• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

BjP

রাজনীতি

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নেবে না তৃণমূল! 'আমাকে জানানো হয়নি,' স্পষ্ট জানালেন মমতা

আগামী ৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে হচ্ছে। সেই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে কেউ এই বৈঠকের ব্যাপারে জানায়নি। সেই কারণে তিনি বৈঠকের ব্যাপারে আর কী ভাবে জানাবেন। রাজভবন থেকে বেরিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, আমাকে বৈঠকের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। আমি যখন বৈঠকের ব্যাপারে জানিই না, তখন আর এই ব্যাপারে কী বলব? এমনিতেও আমি ৬ ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গে থাকব। ওখানে আমার চার দিনের কর্মসূচি আছে। বৈঠকের ব্যাপারে আগে থেকে জানা থাকলে আমি ওই দিন কর্মসূচি রাখতাম না!মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে হিন্দি ভাষায় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, বারবার একই প্রশ্ন। এরপর তিনি যেতে গিয়েও ফিরে এসে বলেন, ভাই আমি জানি না। এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফর্মেশন আমার কাছে নেই। কেউ আমাকে ফোনেও বলেনি। কেউ আমাকে জানায়নি। আর, আমার তো প্রোগ্রাম ঠিক আছে না! নর্থ বেঙ্গলে আমি ৬ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত থাকব। ৬ তারিখ সন্ধ্যাবেলায় গিয়ে হয়তো পৌঁছব। স্বাভাবিকভাবেই প্রোগ্রাম আছে ৭ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত। সেই প্রোগ্রাম করে আমি ফিরে আসব। কিন্তু, আমি যদি জানতাম তাহলে আমি এই সময় প্রোগ্রাম করতাম না। কাজেই আমার কাছে কোনও ইনফর্মেশন এখনও এসে পৌঁছয়নি। আর, এখন বললে তো এই মুহূর্তে আমি কীভাবে যাব? এখন তো ইতিমধ্যে প্রোগ্রাম ঠিক হয়ে আছে।সূত্রের খবর, আগামী ৬ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বিয়ে করতে চলেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক ব্যানার্জির ছেলে, পেশায় চিকিৎসক। সোমবারই এই বিয়ের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পাহাড়ে যাচ্ছি আমি। আমার ভাইপো ডাক্তার। সে বিয়ে করছে কার্শিয়াঙে। পাহাড়ের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছি। তারপরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোট তথা কংগ্রেসের দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, সেই জল্পনা উসকে ওঠে। কারণ, সোমবার তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে এই পরাজয় কংগ্রেসের। এটা মানুষের পরাজয় না। আমি বারবার আসন ভাগ করতে বলেছিলাম। সেটা করলে এই অবস্থা হত না।সাংবাদিকদের কাছে রাজভবনের বৈঠকের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা ঐকমত্য হয়েছি। কোনও বিতর্ক হওয়ার কথা নয়। সন্দেহ তৈরি হওয়ারও কথা নয়। সাংবাদিকদের ওপর রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপালের মধ্যে দূরত্ব তৈরির দায় চাপিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি মনে করি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার চেয়ে ভালো আর কিছু নেই। একটা বিষয় হল, অস্থায়ী উপাচার্য! আর একটা বিষয় হল, পাঁচ সদস্যের কমিটি। যে বিলটা বিধানসভায় পাস হয়েছিল। অর্ডিন্যান্স হয়েছিল আগে। উনি সই করেছিলেন। তার মানে আমাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। আর, উনি যখন অর্ডিন্যান্সে সই করেছেন, তার মানে তো ওঁনার অবশ্যই সম্মতি ছিল। কাজেই বৈঠক খুব ভালো হয়েছে। আর, আমার মনে হয় যে বৈঠক সফল হয়েছে।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

তিন রাজ্যে জয়ে বিধানসভায় বিজেপির ‘বিজয়োৎসব’, বিধায়কদের গেরুয়া পাগড়ি, গেরুয়া টুপি, হুলস্থুল কান্ড

সপ্তাহের প্রথম দিনে হুলস্থূল কাণ্ড রাজ্য বিধানসভায়। গেরুয়া পাগড়ি, গেরুয়া টুপি পরে বিধানসভায় বিজয়োল্লাস করল বিজেপি। ৩ রাজ্যের নির্বাচনে বিরাট সাফল্যের বেনজির উল্লাস বিধানসভায়। লাড্ডু হাতে বিধানসভায় দেখা গেল গেরুয়া বিধায়কদের। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে বেজায় ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশি বাধায় চটে লাল বিরোধী দলনেতা। পরে মমতা চোর লেখা গেঞ্জি গায়ে বিধানসভা ছাড়েন বিজেপি বিধায়করা। রেড রোডে ধর্না মঞ্চে গিয়ে চলে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। সেখানেও একদফা চরম নাটক।গতকালই তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশতি হয়েছে। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বাজিমাত করেছে গেরুয়া শিবির। ছত্তিশগড়, রাজস্থান কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। ৩ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে এমন নজিরবিহীন সাফল্যের আঁচ বাংলাতেও। উচ্ছ্বসিত বঙ্গ বিজেপি। গতকালও কলকাতায় দলের সদর কার্যালয়ে বিরাট মাপের সেলিব্রেশন হয়েছে। আজ বিধানসভাতেও বিপুল উন্মাদনা নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা।মাথায় গেরুয়া পাগড়ি, কেউ কেউ টুপি পরে বিধানসভায় ঢুকেছিলেন বিজেপি বিধায়করা। গলায় ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি। তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোটে জয় উদজাপনে পুলিশ ও বিধানসভার কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখা গেল বিরোধী দলনেতাকে। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। বিজয়োৎসব পালনে বিধানসভার এক কর্মী বাধা দেওয়ায় চটে যান শুভেন্দু অধিকারী।বিরোধী দলনেতা ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলেন, কার দয়ায় এক্সটেনশনে কাজ করেছেন জানি। বচসা বাড়লে এক পুলিশকর্মী বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। চটে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওই পুলিশকর্মীর উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করেন, ডিএ পান না। লজ্জা হয় না আপনাদের! স্লোগান দিতে দিতে এরপর বিধাসভা ছাড়েন বিজেপি বিধায়করা।পরে রাস্তাতেও চলে লাড্ডু বিলি। তখন শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়কদের পরনে ছিল মমতা চোর লেখা টি-শার্ট। রেড রোডে ধর্না মঞ্চে গিয়ে বসেন শুভেন্দু-সহ বিজেপির অন্য বিধায়করা। রাজ্যকে তুমুল আক্রমণ করে সুর চড়াতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারীরা। সেই সময়ে রেড রোড দিয়ে তৃণমূল বিধায়কদের কয়েকটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ি দেখেই আঙুল উঁচিয়ে চোর চোর বলে চিৎকার করত দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পালদের।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

লক্ষ্য ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন, ২৬শে কি করতে হবে ধর্মতলার সভায় জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ

২১শে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় টার্গেট বেধে দিয়েছিলেন। এবার অমিত শাহর নজরে ২৬-শের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট। তবে, সেই টার্গেট সফল করেতে ২৪শের লোকসভা ভোটে কী করতে হবে বিজেপির ধর্মতলায়র সভা থেকে তা বাতলে দিলেন পদ্ম অমিত শাহ।এদিন মঞ্চে বক্তব্য দিতে উঠেই রবি ঠাকুর ও নেতাজিকে প্রণাম করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ধর্মতলার পবিত্র জমিকে, বাংলার এই পবিত্র জমিকে শুরুতেই প্রণাম জানাই। এই মাটি দেশকে সর্বদা দিশা দেখিয়েছে। আমি শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে প্রণাম জানাই।এরপরই লোকসভা ও বাংলার বিদানসভা ভোট নিয়ে মুখ খোলেন মোদীর ডেপুটি। বলেন, বাংলার ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়ে বিজেপিকে ৭৭টি আসনে জিতিয়েছিল। বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে এখানে পরের সরকার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার হবে। ২৬ সালে যদি বাংলায় পালাবদল ঘটাতে হয়, তাহলে ২৪ সালে এই রাজ্যে নরেন্দ্র মোদীকে জেতাতে হবে। কারণ, নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে লক্ষ কোটি টাকা পাঠাচ্ছে, তা বাংলার সরকার লুটে নিচ্ছে।মঙ্গলবার বিধানসভা থেকে এই অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সেই প্রসঙ্গ এ দিন উঠে এসেছে অমিত শাহর বক্তব্যে। চ্যালেঞ্জের সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দিদিকে বলছি, শুভেন্দুকে আপনি বিধানসভার বাইরে সাসপেন্ড করে বের করতে পারেন, কিন্তু বাংলার মানুষ বলছে, দিদি তোমার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে।শিক্ষা, কয়লা, গরু, রেশন সহ নানা দুর্নীতি নিয়ে বলতে গিয়ে আমিত শাহ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের নাম উচ্চারণ করেন। দাবি, দিদিকে বাংলাকে বরবাদ করে দিয়েছেন। যদি আপনার সাহস হয় জ্যোতিপ্রিয়, অনুব্রত, পার্থকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করুন। আপনি পারবেন না। যে নিজে দুর্নীতিগ্রস্ত তারা এই রাজ্যকে দুর্নীতি মুক্ত করতে পারবে না। তৃণমূল সাংসদ সংসদকেও অপবিত্র করেছে।অনুপ্রবেশ এ রাজ্যে সব থেকে বেশি বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুখতে পারেননি। অনুপ্রবেশের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ চলতে দিতেন না। সেই মমতা বন্দোপাধ্যায় এখন খোলাখুলি অনুপ্রবেশকারীদের আধার কার্ড দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে অসমের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, অসমে বিজেপি সরকার হয়েছে। সেখানে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে।এ রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে বলতে গিয়ে বদলার কথা বলেছেন অমিত শাহ। বলেন, আমাদের ২১২ জন কার্যকর্তা খুন হয়েছেন। আমাদের কার্যকর্তারা আমাদের ভাই। পুরো দেশ এবং বাংলার এক একটি কার্যকর্তা এটার বদলা নেওয়ার জন্য তৈরি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দিচ্ছেন। কিন্তু, অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলার তৃণমূল সরকার। আর, সেই কারণেই বাংলার উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে, এই অভিযোগ তুলে বাংলার পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে অনুপ্রবেশকেই দায়ী করলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, ২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এরাজ্যে সিএএ চালু হবে। কারণ, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ চালু করতে ইচ্ছুক হলেও রাজ্যের তৃণমূল সরকার তা করতে দিচ্ছে না।সভাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের শাহ প্রশ্ন করেন, অনুপ্রবেশ চলতে থাকলে কি বাংলার উন্নয়ন সম্ভব? কর্মীদের একাংশের সমস্বরে না উত্তর শোনার পর শাহ তোলেন অসমের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, অসমে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেখানে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরাজ্যেও বিজেপি আসলে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। বিজেপি সিএএ লাগু করবেই। সভায় ধর্মীয় মেরুকরণের বার্তা দিয়ে শাহ বলেন, প্রতিবেশী রাজ্য (বাংলাদেশ) থেকে যে হিন্দু ভাইয়েরা এসেছেন, এদেশের ওপর আমাদের যতটা অধিকার রয়েছে, তাঁদেরও ততটাই অধিকার আছে। এসব কথা বলেই অনুপ্রবেশ রুখে বাংলার উন্নয়ন করতে ২০২৪-এ ফের নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতায় ফেরানো আর ২০২৬-এ বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার ডাক দেন শাহ।

নভেম্বর ২৯, ২০২৩
রাজ্য

বিধানসভা চত্বর চোর চোর স্লোগানে হুলুস্থুল, মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ

একদিকে মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়করা, কিছুটা দূরে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা। দুপক্ষের চোর চোর স্লােগানে বিধানসভা চত্বরে কান পাতাই যেন দায়। বুধবার বিকেলে বিধানসভা চত্বরে নজিরবিহীন সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। মাত্র ৩০ ফুট দূর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে চোর চোর বলে স্লোগান দেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই শুভেন্দু ধর্মতলায় অমিত শাহর সভায় হাজির ছিলেন। শুভেন্দুর সঙ্গে গলা মেলান অন্য পদ্ম বিধায়করাও। সেই সময়, বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন প্রায় সব তৃণমূল বিধায়ক। ওই ধর্না থেকেও পাল্টা বিজেপিকে চোর বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয় বিধানসভার পরিবেশ। পরে বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপি বিধায়কদের তোলা ধ্বনি নিয়ে মুখ খোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।অমিত শাহর সভা শেষ হতেই বুধবার বিকেলে বিধানসভায় প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা। সেই সময় বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল বিধায়করা। বিজেপির সবাই চোর বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন জোড়াফুল বিধায়করা। যা শুনেই উল্টোদিকে বিধানসভা ভবনের সিঁড়ি ও লবিতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা। সরাসরি তৃণমূলের ধর্নার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, ডিএ চোর মমতা, চাকরি চোর মমতা। গলা মেলান শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ সহ অন্য বেশ কয়েকজন গেরুয়া বিধায়ক। পরে লবিতেই বসে পড়েন তাঁরা।এরপরই ধর্না অবস্থানে ইতি টানার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির আচরণ নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটা নোংরামি, গুণ্ডামি। বিধানসভায় অসভ্যতা করছে, স্পিকারকে বলবো সব ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিতে। আমাকে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ দেখিয়ে লাভ নেই। সারা জীবন লুঠ করেছে, গদ্দারদের আমাদের কেউ ভয় পায় না। আমাদের এই ধর্না স্পিকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে করা হচ্ছে। কেউ কোনও কর্মসূচি নিলে আমরা কেউ বাধা দিই না। ভোটে পাত্তা পায়নি, গোহারা হেরেছে, তাই এসব করছে।

নভেম্বর ২৯, ২০২৩
রাজনীতি

শীতকালীন অধিবেশনের জন্য বিধানসভায় সাসপেন্ড শুভেন্দু অধিকারী, কেন এই পদক্ষেপ?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় নজিরবিহীন শাস্তির মুখে পড়লেন। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিরোধী দলনেতাকে কড়া শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিধানসভায় গোটা শীতকালীন অধিবেশনজুড়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে।মঙ্গলবার আলোচনার সময় বিধানসভায় দলত্যাগ ইস্যুতে কথা বলছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যেপাধ্যায়ের আপত্তিতে শঙ্কর ঘোষের সেই বক্তব্য বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ পড়ে। এই বিষয়টি নিয়েই কার্যত রে রে করে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। সংবিধান দিবসে চলা আলোচনায় তাঁরা অংশ নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দেন বিরোধী দলনেতা। অধ্যক্ষের দিকে কার্যত তেড়ে যেতে যেতে তুমুল চিৎকার করতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপি বিধায়করা। বিরোধী দলনেতার এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান বিধানসভায় তৃণমূলের উপমুখ্যসচেতক তাপস রায়।শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা উচিত বলে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানান। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন। শুভেন্দু অধিকারীর এমন আচরণ নওশাদ সমর্থন করেন কিনা তা জানতে চান তিনি। নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর এমন আচরণ সমর্থন করেন না। এরপরেই বিরোধী দলনেতাকে গোটা শীতকালীন অধিবেশনের জন্য বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।সংবিধানের প্রোটেকশন পাচ্ছি না। সংবিধান দিবসে ভালো ভালো কথা বলছে, কিন্তু এদের সংবিধানের প্রয়োজন নেই। আমরা বিধানসভার ভিতরে বলেছি, এই হাউস সংবিধান মেনে কাজ করছে না। ওদের মন্ত্রীরা মাওবাদীদের সমর্থন করছে, রাষ্ট্রদ্রোহীদের সমর্থন করছে।এটা অত্যন্ত অবাঞ্ছিত একটি ঘটনা। রাস্তার গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে যেটা করা যায় সেটা বিধানসভায় করা যায় না। এই ধরণের আচরণ বিরোধীদের কখনই করা উচিত নয়।এদিন শুভেন্দু অধিকারীর আচরণের তুমুল সমালোচনায় সরব শাসকদলের মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে শুরু করে অন্য নেতারা। সংবাদমাধ্যমে এদিন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, বিধানসভার অনেক নিয়ম-নীতি আছে। সবার সেটা বজায় রাখা দরকার। শুভেন্দু অধিকারী যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে তুই-তোকারি করেন। বিধানসভার ভিতরে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষকে অপমান করেছেন। তাঁর শাস্তি ঠিকই হয়েছে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৩
কলকাতা

বিধাননগরে বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেল বিজেপির প্রতিনিধি দল

রবিবার বিধাননগরের শান্তিনগর অঞ্চলের বাসিন্দা সাহেব আলীকে খুন করে বিট্টু সরদার। অভিযুক্ত বিট্টু সর্দারকে স্থানীয় মানুষরা ধরে ফেলে ও তাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে সেখান থেকে তাকে আরজিকর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নিহত সাহেব আলীর বাড়িতে যেতে চায় তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে।সেই মতো তাঁরা সুকান্তনগরে জড় হয় এবং সেখান থেকে মিছিল করে নিহত বাড়ির দিকে রওনা দেয়। নিহত সাহেব আলীর বাড়ির কিছুটা আগেই স্থানীয় মানুষ বিজেপির প্রতিনিধিদের আটকে দেয় এবং তারা বলে সেখানে কোন রাজনৈতিক রং চলবে না। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, বিজেপির প্রতিনিধিদের রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে আবার নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করতে আসবে বলেই জানিয়েছে বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষ।

নভেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজনীতি

নতুন বছরে সিবিআইয়ের নেমত্তন্ন কে পাবেন? দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে ক্ষিপ্ত তৃণমূল

এবার দিলীপ ঘোষের নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কেও কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব করা উচিত বলে মনে করেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ইডির ডাক পেয়েছেন। আমাদের দিদি কেন ডাক পাবেন না? দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে বিরাট আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তৃণমূলের।নেতা-মন্ত্রী, বিধায়করা গিয়েছেন। দিল্লিতে দুজন মন্ত্রী গিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীও ডাক পেয়েছেন। আমাদের দিদি কেন ডাক পাবেন না। তাঁর এত গুণধর ভাই-বোন, বাড়ির লোক সবাই যদি ডাক পানআসল জায়গাটা তো ওটাই। উনি কেন ডাক পাবেন না? এখন ডেকে সিবিআই চা খাওয়াক। কেমন চা দেখে আসুক।তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় নতুন বছরে সেই সুযোগ আসবে। সিবিআইয়ের নেমত্তন্ন পাবেন দিদি। কেউ যেন বাইরে না থাকে। পার্থ-বালু বলছেন সব দিদি জানেন। ভাইরা দিদিকে ভালো করে জানেন। নতুন বছরের আগে আরও কিছু লোককে জেলের ভাত খেতে হবে।এদিকে, দিলীপ ঘোষের এহেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ তৃণমূল। দলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এবিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেন, বিজেপির বিভিন্ন নেতারা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কী করবে তার আগাম পূর্বাভাস দিচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলে দিচ্ছেন কার বাড়িতে কখন ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স যাবে। অনেক ক্ষেত্রে সেই পূর্বাভাস মিলেও যাচ্ছে। দিলীপবাবু বলছেন ইডির চিঠি পাবেন দিদি। এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি, সিবিআইকে দলীয় সংগঠনে পরিণত করেছে বিজেপি।

নভেম্বর ২৬, ২০২৩
রাজ্য

২১ জুলাইয়ের সমাবেশও তাহলে বন্ধ করতে হয়, ভিক্টোরিয়ার সামনে বিজেপির সভা নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

ধর্মতলায় বিজেপির সভা নিয়ে বিরাট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের। আগামী ২৯ নভেম্বর কলকাতায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। সেই সভায় অনুমতি দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। আজ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের আগের নির্দেশই বহাল রাখল। অর্থাৎ আগামী ২৯ নভেম্বর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করতে আর বাধা নেই বিজেপির কাছে। গেরুয়া দলের ওই সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকতে পারেন।হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পরই এক্স-বার্তায় মমতা সরকারকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, পিসিমনি এবং ভাইপোর নির্দেশে গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করার জন্য মমতার পুলিশের সম্মিলিত অপপ্রচেষ্টা কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মমতা পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছিল, সেই কারণে মাননীয় প্রধান বিচারপতি ২১শে জুলাই তৃণমূলের (আঞ্চলিক) সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ভাবনার কথা বলেছেন। কলকাতার হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি-র পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় জনতা পার্টির মেগা সমাবেশ ২৯শে নভেম্বর একই জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে, যেটিকে তৃণমূল তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করে। তৃণমূলের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মতলা চোলো।এর আগে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিজেপিকে সভা করার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। গত ২০ নভেম্বর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা শর্তসাপেক্ষে বিজেপিকে সভা করার অনুমতি দেন। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। এবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চও বিজেপিকে সভা করার অনুমতি দিয়েছে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে রাজ্য, এমন আশঙ্কা করে ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে বিজেপি।সিঙ্গল বেঞ্চের পর ডিভিশন বেঞ্চেও ধাক্কা রাজ্যের। যে যুক্তি দেখিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বরের সভার অমুমতি বাতিল করেছিল কলকাতা পুলিশ, তা আর ধোপে টিকল না। এই ধরনের সভা করতে গেলে ২-৩ সপ্তাহ আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিজেপি ২ বার সভার জন্য লালবাজারের অনুমতি চেয়েছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু গেরুয়া দলের আবেদনে কান পাতেনি পুলিশ। সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি।এবারও সভার অনুমতি বাতিল চেয়ে একাধিক যুক্তি দেখিয়েছিলেন রাজ্যের আইনজীবী। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের উদ্দেশ্যে তাঁর যুক্তি ছিল, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যে সভা হবে সেটা শহরের কেন্দ্রবিন্দু। শহর স্তব্ধ হয়ে যাবে। পাল্টা ২১ জুলাই ওই একই জায়গায় সভার কথা ওঠে। সেপ্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ওখানে ২১ জুলাই ছাড়া আর কোনও সভা হয় না।রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, বন্ধ করার হলে সব করতে হবে। সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে। তাহলে ২১ জুলাইয়ের সভা বন্ধ করে দিন। ২১ জুলাই তৃণমূল সভা করে। সেই সভা বাতিল হলে অন্যরাও আর সভা করতে চাইবে না। পশ্চিমবঙ্গে এটা নতুন কিছু নয়, কেউ সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবেন না। সরকারী কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, রাজনৈতিক দল সবাই রাস্তা আটকে সভা করে। পুলিশ অনুমতি দিয়ে দেয়। এমনকী এক্ষেত্রে তাঁর নিজেরও কয়েকটি অভিজ্ঞতার কথা এদিন জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

নভেম্বর ২৪, ২০২৩
রাজ্য

'ক্রিকেটে ইন্ডিয়া হেরে গিয়েছে, বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটের অবস্থা আরও খারাপ,' দাবি দিলীপ ঘোষের

ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে শিল্প সম্মেলন নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না প্রাক্তন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি। এদিন কি বলেছেন তিনি?রাজ্যপালকে বাদ দিয়ে বাণিজ্য সম্মেলন:ওনাকে বাদ দিয়ে যদি শিল্প আসে তাহলে ভালো। উনি সবাইকে নিয়ে চলার ডাক দিচ্ছেন। উনি বলেছেন প্রয়োজনে বিরোধীদের সঙ্গে নিতে। এর আগে যে ৭ বার সম্মেলন হয়েছে তার নেট ফল তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। উনি দুটি কুমির ছানা বারবার দেখান। তাজপুর বন্দর এবং দেউচা পাঁচামি। এখনও টেন্ডার পাল্টানো হচ্ছে। আদানি হাত তুলে নিয়েছে। আর কি কেউ করবে?লোকসভার লক্ষ্যে আজ বৈঠকে তৃণমূল:দলের ভিতরের ব্যাপার। দলে কজন আছে। পার্টি কিভাবে চলবে, এই নিয়েই কথা হবে।অমিত শাহর সভা রুখতে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য:রাজ্য ভাবছে সভা আটকে বিজেপি কে আটকাবে। এভাবে বিজেপিকে আটকানো যায়না।রাজ্যে নিয়মিত শ্যুট আউট:এ রাজ্যে জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেখানে শিল্প সম্মলেন করে কি হবে? কে আসবে রাজ্যে? আগে ইমেজ ঠিক করুন।বামেদের ব্রিগেডে রাজ্যের আপত্তি:কে কার জোট? ক্রিকেট ইন্ডিয়া হেরে গেছে। এই ইন্ডিয়া জোটের অবস্থা আরও খারাপ। কেউ সভা করতে চাইলে আটকাতে চেষ্টা করেন ও কোর্টে গিয়ে হেরে যান। এভাবে গণতান্ত্রিক দেশে কাউকে আটকানো যায় না।

নভেম্বর ২৩, ২০২৩
রাজনীতি

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভাস্থলে বিজেপির সমাবেশ, থাকতে পারেন অমিত শাহ

অবশেষে আদালত থেকে কলকাতায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশে জুলাইয়ের সভাস্থলেই জনসভা করার অনুমতি আদায় করল রাজ্য বিজেপি। বারবার আবেদনের পরও, সভা করার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। অবশেষে সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপিকে ২৯ নভেম্বর কলকাতায় সভা করার অনুমতি দিল। সোমবার মামলাটি উঠেছিল বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চে। সেখানেই বিচারপতি মান্থার সভা করার অনুমতি দিয়েছেন।এই ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বলেন, আপনারা বলছেন যে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে সভার আবেদন করতে হয়। এখানে তো দুই সপ্তাহ আগেই আবেদন করা হয়েছে বলে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু, তারপরও তো সিস্টেম জেনারেটেড মেসেজ পাঠিয়ে আবেদন নাকচ করা হয়েছে বলে দেখতে পাচ্ছি। আপনারা এভাবে যতই আটকাবেন, ততই সন্দেহ বাড়বে। এটি একটি স্বাধীন দেশ। এখানে এভাবে বাধা দেওয়া যায় না।আগামী বছরই লোকসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে সেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজ্য বিজেপিও কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে এরাজ্যে সভা করাতে চাইছে। কিন্তু, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না-বলে অভিযোগ। তারই মধ্যে ২৯ নভেম্বর, অমিত শাহকে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশে জুলাইয়ের সভার স্থানেই সভা করাতে চাইছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করার পরও অনুমতি দেয়নি। বাধ্য হয়েই আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। অবশেষে আদালত ২৯ নভেম্বর সভা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের তরফে সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যে এয়ারপোর্ট থেকেই ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু, এখানে অনুমতি দেওয়ার জন্যই বিভিন্ন সময় বিজেপির নেতা-নেত্রীরা এরাজ্যে এসে সভা করে গিয়েছেন। তবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রশাসন না-চাইলে, কাউকে অনুমতি না-দিতেই পারে।

নভেম্বর ২০, ২০২৩
রাজনীতি

বিজেপি নেতা, মন্ত্রীদের সম্পত্তি নিয়ে তোপ তৃণমূলের, পাল্টা বিজেপি সাংসদ

একাধিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা। এর মধ্যেই এবার বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলল জোড়া ফুল শিবির। শুধু বিজেপির নেতা-মন্ত্রীই নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি নিয়েও সোমবার প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল।এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রামেশ্বর তেলি, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, সৌমিত্র খাঁ, জগদম্বিকা পাল, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও অধিকারী পরিবারের নাম উল্লেখ করে তাঁদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শশী পাঁজা ও পার্থ ভৌমিক। এইসব নেতা, মন্ত্রী, সাসংসদের নামের ক্ষেত্রে কেন ইডি বা সিবিআই-এর নোস নেই, এদিন সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছে।শশী পাঁজার প্রস্নের জবাবে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছেন, মন্ত্রীকে বলব এই নিয়ে আমার সুখোমুখি বসুন। ২০০২ সাল থেকে আমি ব্যবসা করি। ২০১১ সালে ১৮ লাখের সম্পত্তি ছিল। আর এতদিন আমি যে স্যালারি পেয়েছি তার দুই তৃতিয়াংশ আমার কাছে নেই। ফলে ওনাকে বলব নথি দিয়ে কথা বলুন। আমি প্রকাশ্যে আলোচনায় যোগ দেব। ওনার নেত্রী, নেতা চুরি করছেন বলেই আমাদের নামে যা তা বলবেন এটা হতে পারেন না।রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি মামলার তদন্তের জন্য ইডি-সিবিআই-এর মতো সংস্থার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শশী পাঁজা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যাতে অপব্যবহার না হয়, সেই দিকটি খেয়াল রাখার দাবি তুলেছেন শশী পাঁজা।দিন কয়েক আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা কাঁথির সাংসদ শিশির সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কিছু তথ্য তুলে ধরে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, এক বছরে শিশির অধিকারীর সম্পত্তি ১০ কোটি টাকা হয়েছে। ১৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১০ কোটি টাকা হয়েছে বলে দাবি করেন কুণাল। কিন্তু কী ভাবে এক বছরের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বৃদ্ধি পেল? পাল্টা কুণাল ঘোষের প্রশ্নের জবাবে শিশির অধিকারীবলেছিলেন যে, সারদায় জেল খাটা আসামির প্রশ্নের জবাব দেব না, ১৯৬৮ সাল থেকে আয়কর দিচ্ছি, সমস্ত কিছু রেকর্ড আছে, যে কেউ চাইলে দেখে নিতে পারেন।প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আর শাসকদলের প্রত্যেক নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতারের পরেই তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা।

নভেম্বর ০৬, ২০২৩
রাজ্য

শুভেন্দু ও কৌস্তভ পাশাপাশি পা মেলালেন, বিকল্প রাজনীতির বড় ইঙ্গিত?

দিন কয়েক আগেই বাংলায় বিকল্প রাজনীতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। প্রশংসা করেছিলেন বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর। বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন কৌস্তভ। আর বুধবার কংগ্রেসের তরুণ নেতা কৌস্তভ বাগচী ও বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী হাঁটলেন একই মিছিলে। একেবারে পাশাপাশি! আবার এই মিছিল হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে দিয়েই। তবে, এদিনের মিছিলে কংগ্রেস বা বিজেপির পতাকা দেখা যায়নি। দুজনের হাতে ফ্ল্যাগও ছিল এক। মমতাকে কটাক্ষ করে লেখা ছিল তাতে- আই লাফ ইউ ডাই।দিন কয়েক আগেই বাংলায় বিকল্প রাজনীতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের আইনজীবী নেতা কৌস্তভ বাগচি। প্রশংসা করেছিলেন বিরোধী দলনেতার। বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন। আর বুধবার কংগ্রেসের তরুণ নেতা কৌস্তভ বাগচী ও বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী হাঁটলেন একই মিছিলে। একেবারে পাশাপাশি! আবার এই মিছিল হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে দিয়েই। তবে, এদিনের মিছিলে কংগ্রেস বা বিজেপির পতাকা দেখা যায়নি।কী বলছেন কৌস্তভ?বিজেপি নেতার সঙ্গে একসঙ্গে মিছিলে হাঁটায় কংগ্রেসের আপত্তি নেই? মিছিলে হাঁটার আগে কৌস্তভ বাগচি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই মিছিলে হাঁটলেও আমার আপত্তি ছিল না। কারণ এটা বঞ্চিতদের চাকরির দাবিতে আন্দোলন। দলীয় অনুশাসন নিয়ে কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, এখানে কোনও দলের পতাকা নেই। এছাড়া, কংগ্রেস করার বাইরেও আমার একটা ব্যক্তি সত্ত্বা আছে, আইনজীবী সত্ত্বা আছে। তবে মনে হয় না এতে দলের কোনও আপত্তি থাকবে।শুভেন্দুর বক্তব্য-এটা অরাজনৈতিক আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা কাকে মিছিলে ডাকবেন সেটা ও দের ব্যাপার। আমার মতাদর্শের বিরুদ্ধে যাঁরা মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তাঁদের মধ্যে কৌস্তভ বাগচি একজন। আজ মিছিলের জন্য আদালত থেকে যে অনুমতি মিলেছে তার নেপথ্যেও কৌস্তভ বাগচির অবদান রয়েছে। তাই একসঙ্গে হাঁটতে আপত্তি নেই। তাহলে কী এবার বিজেপির পথে কৌস্তভ? শুভেন্দু অবশ্য এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। বিরোধী দলনেতার কথায়, বগটুই, ঝালদা সহ যেখানেই রাজ্য সরকারের অত্যাচার, বঞ্চনার বিষয়গুলো চোখে পড়েছে সেখানেই বিজেপি গিয়েছে। এখানেই একই বিষয়।শুভেন্দু ও কৌস্তভের বক্তব্যের সাদৃশ্যতা রাজ্য রাজনীতিতে ফের চর্চার রসদ জুগিয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আগামী ৩রা অক্টোবর গ্রুপ ডি বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার মিটিং রয়েছে। আমরা ওদের সবচেয়ে ভাল আইনজীবী দিয়ে আইনি সহায়তা দেব। আর আর্জি জানাব বঞ্চিত সব চাকরি প্রার্থীরা নবান্ন অভিযান করুন। হিসাব হবে ওখানেই।অবশ্য, গত জুন মাসে ডিএ আন্দোলনকারীদের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ও কৌস্তভ বাগচিকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। চাকরির দাবিতে এ দিন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গ্রুপ ডি-র বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা মিছিল করেন। সেই মিছিলেই প্রথমবার দেখা যায় বিরোধী দলনেতাকে হাঁটতে। কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচিও অংশ নেন ওই মিছিলেই।হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযাই, থিয়েটার রোড-ক্যামাক স্ট্রিটের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয় গ্রুপ ডি-র বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল। নিজাম প্যালেসের সামনে দিয়ে রবীন্দ্র সদন মোড় , এস পি মুখার্জি রোড হয়ে মিছিল এগোয়। অর্থাৎ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে দিয়ে এই মিছিল যায়। হাজরা মোড়ে এসে এই মিছিলের সমাপ্তি।উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবারই কৌস্থভ বাগচি বলেছিলেন যে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমার কাছে শুভেন্দু অধিকারী অচ্ছুৎ নন। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসাবে ওনার পারফরমেন্স ছোট করা যাবে না। অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। এমনকী আমি তো বলি যে, বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেই শেখা উচিত। তৃণমূল বিরোধী লড়াইয়ের কোনও মঞ্চে একসঙ্গে থাকতেও আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কংগ্রেসের এই আইনজীবী নেতা।বঙ্গে বিকল্প রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বার বার বলছি, তৃণমূলকে বাংলা থেকে উৎখাত করতে হলে বিকল্প রাজনীতি প্রয়োজন। শুভেন্দু অধিকারী মাঝে মধ্যে যেসব মন্তব্য করেন তাতে ইঙ্গিত পাচ্ছি যে উনি বিজেপিতে থেকে শাসক দলের বিরুদ্ধে সবটা করতে পারছেন না। তাই বিকল্প রাজনীতিটা খুবই দরকার।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজ্য

কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বকেয়া আদায়ে তৃণমূলের লক্ষ লক্ষ চিঠি মোদি সরকাকে

এবার দিল্লির বুকে বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে চলেছে তৃণমূল। একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা এবং আবাস যোজনার কাজের টাকা মিলিয়ে বাংলার মোট ১৫ হাজার কোটি বকেয়া টাকা মোদী সরকার আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। জোড়া-ফুলের দাবি, এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের বহু গরিব মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সেই ভুক্তভোগী মানুষদের চিঠি দিল্লিতে নিয়ে যেতে চলছে তৃণমূল।মঙ্গলবার তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলার থেকে বান্ডিল বান্ডিল চিঠির ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ছবির সঙ্গেই লেখা রয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে বাংলার মানুষ! বিজেপি মনরেগা এবং আবাস যোজনার অধীনে বাংলার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা নির্মমভাবে আটকে রেখেছে। এর ফলে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন তাদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে। ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বাংলা লড়াই করবে।দলের সেই এক্সবার্তা শেয়ার করে পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, যা আমাদের অধিকার তা দাবি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গণতন্ত্রে জনগণের ক্ষমতাই সর্বোচ্চ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বঞ্চিত মানুষদের সব চিঠি এসে জমা হয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে। এই চিঠিগুলিই পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে।গান্ধী জয়ন্তীতে রাজধানীর বুকে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল। আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এখনও পর্যন্ত যা খবর, ১ অক্টোবরই রাজধানীতে পৌঁছে যাবেন তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদরা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে অবস্থান বিক্ষোভ চালাবে ঘাসফুল শিবির। সেই আন্দোলনের মাত্রা কেমন হবে? এ দিন চিঠির ছবি প্রকাশ করে যেন সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজনীতি

কেন কংগ্রেসের কৌস্তভের মুখে বিজেপির শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা? ডাক দিলেন বিকল্প রাজনীতির

ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের পাশাপাশি থাকার অবস্থান নিয়ে প্রথম থেকেই সোচ্চার কংগ্রেসের তরুণ তুর্কি নেতা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচি। সেজন্য তাঁকে মাসুল গুণতেও হয়েছে। হারিয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্রের পদ। এবার তাঁর গলায় শোনা গেল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা। এমনকি বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে হঠাতে বিকল্প রাজনীতির কথাও বলেছেন কৌস্তভ। বিকল্প ভাবনার কথা বললেও পুরোপুরি খোলসা করেননি কৌস্তভ। নতুন দলের কথা মুখে আনেননি।বৃহস্পতিবার কৌস্তভ বাগচি বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমার কাছে শুভেন্দু অধিকারী অচ্ছুৎ নন। আমার সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসাবে ওনার পারফরমেন্স ছোট করা যাবে না। অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। কৌস্তভ নাম না করে নিশানা করেছেন একসময়ের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নানকে। কংগ্রেস নেতার কথায়, ২০১৬ সাল থেকে পাঁচ বছর কংগ্রেস বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল ছিল। আমার দলের একজন কংগ্রেস নেতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে কোনও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সেইভাবে দেখা যায়নি। শুধু বড় বড় কথা শোনা যেত। অন্যদিকে বর্তমান বিরোধী দলনেতা অত্যন্ত ভোকাল। বিরোধী নেতা হিসাবে মানুষ শুভেন্দুবাবুকে দেখতে পান। ঠিক-ভুল নিয়ে আমার মতান্তর থাকতে পারে। কিন্তু মানুষ জানে কে বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের প্রতি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে বারে বারে প্রশ্ন তুলেছেন কৌস্তভ। আব্দুল মান্নান কৌস্তভ সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন কে কৌস্তভ? তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের। অভিজ্ঞ মহলের মতে মান্নানকে পাল্টা দিলেন কৌস্তভ। পাশাপাশি তৃণমূলকে উৎখাত করতে বিকল্প রাজনীতির ডাক দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে থেকে খোলাখুলি রাজনীতি করতে পিছুটান হচ্ছে বলেও মনে করছেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা।কৌস্তভের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি গত একবছর ধরে বলে আসছি, যে কয়েকজন এ রাজ্যে পতাকা নিরপেক্ষভাবে পিসি-ভাইপোর হাত থেকে বাংলার মানুষকে নিষ্কৃতি দিতে চাইছেন তাঁদের মধ্যে কৌস্তভ একজন। উনি নিজের শ্রী বৃদ্ধির কথা ভাবেননি। এটা তো ওনার সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে থেকে ভাল কাজ। বিকল্প রাজনীতি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলায় বিজেপিই তৃণমূলের স্বাভাবিক বিকল্প। দলে শুভেন্দু কমফোর্ট জোনেই আছেন বলে জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
কলকাতা

জোড়াসাঁকোর মাটি যাচ্ছে দিল্লি, স্থান পাবে আমার মাটি আমার দেশে

দিল্লির অমৃত উদ্দ্যানের জন্য মাটি সংগ্রহ কর্মসূচি বিজেপি। আজ, রবিবার রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করল রাজ্য বিজেপি। জোড়াসাঁকোর সেই সংগৃহীত মাটি পাঠানো হবে দিল্লিতে। বিজেপির এই মাটি সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেন, ওনারা মাটি পাঠান, আমরা মা-মাটি মানুষের দল। আমরা মাটি পাঠানোর বিরোধী নই।জোড়াসাঁকোর পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কালীঘাট মন্দির থেকেও মাটি সংগ্রহ করা হবে। মোদীর স্বপ্নের আমার মাটি আমার দেশ উপলক্ষ্যে ভারতের প্রতিটি মহান ব্যক্তিত্বের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা হবে মাটি। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানার সুভাষগ্রামে নেতাজির বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়।বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে আমার মাটি আমার দেশ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। দিল্লিতে তৈরি হচ্ছে অমৃত বাটিকা নামে একটি বাগান। গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি সংগ্রহ করে সেই বাগানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী, দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া পুলিশ বা সেনাদের বাড়ি থেকে এই মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যেই আজকের এই মাটি সংগ্রহ অভিযান।এপ্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের অভিযান আমার মাটি আমার দেশ। রাজধানী দিল্লিতে অমৃত বাটিকা তৈরি হচ্ছে। সারা দেশ জুড়ে সেই মাটি সংগ্রহের কাজ চলছে। আমরা আজ রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে পেরে গর্বিত। সংগ্রহ করা মাটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের হেলিপ্যাড বেদখল, আবর্জনার স্তুপে দুর্গন্ধে এলাকায় টেকাই দায়

আবর্জনার স্তুপে মুখ ঢেকেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের হেলিপ্যাড। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলেই ওই হেলিপ্যাড ব্যবহার করেন। এখন সেই জায়গার উপর নজর পড়েছে ঠিকাদারদের। ফলে লোকচক্ষুর আড়ালে হেলিপ্যাডটিকে রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। ফাঁকা অংশ ঠিকাদারদের ফেলে রাখা ইমারতি দ্রব্য দখল করে নিয়েছে। তবে বিষয়টি নাকি জানা নেই পুরসভার। শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।রাজ্যে পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্র এবং পর্যটন কেন্দ্র থেকে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হেলিকপ্টার চলাচলের সিদ্ধান্ত নেন। সেই তালিকায় বোলপুরের পাশাপাশি ছিল তারাপীঠ, দিঘা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় হেলিপ্যাড। বোলপুরে গীতাঞ্জলী প্রেক্ষাগৃহ সংলগ্ন এলাকায় সেই হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলে তাঁর হেলিকপ্টার সেখানেই অবতরণ করত। এখন সেই জায়গা কার্যত ঠিকাদারদের দখলে চলে গিয়েছে। হেলিপ্যাডের চারিদিক আগাছায় ঢেকেছে। পুরসভা শহরের আবর্জনা সেখানে ফেলে ভাগাড়ের রুপ দেওয়া হয়েছে। আর এক শ্রেণির ঠিকাদার বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য ইমারতি দ্রব্য মজুতের জায়গা করে নিয়েছে সেই হেলিপ্যাড। এনিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। তবে বিষয়টি জানা নেই বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষের। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে খোঁজ নেবেন।এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শনে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। তিনি বলেন, তৃণমূল এক বিচিত্র দল। বোলপুরে স্বয়ং দলনেত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জায়গাটার অর্ধেক দখল করে নিয়েছে দিদিমনির স্থানীয় কিছু প্রমোটার এবং তোলাবাজ ভাইয়েরা। এলাকায় গিয়ে দেখলাম কেষ্টবাবুর পাচার করতে না পারা দু-চারটে গরু ঘুরে বেড়াচ্ছে। আশপাশটা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। পুরসভার সহযোগিতায় দুর্গন্ধে পারিপার্শ্বিক এলাকা সুরভিত। যারা মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাড দখল করতে পারে তারা সমস্ত জায়গা দখল করতে পারে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বোলপুরে এসে তাঁর হেলিপ্যাড একবার দেখে যান।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
দেশ

এক দেশ এক ভোট

১৮-২২ শে সেপ্টেম্বর সংসদে বিশেষ অধিবেশন বসবে। এই ঘোষণার পরের দিন ই এক দেশ এক ভোটের লক্ষ্যে অর্থাৎ লোকসভা, সব রাজ্যের বিধানসভার, পুরসভা ও পঞ্চায়েতের ভোট একসঙ্গে করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি করে কেন্দ্র। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এই কমিটি সবদিক পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও এক দেশ এক ভোটের লক্ষ্যে কমিটি গঠনের মধ্যে কোন যোগসূত্র রয়েছে কিনা তার এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এক দেশ এক ভোটের বিষয়টি দেশে নতুন কিছু নয়। ১৯৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত লোকসভার সঙ্গেই সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে প্রথমবার রাজ্যে ও কেন্দ্রে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু, ও কেরলে ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস। কংগ্রেসের এই শক্তি ক্ষয়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক শক্তির বিন্যাসেও বড়সড় বদল হতে থাকে। রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তনের কারণে দেশের ভোট ক্যালেন্ডারেও পরিবর্তন আসে। যেমন ১৯৬৭-১৯৭২ এই পাঁচ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে চার বার বিধানসভা ভোট হয়। ১৯৬৮-১৯৭২ এই চার বছরে পশ্চিমবঙ্গে চারবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। এই সমস্ত কারণে ১৯৬৭ সালে ই দেশে শেষ বার লোকসভা সঙ্গে সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়।আরও পড়ুনঃ কেন সমাজতন্ত্র: অ্যালবার্ট আইনস্টাইনপরবর্তী সময় এক সঙ্গেই সব নির্বাচন করার বিষয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে বহুবার আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে কোনো না কোনো নির্বাচন হতে থাকায় অর্থ খরচের বহর বেড়েছে। পাশাপাশি ভোটের জন্য আদর্শ নির্বাচন বিধি বিভিন্ন সময় জারি হওয়ায় উন্নয়ন মূলক কাজের পরিকল্পনাও বাধা পায়। এর ওপর ভোটের বৈতরণী পার হতে বিভিন্ন শাসক দল জনতার মন পেতে একেরপর এক চট জলদি লাভের প্রকল্প ঘোষণা করে থাকেন। এর ফলে দেশে দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়।কিন্তু প্রশ্ন হল সংসদীয় আইন মেনে এখন লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট গ্ৰহন কিভাবে সম্ভব? এখন তো বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হয় না। তাহলে সব রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ এক ই সময় শেষ করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ হবে?আরও পড়ুনঃ কর্মক্ষেত্রে বার্ধক্যের আধিক্য উদ্বেগজনকএক দেশ এক ভোট নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দেশের আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করতে কমিশন প্রস্তুত। মুখের নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেছেন দেশের সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে কোনো নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছমাস আগে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা যেতে পারে। এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন প্রস্তুত।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সব ভোট একসঙ্গে করতে হলে অন্তত তিরিশ লক্ষ ইভিএম এবং voter verified paper audit trail বা VVPAT য়ের প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্যে ২০২৪ সালে একসঙ্গে সব ভোট গ্রহণ অত্যন্ত কঠিন কাজ। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে ভোট গ্ৰহনের বিষয় নির্বাচন কমিশনকে সুবিধা অসুবিধাগুলি খতিয়ে দেখতে বলে। তখন কমিশন জানিয়েছিল লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট একসঙ্গে করতে হলে সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কিছু সংশোধনী আনতে হবে। এর পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছিল একসঙ্গে ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ও অন্যান্য যন্ত্রাদি কিনতে যথেষ্ট সময় ও অর্থের প্রয়োজন।আরও পড়ুনঃ ইতিহাসের বারান্দায় অনাস্থা প্রস্তাববিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশ গত মার্চ মাসে সংসদে আইন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের হাতে ইভিএমের ১৩.০৬ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট ও ১৭.৭৭ লক্ষ ব্যালট ইউনিট রয়েছে। আরো ৯.০৯ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট ও ১৩.২৬ লক্ষ ব্যালট ইউনিট তৈরির কাজ চলছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে ২২.১৫ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৩১.০৩ লক্ষ ব্যালট ইউনিট কমিশনের হাতে থাকবে। প্রযুক্তিবিদদের মতে ছয় থেকে সাত লক্ষ ইভিএম তৈরি করতে এক বছর সময় লাগে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হল ২০২৪ সালে এক সঙ্গে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম কি কমিশনের হাতে থাকবে?কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন হতে থাকার কারণে নির্বাচনী খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি মুল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে কেন্দ্রের এই যুক্তি সঠিক। তবে তাঁদের মতে একসঙ্গে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ও VVPAT কিনতে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। এছাড়াও অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করাও একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ভোট এলে সব রাজ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি ওঠে। এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোট কর্মীদের দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও অত্যন্ত কঠিন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদ পত্রে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এস কৃষ্ণমূর্তি জানিয়েছেন, একসঙ্গে ভোট হলে আর্থিক ব্যায় প্রশাসনিক কাজের বোঝা যে কমবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে এই কঠিন কাজ সম্পূর্ণ করতে হলে তিন থেকে চার মাস ধরে ভোট গ্ৰহন পর্ব চলতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
রাজনীতি

‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’, বিজেপির কাকে কটাক্ষ অনুপমের?

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু মন্তব্য পোস্ট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু মন্তব্য পোস্ট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। এর মাধ্যমে দলেরই একাংশকে দুষেছেন অনুপম, তারঁ পোস্টে এই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়েছে। বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতার নাম নিয়েছেন অনুপম? সংবাদমাধ্যমে নিজের এই ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে মুখ খুলেছেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।অনুপম হাজরার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন..আপনার সাংগঠনিক দায়িত্বকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব আমার। আর যদি এখনও মনে হয় পার্টির সংগঠনের থেকে নিজের ইগো বা অভিমানটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা পদ আগলে বসে থেকে ভেতরে-ভেতরে দলের ক্ষতি করবেন, তাহলে আমি অন্তত আমার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে এটুকু চেষ্টা করব যে আপনি যেন কোনওভাবেই আপনার পদের বা ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারেন!!! কারণ অতি প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে- দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো!!!নিজের এই ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমেও এদিন মুখ খুলেছেন অনুপম। অনুপম বলেছেন, এটা বলতে কোনও বাধা নেই প্রতিটি সাংগঠনিক জেলাতেই এমন লোকজন আছেন যারা দলের পুরনো কর্মী, যাদের সংগঠন আছে। কিন্তু মান-অভিমান করে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন বা বসে আছেন বা সক্রিয় নন। তাঁদেরই এই পোস্টের মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছি। দলের অনেকে অনেক পদে আছেন, কিন্তু মাঠে নামছেন না। তাঁরাই দুষ্টু গরু।বিজেপি নেতা আরও বলেন, অনেকে দলের পদে থেকেও মাঠে নামছেন না। অনেকে নিজেও কাজ করেন না, অন্যদেরও করতে দেন না। এই দাদা ওই দাদার লবি না ধরে মোদীর লবি ধরে দলকে শক্তিশালী করুন। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৩
রাজ্য

কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যলয়ের কার্যকলাপ নিয়ে তোপ বিজেপি'র কেন্দ্রীয় সম্পাদকের, আশ্রমিকদের সাথে দেখা করে চাপে রাখলেন উপাচার্যকে

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গত দুদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই আরও এক বিদ্যুৎ বিভ্রাট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্টিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গত দশ জুড়ে বারবারই আলোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে, কখনো কেষ্ট মণ্ডলের (অনুব্রত মণ্ডল) দাপটে তো কখনো অমর্ত্য সেনের বাড়ি বিতর্ক তো আবার কখনো বর্তমান বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মাঝেমাঝেই বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর করা মন্তব্য উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে।এবার বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র, অধ্যাপক ও শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা তদুপরি বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ (তৃণমুল কংগ্রেস) ডঃ অনুপম হাজরা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বরাবরই খুব অ্যাক্টিভ। সামাজিক মাধ্যমের তাঁর চাঁচাছোলা বক্তব্যের জন্য ভীষন জনপ্রিয় অনুপম। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার জন্যই বিশ্বভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচিত হতে হয়। ইতিমধ্যে বিশ্বভারতীকে সার্চ কমিটি গঠন করার নির্দেশ এসেছে দিল্লী থেকে। বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।এরই মধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ বিশ্বভারতীর হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠে নেমে পরেছেন। তিনি প্রবীন আশ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশ্বভারতীর সমস্যা, কোন কোন যায়গায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন তা জানার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে অনুপম শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর প্রবীন আশ্রমিক তথা কবিগুরুর আত্মীয় সুপ্রিয় ঠাকুর ও তাঁর স্ত্রী শুভ্রা ঠাকুরের বাসভবনে যান বিশ্বভারতীর হালহকিকত সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হতে। একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা।বেশ কিছু দিন দলীয় দায়িত্ব নিয়ে দিল্লিতে বসবাস করতেন অনুপম। কিছুদিন আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ঘোষণার করার পর থেকেই অনুপমের বাংলা যাত্রা আধিক্য লক্ষণীয়। বৃহস্পতিবার কবিগুরুর আত্মীয় তথা আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুরের বাড়ি থেকে ফিরে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। বিশষজ্ঞদের ধারণা পোস্টটি যথেষ্ট ইঙ্গিতপুর্ণ।পোস্টে তিনি লেখেনঃ এবার আজ সকাল বেলা সুপ্রিয় দা (শ্রী সুপ্রিয় ঠাকুর) এবং তাঁর স্ত্রী শুভ্রা দির (শ্রীমতি শুভ্রা ঠাকুর) সঙ্গে বিশ্বভারতী নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং আড্ডা...বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্ত যাঁর শরীরে বইছে, সেই শ্রদ্ধেয় সুপ্রিয় ঠাকুরের মতো আরো অনেক প্রবীণ আশ্রমিকদের ব্রাত্য করে রেখেছেন বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য! সৌজন্যের খাতিরেও বিশ্বভারতী পরিচালনার কাজে কখনো তাঁদের মতো প্রবীণ আশ্রমিকদের কোন পরামর্শ নেন না। আর অন্যদিকে বিশ্বভারতীর পঠন-পাঠনএর গুণগত মান সর্বভারতীয় স্তরে দিন দিন তলানিতে ঠেকেছে । উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য সমালোচিত হতে হচ্ছে বিশ্বভারতীর আচার্য তথা আমাদের দেশের সকলের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি Narendra Modi মহাশয়কেও, আর অন্য দিকে বিভিন্ন উপায়ে উপাচার্য নিজেকে অতি-বিজেপি প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হয়তো কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে বা রয়েছে নিজের মেয়াদ কালকে বৃদ্ধি করার প্রবল তাগিদ; অথচ এই মহামানবেরই কার্যকালে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা থেকে শুরু করে বসন্ত উৎসব, যা ছিল শান্তিনিকেতনের প্রধান আকর্ষণ !!!বিশ্বভারতীর মতো ঐতিহ্যময় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দরুন অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকে আর বেশিদিন প্রশ্রয় দেওয়া সমীচীন হবে না !!!আমার অফিসে জমা পড়া বহু লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এটুকু বলতে অন্তত কোনো দ্বিধা নেই যে - বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র, প্রাক্তন অধ্যাপক, শান্তিনিকেতনের একজন বাসিন্দা এবং বোলপুরে প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে বিশ্বভারতী পরিচালনা করার বর্তমান আদব-কায়দা আমার আমার মতো বহু প্রাক্তনী, শান্তিনিকেতনের বহু আশ্রমিক তথা বোলপুর শান্তিনিকেতনের স্থানীয় মানুষদের আবেগে আঘাত করে !!!প্রবীণ আশ্রমিক ও ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন,বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র ও প্রাক্তন অধ্যাপক অনুপম হাজরা বিশ্বভারতী প্রসঙ্গে সদিচ্ছা দেখাচ্ছেন এটা দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে। ওনার বিশ্বভারতীর উন্নতির জন্য উৎসাহ দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি। আশা করব, ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি জন্য আরও সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন।।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৩
দেশ

ইতিহাসের বারান্দায় অনাস্থা প্রস্তাব

মঙ্গলবার থেকে লোকসভায় শুরু হল বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের উপর বিতর্ক। দুদিন ধরে চলবে বিতর্ক। তার পরে সরকার পক্ষের শীর্ষ ব্যাক্তি তাঁর জবাবই বক্তব্য বলবেন। লোকসভায় বিরোধীদের মিলিত শক্তির চেয়ে সাংসদ সংখ্যার বিচারে সরকার পক্ষের শক্তি অনেক বেশি। তাই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের নরেন্দ্র মোদী সরকারের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব আনলো বিরোধীরা। আর এই প্রথম লোকসভায় বিরোধীদের পারস্পরিক ঐক্য অনেক জমাট দেখাচ্ছে। বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পিছনে সংসদীয় রাজনীতির যে কৌশল রয়েছে তা হল মনিপুর প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হবেন। কারণ, সময়, পরিস্থিতি ও বিষয় বিচার করে প্রধানমন্ত্রী কখনো মুখ খোলেন কখনো নীরব থাকেন। যেমন মনিপুরে হিংসা ছড়ানোর ৭৯ দিন পরে প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দেন। মনিপুরে এখনো হিংসা থামেনি, লাগাতার হিংসা চললেও প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে আর মুখ খোলেননি।লোকসভার নিয়ম অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে গেলে নুন্যতম পঞ্চাশ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি ও সাংসদ মল্লিকার্জুন খারগের পেশ করা অনাস্থা প্রস্তাবের ৭৯জন সাংসদ সাক্ষর করেছেন। বিজেডি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস ছাড়া সংসদে অস্তিত্ব রয়েছে এমন সব বিরোধী দলই প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক শুরুর আগের দিন রাহুল গান্ধী সাংসদ পদ ফিরে পাওয়ায় বিরোধী শিবির, বিশেষত কংগ্রেস অনেকটাই উজ্জীবিত। ১৩৪ দিন সংসদের বাইরে থাকার পরে সাংসদ পদ ফিরে পেলেন রাহুল।আরও পড়ুনঃ কেন সমাজতন্ত্র: অ্যালবার্ট আইনস্টাইনইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও ইতিহাসের অনেক ঘটনা কিছু কিছু লক্ষণ পরবর্তী কালে দেখা যায়। যেমন ১৯৬৩ সালে অগাষ্ট মাসে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে নেহেরু সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের অনেক ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্যও রয়েছে। ১৯৬৩ সালে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব ছিল স্বাধীন ভারতের লোকসভার ইতিহাসে প্রথম। সেই সময় দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করতেন স্বাধীনতা এনেছে কংগ্রেস। তাই ১৯৬২ সালে তৃতীয় লোকসভা নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। তখন লোকসভায় আসন সংখ্যা ছিল ৪৯৪। ৩৬১টি আসন পেয়ে তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হন নেহেরু। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দেড় বছরের মাথায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। ১৯৬২সালের চিন-ভারত যুদ্ধের ফলে নেহেরু সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। কংগ্রেস কোনঠাসা হয়ে পড়ায় ক্রমাগত হারতে থাকা বিরোধীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এই আবহে বেশ কয়েকটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত হয় কংগ্রেস। কংগ্রেসকে সংসদে আরও চাপে ফেলতে বিরোধীরা কক্ষ সমন্বয় ঐক্যে পৌঁছয়। ফলে লোকসভায় প্রথমবার অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হয় নেহেরু সরকার।সেই সময় লোকসভার অধ্যক্ষ ছিলেন হুকোম সিং। লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতে একাধিক রাজনৈতিক দল অধ্যক্ষের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়। প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন প্রজাশক্তি পার্টির শীর্ষ নেতা ও সাংসদ আচার্য জে বি কৃপালনী। ভারতীয় জনসংঘ ও সিপিআই, পৃথকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়। এছাড়াও আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়। সিপিআইয়ের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয় নুন্যতম পঞ্চাশ জন সাংসদের সাক্ষর না থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। অন্যান্য রাজনৈতিক দল আচার্য কৃপালনীর আনা প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ায়। অধ্যক্ষ হুকোম সিং আচার্যর আনা প্রস্তাবে আলোচনার অনুমোদন দেন। ১৯ অগাষ্ট লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের উপর বিতর্ক শুরু হয়।বিরোধীদের পক্ষে আলোচনা শুরু করেন আচার্য কৃপালনী । তিনি তাঁর বক্তব্যে শুধু চিন-ভারত যুদ্ধ নয়, সরকারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ ও আনেন। লোকসভায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের শক্তির ফারাকের কথা মাথায় রেখে আচার্য কৃপালনী বলেন, শুধু সাংসদ সংক্ষ্যা হিসেব করলে চলবে না। প্রাপ্ত ভোটের হিসেব করলে দেখা যাবে বিরোধীদের শক্তি সরকার পক্ষের থেকে বেশি। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে সরকার পক্ষ ৪৬ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছে। বাকি ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিরোধীরা । এর থেকে প্রমানিত হয় বিরোধীরাই সংসদে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকেই পেশ করছে। প্রস্তাবের পক্ষে বিরোধী নেতারা বক্তব্য বলার পাশাপাশি সরকার পক্ষের হয়ে বক্তব্য বলেন মোরারজি দেশাই ও ভগবৎ ঝা আজাদ প্রমুখ। সবশেষে জবাবী ভাষনের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,বিরোধীদের মধ্যে এই বিচিত্র সমঝোতার মূল কারণ হলো আমার বিরোধিতা করা। তাই বিরোধীদের বক্তব্যের পুরোটাই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা আসলে সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তা হল প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ও ব্যক্তি নেহেরুর বিরুদ্ধে মিলিত ব্যক্তিগত আক্রমণ।আরও পড়ুনঃ বাংলায় ক্ষমতায় থাকার কৌশল বদলেছে সময়ের তালে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের বীজ লুকিয়ে অতীতের ছায়ায়প্রত্যাশিত ভাবেই বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব সংসদ কক্ষে ভোটে পরাজিত হয়। তবে চিন-ভারত যুদ্ধের ফলাফলে নেহেরুর জনপ্রিয়তায় ফাটল ধরে। সেই সুযোগে দলের মধ্যেও তাঁর বিরোধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ংগ্ৰেসের পরাজয় এবং বিরোধীদের জমাট এক্য - সব মিলিয়ে ঘরে বাইরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন নেহেরু। তার আঁচ গিয়ে পড়ে তাঁর শরীরে। ধীরে ধীরে অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ১৯৬৪ সালের ২৭ শে মে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়।

আগস্ট ০৮, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • ...
  • 55
  • 56
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal