১৩সেপ্টেম্বর বিজেপির ডাকে নবান্ন অভিযান। সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। অভিযানের আগেই হুমকির সুর রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের গলায়। নবান্ন অভিযান মিছিলে এসে তিনি জানিয়েছেন, ওই দিন পুলিশ তাঁদের জোর করে আটকালে পাল্টা প্রতিরোধ হবে। মূলত তিনটি মিছিল করে মঙ্গলবার নবান্নের দিকে এগোবে বিজেপি। কুলতলির বিধায়ক কে তিনি হুঁসিয়ার করলেন। জয়নগরের মাটিকে ধ্বংসস্তূপ করেছে তৃণমূল। শওকত মোল্লার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে ভোট লুট চালিয়েছে। সেটা আর বেশিদিন নয় এমনই ইঙ্গিত দিলেন। বিধায়ক শওকাত মোল্লা কে সিবিআই ডেকেছে, এবার সিবিআর চা খেতে হবে এমনই ইঙ্গিত করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
কয়লা পাচার তদন্তে রাজ্যের আইনমন্ত্রীর মলয় ঘটকের একাধিক বাড়িতে বুধবার সকাল থেকেই তল্লাশি অভিযান চালায় সিবিআই। আইনমন্ত্রীর আসানসোল ও কলকাতার বাড়ি, সরকারি আবাসনে হানা দেয় সিবিআই। ডালহৌসির সরকারি আবাসনে গিয়ে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করে সিবিআই আধিকারিকরা। মলয় ঘটকের দাবি, সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা তাঁর তিনটি স্মার্ট ফোন সেট নিয়ে গিয়েছে। সিমগুলি অবশ্য নেয়নি।বুধবার কয়লা পাচার কাণ্ডে প্রায় আট ঘন্টা তল্লাশি চালায় সিবিআই। বিকেলে সরকারি আবাসন থেকে বেরিয়ে প্রথমে মলয় ঘটক জানিয়ে দেন বিচারাধীন বিষয় তাই মুখ খুলবেন না। কিন্তু, সন্ধ্যার সরকারি আবাসনেই সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রী।মন্ত্রীর দাবি, তাঁকে বদনাম করতেই সিবিআই এত তল্লাশি চালাচ্ছে। তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সার্চ ওয়ারেন্ট ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন মলয়বাবু। তাঁর বক্তব্য, আসানসোল পুরভোট, লোকসভার উপনির্বাচন বা রাজ্যব্যাপী পুরভোটের সময় আমাকে সিবিআই, ইডি তলব করেছে। আমি ব্যাস্ত থাকায় জানিয়েছিলাম পরে যাব। ইমেলে তারিখ জানতে চাইলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে কিছু জানানো হয়নি।তবে মলয় ঘটক জানিয়েছেন, তদন্ত সাহায্য করা আমার কর্তব্য। তবে সময় সুযোগ বুঝে ডাকলে যাব। তাঁর চ্যালেঞ্জ, আসানসোলের বিজেপি নেতা, কর্মী, সমর্থকরা ছাড়া কেউ বলুক যে আমি কয়লা পাচারে জড়িত, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছিলেন তদন্তে সহযোগিতা করবেন। যদিও সিবিআইকে তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলে মুকুল রায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এদিকে মলয় ঘটকের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে দুর্গাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
শুধু ডাকাডাকি করলে হবে না সাজা দিতে হবে, না হলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবে কি করে? ভোট পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্ত নিয়ে ফের সরব বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ।বুধবার প্রাতর্ভ্রমণের পর তারাপীঠে চা চক্রে অংশগ্রহণ করলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি তথা খড়্গপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সকাল ছটা নাগাদ তারাপীঠ এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রাতর্ভ্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। এরপর তারাপীঠ পূর্বসাগর মোড়ে চায়ের দোকানে বসে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তিনি চা চক্রে মিলিত হন। এদিন চা চক্র শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে দিলীপবাবু অনুব্রত মন্ডলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, নিজের নামে সম্পত্তি নেই মানেই সম্পত্তি নেই এমনটা নয়। উনি যা বলছেন কোর্টে প্রমান করতে হবে। আর গ্রেফতার হলেই সবাই বলে রাজনৈতিক চক্রান্ত।অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আগেই সিবিআইয়ের উপর আস্থা হারিয়ে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর তারপর থেকেই রাজ্য জুড়ে সিবিআইয়ের বেশ কয়েকটি মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে, তলব করাও চলছে। গতকালই বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় সিবিআই তলব করেছিল তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালকে। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, শুধু ডাকাডাকি করলে হবে না সাজা দিতে হবে। না হলে মানুষ বিশ্বাস করবে কি করে। দুষ্কৃতীরা খুন করে দেবে, দেশে কোনও আইন নেই, সাজা নেই। সেটা করে দেখাতে হবে।
বর্ধমান সানমার্গের অফিস ছিল বর্ধমান শহরে। শহরের ঢলদীঘি মোড়ের উল্টো দিকে অফিস তৈরি করে বাজার থেকে টাকা তোলা শুরু করে এই চিটফাণ্ড সংস্থা। এই সংস্থার মালিক কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশনের সময় বর্ধমান শহরের যে বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিল সেই বাড়িতে ইতিমধ্যেই ইডির সমন এসেছিল বলে জানান স্থানীয়রা। সিবিআই তাকে অনেকদিন ধরেই খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তারা তার এখনও নাগাল পায়নি। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চিটফাণ্ড সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়। বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে প্রণব চট্টোপাধ্যায় নিযুক্ত হওয়ার পরই তাকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করে। কিন্তু তিনি চলতি বছরের অগাস্ট মাসে জামিন পেয়ে যান। সিবিআই সূত্র জানা গেছে, জামিন পেলেও তদন্ত থামেনি। প্রয়োজনে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সৌম্যরূপ ভৌমিক বর্ধমান শহরের খক্কর সাহেব এলাকার যে বাড়ির ঠিকানা দিয়ে কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশন করেছিলেন সেই বাড়ি তার কোনও দিনই ছিল না বলে জানান স্থানীয়রা। খক্কর সাহেব এলাকার সেই বাড়িতে গিয়ে জানা গেল, বাড়িটি তার খুড়তুতো ভাই অরূপ ভৌমিকের। বাড়িতে কেউ না থাকায় পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বাড়ির কেয়াটেকার জানান, সৌম্যরূপ এই বাড়ির কেউ নন। উনি অরূপ ভৌমিকের খুড়তুতো ভাই। ওনাকে এই বাড়িতে কখনও দেখেননি। এখন কোথায় তিনি আছেন তা-ও জানা নেই। স্থানীয়রা জানান দীর্ঘদিন এই পাড়াতে সৌম্যরূপকে দেখা যায়নি। এটা অরূপ ভৌমিকের বাড়ি। বর্ধমান সানমার্গের নামে আমানতকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সৌম্যরূপের বিরুদ্ধে। চিটফান্ডের তদন্তের সময় গা-ঢাকা দেয় সৌম্যরূপ। সেই টাকা কাদের কাছে গচ্ছিত রেখেছে ওই চিটফান্ড কর্তা তা তদন্ত করে দেখছে সিবিআই।এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান রাজু সাহানীকে তিনি চেনেন না। তার স্ত্রী রেখা চট্টোপাধ্যায়ের নামে বিল্ডিং। সেই বিল্ডিং ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে মিথ্যা মামলায় সিবিআই ফাঁসায়। বর্ধমান সানমার্গের সঙ্গে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই। তাঁর স্ত্রীর বিল্ডিং তিনি দেখভাল করেন। তার ব্যাঙ্কে ৫ কোটি লোন ছিল। এখন তা কমে সাড়ে তিন কোটি টাকা হয়েছে।
রাতভর ধৃত আইনজীবী সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালাল পুলিশ। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের মামলার বিচারককে হুমকি চিঠির ঘটনায় সোমবার গ্রেফতার হয় বর্ধমান আদালতের আইনজীবী সুদীপ্ত রায়কে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সোমবার রাতেই পূর্ব বর্ধমানের মেমারির চিনুই (সাহানুই) গ্রাম থেকে ধৃত আইনজীবী সুদীপ্ত রায়ের সহকারী দীপক মহুরীকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে আসানসোল আদালত চত্বরে গিয়েছিলেন সুদীপ্ত। খবর পেয়েই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।এখানে উল্লেখ্য ২০ আগষ্ট আসানসোলের সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তীকে হুমকি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে লেখা হয় গরু পাচার মামলায় ধৃত বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে জামিন না দিলে তাঁর পরিবারকে গাঁজা কেসে ফাঁসানো হবে। সেই চিঠির প্রেরক হিসাবে পূর্ব বর্ধমানের এগজিকিউটিভ আদালতের আপার-ডিভিশন ক্লার্ক (ইউডিসি) বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ও সই ছিল। বাপ্পা প্রথম থেকেই বলে আসছেন, তিনি নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।হুমকি চিঠির তদন্তে গত বৃহস্পতিবারও বাপ্পাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের দুই পুলিশকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদের পর বাপ্পা দাবি করেন, সুদীপ্ত রায় নামে বর্ধমান আদালতের এক আইনজীবী দিন দুয়েক আগে তাঁকে আদালত চত্বরে হুমকি দিয়েছিলেন। তাকে বলা হয়, তোর যা ব্যবস্থা করার, হয়ে গিয়েছে। এ বার তোর চাকরি খাব। বাপ্পাবাবু গোটা বিষয়টি বর্ধমান উত্তরের মহকুমাশাসককে জানান। হুমকি চিঠির পিছনে সুদীপ্তেরই হাত রয়েছে। শুক্রবার বাপ্পার গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়। তার পরেই সোমবার গ্রেফতার হয় সুদীপ্ত।সোমবার গভীররাতে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ বর্ধমান থানার পুলিশের সহযোগিতায় ধৃত আইনজীবী সুদীপ্ত রায়ের বর্ধমান শহরের বড়নীলপুরের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশী চালায়।
অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হয়েছেন গরু পাচার মামলায়। এবার ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস মামলায় তৎপর সিবিআই। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বোলপুর থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। তৃণমূল নেতা পঞ্চানন খাঁ সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে।শনিবার সকাল থেকেই বীরভূম জুড়ে তল্লাশি চালালেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দুপুরে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ তিনজন তৃণমূল নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিবিআই। কঙ্কালীতলা থেকে আটক করা হয়েছে তাঁদের। পরে বিকালে গ্রেফতার করা হল তিন জনকে। এদিন কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখের বাড়িতেও হানা দেয় সিবিআই অফিসারেরা। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তভার রয়েছে সিবিআই-এর হাতে। দীর্ঘ দিন ধরে তদন্ত করছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। শনিবার আচমকাই তাঁদের একটি দল বীরভূম জুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। কঙ্কালীতলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষ জনকে ধরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।২০২১ সালের ২ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দিকে দিকে শুরু হয় ভোট পরবর্তী হিংসা৷ বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় একই অভিযোগ ওঠে৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঘটনার তদন্তে এসে বীরভূম থেকে তিনজনে নাম কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেন অভিযুক্ত হিসাবে৷ তারা হলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খান, কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মহম্মদ ওহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখ ও তার সঙ্গী পঞ্চানন খা৷ এদিন এই মামলায় তদন্তে এসে সকাল সকাল তৃণমূল নেতা পঞ্চানন খাঁ, বাদল শর্মা ও তীর্থনাথ হাজরাকে আটক করে সিবিআই অফিসারেরা।এদিন দুপুরে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লী অতিথি নিবাসে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্প অফিসে তাদের আনা হয়৷ শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। আটক অভিযুক্তদের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি থাকায় পরে ধৃতদের পরিবারের লোকজনকে ক্যাম্প অফিসে ডেকে পাঠানো হয়৷তাঁরা সরাসরি হিংসায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও, আরও তিন জনকে ডেকে পাঠানো হয়, তাঁরাও শিবিরে পৌঁছেছেন বলে খবর।এদিন, বিকেলে আটক তিন জনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই৷ গ্রেপ্তারের পরেই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ জানা গিয়েছে, রবিবার ধৃতদের বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে, উপ প্রধান মামন শেখের লায়েকবাজারের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসারেরা। বাড়িতে ছিলেন না উপ প্রধান। বাড়ি ফিরলে সিবিআই ক্যাম্প অফিসে দেখা করার জন্য পরিবারের লোকজনকে বলে আসেন গোয়েন্দারা।প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী হিংসায় কংকালী এলাকায় একাধিক বিজেপি কর্মীকে মারধর, লুঠপাট, তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে৷ এমনকি, এক বিজেপি কর্মী মহিলাকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও জমা পড়েছে। মারধর, খুন, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা। এমনকি ভয়ে বহু বিজেপি কর্মী বাড়ি ছাড়া বলেও দাবি করে। এর পর মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিবিআই-এর হাতে গুরুতর অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব তুলে দেয় আদালত।
ফের তৃণমূল নেতাকে সিবিআইয়ের তলব। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ভাল্কি পঞ্চায়েত এলাকার শাসক দলের জিতেন বাগদীকে তলব করলো সিবিআই।তবে তাকে দুর্গাপুর বা কলকাতার নিজাম প্যালেসে যেতে হবে না। ২ সেপ্টেম্বর জিতেন বাগদীর বাড়িতে গিয়ে সিবিআই আধিকারিকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এই মর্মে নোটিশ পাঠানো হয়েছে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে। গতকাল অর্থাৎ ২৪ আগষ্ট জীতেন বাগদীর বাড়ি ঘুরে গেছে সিবিআইয়ের টিম। তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় সিবিআই জিজ্ঞসাবাদ করবে ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টের সময়।তাকে বাড়িতে থাকাতে বলা হয়েছে।এখানে উল্লেখ্য গত ৬ আগষ্ট অরূপ মিদ্যাকে সরিয়ে তার জায়গায় জীতেন বাগদীকে ভাক্লি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। তবে তিনি নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তিনি টেলিফোনে বলেন, কোনও নোটিস পায়নি।প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আউশগ্রামের শাসক দলের একাধিক নেতাকে তলবা করা হয় দুর্গাপুরে সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরে। সেখানে জেরা করা হয়েছে। যদিও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এই বিষয়ে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন,এরকম খবর শুনলাম। এই কদিন আগে তাকে অঞ্চল সভাপতি করেছে দল।তবে সবই তো বোঝা যাচ্ছে কি হচ্ছে। রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা।বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আমরা তো বারে বারে আবেদন করেছি দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের সিবিআই গ্রেপ্তার করে তদন্ত করুক। আগামীদিনে বাংলার দুর্নীতিবাজ নেতারা কেউ রেয়াত পাবে না। জীতেন বাগদীর বাড়ি আউশগ্রাম থানার প্রেমগঞ্জ গ্রামে গেলে তার দেখা মেলে নি। তার স্ত্রী চিন্তা বাগদী বলেন, বাড়িতে নাই। বাইরে গেছে। তিনিও জানান,তাদের বাড়িতে কোন চিঠি আসে নাই।
আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারককে হুমকি চিঠি প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বাপ্পা চ্যাটার্জি গতকালই তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। আজ আসানসোল পুলিশ থেকে সেই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাপ্পা। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ আসানসোল পুলিশের একটি দল তার কাছে আসে এবং হুমকি চিঠি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বেশ কয়েকজনের টিম থাকলেও দুজন পুলিশকর্মী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানিয়েছেন বাপ্পা।এই বিষয়টি নিয়ে বাপ্পা চ্যাটার্জির পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। বাপ্পার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে, এই বিষয়ে সংগঠনের পক্ষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষী শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে।
আসানসোলে সিবিআই আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে অনুব্রতের গাড়ি থামলো শক্তিগড়ে। গরুপাচারের ঘটনায় ধৃত বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল চার দিন সিবিআই হেফাজতে থাকার পর বুধবার তাকে আসানসোলের সিবিআই আদালতে তোলা হয়। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে কলকাতা থেকে আসানসোল যাওয়ার পথে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া সিবিআইয়ের গাড়ি থামে জাতীয় সড়কের শক্তিগড়ে ল্যাংচার দোকান পরিয়ে। বর্ধমানের উল্লাসমোড় ঢোকার বেশ খানিকটা আগে( ১ কিলোমিটার) রাস্তার ধারে একটি ধাবার সামনে গাড়ি থামে। অনুব্রত মণ্ডল সিআরপিএফের একেবারে ঘেরাটোপে ঢোকেন ধাবার ভিতরে। তখন জাতীয় সড়কের ধারে বেশ কয়েকটি গাড়ি সহ গোটা এলাকাটি সিআরপিএফ জওয়ান ঘিরে রাখে। তিনি সটান ঢুকে যান ধাবার কেবিনে। তবে তিনি ল্যাংচা বা কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার খান নি।দুটি ডালপুরি ও লিকার চা খেয়ে প্রাতঃরাশ সারেন।তিনি ওখানে আধঘন্টা ছিলেন। ধাবার কর্মীরা তাকে সেরামিকের কাপ ডিসে লিকার চা দেয়। অনুব্রত বরাবরই দুধ চা বা কফি এড়িয়ে চলেন চিকিৎসকদের নির্দেশে। বরং দলীয় অনুষ্ঠান, বাড়িতে বা পার্টি অফিসে সব সময়েই লিকার চা খান।তবে বিকালে বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে থাকলে লিকার চায়ের সঙ্গে গরম সিঙারা খেতে পছন্দ করতেন।সিএসএফ জওয়ান কেবিনের ভিতরে কার্যত মাছি গলতে দেয় নি এদিন ধাবায়।অনুব্রতের গাড়ি থামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বহু মানুষ ধাবার সামনে উপস্থিত হন।পথচলতি মানুষজন ও গাড়িও থেমে যায় থাবার সামনে।তারপর সিবিআইয়ের গাড়ি চলে যায় আসানসোলের উদ্দেশ্যে।
গরুপাচারকান্ডে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। যদিও এই নির্দেশের আগে সওয়াল-জবাব চলে দুই পক্ষের আইনচজীবীর মধ্যে। এদিন সকালে অনুব্রতকে নিজাম প্যালেস থেকে আসানসোলের উদ্দেশে নিয়ে বের হন সিবিআই আধিকারিকরা। পথে শক্তিগড়ে ব্রেকফাস্ট করেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি।আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে সওয়াল জবাব চলাকালীন অনুব্রতর আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলকে টার্গেট করা হয়েছে। যেহেতু কেন্দ্রে বিরোধী দলের সরকার রয়েছে। সিবিআইয়ের আইনজীবীর আনা প্রভাবশালী তকমা নিয়ে অনুব্রতর আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলকে মুখ্যমন্ত্রী চেনেন। তার মানেই প্রভাবশালী হতে পারে না। জামিনের আবেদন জানান তিনি। অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গলের সম্পত্তির সঙ্গে অনুব্রতর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও আদালতে জানিয়ে দেন অভিযুক্তর আইনজীবী। এদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, গরুপাচার মামলায় গোপন জবানবন্দীতে অনুব্রতর মন্ডলের নাম বলেছেন অনেকেই। প্রভাবশালী এই ব্যক্তিকে ছাড়া হলে তদন্তে প্রভাব পড়বে।
অনুব্রত মণ্ডলের আরও এক ঘনিষ্ঠর হদিশ পেল সিবিআই। সেই সঙ্গে কিছু সম্পত্তিরও হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সমস্ত সম্পত্তি কোনওটা মেয়ের নামে কোনটা বা তাঁর মৃত স্ত্রীর নামে। আবার কোনও সম্পত্তি অনুব্রত মণ্ডল কন্যা সুকন্যার দুই কোম্পানির নামে রয়েছে বলে জানতে পেড়েছে তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের দাবি ওই সমস্ত সম্পত্তি বছর চারেক আগে কেনা হয়েছে।এবার অনুব্রত মণ্ডল ও তার পরিবারের সম্পত্তির হদিশ পেতে বোলপুরে সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে হানা দিল সিবিআই৷ অনুব্রত মণ্ডলের নামে ও বেনামে কত জমি কেনা হয়েছে, তা জানতেই রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায় সিবিআই৷ গরু পাচারের টাকাতেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কেনা হয়েছে কিনা তা জানতে এই অভিযান চালানো হয়েছে৷ সিবিআই-এর আধিকারিকরা রেজিস্ট্রি অফিসের কম্পিউটার এবং বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখছেন৷মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ শান্তিনিকেতন পূর্বপল্লী গেস্ট হাউস থেকে বোলপুরের নেতাজী মার্কেটের বীরভূম ডিস্ট্রিক্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যান সিবিআই আধিকারিকরা। প্রথমে দপ্তরে ঢুকে রেজিস্ট্রারের ঘরে যান সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে প্রথমে রুদ্ধদার বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। পরে দফতরের কর্মীদের পাশে রেখেই কম্পিউটারে সব নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিন ঐ অফিসের বসে তাঁদের নিজস্ব ল্যাপটপে সব তথ্য লিপিবদ্ধ করতে থাকেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রে খবর, অনুব্রত এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে কত জমি রয়েছে, সে সমস্ত তথ্য জানতেই এই অভিযান বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।সিবিআই সূত্রে খবর, জমি দফতরের এই অফিসে তথ্য তলাশ করে অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর একাধিক আত্মীয়ের নামে বহু সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। তেমনই তথ্য গত কয়েকদিনের তদন্তে সিবিআই আধিকারিকদের হাতে এসেছে বলে খবর। কার নামে, কোথায়, কত জমি, বাড়ি বা সংস্থা রয়েছে, তা জানতে এ দিন রেজিস্ট্রি অফসে হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। রেজিস্ট্রি অফিসের সব কম্পিউটার খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। সিবিআই সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে একাধিক নথি আধিকারিকরা পেয়েছেন। কাগজপত্র ছাড়াও অনলাইনে নথিভিক্ত জায়গাজমি সম্পর্কেও তথ্যতালাশ করছেন সিবিআই আধিকারিকরা।অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যার নামে একাধিক জমির খোঁজ মিলেছে বলে খবর। বোলপুরের জমি রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশি চলাকালীন সুকন্যার নামে জমির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআইয়ের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলপুরের বল্লভপুর এলাকায় ০.৬২ একর জমির সন্ধান মিলেছে সুকন্যার নামে। এছাড়াও বোলপুর বাইপাসে ইংরেজিতে সিএম এবং ব্যাকেটে মানা লেখা তিনটি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সম্পত্তি গুলি আড়াই থেকে ৫ বিঘার মধ্যে। সিবিআই আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের নামেও কী পরিমাণে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে তার খোঁজ চলছে বলেও সিবিআইয়ের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে।অনুব্রতের দেহরক্ষী সহেগল হোসেনের নামেও কোনও জমি আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। সহেগল এখন সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। পাশাপাশি বীরভূমের একাধিক চালকলের লিজের কাগজপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিবিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সহেগল হোসেনের ঘনিষ্ঠ মাধব কৈবর্ত্যের নামেও কোনও জমিজমা আছে কি না সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কিছু দিন আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন এই মাধব। এছাড়া অনুব্রত ঘনিষ্ঠ আমোদপুরের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য এবার সিবিআই নজরে এসেছে। কারণ ২০১৯ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রী যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেই হাসপাতালে ৬৬ লক্ষ টাকা মিটিয়েছেন রাজীব ভট্টাচার্য। ওই টাকার উৎস কি তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। সিবিআই আমোদপুরে বেশ কয়েকটি রাইসমিল এবং কোম্পানির খোঁজ পেয়েছে। যার কয়েকটির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন রাজীব ভট্টাচার্য। মোবাইল বন্ধ থাকায় রাজিব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।প্রসঙ্গত, আগামিকাল তৃতীয় দফায় অনুব্রত মণ্ডলকে আদালতে পেশ করা হবে। গরু পাচার মামলায় এই মুহূর্তে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তারই মাঝে গত কয়েকদিনে বোলপুর এবং তার আশেপাশে একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে সিবিআই। গরু পাচারের টাকায় কোথায়, কত সম্পত্তি রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর আত্মীয়দের নামে। এ বার সেই তথ্য জানতে বোলপুরে সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে হানা দিল সিবিআই। শুরুটা হয়েছিল অনুব্রতর মেয়ের নামে থাকা রাইস মিল দিয়ে। মাঝে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বোলপুর পৌরসভার গাড়ির খালাসি বিদ্যুৎবরণ গায়েনের বিপুল সম্পত্তির উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। এর পর গতকাল বীরভূম জেলা সভাপতির দিদির নামে থাকা রাইস মিলে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।বীরভূম ডিস্ট্রিক্ট সাব রেজিস্ট্রি অফিসের হেড ক্লার্ক সামসের আলি বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে বিদ্যুৎবরণ গায়েনের নামে কোনও জমি কেনা হয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দলিল সংক্রান্ত তথ্য এবং কোনও সম্পত্তি লিজ নেওয়া হয়েছে কি না সে সম্পর্কেও তথ্য নেয় ওরা। অনুব্রতের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত বিদ্যুৎবরণ। রবিবার বোলপুরের কালিকাপুরের বাসিন্দা এই বিদ্যুৎবরণের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। বোলপুর পুরসভার গ্রুপ ডি কর্মী তিনি। সামসের আলি আরও বলেন, রেজিস্ট্রি হওয়া যে দলিল আমাদের সিস্টেমে আছে তা আমরা দিলাম। ওরা যাদের নাম করে জমি সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছেন সেই তালিকায় অনুব্রত মণ্ডলের নাম আছে।
আসানসোলের সিবিআই কোর্টের বিচারককে হুমকি চিঠি। ঘটনাই চাঞ্চল্য ছড়ালো আসানসোল ও বর্ধমানে। অভিযোগ বর্ধমান কোর্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের হেড ক্লার্কের বিরুদ্ধে। এই ঘোরতর অভিযোগ যার দিকে, বর্ধমান কোর্টের সেই হেড ক্লার্ক বাপ্পা চ্যাটার্জি জানান, আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। আপনাদের কাছ থেকে প্রথম শুনছি। এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কেউ কি আপনার নাম করে এই হুমকি চিঠি দিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বাপ্পা বাবু জানান সেটাও আমি কিছু বুঝতে পারছি না। এখানে উল্লেখ্য বাপ্পা তৃণমূলের জেলাভিত্তিক কর্মচারী সংগঠনের সদস্য।বাপ্পার নামে হুমকি চিঠি আসে আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তীর কাছে। ওই চিঠিতে লেখা হয়, গরুপাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে জামিন দিন। না হলে আপনি এবং আপনার পরিবারকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে। চিঠিটি যে খামে করে পাঠানো হয় তাঁর উপর বাপ্পা চ্যাটার্জির নামে সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে। বাপ্পা জানিয়েছেন, তাঁর এবিষয়ে কিছুই জানা নেই। তিনি আরও জানান, সিলমোহর তাঁর কাছেই আছে। চুরি যায়নি, হয়ত কেউ কেউ ওই সিলমোহর নকল করে এই কান্ডটি ঘটিয়েছে।প্রসঙ্গত আগামিকাল বুধবারই অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের শুনানি আছে আসানসোল সিবিআই কোর্টে। অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় আপাতত সিবিআই হেপাজতে আছেন।
জামিন পেলেন বর্ধমান পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রশাসক তথা তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়(ক্ষুদু)। আসানসোলের সিবিআই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। সূত্রের খবর, একটি চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। মামলায় চার্জশিটও জমা পড়েছে।বর্ধমান পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রবীণ তৃণমূল নেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়কে। আদি তৃণমূল নেতাকে পুরপ্রশাসক পদে বসানোয় অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। বর্ধমান শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে নানা ইকুয়েশন তৈরি হয়ে যায়। এই সময়ে পুরসভা নানা জনমুখী প্রকল্প হাতে নেয়। অনলাইন ব্যবস্থাও নানা ক্ষেত্রে চালু হয়। পুর নির্বাচনের আগে তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করে। হইচই পড়ে যায় জেলা রাজনৈতিক মহলে। প্রণব চট্টোপাধ্যায় জামিন পাওয়ার পর ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে তৃণমূলের অন্দরমহলে। জানা গিয়েছে, এদিন তিনি বর্ধমানে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। তাঁর হাজতবাস কালে দলের কেউ কেউ পাশে থাকলেও অনেক নেতাই কোনও খবর রাখার কথা মনেও রাখেনি।
অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির তিন দিনের মাথায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেহালার ম্যানটনে স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বীরভূমের কেষ্টর গ্রেফতার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন, কেন কেষ্টকে গ্রেফতার হল।বেহালায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরশু কেষ্টকে গ্রেফতার করা হল, কী করেছিল ও? ইলেকশনে তো ওকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। একটা ইলেকশনেও ওকে বেরতে দেয়নি। কিন্তু কেষ্টকে আটকালে কী হবে? ছেলেটা গত দুবছর খুব কষ্ট পেয়েছে। ওর স্ত্রী, তার আগে মা মারা গেছে। আমি ওকে এমপি, এমএলএ হতে বললেও ও বলত হব না। রাজ্যসভায় যেতে বললেও যায়নি। মমতার হুঙ্কার, এক কেষ্টকে ধরলে লক্ষ কেষ্ট তৈরি হবে। গরু পাচারের অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হলেও মমতা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন তিনি কেষ্টর পাশে আছেন। কেষ্টর বাড়িতে গিয়ে সিবিআই তান্ডব করেছে বলে দাবি করেছেন মমতা।
রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থার অতি-তৎপরতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলো তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজ্য শাসকদলের প্রেস বিবৃতি দিতে এসে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন শুক্র ও শনিবার রাস্তায় নামবে তৃণমূল ছাত্র যুব সংগঠন। সিবিআই নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুক এই দাবিতে রাস্তায় নামলো পুর্ব বর্ধমান জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস ও জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। শুক্রবার বিকালে শহরের বীরহাটা থেকে কার্জনগেট চত্বর পর্যন্ত মহামিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিল শেষে কার্জনগেট চত্বরেই হয় বিক্ষোভ সভা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বিধায়ক খোকন দাস, অলোক মাঝি, রাজ্যে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু কোনার, তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সহ যুব তৃণমূলের নেতৃত্বরা।প্রসঙ্গত, অনুব্রত মন্ডলের গ্রেপ্তারির পর দিকে দিকে চলছে বিরোধীদের বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের মনোবলকে চাঙ্গা করতে তৃণমূল নেতৃত্বের এদিনের প্রতিবাদ মিছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। তাঁদের দাবী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে কন্ঠরোধ করতে আসরে নেমেছে।তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সিবিআই ও ইডি কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করছে। তাঁরা মিছিল থেকে এই অভিযোগ তোলে। বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের মনোবল ভেঙে দেবার চেষ্টা করছে। কিন্তু তৃণমূলকে চমকে, ধমকে কিছু হবে না বলে প্রতিবাদ মিছিল থেকে দাবি করেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ত্ব। সিবিআই ও ইডির বিরুদ্ধে বুকে পোষ্টার লাগিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয় তৃণমূল নেতৃত্ত্ব। মিছিল থেকে ওঠে সিবিআই ও ইডির বিরুদ্ধে স্লোগান।
গরুপাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে ২০ আগস্ট অবধি সিবিআই হেপাজতের নির্দেশ দিল আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বোলপুরের বাসভবনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রাতেই সিবিআই আধিকারিকদের একটি দল ও প্রচুর সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী হাজির হয় বোলপুরে। সেখান থেকে তাঁকে আটক করে প্রথমে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে নিয়মমাফিক শারীরিক পরীক্ষা করান।আসানসোল ইএসআই হাসপাতাল তাঁর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাঁকে কুলটি থানার অন্তর্গত শীতলপুরের ইসিএল গেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিলো দূর্গাপুরে এনআইটিতে সিবিআই ক্যাম্প অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে বীরভূমের দোর্দন্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। অনুব্রত মন্ডলকে আদালতে পেশ করার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুনানি চলে। শুনানির শেষে অনুব্রতকে ২০ অগস্ট পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতেহেফাজতের নির্দেশ দিল আসানসোলের বিশেষ আদালত। বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে কলকাতার নিজাম প্যালেসে নিয়ে আসা হচ্ছে। অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী সঞ্জীব দাঁ জানান, হেফাজতে থাকাকালীন অনুব্রত মণ্ডল অসুস্থ হলে তাঁকে কলকাতার সেনাবাহিনীর কম্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হবে। তিনি আরও জানান ইতিমধ্যেই ওই হাসপাতালে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
গরুপাচার মামলায় একাধিকবার তলব সত্ত্বেও হাজিরা এড়িয়ে চলেছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার বোলপুরের বাড়িতে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করল সিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অনুব্রতর বাড়িতে পৌঁছন সিবিআই আধিকারিকরা। সকালে তাঁকে দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেফতার করা হয় অনুব্রত মণ্ডলকে। তখন বাড়ির সমস্ত গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।সিবিআই সূত্রে খবর, গতকাল বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারীর সঙ্গে কথা বলে অনুব্রতর শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোঁজ করেন। তবে যে কায়দায় এদিন অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে রেখে সিবিআই আধিকারিকরা হানা দিয়েছেন তাতে তাঁকে গ্রেফতারের জল্পনা ক্রমশ বাড়ছিল। শিষমেশ অনুব্রতকে গ্রেফতার করে সিবিআই। জানা গিয়েছে, আসানসোলের ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে অনুব্রত মণ্ডলের। তার পর আজই হয়তো আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হবে কেষ্টকে। এদিকে অনুব্রতকে গ্রেফতারির ঘটনায় ফের চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের তৎকালীন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির এক মাসের মধ্যে আরেক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি। অনুব্রত ইস্যুতে দল পাশে থাকে দল না কিনা সেটাই দেখার।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করার পর গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর তাঁরা দুজনেই তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন।এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে বাগ কমিটি যে রিপোর্ট জমা দেয় সেই রিপোর্টেও এসএসসির এই দুই প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিনহা এবং অশোক সাহার নাম ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সূত্রে খবর, এঁরা দুজনেই তদন্তে সাহায্য করছিলেন না। তথ্য গোপন করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সেই কারণেই শান্তিপ্রসাদ ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।সিবিআই সূত্রে খবর, বারংবার তলব করে জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলায় তাঁদের হেপাজতে নিয়ে আরও জেরা করার সিদ্ধান্ত নেয় সিবিআই। সেই কারণেই এই দুই প্রাক্তন এসএসসি কর্তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নিল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। সেক্ষেত্রে আরও নতুন তথ্য পেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করেছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। ইডির জোড়া তল্লাশিতে টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ সহ সোনার গহনা ও একাধিক স্থাবর সম্পত্তির নথি উদ্ধার হয়েছে।প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এসএসসিতে নিয়োগে দূর্নীতির তদন্তভার পায় সিবিআই। বুধবার বিকেলে এসএসসির প্রাক্তন দুই উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করল সিবিআই। এই মামলায় এই প্রথম গ্রেপ্তার করল সিবিআই, এর আগে দুজন কে গ্রেপ্তার করেছে ইডি।
এসএসসি দুর্নীতি মামলায় এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করার পর গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর তাঁরা দুজনেই তদন্তে অসহযোগিতা করছিলেন।এর আগে হাই কোর্ট নির্দেশে বাগ কমিটি যে রিপোর্ট জমা দেয় সেই রিপোর্টেও এসএসসির এই দুই প্রাক্তন কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিনহা এবং অশোক সাহার নাম ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সূত্রে খবর, এঁরা দুজনেই তদন্তে সাহায্য করছিলেন না। তথ্য গোপন করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সেই কারণেই শান্তিপ্রসাদ ও অশোক সাহাকে গ্রেফতার করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।সিবিআই সূত্রে খবর বারংবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলাই তাঁরা হেপাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন সিবিআই। সেই কারনেই এই দুই প্রাক্তন এসএসসি কর্তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নিল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করেছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের জোরা তল্লাশিতে টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ সহ সোনার গহনা ও একাধিক স্থাবর সম্পত্তির নথি উদ্ধার হয়েছে। প্রসঙ্গত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এসএসসিতে নিয়োগে দূর্নীতির তদন্তভার পায় সিবিআই। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। বুধবার বিকেলে এসএসসির প্রাক্তন দুই উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করল সিবিআই।
গরুপাচার মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সিবিআই গ্রেফতার করল তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে। এর আগে তাঁকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গিয়েছে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অনুব্রতর দেহরক্ষীকে। সূত্রের খবর, পাশাপাশি তাঁর বয়ানে অসঙ্গতিও মিলেছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সঞ্জীব দাঁয়ের সঙ্গে নিজাম প্যালেসে হাজির হন সায়গল। জিজ্ঞাসাবাদের কিছুক্ষণের মধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সায়গলের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ফের নিজাম প্যালেসে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সায়গলকে আসানসোল সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে। সিবিআই সূত্রের খবর, অনুব্রতর এই দেহরক্ষীর নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমির দলিল রয়েছে। তাঁর যে সম্পত্তি রয়েছে তার সঙ্গে বেতনের কোনও সামঞ্জস্য নেই বলেই সূত্রের খবর।সায়গলকে এই নিয়ে ৫ বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এমনকী তাঁর মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাড়িতে গত সপ্তাহে সিবিআই হানা দিয়েছিল। সেখানে তল্লাশিও চালিয়েছিল সিবিআই। সেদিন বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারীরা। গরুপাচার কাণ্ডে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সায়গলের নাম উঠে এসেছিল। তদন্তকারারীরা মনে করছে সায়গলকে জেরা করে আরও নতুন তথ্য় উঠে আসবে। যাতে তদন্তের অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি তাঁর কাছে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির উৎস কী তাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই।এর আগে গরুপাচার কাণ্ডে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। হাজিরা দেওয়ার আগে দীর্ঘ দিন এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ণ ওয়ার্ডে ভর্তিও ছিলেন অনুব্রত। এই মামলায় ইতিমধ্যে এনামুল হক, বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমারকে গ্রেফতারও করেছে সিবিআই। ফের অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআই।