• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cricket

খেলার দুনিয়া

Syed Mustak Ali T20 : সুপার ওভারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় বাংলার

গ্রুপ লিগে পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিল কর্ণাটক। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাকে সুপার ওভারে হারিয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল কর্ণাটক।টস জিতে কর্ণাটককে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চ্যাটার্জি। বাংলার দুই জোরে বোলার মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না কর্ণাটকের দুই ওপেনার বিআর শরথ। রান তোলার গতি ভাল ছিল না কর্ণাটকের। তার মধ্যেই চতুর্থ ওভারে ধাক্কা খায় কর্ণাটক। ওভারের পঞ্চম বলে আকাশ দীপ তুলে নেন বিআর শরতকে (৯বলে৪)। কর্ণাটকের রান তখন ১৯। নবম ওভারের শেষ বলে উইকেটে জমে যাওয়া রোহন কদমকে (২৯ বলে ৩১) আউট করে বাংলাকে ব্রেক থ্রু দেন শাহবাজ আমেদ। বাংলার বোলারদের বিরুদ্ধে একেবারেই সাবলীল ছিলেন না কর্ণাটক অধিনায়ক মনীশ পান্ডে। ৩৪ বলে ২৯ রান করে তিনি সায়ন ঘোষের বলে প্রদীপ্ত প্রামানিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ক্রিজে এসেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন অভিনব মনোহর (৯ বলে ১৯)। তাঁকে থামিয়ে দেন ঋত্বিক চ্যাটার্জি। ১০ বলে ১৬ রান করে মুকেশ কুমারের বলে আউট হন অনিরুদ্ধ। করুণ নায়ারের ঝোড়ো ব্যাটিং কর্ণাটককে ২০ ওভারে ১৬০/৫ রানে পৌঁছে দেয়। করুণ নায়ার ২৯ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বাংলার হয়ে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, ঋত্বিক চ্যাটার্জি, সায়ন ঘোষ ও শাহবাজ আমেদ ১টি করে উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করে বাংলা। ভি ব্যাসকের প্রথম ওভারেই ২০ রান তোলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলা। মাত্র ১ বল খেলে কোনও রান না করে বিদ্যাধর পাটিলের বলে করুণ নায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন অভিষেক দাস। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন শ্রীবৎস গোস্বামী। ১০ বলে ২২ রান করে তিনি রান আউট হন। অধিনায়ক সুদীপ চাটার্জিও রান পাননি। ৯ বলে ২২ রান করে তিনি এমবি দর্শনের বলে মনীশ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। বাংলার রান তখন ৫.৪ ওভারে ৫১। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি ও কাইফ আমেদ। চতুর্দশ ওভারে পরপর দুবলে কাইফ আমেদ (২৬ বলে ২০) ও শাহবাজ আমেদকে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। পরের ওভারেই ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জিকে তুলে নেন দর্শন। ৪০ বলে ৫১ রান করেন ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি। এক ঋত্ত্বিক আউট হলেও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ও প্রদীপ্ত প্রামানিক বাংলাকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ ওভারে বাংলার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। ভি পাটিলের প্রথম দুটি বলে ৬ মারেন ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। পরের বলে ১ রান নেন তিনি। চতুর্থ বলে ৪ মারেন আকাশ দীপ। পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ম্যাচ করেন। শেষ বলে ১ রান করলেই জয়। মিড অফে ঠেলে রান নিতে দৌড়েছিলেন আকাশ দীপ। মণীশ পান্ডের সরাসরি থ্রো নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে দেয়। ক্রিকেট পৌঁছতে পারেননি আকাশ দীপ। ম্যাচ টাই হয়। ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ১৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।সুপার ওভারে বাংলার হয়ে ব্যাট করতে নামেন কাইফ আমেদ ও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। কারিয়াপ্পার প্রথম বলে ১ রান নেন কাইফ। পরের বলে তিনি আউট। কাইফ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শ্রীবৎস গোস্বামী। একটা বাউন্ডারি মেরে পরের বলে তিনি আউট। ৪ বলে ৫ রান তোলে বাংলা। পরপর দুবলে ২ রান নিয়ে ও ৬ মেরে কর্ণাটককে সেমিফাইনালে তোলে মণীশ পান্ডে।

নভেম্বর ১৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Chris Gayle : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েও ফের মাঠে নামছেন ক্রিস গেল

আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ। টি২০ বিশ্বকাপেও সেই ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত। তবুও ক্রিস গেলের জনপ্রিয়তা যেন কিছুতেই কমছে না। বিশ্ব ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এখনও তাঁর চাহিদা যথেষ্টই। টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবশ্য খেলা চালিয়ে যাবেন। এবার শ্রীলঙ্কার প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেখা যাবে ক্রিস্টোফার হেনরি গেলকে।বুধবারই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটারদের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলম্বো স্টারস তুলে নিয়েছে বিশ্বের এই সর্বাধিক জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে। ক্রিস গেল ছাড়াও কলম্বো স্টারস দলে নিয়েছে মহম্মদ ইরফান, তাস্কিন আমেদ, আহমেদ শেহজাদকে। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে নজর কাড়া ফাফ ডুপ্লেসিকেও খেলতে দেখা যাবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ক্রিকেটারকে ছাড়াও জাফনা কিংস নিলামে তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার ওয়াহাব রিয়াজকে। আফগান ক্রিকেটার উসমান সিনওয়ারি, রহমতুল্লা গুরবাজকেও খেলতে দেখা যাবে জাফনা কিংসের হয়। তবে জাফনা কিংসের সবচেয়ে বড় চমক পাকিস্তানেক অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক।রভম্যান পাওয়েল, বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে নজর কাড়া চরিথ আসালঙ্কাকেও খেলতে দেখা যাবে ক্যান্ডি ওয়ারিয়র্সে। প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির, দাসুন শনাকা, রিলে রসোর মতো ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যাবে ডাম্বুলা জায়ান্টসের হয়ে। অন্যদিকে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলতে দেখা যাবে মহম্মদ হাফিজ, তাবরেজ সামসি, মহম্মদ আমির, সরফরাজ আমেদের মতো ক্রিকেটারদের।এবছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে শ্রীলঙ্কার একঝাঁক তারকা ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যাবে না। নির্বাসনের কারণে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, কুশল পেরেরা, আকিলা ধনঞ্জয়, দীনেশ চন্ডীমাল, ধনঞ্জয় ডিসিলভাকে নিলামে তোলা হয়নি। ৫ ডিসেম্বর থেকে পাঁচটি দলকে নিয়ে শুরু হবে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গতবছর যে দলগুলি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছিল তার মধ্যে তিনটি দলের এবার মালিকানা বদল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জাফনা স্ট্যালিয়নস। এবছর তারা খেলবে জাফনা কিংস নামে।

নভেম্বর ১০, ২০২১
বিদেশ

Malala Yusufzai: নতুন জীবনে প্রবেশ করলেন মালালা ইউসুফজাই

২০১২ সালে তালিবানি সন্ত্রাসের চোখে চোখ রেখে লড়াই চালিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। বিয়ে করলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই । বার্মিংহামে একটি ছোট ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বসল পাকিস্তানি কন্যার বিয়ের আসর। পাত্রের নাম অসর মালিক। অসর পাক ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা।মালালার বয়স এখন ২৪ বছর। পাকিস্তানের এই কন্যা মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছেন। তবে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে সরব হওয়ার জন্য তালিবানের গুলিও খেতে হয়েছে তাঁকে। এর পর ১৬ বছর বয়সে রাষ্ট্রপুঞ্জে বক্তৃতা দেন মালালা। শিক্ষার অধিকারে লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বরাবর সরব হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় মালালাকে। ২০২০ সালে মালালার নামে স্কুলও খোলা হয় টেক্সাসে।Today marks a precious day in my life.Asser and I tied the knot to be partners for life. We celebrated a small nikkah ceremony at home in Birmingham with our families. Please send us your prayers. We are excited to walk together for the journey ahead.📸: @malinfezehai pic.twitter.com/SNRgm3ufWP Malala (@Malala) November 9, 2021মঙ্গলবার অসরের সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবর টুইটারে জানান নোবেলজয়ী। বিয়ের ছবি পোস্ট করে মালালা লেখেন, আমার জীবনের একটি মূল্যবান মুহূর্ত। অসর এবং আমি আজীবনের সঙ্গী হওয়ার জন্য আজ গাঁটছড়া বাঁধলাম। একে তো নোবেলজয়ীর বিয়ের আসর, তার উপর মালালা তাঁর জীবনযুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। তবে বিয়ের আসরে জাঁকজমক ছিল না একেবারেই। মালালা লিখেছেন, বার্মিংহামের বাড়িতেই পরিবার-পরিজনের সামনে একটা ছোট ঘরোয়া নিকাহ অনুষ্ঠানে আমরা বিশেষ মুহূর্তটি উদ্যাপন করেছি।বিয়ের সাজপোশাকে বাহুল্য ছিল না মালালার। পিচ রঙের সালোয়ার কামিজ পরেছিলেন। মাথায় ছিল ওড়না। স্বামী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে ছবি দিয়ে টুইটারে মালালা লিখেছেন, আপনারা আশীর্বাদ করুন। আগামীর সফরে একসঙ্গে শুরু করার এই মুহূর্তে আমরা উত্তেজিত।

নভেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustak Ali T20 : পাড়িক্কল, মায়াঙ্কদের উড়িয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলির কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলা

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বাংলা। মঙ্গলবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী কর্ণাটককে উড়িয়ে দিল ৭ উইকেটে। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে এদিন দুর্দান্ত বোলিং করেন বাংলার বোলাররা। মুকেশ কুমারদের দাপটে কর্ণাটকের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি। বাংলাকর্ণাটক ম্যাচের আগে বরোদার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল মুম্বই। বরোদাকে মুম্বই হারানোয় বাংলাকে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে জিততেই হত। জ্বলে উঠলেন বাংলার বোলাররা। কর্ণাটক দল রীতিমতো তারকাখচিত। অনেকেই আইপিএলে রীতিমতো দাপিয়ে বেরিয়েছেন। কে নেই দলে? দেবদত্ত পাড়িক্কল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, মণীশ পাণ্ডে, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, জগদেশা সুচিথ, কেসি কারিয়াপ্পা, করুণ নায়ার। কর্ণাটকের যা শক্তি, বাংলার উড়ে যাওয়ার কথা। নাম দিয়ে যে ক্রিকেট হয় না, দেখিয়ে দিলেন বাংলার ক্রিকেটাররা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্ণাটক। এদিন ম্যাচের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে (৪) তুলে নিয়ে কর্ণাটককে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন মুকেশ কুমার। ওই ওভারের শেষ বলে তুলে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কলকে (০)। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মণীশ পাণ্ডে এবং করুণ নায়ার। ২৭ বলে ৩২ রান করে শাহবাজ আমেদের বলে আউট হন মণীশ পাণ্ডে। করুণ নায়ার ৪৪ বলে ৪৪ রান করেন। তাঁকে ফেরান প্রদীপ্ত প্রামানিক (২/৩৩)। মণীশ পাণ্ডে ও করুণ নায়ারকে খুব বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ দেননি শাহবাজ আমেদ (১/১৫), আকাশ দীপরা (১/১৯)। ২০ ওভারে ১৩৪/৮ রানের বেশি তুলতে পারেনি কর্ণাটক। মুকেশ কুমার ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন। ব্যাট করতে নেমে বাংলার শুরুটাও ভাল হয়নি। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ তুলে নেন সুদীপ চ্যাটার্জিকে (৪)। তিন নম্বরে নেমে ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি ৯ বলে ১৮ রান করে আউট হন। এরপর অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও ঋদ্ধিমান সাহা বাংলাকে টেনে নিয়ে যান। ২৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন ঋদ্ধিমান। বাংলাকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন অভিমন্যু ও কাইফ আমেদ। অভিমন্যু ৪৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন। কাইফ আমেদ ২৪ বলে করেন অপরাজিত ৩৪। ২ ওভার বাকি থাকতেই ৩ উইকেটে ১৩৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলা। ৫ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট বাংলার। অন্যদিকে কর্ণাটকেরও পয়েন্ট ১৬। নেট রান রেটে কর্ণাটককে (০.৩৭৯) পেছনে ফেলে গ্রুপ শীর্ষে থাকে বাংলা (০.৯৯৫)। গ্রুপ শীর্ষে থাকায় সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পান সুদীপরা। আর কর্ণাটককে খেলতে হবে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল।

নভেম্বর ০৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

সেমিফাইনালের ছাড়পত্র আগেই এসে গিয়েছিল। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ ছিল লিগ টেবিলে শীর্ষে থাকার লড়াই। বিপক্ষকে ৭২ রানে উড়িয়ে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থানে শেষ করল পাকিস্তান। সেমিফাইনালে পাকিস্তান খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।রবিবার স্কটল্ল্যান্ডের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন বাবর আজম ও শোয়েব মালিক। এই দুজনের দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল স্কটল্যান্ডের বোলাররা। চলতি টি২০ বিশ্বকাপে ৪টি অর্ধশতরানের মালিক হয়ে গেলেন বাবর। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায় শীর্ষে পৌঁছলেন। টপকে গেলেন জস বাটলারকে। বাটলার মত রান ২৪০। অন্যদিকে বাবরের সংগ্রহ ২৬৪।স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। শুরুতে সতর্ক ছিলেন দুই পাক ওপেনার মহম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ওঠে মাত্র ৩৫। সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হন মহম্মদ রিজওয়ান (১৯ বলে ১৫)। ফকর জামান (১৩ বলে ৮) দ্রুত ফিরলেও পাকিস্তানকে টেনে নিয়ে যান বাবর আজম ও মহম্মদ হাফিজ। হাফিজ ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে রান তোলার গতি বাড়ানোর দিকে নজর দেন। ১৯ বলে ৩১ রান করে তিনি আউট হন। বাবর আজম ৪৭ বলে করেন ৬৬। শেষ দিকে ঝড় তোলেন শোয়েব মালিক। মাত্র ১৮ বলে ৫৪ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। মারেন ১টি চার ও ৬টি ছয়। চলতি টি২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির দিক দিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন ভারতের লোকেশ রাহুলকে। ২০ ওভারে পাকিস্তান তোলে ১৮৯/৪।ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। কাইল কোয়েটজারকে (৯) তুলে নেন হাসান আলি। এরপর ৫ রান করে রান আউট হন ম্যাথু ক্রস। ৩১ বলে ১৭ রান করে একাদশতম ওভারে শাদাব খানের প্রথম বলে ফিরে যান জর্জ মুনসে। এরপর স্কটল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যান ব্যারিংটন ও লিয়াস্ক। ১৪ বলে ১৪ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন লিয়াস্ক। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১৭/৬ তোলে স্কটল্যান্ড। ৩৭ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্যারিংটন। শাদাব খান ৪ ওভারে ১৪ রানে ২ উইকেট নেন। ৫ ম্যাচে সব কটি জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পৌঁছয় পাকিস্তান। ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে শেষ চারে নিউজিল্যান্ড।

নভেম্বর ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : সর্ব কনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টি২০ ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মালিক রশিদ খান

অনেক আশা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল আফগানিস্তান। যদি কোনও রকম অঘটন ঘটানো যায়। লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি মহম্মদ নবিরা। কিন্তু এবারের টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন আফগানিস্তানে লেগস্পিনার রশিদ খান। সর্ব কনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টি২০ ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মার্টিন গাপটিলকে আউট করে ৪০০ উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছন রশিদ খান। একই সঙ্গে এলিট লিস্টে নিজের নাম তুলে ফেললেন আফগানিস্তানের এই লেগস্পিনার। সব ধরণের টি২০ ক্রিকেট ম্যাচে রশিদ খানের আগে ৩ জন বোলার ৪০০র বেশি উইকেট নিয়েছেন। তাঁরা হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়েন ব্র্যাভো। তিনি রয়েছেন সকলের ওপরে। সব ধরণের টি২০ ম্যাচ মিলিয়ে এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার নিয়েছেন ৫৫৩টি উইকেট। ডোয়েন ব্র্যাভোর পর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই সুনীল নারাইন। এই ক্যারিবিয়ান রহস্যময় স্পিনারের ঝুলিতে রয়েছে ৪২৫ উইকেট। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। এই প্রোটিয়া স্পিনারের সংগ্রহে রয়েছে ৪২০ উইকেট। ৪০০র এলিট ক্লাবে নতুন সংযোজন রশিদ খান। তবে এই কৃতিত্ব তিনি অর্জন করলেন সর্ব কনিষ্ট্ঠ হিসেবে।দেশের হয়ে খেলতে নেমে রশিদ খান ১০৩ টি উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন। আর আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে নেমে ৯৩ টি উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। বাকি ২০৪টি উইকেট নিয়েছেন বিভিন্ন দেশে টি২০ লিগে খেলে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে বিগ ব্যাশ, তেমনই রয়েছে পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, আফগানিস্তান টি২০ লিগ, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেটে। দুরন্ত স্পিন বোলিংয়ের সুবাদে টি২০ ক্রিকেটে রীতিমতো সমীহ জাগানো নাম হয়ে উঠেছেন রশিদ খান।চলতি বিশ্বকাপে টি২০ ক্রিকেটে শুধু ৪০০ উইকেটের মালিক হননি রশিদ খান, আরও একটা নজির গড়েছেন এই আফগান স্পিনার। দ্রুততম বোলার হিসেবে টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ উইকেট দখল করার নজিরও গড়েছেন রশিদ খান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। রশিদ খান ছাড়া মাত্র ৩ জন বোলার আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন। এরা হলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন জোরে বোলার লসিথ মালিঙ্গা, বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি। এই তালিকায় সকলের আগে রয়েছেন সাকিব আল হাসান।

নভেম্বর ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : সামনের বছর দুবারের বিশ্বকাপজয়ী দলকে খেলতে হবে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ

দুবারের বিশ্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের কী হাল! এবছর সেমিফাইনালে তো উঠতেই পারেনি, পরের বছর টি২০ বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার ১২তে খেলার যোগ্যতাও নেই! ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার ১২তে খেলার সুযোগ পাবে না ক্যারিবিয়ানরা। প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকে সুপার ১২তে উঠে আসতে হবে। সরাসরি সুপার ১২র খেলার সুযোগ নেই শ্রীলঙ্কারও। তাদেরও প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলে সুপার ১২তে উঠে আসতে হবে। অন্যদিকে, সরাসরি সুপার ১২তে খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।২০২২ বিশ্বকাপের জন্য সুপার ১২র অটোমেটিক কোয়ালিফায়ার নির্ধারিত হল বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে। এবছর বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের সঙ্গে আইসিসির টি২০ র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ছটি দল সরাসরি আগামী বছর সুপার ১২তে খেলবে। এবছর সুপার ১২তে বাংলাদেশ সব ম্যাচ হারলেও বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে টি২০ সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। ৮ নম্বরে থাকার জন্য সামনের বছর সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে তারা। আফগানিস্তানও র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার থেকে এগিয়ে রয়েছে। তারা রয়েছে সপ্তম স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারাত, তাহলে র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে উঠে আসত। সেক্ষেত্রে পরের বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার ১২তে জায়গা করে নিত। অসিরা জেতায় ক্যারিবিয়ানরা র্যাঙ্কিংয়ে দশম স্থানে নেমে গেছে। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবছর বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার ১২তে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে অবশ্য প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলে উঠে আসতে হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা রয়েছে নবম স্থানে। তারা এই বিশ্বকাপে সুপার ১২তে দুটি ম্যাচ জিতেছে। তা সত্ত্বেও র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে টপকে যেতে পারেনি। সামনের বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া এবং কোয়ালিফায়ার থেকে উঠে আসা চারটি দলকে নিয়ে প্রথম রাউন্ডের খেলা হবে। সেখান থেকে চারটি দল সুপার ১২তে উঠে আসবে।

নভেম্বর ০৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : টানা ৪ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পাকিস্তান, এই নিয়ে ৫ বার

সেমিফাইনালে ছাড়পত্র পাওয়াই যেখানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের কাছে, অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে পাকিস্তান। নামিবিয়াকে ৪৫ রানে হারিয়ে গ্রুপ ২ থেকে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল বাবর আজমের দল। বাকি একটা জায়গার জন্য লড়াই ভারত, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যে। এই নিয়ে টানা ৪ ম্যাচ জিতল পাকিস্তান। পাকিস্তানের জয়ের নায়ক অধিনায়ক বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ান। দুরন্ত ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার।চাপের মুখে ভেঙে পড়ার সেই পুরনো রোগ আর নেই এই পাকিস্তান দলের। যার প্রমাণ দিয়েই চলেছেন বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ানরা। আবু ধাবির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। রুবেন ট্রাম্পেলম্যান, ডেভিড উইসে, জ্যাঁ ফ্রাইলিঙ্কেদের দাপটে শুরুতে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। ট্রাম্পেলম্যানদের আঁটোসাটো বোলিংয়ের সামনে শুরুতে জ্বলে উঠতে পারেননি পাকিস্তানের দুই বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ওঠে মাত্র ২৯ রান। ৫০ রানে পৌঁছয় ৯ ওভারে। শুরুতে মন্থর ব্যাটিং সত্ত্বেও স্নায়ুচাপে ভোগেননি বাবর মহম্মদ ও মহম্মদ রিজওয়ান। দলের ৫০ রান অতিক্রম হওয়ার পরই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন দুই পাক ওপেনার। পরের ৪ ওভারে ওঠে ৫০। ১৩ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ১১৩। টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবথেকে বেশি সেঞ্চুরি রানের পার্টনারশিপের রেকর্ড বাবর ও রিজওয়ানের। মোট ৫ বার দুজনে মিলে ১০০র বেশি রান তুলেছেন। উইকেটে থিতু হয়েই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন বাবর আজম। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৭০ রান করে উইসের বলে তিনি আউট হন। চলতি টি২০ বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি বাবর আজমের। বাবরের পাশাপাশি দুরন্ত ব্যাটিং করে মহম্মদ রিজওয়ান। শুরু দিকে মন্থর ব্যাটিং করলেও পরে জ্বলে ওঠেন। জেজে স্মিথের শেষ ওভারে রিজওয়ান তোলেন ২৪ রান। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৭৯ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ফকর জামান (৫) দ্রুত ফিরে গেলেও পাকিস্তানের বড় রানে পৌঁছতে অসুবিধা হয়নি। মহম্মদ হাফিজও শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। অসমাপ্ত তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ওঠে ৬৭ (২৬ বলে)। হাফিজ ১৬ বলে করেন অপরাজিত ৩২। পাকিস্তান ২০ ওভারে তোলে ১৮৯/২। পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ১৮৯ রান তাড়া করে জেতা নামিবিয়ার পক্ষে শুধু যথেষ্ট কঠিন। জিততে গেলে অবিশ্বাস্য খেলতে হত। তা সম্ভব হয়নি। নামিবিয়াকে শুরুতেই ধাক্কা দেন হাসান আলি। শুরুতে ভ্যান লিঙ্গেনকে (৪) তুলে নেন। স্টিফেন বার্ড (২৯ বলে ২৯), ক্রেগ উইলিয়ামস (৩৭ বলে ৪০) কিছুটা লড়াই করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে নামিবিয়া তোলে ১৪৪/৫। ডেভিড উইসে ৩১ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলি, ইমাদ ওয়াসিম, হ্যারিস রউফ, সাদাব খান ১টি করে উইকেট পান।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের লড়াই জমিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

সুপার ১২র গ্রুপ ১ থেকে ইতিমধ্যেই টি২০ বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়ে গেছে ইংল্যান্ড। বাকি জায়গার জন্য জোরদার লড়াই। লড়াই আরও জমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়। বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়াল প্রোটিয়ারা। কারণ ৩৯ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নিয়ে নেট রান রেট অনেকটাই বাড়িয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। শুরুটা ভাল করেও হঠাৎ ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২২। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে মহম্মদ নইমকে (৯) রাবাডা তুলে নিতেই ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলাদেশ শিবিরে। পরের বলেই রাবাডা ফেরান সৌম্য সরকারকে (০)। এক ওভার পরেই তুলে নেন মুশফিকুর রহিমকে (০)। রাবাডার বিধ্বংসী স্পেলে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। মাহমুদুল্লাকে (৩) তুলে নেন আনরিখ নর্টিয়ে। ৩৪ রানে ৫ উইকেটে হারিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে কিছুটা লড়াই করেন লিটন দাস (৩৬ বলে ২৪), মেহেদি হাসান (২৫ বলে ২৭)। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ৮৪ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৮ রানে ৩ উইকেট নেন নর্টিয়ে। ২০ রানে ৩ উইকেট নেন রাবাডা।ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম ওভারের শেষ বলে ফিরে যান রেজা হেনড্রিকস (৪)। তাস্কিন আমেদের বলে এলবিডব্লুউ হন। এরপর ১৫ বলে ১৬ রান করে মেহেদি হাসানের বলে বোল্ড হন কুইন্টন ডিকক। এইডেন মার্করাম (০) দ্রুত ফিরে গেলেও লক্ষ্য কম থাকায় সমস্যা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ভ্যান ডার ডুসেন ও অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২৭ বলে ২২ রান করে নাসুম আমেদের বলে আউট হন ডুসেন। ২৮ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন বাভুমা। ১৩.৩ ওভারে ৮৬/৪ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই নিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেল প্রোটিয়ারা। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে চাপে ফেলে দিল অস্ট্রেলিয়াকে।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 World Cup : আফগানিস্তান ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন বিরাট কোহলি!‌

পরপর দুম্যাচে পরাজয়। এবারের টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা অনেকটাই ক্ষীণ। এমনিতেই চাপে ছিলেন। তার ওপর সতীর্থদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। দুটি ম্যাচে হেরে ঘরে বাইরে রীতিমতো কোনঠাসা ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এতটাই চাপে রয়েছেন যে, আফগানিস্তান ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনেই এলেন না। পাঠিয়ে দিলেন ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরকে! বিরাট কোহলির সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেই অনেকবার তিনি ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে আসেননি। কখনো সহকারী অধিনায়ককে পাঠিয়েছেন, কখনও সতীর্থ কোনও ক্রিকেটারকে। কখনও আবার ব্যাটিং কোচ কিংবা ফিল্ডিং কোচকে। কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপে যে পরিস্থিতিতে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন না, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোহলিসহ গোটা টিম যে যথেষ্ট চাপে রয়েছে, সেটা পরিস্কার। সেমিফাইনালে যেতে গেলে বাকি তিনটি ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে না, নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নেট রান রেটও বাড়িয়ে রাখতে হবে। ভারতীয় শিবির অবশ্য নেট রান রেট, জটিল অঙ্ক এসব মাথায় রাখছে না। ভাল খেলার ওপরই মনোযোগ দিচ্ছে। সেকথাই শোনা গেছে ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরের মুখে। শুনতে অবাক লাগবে, পরপর দুটি ম্যাচে ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও তাঁদের কাঠগড়ায় তুলতে রাজি নন বিক্রম রাঠোর। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। সূর্যকুমার যাদবকে আবার প্রথম একাদশে ফেরানো হতে পারে। দীর্ঘদিন পর আবার দেশের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে মাঠে দেখা যেতে পারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে, বরুণ চক্রবর্তীর জায়গায়। ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওপেনিং থেকে সরানো হয়েছিল রোহিত শর্মাকে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবার ওপেনিংয়ে ফিরছেন ভারতীয় দলের সহঅধিনায়ক। হার্দিক পান্ডিয়াকে প্রথম একাদশে রাখা হবে কিনা, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রসঙ্গে রাঠোর বলেন, দলে যথেষ্ট ব্যাটিং গভীরতা রয়েছে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাছাড়া দুটি ম্যাচেই প্রথমে ব্যাট করতে হওয়ায় অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। ব্যাটাররা বড় শট খেলতে পারেনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী বিক্রম রাঠোর।

নভেম্বর ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World cup : বাটলারের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই পা বাড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। লক্ষ্য ছিল সুপার ১২র গ্রুপ লিগে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে সফল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কাকে ২৬ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে এবছর টি২০ বিশ্বকাপে শেষ চারের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলল। ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জস বাটলার। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরির সুবাদেই জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে ইংল্যান্ড। চলতি টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি এল বাটলারের ব্যাট থেকে। শেষ বলে ছয় মেরে ৯৫ থেকে ১০১ রানে পৌঁছে অপরাজিত থাকেন তিনি। সেই সঙ্গে ৪ ম্যাচে ২১৪ রান করে তিনিই আপাতত চলতি বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক।টি২০ ক্রিকেটে টস জিতলেই পরে ব্যাট করা প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে পরে ব্যাট করলে দুই ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। এক, টার্গেট দেখে ব্যাট করা। দুই, রাতের দিকে শিশির পড়লে বোলারদের বল গ্রিপ করতে অসুবিধা হয়। তাছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উইকেটে পরের দিকে ব্যাটে ভাল বল আসছে। সেকথা মাথায় রেখে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেন শ্রীলঙ্কার দুই বোলার চামিরা ও হাসারাঙ্গা। এই দুই বোলারের দাপটে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ৬ ওভারের মধ্যে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারায়। হাসারাঙ্গা তুলে নেন জেসন রয় (৬ বলে ৯) এবং জনি বেয়ারস্টোকে (১ বলে ০)। অন্যদিকে দাওইদ মালানকে (৮ বলে ৬) ফেরান চামিরা।এরপরই ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জস বাটলার ও অধিনায়ক ইওয়িন মর্গ্যান। জুটি ওঠে ১১২ রান। ৩৬ বলে ৪০ রান করে হাসারাঙ্গার বলে আউট হন মর্গ্যান। একসময় ইংল্যান্ডের রান ছিল ১০ ওভারে ৪৭। বাটলার ও মর্গ্যানের দাপটে শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ১১৬। বাটলার প্রথম ৫০ করেন ৪৫ বলে। শেষ ৫০ করতে নেন মাত্র ২২ বল। ইনিংসের শেষ বলে ৬ মেরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন বাটলার। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি করে ৪ ও ৬। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ১৬৩/৪। শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা ২১ রানে ৪ উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ভাল হয়নি। তৃতীয় বলেই ফিরে যান দারুণ ছন্দে থাকা পাথুম নিসাঙ্কা (১)। ঝড় তোলার মুখে চরিথ আসালঙ্কাকে (১৬ বলে ২১) তুলে নেন আদিল রশিদ। এক ওভার পরেই ফেরান কুশল পেরেরাকে (৯ বলে ৭)। ইংল্যান্ডের মতোই ৬ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা দলে জস বাটলারের মতো কোনও ব্যাটার নেই, যিনি দলকে উদ্ধার করতে পারতেন। আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে (১৪ বলে ১৩) তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দেন ক্রিস জর্ডন। ভানুকা রাজাপক্ষে (১৮ বলে ২৬) কিছুটা লড়াই করেন। তাঁকে ফেরান ক্রিস ওকস। অধিনায়ক দাসুন শনাকা (২৫ বলে ২৬) ও ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গার (২১ বলে ৩৪) লড়াই চাপে ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

নভেম্বর ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup‌: নিউজিল্যান্ডের কাছেও লজ্জার হারে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা কার্যত শেষ ভারতের

তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞরা বিরাট কোহলিদের ওপর বাজি ধরেছিলেন। এবারের টি২০ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে। প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে সেই দলেরই কিনা সেমিফাইনালের সম্ভাবনা কার্যত শেষ! মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তব। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৮ উইকেটে হেরে শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেল ভারতের। সেমিফাইনালে যেতে গেলে বাকি তিনটি ম্যাচে কোহলিদের শুধু জিতলেই হবে না, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের হারের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচের আগের দিন কোহলি বলেছিলেন, টি২০ ক্রিকেটে টস বড় ফ্যাক্টর। কথাটা ভুল বলেননি ভারত অধিনায়ক। আইপিএল থেকে দেখা গেছে দুবাইয়ে বেশিরভাগ ম্যাচে রান তাড়া করা দল জয়ী হয়েছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। দলে প্রথম একাদশে বদল, কম্বিনেশন বদল করেও নিজেদের বদলাতে পারল না ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল ভারত। সূর্যকুমার যাদবের পিঠে হঠাৎ ব্যথা হওয়ায় প্রথম একাদশে ঈশান কিষাণ। ভুবনেশ্বর কুমারের বদলে শার্দূল ঠাকুর। ওপেনিং জুটিতেও বদল। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ঈশান কিষাণ। রোহিত শর্মা তিন নম্বরে, চারে অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাতেও শ্রী ফিরল না ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। পাকিস্তান ম্যাচে বাঁহাতি বোলারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতীয় ব্যাটাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বাঁহাতি জোরে বোলার ট্রেন্ট বোল্ট শুরুতেই তুলে নেন ঈশান কিষাণকে। তৃতীয় ওভারে বোল্টকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে মিচেল স্যান্টেনারের হাতে ধরা পড়েন ঈশান (৮ বলে ৪)। পরের বলেই রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেলে দেন অ্যাডাম মিলনে। ষষ্ঠ ওভারে লোকেশ রাহুলকে (১৬ বলে ১৮) তুলে নেন টিম সাউদি। এক ওভার পরেই ইস সোধির বলে আউট রোহিত (১৪ বলে ১৪)। একাদশতম ওভারের প্রথম বলে বিরাট কোহলি (১৭ বলে ৯) আউট হতেই চাপে পড়ে যায় ভারত। সেই চাপ থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি। কোহলিকে ফেরান ইস সোধি। দুবাইয়ের উইকেটে বল ব্যাটে আসে। তা সত্ত্বেও ইস সোধি, মিচেল স্যান্টেনারের মতো বোলারদের সামলাতে হিমসিম খেলেন কোহলিরা। ঋষভ পন্থও (১৯ বলে ১২) শট খেলতে ভুলে গেছেন। হার্দিক পানন্ডিয়া (২৪ বলে ২৩) ও রবীন্দ্র জাদেজার (১৯ বলে ২৬) সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১০/৭ তোলে ভারত। দুরন্ত বোলিং করে ৪ ওভাআরে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন বোল্ট। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন ইস সোধি। যত দুর্বল প্রতিপক্ষই হোক না কেন, ১১০ রান হাতে নিয়ে লড়াই করা কঠিন। পারেনি ভারতও। মার্টিন গাপটিল (১৭ বলে ২০) ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই তাঁকে সাজঘরে পাঠান যশপ্রীত বুমরা। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান। ড্যারেল মিচেল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দলের ৯৬ রানের মাথায় মিচেলকে (৩৫ বলে ৪৯) বুমরা তুলে নিলেও কিউয়িদের জয় আটকায়নি। ১৪.৩ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড (১১১/২)। ৩১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন কেন উইলিয়ামসন। যশপ্রীত বুমরা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ৮ উইকেটে জেতেনি নিউজিল্যান্ড। নেট রান রেটও বাড়িয়ে রেখেছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : চলতি টি২০ বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন না সাকিব

টানা ৩ ম্যাচ হেরে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে নামবে মাহমুদুল্লার দল। তার আগেই ধাক্কা খেল বাংলাদেশ শিবির। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য বিশ্বকাপের বাকি দুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন দলের নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন সাকিব। দলের চিকিৎসকরা বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারকে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। তারপর জানিয়ে দেন, সাকিবের পক্ষে টি২০ বিশ্বকাপে আর মাঠে নামা সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ফলে সাকিব ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের তেমন ক্ষতি হবে না। কারণ বাকি দুটি ম্যাচে সম্মানরক্ষার লড়াইয়ে নামতে হবে বাংলাদেশকে। সাকিবের পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে তাঁকে কোয়ারেন্টিন পর্ব কাটিয়ে শিবিরে যোগ দিতে হবে। এর আগে পিঠে চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন মহম্মদ সইফুদ্দিন। তার পরিবর্তে বাংলাদেশ শিবিরে যোগ দিয়েছেন রুবেল হাসান। রিজার্ভ ক্রিকেটার হিসেবে রুবেল দলে ছিলেন।সুপার ১২তে একটা ম্যাচেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। বাকি দুটি ম্যাচ জিতে সম্মানরক্ষা করাই লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ শিবিরের। সাকিব ছিটকে যাওয়ায় দলের ভারসাম্য নষ্ট হবে। কারণ ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে সাকিবের। এবছর টি২০ বিশ্বকাপে শাহিদ আফ্রিদির রেকর্ড ভেঙেছেন সাকিব। এর আগে টি২০ বিশ্বকাপে সবথেকে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ছিল আফ্রিদির দখলে। এই বিশ্বকাপে আফ্রিদিকে টপকে গেছেন সাকিব আল হাসান। আফ্রিদির উইকেট সংখ্যা ছিল ৩৯। সাকিব দখল করেছেন ৪১ উইকেট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লসিথ মালিঙ্গা। তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩৮ উইকেট। এবছর টি২০ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের স্পিন বোলিংয়ের ওপরই বেশি নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের দুটি পর্ব মিলিয়ে সাকিব ৬টি ম্যাচে ১১টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। শ্রীলঙ্কার হাসারাঙ্গাও ১১টি উইকেট দখল করে যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছেন। সাকিব ছিটকে যাওয়ায় হাসারাঙ্গার কাছে দারুণ সুযোগ এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী হওয়ার। হাসারাঙ্গা ও সাকিবের পরেই রয়েছেন স্কটল্যান্ডের জোশ ডেভে (৯), শ্রীলঙ্কার মাহিশ থিকসানা (৮), লাহিরু কুমারা (৮) ও বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান (৮)।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : আসিফের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে কার্যত প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পাকিস্তান

চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পুরনো রোগ যে আর নেই, টি২০ বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যেরকম কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বার করে নিয়ে গেল, এক কথায় অসাধারণ। ম্যাচের নায়ক আসিফ আলি। ১৯ তম ওভারে ৪টি ৬ মেরে দলকে জেতালেন তিনি। এই নিয়ে টানা ৩ ম্যাচ জিতল পাকিস্তান। আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল বাবর আজমের দল।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুটা ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় আফগানরা। হজরতুল্লা জাজাইকে (০) নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন ইমাদ ওয়াসিম। পরের ওভারেই অন্য ওপেনার মহম্মদ শাহজাদকে (৮) ফেরান ছন্দে থাকা শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপরই মাঠে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন আসগার আফগান ও গুরবাজ। কিন্তু তাঁদের সেই ঝড় একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। নিজের বলেই ক্যাচ ধরে আসগার আফগানকে (৭ বলে ১০) ফেরান হ্যারিস রউফ। পরের ওভারেই গুরবাজকে (৭ বলে ১০) তুলে নেন হাসান আলি। করিম জানাত (১৭ বলে ১৫) ও নাজিবুল্লাহ (২১ বলে ২২) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।১২.৫ ওভারে ৭৬ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর ঝড় তোলেন অধিনায়ক মহম্মদ নবি ও গুলবাদিন। এই দুজনের দাপটে ২০ ওভারে ১৪৭ রানে পৌঁছয় আফগানিস্তান। অসমাপ্ত জুটিতে ওঠে ৮১। ৩২ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন নবি। অন্যদিকে ২৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন গুলবাদিন। পাকিস্তানের হয়ে ইমাদ ওয়াসিম ২৫ রানে ২ উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফ, হাসান আলি ও সাদাব খান ১টি করে উইকেট পান।পাকিস্তানের যা ব্যাটিং শক্তি ১৪৮ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না। তৃতীয় ওভারে মহম্মদ রিজওয়ান (৮) আউট হওয়ার পর দলকে টেনে নিয়ে যান ফাকার জামান ও অধিনায়ক বাবর আজম। ২৫ বলে ৩০ রান করে ফাকার জামান আউট হন। মহম্মদ হাফিজ করেন ১০ বলে ১০। পাকিস্তানের হয়ে অ্যাঙ্করের ভুমিকা পালন করেন বাবর আজম। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৫১ রান করে রশিদ খানের বলে তিনি আউট হন।একসময় জয়ের জন্য ২৩ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৩৮। রশিল খানকে ছয় মেরে চাপ কমান শোয়েব মালিক। এরপরই আউট হল বাবর আজম। পরের ওভারে শোয়েব মালিককে (১৫ বলে ১৯) তুলে নেন নবীনউলহক। জেতার জন্য শেষ ১২ বলে ২৪ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ১৯ তম ওভারে করিম জানাতের প্রথম বলে ৬ মারেন আসিফ আলি। পরের বলে কোনও রান হয়নি। তৃতীয় বলে আবার ছক্কা। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর দুটি ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেন আসিফ আলি। ১ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান (১৪৮/৫)। ৭ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আসিফ।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : অবশেষে রানে ফিরলেন ওয়ার্নার, স্বস্তি অস্ট্রেলিয়া শিবিরে

আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ। নেতৃত্ব হারাতে হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এমনকী সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে প্রথম একাদশ থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে। টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচেও রান পাননি। তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছিল। ভরসা হারায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার ১২র গ্রুপ লিগের তৃতীয় ম্যাচেই রানে ফিরলেন। স্বস্তি অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। তাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারাল অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার পথও প্রশস্ত করল।টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তৃতীয় ওভারে পাথুম নিসাঙ্কা (৭) ফিরে গেলেও দলকে এগিয়ে নিয়ে যান কুশল পেরেরা (২৫ বলে ৩৫) ও আসালাঙ্কা (২৭ বলে ৩৫)। পরপর দুওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে রান তোলার গতি কমে যায় শ্রীলঙ্কার। দারুণ বোলিং করেন অ্যাডাম জাম্পা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার ৬ উইকেটে ১৫৪ তোলে শ্রীলঙ্কা। ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন ভানুকা রাজাপক্ষ। অধিনায়ক দাসুন শনাকা ১২, পাথুম নিসঙ্কা ৭, ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও আবিষ্কা ফার্নান্দো ৪ রানে আউট হন। অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ১২ রানে ২ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট দখল করেন মিচেল স্টার্ক। প্যাট কামিন্স ২টি উইকেট পেয়েছেন ৩৪ রানের বিনিময়ে।জয়ের জন্য ১৫৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। ৬.৫ ওভারে দলের ৭০ রানের মাথায় ২৩ বলে ৩৭ রান করে আউট হন ফিঞ্চ। এদিন টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন তিনি। তিন নম্বরে নামা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৫) সুবিধা করতে পারেননি। পরপর দুটি উইকেট পড়ে গেলেও মনসংযোগ হারাননি ডেভিড ওয়ার্নার। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৫ রান করে তিনি আউট হন। ওয়ার্নার যখন আউট হন, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৫। দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন স্টিভ স্মিথ (২৬ বলে অপরাজিত ২৮) ও মার্কাস স্টইনিস (৭ বলে অপরাজিত ১৬)। ১৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেওয়ার পাশাপাশি নেট রান রেটও বাড়িয়ে রাখল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের সেরা হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশকে

২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপে অল্পের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল। দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ড। কার্লোস ব্রেথওয়েটের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংরেজদের। সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে এবার যে টি২০ বিশ্বকাপ অভিযানে নেমেছে শুরু থেকেই প্রমাণ করে চলেছে ইংল্যান্ড। এবারও তারা খেতাবের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিপন্ন করেছে। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে ইংল্যান্ড।টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লা। লক্ষ্য ছিল ভাল শুরু করে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলা। সে সুযোগ বাংলাদেশকে দেননি ইংল্যান্ড বোলাররা। আইপিএল খেলার সুবাদে আবু ধাবির পরিবেশ সম্পর্কে দারুণ ওয়াকিবহাল ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ইওয়িন মর্গান, মইন আলিরা। মন্থর উইকেটে বাংলাদেশ ব্যাটারদের আটকাতে মর্গ্যানের শুরুতেই মইনের হাতে বল তুলে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজিতে কোনও ভুল ছিল না। শুরুতেই মইনের ধাক্কায় বেসামাল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে পরপর দুবলে লিটন দাস (৯) ও মহম্মদ নইমকে (৫) তুলে নিয়ে মইন যে ধাক্কা দিয়েছিলেন, তা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসতে পারেনি। সাকিবও (৪) ব্যর্থ। তাঁকে ফেরান ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডারের আঁটোসাটো বোলিংয়ে রান তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দেন ওকস।মুশফিকুর রহিম (৩০ বলে ২৯) ও মাহমুদুল্লা (২৪ বলে ১৯) সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। বাংলাদেশ ইনিংসের শেষদিকে ধাক্কা দেন বাঁহাতি জোরে বোলার টাইমল মিলস। নুরুল হাসান করেন ১৬। নাসুম আমেদ ৯ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি বাংলাদেশ।বাংলাদেশ বোলিং কোচ ওটিস গিবসন ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন, ইংল্যান্ড ব্যাটারদের অতি ইতিবাচক মানসিকতার ফায়দা তুলবেন। এদিন সে সুযোগ দেননি জেসন রয়, জস বাটলাররা। পঞ্চম ওভারে নাসুম আমেদের বলে জস বাটলার ফিরে গেলেও সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের। বাটলার ১৮ বলে করেন ১৮। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান জেসন রয় ও দাওইদ মালান। ৩৮ বলে ৬১ রান করে সরিফুল ইসলামের বলে নাসুম আমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জেসন রয়। বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ১৩ রান দুরে। ১৪.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড (১২৬/২)। দাওইদ মালান ২৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustaq Ali T20 : ৪ ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত, সমস্যায় মুম্বই

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতা দিয়ে এবছর শুরু হচ্ছে ভারতের সিনিয়রদের ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রতিযোগিতায় খেলতে বুধবারই গুয়াহাটি পৌঁছে গেল বাংলা। তরুণদের সুযোগ দেওয়ার জন্য আগেই এই প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন মনোজ তেওয়ারি। অনুষ্টুপ মজুমদারের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারও দলে সুযোগ পাননি। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতায় বাংলাকে নেতৃত্ব দেবেন সুদীপ চ্যাটার্জি।সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতায় এবার তরুণদের নিয়ে দল গড়েছে বাংলা। দলে সুযোগ পেয়েছেন : সুদীপ চ্যাটার্জি (অধিনায়ক), ঋদ্ধিমান সাহা, অভিমন্যু ঈশ্বরন, অভিষেক দাস, কাইফ আহমেদ, ঋত্ত্বিক রায়চৌধুরী, রণজ্যোত সিং খৈরা, শাকির হাবিব গান্ধী, শুভঙ্কর বল, করণ লাল, শাহবাজ আহমেদ, ঋত্ত্বিক চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ্ত প্রামাণিক, সুজিত কুমার যাদব, ঈশান পোড়েল, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, অলোকপ্রতাপ সিং, মহম্মদ কাইফ, সায়ন সিং। দল নির্বাচনের আগে বাংলার চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতার পারফরমেন্সের ভিত্তিতেই বাংলা দল বেছে নেওয়া হয়েছে। গত মরশুমের বাংলা রনজি দলের অধিনায়ক অনুষ্টুপ মজুমদারকে যেমন দলে রাখা হয়নি, তেমনই সুযোগ পাননি অভিজ্ঞ উইকেটকিপার শ্রীবৎস গোস্বামীও।গুহায়াটিতে প্রতিযোগিতা খেলতে যাওয়ার আগে কল্যানীতে প্রস্তুতি শিবির করেছিল বাংলা। হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। গতবছর ব্যর্থ হলেও এবছর দল নিয়ে আশাবাদী বাংলার হেড কোচ অরুণলাল। তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি। তিনি বলেন, রনজির আগে তরুণ ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়ার এটাই ভাল সুযোগ। আশা করছি দলে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারবে। বাংলা রয়েছে এলিট গ্রুপ বিতে। বাংলার সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে কর্ণাটক, সার্ভিসেস, বরোদা, মুম্বই ও ছত্তিশগড়। ৪ নভেম্বর বাংলার প্রথম ম্যাচে চত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে। পরের দিন খেলবে বরোদার বিরুদ্ধে। ৬ নভেম্বর সামনে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মুম্বই। ৮ নভেম্বর সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ম্যাচ বাংলার। সুদীপ চ্যাটার্জিরা গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ খেলবে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে, ৯ নভেম্বর। এদিকে, সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলতে যাওয়ার আগে সমস্যায় পড়েছে মুম্বই। গুহাহাটি রওনা হওয়ার আগে নিয়মমাফিক করোনা পরীক্ষার সময় ৪ জন ক্রিকেটারের আরটিপিসিআর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই ৪ ক্রিকেটার হলেন সাইরাজ পাটিল, প্রশান্ত সোলাঙ্কি, সামস মুলানি ও সরফরাজ আমেদ। বিমানবন্দর থেকেই তাঁদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সরফরাজদের আবার করোনা পরীক্ষা করা হবে। যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলে তাঁদের গুয়াহাটি পাঠানো হবে। যদি রিপোর্ট পজিটিভ আসে পরিবর্ত ক্রিকেটার পাঠানো হবে।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌ndia vs Pakistan : আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হার নিয়ে খোঁচা ইমরান খানের!‌

বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পকিস্তান। ভাবখানা এমন, যেন বিশ্বকাপ জিতেই গেছে। হবে নাই বা কেন, কোনও দিন বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেনি। এই প্রথম বিশ্বকাপে জয়। পাকিস্তানের কাছে তাই অন্যমাত্রা পেয়েছে কোহলিদের হারানো। উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভারতকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি পাকিস্তানিরা। স্বয়ং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানও ভারতকে খোঁচা দিয়েছে। রিয়াধে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ইমরান খান। সেই অনুষ্ঠানে ইমরান বলেন, মধ্য এশিয়ার বাজার ধরতে গেলে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা দরকার। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ভাল হত। কিন্তু রবিবার বিশ্বকাপে ভারতকে বিধ্বস্ত করার পর ওদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কথা এখন বলা যাবে না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে পরোক্ষভাবে কোহলিদের বিশ্বকাপে হারানো নিয়ে খোঁচা দেন ইমরান। প্রাক্তন জোরে বোলার শোয়েব আখতারও ভারতের হার নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। রবিবারের ম্যাচে আগে হরভজন সিং বলেছিলেন, ভারতপাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানের ওয়াকওভার দেওয়া উচিত। কারণ বিশ্বকাপে তো কখনও জেতেনি। এবারও হারবে। বিরাট কোহলিরা ১০ উইকেটে হারের পর ভাজ্জিকে খোঁচা দিয়েছেন শোয়েব আখতার। তিনি বলেছেন, ভাজ্জি পারছে এই পরাজয় সহ্য করতে। আইপিএলে দারুণ বোলিং করেছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সলমন বাট বরুণ চক্রবর্তীকে তাচ্ছিল্য করে বলেছেন, বরুণ যে বোলিং করেছেন তা পাকিস্তানের রাস্তর ক্রিকেটে হামেশাই হয়ে থাকে। এটা নয় যে বরুণ ভালো বোলার নয়। কিন্তু ওর যে বৈচিত্র্য, তার সঙ্গে পরিচিত পাক ব্যাটাররা। ওকে সহজেই খেলেছে বাবর ও রিজওয়ান। পাকিস্তানের এক কৌতুক-অভিনেতা ইয়াসির হোসেন বিরাট কোহলির একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে আইপিএলে শরীরচর্চার ফাঁকে কোহলি নাচছেন। সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি পাঞ্জাবি গান লেপে দিয়ে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, পাকিস্তানিদের তরফে ফতেহ মুবারক জানাই। বেটার লাক নেক্সট টাইম ইন্ডিয়া! ম্যাচের মতোই অসাধারণ কোহলির নাচ।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌IPL New Team : ঘোষণা হল আইপিএলের দুটি নতুন দল, দরপত্রে চমক

আবরাম গ্লেজার ফ্যামিলি, আদানি গ্রুপদের টেক্কা দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত সিভিসি ক্যাপিটাল, আরপিএসজি গ্রুপের। আবার আইপিএলের মঞ্চে দেখা যাবে সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে। লক্ষ্ণৌর মালিকানা পেয়েছে তাঁর সংস্থা। অন্যদিকে আমেদাবাদের মালিকানা পেয়েছে সিভিসি ক্যাপিটাল। সোমবার সন্ধেয় আইপিএলের নতুন দুটি দলের নাম ঘোষণা হয়েছে। সামনের মরশুমে ১০টি দলকে নিয়ে আইপিএল অনুষ্ঠিত হবে। সেইমতো দুটি নতুন দল নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। নতুন দলের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বিভিন্ন রকম শর্তও আরোপ করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। শর্ত মেনে মোট ২২টি সংস্থা টেন্ডার নথি সংগ্রহ করে। এদের মধ্যে ১০টি সংস্থা দরপত্র জমা দেয়। এই ১০টি সংস্থার মধ্যে ছিল আদানি গ্রুপ, আরপি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান কর্ণধার গ্লেজার, হিন্দুস্তান টাইমস মিডিয়া, ক্যাপ্রি গ্লোবাল, সিভিসি ক্যাপিটাল, কোটাক গ্রুপ, টোরেন্ট ফার্মা, সিঙ্গাপুরের ইরেলিয়া কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের লিগাল ও ফিনান্সিয়াল বিভাগ দরপত্রের নথি খতিয়ে দেখে। তারপর যেসব সংস্থা দল কিনতে আগ্রহী, তারা আদৌও যোগ্য কিনা, তা খতিয়ে দেখা হয়। নথি জমা দিতে সামান্য দেরি করায় রীতি স্পোর্টসের কর্ণধার অরুণ পাণ্ডের দরপত্র বাতিল হয়। বাকিদের নথি খতিয়ে দেখার পর সন্ধেয় ফিনান্সিয়াল বিড খোলা হয়।ফিনান্সিয়াল বিড খুললে দেখা যায় লক্ষ্ণৌর শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার কোটি টাকা দর দিয়েছে আরপিএসজি গ্রুপ। তারপরেই ছিল সিভিসি ক্যাপিটালের ৫২০০ কোটি টাকার বিড। তারা পেয়েছে আমেদাবাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি। এদিন আইপিএলের নতুন দুই দলের নাম ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সচিব জয় শাহ, আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল, বোর্ডের সহ সভাপতি রাজীব শুক্লা প্রমুখ। সামনের বছর থেকে ১০টি দলকে নিয়ে আইপিএল হবে। ২০১১ সালের আদলে। ম্যাচের সংখ্যা ৬০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৭৪। ২০১১ সালে ১০টি দলকে দুটি গ্রুপে রেখে ৭০টি লিগ ম্যাচ হয়েছিল। তারপর হয় চারটি প্লে অফ ম্যাচ। লিগ পর্যায়ে সব দলই ১৪টি করে ম্যাচ খেলেছিল। প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপে থাকা চারটি দলের সঙ্গে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে। অন্য গ্রুপের চারটি দলের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলেছিল। বাকি দলটির সঙ্গে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলেছিল।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 WC-Virat kohli : পাকিস্তানের কাছে হেরে কেন মেজাজ হারালেন বিরাট কোহলি?‌

রবিবার ভারতপাকিস্তান ম্যাচ শেষে বাবর আজমের সঙ্গে হাত মেলানোর পর বুকে টেনে নেন পাকিস্তানের ওপর ওপেনার মহম্মদ রিজওয়ানকে। পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটাররা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন ভারতীয় দলের মেন্টর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। শোয়েব মালিকরা ছবি তোলেন ধোনির সঙ্গে। দারুণ সৌভাতৃত্বের পরিচয়। কিন্তু মাঠের বাইরে মেজাজ হারালেন ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি। এই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে এটাই শেষ টি২০ বিশ্বকাপ। প্রথম ম্যাচেই চিরশত্রু পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে এটাই প্রথম পরাজয়। মেজাজ এমনিতে খারাপ ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও খারাপ করে দেন পাকিস্তানের এক সাংবাদিক। কোহলির কাছে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক জানতে চান, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্যই কি হারতে হয়েছে ভারতকে? পাকিস্তানের ওই সাংবাদিকের প্রশ্নে মেজাজ হারান কোহলি।রাগত সুরেই কোহলি বলেন, বাইরে থেকে অনেকেই অনেক কিছু মনে করে থাকেন। বাস্তব সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। মাঠে নেমে চাপটা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিপক্ষকে কোনও দল কখনও হালকাভাবে নিয়ে মাঠে নামে না। পাকিস্তানের মতো দল যে কোনও প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিতে পারে। এই সত্যটাকে সকলের মেনে নেওয়া উচিত। আমরা কখনোই মনে করি না এই একটা ম্যাচ জিতলেই সব পাওয়া হয়ে গেল। প্রথম ম্যাচে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কোহলি আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা খারাপ খেললে সেটা মেনে নিই। বিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে কুন্ঠিত হই না। হারার পর নজর ঘোরানোর জন্য অন্যরকম কিছু করতে চাই না। ত্রুটিগুলো খুঁজে বার করে সেগুলো সংশোধন করার দিকে নজর দিই।রোহিত শর্মার পরিবর্তে ঈশান কিষানকে খেলানো যেত কিনা, সে প্রশ্নের জবাবে কোহলি বিরক্তি প্রকাশ করে পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন ওই সাংবাদিককে, আপনার কী মনে হয়? আপনার মতামত জানতে চাইছি। আপনি কি টি২০ ক্রিকেটে রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে মাঠে নামতে পারতেন? আমরা সেরা দল নিয়েই খেলতে নেমেছিলাম। পাকিস্তানকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে অবশ্য ভোলেননি কোহলি। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব বিভাগেই আমাদের পর্যুদস্ত করেছে। আমাদের ম্যাচে কোনও সুযোগই দেয়নি। আমরা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিলাম। তার জবাব দেওয়ার জন্য ওরা খুব ভালভাবে প্রস্তুত ছিল।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal