• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bidhannagar

রাজ্য

রাতের অন্ধকারে পুলিশের জাল, গ্রেফতার মুখ সব্যসাচী দত্ত ! তোলাবাজি-কাণ্ডে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতি ও তোলাবাজি বিরোধী অভিযানের আবহে ফের বড়সড় পদক্ষেপ। এ বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত নেতা ও বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে তাঁর রাজারহাটের রাইগাছি এলাকার বাসভবনে অভিযান চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, তাঁর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।সোমবার রাতে হঠাৎ করেই রাইগাছিতে সব্যসাচীর বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত কারণ পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীরা আদালতে হেফাজতের আবেদন জানাতে পারেন বলেও সূত্রের খবর।রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সব্যসাচী দত্ত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন শাসকদলের একাধিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত জোরদার হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক গ্রেফতারির ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ফলতার বহুচর্চিত নেতা জাহাঙ্গির খানকে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নেপাল সীমান্ত হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের জন্ম দিয়েছে।এর আগে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলরকেও বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।এখন নজর আদালতের দিকে। সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলার রাজনৈতিক অভিঘাত কত দূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

জুন ০৯, ২০২৬
কলকাতা

স্ট্রংরুম ঘিরে রাতভর তাণ্ডব! তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত বিধাননগর

গণনার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুম ঘিরে শনিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই উত্তেজনা হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। মাইকিং করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পরে ব্যারিকেড করে দুই দলের কর্মীদের আলাদা করে দেওয়া হয়। তবেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।বিজেপির অভিযোগ, তাদের তৈরি করা ক্যাম্পে তৃণমূল কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঝামেলার শুরু। অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনায় বারবার উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রগুলিতেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি গণনাকেন্দ্রকে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বাজি ফাটানো বা বিজয় মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে জারি হয়েছে একশো তেষট্টি ধারা। জেলা জুড়ে পুলিশ মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।অন্যদিকে মালদহে গণনা নিয়ে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সেই কারণে জেলা শাসক সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন। প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুম ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। কোনও দলই বড় কোনও অভিযোগ করেনি। মালদহ কলেজ ও মালদা পলিটেকনিক কলেজে গণনাকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। আগামী চার মে জেলার বারোটি বিধানসভার ভোট গণনা এই দুই কেন্দ্রেই হবে।

মে ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বিধাননগরে রঙের উৎসবে একই মঞ্চে হাজির সুজিত বসু ও সব্যসাচী দত্ত

ব্যক্তিগত দূরত্ব সরিয়ে রঙের খেলায় এক মঞ্চে হাজির হলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ও বিধাননগরের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। একসঙ্গে গানের তালে কিছুটা নাচেন দুজনে। আবিরও মাখেন তাঁরা।শুক্রবার দোলের দিন সকালে করুণাময়ী মেলা প্রাঙ্গণে রঙের উৎসবের আয়োজন করা হয়। গানে গানে রঙের খেলায় মেতে ওঠে ছোট বড় সকলে। করুণাময়ী মেলা মাঠে একই সময়ে উপস্থিত হন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বিধান লনগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। একসঙ্গে দুজনে মঞ্চে। গানের তালে বেশ কিছুটা নাচের প্রচেষ্টা তাদের। বেশ অনেকটা সময় একসঙ্গেই মঞ্চে থাকেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত দূরত্বের জল্পনা শোনা গেলেও এদিনের মঞ্চে একেবারেই ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
কলকাতা

ভিন রাজ্যের দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার গ্রেফতার কলকাতায়, জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের

গতকাল গভীর রাতে চিংড়িঘাটা থেকে জামশেদপুরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনোজ বিবার ও বিশাল বিবারকে গ্রেফতার করল বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল ধৃত এই দুই ভাই জামশেদপুরে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তাতে জখম হন ওখানকার ব্যবসায়ী। ঘটনার পর গা ঢাকা দিতে কলকাতায় চলে আসে। প্রথমে ট্রেনে করে সাঁতরাগাছিতে নামে সেখান থেকে তাদের গন্তব্য ছিল নিউটাউনে তার পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়ি। কিন্তু চিংড়িঘাটার কাছে তাদের গতিবিধির সন্দেহজনক মনে হয়। বিধাননগর দক্ষিণ থানার টহলদারি গাড়ি নাকা চেক করছিল সেই সময়। সেই সময় পালানোর চেষ্টা করে এই দুই ভাই। সেখান থেকে অগ্নেয়াস্ত্র সহ মনোজ বিবর ও বিশাল বিবরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তাদের সঙ্গে আর কেউ ছিল কিনা এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুলিশের পক্ষ থেকে জামশেদপুর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং তাদেরকে জামশেদপুর পুলিশের হাতে তুলে দেবে বিধান নগর পুলিশ, এমনটাই সূত্রের খবর। ফের ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী এখানে ধরা পড়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পরেছে রাজ্য পুলিশের।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৫
রাজ্য

বিধাননগর গোয়েন্দা অফিসারের নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার একাদশ শ্রেণির ছাত্র

বিধাননগর গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি সম্পীতি চক্রবর্তীর নাম করে ফেসবুকে ভুয়ো একাউন্ট খুলে একাধিক ব্যক্তিকে মেসেঞ্জারে এসএমএস পাঠিয়ে টাকা চেয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক ছাত্রকে হাওড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৯ নভেম্বর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তাতে বলা হয়, গোয়েন্দা শাখার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাঁর ছবি ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির থেকে মেসেঞ্জারে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এরপরই বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ তদন্তে নামে তার পরবর্তী ক্ষেত্রে হাওড়া এলাকা থেকে ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। হাবড়ার বাসিন্দা এই ছাত্রকে আজ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৫
কলকাতা

সোশাল মিডিয়ায় যুবতীর ছবি পোস্ট, সেক্টর ফাইভের অফিস থেকে যুবক গ্রেফতার

আইটি কর্মীর নামে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট খুলে অশ্লীল ছবি পোস্টের অভিযোগ। আইটি কর্মী যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এর একটি আইটি সংস্থায় কাজ করতেন এক যুবতী। কিছু বছর আগে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। সেই যুবকও তার সঙ্গে একই অফিসে কাজ করতে বলে পুলিশকে জানান তিনি। এরপরই তার সাথে একই জায়গায় থাকতে শুরু করে তারা। কেষ্টপুর এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এরপরেই যুবতীর সঙ্গে যুবকের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তার কিছুদিন পরে যুবতী জানতে পারে এই যুবতীর নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট তৈরি করে কেউ বা কারা তার কিছু গোপনীয় ছবি প্রকাশ করছে। ঘটনা তদন্ত শুরু করে পুলিশ লোকেশন ট্র্যাক করে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এর একটি অফিসে হানা দিয়ে বিহারের বাসিন্দা সুভাষ বলে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আজ তাকে বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতের নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কি কারনে এই ধরনের ঘটনা তিনি ঘটিয়েছিলেন সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

এপ্রিল ০৬, ২০২৪
কলকাতা

সল্টলেকে পরিচারিকা কি দেখলেন? ঘটনাস্থলে বিধাননগরের পুলিশ এসে হতবাক!

সল্টলেকের জি সি ব্লকে প্রাক্তন সেনা কর্মী যদুনাথ মিত্র স্ত্রী মন্দিরা মিত্রর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার। পাশাপাশি গুরুতর আহত প্রাক্তন সেনা কর্মী যদুনাথ মিত্র কে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে।পুলিশ সূত্রে খবর, আজ সকাল বেলা জিসি ব্লকের ৩০ নম্বর বাড়িতে কাজ করতে আসেন পরিচারিকা। এরপরে তিনি দেখেন প্রাক্তন সেনা কর্মী যমুনাথ মিত্র ও তার স্ত্রী দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন। তড়িঘড়ি বেরিয়ে এসে স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা বিধাননগর দক্ষিণ থানাতে খবর দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দক্ষিণ থানার পুলিশ, পাশাপাশি বিধাননগর কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ও বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তিন পাতার একটি তিন পাতার সুসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, যদুনাথ বাবু প্রথম স্ত্রীকে খুন করেন। এরপরে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ সমস্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও বিষয় রয়েছে খতিয়ে দেখছে বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ।

মার্চ ২৭, ২০২৪
কলকাতা

ডিএলএড ঐক্যমঞ্চ পক্ষের বিক্ষোভ ঘিরে ধুন্ধুমার সল্টলেকে

২০২২ প্রাথমিক টেট পাস ডিএলএড ঐক্যমঞ্চ পক্ষ থেকে APC ভবন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। লোকসভা ভোটের আগে ন্যূনতম ৫০০০০ শূন্যপদে ২০২২ প্রাথমিক টেট পাসদের অবিলম্বে ইন্টারভিউ নোটিসের দাবিতে ২০২২ প্রাথমিক টেট পাস ডিএলএড ঐক্যমঞ্চ সল্টলেক করুণাময়ীর সামনে APC ভবন অভিযান করে।তাঁদের দাবি:১) TET-2023 এর রেজাল্টের আগে, ছয় বছর বঞ্চিত TET-2022 পাস দের সুযোগ দিতে। সমস্ত জেলারআপ টু ডেট শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।২) RTE ACT মেনে সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি যুক্ত করে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।৩) পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বছরে দুবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।৪) TET-2022 পাস করা সকলের নাম, রোল নং, ট্রেনিং ধরণ, টেট মার্কস, কাস্ট, ক্যাটাগরি, যাবতীয় তথ্য পিডিএফ আকারে প্রকাশিত করতে হবে।৫) B.Ed/B.Ed(Special Education), Certificate/Diploma in Physical Education/B.P.Ed এবং NIOS এর ট্রেনিং দিয়ে TET পাস করা প্রার্থীদের Eligibility Certificate নোটিফিকেশন দিয়ে বাতিল করতে হবে।৬) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় EXEMPTED CATEGORY শূন্যপদ পূরণ করতে পর্যাপ্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে বাকি থাকা শূন্যপদ NON-EXEMPTED CATEGORY তে থাকা প্রার্থী দিয়ে পূরণ করতে হবে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
কলকাতা

সোশ্যাল মিডিয়া চাকরির প্রলোভন, লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষধিক টাকা প্রতারণা। এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলো বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা রাজীব গোস্বামী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া মারফত একটি চাকরির এসএমএস পান। সেই সূত্র ধরে তিনি যোগাযোগ করলে তাকে একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে অ্যাড করা হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন প্রিপেড টাস্ক করতে বলা হয় যেখান থেকে তিনি রোজগার করতে পারবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তিনি সেই প্রিপেড টাস্ক করতে গিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। এরপরই টাকা চাইতে গেলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারকরা।ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে অভিযোগকারীর সেই টাকা গিয়ে পৌঁছেছিল বেশকয়েকজনের অ্যাকাউন্টে। এরপরই গতকাল নোয়াপাড়া এবং জগদ্দলে হানা দিয়ে কৌশিক বোস, সন্তোষ কুমার সাউ এবং চন্দন কুমার সাউকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ অভিযুক্তদের বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
রাজ্য

সল্টলেকে গেস্ট হাউজের আড়ালে মধুচক্রের আসর! গ্রেফতার ৭

সল্টলেকে মধুচক্রের হদিস। গেস্ট হাউজের আড়ালে চলতো মধুচক্রের রমরমা। সেখানে হানা দিয়ে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ম্যানেজার সহ চার জন গেস্ট হাউস কর্মী, তিনজন কাস্টমারকে গ্রেফতার করলো বিধান নগর পূর্ব থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে তিনজন তরুণী ।পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে সল্টলেকের বিজে ব্লকের ৩০১ নাম্বার বাড়িতে গেস্ট হাউস করে সেখানে বহু মেয়ে ও ছেলেদের দিন রাত আনাগোনা চলছে। সেই খবর অনুযায়ী শনিবার রাতে ঐ গেস্ট হাউসে আচমকা হানা দেয় পুলিশ। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখে তিনজন কাস্টমার ও সঙ্গে তিনজন মেয়ে রয়েছে। এর পরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর না পেয়ে ঐ গেস্ট হাউসের ম্যানেজার ও তিনজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে ওই তিনজন কাস্টমারকেও গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় ঐ তিন তরুণীকে। আজ ধৃতদের বিধান নগর কোর্টে তোলা হবে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪
কলকাতা

বিধাননগরে বিক্ষোভের মুখে ফিরে গেল বিজেপির প্রতিনিধি দল

রবিবার বিধাননগরের শান্তিনগর অঞ্চলের বাসিন্দা সাহেব আলীকে খুন করে বিট্টু সরদার। অভিযুক্ত বিট্টু সর্দারকে স্থানীয় মানুষরা ধরে ফেলে ও তাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে সেখান থেকে তাকে আরজিকর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নিহত সাহেব আলীর বাড়িতে যেতে চায় তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে।সেই মতো তাঁরা সুকান্তনগরে জড় হয় এবং সেখান থেকে মিছিল করে নিহত বাড়ির দিকে রওনা দেয়। নিহত সাহেব আলীর বাড়ির কিছুটা আগেই স্থানীয় মানুষ বিজেপির প্রতিনিধিদের আটকে দেয় এবং তারা বলে সেখানে কোন রাজনৈতিক রং চলবে না। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, বিজেপির প্রতিনিধিদের রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে আবার নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করতে আসবে বলেই জানিয়েছে বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষ।

নভেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজ্য

বাগুইআটির বৃদ্ধের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও, জামতারা গ্যাংয়ের পান্ডা গ্রেফতার কুলটি থেকে

ফের সাইবার প্রতারণায় জামতারা গ্যাং। ব্যাংকের তথ্য হাতিয়ে বৃদ্ধার থেকে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার অভিযোগ। এই ঘটনায় গ্রেফতার কয়লা উৎপাদনকারী সংস্থার এক কর্মী। জানা গিয়েছে, বর্ধমান থেকে গ্রেফতার জামতারা গ্যাংয়ের এক পান্ডা।পুলিশ সূত্রে খবর, বাগুইআটি এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী আনন্দ শঙ্কর দাস বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন যে গত মার্চ মাসে তাঁর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন করে এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপরেই তাঁর অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি করানোর নাম করে তাঁর কাছ থেকে ওটিপি দিতে বলে। তিনি সেই ওটিপি দিলে কিছুক্ষণ পরে তাঁর কাছে এসএমএস আছে যে তার একাউন্ট থেকে ছয় লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিশ। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে হানা দিয়ে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত রঞ্জন মাঝিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর এই অভিযুক্ত পেশায় কয়লা উৎপাদনকারী সংস্থা BCCL এর কর্মী। তবে সে জামতারা গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করে বলে অভিযোগ। আজ, বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে বিধাননগর আদালতে তোলা হচ্ছে। পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে বিধাননগর সাইবার ক্রাই ক্রাইম থানার পুলিশ।

নভেম্বর ১৬, ২০২৩
রাজ্য

নারায়ণপুর শুট আউটের ঘটনায় গ্রেফতার দুই, কেন গুলি চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণপুর থানা এলাকায় শুটআউট কাণ্ডে মূল পাডাসহ দুজন গ্রেফতার হয়েছে। ধৃতের নাম সুজয় দাস (নারায়ণ পুর ) ও বিক্রম মাহাত (ইছাপুর )। আজ দুপুরে নারায়ণ পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগামীকাল তাঁদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে।গতকাল সন্ধ্যায় দেবজ্যোতি ঘোষ (টাক বাবাই ) প্যারোলে ছাড়া পেয়ে নারায়ণপুর থানায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় নারায়ণপুর ফায়ার ব্রিগেড মোড়ের কাছে দুটি বাইকে করে চারজন যুবক এসে গাড়ি দাঁড় করিয়ে এলোপাথারি গুলি চালায়। সেই গুলিতে মৃত্যু হয় দেবজ্যোতি ঘোষ (টাক বাবাই)-এর। এরপরই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শুরু হয় দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দেবজ্যোতি ঘোষের গাড়ির চালোককে। এরপরই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুজয় দাস ও বিক্রম মাহাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে খুনের কথা।জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে এই সুজয় এক সময় দেবজ্যোতির ঘনিষ্ট সাকরেদ ছিল। বিভিন্ন অসামাজিক কাজের টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলার কারণে আলাদা হয়ে যায়। তীব্র ক্ষোভ ছিল দেবজ্যোতির ওপর। দীর্ঘদিন ধরে খুন করার ছক কষছিল। নির্জন জায়গা খুঁজছিলো। সেই মত তারা দেবজ্যোতির ওপর নজর রাখছিল। তারা জানতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে বেলায় নারায়ণপুর থানায় হাজিরা দিতে যাবে দেবজ্যোতি। এবং থানার কাছেই একটি নির্জন অন্ধকার জায়গা রয়েছে। সেই মত সেখানে গাড়ি পৌঁছতেই গাড়ি আটকায় সুজয়, বিক্রম ও সঙ্গে থাকা আরও দুজন। গাড়ি দাঁড়াতেই এলোপাথারি গুলি চালানো হয়।বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সূত্রের খবর, গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুজয়ের নাম জানতে পারে। এর পরই নারায়ণপুর থানা এলাকা থেকে সুজয় ও বিক্রমকে আজ দুপুরে গ্রেফতার করা হয়। বাকি দুজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

জুলাই ২১, ২০২৩
রাজ্য

ভর সন্ধ্যায় নারায়ণপুরে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি, মৃত্যু এক

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণপুরের ফায়ার স্টেশনের সামনে একাধিক গুলি চলার ঘটনা। সূত্রের খবর একাধিক বাইকে করে এসে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। অপর একটি গাড়িতে থাকা দেবজ্যোতি ঘোষকে লক্ষ্য কয়েক রাউন্ড গুলি করে তারা। সুত্রের খবর একাধিক গুলির আঘাত নিয়ে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।দেবজ্যোতি ঘোষ সাজাপ্রাপ্ত আসামী। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ফিরছিলেন তিনি। নিয়ম মত প্রতিদিন তাকে নারায়নপুর থানায় হাজিরা দিতে হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতে নারায়ণপুর থানায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঘটনাস্থলে বিধান নগর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। গাড়ির মধ্যে পড়ে রয়েছে একটি গুলি।

জুলাই ২০, ২০২৩
কলকাতা

মদ্যপদের তাণ্ডব, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের রাস্তায় ফেলে বেধরক মারধর

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার ভোর রাতে কেষ্টপুর-সল্টলেক যোগাযোগ স্থাপনকারী নতুন ব্রিজের সামনে ডিউটি করছিলেন দুই সিভিক কর্মী। সেই সময় সল্টলেক থেকে কেষ্টপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ৮জন মদ্যপ যুবক। তারা সিভিককে দেখে কটূক্তি করতে থাকলে তাদের আটকায় সিভিক ভলেন্টিয়াররা। তবে তাদের আটকাতেই সিভিকদের উপর চড়াও হয় ওই ৮জন বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় দুই সিভিক কর্মীকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে ওই মদ্যপরা। এরপরই ঘটনাস্থলে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ পৌঁছালে সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা। তবে ওই এলাকা থেকে দুজন মদ্যপ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দুজনের নাম প্রীতম সিং এবং কৃষ্ণ সিং, দুজনেই বিহারের বিহারের বাসিন্দা। কলকাতায় অনলাইন ডেলিভারির কাজের সঙ্গে যুক্ত। আহত সিভিক কর্মীদের বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ অভিযুক্তদের বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই যুবকদের সঙ্গে যুক্ত বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
রাজ্য

যুবকের রহস্য মৃত্যুতে ধুন্ধুমার কাণ্ড, অবৈধ প্রণয়ের জের? তদন্তে পুলিশ

অগ্নিদ্বগ্ধ যুবকের মৃতদেহ ঘিরে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটল বিধাননগর পৌরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারা সরদার পাড়ায়। দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।ভাঙচুর করা হয় মৃতের শ্বশুরবাড়ি এবং তার স্ত্রীর প্রেমিক সঞ্জীব সরদারের বাড়ি। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। চলে ভাঙচুর। সামাল দিতে ইকো পার্ক থানা এবং বাগুহাটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে ঘটনাস্থলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেয় এলাকার বাসিন্দারা।শনিবার বিধানগর পৌরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারা সরদার পাড়ায় শ্বশুরবাড়ির সামনে থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয় এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে। রবিবার রাতে আরজিকর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত যুবকের নাম সমীর মুখার্জি। যুবক শ্বশুর বাড়িতেই থাকতো। সমীর মুখার্জির সঙ্গে ১১ বছর আগে হাতিয়ারা সরদার পাড়ার ঝুম্পা মুখার্জির সাথে বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর ঝুম্পার সঙ্গে সমীরের অশান্তি শুরু হয় সঞ্জীবকে নিয়ে। সঞ্জীব ও ঝুম্পার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক জানার পর প্রায় প্রতিদিনই সমীর আর ঝুম্পার মধ্যে ঝামেলা হতো, এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, যুবকের স্ত্রী ঝুম্পা ও তার প্রেমিক সঞ্জীব সরদারের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধেও তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেয়।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
রাজ্য

লটারিতে দামী গাড়ির প্রলোভনের ফাঁদে বৃদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা সর্বনাশ, পিছনে কারা?

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বাগুইহাটি এলাকার বাসিন্দা ৭০ বছরের অজয় কুমার ঘোষ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এসে অভিযোগ করেন যে একটি বেসরকারি সংস্থার নাম করে তাকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানায় তার নামে একটি ১৬লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার গাড়ি লটারিতে উঠেছে। তিনি সেই গাড়িটি নিতে পারেন অন্যথায় তিনি সেই পরিমাণ টাকা তিনি নগদে নিতে পারেন। বৃদ্ধ সেই কথায় রাজি হলে তাঁকে বিভিন্ন ভাবে প্রতারকরা জানায় গাড়ির রোড ট্যাক্স, ইন্সুরেন্স করানোর জন্যে তাঁকে টাকা দিতে হবে। সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে মোট ১৫ লক্ষ ৪ হাজার ৭২০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে হাওড়া এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একাউন্টে সেই টাকা পৌঁছেছে। ব্যাংকের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানতে পারে সেই ব্যাংক একাউন্ট একটি আন্তর্জাতিক স্তরের ক্যারাটে খেলোয়াড়ের। সেই খেলোয়াড় ব্যাংকে এবং পুলিশকে লিখিত ভাবে জানায় যে তার ক্যারাটে শিক্ষক মহম্মদ নাসিরউদ্দিন খান তাকে খেলার স্পন্সর জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার নামে ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করিয়ে তার থেকে সেই একাউন্ট নিজে নিয়ে ব্যবহার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের খোঁজ চালানো হলেও সেই শিক্ষক পালিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।অবশেষে গতকাল সূত্র মারফত খবর পেয়ে হাওড়ায় হানা দিয়ে অভিযুক্ত নাসিরউদ্দিন খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একাধিক ব্যাংক একাউন্ট এবং ডেবিট কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর এই অভিযুক্তের সঙ্গে এই আন্তরাজ্য চক্র জড়িত। প্রতারণার টাকা সেই চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মিডিল ম্যান হিসাবে কাজ করতো এই অভিযুক্ত।

ডিসেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

দুর্গাপুরের তিন গৃহবধূ মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন, এক মন ভাল করা কাহিনী

খুনোখুনি, আগুন, তোলাবাজি, ভাতের হোটেলে মদ এমন নানা খবরে ক্লান্ত বাঙালি। দুর্গাপুরের তিন নারীর মানবিক উদ্যোগ কিন্তু মন ভালো করে দিয়েছে সারা বাংলাকে। ওই তিন গৃহবধু মানবিকতার অনন্য নজির গড়েছেন। শনিবার দুস্থ মূক ও বধির মহিলার বিয়ের ব্যবস্থা করেছে দুর্গাপুরের তিন গৃহবধু। নগরনিগমের প্রান্তিকা সংলগ্ন মন্দিরে দুই বিশেষভাবে সক্ষম পাত্র-পাত্রীর চার হাত এক করে দিয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, পাত্রী সম্পূর্ণ ভাবে মূক ও বধির। পাত্রের রয়েছে কথা বলার সমস্যা। দুর্গাপুরের তিন গৃহবধুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিধাননগরের মনি চৌধুরী, সেপকোর বাসিন্দা শম্পা গিরি ও বেনাচিতির বুলু মন্ডল এই বিবাহের সম্পূর্ণ খরচ বহণ করেন।জানা গিয়েছে, শম্পা গিরি তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী রাখী যাদব সম্পূর্ণরূপে মূক ও বধির। বাবা মারা যাওয়ার পর গোঁসাইনগরের ঘর বিক্রি করে মায়াপুরে একটি ভাড়া ঘরে মা-মেয়ে কোনরকমে দিনযাপন করছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে বিবাহযোগ্যা কন্যার বিয়ে হচ্ছিল না। একইসঙ্গে মেয়ে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় সেভাবে তাঁকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। এই কথা শোনামাত্র শম্পাদেবী তাঁর দুই বন্ধু মনি চৌধুরী ও বুলু মণ্ডলকে বিষয়টা জানান। শোনামাত্রই তিন বন্ধু পাত্র খোঁজার কাজ শুরু করে দেন। বিয়ের আসর কোথায় হবে, তার সমস্ত খরচ তাঁরা খরচ করবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। তিন গৃহবধূর প্রচেষ্টায় অবশেষে দুর্গাপুরের বেনাচিতির সুভাষ পল্লির বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী মুন্না যাদবকে পাত্র হিসাবে খোঁজ মেলে। পাত্রীর সঙ্গে বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের প্রান্তিকা সংলগ্ন মন্দিরে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যাবতীয় খরচা বহন করেন তিন বন্ধু। আগামী দিনেও দম্পতির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা।মনি চৌধুরী বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে সারা বছর ধরেই সামাজিক কাজে যুক্ত থাকি। আমাদের লক্ষ্য দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। এই দুস্থ মূক ও বধির কন্যার কথা শুনতে পেয়ে আমরা এককথায় পাশে থাকার জন্য রাজি হয়ে যাই। বুলু মণ্ডলের বক্তব্য, এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে আমরা খুব খুশি।

জুলাই ০৯, ২০২২
রাজনীতি

বিধাননগরে মেয়র কৃষ্ণাই, চেয়ারম্যান সুব্রত, ঘোষিত ৩ পুর নিগমের মেয়রের নামও

তিন পুরনিগমের মেয়র পদে দলের বিশ্বস্ত সৈনিকদেরই বেছে নিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব ফের দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে। ডেপুটি মেয়র করা হয়েছে অনিতা মণ্ডলকে। বিজেপি থেকে ঘর ওয়াপসি করা সব্যসাচী দত্তকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আসানসোল পুর নিগমের মেয়র হয়েছেন বিধান উপাধ্যায়কে। আর চন্দননগরের মহানাগরিকের দায়িত্ব ফের বর্তেছে রাম চক্রবর্তীর কাঁধে। শুক্রবার দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ও কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম।গত সোমবার চার পুরনিগমের ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র হিসেবে দলের দীর্ঘদিনের নেতা গৌতম দেবের নাম ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি তিন পুরনিগমের মেয়র পদ নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, তিন পুরনিগমের মেয়র পদে কারা বসবেন তা নিয়ে। একাধিক নামও বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। বিধাননগরের মেয়র পদে দৌড়ে যেমন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সব্যসাচী দত্তের নাম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল, তেমনই আসানসোলের মেয়র হিসেবে বর্তমান প্রশাসক অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটকের নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।এদিন কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক বসেছিল। ওই বৈঠকেই তিন পুরনিগমের মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও চেয়ারম্যানকে বেছে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, আসানসোলের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন বিধান উপাধ্যায়। দুজনকে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিজিৎ ঘটক ও ওয়াসিমুল হক ওই দায়িত্ব পাচ্ছেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়। চন্দননগরের মেয়রের দায়িত্ব থাকছে রাম চক্রবর্তীর কাঁধেই। বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব পাচ্ছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র হচ্ছেন প্রাক্তন সাংসদ মনোরঞ্জন ভক্তের মেয়ে অনিতা মণ্ডল। চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। পুরবোর্ডের বাকি পদাধিকারীদের পরে বেছে নেওয়া হবে বলে এদিন জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২
কলকাতা

বিধাননগরের মেয়র কে? সব্যসাচীর পর মমতার বাড়িতে গেলেন কৃষ্ণাও

বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী জিতলেন এ বারও। জিতে সব্যসাচী দত্তের মতো তিনিও গেলেন দলনেত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে। সেখান থেকে বেরিয়ে বলেন, আজ মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর দিন। মানুষ যাকে জেতায়, সেই শেষ কথা বলে।বিধাননগরে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন কৃষ্ণা। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলপ্রার্থী ছিলেন আর এক প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। দুজনেই জিতেছেন। স্বভাবতই জল্পনা তৈরি হয়েছে, এ বার বিধাননগরের মেয়র হবেন কে, কৃষ্ণা না সব্যসাচী? জয়ের পর এ দিন দুজনেই আলাদা আলাদা ভাবে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে এসে দেখে করেন।বিধাননগরে জয় নিশ্চিত হতেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দলনেত্রীর বাড়িতে আসেন সব্যসাচী। সেখান থেকে ফিরহাদ হাকিমের বাড়ি হয়ে তিনি যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী ঘোষণা করা হয় কৃষ্ণাকে। সেই খবর পেয়েই সল্টলেক থেকে কৃষ্ণার গাড়ি ছোটে কালীঘাটের পথে। মমতার সঙ্গে দেখা করেন তিনি।প্রসঙ্গত, ফল প্রকাশের পরেই একটি সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণা প্রসঙ্গে দলনেত্রী মমতা বলেন, কৃষ্ণা আমার চিরকালের সহসাথী। ওদের প্রত্যেককে আমি খুব ভাল করে চিনি। আজকের সম্পর্ক তো নয়, ৮৪ সালে আমি যখন যাদবপুরে এমপি হয়ে দিল্লি গিয়েছিলাম, তখন কৃষ্ণা আমার সঙ্গে গিয়েছিল। ৫ বছর আমার সঙ্গে ছিল। আমরা দুজনে রান্না করতাম। এবং কৃষ্ণা প্রেম করে যে বুয়া (সমীর চক্রবর্তী)কে বিয়ে করেছে, সেটাও আমার বাড়ি থেকেই। ওর অনেক মজার গল্প আছে। আমি চাইব, কারও বিরুদ্ধে কোনও বিদ্বেষ নয়। আমাদের উদ্দেশ্য, সবাই যাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal