• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Advertisement

কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
দেশ

পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ না হলে মোটা টাকা জরিমানা, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অসুখ সারানোর বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো বিজ্ঞাপনের কারণে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত বছর ২১সে নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ, অবিলম্বে পতঞ্জলির এই মিথ্যা বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ সংস্থাটি অমান্য করে চলেছে বলে অভিযোগ ওঠে, ফলে এই বিষয় নিয়ে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ সে মার্চ মঙ্গলবার ভুয়ো বিজ্ঞাপন নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের প্রতিষ্ঠাতা যোগগুরু বাবা রামদেব ও সংস্থার পরিচালক অধিকর্তা আচার্য বালাকৃষ্ণকে তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি আসানউদ্দিন অমানুল্লার বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। এই মামলায় পতঞ্জলি সংস্থার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুকুল রোহিতেগি এবং বিপক্ষে ছিলেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের আইনজীবী পি এস পাটোয়ালিয়া। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি হিমা কোহলি জানতে চান, সুপ্রিম কোর্টের নোটিস অবমাননার কারণ। আইনজীবী রোহিতেগি জানান, জবাব দেওয়া হয়নি। প্রতুত্তরে বিচারপতি কোহলি জানান, আমরা এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আপনারা জবাব দেননি, ফলে নির্দেশ ও পরিণতির বিষয়টি সামনে আসে এরপরই যোগগুরু বাবা রামদেবকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশনের অভিযোগ, পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ অ্যালোপ্যাথি ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি রোগ নিরাময়েরও ভুল দাবি করে চলেছেন। সেই সব বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে ও সংস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশন। নভেম্বর মাসে এই মামলার শুনানির সময় বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও চিকিৎসা ব্যাবস্থার অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার জন্য পতঞ্জলি সংস্থাকে ভৎসনা করেছিল সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি আমানুল্লা জানান, ভবিষ্যতে এই প্রচার চালানো হলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক বার্তা দেন। জরিমানার বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে রামদেব জানিয়েছেন, কিছু চিকিৎসক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার সংস্থা পতঞ্জলিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। শুধু পতঞ্জলিই নয়, আয়ুর্বেদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এক সাংবাদ মাধ্যমে রামদেব বলেছেন, যদি আমরা মিথ্যাবাদী হই, তবে ১০০০ কোটি টাকা জরিমানা করুন। আমরা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত।

মার্চ ২১, ২০২৪
নিবন্ধ

এলো রে এলো পুজো এলো, ঢ্যামকুড়াকুড় ... মা-আ-আ-তলো রে-এ-এ ভুবন...

সকাল দশটা। স্কুটার নিয়ে ছুটছি কর্মস্থলে। ভাঙাচোরা রাস্তা... কানফাটানো হর্ন... সর্বব্যাপী ধোঁয়া-ধুলো... অসহিষ্ণু টোটো... দিগ্বিদিকজ্ঞানশূণ্য পথচারী... মাইকে ঢ্যামকুড়াকুড় ... মা-আ-আ-তলো রে-এ-এ ভুবন...বৃষ্টি এখন এই আছি এই নেই আমি যেন পাখি মেলি পাখনা! আজ সকাল থেকে চারদিক আলোঝলমল। এক আকাশ নরম শরতের রোদ ঝাঁপিয়ে পড়েছে বর্ধমান শহরের ওপর; মিঠে আদর মাখিয়ে দিচ্ছে আমার কাঁধে.. পিঠে .. কমতে থাকা চুলের ফাঁকে!চারদিকে ফ্লেক্স-ফেস্টুন-ফাটা হোর্ডিংয়ে পুজোর সোচ্চার ঘোষণা। মণ্ডপে মণ্ডপে বাঁশ-শালবল্লার কঙ্কাল দ্রুত ঢাকা পরছে ত্রিপল-পলিথিন-প্লাইউডের ঘেরাটোপে। তাদের পর্দাঢাকা অন্দরমহলে শেষ কদিনের রহস্যময় তৎপরতা। কিছু কুচোকাঁচার হুটোপাটি তার আশেপাশে।বিকেলের দিকে মাঝেমাঝেই দেখি বিচিত্র সব শোভাযাত্রা--- ফর্সা ধুতিগেঞ্জি পরা ঢাকী... রণপা চড়ে টলমলিয়ে হাঁটতে থাকা তালঢ্যাঙা মানুষ, গা থেকে তাদের লুটিয়ে পড়ছে বড় শোরুম বা শপিংমলের নামাঙ্কিত লম্বা আঙরাখা... পিছুপিছু রঙবেরঙের প্ল্যাকার্ড বাগিয়ে ধরে সারিবদ্ধ পদযাত্রীরা। খবরকাগজের পাতায়ও লোভনীয় সব শারদীয়া অফার--- পাতাজোড়া বিজ্ঞাপনে সুশোভিতা সুন্দরীদের পণ্যবাহী আহ্বান!কেমন হুট করে যেন পুজো এসে গেল এবার! টুপটাপ করে বিনা সোরগোলে বেরিয়ে গেল একটার পর একটা পুজোবার্ষিকী ... দেখতে দেখতে মণ্ডপ গজিয়ে উঠলো এখানে সেখানে ... ঢাউস ঢাউস পোশাকের মল-গুলোতে সম্বৎসরের ভিড় শুধু যেন বেড়ে গেল একটুখানি... সমস্ত ট্রেনের টিকিট প্রত্যাশীদের চোখের সামনে লম্বা লম্বা ওয়েটিং লিস্ট ঝুলে গেল কোন অলক্ষ্যে।নাকি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি আমিই! চোখ মেলে দেখছি না সোনা সোনা আকাশ আর সবুজ সবুজ মাটির দিকে! নতুন রঙের ছোঁয়ায় হৃদয় মাতছে না আর, আলোর জোয়ারে খুশীর বাঁধ ভাঙতেও গেছে ভুলে !বিকেলে কর্তাগিন্নী তাই বেরিয়ে পড়লাম। লড়ঝড়ে স্কুটারটা নিয়ে টলমল করতে করতে বাঁধ পেরিয়ে নেমে এলাম দামোদর-এর ধারে। আদিগন্ত দুধসাদা কাশফুলের চাদরে গা ঢেকে দুলছে দু পাড়। পাশে শেষবর্ষার ভরা স্রোত বয়ে চলেছে আপন বেগে। একমানুষ উঁচু কাশবন... ভিজে বালি... দুতিনটে উল্টানো নৌকা... জলের ওপাড়ে বাতাসে ভাসছে ইনি-মিনি-টাপা-টিনি-টানা-টুনি-টাসা...আকাশে শেষ বিকেলের রঙের খেলা... সন্ধ্যে নেমে আসছে উড়ন্ত চিলের ডানায় রোদের গন্ধ মুছে দিয়ে... ছোটো ছোটো কালচে পাখিগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে উড়ছে কাশফুলের মাথায় মাথায়... কৌতুহলী চোখে আমাদের মাপতে মাপতে চলে গেল দুতিনটে প্যাংলা ছেলে।আজ রাত পেরোলেই মহালয়ার ভোর; অখিল বিমানে বেজে উঠবে তাঁর জয়গান। আগমনী আলো আকাশ জুড়ে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে আবাহন করবে দূর্গা দূর্গতিনাশিনীর। বাঙালীর ঘরে ঘরে স্নেহময়ী মা উমা হয়ে বিরাজ করবেন সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা জগজ্জননী মহামায়া।এ দ্যুলোক মধুময় হোক, মধুময় হোক পৃথিবীর ধুলি।সবাই সুস্থ থাকুক, আনন্দে থাকুক। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াক।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২
দেশ

টিভি-তে বাচ্চাদের অনুষ্ঠান থেকে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন ও স্টান্ট বন্ধ করার পরামর্শ

কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক পরামর্শ দিয়েছে যে শিশুদের অনুষ্ঠানের সময় কোনও জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন প্রচার করা উচিত নয়। এ বিষয় একটি বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আর সেই সভায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের সচিব রহিত কুমার সিং সভাপতিত্ব করেন।রহিত কুমার সিং ছাড়াও সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র , স্বাস্থ্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিবরা। আর সেখানেই শিশুদের অনুষ্ঠানের মাঝে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন নিষেধ করার প্রস্তাব দেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক। পাশাপাশি শিশুদের জন্য সম্প্রচারিত নানা অনুষ্ঠানে ডিএইচএ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড-এর বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করার প্রস্তাব দেন ওই অফিসার। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জানান সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।১৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত বৈঠকে, ডব্লিউসিডি মন্ত্রকের এক আধিকারিক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে শিশুদের অনুষ্ঠানের সময় জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনগুলিকে অনুমতি দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। আধিকারিকরা আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে কার্বনেটেড পানীয়ের বিজ্ঞাপনগুলি একেবারেই দেখানো উচিত নয়, এই ধরনের বেশীরভাগ বিজ্ঞাপণেই সেলিব্রিটিদের বিপজ্জনক স্টান্ট করতে দেখা যায়। ডব্লিউসিডি মন্ত্রকের আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন যে, কিছু সংস্থা আছেন যারা তাঁদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে ডিএইচএ ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো স্বাস্থ্য পরিপূরক এর প্রচার করেন এবং তারা দাবি করেন এতে মস্তিষ্কের বিকাশ হবে। মন্ত্রক এই ধরনের প্রচার একেবারেই সমর্থন করে না। পাশাপাশি ওই বৈঠকে ২০২১ সালের কেন্দ্ৰীয় ক্রেতা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। মূলত শিশুদের উদ্দেশ্যে যে বিজ্ঞাপনগুলি তৈরি করা হয়, তাদের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। ২০১৯ সালের ক্রেতা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ওই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়।শিশুদের অনুষ্ঠানে স্টান্ট এ নিশেধাজ্ঞাএই নির্দেশিকাগুলির প্রথম খসড়াটি ২০২০ তে ক্রেতা সুরক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এই খসড়ায়, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞাপনগুলিতে সেই সমস্ত আচরণ নিষিদ্ধ করা যেগুলি শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।খসড়া-র নির্দেশিকাতে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাচ্চাদের ব্যবহারযোগ্য পণ্য গুলিতে কোনও ভাবেই উল্লেখ করা যাবে না যে সেই পণ্য ব্যবহার না করলে তার বিশেষ ক্ষতি হয়ে যাবে। এবং তাঁদের অনভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে ভুল ভাবে কোনও পরিষেবার বৈশিষ্ট্যগুলিকে অতিরঞ্জিত করবে না যা শিশুদের অবাস্তব প্রত্যাশার দিকে পরিচালিত করতে পারে।খসড়া নির্দেশিকাতে আরও বলা হয়েছে যে, বিজ্ঞাপনগুলি কোনভাবেই শিশুদের উদ্দেশ্য করে ইঙ্গিত করবে না যে তারা নির্দিষ্ট পণ্য ব্যাবহার না করলে অন্য শিশুরা তাঁকে দেখে উপহাস করবে, অন্যদের থেকে তারা নিকৃষ্ট হয়ে যাবে বা কম জনপ্রিয় হবে। এবং শিশুদের একটি পণ্য বা পরিষেবা কেনার জন্য বা তাদের পিতামাতা, অভিভাবক বা অন্যান্য ব্যক্তিদের প্ররোচিত করার জন্য সরাসরি পরামর্শ যাতে সেই বিজ্ঞাপনে না থাকে। তামাক বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক কোনও পণ্য-র প্রচারকারী বিজ্ঞাপনগুলিতে শিশুদের দেখানোর উপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও করা হয়েছে।ক্রেতা সুরক্ষা আইনের ১০ নং ধারায়, কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে উপভোক্তাদের অধিকার লঙ্ঘন, অন্যায্য ব্যবসায়িক অভ্যাস, এবং জনসাধারণ এবং উপভোক্তাদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ক্ষতিকর মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের এই আইনে জন্য জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে, যা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া যেতে পারে। এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের সমর্থনকারীদেরকে তিন বছর পর্যন্ত হাজত বাস হতে পারে।

মার্চ ০৭, ২০২২
কলকাতা

Poster Controversy: শিয়ালদহের উড়ালপুলের ছবি 'চুরির' অভিযোগ ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে

উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পর ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারের বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক। পথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি স্লোগান লেখার প্রতিযোগিতায় শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর ছবি ব্যবহার করার অভিযোগ। তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।শুক্রবার তাঁদের সরকারি টুইটার হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে ত্রিপুরা সরকার। পোস্টটিতে লেখা হয়, পথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি স্লোগান লেখার প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে। যাতে জিতলে ৫০০০ টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে। অভিযোগ, পোস্টটিতে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি কলকাতার শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর । কলকাতার সেতুর ছবি দিয়ে নিজেদের প্রচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম লাইন, হলুদ ট্যাক্সি এবং নীল রঙের বাস। যা ত্রিপুরায় পরিবহণ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ শনিবার বিজ্ঞাপনী ছবি চুরির অভিযোগ তুলে বলেন, এর আগে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিজ্ঞাপনে মা উড়ালপুলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে অন্ডাল বিমানবন্দরের ছবি। এ বার ত্রিপুরা সরকার শিয়ালদহ উড়ালপুলের ছবি চুরি কের বিজ্ঞাপন বানাল।বিষয়টিকে গুরুত্বই দিতে চাননি বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, কোন বিজ্ঞাপন সংস্থা, কীসের ছবি ছেপে, কী উন্নয়ন বোঝাতে চেয়েছেন জানা নেই। এটায় রাজনীতি খোঁজার কিছু নেই। সরকার ভুল করলে শুধরে নেবে।

ডিসেম্বর ১১, ২০২১
নিবন্ধ

Soap: সাবানের সালতামামি - চঞ্চলা ঝরনায় উচ্ছল স্নানের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত মডেল

ভীষণ তিতকুটে স্বাদ ঢুকে যাচ্ছে মুখের ভেতর... চোখের ফাঁকে সাবানজলের তীব্র জ্বালা... চোখ আরো টিপে বন্ধ করতে গিয়ে দরবিগলিত অশ্রুধারা... ঝরছে... মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে নাকের জলে-চোখের জলে-মগের জলে... সর্বাঙ্গে ধুঁধুলের ছোবড়ার কর্কশ দৌড়দৌড়ি...চলছে প্রবল দলাইমলাই... আমার পরিত্রাহি চিৎকারে একটু দুরের ছাত্রাবাস থেকে ছুটে আসছে বাবার ছাত্ররা কেউ কেউ... কোয়ার্টারের কলতলায় বিপর্যস্ত আমাকে কেউ যোগাচ্ছে সাহস, কেউ দিচ্ছে সান্ত্বনা...আমার ছোটবেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ দুটি কর্তব্যকর্মের মধ্যে একটি ছিল এই সাবানজলে স্নান করা, রবিবারের সকালগুলো আজো যার জন্য দাঁতখিঁচোনো স্মৃতি হয়ে আছে; আর সেই নিদারুন নির্যাতনের প্রধান কুশীলব ছিল একটি সাবান , যার নাম মার্গো I নিমের তেল ও নির্যাস দিয়ে তৈরী এই সাবান নামক আতঙ্কটি বানিয়ে ক্যালকাটা কেমিক্যাল কোম্পানি আমার মতো লক্ষ লক্ষ অপোগন্ড বাঙালী বালকবালিকার কোটি কোটি অভিশাপের ভাগী হয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। কালচে-সবুজ ইষ্টক-সম একটি খুদে অ্যাটম বোম, উগ্র কষায় স্বাদে গন্ধে যা জিনা হারাম করে ছেড়ে দিত... তার প্রতি আমাদের বিরাগ ও বাঙালী বাপ মায়েদের অনুরাগ সমানুপাতে চলাফেরা করতো। আমার সারা স্কুলজীবনে আমাদের বাড়িতে মার্গো ভিন্ন অন্য কোনো সাবান প্রবেশাধিকার পায় নি। কম দাম, বেশী উপকারিতা আর নিমের সর্বরোগহর গ্ল্যামার তো আছেই; ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষায়ও নাকি তার জুড়ি মেলা ভার! ব্যাস, আর কী চাই! একেবারে প্লেন লিভিং হাই থিঙ্কিং-এর চূড়ান্ত!আরও পড়ুনঃ পুজো শুরু হয়ে গেলষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় একবার রেশন দোকান থেকে মিলেছিল একটি ফিকে সবুজ সাবান (তখন শুধু চিনি-কেরোসিন-গমই সাধারনতঃ মিলত সেখানে)I একটু নরমসরম, মিষ্টি মিষ্টি গন্ধে বিগলিত হয়ে দীর্ঘ স্নান সারলাম তার সাহচর্যে। ফলাফল হলো ভয়াবহ... ঘন্টাখানেক বাদে সর্বাঙ্গে খড়ি উঠে হাফ-সাহেব বনে গেলাম। ভুরভুরে সুবাসের আড়ালে সেই রেশন-শোভন সাবানের নিম্নমান গোটা পরিবারকে আরো ঠেলে দিল মার্গো-র মৃত্যু-মার্গে!আরও পড়ুনঃ তোমাদের মনের মতো রঙীন পূজাবার্ষিকী-- আনন্দমেলাআমার শৈশবের রবিবারগুলি তাই মার্গো-ময়! সেই হাকুচ -তিতো স্নান-বিপাককে পরিহাস করতেই বুঝি বা তিরাশি সালে আকাশবাণীর বিজ্ঞাপনে শুরু হয়েছিল মার্গো-র এই নাম-সংকীর্তন...পথেঘাটে ভিড়ভাট্টা মেজাজটা তাই খাট্টা,গাড়ি লরী ধুলোবালি ঝকমারী সব একা তালগোল;নাকেমুখে ধোঁয়ার ধাক্কা, করবো কি তার তোয়াক্কা?মাখি তাই রোজ ভাইআদি নিম খাঁটি নিম মার্গো।ফুরফুরফুর স্নানের ফুর্তি জীবাণুর হবে ছুটি,মাখি তাই রোজ ভাইআদি নিম খাঁটি নিম মার্গো।সাদামাটা চেহারাটা, তবুও যে চাই প্রতি বার গো...মার্গো!পঁচাশি-র মাঝামাঝি বন্ধু নির্মাল্য-র বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পন্ডস ড্রিমফ্লাওয়ার সাবানের প্রেমে পড়ে গেলাম। আশৈশবের ব্র্যান্ড লয্যালটিকে দূরছাই করে দিয়ে ভিড়ে গেলাম পন্ডস ক্যাম্পে। ততদিনে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে গিয়ে কিঞ্চিত স্বাবলম্বী হয়েছি, সাবান-স্নানও বিভীষিকা থেকে স্নান-বিলাসে বদলে গেছে। এরপর ঘুরেফিরে পন্ডস-এর তিনটি ব্র্যান্ডই স্থান পেতে লাগলো সাবান-কেসেI যেমন সুন্দর মোড়ক তাদের, তেমনই খোশবাই আর মখমলী মোলায়েম স্পর্শ!আরও পড়ুনঃ বাজলো তোমার আলোর বেণুনেশা লেগে গেল একের পর এক নতুন নতুন সাবান ব্যবহার, ও তাদের সুন্দর সুন্দর মোড়ক সংগ্রহের। রঙ-রূপ-গন্ধ-স্পর্শের মেলায় ভরে উঠতে থাকলো ছোট্ট সেল্ফ। সাবানের দুনিয়ায় কি বৈচিত্র্যই না ছিল সেই আশি-নব্বইয়ের দশকে। সস্তা আকাশী ফ্রেসকা বা রেক্সোনা থেকে শুরু করে রুচিশীল মাইশোর স্যান্ডাল সোপ, মার্গো-র জ্ঞাতি-ভাই হামাম, সুগন্ধী সিন্থল, লাইফবয় থেকে অভিজাত অ্যারামাস্ক (অনেকে মজা করে বলতেন আরামসুখ) বা হালকা বেগুনী মনমাতানো সৌরভের ল্যাভেন্ডার ডিউ... গঙ্গাজল দিয়ে তৈরী গঙ্গা সাবান...আরও পড়ুনঃ শারদঅর্ঘ্য...আটের দশকের শেষদিকে আবির্ভূত পামোলিভ সাবান বা নিরমা বিউটি সোপ (নিউ এম্পায়ারে যে সাবানের বিজ্ঞাপনে সোনালী বেন্দ্রে-র লাস্য দেখতে বহু যুবক এমনিই দশ মিনিটের জন্য টিকিট কেটে ঢুকত বলে শোনা যায়!)... শীতের শুরুতে পিয়ার্স, চেসমি, সোনালী গিসারিন সাবানের হুজুগ... বলিউডের সমকালীন শীর্ষস্থানীয়া নায়িকার কৃপাধন্য ঝলমলে লাক্স... সুরভিত নরম ডাভ-এর শৌখিনতা... চন্দনগন্ধী মোতি... এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়!হস্টেলে এক বন্ধুর প্রবাসী আত্মীয় বেড়াতে এসে তাকে উপহার দিয়ে গেলেন একটি ক্যামে সাবান। সেই প্রথম আমাদের সবার ড্যাবডেবিয়ে বিদেশী সাবান দেখা। মহার্ঘ্য বস্তুটির ওপর হারামী শকুনিদের চক্ষুদান এড়াতে বাক্সে তালাচাবি দিয়ে রাখত তার মালিক! ততদিনে দূরদর্শনের তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক বুনিয়াদ-এর ফাঁকে ফাঁকে নতুন এক সাবানের মনোহর শরীরী বিজ্ঞাপন হয়ে দেখা দিয়েছেন স্বপ্নসুন্দরী ডিম্পল। সাঁতারের পোশাকে জলে ঝাঁপ, ও জলকেলির শেষে মাথা তুলে চুলের ঢেউ ঈষৎ দুলিয়ে সেই মোহময়ীর ইটস মাই ক্রাউনিং গ্লোরি! শুনে সারা দেশে কত যে নাবুঝ লড়কা মর্দ হয়ে উঠলো!আরও পড়ুনঃ কন্যা রুপেন সংস্থিতাতবু আমাদের শৈশবে একটি সাবানের বিজ্ঞাপন যে ভাবে আসমুদ্রহিমাচলকে দুলিয়ে দিয়েছিল,তার তুলনা বিরল! দুহাজার সালে খান্ডালা বেড়াতে গিয়ে দূরে পাহাড়ের গায়ে এক তরলিতচন্দ্রিকাচম্পকবর্ণা জলপ্রপাত দেখিয়ে গাইড বলেছিলেন,ওই দেখুন, লিরিল সাবানের বিজ্ঞাপনের সেই বিখ্যাত ঝর্ণা। আমার চোখের সামনে সময়ের কাঁটা কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছিল এক ধাক্কায়... চঞ্চলা ঝরনায় উচ্ছল স্নানের উল্লাসে উচ্ছ্বসিত মডেল কারেন লুনেল... লা-আ-আ লা লা লা লা-আ-আ ....লেখকঃ ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ২৭, ২০২১

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal