• ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৬ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পূর্ব বর্ধমানে হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা রাখলো না

করোনা অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর বন্ধ ছিল স্কুল। অতিমারির প্রভাব শিথিল হবার পর স্কুল খুললে দেখা যায় অনেক পড়ুয়া আর স্কুলমুখী হচ্ছে না। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র উঠে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা-ই রাখলো না জেলার ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে রয়েছে মেমারির রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ পরীক্ষার্থী ,বর্ধমানের তেজগঞ্জ হাইস্কুলে ৮ জন পরীক্ষার্থী ও কাটোয়ার একটি স্কুলের ১১ জন পরীক্ষার্থী।মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের এই ভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হতবাক করেছে জেলার শিক্ষক মহলকেও। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় কেন এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলো তার তথ্য অনুসন্ধান ভীষণ জরুরী বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের দেওয়া তথা অনুযায়ী এই বছর খাতায় কলমে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৪ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যায়ন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবছর ছাত্রের তুলনায় ৭ হাজার বেশী ছাত্রীর নাভ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা।কিন্তু পরীকার প্রথ দিন থেকে ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পা-ই রাখলো না। পরীক্ষায় না বসার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাত্রীর তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, করোনা অতিমারির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাজ চলে গিয়েছে। অভিভাবকরা রেজগারহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার টানতে ওইসব পরিবারের পড়ুয়াদেরও কাজে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়া স্কুল বন্ধ থাকায় সংসারের আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে নানা জায়গায় কাজে চলে যায়। অনেক নাবালিকা ছাত্রীর আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।এছাড়াও অনেকে ভেবে ছিল এই বছরও হয়তো পরীক্ষার পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণে পাশ করার সুযোগ মিলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় পরীক্ষারফর্ম পূরণের পরে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্র মুখো হয়নি।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন,রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের নানাবিধ সহায়তা পবার ব্যবস্থা করেছে।তার পরেও একাংশ পরীক্ষার্থীর এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় না বসার কি কারণ থাকতে পারে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

ধারালো ব্লেড দিয়ে মূক ও বধির যুবকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়ায় অভিযোগে গ্রেফতার নিষ্ঠুর প্রতিবেশী

মুখ টিপে ধরে ধারালো ব্লেড দিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল নিষ্ঠুর প্রতিবেশী। ধৃতের নাম সমীর সাঁতরা। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার গোতান গ্রামে। মাধবডিহি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গোতান বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয় ব্লেডটি। পুলিল সেটি বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, গোতান গ্রামেই বাড়ি মূক ও বধির ওই যুবকের। গত শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ প্রতিবেশী সমীর তাঁকে মোবাইলের লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর মুখ টিপে ধরে সমীর মূক ও বধির ওই যুবকের পুরুষাঙ্গটি ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়। গ্রামের অপর বাসিন্দারা তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তাঁর পুরুষাঙ্গে বেশ কয়েকটি সেলাই হয়। প্রথমে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের লোকজনকে সমীরের বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে মূক ও বধির যুবক আকারে-ইঙ্গিতে জানিয়ে দেয় সে-ই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপরই মূক ও বধির যুবকের মা সমীরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যপালের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকারের আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয়, বললেন সুকান্ত

এই রাজ্যের সরকার বিরোধীদের কণ্ঠশ্বরকে হত্যা করতে চাইছে। তাই সাসপেণ্ড করা হয়েছে দুই বিজেপি বিধায়ককে। আমরা তো ভোবেছিলাম বিজেপির সব বিধায়ককেই বরখাস্ত করবে। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে স্পিকারের দুই বিজেপি বিধায়ককে সাসপেণ্ড করা নিয়ে বুধবার বর্ধমানে এসে এই ভাবেই ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।এমনকি বর্ধমানের জেলা বিজেপি কার্যালয়ে বসে সুকান্ত বাবু রাজ্য সরকার ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।তিনি বলেন,শুধু স্পীকার নয়, রাজ্যপালের প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয়।রাজ্যপালের তলব পেয়েও বিধানসভার স্পিকারের তাঁর কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও এদিন সরব হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।সুকান্ত বাবু এই প্রসঙ্গে বলেন, রাজ্যপালের তলব পেয়েও স্পিকারের না যাওয়াটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত অশোভনীয়। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।শুধু স্পীকার নয়, রাজ্যপালের প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণও অত্যন্ত অশোভনীয় বলে অভিযোগ করেন সুকান্ত মজুমদার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন উনি (মুখ্যমন্ত্রী) বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করছেন।এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কোনও মুখ্যমন্ত্রী মহামান্য রাজ্যপালের সাথে এই ধরনের আচরণ করেননি।রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে সুকান্ত মজুমদার এও বলেন, রাজ্য সরকার চলছে কেন্দ্রের টাকায়।অথচ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুই মিথ্যা কথা বলেন।জয়প্রকাশ মজুমদার তৃণমূলে যোগদান সম্পর্কে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, আমরা ওনাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলাম। তৃণমূল তাঁকেই সেই পদেই বহাল করেছে। এর থেকেই বোঝা যায় এই রাজ্যে বিজেপির ভাল দম আছে। তাই বিজেপির রিজেক্টেড নেতারাও তৃণমূলে গিয়ে একই পদ পাচ্ছেন। পাশাপাশি সুকান্ত বাবু দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরাই বিজেপির সম্পদ। কারণ তাঁরা নরেন্দ্র মোদীকে দেখে দল করেন। বিজেপি বিধায়ক হিরনের বিভীষণ প্রসঙ্গ উত্থাপন সম্পর্কে সুকান্ত বাবু বলেন, আমার সঙ্গে হিরনের কথা হয়েছে। যা বলার ওকে পার্টির ভিতরে বলতে বলেছি। অন্য দল থেকে ভাঙিয়ে দল ভারি করার কথা বিজেপি ভাবছে না বলেও সুকান্ত বাবু এদিন জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন ,কেউ বিজেপি দলে এলে তাঁকে বিজেপির মতাদর্শ মেনে নিয়েই আসতে হবে।

মার্চ ০৯, ২০২২
রাজ্য

নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করিয়ে তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেল পুলিশ

বিনাপণে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের রাতে নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছিল বাবা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই পূর্ব পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ দ্রুত বেরোয়া গ্রামে পৌছে নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বিয়ে রেখে দেয়। তার কারণে নিরুপায় হয়ে বউ ছাড়াই টোপর হাতে নিয়ে ওই রাতেই নিজের বাড়ি ফিরে যেতে হয় বর বাবাজীবনকে। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি যেতে না হওয়ায় সোমবার মহানন্দেই মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিল ভাতারের মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।ছাত্রীটি এদিন জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য সে রবিবার রাতে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা না দিয়ে ছাদনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার কোনও চিন্তাভাবনা তার মাথাতেই ছিল না। একপ্রকার জোর করেই ওই দিন তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য বাধ্য করা হচ্ছিল। তবে অবশ্য ভাতার থানার ওসি সৈকত মণ্ডলের জন্য তা আর কেউ করতে পারেনি। তাই এদিন ভালোভাবেই মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দিতে পেরেছি বলে ছাত্রী জানিয়েছে। নাবালিকা ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছে,পড়াশুনা ছেড়েদিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন সে দেখেনা। লেখাপড়া শিখে নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করারই তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের বেরোয়া গ্রামেরওই ছাত্রীরা দুই বোন। সে ছোট। তাঁর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের বাবা জনমজুরির কাজ করেন ৷ মা গৃহবধু। মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রীটি । তাঁর সিট পড়েছে এরুয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। যে যুবক রবিবার তাঁকে বিয়ে করতে টোপর মাথায় দিয়ে হাজির হয়েছিল তার বাড়ি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার তালিত গ্রামে। ছাত্রীর মা এদিন বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বড় মেয়ের বিয়েতে অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।তালিতের পাত্রটিও খারাপ ছিলনা । তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর যখন আমাদের ছোট মেয়েকে বিনাপণে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় আমরা রাজি হয়ে যাই । তবুও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু পাত্রপক্ষ শর্ত রেখেছিল রবিবার রাতেই বিয়ে দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন রাতে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ার পুলিশ রাতে আমার বাড়িতে পৌছে বিয়ে বন্ধ করিয়ে দেয় । ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবোনা বলে পুলিশের কাছে মুচলেখাও লিখে দিয়েছেন বলে ছাত্রীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার কথা জেনে ওই ছাত্রী সহপাঠীরা ভাতার থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের কলেজ ছাত্রী তুহিনার মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমন শানালেন অধীর

গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে তিন বোনকে ঝুলে মরতে হবে এমন ছবি পুর ভোটের সময়ে যাঁরা দেওয়ালে এঁকেছিল তাঁরা কি মুখ্যমন্ত্রীর দলেরই লোক? যদি তা হয় তবে সেটা বাংলার লজ্জা। পুর ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সমর্থক তরুণী তুহিনা খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারকে বিঁধলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।শহর বর্ধমানে আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধীরবাবু এও বলেন, আপনার বাড়ির সামনে দেওয়ালে ছবি এঁকে দিয়ে কেউ যদি বলে, আপনার গলায় দড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তাহলে আপনি কি সেটা মানবেন? এদিন মৃত তুহিনা খাতুনের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে এসে অধীর চৌধুরি এলাকায় আঁকা ওই দেওয়াল চিত্র চাক্ষুষ করে স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন অত্যাচার কার্যত নজিরবিহীন। যে অত্যাচারের হাত থেকে হাওড়ার আমতার আনিস খান রেহাই পায়নি। বর্ধমানের তুহিনা খাতুনও পেল না। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা সেখানে এমন ঘটনা খুবই লজ্জার। এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানিয়ে দেন।বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগের নতুনপল্লী এলাকায় বাড়ি তুহিনা খাতুনের (১৮)। ২ মার্চ পুর ভোটের ফল ঘোষণার পর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। সে বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। বোনের মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিার কাউন্সিলর বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের দায়ী করে বর্ধমান থানার অভিযোগ দায়ের করেন দিদি কুহেলী বিবি। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত কাউন্সিলর বসির আহমেদ এখনও বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে অধীর চৌধুরীর কাছে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতার পরিবার। এই প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেন, বাংলায় এখন এমন জঙ্গলরাজই চলছে। সরকার, প্রশাসন ও তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারছে ।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

বিয়ে বাড়ির আরোহী বাহী চারচাকা গাড়িতে লরির ধাক্কা -মৃত ২ জখম ৩

বেপরোয়া ভাবে চলা লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল চারচাকা গাড়ির দুই আরোহীর। জখম হয়েছে আরও তিন জন। সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার তক্তিপুরে মেমারি মালডাঙা সড়ক পথে।পুলিশ জানিয়েছে ,মৃতরা হল প্রকাশ বাগ (৩০) ও তার ভাই তাপস বাগ (২৬)। জখম রূপচাঁদ মান্ডি ,শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃত ও জখমরা সকলেই মেমারির কালিবেলে এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘাতক লরির খোঁজ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়ির পাঁচ আরোহী রবিবার জামালপুর থানার পাঁচড়ার ভেরিলি গ্রামে বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এদিন সকালে তাঁরা চারচাকা গাড়িতে চড়ে মেমারির কালিবেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।পথে তক্তিপুর এলাকায় মেমারি গামি দ্রুত গতীর একটি লরি চারচাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়।এই দুর্ঘটনায় চারচাকা গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারচাকা গাড়ির চালক প্রকাশ বাগের। বাকি আরোহী তাপস বাগ, রূপচাঁদ মান্ডি শিবু টুডু ও দীপঙ্কর কুন্ডুকে উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রকাশ বাগের ভাই তাপস কে মৃত ঘোষণা করেন।জখদের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

'বর্জ্য ই সম্পদ', একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় হুমকি 'বর্জ্য' নিয়ে জোড় প্রচারাভিযান গুসকরা তে

মানব সভ্যতা উন্নয়নের সাথে সাথে মানবজাতির যত উপকার সাধন হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও ততটাই প্রকট হয়ে উঠেছে। আজকের পৃথিবীতে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতিকে জীবের বসবাস যোগ্য রাখা। বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বর্জ্যের পরিমাণও মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে চলেছে।বর্জ্য, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড়ো হুমকি (Threats)। বর্জ্য অপসারণ একটি বিশ্বব্যাপী ভয়ানক সমস্যা। উন্নত দেশগুলি এব্যাপারে অধিক সচেতন হলেও, অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ গুলি এখনও সেভাবে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। ভারতবর্ষে কিছু কিছু রাজ্য সফলভাবে এই কাজটি মোকাবিলা করলেও, অনেক রাজ্য এর পরিণতি অনুধাবন করতে পারেনি।বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য বা আবর্জনা আছে, এবং সেগুলি ধ্বংশ করার প্রক্রিয়াও বৈচিত্র্যময়ঃ জ্বলন, দাফন, সঞ্চয় এবং আরও নানারকম ভাবে এটি ধ্বংস করা হয়। বর্জ্য নিষ্পত্তি করার পদ্ধতিটি নির্বাচন করতে গেলে অবশ্যই বর্জ্যটিকে সঠিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে।এই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুসকরা পৌরসভার সাথে কাজ শুরু করেছে রাজ্য নগর উন্নয়ন দপ্তরের নিয়োগ করা সংস্থা দিগম্বরপুর অঙ্গিকার। আধুনিক উপায়ে বর্জ্য অপসারণের সুবিধার জন্য প্রতিটি বাড়িতে নীল-সবুজ বালতি বিলি করেছে গুসকরা পৌরসভা। যাতে পচনশীল (সবুজ বালতি তে) এবং অপচনশীল আবর্জনা (নীল বালতি তে) আলাদা করে রাখেন নাগরিকরা। প্রতিটি পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড কে মডেল করে এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকার। গুসকরা পৌরসভা তে ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড মডেল ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের বড় অংশের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে যথেষ্ট।গুসকরা পৌরসভার প্রোজেক্ট কোয়ার্ডিনেটার অভিষেক দলুই,জনতার কথা কে জানান, আমারা পৌরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সাথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার চালাছি। কোভিড ভ্যাকসিন সেন্টার ও দুয়ারে সরকার প্রকল্প যেখানে একসাথে অনেক মানুষের সমাগম হয় সেখানে ও আমার ক্যাম্প করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।পৌরসভার সাধারণ মানুষ যখন কোনো প্রকল্পের সুবিধার জন্য দুয়ারে সরকার -এ আসছেন আমার বর্জ্য পৃথকীকরণের সুফল তাদের কে বোঝাচ্ছি। বর্জ্য ই সম্পদ (Waste is Wealth) এবং কোন বর্জ্য কিভাবে কাজে লাগিয়ে শহর-কে পরিস্কার রাখা যায় তা ও জানানো হচ্ছে। একটি করে প্রচার পুস্তিকা তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য। স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট এজেন্সি ১২৭টি পুরসভার দ্বায়িত্ব কয়েকটি সংস্থা কে দিয়েছেন। পুর্ব-বর্ধমান জেলায় গুসকরা তে দিগম্বরপুর অঙ্গিকার এই সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়াও কালনা, দাঁইহাট, কাটোয়া তেও একই সংস্থা প্রচারাভিযান চালাচ্ছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

এ এক মন ভালো করা কাহিনী, ক্যানসারকে দূরে সরিয়ে কঠিন লড়াই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সামিনার

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায়না ছাত্রী সামিনা খাতুন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির সব জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও সাফল্যের সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সোমবার বসতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়। লেখাপড়া শেখার জন্য ছাত্রী সামিনার এমন জীবন সংগ্রামের সাথী হয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে সামিনার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই বছর পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র রয়েছে ২৪,১৩৮ জন । আর ছাত্রী রয়েছে ৩১,৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বছর জেলায় ছাত্রদের থেকে ৭ হাজার বেশী ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। সেই ছাত্রীদের মধ্যেই একজন জেলার জামালপুর ব্লকের রামনাথপুর গ্রাম নিবাসী ছাত্রী সামিনা খাতুন। রামনাথপুরের শেখ পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন। সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ। সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা।ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়।এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তারপর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে।এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি নিতে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারে না। শুধু পাতলা সুজি কোন রকমে খেয়ে দিনের পরদিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না।সামিনা জানায়, তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে হবেই। তাই মারণ ব্যাধির সব জ্বালাযন্ত্রনা সহ্য করে নিয়ে সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার জন্য মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা এদিন জানিয়েছে।ছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন, আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারি না।মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি। আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এতদিন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে । সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন।বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুবছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা ওর জন্য থাকছে। শ্যামল বাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হয়েছে।পরিক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন,ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হবে তা নেওয়া হবে।

মার্চ ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সি কে নায়ডু ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে বাংলার হয়ে দিল্লীতে খেলতে গেল বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের যুবক 'সুমন'

ভারতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট গুলির অন্যতম সি কে নায়ডু ট্রফি। এইবছর অনুর্ধ্ব ২৫ সি কে নায়ডু টুর্নামেন্ট আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে দিল্লীতে। সেই টুর্নামেন্টে এবার বাংলা দলের হয়ে খেলার জন্য নির্বাচিত হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের যুবক সুমন দাস। এক অজ পাড়া গাঁয়ের যুবক সুমন বাংলা দলের হয়ে দিল্লীর ক্রিকেট ময়দান মাতাবে জেনে খুশি তাঁর কোচ, বাবা মা ও প্রতিবেশীরা।জামালপুর ব্লকের চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম গুড়েঘর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে বাড়ি বছর ২২ বয়সী যুবক সুমন দাসের। তাঁর বাবা বিপিনকৃষ্ণ দাহ হুগলীর দশঘরায় ছোটখাট একটি গহনার দোকান চালান। মা সুমিতা দাস সাধারণ গৃহবধূ। সুমনের লেখাপড়া জীবন শুরু হয় হরিপাল পানিশ্যাওলা ইন্দিরা স্মৃতি বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তী সময়ে সিবিএসসি বোর্ডের অধীন উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে। সুমনের থেকে চার বছরের বড় দাদা শান্তনু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় সুমনের। তখন থেকেই তাঁর জীবনের আইকন হয়ে ওঠে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমান বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গোপাধ্যায়। বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সুমন অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই পৌছে যায় জামালপুর নিবাসী ইস্টার্ন রেলের প্রাক্তন দক্ষ ক্রিকেট খেলোয়াড় অমল দাসের কাছে। অমল দাসের হাত ধরেই সে জামালপুরের সেলিমাবাদের মাঠে ক্রিকেটের অনুশীলন নেওয়া শুরু করে।সিএবি টিম লিস্টকিছুদিন কোচিং দেওয়ার পরেই অমল দাস বুঝে যান তাঁর ছাত্র সুমন যথেষ্টই প্রতিভা সম্পন্ন। উপযুক্ত তালিম পেলে সুমন যে ক্রিকেটের ময়দান দাপিয়ে বেড়াতে পারবে তা বুঝতে ভুল করেন নি অমল বাবু। তিনি তাঁর ছাত্র সুমনকে একজন দক্ষ ডান হাতি পেস বোলার হিসাবে গড়ে তোলার যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। অমল দাসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েই জেলা ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভালো পারফরমেন্স করতে শুরু করে সুমন। এবার সেই সুমনই বাংলা দলের সদস্য খেলোয়াড় হয়ে হয়ে দিল্লীর ময়দানে সি কে নায়ডু টুর্ণামেন্টে তাঁর ক্রীড়া দক্ষতা প্রকাশ ঘটাতে চলেছে বলে অমল দাস জানিয়েছেন।আত্মপ্রত্যয়ী সুমন এদিন সন্ধ্যাতেই দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার আগে রবিবার দুপুরে জনতার কথাকে তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম কাণ্ডারী আমার কোচ অমল দাস মহাশয়। উনি আমায় হাতে ধরে সফল পেস বোলার হওয়ার অনেক টিপস শিখিয়েছেন। অমল বাবুর সহযোগীতাতেই পাকাপাকি ভাবে বর্ধমানের নামজাদা ক্লাব শিবাজী সংঘের হয়ে খেলার সূযোগ পাই। মাঝে কিছু দিন প্রশিক্ষণের মাঠ নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ায় অমলবাবুর পরামর্শে কোচিং নিতে যাই ইস্টার্ন রেলের প্রাক্তন কোচ প্রদীপ মণ্ডলের চন্দননগরে ক্রিকেট এ্যাকাডেমিতে। প্রদীপ বাবুও তাঁর সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে আমায় বোলিং ও ব্যাটিংয়ের নানা দিক গুলি হাতে ধরে শিখিয়েছেন। কিছুদিন আগে সিএবি লিগের খেলায় কাস্টমসের হয়ে মহামেডান স্পোর্টিং এর বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট পাই। তার পরেই শনিবার জানতে পারি আমি বাংলা ক্রিকেট দলের (সিএবি) হয়ে সি কে নায়ডু টুর্নামেন্টে খেলার জন্য বিবেচিত হয়েছি। সেখানে ১ মে পর্যন্ত টুর্নামেন্ট চলবে। সুমন আরো জানিয়েছে, আগামী দিনে রঞ্জী ট্রফি ও ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন তার রয়েছে। সুমনের বামা ও মা জানিয়েছেন, বড় ক্রিকেটার হয়ে তাঁদের ছেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক এটা তাঁরাও চান। ঈশ্বরের কাছেও সেই প্রার্থনাই রাখছেন।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

স্ত্রীর ঘাড়ে বটির কোপ বসিয়ে গা ঢাকা দিল স্বামী, চাঞ্চল্য গুসকরায়

অশান্তি চলাকালীন স্ত্রীর ঘাড়ে ধারালো বটির কোপ বসিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিলেন মদ্যপ স্বামী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গৃহবধূ গায়েত্রী মাজি এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি শনিবার দুপুরে ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেটেপাড়ায়।তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী চাঁদু মাজির খোঁজ শুরু করেছেপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদু মাজি পেশায় জনমজুর।প্রায় ১৫ বছর আগে গায়ত্রীদেবীর সঙ্গে চাঁদুর বিয়ে হয়।দম্পতির দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন,গায়ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর বনিবনা হত না। সম্প্রতি তাঁদের অশান্তি বাড়ে । তার জন্য গায়ত্রীদেবী প্রায় ৭ দিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়ি ফেরেন।বাড়ি ফেরার পর থেকে চাঁদুর সঙ্গে তার স্ত্রীর ফের অশান্তি শুরু হয়। কোথায় এতদিন থাকা হয়েছিল সেই কৈফিয়ত চাঁদু তার স্ত্রীর কাছে চায়। সেইসব নিয়ে শুক্রবার রাত থেকে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি চলছিল। শনিবার বিকেলে চাঁদু মদ্যপবস্থায় বাড়িতে ফেরে। তারপর আচমকা একটি ধারালো বটি দিয়ে গায়ত্রীদেবীর ঘারে কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় গায়ত্রী লুটিয়ে পড়ে আর্ত চিৎকার শুরু করে দেয়। তা শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে চাঁদু পালিয়ে যায়।রক্তাত অবস্থায় প্রতিবেশীরা গায়ত্রীকে উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় এদিনই ওই গৃহবধূকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউণ্ড ও বাংকারে দিন কাটানো, তারপর টানা হাঁটা, বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলো দুই পড়ুয়া

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণে আন্ডারগ্রাউণ্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট সহ্য করেই দিন কাটছিল ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের। সেই কথা জানতে পারার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শেখ আকিব মহম্মদের বাবা মায়ের। অবশেষে অবসান হল উৎকণ্ঠার। রাশিয়ান সেনাদের হামলায় তছনছ হয়ে যাওয়া ইউক্রেনের খারকিভ থেকে শনিবার সকালেই বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে শেখ আকিব। ছেলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে আকিবের বাবা মায়ের। খুশি প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এদিনই আকিবের বাড়িতে পৌছে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পূর্বস্থলীর চুপি কালিতলা এলাকায় বাড়ি শেখ আকিব মহম্মদের। সে ২০১৮ সালে ইউক্রেণের খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। দিন দশেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণের খারকিভে আটকে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া এই বাঙালি যুবক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন আকিব সহ প্রায় পাঁচ শতাধীক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর ঠাঁই হয় সেখানকার আন্ডারগ্রাউন্ডে। আকিব জানিয়েছে,চেহারা মোটাসোটা হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় খাবারদাবার কিনে খাওয়াও সেখানে দুরহ হয়ে পড়ে। সামান্য কিছু শুকনো খাবার খেয়ে আতঙ্ক বুকে নিয়েই আন্ডারগ্রাউণ্ডে তাঁকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ মার্চ সকালে তাঁরা আন্ডারগ্রাউণ্ড থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তাঁরা পোলান্ড বর্ডারে পৌছান। ইন্ডিয়ান এম্বাসি পোলাণ্ড বর্ডার থেকে তাঁদেরকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ৪ মার্চ দিল্লিতে পৌছান। শনিবার সকালে দিল্লী থেকে পূর্বস্থলীর চুপির বাড়িতে ফেরেন। আকিবের বাবা শেখ আমজাদ বলেন, আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরতে পারেনি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ওইসব ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার। আকিমের মতোই এদিন ইউক্রেণ থেকে বর্ধমানের নারান দিঘীর বাড়িতে ফিরেছে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র রোহিত ভগত। বাংকারে কয়েকদিন কাটিয়ে তার পর সাত কিমি পথ হেঁটে পোল্যান্ড বর্ডারে পৌছায় রোহিত। সেখান থেকে ভারতীয় এম্বাসির ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে আসতে পারলেও স্বস্তিতে নেই রোহিত। কোর্সের ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে তাঁর আর তিন মাস বাকি ছিল। এই অবস্থায় শিক্ষাগত ডিগ্রীর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা ভেবেই রোহিতের দুশ্চিন্তা এখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। রোহিত জানিয়েছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ইউক্রেণে যান। বাকি ছিল ফোর্থ ইয়ারের আর তিন মাসের কোর্স। সামনের জুন মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া গোলা বারুদের আঘাত হানা শুরু করেদেয়। তার করণে সমগ্র ইউক্রেণ জুড়ে তৈরি হয়েযায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁদের কয়েক দিন বাংকারের মধ্যে কাটাতে হয়। কোনওক্রমে সেখান থেকে তাঁরা লিভিয়া পৌছান। পরে সাত কিলোমিটার হেঁটে সেখান থেকে পোলান্ড বর্ডারের নতুন চেকপোস্টে হাজির হন। যেটা খুলেছিল ভারতীয় এম্বাসি, সেই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় এম্বাসি থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের ইন্ডিয়ান এম্বাসির ভাড়া করা হোটেলে। সেটিকেও ক্যাম্প বলা যেতে পারে। ওই ক্যাম্পে ছশোর উপর ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ছিল। দেশে ফেরার জন্য সেখান থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয় ইন্ডিয়া এম্বাসি।শেষপর্যন্থ শনিবায় সকালে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে রোহিত জানান। ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি রোহিতের পরিবার। তবে ছেলের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যুর ছায়া বর্ধমানে, তুহিনার মৃত্যু নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিতে কংগ্রেস ও বামেরা

পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে মরতে হবে তিন বোনকে। পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়েই শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকা হয় হুমকি বার্তা দেওয়া এমন এক নজিরবিহীন ছবি। ওই ছবি আঁকানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ, কারও তরফেই পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত ওই ছবি মোছানোর কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি। তাই ওই ছবি এলাকায় দেওয়ালে রয়েই যায়। আর আঁকানো ছবির হুমকি মতোই কাণ্ড ২ মার্চ ঘটে শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকায়। পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সেখানকার তৃণমূল সমর্থক পরিবারের কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের(১৭) ঝুলন্ত দেহ। বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি শাসানি দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত কারার অভিযোগ উঠেছে সদ্য নির্বাচিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আর তুহিনার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এখন আমতার ছাত্র নেতা আনিসকে খুনের ঘটনার মতোই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তুহিনার খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধামান জেলা সভাপতি বিশ্বরুপ হাজরা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই শাসক দলের রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছাত্রী তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার মধেও তুহিনাদের বাড়ির ঠিক আগের একটি দেওয়ালে ছবি আঁকা হয় তিনটি মেয়ের দেহ ঝুলছে। এই ঘটনা অমানবিক ও আদিম হিংস্রতার চরম প্রকাশ বলে এসএফআই মনে করে। পুলিশের নির্দেশ পাওয়ার পরেও ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থী দেওয়াল লিখন মোছেননি। আমতার ছাত্র নেতা আনিস খানের মৃত্যু যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই দু্ঃখজনক। তাই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও এসএফআই বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবে বলে বিশ্বরুপ হাজরা এদিন জানিয়ে দেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে এদিন বিকালে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা বর্ধমান থানার সামনে ধরনায় বসেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনায় সকল দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ হাজরা।এসএফআইয়ের মতোই কংগ্রেস দলের নেতৃত্বও তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি নেপাল মাহাতো এদিন জেলা কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবুরবাগে আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের বাড়িতে যান। তিনি তুহিনার পরিবারের সদস্যদের মুখে দেওয়ালে হুমকি দেওয়া ছবি আঁকা ও ঘটনার দিনের কথা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান। কংগ্রেস নেতাদের কাছে তৃণমূল কাউন্সিলার বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তুহিনার পরিবার। এখনও বসির আহমেদ হুমকি দিচ্ছে বলে তারা কংগ্রেস নেতাদের কাছে অভিযোগে জানান। সব শুনে নেপাল বাবু জানান, ভোটের সময়ে ছবি এঁকে হুমকি দিয়ে এই ধরনের দেওয়াল লেখা চরম থেকে চরমতম অপরাধ। এটা একটা নক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচন চলাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেও এই ছবি মুছতে পারেনি। এর দ্বারাই বোঝা যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটা। পুলিশ গোটা বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বলেও নেপালবাবু অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে নেপাল মাহাতো জানিয়ে দেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন। যদিও বসির আহমেদ এদিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিআইডি দিয়ে ঘটনার তদন্ত হোক। তিনি চান আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক।তিন তরুণী গাছে ঝুলছে এমন ছবি পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়ে যাঁরা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকালো তাদের বিরুদ্ধে কি নির্বাচন কমিশন আইনগত কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক তথা পুর নির্বাচনী আধিকারিক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। তবে এই প্রসঙ্গে ডি এসপি (সদর) অতনু ঘোষাল বলেন, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা মিললে দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না ।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

করোনার ভ্রুকুটি এড়িয়ে আবার মূল স্রোতে ফেরার লক্ষে দৌড় শুরু 'সুকুমার সেন কলেজে'

করোনার করাল দৃষ্টি এড়িয়ে আবার মূল স্রোতে ফেরার লক্ষে দৌড় শুরু হয়ে গেছে। সেই দৌড় আসতে আসতে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আছড়ে পরে গমগম করছে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতিতে। বিদ্যালয়ের কলতান কলোড়িত হচ্ছে কচি কাঁচা দের ঐকতানে। আবার পার্থনা সভায় ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা... সুর ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। সবুজ মাঠের ঘাস যেনো কচি কাঁচাদের পায়ের স্পর্শের-ই অপেক্ষায় ছিলো। দীর্ঘ্য দেড় বছর বন্দীদশা কাটিয়ে বুধবার ২ ফেব্রুয়ারি পুর্ব-বর্ধমান এর আচার্য সুকুমার সেন মহাবিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল গোতান মনসাতলা মাঠে। করোনা অতিমারির প্রোকোপে ২০২১-এর বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত কারা যায়নি। কলেজের ছেলে-মেয়েদের উপস্থিতির হার ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।আচার্য সুকুমার সেন কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ জয়ন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান, হাইজাম্প, লংজাম্প, ডিসকাস, শটপুট, স্বল্প ও মাঝারী দূরত্ত্বের দৌড় প্রতিযোগীতা সহ মোট কুড়িটি ইভেন্ট অনুষ্টিত হয়। সমস্ত ইভেন্ট মিলিয়ে প্রায় দুশো জন ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। কলেজের কর্মী এবং প্রাক্তনীদের জন্যও বিশেষ ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কোভিড বিধি মেনে সকাল সাড়ে নটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলেছে এবারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।বার্ষিক ক্রীড়া উৎসববিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য মোতিয়ার রহমান চৌধুরী এবং সুকুমার ঘোষ মহাশয়। মশাল প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে শুভ সূচনা করা হয়। কলেজের প্রাক্তনী এলাকার জনপ্রিয় যোগা বিশেষজ্ঞ ও জিমন্যাস্ট সাবির আলি মির্জা জনতার কথা জানান, আমি নিজে যেহেতু একজন ক্রিড়াবিদ, সে কারনেই মাঠই আমাদের জীবন, আমি মনে করি ছেলে মেয়েরা যত বেশী মাঠে থাকবে, তত বেশী মানসিক ভাবে স্ট্রং হবে। Sportsman Sprit বলে ইংরাজিতে একটা কথা আছে, আমার কাছে যার অর্থ, পরিস্থিতি বিবেচনা করে জীবনযাত্রা কে এগিয়ে নিয়ে চলা। কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে সমস্ত স্টাফ ও ছাত্র ছাত্রী মিলে এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমরা খুব আনন্দ উপভোগ করেছি।

মার্চ ০৪, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার চার, এফআইআরে নাম কউন্সিলারেরও

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ উঠলো সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকলো বর্ধমান পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ এলাকা। বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার মৃত ছাত্রী তুহিনা খাতুন (১৭) এর দিদি কুহেলি বিবির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করে। মৃতার দিদির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হওয়া এফআইআরে সদ্য জয়ী হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশারও নাম রয়েছে। কাউন্সিলার সহ অভিযুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছে মৃতার পরিবার সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ গোলাম নবি ওরফে গোলাপ, তহমিনা বিবি ওরফে তসমিনা, সোনাহার বিবি ওরফে সোনা বিবি, মানোয়ারা বিবি ওরফে মিনু। ধৃতদের সকলের বাড়ি বাবুরবাগের পশ্চিমপাড়ায়। বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর, হুমকি, শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে গোলাম নবিকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সিজেএম গোলাম নবির ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকি ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৭ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।এদিন ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ বাড়িতে পৌছালে এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার বসির আহমেদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে মৃতদেহ রেখে এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। কাউন্সিলার বসির আহমেদকে তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেও এলাকার বাসিন্দারা এদিন সোচ্চার হন।বিক্ষোভমৃতার দিদি কুহেলি বিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য শেখ বসির আহমেদ টিকিট পান। তার পর থেকেই তিনি অনুগামীরাদের নিয়ে তুহিনা সহ তাঁদের পরিবারের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করে। অত্যাচার দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। কুহেলি জানান, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াের্ডে কাজ করেন। বুধবার ভোটের ফল বের হওয়ার পর বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির সামনে বোমা ফাটানো হয়। ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর বোন তুহিনা খাতুনকে প্রচণ্ড মারধর করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এমনকি তাঁদের পরিবারের অন্য মহিলাদের শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয়। এইসব সহ্য করতে না পেরেই ঘটনার পর বাড়িতে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁর বোন তুহিনা আত্মঘাতী হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কুহেলিদের বাড়ির কাছের একটি দেওয়ালে আঁকা হয় গাছে তিন মহিলার ঝুলন্ত দেহের ছবি। বসির আহমেদ ভোটে জিতলে কুহেলি ও তাঁর দুই বোনের ওই ছবির মতন দশা হবে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। ভোটে জেতার পরই বেলা ৩টে নাগাদ বাদশা সহ কয়েকজন কুহেলিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তুহিনাকে মারধর করা হয়।যদিও বসির আহমেদ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আদৌ ঘটনায় জড়িত নন। মিথ্যাভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিসি তদন্তে আসল তথ্য উঠে আসবে। বসির আহমেদ এমনটা দাবি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার যথেষ্টই বিড়ম্বনায় পড়ে গিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

গ্রাম বাঁচাতে অবৈধ বালি খাদান বন্ধের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের

অন্ধকার নামলেই শুরু হয়ে যায় দামোদরের পাড় লাগোয়া চর থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার। তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার শম্ভুপুর এলাকার দামোদরের পাড়ের বোল্ডার পিচিং। এই ঘটনা দেখে গ্রাম বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনা নিয়ে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ পত্র ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পঠিয়েছেন। পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরেও জমা দিয়েছেন অভিযোগ পত্র। মুখ্যমন্ত্রী কি ব্যবস্থা নেন সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এত কিছুর পরেও যদি নদি পাড়ের বোল্ডার পিচিংয়ের ক্ষতি করে বালি তোলা বন্ধ না হয় তবে তা রুখতেই নিজেরাই আশরে নামবেন। জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম শম্ভুপুর। এই গ্রামেের এক পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। পূর্বে নদি পাড়ের ভাঙনে এলাকার অনেক চাষির জমি নদি গর্ভে চলে যায়। বিপন্ন হতে বসে শম্ভুপুর গ্রামের একটা বড় অংশ।বিপর্যয়ের হাত থেকে শম্ভুপুর গ্রামকে বাঁচাতে দামোদর পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বোল্ডার দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। তার পরথেকে শম্ভুপুর গ্রামের মানুষজন স্বস্তিতেই ছিলেন।কিন্তু সম্প্রতি গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম ফের কেড়ে নিয়েছে অসাধু বালি কারবারী।গ্রামবাসীরা ওই বালিকারবারীদের বিরুদ্ধেই এখন রুখে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামবাসীরা লিখিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এক বালি কারবারী বর্ধমান সদর ২ ব্লকের বড়শুলের গোপালপুর মৌজায় বালি খাদানের লিজ পেয়েছেন। সেই খাদান থেকে বালি লোড হওয়া ট্রাক ও ডাম্পারগুলির গোপালপুর মৌজার ঘাট দিয়েই যাবার কথা। কিন্তু তা না করে ওই বালি কারবারী জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুরে অবৈধ ভাবে নদির বাঁধ কেটে গাড়ি যাতায়াতের ঘাট চালু করেছে। এমনকি সন্ধ্যা নামলেই ওই বালি কারবারীর লোকজন জেসিবি মেশিন নিয়ে গোপালপুর থেকে শম্ভুপুর মৌজা এলাকায় চলে আসছে। এরপর তারাই শম্ভুপুর এলাকার দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং লাগোয়া চর থেকে দেদার বালি তুলে নিয়ে ট্রাকে ও ডাম্পারে লোড করে পাচার করাচ্ছে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, গ্রীন ট্রাইব্যুনালের রায়কে সম্পূর্ণ ভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই শম্ভুপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। একারণে শম্ভুপুর গ্রামে দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বোল্ডার পিচিং ধসে পড়লে শম্ভুপুর গ্রাম ফের দামোদরের গ্রামের মুখে পড়ে বিপন্ন হবে বলে গ্রামবাসীরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন অতিমাত্রায় ওভারলোড বালির লরি ও ডাম্বার এই এলাকা দিয়ে গিয়ে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাবার নবনির্মিত পিচ রাস্তা। এই বিষয়েটি নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা রাজ্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ যে অমূলক নয় তা ব্লক ভূমি দফতরের আধিকারিকদের কথাতেই এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভূমি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর এলাকা দিয়ে বালির গাড়ি নিয়ে যাবার জন্য যে ঘাট করা হয়েছে সেটি অবৈধ ভাবেই করা হয়েছে। সেই কারণে ভূমি দফতর জামালপুর থানায় এফআইআর করেছে।এছাড়াও জামালপুরের জোড়বাঁধ ও সেলিমাবাদ মৌজা এলাকায় অবৈধ খাদান খোলার অভিযোগ পেয়ে ভূমি দফতর তা নিয়েও এফআইআর করেছে। যদিও এই দুই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এফআইআর যাই হোক না কোন, সন্ধ্যায় পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই দুই এলাকার অবৈধ খাদান থেকে নিত্যদিন বালি লুঠ চলেই যাচ্ছে। বালি লুঠ বন্ধের কোন ব্যবস্থাও হয়নি । জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের আনা অভিযোগের বিষয়টি জানার পরেই পুলিশ বুধবার রাতে ওই অবৈধ ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। চারটি বালির লরি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ ওই লরিগুলির চালককে গ্রেফতার করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার পুলিশ চার ধৃতকেই পেশ করে বর্ধমান আদালতে। যদিও আদালতের নির্দেশে ধৃত চার লরিটালকই এদিন জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে কলেজ ছাত্রী আত্মঘাতী, সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযোগের আঙুল

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উতপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মৃতা তুহিনা খাতুন(১৮)-র বাড়ি বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ মসজিদ সংলগ্ন নতুনপল্লীতে। বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। তবে তুহিনার মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদ্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বসির আহমেদকেই (বাদশা) দায়ী করেছেন মৃতার পরিবার।মৃত ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁরা বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি মুক্তার মিঞার অনুগামী। জানা গিয়েছে, মুক্তার মিঞা সদ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বসির আহমেদের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর। সেই কারণে, বুধবার জয়ের পরেই বসির আহমেদ তুহিনার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। তার জেরেই তুহিনা আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসির আহমেদ। তিনি বলেন, কিভাবে এই ঘটনা ঘটল সেই বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সঠিক তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।তিন বোনের ছবি এঁকে হুঁশিয়ারীর অভিযোগজয়হিন্দ বাহিনীর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তার মিঞা বলেন, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বসির আহমেদ ওরফে বাদসা তুহিনাদের বাড়িতে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বাড়ির দেওয়ালে তুহিনা সহ তাঁদের তিন বোনের ছবি এঁকে দিয়েও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে দলবল নিয়ে বাদসা চড়াও হয় তুহিনাদের বাড়িতে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।সেই অপমানে তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। একই অভিযোগ করেন মৃতার দিদি ঝর্ণা বেগম। তিনি বলেন, বাদশা বরাবরই বির্তকে থাকেন। তাঁকে নিয়ে বহুবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কখনও রাজ কলেজের টিচার ইনচার্জকে চড় মারা তো কখনও কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক ঘরে করে রাখার মত ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। শুধুমাত্র শাসকদলের কাউন্সিলর হওয়ায় তিনি এইসব ঘটনা ঘটিয়েও বেঁচে গেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একচেটিয়া জয়ও দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আটকাতে পারেনি।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

অনলাইন ব্যাংক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী

অনলাইন ব্যাংক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই ৫০ হাজার টাকা খোয়ালেন এক ব্যবসায়ী।প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মনিরুল হকের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের শিবপুর গ্রামে।প্রতারণার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ী বুধবার ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশকে মনিরুল জানিয়েছেন,তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।তাঁর একটি অনলাইন পেমেন্ট ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের জন্য মঙ্গলবার তিনি নেট থেকে ওই ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর সংগ্রহ করেন। আর সেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই তিনি প্রতারনার শিকার হন। মনিরুল হক জানান, পেটিম পেমেন্ট ব্যাংকের হেল্পলাইন ফোন নম্বরে ফোন করতেই তার কাছে ওটিপি নম্বর চাওয়া হয়। ওটিপি নম্বর শেয়ার করতেই তাঁর অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০,০০০ টাকা গায়েব হয়ে যায়। টাকা তোলার বিবরণ রাতে তার মোবাইলে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। এরপর পুনরায় তিনি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। তখন তাঁকে জানানো হয় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই টাকা পুনরায় একাউন্টে জমা হবে। সময় পেরিয়ে গেলেও একাউন্ট থেকে খোয়া যাওয়া তাঁর একাউন্টে আর জমা হয় না। মনিরুল হক বলেন, প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চিৎ হয়ে বুধবার আমি ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। ভাতার থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন অভিযোগের তদন্ত শুরে হয়েছে।

মার্চ ০২, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূলের জয়জয়কারের মধ্যেও কাটোয়ায় রবির গড়ে কুপোকাত বীরভূমের কেষ্টর অনুগত প্রার্থী

বিধানসভা ভোটের পর পুর ভোটেও রাজ্য জুড়ে দাপট অব্যাহত রাখলো ঘাসফুল শিবির। যার ব্যতিক্রম ঘটেনি পূর্ব বর্ধমানেও। এই জেলার ছয়টি পুরসভাতেও নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। একমাত্র কালনা পুরসভায় বামেরা অস্তিত্ব জানান দিতে পেরেছে । তবে এতকিছুর মধ্যেও রবির গড় কাটোয়া পুরসভার ভোটে নজরকাড়া পরিজয় ঘটেছে বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডলের অনুগামী তৃণমূল প্রার্থীর।যা নিয়েই এখন সরগরম কাটোয়ার রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের ১০৮ টি পুরসভা ভোটের ফলাফল বুধবার ঘোষনা হতেই রাজ্যজুড়ে বইতে শুরু করে সবুজ আবিরের ঝড়। হোলির আগেই এদিন সবুজ আবিরে মাখামাখি হয়ে অকাল হোলিতে মাতোয়ারা হয় বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া,দাঁইহাট,মেমারি ও গুসকরা পৌরসভা এলকার তৃণমূল কর্মীরা। বর্ধমান পুরসভায় বিরোধীরা খাতাই খুলতে পারেনি। এমনকি ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান পুরসভার যে যে ওয়ার্ডে বিজেপি ভাল ফল করেছিল সেই সব ওয়ার্ড সহ ৩৫ টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা।একই ভাবে গুসকরা পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ড ও দাঁইহাটের ১৪ টি ওয়ার্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য লাভ করেছে তৃণমূল।এই তিন পুরসভায় বিরোধীরা খাতা খুলতে না পারলেও মেমারির ঘাসফুলের খেতে অপ্রত্যাশিত ভাবেই হাত তুলে বসেছে কংগ্রেস ।কিন্তু কোনভাবেই অস্তিত্ব জানান দিতে না পেরে বিনয় কোঙারের গড়ে হারিয়েই গেল কাস্তে হাতুড়ি তারা। মেমারি পৌরসভায় মোট ওয়ার্ড ১৬ টি।এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ১৫ টি ওয়ার্ডে।শুধুমাত্র ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী মিঠু সরকার। ভোট প্রাপ্তির হিসাব অনুয়ায়ী মেমারিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামেরা। কালনা পৌরসভায় ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা।শুধুমাত্র কালনার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম প্রার্থী শর্মিষ্ঠা নাগ সাহা তাঁর প্রতিদ্বন্দি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তনুশ্রী বাগকে ১৮১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। ঘাসফুলের দখলে গিয়েছে কাটোয়া পুরসভা। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টপাধ্যায় ওরফে রবি ববুর গড় হিসাবেই পরিচিত কাটোয়া। এই পুরসভার ২০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীরা। ৪ টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী ও ১ টি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কাটোয়ায় পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে যাঁকে নিয়ে সব থেকে বেশী চর্চা হচ্ছে তিনি হলেন অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও ওরফে কেষ্টর অনুগত অরিন্দম বাবু কাটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। এদিন ফল বের হতেই দেখাযায় তিনি কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ১১০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। পরাজয়ের জন্য নিজের দলের লোকজনকেই দায়ী করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,দলের চক্রান্তের জন্যই হেরেছি। অরিন্দমবাবু অভিযোগে বলেন,তৎকাল তৃণমূল কর্মীরা চক্রান্ত করে আমাকে হারিয়েছে। আমি সমস্ত ঘটনা রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়ে জঘন্য রাজনীতি করেছে। কেষ্ট মণ্ডলের ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা অরিন্দম বন্দ্যেপাধ্যায়ের এইসব অভিযোগ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি । তবে অরিন্দমের বক্তব্য নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতে দেরি করেননি জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন ,যে প্রার্থী তাঁর নিজের দলের জেলা সভাপতিকে হরিদাস পাল,চোরের সর্দার বলে তাচ্ছিল করেন তাঁর এমন পরিণতি কথা আগে থেকেই ভেবে রেখে ছিলেন কটোয়াবাসী। সেই মতই কাটোয়ার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতেয়েছে।আমাকে কোন দল সাহায্য করেনি। কোটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেবি ওয়েট তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয়ের জেরে কাটোয়ার নতুন গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ০২, ২০২২
উৎসব

এবার দেবাদিদেব মহাদেব ও জায়গা করে নিলেন থিম ভাবনার পুজোয়

বিশ্ব জুড়ে সমাদর পেয়েছে পশ্চিম বঙ্গের থিম ভাবনার দেবী দুর্গার পুজো আরাধনা। থিমের পুজো আয়োজনে জায়গা করে নেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকননি দেবী কালী মাতাও। তিনিও অনেকদিন আগেই বাঙালির থিম ভাবনার পুজো আরাধনায় জায়গা করেনে নেন। কিন্তু দেবাদিদেব হয়েও বাবা মহাদেব অর্থাৎ শিব এই ক্ষেত্রে যেন ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছিলেন। তাই মঙ্গলবার শিবরাত্রির দিনে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেবকে থিম ভাবনার পুজোয় স্থান করেদিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের একদল শিব ভক্ত। তাঁরাই এক তরুণ মৃৎশিল্পীর থিম ভাবনা অনুযায়ী তৈরি করিয়েছেন বিশালাকার ও সুন্দর একটি শিব মূর্তি। সেই মূর্তির সঙ্গে মানানসই করেই তৈরি হয়েছে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা। থিম ভাবনায় দেবাদিবের পুজো আরাধনা সন্ধ্যায় চাক্ষুষ করে দর্শনার্থীরাও অভিভূত হন। জামালপুর থানার সন্নিকটে রাধাবল্লববাটি এলাকার রয়েছে গোলাবাড়ি নামে পরিচিত একটি পাড়া। সেখানকার একদল যুবক প্রতিবছর কার্তিক মাসে কালী পুজোর আয়োজন করে থাকে। তাঁরাই এইবছর শিবরাত্রির দিন থিম ভাবনায় প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরি করে দেবাদিদেবের পুজো আয়োজনের ব্যাপারে মনস্থির করে। সেই ভাবনা অনুযায়ী মাস দুই আগে থেকে দেবাদিদেব মহাদেবের থিমের মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করে দেন এলাকার তরুণ মৃৎশিল্পী প্রসেনজিৎ দাস ওরফে অভি। সোমবার তিনি প্রতিমার তৈরির কাজ শেষ করেন। তারই মধ্যে ডেকরেটার শিল্পীরা প্রতিমার সঙ্গে মানানসই করে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজও শেষ করে ফেলেন। এদিন মহা ধূমধাম করে হয় সেই দেবাদিদেবের মূর্তিরই পুজার্চনা।প্রতিমা শিল্পী প্রসেনজিৎ দাস জানান, তিনি তাঁর দুই গুর পিরু দে ও আশিস পালের কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখেন। তার পর গুরুদের হাত ধরেই থিমের আদলে দুর্গা, কালী, সরস্বতী ও লক্ষ্মী মাতার প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। কিন্তু থিম ভাবনার অঙ্গিকে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন নি। তা নিয়ে একটা আক্ষেপ রয়েই গিয়েছিল। তাই গোলাবাড়ি এলাকার শিব ভক্ত যুবকরা এবছর তাঁকে থিম ভাবনার আঙ্গিকে শিবের প্রতিমা তৈরি করে দেবার প্রস্তাব দিতেই তিনি তা লুফে নেন। প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি নিজের হাতে থিম ভাবনার আদলে যে শিব প্রতিমা তৈরি করেছেন তা দেখতে এদিন বহু দর্শনাথী মণ্ডপে ভিড় করেন। দেবাদিদেবকেও থিমের পুজোর স্থান করে দিতে পেরে গর্বিত বোধ করছেন বলে প্রসেনজিৎ দাস এদিন মন্তব্য করেন। পুজো আয়োজকদের পক্ষে পিন্টু রাউত ও দেবাশিষ ভট্টাচর্য্য বলেন, থিম ভাবনায় হওয়া বাংলায় দুর্গা পুজো বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেয়েছে। দেবী কালী মাতার পুজোতেও বহু দিন আগেই থিমের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে। কিন্তু দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো থিম ভাবনায় সাজিয়ে করার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। তাই থিম ভাবনার পুজো আয়োজনে দেবাদিদেবকে স্থান করেদিতে পেরে তাঁরা সবাই গর্বিত বোধ করছেন। দর্শনার্থী রাখি হাজরা বলেন, থিমের পুজো আয়োজনে এবার দেবাদিদেব মহাদেবও জায়গা করে নিলেন। তাই গোলাবাড়ি পাড়ার শিব পুজো সবার নজর কেড়েছে।

মার্চ ০১, ২০২২
রাজ্য

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে নয়ানজুলি বোজানোয় ডিভিসির জলে ডুবলো আলু জমি, অবরোধ ক্ষুব্ধ চাষীদের

জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ কাজের জন্য নয়ানজুলি বুজে থাকায় ভিভিসি (Damodar Valley Corporation) জল ছাড়তেই জলে ডুবলো আলু চাষের জমি। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ক্ষুব্ধ চাষীরা। ঘন্টা খানেকের অবরোধ বিক্ষোভের জেরে এদিন সকালের দিকে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায়। দূর পাল্লার বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন জাতীয় সড়কে যানজটে আটকে পড়ে। খবর পেয়ে শক্তিগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষিদের সঙ্গে কথা বলে । পরে প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন চাষিরা।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে শক্তিগড় এলাকায় জোরকদমে চলছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে চাষের জমিতে সেচের জল যাবার জন্য জাতীয় সড়কের ধারে থাকা নয়ানজুলি বুজিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বোরোধান চাষের জন্য ডিভিসির সেচ খালে জল ছাড়া হয়। নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য সেই জল প্রবাহিত হতে না পেরে বদ্ধ নয়ানজুলি থেকে উপচে গিয়ে সোমবার রাতে অসপাশের ফলন্ত আলু জমিতে ঢুকে পড়ে। তার কারণে শক্তিগড়, আমড়া ও বড়শুল এলাকার বিঘের পর বিঘে আলুর জমি জলে ডুবে যায়। মঙ্গলবার সকালে ফলন্ত আলু জমি জলে ঢুবে থাকতে দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় আলুচাষীদের। ফসলের এই ক্ষতি মেনে নিতে না পেরে ক্ষিপ্ত চাষিরা এর পরেই ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন।ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলামআমড়া এলাকার বাসিন্দা আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে জমিতে আলুচাষ করার পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল বর্ষণে আলুর জমি ডুবে যায়। পচে যায় আলুগাছ। তারপর ফের তারা জমি তৈরি করে আলু চাষ করেন। আর এখন নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য ডিভিসির সেচখালে ছাড়া জল আলুর জমিতে ঢুকে গিয়ে পাকা আলু জমির অপূরণীর ক্ষতির করে দিল। তিনি দাবী করেন আমড়া, শক্তিগড় ও বড়শুল নিয়ে কম করে একশো বিঘে আলু জমিতে জল ঢুকেছে। সমস্ত আলু জমি এরজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হল।এলাকার অপর আলুচাষী বাবুল মণ্ডল বলেন, এখন সবেমাত্র জমি থেকে আলু তোলার মরশুম শুরু হয়েছে। আলু জমি জলে ঢুবে যাওয়ায় এখন চাষীরা চরম সংকটে পড়লেন। এবছর আলুর দামও এমনিতে উর্দ্ধমুখী। বর্তমানে একবস্তা (৫০ কেজি) আলুর দাম ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই অবস্থায় জমিতে জল দাঁড়িয়ে গেলে পাকা আলু পচে যাবে। চাষীরা এবছর এমনিতেই সমস্যায় জেরবার। শীতে বারে বারে অকাল বর্ষণে দুবার করে আলু চাষ করতে হয়েছে। তাতে বাজারে ও মহাজনী ধারদেনা হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করলে চাষীরা মহা সংকটে পড়বে।জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভাবতে হবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। আমরা এই বিষয়ে ওদের সঙ্গে আলোচনা করছি। চাষীদের ক্ষতি মেনে নেওয়া যাবে না।

মার্চ ০১, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • ...
  • 40
  • 41
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

প্রতিদিনের রান্নায় রাখছেন কারিপাতা, ধনেপাতা ও পুদিনা? কোন পাতায় লুকিয়ে বেশি স্বাস্থ্যগুণ?

প্রতিদিনের রান্নায় কারিপাতা, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি এই তিন ভেষজ পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এগুলি যতই পুষ্টিকর হোক না কেন, অতিরিক্ত খাওয়া সবার জন্য উপযুক্ত নয়। তাই গুণাগুণের পাশাপাশি সতর্কতার বিষয়টিও জানা জরুরি।কারিপাতার উপকারিতাকারিপাতা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে ডায়াবেটিসে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে, এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। চুল ও ত্বকের জন্যও কারিপাতা উপকারী পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়া এতে লৌহ, ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিনের উপস্থিতি রয়েছে।শিশু থেকে বয়স্ক, সাধারণ পরিমাণে রান্নার সঙ্গে কারিপাতা খেতে পারেন। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারাও অল্প পরিমাণে উপকার পেতে পারেন।তবে অতিরিক্ত কাঁচা কারিপাতা খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। আবার কোনো নির্দিষ্ট রোগের ওষুধ চললে বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।ধনেপাতার উপকারিতাধনেপাতা ভিটামিন A, C ও K-এর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও ভালো উৎস। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়ক কিছু উপাদানও এতে থাকতে পারে।পরিষ্কার করে ধুয়ে শিশু, তরুণ ও বয়স্কসবাই পরিমাণমতো ধনেপাতা খেতে পারেন। সালাদ, চাটনি, ডাল কিংবা বিভিন্ন তরকারিতে এটি ব্যবহার করা যায়।তবে কারও কারও ধনেপাতায় অ্যালার্জি হতে পারে। এছাড়া বাজার থেকে কেনা ধনেপাতা ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করা জরুরি, বিশেষ করে বর্ষাকালে।পুদিনাপাতার উপকারিতাপুদিনাপাতা হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিতে কিছু মানুষের আরাম দিতে পারে। এটি মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক। গরমের দিনে পুদিনার শরবত শরীরকে সতেজ রাখে।সাধারণভাবে শিশু ও বড়রা অল্প পরিমাণে পুদিনাপাতা খেতে পারেন। চাটনি, শরবত, রায়তা কিংবা রান্নায় এটি ব্যবহার করা যায়।তবে যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি, তারা অতিরিক্ত পুদিনা খেলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। ছোট শিশুদের খুব বেশি কাঁচা পুদিনা না দেওয়াই ভালো।ঋতুভেদে কী সতর্কতা?বর্ষাকালে ভেষজ পাতাগুলি মাটির কাছাকাছি জন্মায় বলে জীবাণু বা ময়লা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই কয়েকবার ভালোভাবে ধুয়ে তবেই ব্যবহার করা উচিত।গরমকালে পুদিনা ও ধনেপাতা সতেজ খাবার হিসেবে জনপ্রিয় হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।শীতকালে এই পাতাগুলি সহজেই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?যাদের কোনো ভেষজ পাতায় অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাদের দীর্ঘদিনের পেটের বিশেষ সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। এছাড়া ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই ভালো।সব মিলিয়ে, কারিপাতা, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা, তিনটিই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে এগুলি কোনো রোগের ওষুধ নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত জীবনযাপনের সঙ্গে এই ভেষজ পাতাগুলি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
বিদেশ

মোদির ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক! শেষমেশ মাথা নত, ক্ষমা চাইতেই হল জুকারবার্গকে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে কেন্দ্রের কড়া অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইলেন মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ। সূত্রের দাবি, শুধু ভিডিও সরানোর ঘটনাই নয়, সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার বিষয়েও সংস্থা নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে।গত তেইশে জুলাই তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিছু সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রথমে মেটা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেও কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি।সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটিও এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু ক্ষমা চাইলেই চলবে না, ঘটনার পূর্ণ দায় মেটাকেই নিতে হবে। পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের কথাও বলা হয়। এরপরই মেটার প্রতিনিধিদের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকে তলব করা হয়।সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের নিয়ে আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়িয়ে পড়া, অবৈধ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ভিডিও সরানোর কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মেটার প্রতিনিধিরা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানালেও কেন্দ্র আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।এদিকে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলির আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করার বিষয়েও ভাবা হবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্ক জুকারবার্গ ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে আপাতত বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হলেও মেটার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।ভারতে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। তাই এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক এবং প্রযুক্তি মহলের।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
কলকাতা

বদলে যাচ্ছে ‘বাংলার বাড়ি’র নাম! আগামীকালই বড় ঘোষণা, লক্ষ লক্ষ পরিবারে ঢুকবে টাকা

রাজ্যের আবাসন প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের পথে সরকার। এতদিন যে প্রকল্প বাংলার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল, সেটির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন নামের এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবেন।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় দশ লক্ষ পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানো হবে। এই প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এবার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা উপভোক্তারা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন।সরকার জানিয়েছে, যাঁরা প্রথম কিস্তির অর্থ ব্যবহার করে বাড়ির লিন্টন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই এই পর্যায়ে দ্বিতীয় কিস্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সমস্ত নথি ও নির্মাণের অগ্রগতি যাচাই করার পরেই টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, যাঁরা এখনও বাড়ির নির্মাণ নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে না। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নতুন করে সমীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।সরকারি সূত্রের দাবি, উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাচাই প্রক্রিয়ায়। প্রকৃত যোগ্যদের কাছেই সরকারি অনুদান পৌঁছে দিতে একাধিক স্তরে নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সম্পূর্ণ যাচাইয়ের পরেই অর্থ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে বহু পরিবারের বাড়ি তৈরির কাজ ফের গতি পাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন নামে আবাস প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্যের আবাসন কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
দেশ

ডিসেম্বরে ফিরবই! আবেগঘন বার্তায় বড় ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

দেশ ছাড়ার দুই বছর পর প্রথমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে অডিয়ো বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিক কোন দিনে ফিরবেন, তা পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা।অডিয়ো বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নাড়ির টান। গত দুই বছরে দেশের পরিস্থিতি দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর দাবি, যে আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি শুধুমাত্র ছাত্র আন্দোলন ছিল না। পরিকল্পিতভাবে সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।সরকার পতনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেছে এবং সেই পদক্ষেপকে অপরাধ বলা যায় না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারের সময়ে শুরু হওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরবর্তী সরকার বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনার দাবি, আন্দোলনের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, সাংবাদিক এবং মুক্তিযোদ্ধারাও নানা ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আবেদন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলেও যেতে হলে তিনি প্রস্তুত। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, দেশের মানুষের কাছেই ফিরতে চান তিনি।ভারতে থাকার প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার তাঁকে যথেষ্ট সম্মান ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে। ভারতকে বন্ধু দেশ বলেই উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর কথায়, শেষ পর্যন্ত নিজের দেশেই ফিরতে চান তিনি এবং সেই লক্ষ্যেই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
কলকাতা

আমতলার অফিস কি আপাতত নিরাপদ? অভিষেকের মামলায় হাই কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

আমতলায় দলীয় কার্যালয় ভাঙার মামলায় ফের স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্ট আমতলার ওই কার্যালয় ভাঙার উপর দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী একুশে আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, আগামী আঠারোই আগস্ট দুপুর দুটোর সময় মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।বৈধ নির্মাণ পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া কার্যালয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রশাসন ভাঙার কাজ শুরু করেছিল। ঘটনাস্থলে বুলডোজার নামিয়ে কার্যালয়ের একাংশও ভেঙে ফেলা হয়। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা। জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হলে আদালত প্রথমে ভাঙার কাজের উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়। সেই নির্দেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বুধবার আদালত তা বাড়িয়ে একুশে আগস্ট পর্যন্ত বহাল রাখল।এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে আগেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, যে জমিতে কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে, তা একটি বেসরকারি সংস্থার নামে কেনা। সেই সংস্থার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের নাম জড়িয়ে রয়েছে বলেও প্রশাসনের দাবি। পরপর নোটিসের জবাব না মেলায় প্রশাসন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা।আদালতে শুনানির সময় রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, যে অংশ ভাঙা হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সম্পত্তি নয়। দাগ নম্বরের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাঙা অংশ অন্য জমির অন্তর্গত। তাই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়।অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আইনজীবীর দাবি, যথাযথ নোটিস না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে। অভিযোগে কী বলা হয়েছে, কোন নথির ভিত্তিতে নির্মাণকে বেআইনি বলা হয়েছে, সেই তথ্যও দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে আদালতে দাবি করা হয়।দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলকাতা হাই কোর্ট আপাতত একুশে আগস্ট পর্যন্ত ভাঙার কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন সকলের নজর আগামী আঠারোই আগস্টের শুনানির দিকে। ওই দিন আদালতের পর্যবেক্ষণের উপরই নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী পথ।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
বিদেশ

সত্যিই কি এত ভয়? বিদেশি সংবাদমাধ্যমের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা, বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চলা আন্দোলন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং দমন-পীড়নের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল পাকিস্তান সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও বিদেশি সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক খবর সংগ্রহ করতে পারবেন না।পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম, ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে আগে সরকারি নিবন্ধন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরেই তারা নির্দিষ্ট এলাকায় রিপোর্ট করার সুযোগ পাবেন।সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি সাংবাদিক কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন এবং কী ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করছেন, তার উপরও নজর রাখা হবে। বিশেষ কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য আলাদা অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট এবং একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে।এর মধ্যেই পাক সরকার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলে তাদের কার্যত নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের দাবি, ওই সংবাদমাধ্যম ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে এবং কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে তুলে ধরেছে।তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ইসলামাবাদ অস্বস্তিতে পড়েছে। সেই কারণেই বিদেশি সংবাদমাধ্যমের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে ঘোষণা! এই তারিখ থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণার তিন হাজার টাকা, কারা পাবেন জানাল সরকার

অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। চলতি আগস্ট মাসের তিন হাজার টাকার কিস্তি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করিয়ে এই মাসের মধ্যেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পনেরো আগস্টের পর থেকেই ধাপে ধাপে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করার সময় বহু ক্ষেত্রে ভুল তথ্য জমা পড়েছে। কোথাও ভুল নথি, কোথাও আবার ব্যাঙ্কের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তাই প্রত্যেকটি আবেদন বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে বিডিও স্তরে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁরাই টাকা পাবেন। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে বা যোগ্য না হয়েও আবেদন করলে কোনওভাবেই টাকা দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো অথবা যাঁরা করদাতা পরিবারের সদস্য, তাঁদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।সরকারের দাবি, অনেক আবেদনকারী নিজেরা আবেদন না করে অন্যের মাধ্যমে আবেদন করায় তথ্যগত ভুল হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের তথ্য সঠিকভাবে যুক্ত না থাকায় সমস্যাও তৈরি হয়েছে। সেই সব আবেদনও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও যোগ্য মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সমীক্ষা করা হচ্ছে। সব তথ্য যাচাইয়ের পরই ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পাঠানো হবে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলপড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে রক্ত সংগ্রহ! অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

দুর্গাপুরে নাবালক স্কুলপড়ুয়াদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অভিযোগ, দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের তিন নাবালক পড়ুয়াকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয়ে তাঁদের রক্তদান করানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, সরকারি নথিতে তাঁদের প্রকৃত বয়স পরিবর্তন করে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল।এই ঘটনার নেপথ্যে ওই স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সে দুর্গাপুরের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।ঘটনা জানাজানি হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করে। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্কুলের অধ্যক্ষা দেবযানী বোস জানান, বিষয়টি জানার পরই পুলিশকে সব তথ্য জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।অভিভাবকদের অভিযোগ, টাকার লোভ দেখিয়ে নাবালকদের রক্ত নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন। পুলিশকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা নাবালকদের প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই রাজ্যের রক্তভান্ডারগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই প্লাজমা অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে এবং কোথাও কোথাও নাবালকদের কাছ থেকেও রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ মিলেছে। এমনকি নির্ধারিত মাত্রার চেয়েও বেশি রক্ত নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগস্ট ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal