করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে ফের বিশেষজ্ঞদল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। সেইসঙ্গে কেরল, কর্নাটক, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও যাবে কেন্দ্রীয় দল। এই রাজ্যগুলিতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আরও পড়ুনঃ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ধর্মঘট , বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, প্রতিটি টিমে একজন যুগ্মসচিব, একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, একজন ক্লিনিসিয়ান থাকবেন। রাজ্যগুলির করোনা মোকাবিলায় তাঁরা সহায্য করবেন। কীভাবে করোনা পরীক্ষা এবং তার চিকিৎসা আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও তারা নজর দেবেন।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একদিন সত্যি ঠিক সকলের সামনে বেরিয়ে আসবেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে রাজ্য সরকারের সমালোচনায় এভাবেই সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আরও পড়ুনঃ ইংরেজি বলতে না পারার অপরাধে আয়কর দফতর পাঁচজন কর্মীকে ছাঁটাই , ডেপুটেশন বাংলা পক্ষের রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। পুলিশ সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও সুর চড়ান রাজ্যপাল। এই টুইটের পরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ যে আরও বাড়তে চলেছে , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই রাজনৈ্তিক মহলের।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭২০ জন ৷ এর ফলে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল মোট ৩ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ জন ৷ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের ৷ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৭০ জন ৷ আরও পড়ুনঃ কয়েক দফা দাবিতে হাওড়া কর্পোরেশনে স্মারকলিপি প্রদান ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩১ হাজার ৯৮৪ জন ৷ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন ৷ সব মিলিয়ে এপর্যন্ত মোট ২ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে । রাজ্যে বর্তমানে সুস্থতার হার ৮৭.৭৭ শতাংশ ।
বেদান্ত লাহিড়ীঃ কলকাতার বাঙালি যুবকের লড়াইয়ের ফল এবার সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও। বাংলাপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ও বাংলা ভাষার জন্য যেভাবে লড়াই শুরু করেছে , সূদুর অস্ট্রেলিয়াতে সেই একই লড়াইয়ে সামিল বারাসতের ছেলে অর্ণব ঘোষ রায়। মূলত তারই উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্টেটের স্বাস্থ্য দফতরে বাংলা ওয়েবসাইট চালু হল। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের ছাত্র অর্ণব। বয়স ৩৮ বছর। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের ছাত্র সে। তাঁর অদম্য লড়াইয়ে এল এই ঐতিহাসিক সাফল্য। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাঙালিদের কথা চিন্তা করেই এই ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারতের ৫৪,৫৬৬জন বাঙালি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এছাড়াও সেখানে বাংলাদেশের বাঙালিও আছেন । দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার পর অর্ণব জানতে পারেন , ভাষাগত কারণে বাঙালি প্রবীণরা সেখানে নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন। ভাষাগত অসুবিধা দূর হলে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তা সহজ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করেন অর্ণব। এমনকী বিষয়টি মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনার জন্য উত্থাপিত করেন তিনি। সেখান থেকেই সরকারি স্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়।কারণ, অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি নীতি নির্ধারনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। অনেকদিনের ঐকান্তিক লড়াইয়ের পর দিন চারেক আগেই স্বাস্থ্য দফতরের বাংলা ওয়েবসাইট চালু হল। স্বীকৃতি পায় অর্ণবের লড়াই। অর্ণব বললেন, এর ফলে বেশ কয়েকজন যুবকের কাজেরও সুযোগ হয়েছে। উল্লেখ্য, অর্ণবের বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী। ২০০৩ সালে তিনি পড়াশুনো করতে অষ্ট্রেলিয়া পাড়ি দেন। দুবছর পর ফেডারেল ইউনিভার্সিটি থেকে কমার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৭-তে অ্যাসোসিয়েট মেম্বার অব ইন্সটিটিউট অব পাবলিক অ্যাকাউন্টেন্ট। ২০০৯ সালে সেখানে নাগরিকত্বের অধিকার পান। ২০১৪ তে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন তিনি। সলিসিটর হওয়ার লক্ষ্যে এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব ল পড়ছেন অর্ণব। তাঁর এই লড়াইয়ের পাশে রয়েছে পৃথিবী্র আপামর বাঙালি।
সামনেই পুজো। তার আগে রাজ্যে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৭৭ জন। এরফলে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৬৯৭ জন। আক্রান্তের পাশাপাশি বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৪ জন। ফলে মোট মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮০৮ জন। আরও ্পড়ুনঃ নির্যাতিতার পরিবারের পাশে তৃণমূল , মন্তব্য দেবু টুডুর এই মুহূর্তে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫০৫ জন। সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ৫১৭ জন। তবে ডিসচার্জ রেট কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে, ৮৭.৭৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৬ জন। ফলে এখনও পর্যন্ত সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মোট মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বদলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন বলে জানালেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। একথা বলে তিনি বলেন, আগামী ১৯ অক্টোবর শিলিগুড়িতে একটি সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর গাইড ম্যাপের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর পাশাপাশি ওইদিনই আলাদা একটি বৈঠক করবেন গোর্খা ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে। পরের দিন শিলিগুড়ি থেকেই দিল্লি ফিরে যাওয়া কথা রয়েছে তাঁর। দলীয় বৈঠকের পরে শহরের কিছু পুজো মণ্ডপও ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাঁর। অমিত শাহ পুজোর পরে দক্ষিণবঙ্গ সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হলেন আরও ৩,৬৩১ জন। এনিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলায় করোনা আক্রান্ত হলেন মোট ৩,০২,০২০ জন। রাজ্যে এখন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০,৯৮৮ জন। ৬২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন । মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট মৃত্যু হল ৫,৭৪৪ জনের। আরও পড়ুনঃ উত্তরপ্রদেশের অপসংস্কৃতি বাংলায় আমদানি করতে চাইছে বিজেপি : ফিরহাদ গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৩,১৮৫ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ২,৬৫,২৮৮ জন। সুস্থতার হার ৮৭.৮৪ শতাংশ। রাজ্যে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তা ক্রমশ সরকারের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রাজ্যে ফের একদিনে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৩ জন। এরফলে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৮ জন। আরও পড়ুন ঃ দোতলা বাসের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী আক্রান্তের পাশাপাশি বেড়েছে রাজ্যে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬০ জন। ফলে মোট মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৮২ জন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ৬০৪ জন। সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ৩৬৮ জন। তবে ডিসচার্জ রেট কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে, ৮৭.৮৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩,১৫৫ জন।
ফের করোনা আক্রান্ত মানুযের কথা চিন্তা করে পুজো্র আগে জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও শহরতলিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কোভিড টেস্ট করাতে গেলে এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হয় ২২৫০। কিন্তু রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে , এই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে এখন থেকে টেস্ট করাতে গেলে লাগবে ১৫০০। এছাড়াও রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা বিনামূল্যে রাজ্যের সকল কোভিড রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দেয়। কিন্তু যে সকল কোভিড রোগী বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হন , তাদের জন্যও অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কমানো দরকার। রাজ্য সরকার সেই সংক্রান্ত রেগুলেটরি কমিশনের কাছে অনুরোধ করছে , অবিলম্বে পুজো্র আগেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া সহনশীল স্তরে নামিয়ে আনা হোক। আরও পড়ুনঃ স্পা-এর আড়ালে মধুচক্র , ধৃত টেলি অভিনেতা সহ ১৬ এছাড়াও গত ১০ অক্টোবর হাওড়ার এএসআই বালটুকরিতে ইতিমধ্যেই কোভিড রোগীদের ৪৮ টি শয্যা্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতার এম আর বাঙুরে সো্মবার থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য চালু হল ৫৬ টি শয্যা। আরও ৪৯৬ টি শয্যা আগামী দু থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে ২৪৭৫ জন নার্স শীঘ্রই নিযুক্ত করা হবে। পুজোর সময় প্রশাসনের জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অফিসার ও আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
অন্য রাজ্যের তুলনায় কম হলেও পুজোর আগেই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্য তিন লাখের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছল। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২,৯৪,৮০৬ জন। আরও পড়ুন ঃ বলবিন্দর সিং সহ তিন ধৃতের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজত এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২,৫৮,৯৪৮ জন। সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০,২৩৬ জন। সুস্থতার হার ৮৭.৮৪ শতাংশ। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হলেন ৩,৬১২ জন। মৃত্যু হল ৫৯ জনের। এনিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫,৬২২।
করোনা পরিস্থিতিতে এ রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনও লাগাম নেই। এক্ষেত্রে ডান- বাম সবারই ভূমিকা সমান। তৃণমূল ও বিজেপি প্রতিযোগিতা করে ভিড় বাড়াচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ হচ্ছে। না আছে মাস্ক, না আছে দূরত্ব বিধি। এত মানুষের সমাবেশে দূরত্ব বিধি মানার অর্থ সোনার পাথরবাটি ছাড়া কিছুই না। কর্মসূচি ঘোষণার সময় বলছে করেনা আবহে সমস্ত বিধি মেনে কর্মসূচি পালন করব। কার্যত তা লবডঙ্কা। তবে এর ফল ভোগ করতে হতে পারে আপামর বাঙালিকে। তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম- কংগ্রেস নিজেদের শক্তি মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। সরকার অনবরত নানা বিধিনিষেধের কথা বলছে। বিহার বিধানসভার নির্বাচনে একাধিক নয়া আইন লাগু হচ্ছে। এ রাজ্যে নির্বাচন হতে এখনও ৭মাস বাকি। কিম্তু নিয়ম- বিধি না মেনে এরাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে। সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকারই বা কী করছে? সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি হলে কেন এই বিপজ্জনক কর্মসূচি চলছে? আসলে লক্ষ্য ২০২১ বিধানসভা। ক্ষমতা দখলই যেখানে মূল উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে বাবে বল্গাহীন ভাবে কর্মসূচি চলছে তাতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকেই যাছে। এখনও সচেতন নাহলে বিপদে পড়বেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সব দলেরই লাগাম টানা প্রয়োজন। রাজনীতিও তো মানুষের জন্য। তাহলে বিপদ বাড়ানোর জন্য এমন প্রতিযোগিতা কেন? বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া বাড়তে শুরু করেছে। পুজোর কেনা-কাটা করতে দোকান-বাজারেও ক্রমশ ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। সামনেই আবার দুর্গাপুজো। মন্ডপে মন্ডপে উপচে পড়়বে মানুষের ঢল। চিকিতসকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কেরলের পরিস্থিতি উপলব্ধি করেই এখন সকলের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। তা নাহলে আশংকার মেঘ বাস্তবায়িত হতে সময় নেবে না। তখন সব কিছু হাতের বাইরে চলে যাবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা রাজ্যে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৯১ জন। এখন সারা রাজ্যে মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২ লক্ষ ৯১ হাজার ১৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা রাজ্যে কোভিড মুক্ত হয়েছেন ৩,০৩২ জন। আরও পড়ুন ঃ বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী সবমিলিয়ে সারা রাজ্যে কোভিডকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৩৮ জন। রাজ্যে এখন করোনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন ৬২ জন। সবমিলিয়ে রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৫, ৫৬৩ জন।
কলকাতা পুরনিগম সহ বিধাননগর পুরনিগম , বরানগর ও দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় সেরা প্রতিমা , সেরা মণ্ডপ, সেরা ভাবনা , সেরা আলোকসজ্জা , সেরা কোভিড সচেতন পুজো সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান-২০২০ প্রদান করা হবে। এসব জায়গার পুজোগুলির জন্য সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তিরা শারদ সম্মান কোন পুজো পাবে, তা বাছাই করবেন। কলকাতা ছাড়া বাকি ২২ টি জেলায় যে বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে শারদ সম্মান প্রদান করা হবে , সেগুলি হল সেরা প্রতিমা , সেরা মণ্ডপ, সেরা কোভিড সচেতন পুজো। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে ও বিদেশের পুজোগুলির ক্ষেত্রে আবেদনপত্র নেওয়া হবে অনলাইনে। ১০ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর এই আবেদনপত্র পাওয়া যাবে।
রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাল বিজেপি। সো্মবা্র রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে আসার পর সাংবাদিক সম্মেলনে অর্জুন সিং বলেন, বিজেপি ও মণীশ শুক্লার বাবার পক্ষ থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে। রাজ্যপাল বলেছেন, তিনি সাংবিধানিকভাবে যা করার করবেন।মমতার সরকারের পুলিশের উপর ভরসা নেই। মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। এছাড়াও বিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়,কৈ্লাস বিজয়বর্গীয়। মনীশ শুক্লার বাবা রাজ্যপালকে বলেন, পুলিশ খুনের মামলা রুজু করতে চাইনি। পুলিশ বলেছিল অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা।এদিকে এদিন বিকেলে এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মণীশের ময়নাতদন্ত হয়। তার পরেই তাঁর দেহ নিয়ে এসএন ব্যানার্জি রোড ধরে রাজভবনের উদ্দেশে এগোতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।মৃতদেহ নিয়ে এগোতে শুরু করলে, কলকাতা পুলিশের তরফে বিজেপি নেতাদের বলা হয়, যে মরদেহ নিয়ে রাজভবনে যাওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি বিজেপি নেতারা। এসএন ব্যানার্জি রোড ধরে তাঁরা এগোতে থাকেন। এক সময়ে নিউ মার্কেট চত্বরে পুলিশ ব্যারিকেড করে দেয়।এরপরেই রাজভবনে সরাসরি ফোন করেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তার পরে সেই ফোনেই রাজভবনের সঙ্গে ডিসি সেন্ট্রালকে কথা বলিয়ে দেন তিনি। রাজভবনের সঙ্গে কথা বলার পরে ডিসি জানান, প্যারাডাইস সিনেমা হলের সামনে মৃতদেহ ও গাড়ি রেখে বিজেপির চার জন সদস্য রাজভবনে যাবেন। শেষমেশ মৃতদেহ নিয়ে গাড়িটি চলে যায় টিটাগড়ের দিকে।
কলকাতাঃ রাজ্যে ১০৭ পুরসভার ভোট স্থগিত হয়ে রয়েছে গত এক বছর ধরে। সেই ভোট দ্রুত করানোর দাবিতে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধিদল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দারস্থ হল বৃহস্পতিবার। তারা দ্রুত ভোট করানোর দাবি জানায়। এখন প্রশাসকরা পুরসভার কাজ পরিচালনা করছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোট মত দেয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব , এই পুরসভাগুলির ভোট সম্পন্ন করতে হবে। কলকাতা হাইকোটও তাতে সহমত পোষণ করে। এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নিরবাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূণ হয়,সে দাবি জানিয়েছেন তারা।
কলকাতাঃ পুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা। কারণ, সপ্তাহান্তে নিম্নচাপের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। তার ফলে শনি এবং রবিবার ভারী বৃষ্টিতে ভিজতে পারে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। ঘূর্ণাবর্ত সরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও ওড়িশা উপকূলে আসবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা নিম্নচাপে পরিণত হবে। তার প্রভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে উত্তরবঙ্গ-অসমের উপরেও। তার প্রভাবে অরুণাচল, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্ব ভারতের সব রাজ্যে আগামী চার-পাঁচদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে আলিপুর আব হাওয়া দফতরের তরফ থেকে।
নয়াদিল্লি: রাজ্য বিজেপির একটাই লক্ষ্য বাংলার শাসনভার নিজেদের হাতে নেওয়া। সেই নিয়ে একাধিকবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলার শীর্ষ স্থানীয় বিজেপি নেতাদের আলোচনা ও বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার ডাকে দিল্লিতেই রয়েছেছেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষেরা। আজকের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের হাতে নয় বরং মুকুল রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে নির্বাচনের আগে বঙ্গ সামলানোর দায়িত্ব। প্রসঙ্গত বিজেপি পার্টির নিয়মে রয়েছে জাতীয় সহ সভাপতি এবং জাতীয় সম্পাদকদের এক একটি রাজ্যের নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কে কোন দায়িত্ব পাবে তা ঠিক করে দেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি। তবে এতদিন মুকুল রায় বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন তাই হিসেব মতো তাঁর হাতে রাজ্যের ভার না যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই কথা যাতে না ওঠে সেই কারণে আগেই তিনি দিল্লির ভোটার ও দিল্লি থেকে বিজেপির সদস্যও হয়ে গিয়েছেন। বলা বাহুল্য যে হয়ত বাংলা সামলানোর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আগেই মুকুল রায়কে বিজেপি জাতীয় সহ-সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে বাধা দূর করতে। তাই এখন যদি বাংলার দায়িত্ব মুকুল রায়কে দেওয়া হয় সেই নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবেন না।এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপর নয় বরং বাংলা জয়ের জন্য মুকুল রায়ের উপর আস্থা রাখছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। এক সময় তৃণমূলের দাপুটে নেতা ছিলেন মুকুল রায়। সেই কারণে বাংলার খুঁটিনাটি তাঁর থেকে ভালো করে জানা বিজেপির অন্যান্য সদস্যদের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা খুব ভালো করেই জানে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণে দিলীপ ঘোষ বা অন্যান্য বিজেপি নেতাদের থেকে ভোট যুদ্ধে জিততে মুকুল রায়ের হাতেই বৃহস্পতিবার বাংলার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বঙ্গে ২০২১-এর নির্বাচনী যুদ্ধে জিতেতে বিজেপি চাইছে বাংলায় সমগ্র নেতৃত্ব দিক মুকুল রায়।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখতেই এই সফর মমতার। উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ১০০ শতাংশ কাজ চাই। চা শ্রমিকদের জন্য করলেন বিশেষ ঘোষণা। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে মানুষের উন্নয়নের কাজে কেনও গাফিলতি না হয় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ইনস্পেক্টর রাজ বেশি চলছে। জনস্বার্থে কাজ বেশি চাই। খোলনলচে সব বদলে দেব। ১০০ পার্সেন্ট কাজ চাই, ১০০ পার্সেন্ট অভিযোগের সমাধান করতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দুই জেলার সব কাজ শেষ করার জন্য ডিএম-এসডিও-বিডিওদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের অর্থদপ্তর টাকা দেওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় কাজ হচ্ছে না বলে রিপোর্ট পেয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জেলা সভাধিপতিদের নির্দেশ দেন ডিএম-বিডিওদের সঙ্গে কথা বলে অসমাপ্ত কাজগুলি শেষ করুন। বুধবার দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পংয়ের রিভিউ বৈঠক করবেন মমতা। এদিন চা বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য চা সুন্দরী প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চা বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের বাড়ি বানিয়ে দেবে সরকার। চা সুন্দরী প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী ২ মাসের মধ্যে শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে। উত্তরবঙ্গে ৩৭০টি চা বাগানে প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রথম পর্যায়ে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মোট ৭টি চা বাগানের ৩,৬৯৪টি পরিবার এই প্রকল্পের বাড়ি পাবেন। আলিপুরদুয়ারে ৫টি চা বাগানের ২,৬৪১ টি পরিবার রয়েছে। আর জলপাইগুড়িতে ২টি চা বাগানে ১,০৫৩টি পরিবার থাকছে। তিনশো কামতাপুরি আন্দোলনকারী রাজ্যের উদ্যোগে মূল স্রোতে ফিরছে। এদিন ১৩০ জন কেএলও অ্যাক্টিভিস্ট ও লিংকম্যান মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বাকি ১৬১ জন আগামীকাল, বুধবার ফিরবেন। এদিন জল্পেশ মন্দিরের পুরোহিত বিজয় চক্রবর্তীর হাতে পুরোহিত ভাতা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই দিনটার প্রতীক্ষাতেই ছিলেন বিশ্বের তামাম ইস্টবেঙ্গল ভক্ত। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর এবারের আইএসএলের একাদশ দল হিসেবে ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে স্বাগত জানিয়েছেন ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন নীতা আম্বানি। এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গল ও দলের লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের আইএসএলে স্বাগত জানাই, এটা খুব আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের (বর্তমানে এটিকে মোহনবাগান) মতো ক্লাব আইএসএলে আসায় বাংলায় ফুটবল প্রতিভার বিকাশ-সহ দেশের ফুটবলে সীমাহীন সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত হলো। ভারতীয় ফুটবলে বাংলার প্রভূত অবদান রয়েছে। এর সঙ্গে রাজ্য তথা দেশে প্রতিযোগিতামূলক ও বলিষ্ঠ ফুটবল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইএসএলের ক্রমবর্ধমান পদাঙ্ক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে নীতার ঘোষণায় একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, ইনভেস্টরের নাম ইস্টবেঙ্গলের আগে বসছে না। আইএসএলে লাল হলুদ খেলবে ইস্টবেঙ্গল নামেই।
মুর্শিদাবাদের পর এবার মালদায় আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের লিংকম্যান সন্দেহে ভুতনি থানার হরিচন্দ্রপুর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ(নেশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ধৃতকে গ্রেপ্তারের পর কলকাতায় নিয়ে চলে গিয়েছে অভিযানকারী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানার হরিচন্দ্রপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে বিগত দিনে বাটুল বোমা বিস্ফোরণ সহ একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের রয়েছে থানায়। এই বাটুল বোমা তৈরি করার ঘটনাটি নিয়েই চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকেই তদন্ত শুরু করেছিল মালদা জেলা পুলিশ। এদিকে কয়েকদিন আগে মুর্শিদাবাদের আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে কয়েকজন ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মালদার ভুতনির এই ব্যক্তির সন্ধান পায় কেন্দ্রীয় ওই গোয়েন্দা সংস্থা। তারপর বুধবার গভীর রাতে মালদা শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে গঙ্গা নদীর চরে অবস্থিত হরিচন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এনআইএর কর্তারা। এনআইএর একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই ব্যক্তির নাম সিদ্ধার্থ মন্ডল (৩৪)। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মানিকচকে বাটুল বোমা বিস্ফোরণে এই সিদ্ধার্থ মন্ডলের নাম উঠে এসেছিল। তারপর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছিল। রীতিমতো বিদেশি কায়দায় ইন্টারনেট ঘেটে এই বাটুল বোমা তৈরীর দক্ষতা অর্জন করেছিল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ মন্ডল। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। আধুনিক কায়দায় কিভাবে এই বাটুল বোমা তৈরি করতে সক্ষম হল অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি, তা নিয়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে আল-কায়েদা জঙ্গী সংগঠনের লিঙ্ক ম্যান হিসেবে যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের কাছ থেকেই ২২ জনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নামের তালিকা পাওয়া গিয়েছে । সেই তালিকার মধ্যে মালদার ভুতনি এলাকার সিদ্ধার্থ মন্ডলের নাম রয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই জঙ্গী সংগঠনের লিংক ম্যান সন্দেহে এদিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা । যদিও এব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাদের কোনরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, ভুতনি থানা এলাকার সিদ্ধার্থ মন্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে মূলত বাটুল বোমা তৈরির অভিযোগে এনআইএর কর্তারা গ্রেফতার করেছে। মানিকচকে গত ৫ জানুয়ারি বাটুল বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রাডারে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি প্রথম নজরে ছিল । এরপরই মুর্শিদাবাদে আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৯ জন গ্রেপ্তারের পর মালদার ভূতনির সিদ্ধার্থ মন্ডলের নাম জানতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা। নানা সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ধৃত ব্যক্তি যে কোন জঙ্গি সংগঠনের লিংক ম্যান হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে সে ব্যাপারে অবশ্য কোন কিছু জানাতে পারে নি জেলা পুলিশ কর্তারা।