড়ির কাছ থেকেও জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শিখাদেবী দাবি করেন, তাঁর শ্বশুরমশাই যে পাগল ছিলেন সেই সংক্রান্ত নথি(সার্টিফিকেট) তাঁর কাছে আছে । শিখাদেবীর বক্তব্য, তাঁর শ্বশুর যেহেতু পাগল ছিলেন তাই অন্য কাউকে তাঁর শ্বশুর সাজিয়ে তখনকার দিনে তাঁর জমি বিক্রি করা সংক্রান্ত দলিল করে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে শ্বশুরের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্যে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।তবে শিখাদেবী নিজেই এদিন জানান, জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে তাঁদের এলাকার তৃণমূল নেতা কাশিনাথ সরকারের যে ৬৯ শতক চাষ জমি রয়েছে, সেই জমি নিয়ে তিনি মামলা করেননি। তবে কাশিনাথ সরকার যেহেতু বারে বারে ১০৭ ধারা ও ১৪৪ ধারার নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হয়রানি করছেন, তাই তার বদলা নিতেই ৩৩৩ দাগের ওই জমি চষে দিয়ে তিনি বেগুনের চারা লাগিয়ে দিয়েছেন । তবে রাতে নয়, শুক্রবার দিনের আলোতেই তিনি এই কাজ করেছেন। আর ওই জমিতে তৃণমূলের কোনও ঝান্ডা নয়, একটা লাল কাপড়ের ঝান্ডা লাগিয়ে দিয়েছেন বলে শিখাদেবী জানিয়েছেন। আরও পড়ুনঃ সাদা চুল নিমেষে কালো করার প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায় কী কী, জানুন...চকদিঘি পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডল বলেন, শিখা রায় যা করছেন ঠিক করছেন না।উনি যেভাবে জোরপূর্বক পাহাড়পুর এলাকার লোকজনের সম্পত্তির দখল নিয়ে নিচ্ছেন সেটা আইন বিরুদ্ধ কাজ হচ্ছে। তা নিয়ে ওই এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফুঁসছেন । শিখাদেবী যেহেতু আদালতে মামলা করেছেন, তাই ওনার আদালতের উপরেই ভরসা রাখা উচিত । শিখা রায়ের এমন কাজকর্মের জন্যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন এই বিষয়ে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব। অন্যদিকে, জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে কে কি করছে সেটা তাঁর জানার কথা নয়। তিনি ঘটনা বিষয়ে কিছু জানেন না। কোথাও বেআইনি কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন তার ব্যবস্থা নেবে। বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন, শুধু বিজেপির লোকজনই তৃণমূলের সন্তারের শিকার হচ্ছেন না । এখন, সন্ত্রাসের হাত থেকে তৃণমূলের লোকজনও যে ছাড় পাচ্ছেন না, তা চকদিঘির ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেল ।

জুন ২৬, ২০২১
রাজ্য

TMC-Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমান, চলল ব্যাপক মারধর-ভাঙচুরও

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বিরোধীরা। মারধর, ঘর ভাঙচুর, খুনের মতো ঘটনাও ঘটে চলেছে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও। ফল ঘোষণার পর থেকেই পূর্ব বর্ধমানের রসিকপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা চলছেই। যা গুরুতর আকার নেয় মঙ্গলবার। জানা গিয়েছে,তৃণমূল করলেও সংঘাতের বিরাম নেই এলাকার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। যার জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে এদিন। এলাকার যুব সভাপতি শেখ সাহেব। তাঁর উপর রাগ রয়েছে এলাকারই তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুর রবের গোষ্ঠী।অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর হুমকি দেওয়া তো চলছিলই। এদিন বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় রবের গোষ্ঠী। বাড়িতে যাকেই সামনে পেয়েছে, তাকেই বেধড়ক মারধর করা হয়। রেহাই দেওয়া হয়নি বয়স্ক, মহিলাদেরও। যুব সভাপতিকে সামনে না পেয়ে তাঁর আত্মীয়দের মেরে কারুর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তো কারুর হাত কেটে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তরা হলেন, শেখ সাহেব, মনোয়ারা বিবি( আত্মীয়া), শেখ শুকুর। তাদের দোকানও ভাঙচুর করে টাকাপয়সা লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। এরকম অত্যাচারের কথা জানিয়ে পুলিশে বার বার অভিযোগ করা হলেও তার কোনও ফল মেলেনি বলে অভিযোগ। এদিন হামলার পর বর্ধমান পুলিশের আইসির কাছে দিয়ে অভিযোগ জানায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন আইসি। পুলিশের একটি দল গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে আসে। এদিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সরাসরি অস্বীকার করে জানান, আমি বাইরে ছিলাম।বিষয়টি ঠিক জানা নেই।এরকমটা হওয়ার কথা নয়।খোঁজ নিয়ে দেখবো।শুধু আক্রান্তের পরিবারই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দল যাই বলুক না কেন, এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

জুন ২৩, ২০২১
রাজ্য

Group Clash: দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ-বোমাবাজিতে উত্তপ্ত জয়নগর

জমি বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) জয়নগর। ব্যাপক বোমাবাজি হয় এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও এখনও থমথমে এলাকা।জানা গিয়েছে, জয়নগরের (Jaynagar) মম্মেজগড় এলাকায় একটা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল স্থানীয় দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে। রবিবার সকালে তা চরমে ওঠে। কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ২ গোষ্ঠীর লোকেরা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। লাঠি-রড-বাঁশ দিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা। কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপক বোমাবাজিও হয়। আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে।এরপরই ঘটনার প্রতিবাদে গোচরণ-দোসাহাট রোড অবরোধ করে স্থানীয়রা। গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জয়নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁদের সামনেও দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ পর আয়ত্তে আসে পরিস্থিতি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২ টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তদন্ত।

জুন ২০, ২০২১
রাজনীতি

Kailash Vijayvargiya: বিজয়বর্গীয়র নামে গো ব্যাক পোস্টার!

বিজেপির (BJP) অন্দরের ফাটল কী ক্রমশই চওড়া হচ্ছে! বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর মুরলিধর সেন লেনের বাইরে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। তাতে তাঁকে TMC Setting Master বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এক, দুটি নয় রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরের বাইরে এই পোস্টারে ছয়লাপ। একইরকম পোস্টার দেখা গেল হেস্টিংসের কার্যালয়ে এবং বিমানবন্দরের কাছেও দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে এসব পোস্টার দেখা গেল। যা থেকে আরও স্পষ্ট, একুশের ভোটে বঙ্গে বিজেপির ভরাডুবির পর থেকে কৈলাস দলের অন্দরেই আরও চক্ষুশূল হয়ে উঠছেন।মুকুল রায়ের সঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayvargiya) সুসম্পর্ক গেরুয়া শিবিরের চেনা ছবি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মুকুল রায় (Mukul Roy)দলবদল করে তৃণমূলে ফেরার পর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে তো বিজেপির রাজ্য নেতা তথাগত রায় টুইটে কটাক্ষ করে ভোদা বিড়াল নামে ডেকেই ফেলেন। এবার মুকুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কৈলাসকে বিঁধতে ছাড়লেন না অন্যরাও। পোস্টারে মুকুলের সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায় কৈলাসকে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ বঙ্গে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কার্যত কেন্দ্রীয় নেতাদেরই দায়ী করছেন। নিশানায় অন্যতম কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। বাংলায় সংগঠনের প্রতিটি খুঁটিনাটি জেনে সেইমতো নীল নকশা ছকে তবেই ভোটযুদ্ধে এগোনো উচিৎ তাঁর। কিন্তু ভোটের ফলাফল বলছে, সেই কাজে তিনি ব্যর্থ। তাই তাঁর অপসারণের দাবিও উঠেছে। এবার বিজেপি রাজ্য দপ্তরের তরফেও সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জুন ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

শেষ কি আমেরিকার দাপট? আইএমএফ রিপোর্টে চমক, মুখ খুললেন এলন মাস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য কি শেষের পথে? সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর সেই রিপোর্ট দেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ধনকুবের এলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে।আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মোট আর্থিক বৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেই তুলনায় আমেরিকার অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ডলারের দেশ।এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চিন এবং ভারত। একসঙ্গে এই দুই দেশের আর্থিক যোগদান দাঁড়াচ্ছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এখন এশিয়ায়।আইএমএফের রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, জার্মানির মতো দেশগুলিও। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার দেশগুলির প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট।এই রিপোর্ট সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, অবশেষে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে চিন ও ভারত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলন মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার কড়া শুল্কনীতি এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। অথচ আইএমএফের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে এই দুই দেশই।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের মিছিলে ভাতারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান, মুচকি হাসি বিরোধীদের

বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারের লড়াই চরমে উঠেছে। ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে চোর চোর স্লোগান উঠলো। তবে এই চোর চোর স্লোগান বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। ভাতারের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চোর চোর স্লোগান উঠেছে মুহূর্মুহু। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভাতারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। ভাতারের এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, মানু চোর, শান্তনু চোর। কেন তাঁদের চোর বলা হচ্ছে? মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রামপঞ্চায়েত, সর্বত্র লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। লুঠপাট চলছে। পকেট ভরছে নেতারা। তাদের দাবি, মানগোবিন্দ অধিকারীকে আর যেন বিধায়কপদের টিকিট না দেওয়া হয়। প্রার্থী করতে হবে বনমালী হাজরাকে।সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক পদের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কে হবেন বিধানসভার প্রার্থী, এখন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। বর্ধমান জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দলের তরফে দুই পক্ষের মিছিল হয়। বর্ধমানে কখনও বিধায়ক খোকন দাসের নেতৃত্বের মিছিল হয়, আবার কখনও কাউন্সিলর রাসবিহারী হালদারের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল হয়। ভাতারেও সেই অবস্থা চলছে। সেখানে একাংশ চাইছে মানু অধিকারী নয়, বনমালী হাজরাকে তৃণমূল প্রার্থী করুক। তবে তৃণমূলের মিছিলেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগানে মুচকি হাসছে বিরোধী শিবির।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal