• ৮ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Calcutta High Court

রাজ্য

হাইকোর্টে তুলকালাম! আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বিশৃঙ্খলা, এজলাস ছেড়ে উঠলেন বিচারপতি

আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার শুনানির দিনেই আদালতে তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলা। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। পাল্টা ইডি-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসও মামলা করে। বৃহস্পতিবার এই দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এজলাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে উঠে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি ইডি ও তৃণমূলের মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।এদিন আদালত কক্ষে আইনজীবীদের পাশাপাশি প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। শুরু হয় হইচই ও চেঁচামেচি। শুধু এই মামলা নয়, তালিকাভুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানিও ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। আদালতের বাইরেও আইনজীবীদের ভিড় ছিল। ভিতরে থাকা অনেক আইনজীবী বেরোতে চাইছিলেন না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।এই অবস্থায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ অনুরোধ করেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন সবাই যেন এজলাস ছেড়ে বাইরে চলে যান। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকায় শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান। এর জেরে দিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ইডি-র তরফে একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছয়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরিয়ে নেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে দাবি ইডি-র।ইডি আরও জানায়, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দল বা দলীয় দফতরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। নির্বাচনের সঙ্গে এই তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাদের বক্তব্য, এটি আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলারই অংশ।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

তল্লাশিতে বাধা না ক্ষমতার অপব্যবহার? হাইকোর্টে বড় অভিযোগ ইডির

আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি চলাকালীন বাধা দেওয়া হয়েছেএই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়।ইডির তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ইডির কাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে ফাইল ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তল্লাশির সময় জোর করে একাধিক নথি বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তার জন্য অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানায় ইডি।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, এই মামলার শুনানি আগামী দিনেই শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনের খুঁটিনাটি, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইডিকে দিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।ইডির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। কলকাতার ছটি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। নগদ টাকা, হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে জানায় ইডি। পাশাপাশি, সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি বেআইনি ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা ঘোষণা করেন। পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানায় ইডিও। তার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন পর ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। প্রায় দু-তিন বছর ধরে কার্যত স্থগিত থাকা ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার তিনটি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। একটি দল পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, অন্য দলটি সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে এবং তৃতীয় দলটি পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ঢোকার সময় খালি হাতে গেলেও, বেরনোর সময় একটি সবুজ ফাইল হাতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ফাইলে নথিপত্রের পাশাপাশি একটি হার্ড ডিস্কও ছিল বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের নির্বাচনী পরিকল্পনা, সংগঠনের তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজের খুঁটিনাটি হাতিয়ে নিতেই ইডিকে দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।এর পরে তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে যান। সেখান থেকেও কয়েকটি নথিপত্র গাড়িতে তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেগুলি তৃণমূলের দলীয় কাগজপত্র। তাঁর অভিযোগ, ইডি সব তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহেই ইডি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দেয় এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

যুবভারতী কাণ্ডে স্বস্তির খবর, শুরু হচ্ছে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া

যুবভারতী স্টেডিয়াম কাণ্ডে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল সিট। টাকা ফেরত দিতে আদালতের অনুমতি চাইছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দর্শকদের কাছ থেকে টিকিট বিক্রি করে আয়োজক সংস্থা প্রায় ১৯ কোটি টাকা তুলেছিল। আয়োজক সংস্থার দায়িত্বে থাকা জোমাটোর আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে দর্শকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, যাঁরা টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি, তাঁদের প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার প্রক্রিয়া শুরু হল।তদন্তে নেমে আয়োজক শতদ্রু দত্তের সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে সিট। এই বিষয়টি নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আলিপুর আদালতে শুনানির সময় আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, যুবভারতীতে মেসিকে আনার নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ টিকিট কেটেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল।সেদিনের বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরে প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয় বলেও আদালতে জানানো হয়েছে। মেসি দর্শন ঘিরে যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।ঘটনার দিনই বিকেলে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাফ জানিয়ে দেন, টিকিট বিক্রির টাকা দর্শকদের ফেরত দিতেই হবে, না হলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই ঘটনার জেরে ডিজি রাজীব কুমারকেও শোকজ করা হয়েছিল।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ফের চাকরি বাতিল! পাহাড়ে ৩১৩ শিক্ষক ছাঁটাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাহাড় এলাকায় বেআইনি ভাবে শিক্ষক নিয়োগের মামলায় ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।এর আগে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ছাব্বিশ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রেখেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বড় সিদ্ধান্ত নিল আদালত।এই মামলাটি জিটিএ-র নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত। অভিযোগ, সেখানে নিয়ম ভেঙে বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়ায়। পাশাপাশি বিনয় তামাং এবং তৃণমূল যুব নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। আদালতে জানানো হয়, যোগ্যতার তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ করা হয়েছে।মামলার শুনানিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আগেই যোগ্য ও অযোগ্য শিক্ষকদের আলাদা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই মামলার তদন্তের জন্য বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তবে ডিভিশন বেঞ্চও বিচারপতি বসুর রায় বহাল রাখে। এরপর মামলা পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখান থেকে ফের মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে আসে।বুধবার শুনানিতে বিচারপতি বসু নির্দেশ দেন, অবিলম্বে এই ৩১৩ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করতে হবে। আদালতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য সরকার কেন এদের দায়িত্ব বহন করবে এবং এদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী। প্রাথমিক ভাবে এই মামলার কাজে সিআইডি-কে দিয়ে তদন্ত চালানোর নির্দেশও দেন তিনি।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বিপুল বেআইনি নির্মাণ—হাইকোর্টের কঠোর মন্তব্য, নতুন নির্দেশ জারি

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বুজিয়ে গড়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন পথে হাঁটল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ সোমবার পূর্ব কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট অথরিটিকে নির্দেশ দিয়েছে, জলাভূমিতে যেসব প্লটে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, সেসবের সম্পূর্ণ তালিকা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাতে হবে যে তালিকাভুক্ত প্রতিটি প্লটে গড়ে ওঠা যে কোনও নির্মাণ ভাঙার যোগ্য বলে ধরা হবে।হাইকোর্ট আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকায় নতুন কোনও সম্পত্তির রেজিস্ট্রি করা যাবে না। রেজিস্ট্রার অফ অ্যাসিওর্যান্সসহ সব রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ মানতে হবে।এদিন জলাভূমি সংরক্ষণা কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্যের পক্ষ থেকে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় আদালতে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতির মন্তব্য, আইন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এলাকায় ব্যাপক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কার্যত হিমশিম খাচ্ছে। তাঁর কথায়, বাস্তবে কার্যকর কোনও সমাধান দেখা যাচ্ছে না।সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা ও আশপাশে জলাভূমি বুজিয়ে নির্মাণের অভিযোগ বাড়ছিল। বাঘাযতীনের একটি ফ্ল্যাট ভেঙে পড়ার ঘটনার তদন্তেও উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্যপুকুর বুজিয়ে সেই বাড়ি তৈরি হয়েছিল। পুরসভার অনুমতি ছাড়াই আবার আপ লিফ্টিংয়ের কাজ চলছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। দুর্ঘটনার পর একাধিক জায়গায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে এবং পৌরসভা ও প্রশাসন কিছু পদক্ষেপও করে। কিন্তু পরিস্থিতি বদল না হওয়ায় এবার আদালত নিজেই কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বেআইনি প্লটের তালিকা প্রকাশ করতে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
কলকাতা

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকেই মান্যতা... হাইকোর্টের রায়ের পরেই বিস্ফোরক বিকাশ ভট্টাচার্য

৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার রায়ের পর খুশির হাওয়া থাকলেও বিতর্ক থামেনি। এই রায়কে কেন্দ্র করে এখনও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ বক্তব্য, এই রায়ের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিই প্রশ্রয় পেল। তিনি বলেন, আপাতত চাকরি বাঁচলেও এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ভালো বার্তা নয়। আদালতে যে সমস্ত দুর্নীতির তথ্য পেশ করা হয়েছিল, সেগুলি আইনি ভাবে গ্রাহ্য না হলে আগামী দিনে দুর্নীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।অন্যদিকে সিপিএম ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়িয়েছেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা একসময় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে ভগবান বলে স্লোগান দিয়েছিলেন, তারাই আজ তাঁকে শয়তান বলছেন। তাঁর অভিযোগ, পুরো বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল। সিপিএম-বিজেপির যোগসাজশেই বাংলায় শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে এত বড় অশান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।প্রসঙ্গত, একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে বহাল থাকছে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি। এই রায়ের পরেই প্রাথমিক শিক্ষক মহলে খুশির জোয়ার দেখা যায়। অনেকেই বলছেন, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হল।রায়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। তাঁর পোস্টেও উঠে আসে সত্যের জয়-এর কথা।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

নতুন এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন! ফের অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হাই কোর্টের

নতুন করে এসএসসি যে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েই ফের অনিশ্চয়তার কথা উঠে এল কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, এই পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেলেও শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে মামলার রায়ের উপর। আগেও এই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি বলেছিলেন, এই পরীক্ষার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।এ দিন এসএসসির মেধার ভিত্তিতে অতিরিক্ত দশ নম্বর দেওয়ার মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট করে জানান, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই বিষয়ে প্রার্থীদের স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে।প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টেও। এরপর এসএসসি নতুন করে যে পরীক্ষা নিয়েছে, সেই পরীক্ষার বিষয়টিও এখন আদালতে বিচারাধীন। বুধবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।এই মামলায় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছিল, তারা কখনও বলেনি যে নতুন পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে ফ্রেশারদের অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আদালত শুধু এটুকুই চেয়েছিল, কোনও অযোগ্য পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় বসতে না পারে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিমুক্ত হোক। রাজ্য যখন পুরনো ও নতুন প্রার্থী মিলিয়ে একসঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে, তার দায়ও রাজ্যেরই বলে মন্তব্য করা হয়। তবে যোগ্য প্রার্থীরা যেন কোনও ভাবেই সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।এদিকে এসএসসি নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের যে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে, সেখানে পুরনো প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুনরাও অংশ নেন। কিন্তু পরে ভেরিফিকেশনের সময় দেখা যায়, অতিরিক্ত ১০ নম্বরের কারণে বহু নতুন প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়াতেই ডাক পাননি। ফলে নতুন পরীক্ষার ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ নিয়ে ফের বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

শেষ পর্যন্ত জয় শিক্ষকদের! ৩২ হাজার চাকরি বাতিল নয়, রায় হাই কোর্টের

বত্রিশ হাজার শিক্ষকের চাকরি থাকবে, না কি যাবেএই প্রশ্নে দীর্ঘ দিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন শিক্ষক মহল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটল। আজ দুপুর দুটোর কিছু পরে রায় ঘোষণা করল কলকাত হাইকোর্ট। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ৯ বছর পর চাকরি বাতিল হলে তার বড় সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব পড়বে। বিচারপতিরা বলেন, যাঁরা এতদিন ধরে কাজ করছেন, তাঁদের পরিবারের কথা ভাবতেই হবে। যাঁরা পরীক্ষায় সফল হননি, তাঁদের জন্য গোটা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যায় না।এর আগে ২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় পুরো ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, গোটা নিয়োগ ব্যবস্থাতেই গলদ ছিল।আজ ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আদালত কোনও রকম রোমিং এনকোয়ারি চালাতে পারে না। যাঁরা এতদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন, তাঁদের পড়ানোর মান নিয়েও কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। সেই সময় যাঁরা পরীক্ষক ছিলেন তাঁরা টাকা নিয়ে বাড়তি নম্বর দিয়েছেন, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণও সামনে আসেনি। তাই গোটা ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াকেই ভুয়ো বলে দাগানো যায় না বলে মন্তব্য করে আদালত। এ দিন আরও বলা হয়, যাঁরা এই মামলা করেছিলেন তাঁরা কেউই তখন চাকরি করতেন না। ফলে যাঁরা পাশ করেননি, তাঁদের জন্য গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা যুক্তিযুক্ত নয়। এই যুক্তিতেই একক বেঞ্চের আগের রায় খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।রায় ঘোষণার পর শিক্ষক মহলে স্বস্তির হাওয়া। এক শিক্ষক অমিত সাহা বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। আমরা কোনও টাকা দিইনি। আমাদের অনেকেরই হোমলোন রয়েছে, সন্তান রয়েছে। এই চাকরি চলে গেলে অনেকের সামনে বেঁচে থাকার পথটাই বন্ধ হয়ে যেত বলে তিনি জানান।এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি থেকে। তারপর টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে দুদফায় নিয়োগ হয়। তাতে প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক নিয়োগ পান। পরে সেই নিয়োগে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০১৬ সালের নিয়োগে আইন মানা হয়নি, সংরক্ষণ নীতি উপেক্ষা করা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিটি ছিল না, থার্ড পার্টি এজেন্সি দিয়ে প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল, অ্যাপটিটিউড টেস্ট হয়নি, কাট অফ মার্কস নিয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না, শূন্য পদের চেয়ে বেশি নিয়োগ হয়েছে এবং ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা প্রার্থীরাও চাকরি পেয়েছেনএমন একগুচ্ছ অভিযোগ আদালতে তোলা হয়।যদিও রাজ্য সরকার ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ শুরু থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। রাজ্যের দাবি ছিল, কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিছু প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হয়েছিল, তবে পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। আজ আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত সেই যুক্তিকেই গুরুত্ব দেওয়া হল। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল ৩২ হাজার শিক্ষকের জীবনে।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

বুধবারই সিদ্ধান্ত! ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ কি তবে চূড়ান্ত?

শেষ হল প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানি। গত ১২ নভেম্বর এই মামলার শুনানি হয়েছিল কলকাকা ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রায়দান সেই সময় স্থগিত রেখেছিলেন। অবশেষে বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।২০১৬ সালে SSC-এর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট, পরে সেই রায় বহাল রাখে Supreme Court of India। এরপর প্রাথমিকে নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় তৎকালীন বিচারপতি Abhijit Gangopadhyay ২০২৩ সালে প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। যদিও তিনি বলেছিলেন, শিক্ষকরা স্কুলে যেতে পারবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছিল।২০১৪ সালে প্রাথমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৫০০ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। সেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। অন্য দিকে পর্ষদের বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা পরে সংশোধন করা হয়েছে।এরপর একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি যায় ডিভিশন বেঞ্চে। সেই সময় বিচারপতি Subrata Talukdar ও বিচারপতি Supratim Bhattacharya একক বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। তবে তাঁরা নতুন করে নিয়োগ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকার ও পর্ষদ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালত মামলাটি আবার হাইকোর্টে ফেরত পাঠায় এবং দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মামলা শুনেই এবার রায় ঘোষণা করতে চলেছে বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চ।

ডিসেম্বর ০২, ২০২৫
কলকাতা

এসএসসি ঘিরে নতুন বিতর্ক, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়োগ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর

কলকাতা হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র প্যানেল সদস্য নয়, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের নিয়োগপত্র কারা পেয়েছিলেন, সেই তথ্যও কমিশনকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে।২০১৬ সালের এই নিয়োগ প্যানেল ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু পুরনো প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়োগ ও নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় কমিশনের ওপর চাপ বেড়েছে। আদালতের এই নির্দেশ আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর করার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে।বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন যে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের কোনও প্রার্থী যদি চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন, তবে তাঁর বা তাঁদের ভাগ্য আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।একই সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, চলতি বছরের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ওএমআর শিট কমিশনকে আপলোড করতে হবে। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনারা ওএমআর শিট আপলোড করেননি কেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রথম দিন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা উচিত, না হলে পরে আবার অনিয়মের অভিযোগ উঠবে।এভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপর আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার চাপে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
কলকাতা

অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়ে তোলপাড়! এসএসসি তালিকায় ১৯৯৭ পর জন্মেও ‘এক্সপেরিয়েন্স’?

এসএসসি-র এগারো-বারোর শিক্ষক নিয়োগে ফের নতুন করে বিতর্কে আগুন লেগেছে। উচ্চ কাট-অফের চাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নতুনরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ৬০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৬০ পেলেও চাকরি হয়নি একাধিক প্রার্থীর। কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মোট ২০ হাজারের সামান্য বেশি প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে, আর সেই তালিকার বড় অংশেই ইন-সার্ভিস শিক্ষকেরা সুবিধা পেয়েছেন অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত দশ নম্বরের জোরে। এই বাড়তি নম্বরেরই বিরোধিতায় এবার পথে নেমে সরব হয়েছেন নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের জন্ম ১৯৯৭ সালের পর, এমন বহু প্রার্থীও নাকি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর পেয়েছেন বলে তালিকায় দেখা যাচ্ছে। বয়সের হিসাবে যা একেবারেই অসম্ভব। এই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল বাড়তেই স্কুল সার্ভিস কমিশন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিশনের বক্তব্য, যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণই প্রার্থীদের অনলাইন মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। আপাতত ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার নম্বর যুক্ত করে প্রাথমিক তালিকা বানানো হয়েছে। এর পরেই তথ্য যাচাইকরণ চলবে। সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনে কোনও গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবেন। পরে অঞ্চলভিত্তিক ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করা হবে।এদিকে অভিযোগ উঠছে কাট-অফ এতই বেশি যে, ভালো নম্বর পেয়েও বহু প্রার্থী তালিকার বাইরে। ইংরেজিতে কাট-অফ ৭৭, বাংলায় ৭৩, অঙ্কে ৭১ এবং ইতিহাসে ৭৫এই অত্যাধিক কাট-অফের কারণেই নাকি পূর্ণ নম্বর প্রাপ্তদের মধ্যেও বাদ পড়ার ঘটনা ঘটছে। যদিও কমিশন সূত্রের দাবি, যাঁদের ডাকা হয়েছে তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ফ্রেশার। কিন্তু কমিশনের এই ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি শান্ত তো হয়নি, বরং ক্ষোভ আরও বেড়েছে।করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত এ দিন রীতিমতো মিছিল করে বিক্ষোভ দেখান নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত ১০ নম্বর প্রক্রিয়াটাই অবিচার। ফুল মার্কস পেয়েও যদি ইন্টারভিউর ডাক না আসে, তাহলে নিয়োগ পদ্ধতি প্রশ্নের মুখে পড়ে। ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি, আর এই নিয়েই সরগরম রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগের অঙ্গন।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

সোনারপুর কাণ্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য হাই কোর্টের, এফআইআরে ‘বেআইনি’ অভিযোগ!

সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, অভিযোগ পাওয়ার পর FIR দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশ একটিও আইন মানেনি। বিচারপতির প্রশ্ন, অভিযোগ পেয়েই FIR দায়ের? প্রাথমিক অনুসন্ধান করলেন না কেন? সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন সম্পর্কে জানেন না?বিচারপতি আরও জানতে চান, ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শুল্ক আধিকারিককে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কি না। সরকারি আইনজীবী এই প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে হাই কোর্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া আইনের চোখে সবাই সমান, পুলিশ যদি নিয়ম ভাঙে, আদালত চুপ করে থাকতে পারে না।প্রসঙ্গত, গত মাসে সোনারপুরে এক শুল্ক আধিকারিকের গাড়িতে অটো ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বচসা বাঁধে স্থানীয় অটোচালকদের সঙ্গে। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামলালেও কিছুক্ষণ পর প্রায় ৫০-৬০ জন দুষ্কৃতী আধিকারিকের আবাসনে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ওই শুল্ক আধিকারিককে বেধড়ক মারধর করা হয়, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্তা করা হয়। পরে তাঁকে কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়।পুলিশ তদন্তে নামে এবং পরদিনই তিন অটোচালক আজাদ আলি মণ্ডল, সুরজ আলি মণ্ডল ও অলোক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও আটজন গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু তাঁরা এফআইআরে নাম না থাকায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এই নিয়েই পুলিশের তদন্তে বেআইনি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, আইন অনুযায়ী প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়া সরাসরি FIR দায়ের করা যায় না। পুলিশের এই আচরণ স্পষ্টতই বেআইনি। হাই কোর্টের নির্দেশ, আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR-এর ভিত্তিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতের মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, পুলিশের কাজের ধরন নিয়ে আদালত আর চোখ বন্ধ করে থাকবে না। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আইন ভাঙলে সে সাধারণ মানুষ হোক বা পুলিশ কাউকেই ছাড়া হবে না।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বিশ বাওঁ জলে '১০০ দিনের' ভবিষ্যৎ, অথৈ জলে সুবিধাভোগী জনগণ

পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) প্রকল্পের অর্থ বণ্টন ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে এক মামলায় একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিতে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে এই মামলার শুনানি থেকে একাধিক বিচারপতি বেঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে, যা মামলার প্রক্রিয়াকে ক্রমশ বিলম্বিত করছে। এই কারণে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই মামলার শুনানি থেকে একাধিক বিচারপতি বেঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে, যা মামলার প্রক্রিয়াকে ক্রমশ বিলম্বিত করছে। এই কারণে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাটি ছিল বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি মিতা দাস-র ডিভিশন বেঞ্চে। মঙ্গলবার সেই মামলাটি ছেড়ে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে এই মামলাটি ছিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চে। তিনি ইতিমধ্যে তার হাতে থাকা সমস্ত জনস্বার্থ সংক্রান্ত মামলা থেকে অব্যহতি নেন। সেই সময়েই এই ১০০ দিনের কাজের মামলাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার পরে যেখানে মামলা গিয়েছিল, সেই ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি মিতা দাস-র ডিভিশন বেঞ্চেও ছেড়ে দিল মামলাটি।উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে (MGNREGA) ভুয়ো জব কার্ড, মৃত ব্যক্তির নামে জব কার্ড এবং অসত্য তথ্য দিয়ে জব কার্ড তৈরি করে কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা স্রকারি মদতপুষ্ট কিছু আসাধু মানুষজন। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করে, যারা তদন্ত করে জানায় যে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মালদহ এবং দার্জিলিং জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে এবং মোট ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে এবং আগামী ১৫ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। এই রিপোর্টে রাজ্যের বকেয়া অর্থ কবে মেটানো হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের মধ্যে অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। এই মামলার অগ্রগতি এবং পরবর্তী শুনানির ফলাফলের উপর নির্ভর করবে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।

মে ১৩, ২০২৫
রাজ্য

আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা ধর্মঘট

আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের প্রতিবাদে সারা বাংলায় চিকিৎসা ধর্মঘটের ডাক দিল জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স। আগামিকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ওপিডি বন্ধ থাকবে। শুধু ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলা থাকবে। এমনকী বক্তিগত চেম্বার বন্ধ রাখারও আবেদন জানিয়েছে এই সংগঠন। এদিন এনআরএস মেডিক্য়াল কলেজ প্রাঙ্গনে নাগরিক কনভেনশনের আয়োজন করেছিল চিকিৎসকদের এই সংগঠন। জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স সংগঠনের নেতা ড. মানস গুমটা বলেন, আমাদারে দাবি ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সিবিআই তদন্তের আগে আরজি করের চেষ্ট বিভাগে মেরামতের নামে প্রমান লোপাটের চেষ্টার প্রতিবাদ করছে আমাদের এই সংগঠন। সন্দীপ ঘোষসহ সমস্ত সন্দেহভাজনকে অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আরজি করে নিহত তরুণী চিকিৎসকের খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এই হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসকরাও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। এদিন বুদ্ধিজীবীদের একটি দল ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ও দোষীদের শাস্তির দাবি তুলে মিছিল করে আরজি করে মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে যায়। রাজনৈতিক দলগুলি চিকিৎসক হত্যার প্রতিবাদে পথে নেমেছে। এদিনই আবার কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলা পুলিশের হাত থেকে সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৪
রাজ্য

আরজি করে চিকিৎসক খুনের মামলায় সিবিআই তদন্ত, আদালতের নির্দেশ পেয়েই টালা থানায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা

আদালত নির্দেশ দিতেই সিবিআই আধিকারিকরা টালা থানায় পৌঁছে যান। সেখানে আরজি করে চিকিৎসক খুনের নথি নিতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হা। আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ উচ্চ আদালতের। পুলিশ এবং হাসপাতালের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।আরজি কর সংক্রান্ত মামলার শুনানির প্রথম দিনেই চূড়ান্ত বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমকে। তিন সপ্তাহ পর রাজ্য সরকারের রিপোর্ট তলব করেছেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে CBI নির্দেশ দেওয়া যায়। যে ঘটনায় রাজ্যের ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে সেক্ষেত্রে সিবিআই নির্দেশ দেওয়া যায়। হাসপাতালের সুপার কিংবা কেউ FIR দায়ের করলেন না, এটা তো বিস্ময়ের। অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ইস্তফার পরেও কেন সমান গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল? পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্দীপ ঘোষ কাজে যোগ দিতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।আগামিকাল সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে CBI-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে নির্দেশ প্রধান বিচারপতির। কলকাতা পুলিশের কেস ডায়েরিতে সন্তুষ্ট নয় হাইকোর্ট। আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে প্রথমেই কেন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, ওই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকের দেহ ওই হাসপাতাল থেকেই উদ্ধার হয়েছে। যিনি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন তিনি কেন FIR করলেন না? এদিকে আজই টালা থানায় যান সিবিআই আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে থানা থেকে বেরিয়েছেন বলে খবর।

আগস্ট ১৩, ২০২৪
রাজ্য

রুজিরার আবেদনে হাইকোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ, ক্ষমতা বেঁধে দেওয়া হল ইডি ও সংবাদমাধ্যমের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরার গোপনীয়তা খর্ব হচ্ছে। সংবিধান মেনে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে এই মর্মে মামলা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে ইডি ও সংবাদমাধ্যমের ক্ষমতা বেঁধে দিয়ে বেনজির নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য।কী নির্দেশ হাইকোর্টের?রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে ইডি-কে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ, এবার থেকে যেকোনও ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির সময় সার্চ অ্যান্ড সিজার-এর সময় লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে না। অভিযানের ব্যাপারে ইডি সংবাদমাধ্যমকে আগে থেকে কিছু জানাতে পারবে না। মিডিয়াকে সঙ্গে করে নিয়ে ইডি কোনও তল্লাশি অভিযান করতে পারবে না।সার্চ অ্যান্ড সিজার-এর সময় কোনও কিছু প্রকাশ্যে আনা যাবে না। সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত হোক অথবা সাক্ষী কারও ছবি সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না।সংবাদমাধ্যমের এক্তিয়ারও বেঁধে দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি ভট্টাচার্যের নির্দেশ, চার্জশিট পেশ করার আগে মিডিয়া তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করতে পারবে না। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনও সংবাদমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা হয়, তবে তাতে প্রতিবেদকের নাম থাকবে। ২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারিতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন এই নির্দেশই বহাল থাকবে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৩
রাজ্য

শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন নওশাদের, নির্দেশ মতো থানায় হাজিরা

সহবাস ও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর হল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির। সোমবার আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।হাইকোর্টের নির্দেশ, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে নওশাদকে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না নওশাদ। এছাড়াও, নওশাদ সিদ্দিকিকে সপ্তাহে দুদিন তাঁকে বউবাজার থানায় হাজিরা দিতে হবে।ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদের বিরুদ্ধে সহবাস, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন মুর্শিদাবাদের ডোমকল শহর তৃণমূল কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদিকা। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বৌবাজার থানায় নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। এফআইআরে অভিযোগকারিণীর দাবি, দেড় বছর আগে তাঁকে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে নিজের অফিসে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন নওশাদ। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বেশ কয়েক বার সহবাস করেছেন আইএসএফ বিধায়ক। অভিযোগ, এরপর অভিযোগকারিণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁকে এড়িয়ে যেতে থাকেন নওশাদ। বিধায়ক কখনও নিজে, কখনও সহকারীদের দিয়ে তরুণীকে হুমকি দিয়েছেনএরপর গত ৭ জুলাই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নওশাদকে এদিন আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানের পর্ষদ চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্যকে বরখাস্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রাথমিকের পোস্টিং দুর্নীতির তদন্তে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে তোলপাড় কাণ্ড। মঙ্গলবার রাতেই অপসারিত পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করতে প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এরপর বুধবার সকাল থেকে মানিককে দফায় দফায় জেরা চলে। এসবের মধ্যেই এদিন হাইকোর্টে ফের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। হাইকোর্টের তরফে শিক্ষা দফতরের সচিবকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পূর্ব বর্ধমানের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মেমারির তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। শিক্ষকের স্থানান্তর সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, পূর্ব বর্ধমান জেলা শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে। কিন্তু চেয়ারম্যানের পরিবর্তে পর্ষদের একজন আপার ডিভিশন ক্লার্ক এই হলফনামা জমা দেওয়ায় চরম অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট। সেই কারণে পর্ষদ চেয়ারম্যানকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।কেন তিনি নিজে যাননি? তারওপর আপার ডিভিশন ক্লার্ককে পাঠিয়েছেন দিয়ে হলফনামা জমা দিতে। জবাবে মধুসূদন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তিনি করোনা ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি নিজে না গিয়ে অন্য একজন পর্ষদ কর্মীকে দিয়ে হলফনামা জমা করিয়েছেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাও করেন তৃণমূল বিধায়ক।মধুসূদনের বক্তব্য শুনে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, অসুস্থ হলে পদত্যাগ করুন। অন্য লোক কাজ করবেন। আমি মনে করি আপনি শারীরিকভাবে এই পদে কাজ করতে অপারগ। এরপরই পর্ব বর্ধমানের জেলা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশের দেন বিচারপতি। পাশাপাশি শিক্ষাসচিবকে আদালতের নির্দেশ কার্যকরে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে বলেন।দিল্লি থেকে দুপুরে কলকাতায় ফিরে বিমানবন্দরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রণম্য। আমি আমার রাজনৈতিক পরিচয় সরিয়ে বলছি, উনি সমাজ সংস্কারক। তাঁর একের পর এক নির্দেশ বঞ্চিত হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীদের আশার আলো দেখাচ্ছে। শুধু চাইব দোষীদের শাস্তি হোক।

জুলাই ২৬, ২০২৩
কলকাতা

মোমিনপুরের হিংসার ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

মোমিনপুরের অশান্তির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট(SIT) গঠনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে সিটের সদস্যরা কাজ করবে। তদন্তের গতি নিয়ে দু সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত শনিবার মোমিনপুরের ময়ুরভঞ্জ রোডে ব্যাপক গোষ্ঠা সংঘর্ষ ঘটে। রবিবারও হিংসা অব্যাহত ছিল। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ জখম হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে আহত কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিককেও। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল তাঁরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেয় তাঁরা। এই হিংসার ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়েরও করে বিজেপি। তারই শুনানি ছিল এদিন।আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলকে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ ও তাদের উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করতে হবে। একইসঙ্গে হিংসার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করে বহাল রাখার ব্যাপারেও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত বলেছে, স্থানীয়রা কোনওভাবেই যেন আতঙ্কের মধ্যে না থাকে। পুলিশ পিকেটিংও চলবে। আদালতের নির্দেশ, ওই দিনের অশান্তির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।আদালতের নির্দেশের পর এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, এলাকা এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও নাগরিক ভয় পেলে বা আতঙ্কগ্রস্ত থাকলে অবশ্য পুলিশকে জানান, পদক্ষেপ করা হবে।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

বেআইনিভাবে চাকরিপ্রাপ্তদের স্বেচ্ছায় ইস্তফার নির্দেশ, এসএসসি নিয়ে কড়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

বেআইনি ভাবে অযোগ্য নিয়োগকারীদের কোনও ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না, ফের নয়া নির্দেশ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুর্নীতির সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না। বেআইনি ভাবে স্কুলশিক্ষক এবং অ-শিক্ষক পদে কর্মরতদের উদ্দেশে বুধবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এদিন বলেছেন, টাকা ঘুষ দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই চাকরি থেকে পদত্যাগ করুন। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ইস্তফার মেয়াদ। না হলে তাঁদের বরখাস্ত করা হবে। এঁরা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও সরকারি চাকরি না পান সেই ব্যবস্থা করবে আদালত।রাজ্যে স্কুলশিক্ষক এবং অ-শিক্ষকদের নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত ও আদালতের নানা নির্দেশ নিয়ে তোলপাড়। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রচুর সংখ্যক সাদা খাতা জমা দেওয়া হয়েছে। কিছু খাতায় শুধুমাত্র পাঁচ-ছটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তার পরও ওই চাকরিপ্রার্থীরা ৫৩ নম্বর পেয়েছেন। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র পরীক্ষায়ও একই জিনিস হয়েছে। আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কতজনকে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে তা-ও জানতে চেয়েছেন বিচারপতি।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal