• ২ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Birbhum

রাজ্য

তারাপীঠে মোবাইল প্রাপ্তি পুন্যার্থীদের, পুজো দিতে গিয়ে খোয়া গিয়েছিল

তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে এসে কারও মোবাইল হয় চুরি হয়ে গিয়েছিল। নয় তো গিয়েছিল হারিয়ে। এমন প্রায় ৩১ টি মোবাইল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই মোবাইল পুন্যার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিল তারাপীঠ থানার পুলিশ। ওই মোবাইলগুলির অনেকগুলো আবার সুদূর কলকাতা, হাওড়া, হুগলী এমনকি বিহারের পুন্যার্থীদের। রয়েছে মন্দিরের পূজারীর মোবাইলও। খোয়াও যাওয়া মোবাইল ফেরত পেয়ে খুশি সকলেই।সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ এখন রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্রের জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে বিহার, ঝাড়খণ্ডের বেশি সংখ্যক মানুষ তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশেষ দিনে সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ভাদ্রমাসের কৌষিকী অমাবস্যায় সেই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছে যায়। পুন্যার্থীরা যখন মা তারার দর্শনের জন্য ব্যস্ত থাকেন সেই সুযোগে হাত সাফাই করে একদল দুষ্কৃতী। ফলে পুণ্য করতে এসে মোবাইল খুইয়ে হতাস হয়ে ফিরে যান পুন্যার্থীরা। মোবাইল খুইয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন, আর তা ফিরে পাবেন না। কিন্তু পুলিশের সাইবার সেল এবং তারাপীঠ থানার উদ্যোগে তা সম্ভব হওয়ায় সকলেই খুশি। তাঁদেরই একজন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা রাজীব নেহার। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে তারাপীঠে এসেছিলাম। মন্দির সংলগ্ন আঘোর আশ্রমে উঠেছিলাম। রাত্রে জানালা থেকে দুটো মোবাইল চুরি হয়ে যায়। একটা মোবাইল অনেক পুরনো তাই কোন কাগজ ছিল না। আরেকটা একদম নতুন ছিল। সেই কারণে একটি মোবাইল চুরির অভিযোগ করেছিলাম। ফোনটা যে ফিরে পাব ভাবিনি। কিন্তু তারাপীঠ থানার সহযোগিতায় ফোনটা ফিরে পেলাম।মন্দিরের সহযোগী পূজারী চন্দন কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মাস চারেক আগে তারাপীঠের রাস্তা থেকে মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারাপীঠ থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সেই ফোন ফিরে পেলাম। পুলিশের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।বীরভূম জেলা পুলিশ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রাপকের হাতে ফিরিয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় কয়েক বছর আগে। ফিরিয়ে দেওয়া অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল প্রাপ্তি। সেই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই ৩১ জনের মোবাইল প্রাপ্তি হল শনিবার। মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশকে সাধহুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

মে ২৫, ২০২৫
রাজ্য

ধৃত জঙ্গি আব্বাসের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানযোগ, তদন্তে এসটিএফ

জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আব্বাস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে পাকাস্তিন ও বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুক্রবার জঙ্গি সন্দেহে ধৃতদের সম্পর্কে বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমা আদালতে এমনটাই জানিয়েছে স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স। এদিন ধৃত তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ মে জেএমবি জঙ্গি সন্দেহে বীরভূমের নলহাটি থানার বানিওর গ্রাম পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আজমল হোসেন, মুরারই থানার চাতরা গ্রাম থেকে সাহেব আলি খান এবং পরদিন দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ড হারবার থেকে আব্বাস উদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স। তাদের প্রত্যেককে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার ফের তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাতি বলেন, ধৃত আব্বাস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। স্পেশাল ট্যাক্স ফোর্স জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এর সঙ্গে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে তদন্তকারী অফিসার আদালতকে জানিয়েছেন। বিচারক তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মে ২৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

বোলপুরে এসে অভিভূত সৌরভ, বললেন, কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি

বোলপুর পুরসভা ও বীরভূম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত বোলপুর শহরে রবিবার আসেন বাংলার মহারাজ। গত ৯ মে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বোলপুরে আসার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। এদিন বোলপুরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মঞ্চে উঠে সৌরভ বলেন, এই প্রথম বোলপুরে এলাম। এখানে রবীন্দ্র সঙ্গীত নৃত্য ও পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে ভলি, বাস্কেট, ক্যারাটে সহ বিভিন্ন খেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। তাঁদের সম্বর্ধনা দেওয়া হল। বীরভূম থেকে বহু খেলোয়াড় সিএবি যায়। সিএবি তাদের সাহায্য করে থাকে। সেটাই তাদের কাজ। এদিন ঝুলন গোস্বামী সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের আইকন ঝুলন গোস্বামী। ঝুলন যদি নদিয়ার একটি সাধারণ ঘরের মেয়ে হয়ে এই জায়গায় পৌঁছাতে পারে, বীরভূম কেন পারবে না? নিশ্চয় পারবে। শুধু পরিশ্রম করতে হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সৌরভের কাছে অনুব্রত মণ্ডল অনুরোধ করেন বোলপুরে একটি ক্রিকেট কোচিং সেন্টার চালু করার। সৌরভ অবশ্য অনুব্রতর অনুরোধ রাখার কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। এদিন বোলপুর সাংসদ অসিত মালকে ধন্যবাদ জানিয়ে সৌরভ বলেন, অসিত মাল ৪ কোটি টাকা দিয়েছেন স্টেডিয়ামের উন্নয়নে। তাঁকে ধন্যবাদ। এদিন অসিত মাল ছাড়াও সুদীপ্ত ঘোষ এবং অনুব্রত মণ্ডলকে ধন্যবাদ জানান বাংলার মহারাজ।

মে ১৮, ২০২৫
রাজ্য

বিশ্বভারতীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, ফের পুরনো নিয়মে ফিরছে রবি ঠাকুরের প্রতিষ্ঠান

কোভিড কাল থেকে অবরুদ্ধ ছিল রবি ঠাকুরের বিশ্বভারতী। তবে এবার সেই অবরুদ্ধ দ্বার খুলে যেতে চলল। এবার থেকে পর্যটকরা আশ্রম ক্যাম্পাসে ঘুরতে পারবেন। নতুন উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ শান্তি নিকেতনে কাজে যোগ দিয়ে এমন নির্দেশ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেয়েছিলেন অচলায়তনের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। তা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছিল। আপাতত সেই বিতর্ক মিটতে চলেছে। অবরুদ্ধ দরজা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এই সিদ্ধান্তে খুশি প্রবীন আশ্রমিকরা। প্রবীণ আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুপ্রিয় ঠাকুররা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বর্তমান উপাচার্য এবং আমি একই এগ্রিকালচারাল কলেজের ছাত্র। তিনি আমার থেকে দশ বছরের জুনিয়র। খুব ভালো লাগছে, তিনি এই কথা বলেছেন। পর্যটনকে এই হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাঁচিল দিয়ে অবরুদ্ধ করা সহজ। কিন্তু রবীন্দ্র ভাবনার উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। ছাত্রদের যেমন এখানে রবীন্দ্র স্টাডিজ পড়তে হয়। কিন্তু যারা এখানে বাইরে থেকে পড়াতে আসেন, তাদেরকে পড়তে হয় না। একথা প্রাক্তন উপাচার্য সুজিত বসুকে বলেছিলাম। সব থেকে যেটা দরকার উপযুক্ত পরিকাঠামো। পর্যটকদের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, বাথরুম। কোথায় পার্কিং হবে, কোথায় হবে না তার নোটিশ দরকার। নোংরা হবে বলে, কাউকে ঢুকতে দেব না, তালা মেরে দেব, এটা সহজ কথা। হেরিটেজ সাইট মানুষকে দেখতে দিতে হবে। ৬ বছর পর পর্যটকদের জন্য খুলে গেল বিশ্বভারতীর সমস্ত এলাকা। তাতে বিভিন্ন মহলে খুশির হাওয়া। গত ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষা করতে অতি সতর্ক বিশ্বভারতী এতদিন পর্যটক থেকে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল। এবার সবার জন্য আশ্রমের দরজা উন্মুক্ত হলো। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ থাকবে।শুক্রবার শান্তি নিকেতন, আ ইউ নেসকো ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইট, ট্যুরিজম বিষয়ে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। এদিন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, একটি পরিকল্পনা করে হেরিটেজ সাইটের সঙ্গে ট্যুরিজম লিংক আপ করা হবে। অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। তবে রবীন্দ্র ভাবনা তাঁর আদর্শ এবং স্থান ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে আশ্রম উন্মুক্ত করা হবে। গত পরশু জয়েন করে আমি জানিয়ে দিয়েছি। অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বা অতীতের মতো যে তিনি চলবেন না, তাঁর প্রথম সিদ্ধান্তে তিনি তা বুঝিয়ে দিলেন। স্বাভাবিক ভাবে বিশ্বভারতী তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চলেছে। বিশ্বভারতীর দ্বার উন্মুক্ত হলে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছে শিক্ষানুরাগীরা। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বৃদ্ধি পাবে।

মার্চ ২১, ২০২৫
কলকাতা

দেউচা পাঁচামি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সল্টলেকে, এবার কি বাড়বে প্রকল্পের গতি?

দেউচা পাঁচামি কয়লখনির অগ্রগতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল সল্টলেকে। বুধবারের এই বৈঠকে বীরভূমের জেলাশাসক ছাড়া আদিবাসী সংগঠনের নেতৃত্ব হাজির ছিলেন। আদৌ প্রকল্পে কি কাজ করা হবে তা নিয়ে অবগত করা হয় আদিবাসী সমাজের নেতৃত্ববর্গকে। এই কয়লাখনি নিয়ে ইতিমধ্যে আদিবাসীদের একাংশ সেখানে বিরোধিতায় নেমেছে। ডব্লিউবিপিডিসিএলের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিবি সেলিম জানিয়েছেন, দেউচা পাঁচামি নিয়ে বাইরের কিছু লোক ভুল তথ্য দিচ্ছেন, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সেটাকে ক্লারিফাই করার জন্য রাজ্যের আদিবাসী যে বড় সংগঠন রয়েছে তাদের ১০ জন প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। মাইনিং নিয়ে যারা টেকনিক্যাল এক্সপার্ট রয়েছেন তারাও ছিলেন এই বৈঠকে। কিভাবে মাইনিং করতে চাইছে,দেউচা পাঁচামি নিয়ে কি পরিকল্পনা রয়েছে, সেই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানানো হলো। এই বৈঠকে করে বুঝলাম অনেক কিছু ভুল ধারণা, মিথ্যা ধারণা তৈরি হয়েছে প্রকল্প নিয়ে। সেগুলো পরিস্কার করতে পেরেছি। ওখানে ওপেন কাস্ট মাইনিং হচ্ছে না, যখন এটা হচ্ছে না তখন উচ্ছেদের কোন প্রশ্ন নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, আপাতত ৩২৬ একরে কাজ হবে, তার মধ্যে ১২ করে কাজ শুরু হয়েছে। এই ৩২৬ একরে না কোন বসতি না কোন জঙ্গল আছে। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং হবে। এই আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং এমন হবে যাতে উচ্ছেদ কোন না হয় এটা পরিষ্কার করে দেওয়া হল।এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বীরভূমের জেলশাসক বিধান রায়। তিনি জানিয়েছেন, আদিবাসী সংগঠনের একটা ইউনাইটেড ফোরাম আছে তাদেরকে নিয়ে আমরা বসে ছিলাম। তার কারণ, চারিদিকে এটা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। যে উচ্ছেদ হয়ে যাবে আদিবাসীদের এখানে অত্যাচার করা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সব মিথ্যা, সেগুলো নিয়ে আজকে ইউনাইটেড ফোরাম এসেছিল আমাদের কাছে। প্রাথমিক যে ফার্স্ট ফেজ, সেটা ৩২৬ একর। যেখানে ১০৪ একর হচ্ছে আমাদের ভেস্টেড ল্যান্ড আর বাকি ২২২ এখন হচ্ছে প্রাইভেট ল্যান্ড। প্রাথমিক কাজ ১২ একর দিয়ে শুরু হয়েছে। এই ৩২৬ একরের মধ্যে ফার্স্ট ফেজে কোন ধরনের কোন বনভূমি নেই, কোথাও কোনো বসতি নেই সুতরাং উচ্ছেদের যে বিষয়গুলি মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেগুলো সরবই বা মিথ্যা। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং হবে সেটা আমরা বুঝিয়ে দিলাম উনারাও বুঝেছেন।ইউনাইটেড ফোরাম অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনের কর্ণধার রামদাস কিসকু জানান, আজ এখানে আসার উদ্দেশ্য একটাই ছিল। সরকার যে কয়লা খনিটা করতে চাইছেন সেটা ওপেন না আন্ডারগ্রাউন্ড, বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে আরম্ভ করে কিভাবে হচ্ছে তার ডিটেলস জানার জন্য আজকে এখানে এসেছিলাম। সরকারি অর্ডার সহ সরকার কি করতে চাইছেন, সেটা পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে ছিল না। সেটা জানার জন্যই এসেছিলাম। আমাদের মনের মধ্যে যে প্রশ্ন একটা খনি করতে গেলে আদিবাসী উচ্ছেদ বা গ্রাম উচ্ছেদ হচ্ছে কিনা কি কি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এগুলো আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ভাবে প্রশ্ন করেছি, আধিকারিকরা উত্তর দিয়েছেন। কাগজ এবং বাস্তব দুটো আলাদা, আমরা ওই এলাকায় আবার ভিজিট করব এলাকার মানুষ কি বলতে চাইছেন, আজকে যেটা শিখলাম সেটা আমরা বলব, ওনাদের বক্তব্য আমরা শুনবো তারপরে সে সিদ্ধান্ত মানুষই বলবে।বিতান চন্দ্র টুড (ওয়ার্কিং কনভেনার) জানান, বাইরে যেভাবে আমরা শুনেছি, আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে যেভাবে আমাদের কাছে বিষয়টা এসেছে আর এখানে এসে যা তথ্য পাচ্ছি তার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। সুতরাং কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটা স্পটে গিয়েই আমরা বুঝতে পারবো।

মার্চ ১৯, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে বিশেষ লাইনে পুন্যার্থী, হস্তক্ষেপ প্রশাসনের, কবে মিটবে এই বিতর্ক?

তারাপীঠ মন্দিরের জটিলতা মেটাতে অফিসে সেবায়েতদের ডেকেছিলেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক। তাঁদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবায়েতরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ। তাঁদের দাবি শাসক দলের নির্দেশে চলছেন মহকুমা শাসক। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি সেবায়েতদের একাংশের। সোমবার চারজন পুন্যার্থীকে বিশেষ লাইনে ঢুকিয়ে পুজো করানো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। ওইদিন তারাপীঠ মন্দিরের পালাদার ছিলেন কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায়। মন্দির কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে প্রশাসনের নির্দেশে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের জন্য দুটি লাইন কড়া হয়েছে। একটি ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। অন্যটি সাধারণ পুন্যার্থীদের জন্য। একটি আছে প্রোটোকল লাইন। যে লাইনে প্রশাসনিক আধিকারিক, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, রাজনৈতিক দলের প্রধানরা লাইন না দিয়েই সরাসরি মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সেই প্রোটোকল লাইন দিয়ে সোমবার কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায় চারজন নিকট আত্মীয়কে ঢুকিয়ে ছিলেন। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় মন্দিরে। মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবি প্রোটোকল লাইনে চার পুন্যার্থীদের ঢোকানোর প্রতিবাদ করেন। এনিয়ে মন্দিরেই বচসা বাধে। এরপর রবিবাবু মন্দিরের সেবাইত, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, সুকুমারবাবু মন্দিরের অফিস ঘরে বসে মন্দির থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেন। বন্ধ করে দেন ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। ফলে সোমবার রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত অরক্ষিত ছিল মন্দির। এতেই মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ ক্ষোভ ফেটে পড়ে। যেখানে মন্দিরের আয়ের টাকায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে পালাদারদের বা মন্দির কমিটিকে না জানিয়ে মন্দিরকে সারাদিন অরক্ষিত করে দেওয়া হল কেন? তাছাড়া সুকুমার মুখোপাধ্যায় একজন মন্দিরের সেবায়েত। তিনি কিসের বলে নিরাপত্তারক্ষী তুললেন?কুণালবাবুর বক্তব্য, তারাপীঠ মন্দিরে সারাদেশের ভাবাবেগ জড়িয়ে। যেখানে দেশের প্রধান থেকে হাজার হাজার হিন্দুধর্মালম্বী মানুষ ভিড় করেন। সেখানে তৃণমূলের একজন ব্লক সভাপতি কিভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিতে পারে? এনিয়ে রামপুরহাট মহকুমা শাসক আমাদের অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। কিন্তু অন্যায়ভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার বিষয়ে কর্ণপাত করলেন না। আমাদের মনে হয়েছে মহকুমা শাসক তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করছেন।এদিকে মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আরেক সেবায়েত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মন্দিরে শাসক দলের রাজত্ব চলছে। ১৫ বছর ধরে মন্দির কমিটির কোন নির্বাচন হয়নি। ফলে একনায়কতন্ত্র চলছে। তিনমাস ধরে বিশেষ লাইনের কয়েক কোটি টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় রয়েছে কেউ জানে না। মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে ২০২২ সালে দুবার মহকুমা শাসকের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোন উত্তর মেলেনি। এখন শাসক দলের সঙ্গে প্রশাসন যোগসাজশ করে চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।এবিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে আমরা মন্দির শান্তিশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করতে চাইছি। কিন্তু কিছু সেবায়েত নিয়ম ভেঙে মন্দির চালাচ্ছেন। এনিয়ে গণ্ডগোলের জেরেই লাইন থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে তারা ছিলেন মন্দিরের আশেপাশেই।সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, কোন সেবায়েত যদি নিরাপত্তারক্ষীকে না মানে, মন্দিরের দায়িত্বে থাকা প্রধানকে যদি না মানে তাহলে নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন কি? নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার পরিবার মন্দিরের সমস্ত রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের জন্যই মন্দিরে অশান্তি হচ্ছে।রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, আমি মন্দিরের সমস্যা নিয়ে জানতে ওনাদের ডেকেছিলাম। ওনাদের বলে দেওয়া হয়েছে কোনওরকম নিয়ম ভাঙা যাবে না। ওনারা যে অভিযোগ করছেন সেটা ঠিক নয়। তবে লজ নিয়ে কোন অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত করে দেখব। হঠাৎ করে মন্দিরে থেকে নিরাপত্তারক্ষী কেন তুলে নেওয়া হল সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান মহকুমা শাসক।ধ্রুব সাহা বলেন, শাসক দলের মদতে মন্দির চলছে। চলছে ব্যাপক অরাজকতা। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। আবার মন্দিরের টাকাও উন্নয়ন খাতে খরচ দেখানো হচ্ছে। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে নোংরা জলের ট্রাংক নির্মাণ করা হচ্ছে। সমস্ত অনিয়ম হচ্ছে মহকুমা শাসকের ইন্ধনে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।

মার্চ ১৯, ২০২৫
রাজ্য

খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগে কান ধরে উঠবস! ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার ব্যবসায়ীরা

খাবারে রং মেশানোর অভিযোগে কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করার অভিযোগ উঠল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।ঘটনাটি ঘটেছে, সাঁইথিয়া থানার আহমদপুরে। বৃহস্পতিবার ওই এলাকার খাবারের দোকানে পরিদর্শনে যান জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে বেশ কিছু দোকানের ফ্রিজে দু-তিন দিনের পুরনো মাংস, মিষ্টি, তেলে ভাজা দেখতে পান। আধিকারিকরা সেই সমস্ত জিনিস নষ্ট করে দেন। এরপর লক্ষ্য করেন খাবারে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের রং। যে রং খাবারে মেশানো হচ্ছে সেটা মানুষের শরীরে ক্ষতিকারক। ক্ষতিকারক রং হাতেনাতে ধরা পড়ার পর কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ঘটনার বিরোধিতা করা হয়েছে।ব্যবসায়ী সুভাষ সাহু বলেন, আমার দোকানে কামধেনু রং পেয়েছিল। সেই অপরাধে আমাকে বেশ কয়েকবার কান ধরে উঠবস করিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, বেশ কয়েকজন দোকানিকে একই শাস্তি দিয়েছে।সিউড়ি মারচেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, খাবারে কোন রং মিশিয়ে থাকলে দোকানদারকে জরিমানা করতে পারেন। নোটিশ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজে হাতে কোন শাস্তি দিতে পারেন না। বিষয়টি আমরা নিন্দা করছি। সঠিক জায়গায় আমরা অভিযোগ জানাব।জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেঞ্জিত বটব্যাল বলেন, যে ভাবে মানুষের শরীরে রং ঢুকছে তাতে মানুষের শরীরের ক্যান্সার এবং অসংক্রমিত রোগ বাসা বাঁধছে। ওই দোকানি আমাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তারা বলতে থাকে দামী রং দিতে পারব না। লোক চাইছে তাই কমা রং দিয়েই খাবার তৈরি করব। আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। প্রথম সাবধান করা হচ্ছে। পরে তাদের নোটিশ করা হবে। তারপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রী মৃত্যুর পরও ভোট দিয়ে চলেছেন! পরিচিয়পত্রহীন স্বামীর ভিক্ষেই সম্বল

স্ত্রী মারা গিয়েছেন বছর পাঁচেক আগে। কিন্তু ভোটার তালিকায় গত লোকসভা পর্যন্তও ছিলেন জীবিত। ফলে ভোটের সময় ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোটও দিতে এসেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। কিন্তু জীবিত থেকেও ভোটাধিকার নেই স্বামীর। বঞ্চিত সরকারি সুবিধা থেকেও। সরকারি সুবিধা পাবেন কিভাবে! কাগজকলমে মৃত কি ভাবে সুবিধা পাবেন! মৃত মানুষ ভোট দিয়ে যেতে পারেন! তবে সরকারি সুবিধা কখনই নয়!এমনই অদ্ভুত ভুতুড়ে ভোটার তালিকার হদিশ মিলল বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভার নারায়নপুর পঞ্চায়েত কানাইপুর সংসদে। ওই সংসদের হতদরিদ্র ধীরেন মাল জানতে পারেন তিনি মৃত। প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘোরাফেরা করেও তিনি নিজেকে জীবিত প্রমান করতে পারেননি। ফলে এখন ভিক্ষাকে জীবিকা করে কোনওরকমে মৃতপ্রায় হয়ে চলাফেরা করছেন। তবে বছর পাঁচেক আগে মৃত স্ত্রী ভাসানি মাল ভোটার তালিকায় ২০২৪ সাল পর্যন্তও ছিলেন জীবিত। ভোটের সময় আসেন, আর ভোট দিয়ে চলে যান।এদিকে মৃত স্ত্রীর নামে বার্ধক্য ভাতাও ঢুকছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। কিন্তু টাকা তোলা যাচ্ছে না। এদিকে ধীরেন মালকে মৃত ঘোষণা করায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে বার্ধক্য ভাতা পান না। চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর। এই বয়সে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। ভিক্ষাকে জীবিকা করে কোনওরকমে জীবন-মরণের লড়াই চালাচ্ছেন। ধীরেন মলের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার ভোটার তালিকায় নাম বাদ দিয়েছে, গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ভোটার কার্ড নিয়ে ভোট দিতে গেলে তাকে বুথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ জানতে গেলে বলা হয় তিনি মৃত। তাই তার ভোটার তালিকায় নাম নেই। অথচ তাঁর স্ত্রী মৃত্যু হলেও তার নাম ছিল ওই ভোটার তালিকায়। বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বলেও এখনও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। ধীরেন মালের নাম যাতে ভোটার তালিকায় ওঠে তার ব্যবস্থার নেওয়ায় আস্বাস দিয়েছে প্রশাসন থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব।তৃণমূলের নারায়নপুর অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, বিষয়টা আমরা জানি না। হয়তো স্ত্রীর নাম বাদ দিতে গিয়ে স্বামীর নাম বাদ দিয়েছে। তবে তাঁর নাম যাতে ভোটার তালিকায় ওঠে সেই ব্যবস্থা করব। একই সঙ্গে যাতে বার্ধক্য ভাতা পায় সেই বিষয়টাও দেখা হবে।বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, ভোটার তালিকায় গড়মিলের বিষয়টি আমরাই প্রথম অভিযোগ করেছি। মৃত মানুষের ভোটেই তো তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তাছাড়া কানাইপুর সংসদ বিজেপি অধ্যুষিত। ফলে পরিকল্পিত ভাবে ধীরেনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

মার্চ ১৩, ২০২৫
রাজ্য

শেষমেশ চড়কা কেটে আন্দোলন শুরু দেউচায়, ৩ দিন বন্ধ খননের কাজ

অবেশেষে চড়কা কেটে আন্দোলন শুরু করে দিল আদিবাসীরা। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে টানা ৩ দিন ধরে খননের কাজ বন্ধ দেউচা-পাঁচামির। ইতিমধ্যে সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে আদিবাসী নেতাদের। তবে এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ প্রশাসনিক কর্তারা।আন্দোলনের জেরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রস্তাবিত কয়লা খনির কাজ টানা তিন দিন বন্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ স্থানীয় আদিবাসীরা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, আমরা শিল্পের বিরোধী নই। তবে শিল্পের নামে আদিবাসীদের জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে, চাকরি থেকে বঞ্চিত করে রাজ্যসভার সাংসদ তাঁর নিজের লোকেদের ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। কয়লা শিল্পের নামে পাথর তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্য আদিবাসী সমাজের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই আন্দোলন যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে দেউচা-পাচামিতে কয়লা খনির খনন কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও জল, জঙ্গল, জমির অধিকার ছাড়তে নারাজ স্থানীয় মানুষজন৷ বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা৷ বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই আদিবাসী। কোনওরকমে বিক্ষোভ সামাল দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে মুখ্যমন্ত্রীর মান বাঁচাতে শুরু হয় দেউচায় খনন কাজ। কিন্তু আন্দোলনের জেরে ফের বন্ধ হল খনন প্রক্রিয়া। এই দেউচা-পাচামিতে প্রস্তাবিত কয়লা খনির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই লড়াই-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ কারণ, এখানে ৩৪০০ একর জমিজুড়ে মজুত রয়েছে কয়লা৷ এই কয়লা উত্তোলন করতে হলে প্রায় ২০ টি গ্রামকে অন্যত্র সরাতে হবে। কমপক্ষে ২১ হাজার মানুষকে পুর্নবাসন দিতে হবে। যার মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। এছাড়া, কয়লা খনি হলে ধ্বংস হবে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি, চারণভূমি। ভারসাম্য হারাবে পরিবেশের। তাই খনির জন্য ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা।

মার্চ ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে অশান্তিতে গ্রেফতার বিজেপি নেতৃত্ব, কি নিয়ে এত গন্ডগোল?

তারাপীঠে অশান্তি যেন কিছুতেই কমছে না। বরং তা বেড়েই চলেছে। এর আগের শ্মশানে রিজার্ভার নির্মানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। এবার বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করে শ্মশানের মধ্যে নোংরা জল মজুতের বিরোধিতা করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক নেতা কর্মীকে। দলীয় সভাপতি এবং নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তারাপীঠ থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পরে অবশ্য সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।সূত্রের খবর, বীরভূমের তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দুপাশের এবং পাণ্ডা পাড়ার নোংরা জল মজুত করার জন্য তারাপীঠ শ্মশানে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সেই জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলার কথা। পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ওই কাজ করা হচ্ছিল বলে জানান তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে রিজার্ভার নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপির পক্ষ থেকে শ্মশানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মাটি ফেলে কিছুটা বন্ধ করে দেওয়া হয় রিজার্ভারের গর্ত। ওইদিন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা হুঁশিয়ারি দেন ফের কাজ শুরু হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে দল। বিজেপির হুঁশিয়ারিকে আমলা না দিয়ে দিন দুয়েক থেকে একই জায়গায় ফের মাটি কাটার কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, জেলা সহ সভানেত্রী রুপা মণ্ডল, জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল, বিজেপি মোর্চার জেলা সভানেত্রী রশ্মি দে। সকলে মিলে কোদাল ধরে গর্তে মাটি ভরাট করতে শুরু করেন। এরপরেই তারাপীঠ থানার পুলিশ গিয়ে ধ্রুব সাহা সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। বিজেপি থানাতেও বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি, ধৃতদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর সকলকে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে বিজেপি নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের পরেই শ্মশানের সাধু সন্তরা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে খনন কাজের কাছে জমায়েত হন। তারা বিজেপির পতাকা খুলে ফেলে দেন। ছিঁড়ে ফেলেন পোস্টার। সাধুদের দাবি, নোংরা জলকে পরিশ্রুত করে নদীতে ফেলার জন্য এই নির্মাণ হচ্ছে। এটা ভালো কাজ। বিজেপির নোংরা রাজনীতিকে আমরা ধিক্কার জানাই।যদিও ধ্রুব সাহার বক্তব্য, সাধুদের আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অধিকাংশ সাধু আমাদের সঙ্গে আছেন। কিছু সাধু তৃণমূলের কাছে সুবিধা পেয়ে এসব করছেন। তারা সাধু নন। সাধু হলে সনাতনী সমাধি ধ্বংসের প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল আমাদের আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য দলীয় অফিসে মস্তান জমায়েত করেছিল। পুলিশ তাদের সরাতে না পেরে আমাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। কোন মতে শ্মশানে নির্মাণ কাজ করতে দেব না।শ্মশানে নোংরা জলের রিজার্ভার নির্মাণের প্রতিবাদ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বৈরাগী বৈষ্ণব সমিতির রাজ্য সম্পাদক শ্যামা পদ দাস বলেন, বিষয়টি খুব চিন্তার। এভাবে বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করা উচিত নয়। আমরা এই নির্মাণের বিরোধিতা করছি।তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, এই কাজ করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। পবিত্র মহাশ্মশানে এবং দ্বারকা নদীতে যাতে দুষিত জল না পরে সেই জন্য রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জমা হওয়া জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে। এর ফলে দ্বারকার জলে দূষণ হবে না। এই নির্মাণ করতে গিয়ে একটিও গাছ কাটা হবে না। ধ্বংস করা হবে না সমাধি।প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর জয়দীপ মুখোপাধ্যায় তারাপীঠের দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৮ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়ে আদালত ৭০ টি হোটেললজকে চিহ্নিত করে জরিমানা করে। সেই সঙ্গে দূষণ রোধে সরকারকে একাধিক নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই ওই নির্মাণ বলে জানান সুকুমার মুখোপাধ্যায়।

মার্চ ০৬, ২০২৫
রাজ্য

মহাকুম্ভ সমাপ্ত হলেও বাড়ি ফেরেনি স্বামী, প্রয়াগরাজে খুঁজছে ছেলে, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ মা

মহাকুম্ভ সমাপ্ত। পদপিষ্টে ভক্তদের মৃত্য়ু, প্রয়াগরাজে অগ্নিকান্ড, পথ দুর্ঘটনা। নানা ঘটনা তথা বিতর্কের মাঝেও কোটি কোটি মানুষ ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করেছেন। কিন্তু এই মহাকুম্ভে হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে এখনও ফিরে পাননি বীরভূমের বাসিন্দা মঞ্জু রাউত। স্বামীকে ফিরে পেতে দৌঁড়ঝাঁপ করছে প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে। স্বামীর ছবি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের কাছে আবেদন পত্র জমা দিলেন স্ত্রী। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে আবেদনপত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মঞ্জু রাউতের দাবি, তাঁর স্বামীকে খোঁজার বিষয়ে অসহযোগিতা করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।মঞ্জু দেবীর পরিবার সূত্রে খবর, গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রামের লোকেদের সঙ্গে টুরিস্ট বাসে বীরভূমের মল্লারপুর থেকে কুম্ভস্নানের উদ্দেশে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ গিয়েছিলেন বামাপদ রাউত। ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুম্ভস্নান ঘাটের ৪ নম্বর সেক্টরে পৌঁছেও যান। সন্ধ্যের দিকে ত্রিবেণী সঙ্গম ঘাটে একই সঙ্গে সকলের সঙ্গে স্নান সারেন। তবে বাড়ি ফিরে আসার সময় গ্রামের লোকজন বামাপদ রাউতকে দেখতে পাননি। বাবার নিখোঁজের খবর পেয়ে ছেলে বাপি রাউত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রয়াগরাজ পৌঁছে যান। ওইদিন বাপি সংশ্লিষ্ট দারাগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কিন্তু এখনও বামাপদবাবুর কোনও খোঁজ মেলেনি। উত্তরপ্রদেশের পুলিশের কোনও সহযোগিতা করছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।গ্রামের বাসিন্দা বামাপদ রাউতের সফরসঙ্গী দুখু রাউত বলেন, আমরা তিনটি বাসে ২৫০ জন কুম্ভ গিয়েছিলাম। ২৪ ফেব্রুয়ারি ৪ নম্বর সেক্টরে ত্রিবেণী সঙ্গম ঘাটে স্নান সেরে সকলে বাসে ওঠার জন্য কুম্ভমেলা ছেড়ে চলে যাই। বাসে উঠে দেখি বামাপদ রাউত নেই। এরপর আমরা ফের মেলা মাঠে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোন খোঁজ পায়নি। এরপর মেলা মাঠে পুলিশ ক্যাম্পে গেলে তারা অসহযোগিতা করে। প্রথমে বলে খোয়াপায়া কেন্দ্রে যেতে। মেলা উপলক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য ওই পুলিশ কেন্দ্র খুলেছিল। ডিজিট্যাল পদ্ধতিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য রেকর্ড করে উদ্ধারের ব্যবস্থা করার কথা ওই পুলিশ কেন্দ্রের। কিন্তু সেখানেও কোন সহযোগিতা পাইনি। এরপর তাদের কথা মতো কোতোয়ালি থানা তারপর দারাগঞ্জ থানায় গিয়ে নিখোঁজ অভিযোগ জমা করি। কিন্তু পুলিশ কোনরকম সহযোগিতা করছে না।বামাপদর স্ত্রী মঞ্জু রাউত বলেন, আমার স্বামী প্রান্তিক চাষি। তিনিই বাড়িতে চাষাবাদ করে সংসার চালান। তাঁর নিখোঁজের খবর পেয়ে আমি ভেঙে পড়েছি। এরপর আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজখবর করি। ছেলে এখনও প্রয়াগরাজে রয়েছে। কিন্তু কোন খোঁজ মেলেনি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলাম। মহকুমা শাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনলাম। ডাকযোগে একই আবেদন জানানো হয়েছে জেলা শাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। আমার আশা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নিরাশ করবেন না।

মার্চ ০৫, ২০২৫
রাজনীতি

ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত সিউড়ি, কাজল-অনুব্রত অনুগামীরা সম্মুখসমরে।

বীরভূমের লাল মাটিতে কিছুতেই থামছে না তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ফের কাজল-অনুব্রত অনুগামীরা সম্মুখসমরে। এবার কাজল অনুগামী সিউড়ি ২নম্বর ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদ ঘোষণা করে সভা করলেন অনুব্রত অনুগামীরা। অভিযোগ একনায়কতন্ত্র ও সমান্তরাল ভাবে দল পরিচালনা করছেন নুরুল ইসলাম। এমনই অভিযোগ অনুব্রত অনুগামী সিউড়ি ২নম্বর ব্লকের পাঁচটি অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের।সোমবার সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের পাঁচটি অঞ্চলের অনুব্রত অনুগামীরা একটি ইন্ডোর সভা করেন। সভার মধ্যমণি ছিলেন তৃণমূল নেতা বলরাম বাগদি। এই বলরাম বাগদিকেই শুক্রবার কর্মী সভায় অনুব্রত মণ্ডলের নাম নেওয়ায় বক্তব্যের মাঝ পথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছি। সেই বলরামের নেতৃত্বে এদিন সভা করা হয় ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বক্তব্যে অধিকাংশ নেতৃত্ব ব্লক সভাপতি বদল চেয়ে গরম গরম বক্তব্য রাখেন। নতুন করে কমিটি তৈরির দাবি উঠে আসে। ব্লক কার্যকারী সভাপতি অশ্বিনী মণ্ডল বলেন, আমাদের ব্লক সভাপতি একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। তাঁকে অনেকেই মানতে পারছেন না। তবে তার চলার দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে আমাদের মানতে আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি সকলকে নিয়ে চলতে পারছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন পুরনো সকলকে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মানতে আমি এদিন সকলকে নিয়ে সভা করেছি।তবে ওই সভা তৃণমূল পরিচালিত মানতে নারাজ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যারা সভা করেছেন তাদের ৯৫ শতাংশ গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আমি কারও প্রশংসা করতে রাজি নই। ওরা চায় আমি অনুব্রত মণ্ডলের নামে মালা জপি। কিন্তু মালা জপাতে আমি নেই। যারা মনে করছে বিশৃঙ্খলা করে কিছু একটা করা যেতে পারে তারা ভুল করছে। যারা লাগামছাড়া চলতে চায় তাদের আমাকে অপছন্দ হবে। পুরন্দরপুরের শেখর মাল, অবিনাশপুরের রাজু মুখোপাধ্যায় ও বনশঙ্কা অঞ্চলের সভাপতি সরজিত ঘোষ ওই সভায় যাননি।বিজেপির জেলা সসভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দুই গোষ্ঠী আড়াআড়ি হয়ে গিয়েছে। দলনেত্রীর নির্দেশের পরেও যত দিন যাচ্ছে ততই ব্লকে ব্লকে বাড়ছে কাজল-অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

মার্চ ০৪, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, দেশের মঙ্গল কামনায় করলেন প্রার্থণা

সস্ত্রীক মা তারাকে পুজো দিলেন দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। দেশের মঙ্গল কামনা করে মা তারার কাছে প্রার্থণা করলেন তিনি। আজ বেলা ১০টা ১৫ মিনিটে তারাপীঠ মন্দিরে পৌঁছান উপরাষ্ট্রপতি। তারপর মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পুজো অর্চনা করেন। পুজো দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, মা তারার কাছে দেশের মঙ্গল কামনা করছি। মা তারার দর্শনে আমরা দুজনে এক আলাদা অনুভুতি পেয়েছি।আজ, শুক্রবার দিল্লী থেকে বিমানে করে পানাগড় পৌঁছান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপর সেখান থেকে বায়ুসেনার চপারে চড়ে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমানার বায়ুসেনার সুঁড়িচুয়া এয়ারবেসে অবতরণ উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপর সেখান ১০টা১৫ মিনিটে সড়ক পথে পৌঁছান তারাপীঠ মন্দিরে। সেখানে পুজো দেওয়ার পর ১০টা৩৫ মিনিটে তারাপীঠ থেকে বেড়িয়ে ১১টা ২০ মিনিটে ফের বায়ুসেনার চপারে চড়ে পানাগড়ের উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেন।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫
রাজ্য

কয়লা উত্তোলন নিয়ে দেউচায় বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর শুরু হয় উদ্যোগ

বিশ্ব বঙ্গ বানিজ্য সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের দেউচা-পাঁচামি কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বীরভূম জেলা প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো ভূমি পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন অর্থাৎ আজ, বৃহস্পতিবার জেলা শাসক বিধান রায়, জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ, রাজ্য সভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম ওই এলাকায় যান। তাদের সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, এই ভূমি পুজোকে কেন্দ্র করেই দেউচায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তপ্ত থাকে এলাকা। বিক্ষোভ শুরু হতে থাকে। যার দরুন মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় ভূমি পুজো। আদিবাসীদের বাধায় কয়লা উত্তোলন না করেই ফিরতে হল প্রশাসন। চাঁদা গ্রামের খাস জমিতে শুরু হয়েছিল ভূমি পুজো। আধঘণ্টা পর আদিবাসীদের একাংশের বাধায় পুজো বন্ধ করে দিতে হয়। এমনকি কয়লা উত্তোলনের যন্ত্রাংশ ও কয়লা বোঝাই করতে আসা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।পুরোহিত সন্তু চটট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আমি জানতাম না কোথায় পুজো করতে হবে। আমাকে বলা হয় শোঁতসালে পুজো হবে। পরে দেখলাম চাঁদা গ্রামে নিয়ে এসে পুজো করানো হচ্ছে। কিসের জন্য পুজো করা হচ্ছে সেটাও জানানো হয়নি। পুজো কিছুক্ষণ চলার পর আদিবাসীরা এসে বলেন পুজো বন্ধ করতে হবে। তারা বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পুজো হবে। ফলে আদিবাসীদের বাধায় মাঝপথে পুজো বন্ধ করতে হল। হোমযজ্ঞ হলে পুজো সম্পূর্ণ হত। চাঁদা গ্রামের বাসিন্দা পদ্মা বিত্তার, মিতালী দলুইরা বলেন, আমরা সরকারি জমিতে বসবাস করি। আমরা ভূমিহীন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। কয়লা উত্তোলন হলে আমরা থাকব কোথায়? আমাদের কাজ দিতে হবে। থাকতে দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুজো হয়েছে। কয়লা উত্তোলনের যন্ত্রাংশ চালানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৫
রাজ্য

বীরভূমের গ্রামে দুষ্কৃতী তান্ডব, গণপিটুনি, পুলিশের কলার ধরে হুমকি!

কয়েক মূহুর্তের ঘটনায় পরিচিত পেল বীরভূমের সিউড়ির মিনিস্টিল গ্রাম। দুষ্কৃতী তান্ডব, গণপিটুনি, জখম, শেষমেষ পুলিশের কলার ধরা। তারপর গ্রামে পুলিশের অভিযান। গ্রেফতার। এদিন সকালে সিউড়ির মিনিস্টিলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গ্রামে প্রবেশ করে দুই যুবক। তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করে গ্রামবাসীরা। পুলিশকে ঘিরেও চলে ব্যাপক বিক্ষোভ। পরিস্থিতি আয়ত্বে আনতে লাঠি হাতে তারা করে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ দুজন যুবক বাইরে থেকে এসে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামের ভেতর প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। সেই সময় গ্রামবাসীরা হাতেনাতে ধরে ফেলে ওই যুবকদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে, সাথে চলে গণপিটুনি। দড়ি দিয়ে পিছেমোড়া করে বাঁধা হয়। গণপিটুনিতে একজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর, মুর্শিদাবাদের ডোমকলের পর এবার ঘটনাস্থল বীরভূমের সিউড়ি। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করা দুই যুবককে গ্রামবাসীরা মারধর করেছে খবর পেয়ে এলাকায় গিয়েছিল পুলিশ। ওই দুই যুবককে ধরে থানায় আনতে গিয়েই বাধে বড় বিপত্তি। ভািরাল ভিডিওতে দেখা যায় থানার আইসি-র কলার ধরে টানাটানি করার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীকে মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে।এভাবে পুলিশকর্মীদের ওপর গ্রামবাসীদের একটি বড় অংশ চড়াও হওয়ার পর প্রথমে পুলিশ পিছু হটে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরপর শুরু হয় লাঠিচার্জ। ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এলাকা ফাঁকা করে দেয় পুলিশ। ওই দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দুই যুবকের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা দখলের ফলে এই অশান্তি বলে খবর।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৫
রাজ্য

আইপিএস পদে রদবদল, বদলি হচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার

রাজ্যে আইপিএস পদে রদবদল। বদলি হলেন বর্ধমান ও বীরভূমের পুলিশ সুপার। সোমবার রাজ্য পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন আইপিএস অফিসারের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ট্রেনিং থেকে এবার ফিরে বীরভূমের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন আমনদীপ। এসএস সিআইডি সায়ক দাসই এবার অফিসিয়ালি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে যোগ দিচ্ছেন। তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। বর্ধমানের পুলিশ সুপার আমনদীপ ট্রেনিংয়ে ছিলেন। এদিকে বীরভূমের পুলিশ সুপার রাজনারায়ন মুখোপাধ্যায় সরছেন। তার জায়গায় বর্ধমানের পুলিশ সুপার আমনদীপ যোগ দিচ্ছেন বীরভূমের পুলিশ সুপার পদে। অন্যদিকে রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এসপি ট্রাফিক পদে যোগ দিচ্ছেন।

জানুয়ারি ১০, ২০২৫
রাজনীতি

এবার ৫ কেজির রূপোর মুকুট কাজল শেখের মাথায়, মিলনমেলায় গড়হাজির অনুব্রত মন্ডল

এই মিলনমেলাতেই বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের হাতে দেখা গিয়েছিল রূপোর তরোয়াল। মাথায় পড়েছিলেন ২ কেজির রূপোর মুকুট। বীরভূমের বেতাজ বাদশা ছাড়া নানুরের বাসাপাড়ার মিলনমেলা যেন বেমানান ছিল। তিহার জেল থেকে ফিরে আসার পর দৃশ্য়পটের আমূল বদল ঘটেছে এই মিলনমেলার। এভাবেই যেন রাজ্যপাটের পরিবর্তন ঘটে যায় কালের নিয়মে। শূন্যস্থান কিভাবে যে পূরণ হয়ে যাবে তা বিধাতাই জানে।এবার সেই মেলার মঞ্চ আলো করে থেকেছেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। তাঁর মাথাতেই এবার দেখা গেল ৫ কেজি ওজনের রূপোর মুকুট। এবার গড়হাজির অনুব্রত মন্ডলও। জানা গিয়েছে, তিনি অবশ্য় আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এমনকী বিগত দিনের কর্তারাও এবারের আয়োজনের দায়িত্বে নেই। বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান ছিলেন অন্য়তম উদ্যোক্তা। এখন মেলার নিয়ন্ত্রণেও হাতবদল হয়েছে। এই মেলাকে ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল দেখছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ০১, ২০২৫
রাজ্য

গুরুতর অভিযোগ তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়কের বিরুদ্ধে, ক্ষুব্ধ তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা

এর আগে হুমকি, তোলাবাজি মাস্তানী সহ নানা অভিযোগ শোনা তৃণমূলের কোনও কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে। এবার বীরভূমের এক তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে তোলপাড়। তিনি আবার পেশায় চিকিৎসক। সেই চিকিৎসাক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে।মত্ত অবস্থায় অপারেশন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক চিকিৎসক-বিধায়কের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে বুধবার অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের চিকিৎসক-বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাটি ঘটেছে তারাপীঠ শহরের একটি নার্সিংহোমে। বুধবার ওই নার্সিংহোম ও বিধায়কের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে দিন কয়েক আগে বীরভূমের হাসানের বিধায়ক চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুজাতা মুখোপাধ্যায়। সুজাতাদেবী সাহাপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাও। অস্ত্রোপচারের পর সোমবার সুজাতাদেবীর মৃত্যু হয়।সুজাতা দেবীর স্বামী তথা তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, চিকিৎসক-বিধায়ক মত্ত অবস্থায় ভুল অপারেশন করেছিলেন। তারই জেরে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পুর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক বিধায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠ শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪
রাজ্য

অনুব্রতর বাড়ির দরজায় আটকে গেলেন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, কান্নায় ভাসলেন সকন্যা "বীরভূমের বাঘ"

গরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল জামিন পাওয়ার পর আজ সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা রওয়ানা দেন বোলপুরের নীচুপট্টির বাড়ির দিকে। বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতিকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন অসংখ্য অনুগামী।এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীকে অনুব্রত তাঁর বাড়িতে ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায়। তাঁদের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সাংসদ অসিত মালকেও দরজার বাইরে থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে। অনুব্রত মন্ডল ও তাঁর কন্যা সুকন্যাকে দেখা গেল হাত দিয়ে চোখের জল মুছতে। আবেগি অনুব্রত দু হাত দিয়ে চোখ চেপে ছিলেন। আজ বোলপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। অনুব্রতর সঙ্গে দেখা হয়নি দলনেত্রীর। বাড়িতে ঢোকার সময় অনুব্রত এদিন বলেন, তিনি দিদির সঙ্গেই আছেন। পায়ে ব্যথা রয়েছে। শরীর ভালো থাকলে তিনি দেখা করবেন দিদির সঙ্গে। কাজল এখন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি। অনুব্রত তিহাড় জেলে থাকলেও তিনিই দলের সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তনে ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দেবে কিনা তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বরাবরই অনুব্রতর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছে, কেড়ে নেওয়া হয়েছে দলের সাংগঠনিক পদ। তবে তাঁরা বিধায়ক রয়েছেন। অনুব্রত জেলে থাকলেও দলের সভাপতিই থেকে গিয়েছেন।অনুব্রত বাড়ি ফেরার পর তাঁরা দেখা করতে গিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে। যদিও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মাধ্যমে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বাড়িতে প্রবেশাধিকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে সেখান থেকে ফিরে যান চন্দ্রনাথ, বিকাশ, অসিত মাল। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা নেতা সুদীপ্ত ঘোষ, নলহাটির বিধায়ক, বোলপুরের পুর প্রধান। অনুব্রতর সঙ্গে জেলা কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছিলেন। সেখানে ছিলেন অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা। ছিলেন আরও কয়েকজন।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪
রাজ্য

বীরভূমে নদীতে উল্টে গেল স্পিড বোট, কোনওমতে প্রাণরক্ষা সাংসদ, বিধায়কসহ প্রশাসনিক কর্তাদের

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনের কর্তারা। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের লাভপুরে।স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, দুই সাংসদ, বিধায়ক সহ মোটব১৩ জন চেপেছিলেন স্পিড বোটে। প্রশ্ন উঠছে সেফটি জ্যাকেট না নিয়ে কেন স্পিড বোডে চড়লেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।জানা গিয়েছে, তিনদিনের অতি বৃষ্টিতে বীরভূমের লাভপুরে কুয়ে নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে নদী সংলগ্ন বলরামপুর গ্রাম সম্পূর্ণ ভেসে যায়। পাশেপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। ওই গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। সেই সমস্ত গ্রামের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বুধবার এলাকা পরিদর্শনে যান জেলা শাসক বিধান রায়, জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহাসহ সহ মোট ১৩ জন। সেফটি জ্যাকেট ছাড়াই একটি স্পিড বোর্ডে তাঁরা দুর্গত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা বোর্ডটি কুয়ে নদীতে উল্টে যায়। জেলা পুলিশ সুপার ছাড়া সকলেই নদীতে পরে যান। উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সকলকে উদ্ধার করা হয়।নদী থেকে উঠে সাংসদ অসিত মাল বলেন, হঠাৎ নদীর স্রোতে স্পিড বোর্ড উল্টে যায়। আমি সাঁতার জানতাম। কিন্তু জলের স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটতে পারছিলাম না। এরপর একটা গাছের ডাল ধরে ঝুলতে থাকি। কিছুক্ষনের মধ্যেই উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে এলাম।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal