এক্সিস ব্যাঙ্কের বোলপুর শাখায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘন ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হতে থাকে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন আগুন আয়ত্বে আনার চেষ্টা করছে৷ উল্লেখ্য, গরু পাচার মামলায় তদন্তে নেমে এই ব্যাঙ্কের শাখায় একাধিকবার হানা দিয়েছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, এই শাখায় অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল, দেহরক্ষী সায়গল হোসেন সহ ঘনিষ্ঠদের একাউন্ট রয়েছে৷ এছাড়া সুকন্যা মণ্ডলের নামে কেনা জমির লেনদেন এই এক্সিস ব্যাঙ্কের বোলপুর শাখার মাধ্যমেই হয়েছিল৷ এই আবহে এই ব্যাঙ্কে ভয়াবহ আগুন৷ তথ্য লোপাটের জন্যই কি এই আগুন? নানা মহলে উঠছে এই প্রশ্ন৷
স্ত্রীর ক্যান্সার, স্বামী দেখেনা এমনকি যোগাযোগও রাখে না। অনাদরে তাই পড়েছিল শ্বশুরবাড়িতে, এটা সহ্য করতে পারেনি মেয়েটির বাবা, তিনি তাকে নিয়ে আসে নিজের বাড়ি বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের বেল বান্দী।কতই বা বয়স হবে, এই বয়সে যখন মেয়েটির পড়াশোনা করার কথা তখন অভাবের ঠেলায় গরীব বাবা মেয়েটির বিয়ে দিয়ে ছিল, ভাবনা ছিল এই , হয়তো খেয়ে পড়ে বাঁচবে ভালোভাবে কিন্তু কপালে সুখ না থাকলে যে কি হতে পারে সেটা জানে প্রত্যেকেই।হঠাৎ একদিন ক্যান্সার ধরা পড়ে, স্ত্রীর ক্যানসার শুনেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় স্বামী। অসহায় বাবা মেয়েকে নিজের বাড়ি বেলবান্দী নিয়ে চলে আসে। দুনিয়ার সবাই সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে পারে কিন্তু সন্তান কে ছেড়ে তো বাবা-মা চলে যেতে পারে না বা অবহেলায় মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না। যদিও আধুনিক সভ্যতায় এখন অনেক কিছুই ঘটছে কিন্তু গ্রামীণ সরলতায় এখনো ততটা কুটিলতা বা জটিলতা গ্রাস করেনি অতএব বাবা ফেলতে পারেনি মেয়ে তুহিনাকে।বাবা নৈশর শা প্রতিদিন সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ে ভিক্ষা করতে পরিবারের মুখে দু মুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য, নিঃস্ব পরিবারের নৈশর শা এর এটাই নিয়তি। তবুও এক বুক আশা নিয়ে ছুটে চলেছেন মেয়েকে নিয়ে এই ডাক্তার সেই ডাক্তারের কাছে।বাবা মা স্বপ্ল দেখেন একদিন না একদিন মেয়ে সুস্থ হয়ে গলা জড়িয়ে ধরে বলবে এইতো বাবা আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বাবা মার চোখে ঝরে যায় অনন্ত জলের ধারা।
পানিহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ হিন্দ নগরের বাসিন্দা অমল সেন পেশায় মোমবাতি বিক্রেতা হঠাৎ করেই গত শুক্রবার রাতে আজাদহিন্দনগরের অমল সেনের বাড়িতে আসেন কলকাতা পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার দুজন আধিকারিক। দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের থেকেই জানতে পারেন ব্যাংক প্রতারণা সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অমল সেন। ১২ ই সেপ্টেম্বর অমল সেন ও তার ছেলেকে নথি সহ দেখা করার কথা জানিয়ে গেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছে আগরপাড়া আজাদ হিন্দ নগরের সেন পরিবার। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে আগরপাড়া কুসুমপুর অঞ্চলের এলাহাবাদ ব্যাংকের শাখায় অমল সেনের নামে যে একাউন্ট রয়েছে তাতে লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। সে কারণেই কলকাতা পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি বহুদিন যাবত কোন ভাবে ব্যবহার করেন না অমল সেন বা তার পরিবার তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ।
শনিবার পূর্ব বর্ধ মানের খণ্ডঘোষে দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন পালিয়ে বেড়াচ্ছে, বালি চুরিতে যুক্তদের তেমনই অবস্থা হবে। খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম যদিও বিজেপি সাংসদের এইসব বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে কটাক্ষ করেছেন।আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এদিন খণ্ডঘোষের রূপসায় বিজেপির একটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, রাজ্যে এখন মহম্মদ বিনতুঘলকের সরকার চলছে, ডাকাত রাণীর সরকার চলছে। যা ইচ্ছে তাই করছে। এরপরেই পুলিশ ও প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, কিছু থানার ওসি ৬০০ কোটি টাকা এবং বিএলআরও ও ডিএলআরও যাঁরা হাজার হাজার কোটি টাকার বালি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে আমি চিফ সেক্রেটারিকে চিঠি পাঠিয়েছি। ধরে রাখুন, তদের ঠিক মতো করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি হোক বা রাজ্য সরকারের এজেন্সি হোক, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ঠিক সময়ে এদের মাণিক ভট্টাচার্য্য করে দেব। প্রাইমারি টেট দুর্নীতির অন্যতম নায়ক মাণিক বাবু যেমন লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন, এদেরও সেই ব্যবস্থা করা হবে। এদের সমস্ত টাকা রাজকোষে জমা পড়বে।
শুক্রবার মেমারি দুনম্বর ব্লকের শ্রীধরপুর কো-অপারেটিভ ব্যাংকে তিন দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশন দিল আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল। এদিনের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক জনকে শ্রীধরপুর কোপারেটিভ ব্যাংকের বোর্ডের মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।এই সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে স্লোগান সহ তারা হাজির হন শ্রীধরপুর কো অপারেটিভ ব্যাংকের প্রধান শাখায়। এবং সেখানে ডেপুটেশন দেন আদিবাসী সম্প্রদায় ভুক্ত এক বিশেষ প্রতিনিধি দল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মজুত ছিল পুলিশ বাহিনী। ডেপুটেশন প্রতিনিধির দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতগেছিয়া এক নম্বর পরগনার দিলীপ মুর্মু, এলাকার সকল মাঝি বাবা সহ আরো অনেকে।
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, দুটি বাঙ্কের আর্থিক অবস্তার অবনতির দিকে নজর রেখে আপাতত ছয় মাস ওই দুই ব্যাঙ্কের লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।উত্তরপ্রদেশের দুটি সমবায় ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে টাকা তোলা সহ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই দুই ব্যাঙ্ক হল লক্ষ্ণৌ আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেড, সীতাপুর। ব্যাঙ্কিং নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে এই বিধিনিষেধ ছয় মাসের জন্য আপাতত বলবৎ থাকবে।ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি বিবৃতি জারী করে বলেছে, লক্ষ্ণৌ আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা ৩০,০০০ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে টাকা তোলার সীমা গ্রাহক প্রতি ৫০,০০০ টাকা।জানা গেছে যে, এই দুটি ব্যাঙ্ক-ই আরবিআই-এর অনুমোদন হীন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুই ব্যাঙ্ক কোনওরকম ঋণ দিতে পারবে না, কোনও সংস্থা তে বিনিয়োগ করতে পারবে না, কোনও দায় বহন করতে পারে না ... সহ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এই দুই ব্যাঙ্কের ওপর।
বাঁকুড়া বিধানসভা থেকে পাঁচবার বিধায়ক হয়েছিলেন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কাশীনাথ মিশ্র। ২০১২-এর ১০ এপ্রিল এসএসকেএম হাসপাতালে প্রয়াণ হয়েছিল এই জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। যিনি নিয়মিত বিধানসভার অধিবেশনে হাজির হতেন। সাধারণের জন্য রাজনীতি করতেন। রবিবার তাঁর প্রয়াণ দিবসে একাধিক কর্মসূচি পালিত হয় বাঁকুড়ায়। সমস্ত অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।রবিবার সকালে কাশীনাথ মিশ্রের দশম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপর তাঁর স্মরণে ছিল রক্তদান শিবির। এই অনুষ্ঠানে মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন প্রয়াত কাশিনাথ মিশ্রের স্ত্রী মিনতি মিশ্র। রবীন্দ্র ভবনে ওই অকৃতদার নেতার স্মৃতিচারণা করেন প্রাক্তন সাংসদ অভিজিত মুখোপাধ্যায়, ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আশিসলাল সিং, রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি, জেলা নেতা অরূপ চক্রবর্তী ও অরূপ খাঁ, অলোক মুখোপাধ্যায়, তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি দিব্যেন্দু সিনহা মহাপাত্র, সমাজসেবী অচিন্ত্য ঘোষ, লড়াকু নেত্রী বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার মহিলা সভানেত্রী মৌ সেনগুপ্ত, ৬ বারের কাউন্সিলর রাখী রজক, মূল আয়োজক রাহুল সেন, জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধক্ষ শিবাজী ব্যানার্জী, প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য নেতা পলাশ সাধুখাঁ।ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং বলেন, কাশীনাথ মিশ্রকে আমরা ভুলতে পারব না। তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তাঁর আদর্শে আমরা চলতে চেষ্টা করব। তাঁর সম্বন্ধে জানতে পারলে আগামী প্রজন্মের অনেক কাজে আসবে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, কাশীনাথ মিশ্রের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতৃত্বের সঙ্গেও সদ্ভাব ছিল। বিধানসভায় তাঁর অংশগ্রহণ থেকে অনেকেই শিক্ষা নিতে পারেন।
জামাত-উল-মুজাহিদিন (জেএমবি) জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর হাতে গ্রেপ্তার এক শিক্ষক। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় ওই দুই জঙ্গিকে। ধৃত শিক্ষক আনিরুউদ্দিন আনসারির বাড়ি পুরুলিয়ার পাড়ায়। তিনি হাওড়া জেলার বাঁকড়ার মুন্সিডাঙ্গায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তিনি স্থানীয় মসজিদের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ১৪ মার্চ রাতে তাঁকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করে। আনিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুজন জেএমবি জঙ্গিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল।পুরুলিয়ায় নয়, হাওড়ার বাড়িতেই জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত শিক্ষককে বুধবার হাও়ড়া আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তকে হেপাজতে নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। ওই দুই জঙ্গি কবে থেকে ধৃতের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং এই দুজন ছাড়া আর কেউ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে এসটিএফ। ওই শিক্ষক নিজেও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে খবর, সম্প্রতি ভোপালে চারজন জঙ্গিকে সেখানকার দুটি জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে সেই রাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (এটিএস)। তাদের সূত্র ধরেই আনিরুদ্দিনের নাম উঠে আসে গোয়েন্দাদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গল এসটিএফ-এর গোয়েন্দাদেরও নজরে ছিল এই জঙ্গি। গতকাল রাত্রে তাকে ইউএপিএ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।এরপর আজ আনিরুদ্দিনকে হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হয়।
অনলাইন ব্যাংক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই ৫০ হাজার টাকা খোয়ালেন এক ব্যবসায়ী।প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মনিরুল হকের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের শিবপুর গ্রামে।প্রতারণার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ী বুধবার ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশকে মনিরুল জানিয়েছেন,তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।তাঁর একটি অনলাইন পেমেন্ট ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের জন্য মঙ্গলবার তিনি নেট থেকে ওই ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর সংগ্রহ করেন। আর সেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই তিনি প্রতারনার শিকার হন। মনিরুল হক জানান, পেটিম পেমেন্ট ব্যাংকের হেল্পলাইন ফোন নম্বরে ফোন করতেই তার কাছে ওটিপি নম্বর চাওয়া হয়। ওটিপি নম্বর শেয়ার করতেই তাঁর অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০,০০০ টাকা গায়েব হয়ে যায়। টাকা তোলার বিবরণ রাতে তার মোবাইলে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। এরপর পুনরায় তিনি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। তখন তাঁকে জানানো হয় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই টাকা পুনরায় একাউন্টে জমা হবে। সময় পেরিয়ে গেলেও একাউন্ট থেকে খোয়া যাওয়া তাঁর একাউন্টে আর জমা হয় না। মনিরুল হক বলেন, প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চিৎ হয়ে বুধবার আমি ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। ভাতার থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন অভিযোগের তদন্ত শুরে হয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা ব্যাংককে সেই রাজ্যের ভাষাতেও পরিষেবা দিতে হবে। অর্থাৎ বাংলার সমস্ত ব্যাংকে বাংলা পরিষেবা দেওয়াই আইন। না দেওয়া বেআইনি। অথচ বাংলায় ব্যবসা করা অধিকাংশ ব্যাংকই বাংলা ভাষায় পরিষেবা দেয় না। ২০১১-র আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলায় ৮৬% বাঙালি এবং বাঙালিদের মধ্যে ৮২% বাঙালি বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা জানে না। ব্যাংকগুলো শুধুমাত্র হিন্দি ও ইংরেজিতে পরিষেবা দেয়, সমস্যায় পড়ে সাধারণ বাঙালি। নিজের মাটিতে কেন বঞ্চিত হবে বাঙালি? বাংলায় পরিষেবার দাবিতে গত চার বছরে প্রায় ৮০০ ব্যাংকে ডেপুটেশন দিয়েছে বাংলা পক্ষ।যাতে সমস্ত ব্যাংকে বাংলা ভাষায় পরিষেবা পাওয়া যায়, সেই দাবিতে আজ ১৭ ই ফেব্রুয়ারী বাংলা পক্ষর তরফে শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি জনস্বার্থ মামলা দাখিল করল কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির কোর্টে। বাংলা পক্ষর লিগ্যাল টিম এই বিষয়ে কাজ করেছে, নেতৃত্বে হাইকোর্টের আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেবনাথ। আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেবনাথ, সাগ্নিক ভট্টাচার্য ও পুনম বসু এই মামলা দায়ের করেন। কোর্টে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি ও অন্যান্যরা।
সর্বত্রই যখন মহিলা ক্ষমতায়নে উদ্যোগী সরকার। এই পরিস্থিতিতে দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের নির্দেশে তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নয়া নির্দেশে বলা হয়েছে তিন মাসের বেশি অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা চাকরির ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে অনুপযুক্ত। সন্তানের জন্ম দেওয়ার চার মাস পরই চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন একজন মহিলা। আর এই নয়া নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই নোটিস প্রকাশ করার পর তীব্র বিরোধিতা করেছেন অনেকে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের কাছেও আর্জি জানিয়েছেন অনেকে, যাতে অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়।Press release relating to news items about required fitness standards for recruitment in Bank. Revised instructions about recruitment of Pregnant Women candidates stands withdrawn.@DFS_India pic.twitter.com/QXqn3XSzKF State Bank of India (@TheOfficialSBI) January 29, 2022চরম বিতর্কের মুখে মহিলাদের নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। শনিবার সকালে থেকেই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এরপরই তা প্রত্যাহার করে নিল এসবিআই। টুইট করে প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে ব্যাংকের তরফে। তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, আদতে তাঁদের নির্দেশের অপব্যাখ্যা হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া যে সর্বদা মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দিয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশ জুড়ে তাঁদের মোট কর্মীর ২৫ শতাংশই মহিলা। মহিলাদের সুরক্ষার কথা ভেবে পুরনো নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে দাবি স্টেট ব্যাঙ্কের।সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ। অবিলম্বে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে দিল্লির মহিলা কমিশনের তরফ থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছে এসবিআই-কে। ওই নির্দেশকে বৈষম্যমূলক ও অনৈতিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সম্প্রতি মহিলাদের নিয়োগ সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। সেখানে তিন মাসের বেশি অন্তঃসত্ত্বা, এমন মহিলাদের টেম্পোরারিলি আনফিট অর্থাৎ সাময়িকভাবে কাজের অনুপযুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে সন্তানের জন্ম দেওয়ার চার মাস পর একজন মহিলা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। নতুন যাঁরা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় আবেদন করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এ যেন চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে এমন অবস্থা। বর্ধমানে ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও একজনও দুস্কৃতির নাগাল পায়নি পুলিশ। তবে এই ঘটনার পর জেলার ব্যাঙ্ক গুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। সেই মতো গত দুদিন ধরে চলছে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় থাকা ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের নিয়ে পুলিশ কর্তাদের বৈঠক। যেমনটা মঙ্গলবার হল জেলার খণ্ডঘোষ, ভাতার, পূর্বস্থলী ও কালনা থানায়। এত কিছুর পরেও ব্যাঙ্কে দুস্কৃতী হানা রোখা যায় কিনা তার উত্তর ভবিষ্যতেই মিলবে বলে মত ওয়াকাবহাল মহলের। ব্যাঙ্কের সুরক্ষা বিষয়ক যে বিষয়গুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় তা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। কালনা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কগুলির সুরক্ষা বিষয়ক মিটিং তাঁরা করেছেন ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে। মূলত ব্যাঙ্কের ইমার্জেন্সি এলার্ম ও সিসিটিভি সচল রাখা সহ ব্যাঙ্কে আর্মড সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ ইত্যাদি বিষয় গুলি নিয়ে মিটিংয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার নম্বর, দমকল কেন্দ্রের নম্বর, সিকিউরিটি এজেন্সির নম্বর ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জায়গায় টাঙ্গিয়ে রাখার কথা কর্ত্পক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাঙ্কের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়গুলি নিয়ে মিটিংয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার এই দুদিনে কালনা মহকুমার নাদনঘাট , মন্তেশ্বর ,পূর্বস্থলী , কালনা প্রভৃতি থানা এলাকায় থাকা ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এমন আলোচনা সম্পূর্ণ হয়েছে বলে এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। ইতিপূর্বে জামালপুর থানার পুলিশ কর্তারাও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেছেন।এদিন ভাতার ও খণ্ডঘোষ থানাতেও ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই বিষয় নিয়ে এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিন)সুপ্রভাত চক্রবর্তী এদিন মেমারি থানায় এলাকার ব্যাঙ্ক ও পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষকে নিয়ে মিটিং করেন। শহর বর্ধমানে ডাকাতির ঘটনা এই প্রথম ঘটলো এমনটা নয় ।ইতিপূর্বে ২০২০ সালের ১৭ জুলাই দিনেদুপুরে শহর বর্ধমানের বিসিরোড এলাকায় থাকা স্বর্ণঋণ দান সংস্থাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তার আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে বৈদ্যনাথ ক্যাটরায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখা থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা লুট হয়। আর গত শুক্রবার সাত সকালে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বৈদ্যনাথ ক্যাটরার বাজারের দোতলায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল।তারা ব্যাঙ্কে থাকা গ্রাহকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বসিয়ে রেখে ও ব্যাঙ্ক কর্মীদের মারধোর করে ৩৩ লক্ষ টাকা লুট করেনিয়ে বিনা বাধায় পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময়ে ব্যাঙ্কের মূল গেটে তালাও লাগিয়ে দেয় মুখ ঢাকা থাকা দুস্কৃতিরা। এই ডাকাতির ঘটনার পর তড়িঘড়ি সিট গঠন করে তদন্তে নামার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন । দুস্কৃতিদের নাগাল পেতে ঘটনার দিন জেলার বিভিন্ন সড়ক পথে শুরু হয় নাকা চেকিং। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমনকি ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ দুস্কৃতিদের একজনেরও নাগাল পায় নি ।তারই মধ্যে এখন জেলার ব্যাঙ্ক গুলির সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন থানা এলাকায় থাকা ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং করে চলেছেন পুলিশ কর্তারা ।এই প্রসঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ,তাহলেকি এতদিন জেলার ব্যাঙ্ক গুলির সুরক্ষা নিয়ে পুলিশ সে ভাবে মাথা ঘামায় নি ? বর্ধমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাবার পর পুলিশ কর্তারা জেলার ব্যাঙ্কগুলির সুরক্ষায় খামতি খুঁজে পেলেন? এই সব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলাবাসীর মুখে মুখে।
ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক চাষি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। প্রতারিত চাষি সুশান্ত সাহানা প্রতারণার ঘটনার সবিস্তার উল্লেখ করে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে চাষ করা জামালপুরের কৃষক মহলের। চাষি সুশান্ত সাহানা জামালপুর থানার হরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তিনি জামালপুরের শুড়েকালনা স্টেট ব্যাঙ্কের একজন গ্রাহক। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আলু চাষের স্বার্থে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য তিনি নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ব্যাঙ্কে আবেদন করেন। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বিভিন্ন কাগজপত্রে তাঁকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়ার পর কয়েকদিন বাদে লোনের টাকা তুলে নেওয়ার কথা বলেন। ৮৩ হাজার টাকা লোন স্যাংশন হয়েছে বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন। সেই মতো আবেদন করার কিছুদিন বাদে সুশান্ত বাবু লোনের টাকা ব্যাঙ্কে তুলতে যান। তখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তাঁকে বলেন, লোনের টাকা আপনি তুলেনিয়ে গিয়েছেন। আবার কিসের লোন পাবেন।ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মুখ থেকে এমন কথা শুনে মাথায় হাত পড়ে যায় চাষি সুশান্ত সাহানার। ফের পরেরদিন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক লোনের টাকা তিনি তোলেননি। তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে দেখার জন্য সুশান্ত বাবু ওইদিন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে পুনরায় অনুরোধও করেন। কিন্তু ব্যাঙ্ক ম্যানেজার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে বসিয়ে রেখে জানিয়ে দেন পরের সপ্তাহে এসে খোঁজ নিতে। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এই ভাবে সুশান্ত বাবুকে দুমাস ধরে ঘোরায়।সুশান্তবাবু জানিয়েছেন, এরপর ফের একদিন লোনের টাকা না পাওয়ার কথা জানাতে তিনি ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের কাছে যান। তখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে হুমকি দিয়ে তাঁকে ব্যাঙ্ক থেকে একপ্রকার তাড়িয়ে দেয়। সুশান্তবাবু দাবি করেন, ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নিতে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পরে রবিবার জামালপুর থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।এই বিষয়ে জামালপুর থানার এক পুলিশ কর্তা বলেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। স্টেট ব্যাঙ্ক শুড়েকালনা শাখার ম্যানেজার মৃত্যুঞ্জয় কুমারকে এদিন ফোন করা হলে তিনি যদিও নিশ্চিৎ ভাবে বলতে পারেননি সুশান্ত সহানা কেসিসি লোনের টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিয়েছেন, না তোলেননি। তবে তিনি বলেন , সুশান্তবাবু ব্যাঙ্কে এসেছিলেন। ওনাকে আমি সময় দিতে পারিনি। ব্যাঙ্কের সিসিটিভি টেকনিশিয়ান কোভিড পরিস্থিতির জন্য আসতে পারেনি বলে সিসিটিভি ফুটেজ এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি। নথি সহ সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখতে হবে। সঠিক কি হয়ে আছে তা খতিয়ে দেখে ওই গ্রাহককে ডেকে পাঠাবেন বলে ম্যানেজার জানিয়েছেন। ছবি প্রতারিত চাষি ও ব্যাঙ্ক ।
বাঁকা নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে ট্র্যাক্টরে লোড করে পাচার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল পাঁচ জন। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ শনিবার পালসিট এলাকায় বাঁকা নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ মাটি মাফিয়াকে ধরে ফেলে। পালিয়ে যায় বেশ কয়েকজন। জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম তাপস ঘোষ,অজয় টুডু,শেখ মাজু, নরেশ সেন ও বিকাশ পাকড়ে। ধৃতদের মধ্যে তাপস গলসির নবখন্ড এবং অজয় মেমারির পালসিটের বাসিন্দা। বাকিরা সকলে শক্তিগড় থানা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনাস্থল থেকে মাটি বোঝাই ৬ টি ট্র্যাক্টর ও মাটি কাটার যন্ত্র(জেসিবি)পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। রবিবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। তদন্তকারী অফিসারের কাছে সপ্তাহে একদিন হাজিরা, থানা এলাকা না ছাড়া এবং তদন্তে সব ধরণের সহযোগিতা ও সাক্ষীদের প্রভাবিত না করার শর্তে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন।পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকালে পালশিট এলাকায় বাঁকানদীর পাড় থেকে মাটি কেটে তা ট্র্যাক্টরে ভরা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে মাটি কাটার যন্ত্র ও ট্রাক্টরগুলিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে ধরা হয়। ১০-১২ জন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাড় থেকে মাটি কাটার ফলে বর্ষার সময় বন্যা হতে পারে বলে পুলিশের আশঙ্কা। ঘটনার বিষয়ে থানার এএসআই কার্তিক চন্দ্র পাখিরা অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাক্টর ও মাটি কাটার যন্ত্রের মালিকানা সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র ধৃতরা দেখাতে পারেনি। প্রশ্ন উঠেছে, মাটিকাটার ঘটনা কি এটাই প্রথম? এদের মাথায় যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক সুরক্ষা ভাতা প্রকল্পগুলিকে মান্যতা দিল বিশ্ব ব্যাংক। সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প গুলি যাতে মসৃণভাবে এগোতে পারে, সে কথা মাথায় রেখে ১কোটি ২৫ লক্ষ ডলার বা ১০০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করলো বিশ্ব ব্যাংক। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সমাজের দূর্বল মানুষের সহায়তায় মুখ্যমন্ত্রী র পরিকল্পনায় প্রায় ৪০০ টি প্রকল্প চলছে। রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো উন্নয়ন কর্মসূচিতে এটি বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।এই প্রকল্প গুলি চালাতে যাতে কোনোও সমস্যা না হয়, তাই বিশ্ব ব্যাংক এই ঋণ দিচ্ছে।World Bank has appreciated excellent work being done by West #Bengal in implementation of Rashtriya Swasthya Bima Yojana Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 11, 2015প্রথম তৃণমূল সরকারের সময় থেকেই মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করেছে রাজ্য। সরকারের দাবি, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী বা হালে লক্ষ্মীর ভান্ডার মহিলাদের ক্ষমতায়নের পথে সহায়ক প্রকল্প। এতে যেমন মহিলাদের আয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব, তেমনই তা নারী শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতি, বাল্যবিবাহ রোধ বা সামগ্রিক অর্থনীতি সচল করার পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে ভাতা প্রাপকদের দ্রুত চিহ্নিত করে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংক এ ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া শুধু সামাজিক প্রকল্পই নয়, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে টেলি মেডিসিন পদ্ধতিতে চিকিৎসা ব্যাবস্থা র উন্নতি করা যাবে।এর আগে সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে বিধবা, বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলাদের জন্য রাজ্যের পদক্ষেপ এবং কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকার প্রশংসাও করেছিল বিশ্ব ব্যাংক।
ব্যাঙ্ক ডাকাতির পর পেরিয়ে গিয়েছে ২৪ ঘন্টা। দুস্কৃতীদের বিষয়ে এখনও অথৈ জলে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। শুক্রবার বর্ধমানের বৈদ্যনাথ ক্যাটরার বাজারের দ্বিতলে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখায় হানা দিয়ে ৩৩ লক্ষ টাকা লুট করে পালায় সশস্ত্র ডাকাত দল। ঘটনার পর দ্রুত সিট গঠন করে পুলিশ তদন্তে নামে। দুস্কৃতিদের নাগাল পেতে শুরু হয় জেলার বিভিন্ন সড়কপথে নাকা চেকিং। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বেমালুম গায়েব হয়ে যায় দুস্কৃতীরা।জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন শনিবার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি । যদিও বর্ধমান থানার এক আধিকারিকের কথায় জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কে লুট টালিয়ে দুস্কৃতীরা পায়ে হেটে বিসিরোড হয়ে কার্জন গেটের দিকে যায়। তারপর তারা কোন দিকে গেছে বা কোন গাড়িতে করে গেছে তার কোন তথ্য এখনও পুলিশের কাছে নেই। তবে অনুমান করা হচ্ছে দুস্কৃতিরা বাইকে চেপে বর্ধমান থেকে পালিয়েছে।বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুস্কৃতিদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলছে সিআইডিও ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার তদন্ত শুরু করতে চলেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার দিনে দুপুরে বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্রে থাকা ব্যাঙ্কে ঢুকে ৩৩ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে পালায় হিন্দিভাষী সশস্ত্র ডাকাত দল। এর আগে ২০২০ সালের ১৭ জুলাই বর্ধমানের বিসিরোড এলাকায় থাকা স্বর্ণ ঋণদান সংস্থায় ডাকাতির ঘটনা ঘটায় হিন্দিভাষী দুস্কৃতীরা। তারও আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে বৈদ্যনাথ ক্যাটরায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখা থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা লুট হয়।অতি সম্প্রতি এসটিএফের অভিযানে হেরোইনের আন্তারাজ্য কারবারী ডেরার হদিশ উদ্ধার হয় বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে। অপরাধের ঘটনা ঘটানোর জন্য কেন বারে বারে হিন্দি ভাষী দুস্কৃতিরা বর্ধমানকেই বেছে নিচ্ছে সেই প্রশ্নই এখন সবাইকে ভাবিয়ে তুলিয়েছে।পুলিশ কর্তারাও বিষয়টি নিয়ে কাঁটা ছেঁড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। দুস্কৃতিদের সঙ্গে ভিন রাজ্যের যোগ রয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। বর্ধমানের বৈদ্যনাথ ক্যাটারার বাজারের দোতলায় থাকা ব্যাঙ্কে শুক্রবার পৌনে ১০টার আগেই ঢুকে পড়ে ৫-৬ জনের দুস্কৃতি দল। হিন্দিভাষী দুস্কৃতীদের মুখ ছিল ঢাকা। হাতে ছিল আগ্নেআস্ত্র। তাঁদের সঙ্গে ছিল স্কুল ব্যাগ। ব্যাঙ্কে যে কজন গ্রাহক ছিল তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুস্কৃতিরা আগ্নেআস্ত্র দেখিয়ে বসিয়ে রাখে। এরপর ব্যাঙ্কের অন্য আধিকারিকদের মারধোর করে ব্যাঙ্ক থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে দুস্কৃতিরা ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে পড়ে। ব্যাঙ্কের মূল গেটের দরজায় বাইরে থেকে তালাচাবি দিয়ে দুস্কৃতিরা কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাঙ্কের সাইরেন বাজার পর এই দুস্কৃতি হানার বিষয়টি জানাজানি হয় । খবর পেয়ে জেলার পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহরায় সহ জেলা পুলিশের অন্য কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌছান ।দ্রুত সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ দুস্কৃতিদের টিকি এখনও পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি।
দিনে দুপুরে শহর বর্ধমানের প্রাণকেন্দ্রে থাকা ব্যাঙ্কে ঢুকে ৩৩ লক্ষ টাকা করে নিয়ে পালালো সশস্ত্র ডাকাত দল। দুঃসাহসিক এই ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শুক্রবার বেলা থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শহর বর্ধমানে। খবর পেয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহ রায় সহ বর্ধমান থানার পুলিশ কর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান।পুলিশ কর্তাদের নির্দেশে দুস্কৃতীদের খোঁজে জেলার বিভিন্ন সড়কপথে শুরু হয় নাকা চেকিং। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কসহ ঘটনাস্থল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুস্কৃতীদের চিহ্নিতকরণের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলে। যদিও দুস্কৃতীদের নাগাল পাওয়া না যাওয়ায় সিট গঠন করে শুরু হয়েছে ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনার তদন্ত। দুস্কৃতীরা কোথা থেকে এসেছে, কিভাবে এসেছে, কোন পথে পালালো সব প্রশ্নের উত্তর পুলিশের কাছে এখনও অধরাই রয়েছে।শহর বর্ধমানে ডাকাতির ঘটনা এই প্রথম ঘটলো এমনটা নয়। বছর দুই আগে ২০২০ সালের ১৭ জুলাই বর্ধমানের বি সি রোড এলাকায় থাকা স্বর্ণঋণ দানকারী সংস্থাতেও ঘটে ডাকাতির ঘটনা। কয়েকবছর আগে এই ব্যাংকের পাশেই আর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা ডাকাতি হয়েছিল। ফের এদিন শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখায় ঘটলো ডাকাতির ঘটনা। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের হেড কোয়ার্টার শহর বর্ধমানকে কেন বারবার টার্গেট করছে দুস্কৃতীরা সেই বিষয়টি পুলিশ কর্তাদের বিশেষ ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।বর্ধমানের বৈদ্যনাথ ক্যাটারার বাজারের দোতলায় রয়েছে ব্যাঙ্কের শাখা অফিস। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যাংকের এক আধকারিকের স্ত্রী দীপা কুমার জানান, তিনি তাঁর অসুস্থ স্বামীকে পৌনে ১০ টা নাগাদ ব্যাঙ্কে দিতে এসেছিলেন। ব্যাঙ্কে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দিভাষী কয়েকজন যুবক ভদ্রভাবে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে বসতে বলে। তখন মনে করেছিলেন কোন শোকসভা ব্যাঙ্কে হচ্ছে। এরপরেই তাদের মোবাইল ফোন ওই যুবকরা নিয়ে নেয়। যুবকরা সংখ্যায় ৫-৬ জন ছিল।সবার হাতে আগ্নেআস্ত্র ছিল। যুবকদের মুখ ঢাকা ছিল। পিঠে ছিল স্কুল ব্যাগ। সবাইকে বসিয়ে রেখে যুবকরা ব্যাঙ্কের অন্য আধিকারিকের কাছে চাবি চাইছিল। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপারেশন চালিয়ে সাড়ে ১০ টার মধ্যে দুস্কৃতীরা ব্যাঙ্ক ছেড়ে পালায়। যাওয়ার সময়ে ব্যাঙ্কের মূল গেটের দরজার বাইরে তালাচাবি দিয়ে দুস্কৃতীরা চলে যায়। ঘটনার সময়ে ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা অপর গ্রাহক অনিতা সরকার, সুষমা মল্লিক জানান, ব্যাঙ্ক চালু হতেই ৬ জনের একটি দুস্কৃতীদল ব্যাংকে ঢোকে। তাঁদের সকলের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। মুখ ঢাকা ছিল কাপড় দিয়ে। তখন সবেমাত্র ব্যাঙ্কের শাখায় লেনদেন শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাতেগোনা ১০ - ১৫ জন গ্রাহক ব্যাংকের ভিতর। গ্রাহকদের সাবার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুস্কৃতীরা ব্যাঙ্ক কর্মীদের মারধর করে লুটপাট চালানো শুরু করে দেয়। দ্রুত লুটপাট চালিয়েই দুস্কৃতিরা পালিয়ে যায়। দুস্কৃতীরা চলে যাওয়ার পরেই ব্যাঙ্কের অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এরপরেই খবর পেয়ে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ও বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছূটো আসেন। ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের পাশাপাশি ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা গ্রাহকদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তে আসা পুলিশ আধিকারিকরা।ব্যাঙ্কের ম্যানেজার কুন্দন কিশোর দাবি করেছেন, ব্যাঙ্কের দুজন কর্মীকে মারধর করে দুস্কৃতিরা ব্যাঙ্ক থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে গিয়েছে। অপর ব্যাঙ্ক কর্মীদের বক্তব্য, আগ্নেআস্ত্র দেখিয়ে দুস্কৃতীরা ব্যাঙ্কের ভল্টের চাবি কড়ে নেয়। ভল্ট থেকে টাকা বের করে একটি ব্যাগে ভরে নিয়ে দুস্কৃতীরা হেঁটে ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে যায়। দুস্কৃতিরা ব্যাঙ্কের হার্ড ডিস্ক নিয়েও পালিয়ে গিয়েছে বলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন জানিয়েছেন, সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুস্কৃতিদের নাগাল পেতে বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং চালানো হয়েছে। সি সি টিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুস্কৃতীরা কোথাকার গ্যাং তা তদন্ত এগোলে জানা যাবে।এদিন যে ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে সেটা অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। সেখান থেকে একেবারে কাছেই জেলা পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের অফিস। বর্ধমান থানাও অনতিদূরে। কিছু দিন আগে শহরের বিবেকানন্দ কলেজ মোড়ের কাছে গ্লাসফ্যাক্টরি থেকে দুজন হেরোইন কারবারিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এসটিএফ (STF)। তাঁরা ওই এলাকায় বাড়ি কিনে বেআইনি মাদকের কারবার চালাতো বলে অভিযোগ। হেরোইন তৈরি করতো অভিযুক্তরা। ক্রমশ বর্ধমান শহরে আস্তানা গড়ছে অপরাধীরা, বাড়ছে অপরাধ মূলক কারবার।
বর্ধমানে ঘটে গেল বড়সড় ব্যাঙ্ক ডাকাতি। শুক্রবার সকালে ব্যাঙ্ক চালু হতেই ৬-৭ জনের একটি দুস্কৃতির দল ব্যাঙ্কে ঢোকে। তাদের প্রত্যকেরই হাতেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। পিঠে ছিল স্কুল ব্যাগ। ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে শহরের প্রাণ কেন্দ্র কার্জনগেটের পাশে বৈদ্যনাথ কাটরা-র ১ম তলে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায়। দুস্কৃতিদের মুখ ঢাকা ছিল কাপড় দিয়ে।তখন সবেমাত্র ব্যাঙ্কের শাখায় লেনদেন শুরু হয়েছে। হাতেগোনা ১০-১৫ জন গ্রাহক। দুস্কৃতীরা ব্যাঙ্কে ঢুকে গ্রাহকদের মোবাইল ফোন প্রথমে কেড়ে নেয়। তারপর ব্যাঙ্ক কর্মীদের মারধর করে লুটপাট চালায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ডাকাতদলটি লুটপাট করে চম্পট দেয়। লুট করে পালানোর সময় ব্যাঙ্কের গেটে তালা দিয়ে যায় দুস্কৃতীরা, যাতে কেউ বেরিয়ে পুলিশে খবর না দিতে পারে। খবর পেয়েই ব্যাঙ্কে ছুটে যায় বর্ধমান সদর থানার পুলিশ। পৌঁছান জেলার পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়।বর্ধমান শহরে ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনায় সিট গঠনের কথা জানানো হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন জানিয়েছেন, আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা লুঠ করেছে দুস্কৃতীরা। ঘটনার পর জেলা জুড়ে নাকা চেকিং শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রের ব্যাংক মার্জারের সিদ্ধান্তের দরুন এলাহাদাদ ব্যাঙ্ক মিশে গিছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সাথে। আর দুই ব্যাঙ্ক মার্জার হতেই গায়েব হয়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভান্ডারডিহির বহু মানুষের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা। যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে ভান্ডারডিহির ব্যাঙ্ক গ্রাহক মহলে। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সোমবার দফায় দফায় ব্যাঙ্কে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ব্যাঙ্কের লেনদেন বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে এদিনের মত পরিস্থিতি স্বাভারিক হয়।বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ভান্ডারডিহির গঞ্জে ছিল এলাহাবাদ ব্যাংকের একটি শাখা। গ্রামের বহু মানুষ সেখানেই লেনদেন করতেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে কিছুদিন আগে ওই ব্যাংকটি মিশে যায় ইন্ডিয়ান ব্যাংকের সঙ্গে। তার পরেই গরিব মানুষজন ও চাষিরা দেখতে পান গায়েব হয়ে গিয়েছে তাঁদের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা। এই ঘটনার কারণে সবার মাথায় হাত পড়ে যায়। গ্ৰাহকদের পাশ বুকও আপডেট হয়নি। সেই কারণেই এলাকার গ্রাহকরা এদিন দফায় দফায় ওই ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ব্যাঙ্কের লেনদেনও বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রন্সফার করে নেওয়ার কাজ চলছিল সি এস পি ও ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের মদতে। গ্রাহকরা অভিযোগ বলেন, তাঁরা জানতে পারলেনই না তারই মধ্যে কখন তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হল। এমনকি বন্ধকী আমানতের টাকা ম্যাচুরিটি হলেও তার টাকা মেলেনি।গ্রাহক মুক্তিপদ হাজরা বলেন, আমার ১ লাখ টাকা আটকে গেছে। টাকার অভাবে এখন তিনি জ্যাঠার চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অপর গ্রাহক রেখা হাজরা বলেন, তিনি তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলতে চান অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য। কিন্তু জুতোর শুখতলা খইয়ে ফেলেও টাকা পাচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। সুব্রত খাঁ নামে এক গ্রাহক বলেন, উইথড্রয়াল শ্লিপে তাকে সই করিয়ে অন্য লোক টাকা নিয়ে গিয়েছে। গ্রাহকদের এইসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।
মিশনারিজ অব চ্যারিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সরকার সংস্থার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। প্রত্যেকেই কেন্দ্রের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছেন। এরপরই কেন্দ্রের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করা হল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, মিশনারিজ অব চ্যারিটি-র অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেনি কেন্দ্র। সংস্থার তরফ থেকেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রের দাবি কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় সংস্থার রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণ করা হয়নি।সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, মাদার টেরিজার সংস্থা মিশনারিজ অব চ্যারিটির সবকটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্রিসমাসে এমন খবর জেনে আমি স্তম্ভিত। সংস্থার অধীনে চিকিৎসাধীন ২২ হাজার রোগী ও কর্মীর জন্য নেই কোনও খাবার বা ওষুধ। মমতার দাবি, আইন সর্বোপরি হলেও মানবিকতার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা উচিৎ নয়।Shocked to hear that on Christmas, Union Ministry FROZE ALL BANK ACCOUNTS of Mother Teresas Missionaries of Charity in India!Their 22,000 patients employees have been left without food medicines.While the law is paramount, humanitarian efforts must not be compromised. Mamata Banerjee (@MamataOfficial) December 27, 2021তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সংস্থার দেওয়া বিবৃতি টুইট করেছেন। সেখানে সংস্থার দাবি, তাঁদের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়নি। কেন্দ্রের তরফে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কোনও নির্দেশও আসেনি। তবে, তারা জানতে পেরেছে যে এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশনের পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। তাই জটিলতা যাতে না বাড়ে, তার জন্য আপাতত সংস্থার শাখাগুলিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে বলে দাবি মিশনারিজ অব চ্যারিটির।এই ইস্যু প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার বিকেলেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার মিশনারিজ অব চ্যারিটির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেনি। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তরফ থেকে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে যে, সংস্থার তরফেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়েছিল।কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, ২৫ ডিসেম্বর সংস্থার এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশনের পুনর্নবীকরণ করেনি কেন্দ্র। বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেই রেজিস্ট্রেশন জন্য সংস্থার তরফে কোনও আবেদন জানানো হয়নি বলেই দাবি করেছে কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল ওই রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ। সেটা বর্ধিত করা হয় ৩১ ডিসেম্বর অবধি। পরে বেশ কিছু তথ্য সামনে আসে, যা কেন্দ্রের শর্তের পরিপন্থী। তাই, রেজিস্ট্রেশনের পুনর্নবীকরণ করা হয়নি।