• ২৪ মাঘ ১৪৩২, বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Death

রাজ্য

কাশ্মীর ভ্রমণ অসম্পূর্ণ, কফিনবন্দি দেহ ফিরছে বর্ধমানের দুই পর্যটকের

কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমান জেলার দুই পর্যটকের। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি ঘটে কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার কঙ্গন থানার গণ্ডুতে শ্রীনগর-লে এক্সপ্রেসওয়ের উপরে। দুর্ঘটনায় পর্যটকবাহী বাসে থাকা আরও প্রায় ২৫ জন পর্যটক জখম হয়েছেন। মৃতরা হলেন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের তোড়কোনা গ্রামের মালতি কুণ্ডু (৫৫) ও গলসির ইরকোনা গ্রামের স্মৃতিকা হাজরা (৫২)। কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার পুলিশ সুপার নিখিল বরকর সংবাদ মাধ্যম কে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে দুজন মারা গিয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা গিয়েছেন। খণ্ডঘোষ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ খণ্ডঘোষের তোড়কোনা থেকে একটি টুরিস্ট বাস ছাড়ে। ওই বাসে চড়ে বর্ধমান শহর, খণ্ডঘোষ, গলসি, বাঁকুড়ার ইন্দাস, শাসপুর থানা এলাকার ৬৪ জন পর্যটক উত্তরভারত ও কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অমৃতসর, হরিদ্বার, বেনারস হয়ে ৪ এপ্রিল পর্যটকদের বর্ধমানে ফেরার কথা ছিল। খণ্ডঘোষ থেকে রওনা হওয়ার পর বুদ্ধগয়া, এলাহবাদ, আগ্রা, বৃন্দাবন, কুরুক্ষেত্র হয়ে পর্যটকবাহী বাসটি মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরে পৌঁছায়। বুধবার শ্রীনগরে প্রকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার পর ফের বৃহস্পতিবারও পর্যটকরা দুটি ছোট বাসে চড়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য ঘুরে দেখার জন্য রওনা হন। ওই সময়েই একটি পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত জানিয়েছেন। শ্যামল বাবু বলেন, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর তোড়কোনা গ্রামে পৌছায়। এরপর খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই বাসটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে গিয়ে বেশ কয়েকফুট নিচে থাকা অন্য রাস্তায় আছড়ে পড়ে। তার জরেই বয়স্ক দুই পর্যটক প্রাণ খোয়ান বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।তোড়কোনা থেকে ছাড়া পর্যটকবাহী বাসের গাইড, ছিলেন তোড়কোনা গ্রামেরই বাসিন্দা অসীম চক্রবর্তী ওরফে খোকন। তিনি দাবি করেছেন, পর্যটকরা শ্রীনগর থেকে সেখানকার স্থানীয় বাসে চড়ে সাইডসিন দেখতে বেরিয়েছিলেন। ওই বাসটি বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার কবলে পড়লে দুজন মারা যান। ওই থাকা বাকি পর্যটকরা জখম হয় তাঁদের সবাইকে ওইদিন সন্ধের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। জখমদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মৃতদেহ নিয়ে বর্ধমানে ফিরে আসার ব্যাপারেও কাশ্মীরের পর্যটন বিভাগ সর্বতভাবে সাহায্য করছে। খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ জানান, ময়নাতদন্তের পর দ্রুত যাতে মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে শ্রীনগরে মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হয়েছে। শনিবার সকালে বিমানে দেহগুলি কলকাতায় আনা হবে বলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় জানা গিয়েছে।

মার্চ ২৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকাহত টলি তারকারা

প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। গত দু-তিন দিন ধরে পেটের সমস্যা ভুগছিলেন তিনি। বুধবার রিয়েলিটি শো-তে তিনি অংশও নিয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১টায় বাড়িতে মারা যান তিনি। অভিনেতার অকালপ্রয়াণে অভিনেত্রী তৃণা জানিয়েছেন, পর্দায় যেরকম অভিষেক দা আমার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। সেরকম বাস্তবেও আমার বাবা মতোই ছিল অভিষেক দা। গত দুই দিন আগে শ্যুটিংয়ে এসে অসুস্থ হয়ে পরেছিল। তারপর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে ফোন করে আমি খুব বকাবকি করেছিলাম। কারণ অভিষেক দা নিজের স্বাস্থ্যের একদম খেয়াল রাখত না। তাই প্রচুর বকলাম। এরপর এত তাড়াতাড়ি যে অভিষেক দা আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে যাবে আমি ভাবতেই পারিনি। অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, মিঠুদা এটা বিশ্বাস করতে পারছি না।কত কিছু মনে পড়ছে।কত ছবি, কত কথা। কেন হাসপাতালে গেলেনা? অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানারজি অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ভালো থেকো মিঠুদা।বিদিপ্তা চক্রবর্তী লিখেছেন, বলার কোনও ভাষা নেই। তোমার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো মনে থাকবে আমাদের। শান্তিতে থেকো মিঠুদা। খড়কুটো ধারাবাহিকের অভিনেত্রী সোনাল মিশ্র ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, লাইফমিঠু দা। অভিনেত্রী রিয়া গাঙ্গুলি লিখেছেন, শান্তিতে ঘুমিও মিঠু দা। তোমার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। অনেক স্মৃতি, অনেক শিক্ষা। মানতে পারছিনা গো। ভালো থেকো যেখানেই থেকো। অভিনেত্রী মালবিকা সেন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, আমি ভাবতেই পারছি না। এটা কি হল? কেন হল? স্টার জলসার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা হয়েছে, স্টার জলসার পক্ষ থেকে প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি।

মার্চ ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, শোকস্তব্ধ টলিউড

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন টলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। জানা গেছে বুধবার শুটিং থেকে বাড়ি ফিরেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বারবার বমি হচ্ছিল। পরিস্থিতি অবনতি হলেও হাসপাতালে যেতে চাননি তিনি। রাত ১ টায় মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে সকালে। ১৯৮৬ সালে পথভোলা ছবি দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু। প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবছর গ্যাপ নিয়েছিলেন। ফিরে এসে ছোটপর্দার বেশ কিছু ধারাবাহিকে দেখা গেছে তাঁকে। সিনেমার মতো ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। সম্প্রতি স্টার জলসার খড়কুটো ধারাবাহিকে গুনগুনের বাবার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। ২০২১ সালে তিনটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন অভিষেক।

মার্চ ২৪, ২০২২
রাজ্য

বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু এক স্কুল পড়ুয়ার

বাড়ির টুলু পাম্প চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষর্থীর। মৃতর নাম শেখ হাসান(১৬)। সোমবার বেলায় ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের কুরুঞ্জী গ্রামে। ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের কুরুঞ্জী গ্রাম নিবাসী ছাত্র শেখ হাসান স্থানীয় কয়রাপুর বিদ্যাসগর বিদ্যাপিঠের ছাত্র।সে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে ।তাঁর বাবা শেখ আসগর পেশায় দিনমজুর। তিনি এদিন বাড়িতে শৌচাগার তৈরির কাজ করাচ্ছিলেন।গ্রামবাসী সামসুরা মল্লিক বলেন ,সৌচাগার তৈরির জন্য জলের প্রয়োজন হবে বলে বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে জল তোলার জন্য লাগানো হয়েছিল টুলুপাম্প।আর সেই পাম্প চালাতে গিয়ে শেখ হাসান বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পুকরের জলে গিয়ে উল্টে পড়ে। তারপরেই তাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হাসানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্চ ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

খেলতে খেলতেই মৃত্যু, লালহলুদ জার্সি আর গায়ে তোলা হল না দেবজ্যোতির

ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন কলকাতা ময়দানে খেলার। সে সুযোগ এসে যাওয়ার পর স্বপ্নের পরিধি আরও বেড়ে যায়। লালহলুদ জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপে পৌঁছেও আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না উদীয়মান ফুটবলার দেবজ্যোতি ঘোষের। মাঠে খেলতে খেলতেই অকালে প্রাণ হারালেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার। এই মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগে রেলওয়ে এফসির জার্সি গায়ে চমক দেখিয়েছিলেন দেবজ্যোতি। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে কলকাতা লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর খেলা মনে ধরেছিল মহমেডান থেকে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। সামনের মরশুমের জন্য লালহলুদ কর্তারা তাঁকে সই করানোর ব্যাপারে মনস্থির করেছিলেন। দেবজ্যোতির সঙ্গে কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল লালহলুদ কর্তাদের। কিন্তু আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না দেবজ্যোতির। নদীয়ার কৃষ্ণনগরের চৌরাস্তায় বাড়ি দেবজ্যোতির। পরিবারের একমাত্র সন্তান। ফুটবল খেলে যে টাকা রোজগার করতেন, তাতেই সংসার চলত। শনিবার ধুবুলিয়ায় বেলপুকুর পোলতা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত ৮ দলীয় নক আউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বরূপগঞ্জ সেবক সমিতি ও কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল ক্লাবের মধ্যে সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বিপক্ষ গোলকিপারের একটা শট দেবজ্যোতির বুকে লাগে। মাঠেই পড়ে যান তিনি। বমি করতে থাকেন। মাঠে নাকি কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। একটা গাড়িতে করে তাঁকে ধুবুলিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় কৃষ্ণনগর শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শক্তিনগর হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে ফুটবলমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্চ ১৯, ২০২২
দেশ

দেশে ফের কমল করোনা সংক্রমণ, মৃত্যু বাড়ল সামান্য

ফের কমল সংক্রমণের হার। ভারতে দৈনিক করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা নিরন্তর কমছে, এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে সংক্ৰমিতের সংখ্যা। বিগত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা অবশ্য খানিকটা বেড়েছে। সোমবার সারাদিনে ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। বিগত ২৪ ঘন্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে করোনা-আক্রান্ত ৯৭ জন রোগীর। ভারতে দৈনিক সংক্রমণের হার এই মুহূর্তে ০.৩৭ শতাংশ।বিগত ২৪ ঘন্টায় ভারতে চিকিৎসাধীন করোনা-রোগীর সংখ্যা কমে ৩,৩৯,১৭-এ পৌঁছেছে, শেষ ২৪ ঘন্টায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা কমেছে ২,২৫১ জন। এই মুহূর্তে শতাংশের নিরিখে ০.০৮ শতাংশ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভারতে বিগত ২৪ ঘন্টায় করোনার টিকা পেয়েছেন ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৩ জন প্রাপক, ফলে ভারতে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ১,৮০,৪০,২৮,৮৯১ জনকে কোভিড টিকা দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত ২৪ ঘন্টায় ৯৭ জনের মৃত্যুর পর ভারতে কোভিড-১৯ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫,১৫,৯৭৪ জন (১.২০ শতাংশ)। সোমবার সারা দিনে ভারতে করোনা-মুক্ত হয়েছেন ৪,৭২২ জন। মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হয়েছেন ৪,২৪,৪৬,১৭১ জন করোনা-রোগী, শতাংশের নিরিখে ৯৮.৭২ শতাংশ। নতুন করে ২,৫৬৮ জন সংক্রমিত হওয়ার পর ভারতে মোট কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪,২৯,৯৬,১৩২ জন।

মার্চ ১৫, ২০২২
রাজ্য

বিয়ে বাড়ির আরোহী বাহী চারচাকা গাড়িতে লরির ধাক্কা -মৃত ২ জখম ৩

বেপরোয়া ভাবে চলা লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল চারচাকা গাড়ির দুই আরোহীর। জখম হয়েছে আরও তিন জন। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার তক্তিপুরে মেমারি মালডাঙা সড়ক পথে।পুলিশ জানিয়েছে ,মৃতরা হল প্রকাশ বাগ (৩০) ও তার ভাই তাপস বাগ (২৬)। জখম রূপচাঁদ মান্ডি ,শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত ও জখমরা সকলেই মেমারির কালিবেলে এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘাতক লরির খোঁজ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়ির পাঁচ আরোহী রবিবার জামালপুর থানার পাঁচড়ার ভেরিলি গ্রামে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এদিন সকালে তাঁরা চারচাকা গাড়িতে চড়ে মেমারির কালিবেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।পথে তক্তিপুর এলাকায় মেমারি গামি দ্রুত গতীর একটি লরি চারচাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়।এই দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারচাকা গাড়ির চালক প্রকাশ বাগের। বাকি আরোহী তাপস বাগ, রূপচাঁদ মান্ডি শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রকাশ বাগের ভাই তাপস কে মৃত ঘোষণা করেন।জখদের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মার্চ ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

স্পিন বোলিংকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন ওয়ার্ন, মত সৌরাশিস লাহিড়ীর

মাত্র ৫২ বছর বয়স। এই বয়সেই মারা যাবেন ক্রিকেটের কিংবদন্তী! না, শেন ওয়ার্নের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তম্ভিত, শোকাহত। শোকাহত বললে কম বলা হয়। রীতিমতো বাক্যহারা হয়ে পড়েছেন সকলে।শেন ওয়ার্নের মৃত্যু মানতে পারছেন না বাংলার প্রাক্তন স্পিনার তথা বর্তমান বাংলা সিনিয়র দলের সহকারী কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী। কটক থেকে ফোনে সৌরাশিস জনতার কথার প্রতিনিধিকে বলেন, ওয়ার্নের মৃত্যুর খবর শুনে আমার হাতপা থরথর করে কাঁপছিল। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এত কম বয়সে চলে যাবেন, ভাবতেই পারছি না। সত্যিই অবিশ্বাস্য। গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে গেল।শেন ওয়ার্নের সঙ্গে কখনও সামনা সামনি মিলিত হওয়ার সুযোগ হয়নি সৌরাশিস লাহিড়ীর। তবে ওয়ার্নের বোলিং দেখে বড় হয়েছেন বাংলার এই প্রাক্তন স্পিনার। একসময় ওয়ার্নের স্পিনে মোহিত হয়ে থাকতেন বলে জানান সৌরাশিস। তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের কাছে স্বপ্নের নায়ক। ওর বোলিংয়ে মোহিত ছিলাম। কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু ওয়ার্নকে দেখেই বড় হয়েছি। আমি তো ওকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্পিনার হিসেবে মনে করি। শুধু দুর্দান্ত বোলারই ছিলেন না, বর্ণময় চরিত্রও ছিলেন। ওয়ার্নের হাত থেকে এমন কিছু বল বেরিয়েছে, ক্রিকেট যতদিন থাকবে, সেই বলগুলোর কথাও ততদিন থেকে যাবে।সৌরাশিস আরও মনে করেন, স্পিন বোলিং যে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পার্ট হতে পারে, সেটা শেন ওয়ার্নই দেখিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, স্পিন বোলিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন। স্পিন বোলিং যে ক্রিকেটের দুর্দান্ত পার্ট হতে পারে, তাঁর মতো অন্য কেউ তুলে ধরতে পারেননি। বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা স্পিনার হিসেবে আমি ওয়ার্নকেই বেছে নেব। অধিনায়ক হওয়ার মতো সমস্ত গুনও ওয়ার্নের মধ্যে ছিল বলে মনে করেন সৌরাশিস। তিনি বলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সব গুনই ছিল ওয়ার্নের মধ্যে। কিন্তু স্টিভ ওয়া ও রিকি পন্টিংয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকায় দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়নি।ওয়ার্নের ক্রিকেট ধারাভাষ্যেও মুগ্ধ সৌরাশিস। তিনি বলেন, এত সুন্দর বিশ্লেষণ করতে খুব কম ধারাভাষ্যকারকেই দেখেছি। এককথায় অসাধারণ। আর বৈচিত্রময় চরিত্রর দিক দিয়ে ইমরান খান, ইয়ান বথামদের পাশেই শেন ওয়ার্নকে রাখব। সত্যি কথা বলতে কী, ওর মৃত্যু ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু স্পিনের যাদুকরের, বাহান্নতেই থেমে গেলো জীবন

থেমে গেলো স্পিনের যাদুকরের হাত, তাঁর আঙ্গুলের ছোঁয়া পেয়ে আর লাল বলটা বনবন করে ঘুড়বে না সবুজ গালিচায়। মাত্র ৫২ বছর বয়সে থেমে গেলো মহান ক্রিকেট শিল্পী-র জীবন। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা স্পিনার মৃত্যুর সময় তাইল্যান্ডে তাঁর নিজ বাসভবনে ছিলেন।শ্যেন ওয়ার্নের সংস্থা শনিবার বিবৃতি দিয়ে এই মর্মান্তিক খবর জানায়। তারা এই বিবৃতিতে জানায়, শ্যেন তাইল্যান্ডে প্রয়াত হয়েছেন এবং তাঁর নিজস্ব বাংলোতে এই মহান ক্রিকেটারকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের সমস্ত রকম চেষ্টা স্বত্তেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর পরিবার এই সময়ে গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।Sad to hear the news that Rod Marsh has passed. He was a legend of our great game an inspiration to so many young boys girls. Rod cared deeply about cricket gave so much-especially to Australia England players. Sending lots lots of love to Ros the family. RIP mate❤️ Shane Warne (@ShaneWarne) March 4, 2022শনিবার ভারতীয় সময় ৭:২৩ মিনিটে, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাক্তন ক্রিকেটার রডনি মার্শের প্রয়াণে টুইট করেছিলেন শ্যেন। রডনি মার্শ বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। সেই শোকবার্তায় শ্যেন ওয়ার্ন লিখেছিলেন, রড মার্শ প্রয়াত হওয়ার খবর শুনে খুবই খারাপ লাগছে। উনি ক্রিকেটেরএক কিংবদন্তি ছিলেন। বহু উদীয়মান ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা ছিলেন। রড ক্রিকেট ভালোবাসতেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ওঁর পরিবারকে অনেক অনেক ভালবাসা জানাই।১৩ সেপ্টেম্বর ১৬৬৯ আপার ফার্নট্রি গলি, ভিক্টোরিয়াতে শ্যেন ওয়ার্ন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৪৫টি টেস্টে ৭০৮টি উইকেট সংগ্রহ করেন। শ্রীলঙ্কার মুথাইয়া মুরলিধরনের (৮০০) পর তিনি দ্বিতীয় সর্ব্বচ্চ উইকেট সংগ্রাহক।বর্তমানে শ্যেন তাঁর তাইল্যান্ডের নিজের বাংলোতে বসবাস করছিলেন। নিজের বাসস্থানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ভারতে আইপিএল-এর প্রথম সংস্করনে বিজয়ী দল রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক ছিলেন শেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
দেশ

আমদাবাদ বিস্ফোরণ মামলায় ৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

আমদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত ৪৯ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। ২০০৮ সালের ওই বিস্ফোরণে অভিযুক্ত আরও ১১ জনকে যাবজ্জীবনের নির্দেশ শোনাল আদালত। শুক্রবার আমদাবাদের বিশেষ আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। ওই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৫৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পাশাপাশি ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। তদন্তে নামার পর তদন্ত সংস্থাগুলি মোট ৪৯ জনকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে।A special court in Gujarat pronounced the death sentence to 38 out of 49 convicts in the 2008 Ahmedabad serial bomb blast case. Eleven others have been sentenced to life imprisonment by the court, the special public prosecutor Amit Patel said pic.twitter.com/3zpjSFeQBY ANI (@ANI) February 18, 2022এই বিস্ফোরণের ১৪ বছর পর অভিযুক্তদের সাজার ঘোষণা করা হল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এর পর শুক্রবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হল। ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই গুজরাতের আমদাবাদে ৭০ মিনিটের মধ্যেই গোটা শহরজুড়ে পরপর ২১টি বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের কয়েকদিন পরে সুরাত শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়। আমদাবাদে মোট ২০টি এফআইআর ও সুরাতে ১৫টি এফআইআর দায়ের করা হয়। মোট ৩৫টি এফআইআর মিলিয়ে গুজরাত বিশেষ আদালতে শুনানি শুরু হয়। উল্লেখ্য, সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেই সময় বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন।প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণের মূল লক্ষ্য ছিল আমদাবাদের হাসপাতালগুলি। নিহত ৫৬ জনের মধ্যে আমদাবাদের সিভিল হাসপাতালের বিস্ফোরণেই প্রাণ যায় ৩৭ জনের। এলজি হাসপাতালেও একটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে সেখানে কেউ আহত বা নিহত হননি।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমদাবাদ এবং সুরাতে ৩৫টি ভিন্ন মামলা নথিভুক্ত করা হয়। বোমা বিস্ফোরণের জন্য আমদাবাদে মোট ২০টি এবং সুরাতে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। বিস্ফোরণের কয়েক দিন পরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ২৯টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়।ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন (আইএম) এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে। ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে এই জঙ্গি সংগঠন দাবি করে।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত বাপ্পি লাহিড়ী, সঙ্গীত জগতে বড় ক্ষতি

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পর আরেক নক্ষত্রপতন।প্রয়াত বাপ্পি লাহিড়ী। ৬৯ বছর বয়সে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মুম্বইয়ের জুহুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। গত বছর এপ্রিল মাসে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। সেই সময় মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে বাড়িও ফেরেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ওএসএ)-তে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত প্রায় একমাস তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবারই বাড়ি ফেরেন বাপ্পি। কিন্তু মঙ্গলবারই ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারিক চিকিৎসক তাঁকে ফের ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেই হাসপাতালেই আলভিদা জানালেন তিনি। হিন্দি থেকে বাংলা একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বলিউডে ডিস্কো ডান্সার, চলতে চলতে, শরাবি ছাড়াও টলিউডে অমর সঙ্গী, অমর প্রেম ছবিতে সুর দিয়েছেন তিনি। ২০২০ সালে তাঁর শেষ গান বাগি-৩। বাপি লাহিড়ীর প্রয়াণ সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
দেশ

আরও এক ইন্দ্রপতন, মাত্র ৬৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ের হাসপাতালে প্রয়াত অমর শিল্পী বাপ্পি লাহিড়ি

একের পর এক নক্ষত্রপতনে সুরের আকাশ তারকা শূন্য! চলে গেলেন অমর শিল্পী আলোকেশ বাপ্পী লাহিড়ি মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যায় মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। গত এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শিল্পীকে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে মাত্র কয়েকদিনের দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাপ্পি লাহিড়ী বাড়ি ফিরে আসেন।অলোকেশ বাপ্পি লাহিড়ি ১৯৫২-র ২৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দী, বাংলা সহ অসংখ্য আঞ্চলিক ভাষায় চলচ্চিত্রে সুর দিয়েছেন। তিনি একাধারে বাংলা গানের গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে এক প্রবাদ প্রতিম ব্যক্তিত্ব। অলোকেশ বাপ্পি লাহিড়ি সঙ্গীত জগতে বাপ্পী-দা নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর নিজের লেখা সুর করা গানে নিজেই কন্ঠ দিয়েছেন। ৭০ থেকে ৮০র দশক তাঁকে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে সামনের সাড়িতে এনে দেয়। সেই সময় তাঁর সুরে ডিস্কো ড্যান্সার, নমক হালাল এবং শরাবী-র মত সঙ্গীতবহুল চলচ্চিত্র তাঁকে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে উচ্চ আসনে বসিয়ে দেয়।বাপ্পি দার জন্মই এক সাংগীতিক পরিবারে, বাবা অপরেশ লাহিড়ি ছিলেন বাংলা সঙ্গীতের এক জনপ্রিয় গায়ক। মা বাঁশরি লাহিড়িও ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও গায়িকা যিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং শ্যামা সঙ্গীতে বিশেষ পরদর্শী ছিলেন। প্রবাদ প্রতীম দুই সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের রক্ত তাঁর শরীরে, অন্যদিকে কিশোর কুমার তার সম্পর্কে মামা ছিলেন। পিতা মাতার একমাত্র সন্তান বাপ্পি ছেলেবেলা থেকেই গানের প্রতি ভীষণ আকৃষ্ট ছিলেন। ছোট বয়সে তিনি তবলা বাজাতেন, মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি তাঁর মায়ের সাথে সঙ্গত করেছেন! মা বাঁশরি লাহিড়ির অনেক অনুষ্ঠানে কিশোর আলোকেশ (বাপ্পি) তবলা নিয়ে মায়ের সাথে সঙ্গত করতে বসে পরতেন। বহু সঙ্গীত বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বের প্রশংসাও আদায় করে নিয়েছেন। অবশেষে বাবা-মায়ের কাছেই শুরু করেন গানের তালিম। বাকিটা ইতিহাস......বাপ্পী লাহিড়ি মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর সঙ্গীত কেরিয়ারকে মজবুত করতে মুম্বাইয়ে চলে যান। ১৯৭৩-রে হিন্দী চলচিত্র নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন। পরবর্তিকালে তাহির হুসেনের জখমী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রে সুর দেন। এই সিনেমায় তিনি নিজেই গান লেখেন ও সুরারোপ করেন। বাপ্পি লাহিড়ি রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে বিশেষ স্থান করে নেন মুম্বাইয়ে।হিন্দী চলচিত্রের পাশাপাশি বাংলা সিনামাতে-ও এক সময় বাপ্পি দা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন। বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ভালবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম, গুরুদক্ষিণা সহ একাধিক ছবিতে সুরারোপ করেছেন সাথে সকণ্ঠে গানও গেয়েছেন একাধিক সিনামাতে। তাঁর শেষ গান বাগি- ৩ সিনামায় ২০২০ তে।মিঠুন চক্রবর্তীর ডিস্কো সিরিজের সমস্ত সিনেমায় সুরারোপ করেছিলেন। ৮০র দশকে মিঠুন ও বাপ্পী-দা একসাথে বেশ কিছু ডিস্কো সিনেমায় কাজ করেন। ভারতীয় ঘড়ানার সাথে ডিস্কো-হিম হপের সুর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এক অনন্য ধারার সৃষ্টি করেন বাপ্পি লাহিড়ি, যা তাঁকে ভারতবর্ষ ছাড়াও উপমহাদেশে ভীষণ জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি ডিস্কো কিং নামে পরিচিতি লাভে করেন।বাপ্পি লাহিড়ি প্রচুর বাংলা ও হিন্দি ছবির গানের সুর যেমন দিয়েছেন, গানও গেয়েছেন অসংখ্য ছবিতে। তিনি এক বর্ণময় চরিত্রের মানুষ ছিলেন, তাঁর একটা নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট ছিল, যেমন তাঁর গয়কীতে ঠিক তেমনিই তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ ও ছিলো খুব-ই জমকালো। তিনি প্রচুর গহনা পরতে পচ্ছন্দ করতেন। ছিল গায়কির এক নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য পরিচিতি দিয়েছিল। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার এবং সম্মান।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
রাজ্য

"তীর বেঁধা পাখী আর গাইবে না গান", প্রয়াত বাংলার নাইটিঙ্গেল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

তীর বেঁধা পাখী আর গাইবে না গান, ভুলে গেছে জীবনের হাসি কলতান। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়-র সুরেলা গলা আর কোনওদিন বলে উঠবে না, গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু......। করোনার কারল গ্রাস কেড়ে নিলো আরও এক প্রবাদপ্রতীম শিল্পীকে। লতা মঙ্গেশকরের শোক কাটতে না কাটতেই আরেক ধাক্কা দেশবাসীর কাছে।১৯৩০-র ৪ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা স্বর্ণ যুগের শেষ অবিসংবদিত প্লেব্যাক ও আধুনিক গানের শিল্পী ঘুম ঘুম চাঁদ, ঝিকিমিকি তারা গাইতে গাইতে ৯০ বছর বয়সে চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আধুনিক ও সিনেমার গানের সাথে সাথে সমান পারদর্শী ছিলেন ভরতীয় মার্গসঙ্গীতে। তিনি পণ্ডিত সন্তোষ কুমার বসু, অধ্যাপক এ টি ক্যানন এবং অধ্যাপক চিন্ময় লাহিড়ীর নিকট ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়াও প্রবাদপ্রতীম সঙ্গীত গুরু উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান-র কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষা নেন। উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান-র অবর্তমানে তাঁর সুযোগ্য পুত্র উস্তাদ মুনাওয়ার আলী খান-র কাছেও তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিক্ষালাভ করেছিলেন।১৯৭০ রে জয় জয়ন্তী এবং নিশি পদ্ম চলচ্চিত্রে তার গানের জন্য তিনি সেরা নেপথ্য গায়িকার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ তে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।যদিও তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সু-প্রশিক্ষিত, তবুও তাঁর বেশিরভাগ সাফল্য বাংলা আধুনিক গানে। ১৯৫০ এ তারানা সিনেমায় একটি গান দিয়ে তাঁর মুম্বাইতে হিন্দি গান গাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। তিনি ১৭টি হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে ১৯৫২ তে তিনি কলকাতায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ তে কবি শ্যামল গুপ্তের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। বাংলা গানের এক অমর কথা শিল্পী শ্যামল গুপ্ত সন্ধ্যার বহু কালজয়ী গানের কথা লিখেছেন।২৬ জানুয়ারি বুধবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলার স্বর্ণযুগের শেষ সঙ্গীতশিল্পী। তার ঠিক পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গ্রিন করিডোর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সেইসময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ মেডিকেল বুলেটিন-এ জানায় শিল্পীর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পরেছে। তাঁর মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই নিয়ে নানামহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।অসুস্থ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মেডিক্যাল বোর্ড জানায় আগেরদিন রাতে শৌচাগারে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। তার সঙ্গে শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও। তাঁর দুটি ফুসফুসেই ভয়ানক সংক্রমণ দেখা দেয়। এর পর বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, ফুসফুসের সংক্রমণও অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।সন্ধ্যা - হেমন্ত বাংলা সিনেমার সঙ্গীতের এক অবিস্মরনীয় জুটি। তাঁদের গলায় উত্তম-সুচিত্রা সিনেমায় একের পর এক অমর গান মানুষের মুখে মুখে আজও ঘুরে বেড়ায়। সেইসময় সুচিত্রা সেনের কণ্ঠের সাথে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছাড়া কারুর গানই সেভাবে শোনা যেতো না। হেমন্ত মুখার্জির সুরে তিনি বহু গান গেয়েছেন, এছাড়াও রবিন চট্টোপাধ্যায় ও নচিকেতা ঘোষের সঙ্গেও তিনি অনেক কাজ করেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুদের জন্য তিনি ভারতীয় বাঙালি শিল্পীদের সঙ্গে গণ আন্দোলনে যোগ দেন এবং তাদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। কারাগারে বন্দী নতুন বাংলাদেশের কারিগর বাংলাদেশের মুক্তিসুর্য শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির উপলক্ষে তার গাওয়া বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে গানটি বাংলাদেশে দারুন জনপ্রিয়। ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারির উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকায় পল্টন ময়দানের একটি উন্মুক্ত কনসার্টে অনুষ্ঠান করা তিনিই ছিলেন অন্যতম প্রথম বিদেশি শিল্পী।১৯৭১ সালে জয় জয়ন্তী এবং নিশিপদ্ম ছবিতে যে দুটি গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, তার একটি হল ওরে সকল সোনা মলিন হল আপরটি আমাদের ছুটি ছুটি গাইতেই গাইতেই যেন তিনি সত্যিই চির ছুটিতে চলে গেলেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

জীবন বাজি রেখে শত চেষ্টা সত্বেও বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারলেন না রেল কর্মী, মেয়ের চোখের সামনেই দুর্ঘটনা

দূরন্ত গতিতে ধেয়ে আসছিল আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস। আর ঠিক ওই সময়েই রেল লাইন পার হতে যাচ্ছিলেন আশি উর্ধ্ব বৃদ্ধা গায়ত্রী ঘোষ। তা দেখে ছুটে যান রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। তিনি মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানেন। আর তারই মধ্যে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ। চোখের সামনে মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। সোমবার বিকালে রোমহর্ষক এমনই এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া- বর্ধমানের কর্ড শাখার মসাগ্রাম স্টেশনে। যা চাক্ষুষ করে কার্যত শিউরে ওঠেন মসাগ্রাম স্টেশনে থাকা রেল যাত্রী ও সাধারণ মানুষজন।রাতে ঘটনাস্থলে পৌছে রেল পুলিশ বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে।মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিকদের কথায় জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা গায়ত্রীদেবী বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসের বাসিন্দা।এদিন বিকালে কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের সঙ্গে মসাগ্রম স্টেশনে নামেন। আনুমানিক বৈকাল ৪ টে ৫০ মিনিট নাগাদ মসাগ্রাম স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে তারা সামনের বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য রেল লাইন পার হচ্ছিলেন।বৃদ্ধার মেয়ে ও জামাই রেল লাইন পার হয়ে গেলেও পিছনে পড়ে থাকেন বৃদ্ধা। ওই সময়েই আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস জোরে হর্ণ বাজাতে বাজাতে ওই লাইন ধরে ধেয়ে আসতে থাকে। তা দেখে মেয়ে ও জামাই বৃদ্ধাকে রেল লাইন পার না হয়ে দাঁড়িয়ে যেতে বলেন। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের কথা শুনতে পাননি। তিনি লইন পার হওয়ার জন্য আরও এগিয়ে আসেন। ওই সময়ে মসাগ্রাম স্টেশন প্ল্যাটফর্মে ডিউটি করছিলেন রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। পরিস্থিতি চাক্ষুষ করে তিনি বুঝতে পারেন বৃদ্ধা আর একটু এগোলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়বেন। তৎক্ষনাৎ রেল কর্মী পাঁচুগোপাল বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ওই লাইনের দিকে ছুটে যান। কিন্তু দ্রুত ছুটে বৃদ্ধার কাছে পৌছতে গিয়ে পাঁচুগোপালবাবু লাইনের আগে পড়ে যান। পায়ে চোট পেয়ে তিনি আর এগিয়ে যেতে পারেননি। তারই মধ্যে সবার চোখের সামনে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ।প্রত্যক্ষদ্শী মনোজ সাহানি বলেন, রেল কর্মী পাঁচুগোপাল দাস নিজের জীবন বাজি রেখে বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় তিন আর এগিয়ে যেতে পারেননি।পড়ে না গেলে তিনি হয়তো বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারতেন। তা আর হল না।সবার চোখের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিক এই বিষয়য়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।বাঁকুড়ার ইন্দাস নিবাসী বৃদ্ধার মেয়ে শ্যামলী পাল ও তাঁর স্বামী অমল পাল জানিয়েছেন, সাবিত্রীদেবী তাঁদের কাছেই থাকতেন। শ্যামলী পাল বলেন, আমার ছেলে কর্মসূত্রে হুগলীর ডানকুনিতে থাকে। কিছুদিন আগে বৃদ্ধা মা কে সঙ্গে নিয়ে আমি ও তাঁর স্বামী ডানকুনিতে ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এদিন সেখান থেকেই ফিরছিলেন। কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বিকালে মসাগ্রাম স্টেশনে নামার পর সামনে থাকা বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মের যাবার জন্য সবাই রেল লাইন পার হচ্ছিলেন। শ্যামলীদেবী বলেন, ওই সময়ে আমি ও আমার স্বামী রেল লাইন পেরিয়ে যেতে পারলেও বৃদ্ধা মা লাইন পার হতে না পেরে পিছনে রয়ে যায়। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দ্রুত গতীতে এগিয়ে আসতে থাকে। তা দেখে আমি ও আমার স্বামী চিৎকার করে মাকে দাঁড়িয়ে যেতে বলি। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় আমার মা কিচ্ছু শুনতে না পেয়ে আরও এগিয়ে আসতে থাকেন। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও অনেকটি কাছাকাছি চলে আসে। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই স্টেশন প্ল্যাটফর্মে থাকা এক রেল কর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে আমার বৃদ্ধা মা কে বাঁচাতে দৌড় দেন। চোখের জল মুছতে মুছতে শ্যামলীদেবী এদিন বলেন,মায়ের ভাগ্য সহায় না থাকায় ওই রেলকর্মী পড়ে গিয়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় আর এগিয়ে যেতে পারেন না। ট্রেনের ধাক্কায় আমার বৃদ্ধা মা মারা যায়। শাশুড়ি মায়ের এমন করুন পরণতির জন্য জামাই অমল পালও অদৃষ্টকেই দায়ী করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পিতৃহারা রবিনা টন্ডন

পিতৃহারা হলেন রবিনা টন্ডন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বয়সজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার ভোর ৩.৪৫ এ জুহুর বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পিতৃবিয়োগের খবরটা অনুরাগীদের জানিয়েছেন রবিনা নিজেই।সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার সঙ্গে একাধিক ছবি দিয়ে লিখেছেন তিনি, তুমি সারা জীবন আমার সঙ্গে পথ চলবে বাবা। তুমি আমার মধ্যে বাঁচবে। তোমাকে কখনও যেতে দেব না। ভালবাসি। রবিনার বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হাজির হন ফারহা খান ও রিধিমা পণ্ডিত।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবিনার বাবা পেশায় একজন পরিচালক এবং প্রযোজক ছিলেন। খেল খেল মে, আনহোনি, নজরানা, মজবুর, জিন্দেগি-র মতো একাধিক সফল ছবি পরিচালনা করেছেন। খেল খেল মে ছবির এক ম্যায় অউর এক তু, খুল্লম খুল্লা প্যায়ার করেঙ্গে-র মতো গান এখনও সিনেপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের বলিউড সিনেমার গান।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

বিষক্রিয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি একই পরিবারের দুই শিশুর, হাসপাতালে ভর্তি ওই আরও চার

অজানা বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু হল একই পরিবারের দুই শিশু সন্তানের। মৃতরা হল শুভঙ্কর ঘোষ (১২) ও রাহুল ঘোষ(৯)। তারা সম্পর্কে দুই ভাই। অসু্স্থ হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায়। ঘটনা নিয়ে এলাকায় জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্যও চড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত কি কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হল তার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায় বাড়ি মৃত শিশুদের পরিবারের। খাবারে বিষক্রিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে মৃত দুই শিশুর বাবা রবি ঘোষ, দিদি শর্মিলা ঘোষ, ঠাকুরমা সন্ধ্যা ঘোষ ও পিসি শমিষ্ঠা ঘোষ। রবি ঘোষ বর্ধমান সিএমওএইচ অফিসের গাড়ির চালক। এদিন হাসপাতালের বেডে শুয়েই বাবা রবি ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বাড়িতে মাংস রান্না হয়। মাংস খাওয়ার পর থেকেই একে একে তাঁদের পরিবার সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার সবার চিকিৎসা হলেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পরিবারের সবার অসুস্থতা বাড়ে। তাই সবাই এদিন সকালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই পরিবারের দুই শিশু সন্তান শুভঙ্কর ও রাহুলের মৃত্যু হয়। মৃত শিশুদের দিদিমা আভা চন্দ্র বলেন, বাড়িতে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ায় ইঁদুর মারার বিষ দেওয়া হয়েছিল। আভাদেবীর অনুমান ইঁদুর মারার ওই বিষ কোনভাবে বাড়িতে রান্না হওয়া খাবারে মিশে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। তার জেরে অকালে প্রাণ গেল তাঁর দুই নাতির। মৃতদের প্রতিবশী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়া ঘোষ পরবারের সদস্যদের তাঁরাই এদিন সকালে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু ওই পরিবারের দুই শিশু সন্তান মারা যাবে এটা তাঁরা কেউ কল্পনাও করতে পারেন নি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তপস ঘোষ জানিয়েছেন, অজানা বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কি থেকে বিষক্রিয়া তা জানার জন্য এদিনই দুই শিশুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসলেই কি থেকে বিষক্রিয়া তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"না যেওনা রাজনী এখনো বাকি" 'দেবী সরস্বতী'-র বরপুত্র ভারতরত্ন তাঁর সাথেই চললেন সুরলোকে

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর।তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এন সান্থানাম। কোভিড পরবর্তী জটিলতার জেরেই মৃত্যু হল লতা মঙ্গেশকরের, জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল ৮.১২ মিনিটে প্রয়াত হন লতা মঙ্গেশকর। চিকিত্সক প্রতীত সামধানি জানান, মাল্টি অর্গ্যান ফেলিউরের জেরেই মৃত্যু হল লতা মঙ্গেশকরের, কোভিড আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২৮ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ভারতীয় সঙ্গীতে লতা মঙ্গেশকরের অবদান অনস্বীকার্য। ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কেরিয়ারে ত্রিশ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন। ২০০১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, ভারত রত্নে ভূষিত হন। এর আগে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ-এর মতো নাগরিক সম্মানও দেওয়া হয় লতা মঙ্গেশকরকে। চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কার দাদা সাহেব ফালকে দ্বারাও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। ১৯২৯ সালে ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লতা। সঙ্গীত জগতের অবিসংবাদী সম্রাজ্ঞী হওয়ার আগে শিশু অভিনেতা হিসেবেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছিলেন এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পী। ১৯৪২ সালে একটি মারাঠি ছবির সৌজন্যে প্রথম গান রেকর্ড করেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক জাদু সৃষ্টি করে গেছেন। ছোট-থেকে বড় সকলেই সুরের সরস্বতীর অন্ধভক্ত। করোনায় আমরা হারালাম লতা মঙ্গেশকরকে। তবুও তিনি আমাদের মনের মণিকোঠায় চিরবিরাজমান থাকবেন।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত ইটালিয়ান কিংবদন্তী মনিকা ভিত্তি

৯০ বছর বয়সে প্রয়াত ইটালিয়ান কিংবদন্তী অভিনেত্রী মনিকা ভিত্তি। ভিত্তি ছিলেন ইতালির ইতিহাসের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী, তাঁকে বলা হতো কুইন অব ইতালিয়ান সিনেমা। অভিনয় দক্ষতা তো বটেই ভিত্তির সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিল গোটা দুনিয়া। মিকালেঞ্জেলো আন্তেনিয়োনির একধিক কালজয়ী ছবির নায়িকা ছিলেন ভিত্তি। মূলত এই পরিচালকের ছবি দিয়েই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৬০ সালে লা আভেন্তুরা সিনেমায় নির্যাতিতা নারীর ভূমিকায় তাঁর অভিনয় এখনো সিনেমাপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে।১৯৩১ সালে রোমে জন্ম নেওয়া মনিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থিয়েটারে আকৃষ্ট হন। পরে এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন যুদ্ধের সময় যখন বাইরে বোমা পড়ত, তখন তিনি ও তাঁর ভাই মিলে সেইসব ঘটনার অভিনয় করে পরিবারের ভয়ার্ত সদস্যদের বিনোদন যোগাতেন। মিকালেঞ্জেলো আন্তেনিয়োনি ছাড়াও এলিয়ান ডিলন, রিচার্ড হ্যারিস, টেরেন্স স্টাপ, দ্রিক বোগার্ডের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর অন্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে আছে লা নোত্তে, দ্য এক্লিপস ইত্যাদি। ভিত্তি পাঁচবার ইতালিয়ান চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হন, ভেনিস উত্সবে জেতেন গোল্ডেন লায়ন। তাঁর মৃত্যুতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা রমেশ দেও

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রমেশ দেও। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। আনন্দ, মেরে আপনে-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে তাঁর অভিনীত ছবি প্রশংসিত হয়েছে। মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছেন তাঁর ছেলে মারাঠি অভিনেতা অজিঙ্ক দেও। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন বেশ কয়েকদিন ধরেই রমেশ দেও অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র অভিনয় দেও বলিউড পরিচালক। যিনি গেম, দিল্লি বেলি-র মতো ছবিতে পরিচালনা করেছেন। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী তে ১৯২৯ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর জন্ম হয়। ১৯৬২ সালে রাজশ্রী প্রোডাকশনের প্রযোজনায় আরতি ছবি দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন বলিউডে। এরপর অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শত্রুঘ্ন সিনহার মতো একাধিক তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে অগ্নিকাণ্ডে কোভিড রোগীর মৃত্যুর কারণ অক্সিজেন সিলিন্ডার না মশা মারার ধূপ? তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত এক প্রৌঢ়ার। মৃতার নাম সন্ধ্যা মণ্ডল (৭২)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের গলসির বড়মুরিয়া গ্রামে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে। হাসপাতাল কর্মীরাই প্রথম আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছায়। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখেন দমকলের আধিকারিকরা। ওয়ার্ডে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছে নাকি মসা মারার ধূপ থেকে বেডে আগুন ধরে গিয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের তরফে একটি এফআইআর করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মৃতদেহটি এদিনই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ভিসেরা সংগ্রহে রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে এক রোগীনির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বেলা বাড়তেই রাজ্য জুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হয় রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা ও বিধায়করা। তড়িঘড়ি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়। স্বাস্থ্য দফতরের তিন সদস্যের কমিটি হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত করবে। জানা গিয়েছে, ওই কমিটিতে রয়েছেন স্পেশাল সেক্রেটারি অনিরুদ্ধ নিয়োগী, আরজিকর হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোমনাথ দাস ও নার্সিং মেম্বার মণিকা গায়েন। পাশাপাশি বর্ধমান হাসপাতালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত সরকারী হাসপাতালে ফায়ার অডিটের নির্দেশও দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট উপসর্গ থাকায় পরিবারের লোকজন গত বুধবার প্রৌঢ়া সন্ধ্যা মণ্ডলকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড অর্থাৎ রাধারানী ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানেই তাঁর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এলে পরদিন সন্ধ্যাদেবীকে হাসপাতালের কোভিড জেনারেল বেডে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর অক্সিজেন চলছিল। রাতে ওয়ার্ডের বাইরে শুয়েছিলেন রোগীর পরিজনরা। শনিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ওয়ার্ডের ৬ নং ব্লকের ৮০ নম্বর বেডে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। সেই বেডে থাকা সন্ধ্যাদেবী আগুনে পুড়ে দগ্ধ হন। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।রাধারানী ওয়ার্ডের বাইরে রাতে শুয়ে থাকা রোগী পরিজনদের একজন হলেন মেমারির নিশিরাগড় নিবসী বাসি হেমব্রম। তিনি জানান, রাধারানী ওয়ার্ডের উল্টোদিকের বপডে তিনি শুয়েছিলেন। হঠাৎ শুনতে পান ওয়ার্ডের ভিতর থেকে আগুন আগুন বলে এক মহিলা চিৎকার করছেন। তেমনটা শুনেই দ্রুত তিনি ছুটে ওয়ার্ডে ভিতর যান। গিয়ে দেখেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভিতরের একটি বেডে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তা দেখে ওয়ার্ডে থাকা বাকি রোগীরা ছুটে বেড়িয়ে আসছে। রোগীদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ওয়ার্ডে পৌছে আগুন নেভায়। তারই মধ্যে আগুনে পুড়ে দগ্ধ হন প্রৌঢ়া রোগী। পরে তিনি মারা যান । অপর এক রোগীর পরিজন সুমিত্রা মাঝি জানান, আগুন দেখে অনেক কোভিড রোগী ভয়ে বাইরে চলে আসে। ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন হাসপাতালে আসে। তার আগেই হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা আগুন নিভিয়ে ফেললেও প্রৌঢ়া কোভিড রোগী মারা যান। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর দমকলের আধিকারিকরা ওয়ার্ডে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা শুরু করেন। দমকলের এক আধিকারিক দীপক সেন জানান, ওয়ার্ডে একটি বেড ছাড়া অন্য কোন বেডে আগুন লাগেনি। মশার ধূপ থেকেই ওই বেডে আগুন লেগেছে বলে তাদের প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার পরেই দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌছান প্রিন্সিপ্যাল প্রবীর সেনগুপ্ত, সুপার তাপস ঘোষ সহ অন্যা চিকিৎসকরা। বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্ত্তীও একই সময়ে হাসপাতালে পৌছান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। পরে প্রিন্সিপ্যাল প্রবীর সেনগুপ্ত জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তের জন্য ফরেন্সিক দলকে বলা হয়েছে। এছাড়াও একটি পাঁচ সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা করবে। সুপার তাপস ঘোষ জানান, অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে আশঙ্কা করাহচ্ছে। মৃতদেহের পাশে গ্যাস লাইটার, দেশালাই পাওয়া গিয়েছে। কোন কারণে ওই রোগীনি আগুন ব্যবহার করেছিলেন কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।হাসপাতালে উপস্থিত থাকা মৃতার মেয়ে রানু মণ্ডল এদিন বলেন, মায়ের ব্যাগে থালা ও জলের বোতল ছিল। লাইটার, দেশালাই ছিল না। তাঁরাও ওইসব মাকে দেননি। বাড়ি থেকে শুক্রবারই মসারি এনে দিয়ে ছিলেন। তাই মাসা মারার ধূপ জ্বালানোর কোন প্রয়োজনই থাকেনি।বর্ধমান হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এদিন রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় ফেলে দেয়। এদিন দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিজেপির সাত সদস্যদের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুই, বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা, বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা সহ বর্ধমান জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। বিধানসভার বিরোধি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই পরিদর্শন বলে জানান বিজেপি নেতারা। এই প্রতিনিধি দল কোভিড ওয়ার্ড পরিদর্শন করতে গেলেও দুর্ঘটনাস্থল সিল থাকার জন্য যেতে পারেননি। পরে তাঁরা হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা জানান। হাসপাতাল চত্ত্বরে দাঁড়িয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিজেপির প্রতিনিধিরা। মৃতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দেওয়ার দাবিও তোলেন বিজেপি নেতৃত্ব। বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির সম্পাদক অভিজিৎ নন্দী অভিযোগ করেন, সাংসদ কোটার দেড় কোটি টাকা খরচ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপাত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার হাল কতটা তলানিতে ঠেকেছে তার রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যা জানার পর লজ্জায় উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের মাথা হেট হয় গেলেও বিজেপি নেতাদের হয়নি। ওদের লজ্জা-শরম নেই বলে বর্ধমান হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে শুরু করে দিয়েছে ।

জানুয়ারি ২৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • ...
  • 18
  • 19
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

৪৮ ঘণ্টা আগে ভোট, তার আগেই কুপিয়ে হত্যা হিন্দু ব্যবসায়ীকে

ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশে ফের নৃশংস হত্যার অভিযোগ। ময়মনসিংহ জেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম সুষেন চন্দ্র সরকার, বয়স ৬২ বছর। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সুষেন চন্দ্র সরকার পেশায় চাল ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে তিনি নিজের দোকানেই ছিলেন। সেই সময় কয়েক জন দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে তাঁর সঙ্গে বচসা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুষেনবাবুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি দোকানের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর দোকানের শাটার নামিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কী কারণে এই খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই দেশজুড়ে অশান্তির ছবি সামনে আসতে শুরু করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিলেও কট্টরপন্থীদের দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ। এর আগেও একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের পর সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটেও চালানো হয় হামলা। এরপর সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনির পর হত্যা করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।এই পরিস্থিতিতে ভোটের ঠিক আগে ফের এক হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভোটমুখী বাংলাদেশে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
কলকাতা

দোলের পরেই ভোটের দিন ঘোষণা! বাংলায় আসছে কমিশনের হাইভোল্টেজ টিম

মার্চের ১ ও ২ তারিখে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল। তারা রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেই বৈঠকের পর দোলের পরেই ঘোষণা করা হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তার আগে কোনও ঘোষণা হবে না বলেই সূত্রের খবর।আগে ঠিক ছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এখন জানা যাচ্ছে, নেড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের আগে কোনওভাবেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে না।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা হলেও তারা কেন্দ্রের ইঙ্গিত মেনেই চলে। বিজেপি উত্তর ভারতের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেয়। সেই মতে হোলিকা দহনের আগে কোনও শুভ কাজ শুরু করা ঠিক নয় এমন বিশ্বাস থেকেই ভোটের নির্ঘণ্ট দোলের পরে ঘোষণা করা হতে পারে বলে মত অনেকের। উল্লেখ্য, বাংলার পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতেও নির্বাচন রয়েছে। সব রাজ্যের ভোট একসঙ্গেই ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা।বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে, তারা এক দফায় ভোট করাতে প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় লোকবল তাদের হাতে রয়েছে। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায়, তবে এক দফায় ভোট করা সম্ভব এবং তাতে হিংসাও কমবে। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ভোট করানোর পক্ষেই ঝুঁকছে বলে জানা গিয়েছে। লোকবল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়ার বিষয়টিই এখন প্রধান চিন্তার কারণ।এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসবে কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের দল। সেই বৈঠকের পরই দোলের পরে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
দেশ

কৃষি চুক্তির আড়ালে বড় বিপদ? লোকসভায় সতর্কবার্তা অভিষেকের

মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের কড়া সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই বাজেটে সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক কেউই স্বস্তি পাননি। বরং প্রত্যেকেই আরও বেশি বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি আমেরিকা ও ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন।অভিষেক বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতের কৃষকরা। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির পর ভারতীয় কৃষকরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মার্কিন কৃষি সচিবের একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।অভিষেক জানান, বাণিজ্য চুক্তির পর মার্কিন কৃষি সচিব ব্রুক রলিনস এক্স মাধ্যমে একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, এই চুক্তির ফলে আমেরিকার কৃষকরা আরও বেশি পণ্য ভারতে রফতানি করতে পারবেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর ফলে আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও বেশি অর্থ ঢুকবে এবং ভারতের সঙ্গে কৃষি-বাণিজ্যের ঘাটতি কমবে।এই মন্তব্যের পরেও ভারত সরকার কেন কোনও প্রতিক্রিয়া জানাল না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভারতে প্রতিদিন কৃষকদের মৃত্যু হচ্ছে। একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও সুরাহা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তিতে লাভবান হচ্ছেন সে দেশের কৃষকরা, আর ভারতীয় কৃষকরা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন।অভিষেকের প্রশ্ন, মার্কিন কৃষি সচিব প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করার পরেও ভারত সরকার কেন সেই বক্তব্য খারিজ করল না? কেন কোনও জবাব দেওয়া হল না? সংসদে এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের নীরবতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
দেশ

৮৫ মিনিটের বাজেটে একবারও বাংলার নাম নয়! সংসদে বিস্ফোরক অভিষেক

লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ৮৫ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় একবারও বাংলার নাম উচ্চারণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, এত দীর্ঘ বক্তব্যেও রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।অভিষেকের দাবি, কেন্দ্র যে ফ্রেট করিডরের কথা বাজেটে ঘোষণা করেছে, সেই প্রস্তাব অনেক আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবুও বাংলাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সরকার সমতায় নয়, পক্ষপাতেই বিশ্বাস করে।এদিন অভিষেক বলেন, অর্থমন্ত্রী দাবি করছেন দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। অথচ বাংলা বছরে প্রায় ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা কর দেওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত। মনরেগায় নতুন কাজ বন্ধ, গ্রামীণ সড়ক যোজনা থেকে জল জীবন মিশন সব ক্ষেত্রেই বাংলাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও রাজ্যকে দরাদরি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এরপর অভিষেক ট্রিপল ট্যাক্স ট্র্যাপ-এর কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ মনে করেন তাঁরা একবার কর দিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনবার কর দিতে হচ্ছে। প্রথমে বেতন থেকে আয়কর কাটা হয়। দ্বিতীয়ত জিএসটি বিস্কুট, স্কুলের খাতা, হাসপাতালের বিল, এমনকি সাবানেও কর দিতে হয়। তৃতীয় কর হল মূল্যবৃদ্ধি, যা অনুমতি ছাড়াই বাড়ে। অভিষেকের কথায়, এটিই হল নীরব কর।মধ্যবিত্তদের অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, মাসের মাঝপথেই অনেকের বেতন শেষ হয়ে যায়। একটি গাড়ি কিনলেও তিনবার কর দিতে হয় আয়কর, রোড ট্যাক্স এবং টোল ট্যাক্স।এসআইআর থেকে শুরু করে বাংলা ভাষা ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, জয় বাংলা বলা বা সোনার বাংলা গান গাইলেই অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া হচ্ছে। সেনাকর্মী, নোবেলজয়ী কিংবা হাইকোর্টের বিচারপতিকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলায় প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক কোটি মানুষকে সন্দেহভাজন তালিকায় রাখা হয়েছে।সবশেষে অভিষেক বলেন, কেন্দ্র যদি তহবিল বন্ধ করতে চায়, তা করতেই পারে। কিন্তু বাংলার মেরুদণ্ড কখনও ভাঙবে না। সব কিছু কেড়ে নেওয়া গেলেও মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। মানুষ জেগে উঠলে শেষ কথা বাংলাই বলবে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
কলকাতা

আগস্ট নয়, এপ্রিল থেকেই ১৫০০ টাকা! যুবসাথীতে বড় চমক মমতার

আগস্টের অপেক্ষা আর নয়। এপ্রিল থেকেই চালু হচ্ছে যুবসাথী প্রকল্প। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন।কয়েক দিন আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন জানানো হয়েছিল, অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রকল্পটি কার্যকর করা হচ্ছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক ও যুবতীরা, যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করার পর এখনও বেকার। কেউ যদি স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনও বাধা নেই। তবে স্কলারশিপ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা যদি কেউ নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে যুবসাথীর টাকা মিলবে না।প্রাথমিকভাবে টানা পাঁচ বছর প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পরেও কেউ যদি বেকার থাকেন, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দুয়ারে সরকার কর্মসূচির আদলে বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। ১৫ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই ক্যাম্প চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে সেখানেই আবেদন করা যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে আবেদনপত্রের রসিদও দেওয়া হবে।যুবসাথী প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জানিয়ে শীঘ্রই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
রাজ্য

চার দিনে ৩৯ বার কাঁপল সিকিম! বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা

ভূমিকম্পের পরে আফটারশকের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু টানা চার দিন ধরে একের পর এক কম্পনের ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের লাগোয়া পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে ঠিক এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা কম্পনে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।জানা গিয়েছে, এই চার দিনে মোট ৩৯ বার কেঁপে উঠেছে সিকিম। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা কখনও ৩, কখনও ৪। মাত্রা খুব বেশি না হলেও বারবার কম্পন হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। তার প্রভাব পড়ে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরপর মাত্র ৪ ঘণ্টা ১২ মিনিটের মধ্যে পরপর ১২টি ভূমিকম্প হয়। মঙ্গলবার সকালেও নামচি ও মঙ্গন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক কম্পন ফোর শক হতে পারে। অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের আগে এ ধরনের কম্পন দেখা যায়। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। সিকিমের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও নিরাপদ জায়গা খুঁজে রাখার কথা জানিয়েছে বাসিন্দাদের।এই ধারাবাহিক কম্পনের পিছনে পাহাড়ে অতিরিক্ত নির্মাণ, জলাধার তৈরির কাজ, বা রেলপথ নির্মাণের সময় ডিনামাইট ফাটানোর মতো কার্যকলাপ কোনও ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়েও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।সিকিম পশ্চিমবঙ্গের খুব কাছেই অবস্থিত। সারা বছরই সেখানে বহু বাঙালি পর্যটক যান। তাই সিকিমে বড় কোনও ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
রাজ্য

বর্ধমানে HIV আতঙ্ক! এক শহরেই আক্রান্ত ৩০ যুবক, চাঞ্চল্য স্বাস্থ্য দফতরে

বর্ধমান জেলায় HIV আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তার মধ্যে একটি বড় অংশই বর্ধমান শহরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতর। সোমবার দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরে অন্তত ৩০ জন যুবক HIV পজ়িটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯০ জন HIV আক্রান্ত রয়েছেন। তার মধ্যে বর্ধমান শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। এঁরা সকলেই যুবক, উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজাত পরিবারের বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের কারণেই সংক্রমণ বেড়েছে।বিশ্বনাথবাবুর কথায়, সাধারণত যৌনপল্লি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত সচেতনতা অভিযান চালানো হয়। কিন্তু এ বছর একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এক যুবক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর একাধিক পরীক্ষা করান। সেই পরীক্ষার মধ্যেই ছিল HIV টেস্ট। তখনই ধরা পড়ে তিনি সংক্রমিত। পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের আরও কয়েকজন যুবকের পরীক্ষা করা হলে পরপর অনেকেই HIV পজ়িটিভ হিসেবে চিহ্নিত হন। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড় যৌনচক্র থাকতে পারে বলেও মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর প্রস্তুত বলে দাবি করা হয়েছে। আক্রান্তদের পরিচয় গোপন রেখে চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, HIV সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
বিদেশ

ভোটের আগে বড় চুক্তি! আমেরিকার সঙ্গে ইউনুস সরকারের সমঝোতা ঘিরে জল্পনা

বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচনের আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের হার কমে দাঁড়াল ১৯ শতাংশে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে নিজেই এই চুক্তির কথা জানিয়েছেন ইউনুস।তিনি জানান, সোমবার বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তার ফলে আমেরিকা তাদের শুল্কের হার আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ইউনুস আরও বলেন, ভবিষ্যতে কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কের সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির বার্তাও দিয়েছে আমেরিকা।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মূলত টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই এই খাত থেকে আসে। ফলে মার্কিন শুল্ক কমায় বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের একাধিক দেশের বিরুদ্ধে কার্যত শুল্কযুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। পরে গত বছরের আগস্টে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এবার নতুন চুক্তির ফলে সেই শুল্ক আরও কমে ১৯ শতাংশে এল।প্রায় ৯ মাস ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে। তবে নির্বাচন একেবারে সামনে, আর অন্তর্বর্তী সরকারও অস্থায়ীভাবে ক্ষমতায়এই পরিস্থিতিতে এমন বড় বাণিজ্য চুক্তির অর্থ কী, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal