• ৭ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

BJP

রাজ্য

তিলক বিতর্কে চরম নাটক! শোরুমে ঢুকে কর্মীদের কপালে তিলক এঁকে দিলেন বিজেপি নেত্রী

চশমার জনপ্রিয় সংস্থা লেন্সকার্টকে ঘিরে তিলক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক নতুন দিকে মোড় নিল। সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কর্মীরা তাঁদের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে পারবেন। কিন্তু সেই ঘোষণার মধ্যেই মুম্বইয়ে এক শোরুমে ঘটে গেল নতুন ঘটনা।জানা গিয়েছে, বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সদস্য নাজিয়া ইলাহি কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শোরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি কর্মীদের কপালে তিলক পরিয়ে দেন এবং জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলেন। একই সঙ্গে সংস্থার আগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শোরুমের ফ্লোর ম্যানেজারের কাছে তিনি জানতে চান, কেন তিলক পরায় আপত্তি করা হয়েছিল।শোরুমের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নাজিয়া ইলাহি বলেন, সংস্থা ক্ষমা না চাইলে বয়কট করা হবে। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়।এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেন, সংস্থার কর্মীদের জন্য এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেখানে হিজাব পরা যাবে, কিন্তু তিলক বা টিপ পরা যাবে না। সেই দাবি সামনে আসতেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।পরবর্তীতে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, কর্মীরা স্টোরে কাজ করার সময় তিলক, টিপ, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র, হিজাব বা পাগড়িসব ধরনের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন। এই ঘোষণার পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি, বরং নতুন করে তা আরও তীব্র হয়েছে।

এপ্রিল ২১, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে চাঞ্চল্য, প্রাণনাশের হুমকি বিজেপি প্রার্থীকে

ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি, তার আগেই বসিরহাট দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রচারে বেরোনোর সময় তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনি বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেও বিষয়টি জানিয়েছেন।বুধবার অন্যান্য দিনের মতোই প্রচারে বেরিয়েছিলেন শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় প্রচার শেষে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর কাছে একটি ফোন আসে বলে অভিযোগ। ফোনে এক ব্যক্তি নিজেকে দীপ্তেশ দে বলে পরিচয় দেয়। এরপরই ওই ব্যক্তি অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন এবং শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। এরপরই তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় এবং অবস্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র, যিনি বাদল নামে পরিচিত, এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও প্রার্থীকে হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ঘটনা বসিরহাটে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬
রাজ্য

এক মঞ্চে দুই দলকে নিশানা! তৃণমূলই বিজেপির রাস্তা খুলছে—রাহুলের তীব্র আক্রমণ

রায়গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে এসে কড়া ভাষায় বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসদুই দলকেই আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তাহলে তৃণমূলও কোনও অংশে কম নয়। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে আরজি কর কাণ্ডএকাধিক ইস্যু তুলে ধরে তিনি তৃণমূলকে নিশানা করেন।রায়গঞ্জ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্তর সমর্থনে সভা করতে এসে রাহুল বলেন, তৃণমূলই আসলে বাংলায় বিজেপির প্রবেশের পথ তৈরি করে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল যদি সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে বিজেপি এই রাজ্যে শক্তি বাড়াতে পারত না।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন। রাহুলের দাবি, মোদী তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসও বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছে না। তাঁর অভিযোগ, মোদী যেমন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তেমনই তৃণমূলও নানা দুর্নীতিতে জড়িত। সারদা চিটফান্ডের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা কেলেঙ্কারি-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, রাজ্যে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পাঁচ লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় চুরাশি লক্ষ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।রাহুল আরও বলেন, এক সময় বাংলা শিল্পের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সিপিএমের পর তৃণমূল ক্ষমতায় এসে শিল্প পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন তাঁর বক্তব্যে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল যা খুশি তাই করছে এবং বিরোধীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। কংগ্রেস কর্মী তপন কুণ্ডুকে খুন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।শেষে রাহুল বলেন, কংগ্রেস হিংসার বিরুদ্ধে এবং সত্য ও অহিংসার পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

এপ্রিল ১৪, ২০২৬
রাজ্য

পনেরো লক্ষ কোথায়? বারাসত থেকে বিস্ফোরক প্রশ্ন মমতার

বাংলায় নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পরেই শুরু হল তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ঘোষণার জবাবে বারাসতের সভা থেকে সরাসরি আক্রমণে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোনওটাই বাস্তবে পূরণ হয়নি। তাঁর কথায়, আগে বলা হয়েছিল সবার অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে, কিন্তু কেউই সেই টাকা পাননি। এবারও একইভাবে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের সময়েই শুধু বিজেপি নেতারা আসেন, প্রতিশ্রুতি দেন এবং ভোট শেষ হলেই চলে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্যে শাসক দলের সরকার থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে না, অথচ বাংলায় এসে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে।ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিও এদিন জোরালোভাবে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় নব্বই লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, যার মধ্যে প্রায় ষাট লক্ষ হিন্দু এবং ত্রিশ লক্ষ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি অসমের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবার বাংলাতেও সেই একই প্রচেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না এবং মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।এদিন ইভিএম নিয়ে কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, হলদিয়ায় মাছ উৎপাদন নিয়ে করা মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন তিনি। ব্রিগেডে এক হকারকে মারধরের ঘটনাও তুলে ধরেন নিজের বক্তব্যে। তাঁর কথায়, অন্যায় হলে তার জবাব আইন মেনেই দেওয়া হবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছোটরা ভুল করলে যেমন বকাঝকা করা হয়, তেমনই যারা বড় হয়েও অন্যায় করে, তাদেরও মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে জবাব দেবে। নাম না করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, জোর করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তারও জবাব মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে।

এপ্রিল ১০, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় বদলের ঝড় বইছে! অমিত শাহর বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য

ভোটের মুখে বাংলায় জোরদার প্রচারে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। একের পর এক সভা ও প্রচারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সম্প্রতি দলের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পর থেকেই প্রচারে আরও গতি এসেছে। সেই ইস্তাহারে পনেরোটি বড় সংকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ডেবরার সভা থেকেও অমিত শাহ তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক দিয়েছেন। বাংলায় পরিবর্তন আনা এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ দাবি করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে বিপুল মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে, তা শুধুই জনসমাগম নয়, বরং বড় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাঁর মতে, ভোটের শুরুতেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। আগের নির্বাচনে যেসব জেলায় দল তেমন ভালো ফল করতে পারেনি, সেখানেও এবার অভূতপূর্ব জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও, অমিত শাহ পাল্টা বলেন, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর উপর আস্থা রেখেছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ভয়ে আতঙ্কে থাকত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এখন তৃণমূলের কর্মীরাই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে ভয় পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে সরাসরি বর্তমান নির্বাচনের যোগ খোঁজা ঠিক নয়।সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বাংলায় বিজেপির বাড়তে থাকা শক্তির প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার উনিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার প্রায় একচল্লিশ শতাংশে পৌঁছয় এবং দল আঠারোটি আসন পায়। দুই হাজার চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই হার কিছুটা কমে প্রায় ঊনচল্লিশ শতাংশ হয় এবং দল বারোটি আসন পায়। দুই হাজার ষোলো সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপি মাত্র দশ শতাংশ ভোট ও তিনটি আসন পেয়েছিল, সেখানে দুই হাজার একুশ সালের নির্বাচনে তাদের ভোটের হার বেড়ে প্রায় আটত্রিশ শতাংশ হয় এবং আসনের সংখ্যা বেড়ে সাতাত্তরে পৌঁছয়।

এপ্রিল ১১, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় ক্ষমতায় এলে মাসে তিন হাজার! বিজেপির ইস্তাহারে বড় চমক

নির্বাচনের আগে বড় চমক! বাংলার জন্য নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, প্রায় দশ হাজার বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকল্পপত্র তৈরি করা হয়েছে এবং এটি বাংলাকে নতুন দিশা দেখাবে। তাঁর কথায়, এই পরিকল্পনা মহিলাদের থেকে শুরু করে কৃষক, যুব সমাজসব স্তরের মানুষের উন্নয়নের পথ দেখাবে এবং একটি বিকশিত ভারতের রূপরেখা তুলে ধরবে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন থেকেই নতুন বাংলা গঠনের কাজ শুরু হবে।এই ইস্তাহারে মোট পনেরোটি বড় প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহিলা, যুবক, কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে। বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে আনা হয়েছে অন্নপূর্ণা প্রকল্প। এই প্রকল্প অনুযায়ী, বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলার মহিলারা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেই টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।শুধু মহিলারাই নন, বেকার যুবকদের জন্যও মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে গঠন করা হবে বিশেষ মহিলা পুলিশ বাহিনী, যার নাম রাখা হয়েছে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য তেত্রিশ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এককালীন একুশ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া মকুব করার পরিকল্পনাও রয়েছে।সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং ডিএ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি সংস্কৃতি বন্ধ করার দাবি করা হয়েছে। গত পনেরো বছরে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।কৃষকদের জন্য ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সহায়তা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যকে একটি বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মাছ রপ্তানিতে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। চা ও পাট শিল্পের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে দার্জিলিং চায়ের বিশ্বমানের ব্র্যান্ডিংয়ের কথা বলা হয়েছে।অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার লক্ষ্যে আইন আনার কথা বলা হয়েছে এবং গবাদিপশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা চালু করার কথা বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে নতুন এইমস, আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে।এছাড়া কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা তৈরি এবং ধর্মাচরণে স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন আইন আনার কথাও বলা হয়েছে।

এপ্রিল ১০, ২০২৬
কলকাতা

মমতা-অভিষেকের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনে বিজেপির অভিযোগ

ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকায় এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। তাঁদের প্রচারের বক্তব্য সেন্সর করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপিকে কঠোরভাবে পরাজিত করা হবে। এরপর তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির প্রসঙ্গ তুলে আরও কড়া মন্তব্য করেন। বিজেপির দাবি, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে এবং হিংসাকে উসকে দিচ্ছে।বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, শুধু অভিষেক নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। এর আগেও মমতার বক্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল।গত ২৫ তারিখ ময়নাগুড়িতে এক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁর প্রার্থীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, কোনও হিংসাত্মক পথে না যেতে। এই মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি।যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এবার মমতা ও অভিষেকদুজনের বিরুদ্ধেই একসঙ্গে সেন্সরের দাবি জানিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বিজেপি।

এপ্রিল ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় তৃণমূল-বিজেপিকে একসঙ্গে নিশানা কংগ্রেসের! ‘একই মুদ্রার দুই পিঠ’ মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

বাংলার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে একসঙ্গে আক্রমণ করল কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া সুর শোনা গেল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে।দলীয় ইস্তেহার প্রকাশ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, বাংলায় তারা নতুন বিকল্প দিতে চায়। তাঁর কথায়, কংগ্রেস শুধু অর্থ বিলির প্রতিশ্রুতি দেয় না, বরং রাজ্যের পুনর্গঠন ও সংস্কারের কথা বলে। দীর্ঘদিন পর রাজ্যে একা লড়াই করছে কংগ্রেস, তাই এই নির্বাচনকে নতুন সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে দল।খাড়গে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে এত বছরেও রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে বিজেপি এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা না বলে শুধুই বিভাজনের রাজনীতি করে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।রাজ্যের বেকারত্ব প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে শিল্পের জন্য কলকাতার নাম শোনা যেত, এখন এখানকার যুবকদের অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে কাজের খোঁজে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।দুর্নীতির বিষয়েও সরব হন খাড়গে। তিনি বলেন, রাজ্যে একাধিক দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে, এমনকি এক মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলায় আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা জরুরি।এদিন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ। তাই নতুন পথ দেখাতে কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। যদিও ইন্ডিয়া জোট নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, জাতীয় স্তরে জোট থাকলেও রাজ্যভেদে লড়াইয়ের কৌশল আলাদা হতে পারে।সব মিলিয়ে বাংলার নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের এই অবস্থান নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
দেশ

প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদীর বিস্ফোরক ভাষণ! কংগ্রেসকে নিশানা, বাংলার হিংসা নিয়ে বড় মন্তব্য

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দলের কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, বিজেপি সবসময় দেশের সেবাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সেই আদর্শেই এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। তিনি দাবি করেন, এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে একমাত্র বিজেপিই।প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, তারা শুধুমাত্র একটি পরিবারকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং অন্যদের প্রতি অবিচার করেছে। অন্যদিকে বিজেপি সকলকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সম্মানে পরাক্রম দিবস পালন করা হচ্ছে, আন্দামানে তাঁর নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে আজাদ হিন্দ বাহিনীকে সম্মান জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। নকশাল ও মাওবাদ দমনে সাফল্য এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার লক্ষ্যেই দেশকে একসূত্রে বাঁধার কাজ চলছে। নতুন শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষায় শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে দারিদ্রতা থেকে তুলে আনার ক্ষেত্রে সরকার সফল হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, যা একসময় অসম্ভব বলে মনে করা হত, তা বিজেপির দৃঢ় সংকল্পে সম্ভব হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে দেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রই প্রাধান্য পেয়েছিল, কিন্তু বিজেপি স্থিতিশীল নীতি ও শাসনের উদাহরণ তৈরি করেছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে যে বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা পূরণ করে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংগঠন এবং রাজনীতিতে মহিলাদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের একতা ও উন্নয়নই বিজেপির মূল পরিচয়। জোট রাজনীতিতেও বিজেপি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বহু সরকারে অংশ নিয়েও বিজেপি সবসময় জনসেবাকে প্রাধান্য দিয়েছে, যার ফলে মানুষের বিশ্বাস বেড়েছে।১৯৮৪ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় কংগ্রেস বিপুল জয় পেলেও মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। তখনই ক্ষমতার রাজনীতির পরিবর্তে সেবার রাজনীতির উপর মানুষের বিশ্বাস তৈরি হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় বহু কর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে হিংসাকে রাজনীতির অংশ করা হয়েছে। তবুও বিজেপি কর্মীরা ভয় পায়নি এবং আজও দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। কঠিন সময়েও কর্মীরা জেলে যেতে ভয় পাননি এবং নিজেদের আদর্শে অটল থেকেছেন। জরুরি অবস্থার সময় দমন-পীড়ন ও নানা ষড়যন্ত্রের মুখেও তারা পিছিয়ে যায়নি। তাদের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফলেই আজ বিজেপি এই জায়গায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
রাজ্য

অমিত শাহকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, কল্যাণের বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ

ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে চলেছে বিজেপি। তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করছে।বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে উস্কানিমূলক এবং হিংসাত্মক। এই ধরনের মন্তব্য যাতে আর না করা হয়, সেই জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। পাশাপাশি, তাঁর সেই বক্তব্যের ভিডিওও সরানোর দাবি জানিয়েছে বিজেপি।সম্প্রতি এক প্রচারসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ৪ মে আপনাকে সবুজ আবির মাখাব। ১৫ দিন কেন, ১৫ মাস থাকুন। আপনার দাদাগিরি শেষ করে দেব। এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বিজেপি এই মন্তব্যকে কুরুচিকর বলে দাবি করেছে। রবিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে তারা। সেই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিডিওর উল্লেখও করা হয়েছে।বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, একজন সাংসদের মুখে এই ধরনের ভাষা শোভা পায় না এবং এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
কলকাতা

সিইও দফতরের সামনে রণক্ষেত্র! ঘেরাও, সংঘর্ষ, মারামারি—একাধিক মামলা, আটক বহু জন

সিইও দফতরের সামনে ঘেরাও, সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হেয়ার স্ট্রিট থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। জানা গিয়েছে, দুটি মামলাই পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।গত বুধবার দুপুরে বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ফর্ম ছয় জমা দেওয়া নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তি চলে। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়েন তৃণমূল কর্মীরাও।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দিনভর উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে আরও একটি মামলায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর, এক শিক্ষক নেতা-সহ মোট ছজনের নাম রয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সচিন সিংহ এবং শান্তি রঞ্জন কুণ্ডু। এছাড়াও বিএলও মঞ্চের মইদুল ইসলাম-সহ অন্যদের নামও রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই মামলার ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত আঠারো জনকে আগাম গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বারো জনকে নোটিস পাঠিয়ে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের রোড শো ঘিরে উত্তেজনার ঘটনাতেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি আলিপুর থানায় এবং একটি কালীঘাট থানায় নথিভুক্ত হয়েছে।

এপ্রিল ০৪, ২০২৬
রাজ্য

কালিয়াচক কাণ্ডে নতুন বিস্ফোরণ! প্রাক্তন মন্ত্রীর দিকে আঙুল বিজেপির

বুধবার রাত থেকেই কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সাত জন বিচারককে দীর্ঘ সময় ধরে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্বাচন কমিশনও এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল।এই ঘটনার দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই রাজ্যের এক বিদায়ী মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে বড় অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তারা দাবি করেছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর যোগ থাকতে পারে।বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করেছেন দলের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই পুরো ঘটনার পিছনে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা নিয়েছেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন।এরপর বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, কয়েক জন সমর্থককে নিয়ে বসে রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। মালব্যর দাবি, কালিয়াচকের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁকে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পোস্ট মুছে ফেললেও লাভ হবে না, কারণ সব তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি এই ভিডিয়োর মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন।তবে এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে সব সময় ভয় পান, বিশেষ করে ভোটের সময়। তাঁর কথায়, এই ভয় তিনি উপভোগ করেন।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবার তাঁর কেন্দ্র বদল হয়েছে। আগে তিনি মোথাবাড়ির বিধায়ক ছিলেন, তবে এবারের নির্বাচনে তাঁকে সুজাপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি এলাকায় প্রচারে নেমেছেন।

এপ্রিল ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“কালিয়াচকের ঘটনা বিজেপির গেম প্ল্যান!” জনসভা থেকে কড়া আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

মালদহের কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরদিঘির জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং এর পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে যা মন্তব্য করেছে তা সঠিক। একই সঙ্গে তিনি মানুষের কাছে আবেদন জানান, কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালাতে হবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে এবং মালদহের ঘটনার বিষয়ে তাঁকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে, রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে এবং বিচারকদের ঘিরে রাখা হয়েছে।তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে নির্বাচন বাতিল করে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া যায়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষকে শান্ত থাকতে হবে এবং কোনও উসকানিতে পা দেওয়া চলবে না। তিনি সকলকে বাংলার শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দেওয়া যাবে নাএই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কালিয়াচকের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
কলকাতা

সিইও দফতরে তাণ্ডব! ফর্ম ৬ ঘিরে মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি, হাতাহাতি চরমে

ভোটের মুখে ফর্ম ৬ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল সিইও দফতর চত্বরে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশান্তিতে উসকানির অভিযোগ জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অভিযোগ, ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার মাধ্যমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই বিক্ষোভে নামেন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। ঘটনাস্থলে জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে তা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে পৌঁছয়।পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতর ছেড়ে বেরোনোর পর কয়েকজন যুবক ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ জমা দেন। এই ঘটনাকে ঘিরেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।এর আগে সোমবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকায় কারচুপি হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাইরের রাজ্যের ভোটারদের নাম বাংলার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।মঙ্গলবারও সেই অভিযোগ সামনে এনে সোশাল মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে তৃণমূল। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রথমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তারপর অন্যদের নাম তোলা হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট একটি দলের হয়ে ভোট দেবে।এই ঘটনার পর ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ৩১, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূল থেকে বিজেপি! হঠাৎ শিবির বদল লিয়েন্ডার পেজের, ভোটের মুখে বড় চমক

ভোটের আগে বড় চমক দিলেন ভারতের প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেন। এর আগে ২০২১ সালে গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁকে দলের মুখ হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছিল। তবে পরে তাঁকে সক্রিয়ভাবে খুব বেশি দেখা যায়নি রাজনীতির ময়দানে।দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে একটি সাংবাদিক বৈঠকে লিয়েন্ডার পেজকে দলে স্বাগত জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কয়েকদিন আগেই কলকাতায় বিজেপি নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল।তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। গোয়ায় তিনি মূলত প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁকে তারকা প্রচারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। এবার বিজেপিও তাঁকে প্রার্থী করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।বিজেপিতে যোগ দিয়ে লিয়েন্ডার বলেন, তিনি বাংলার সন্তান এবং ছোটবেলা থেকেই এখানেই তাঁর খেলার শুরু। তিনি জানান, একসময় বাংলায় খেলাধুলার পরিকাঠামো খুব কম ছিল, যদিও এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দিনে যুবসমাজকে খেলাধুলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।বিজেপি নেতা অনীল বালুনি দাবি করেন, লিয়েন্ডার পেজ মহান কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর। ফুল ও দলীয় প্রতীক দিয়ে তাঁকে দলে স্বাগত জানানো হয়।এখন দেখার বিষয়, এই টেনিস তারকা রাজনীতির ময়দানে কতটা সফল হন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হয় কি না।

মার্চ ৩১, ২০২৬
রাজ্য

‘বিজেমূল’ বিতর্কে নতুন মোড়, মমতাকে কড়া আক্রমণ আরাবুল ইসলামের

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম মুখ খুলে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এবং বিজেপি একসঙ্গে কাজ করছে এবং মুসলমানদের জন্য কোনও বাস্তব কাজ করা হয়নি।আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, মুসলিম সমাজকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বের মুসলিম ভোটারদের বড় অংশ তৃণমূলকে সমর্থন করবে না। তিনি বলেন, এলাকায় যে সন্ত্রাস হয়েছে, তার জেরে মানুষ ক্ষুব্ধ এবং তার ফল ভোটে দেখা যাবে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়াকফ সম্পত্তি বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রাজ্য সরকার সঠিকভাবে কাজ করেনি। তাঁর দাবি, এই সব বিষয়ে তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে মিলেই কাজ করছে।আরাবুল বলেন, সাধারণ মানুষ এখন সব বুঝতে পারছেন এবং সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাদের আস্থা কমছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং এই বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।শিক্ষা ও চাকরির বিষয়েও তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, রাজ্যে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফল করলেও চাকরির ক্ষেত্রে তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সাধারণ মানুষের জন্য নয়।এই মন্তব্যের পর ক্যানিং পূর্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্চ ২৮, ২০২৬
কলকাতা

আর জি কর কাণ্ডে নতুন মোড়! বিজেপির প্রার্থী অভয়ার মা, উত্তাল সোশ্যাল মাধ্যম

জল্পনাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হল অভয়ার মা রত্না দেবনাথের নাম। বুধবার সন্ধ্যায় দলের তৃতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। মোট ১৯ জনের এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি চমক দেখা যায় পানিহাটি কেন্দ্রে। অভয়ার মাকে প্রার্থী করে আর জি কর ঘটনার আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।দিল্লির নির্ভয়ার ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে আর জি করের নির্যাতিতার নাম দেওয়া হয়েছিল অভয়া। সেই ঘটনার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তাঁর পরিবার। নির্ভয়ার মায়ের মতো তিনিও রাজনীতির বাইরে থাকেননি। অভয়ার মা এবং বাবা বিজেপিতে যোগ দেন। গত সপ্তাহে পানিহাটির বাড়িতে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, মেয়ের জন্য সুবিচার পেতে তিনি ভোটে লড়বেন।তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্য দলগুলি তাঁদের বিষয়টি নিয়ে শুধু রাজনীতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সুবিচার পাওয়া যাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এই মন্তব্যের পরই রাজ্য জুড়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই অভিযোগ করেন, মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।শুধু বিরোধীদের মধ্যেই নয়, বিজেপির অন্দরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছিল বলে খবর। দলের একাংশের মত ছিল, অভয়ার মা নিজে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তাঁকে প্রার্থী করলে খুব বেশি রাজনৈতিক লাভ হবে না। কারণ এই ঘটনা শুধু একটি কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, গোটা রাজ্যের বিষয়।দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে সমস্ত বিতর্কের মাঝেই শেষ পর্যন্ত বিজেপি তাঁকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার প্রকাশিত তালিকায় পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে অভয়ার মা রত্না দেবনাথের নাম ঘোষণার পর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।

মার্চ ২৫, ২০২৬
কলকাতা

কমিশনের লেটারহেডে বিজেপির ছাপ? বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার, চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে

বিধানসভা ভোটের আগে আবারও নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে প্রচারে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলেন।মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের লেটারহেডেই নাকি বিজেপির প্রতীক দেখা যাচ্ছে। তাঁর কথায়, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেটাকে শুধু কাগুজে ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানান।এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আইপিএস ও আইএএস অফিসারদের বদলি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি গভীর রাতে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এই তালিকা এখনও পর্যন্ত কোনও বুথ, ব্লক বা জেলায় সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই তালিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য কমিশনেরই দায় রয়েছে।এসআইআর নিয়ে আদালতে লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আদালতে যাওয়ার কারণেই কিছু নাম তালিকায় উঠেছে। কিন্তু এখনও তালিকা প্রকাশ নিয়ে কমিশন কেন এত দেরি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা থাকলে এত দেরি হওয়ার কথা নয়।সব মিলিয়ে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মার্চ ২৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে রক্তাক্ত বাংলা! বিজেপি কর্মী খুনে চাঞ্চল্য, প্রেম না রাজনীতি—রহস্য ঘনীভূত

ভোটের আগে রাজ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে রায়দিঘিতে এক বিজেপি কর্মীর খুনের ঘটনা সামনে এল। নিহতের নাম কিশোর মাঝি, বয়স ঊনচল্লিশ। তিনি রায়দিঘি বিধানসভার দিঘিরপাড় বকুলতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মেনা এলাকার বাসিন্দা এবং ২১৬ নম্বর বুথের বিজেপির সহ-সভাপতি ছিলেন।সোমবার গভীর রাতে বাড়ির কাছেই পুকুরপাড় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।পরিবারের অভিযোগ, ভোট ঘোষণার পর থেকেই কিশোর মাঝির উপর হুমকি আসছিল এবং এর পিছনে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানাচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে প্রথমে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে নিহতের স্ত্রী অনিমা দাস এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ থাকা গোবিন্দ হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর।ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা নিহতের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করেন, এই খুনকে ঢাকতে অবৈধ সম্পর্কের গল্প তৈরি করা হচ্ছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। অন্যদিকে নিহতের পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই এই খুন হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।তৃণমূলও এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার দাবি করেছেন, এটি আসলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়, বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এই ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই খুনের ঘটনা ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।

মার্চ ২৪, ২০২৬
রাজ্য

জয় শ্রীরাম স্লোগানে উত্তাল, মাঝপথেই থামাল পুলিশ! হিরণের প্রচারে চরম উত্তেজনা

ভোটের আগে প্রচার ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হল শ্যামপুরে। বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচার কর্মসূচি চলাকালীন বাইক মিছিল আটকায় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।রবিবার শ্যামপুরে প্রচার শুরু করেন হিরণ। তাঁর সঙ্গে বহু কর্মী ও সমর্থক গেরুয়া পতাকা নিয়ে বাইক করে এগোচ্ছিলেন। সেই সময় শ্যামপুর-বাগনান রোডে পুলিশ মিছিলটি আটকায়। পুলিশের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকার কারণে কোনও মিছিল বা জমায়েতের জন্য আগে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এই কর্মসূচির জন্য সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি।ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। হিরণ নিজেও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক মিছিল নয়, তাঁরা মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, সমর্থকেরা ধর্মীয় পতাকা নিয়ে এসেছিলেন, তাই এটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বলা ঠিক নয়।তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রার্থী উপস্থিত থাকলে সেটিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই ধরা হয় এবং সে ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে মিছিলটি এগোতে দেওয়া হয়।এদিন রাজ্যের অন্য জায়গাতেও উত্তেজনার খবর সামনে এসেছে। নানুরে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে বচসা ও বিক্ষোভ হয়। দুর্গাপুরে সরকারি দেওয়াল থেকে প্রচার মুছতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মী আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে।ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনাগুলি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 46
  • 47
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শাহবাজ রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতেই পাল্টা জবাব! ওসামা প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির কড়া বার্তা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তোলেন। কাশ্মীর, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর পরেই ভারতের তরফে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব পেটল গেহলট ভারতের হয়ে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্যকে তিনি অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্তদের তার পরিণতি ভুগতে হবে।ভারতের পাল্টা বক্তব্যে বিশেষ ভাবে উঠে আসে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ। পেটল গেহলট বলেন, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের সময় ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গও মনে রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে বসবাস করছিলেন।ভারতীয় প্রতিনিধির বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছর ভারত দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার জায়গা থাকবে না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও তিনি জানান। পাকিস্তানের সন্ত্রাসনীতি নিয়ে ভবিষ্যতে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও ছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ওই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে গত বছরের সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গও ফিরে আসে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওই সংঘাতের ফলাফল নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলেছেন। ভারত অবশ্য সেই দাবিগুলির পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এর আগে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই সময় জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কত দিন সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে যাবে। এই মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।ফলে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পর ভারতের পাল্টা জবাব ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল দিল্লি-ইসলামাবাদের তীব্র মতবিরোধ। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান যে এখনও পরস্পরের বিপরীত, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চের এই বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশেই পুরভোট? কমিশনের ভাবনায় বড় বদল

পশ্চিমবঙ্গে ফের পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে ভোটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি।এই সাতটি পুরসভা হল কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই বুথ, ভোটকর্মী, ভোটকেন্দ্র এবং ইভিএম সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় ভোটকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে কাজ এগোচ্ছে।নিরাপত্তার বিষয়টিও কমিশনের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে রাজ্য পুলিশ দিয়েই পুরভোট পরিচালনার বিষয়ে কমিশনের প্রাথমিক ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা যাচ্ছে।ভোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন এলাকাকে বেশি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, কোথায় কত পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে রাখতে চাইছে কমিশন।এদিকে পুরভোটের জন্য ইভিএমের জোগান নিয়েও প্রস্তুতি চলছে। পর্যাপ্ত যন্ত্র পাওয়া যায় কি না, তার উপর ভোট এক দিনে হবে নাকি একাধিক দিনে আয়োজন করা হবে, সেই বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা করার আগে একাধিক প্রশাসনিক বিষয় মিটিয়ে নিতে চাইছে কমিশন।কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নিয়ে এবার বিশেষ নজর রয়েছে। হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই এবং প্রশাসকের মাধ্যমে পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।প্রাথমিক ভাবে সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও রাজ্যের আরও একাধিক পুরসভায় নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। সেই তালিকায় বিধাননগর, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, মিরিক, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, পাঁশকুড়া, কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটির মতো পুরসভাও রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাকি পুরসভাগুলির ভোট কী ভাবে এবং কখন আয়োজন করা হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার পর রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে এখনই ভোটের চূড়ান্ত দিন ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি কোন দিকে এগোয় এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ না অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার উপরই পরবর্তী ছবিটা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

মমতার সভার কয়েক ঘণ্টা আগে কুণালের গাড়িতে হামলা! ভাঙল কাচ, শরীরে ঢুকল কাচের টুকরো

শনিবার শ্রীরামপুরে সভা করার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জমায়েতে সর্বাধিক এক হাজার মানুষের উপস্থিতির শর্তও রয়েছে। সভার কয়েক ঘণ্টা আগে মমতার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।কুণাল ঘোষের অভিযোগ, উত্তরপাড়ার কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এরপর একদল মানুষ গাড়ির দিকে ডিম, পাথর এবং অন্যান্য জিনিস ছুড়তে শুরু করেন বলে তাঁর দাবি। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাচের টুকরোয় তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে কুণালের দাবি।কুণালের বক্তব্য, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা আটকে কিছু মানুষ লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গাড়ি থামিয়ে কোন গাড়িতে কোন নেতা যাচ্ছেন, তা দেখা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার পর কুণাল ঘোষ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ির কাচ ভেঙে পাথর ঢুকে তাঁর ডান কাঁধে আঘাত লাগে। ভাঙা গাড়ি নিয়েই তিনি কলকাতার দিকে রওনা হন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন।ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, পরিকল্পিত ভাবে কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকানো হয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহও একই দাবি করেছেন।ফলে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হামলার পেছনে কারা ছিলেন এবং ঠিক কী কারণে গাড়ি আটকানো হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এরই মধ্যে শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরেও রাজনৈতিক নজর রয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভাটি নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যে করতে হবে। জিটি রোডে স্বাভাবিক যান চলাচল বজায় রাখার নির্দেশও রয়েছে।এ দিনের সভাটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলে সভা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলার পরেই বড় সিদ্ধান্ত! অভিষেকের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা

রাজনৈতিক মহলে ফের বিরোধী দলগুলির সমন্বয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যেতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরেই আগামী সপ্তাহে বিরোধীদের বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার পরদিন বিরোধী দলগুলির বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।বর্তমানে বিরোধী দলগুলির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে ফের নোটিস দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির যৌথ অবস্থান কী হবে এবং আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।কয়েক দিন আগেই সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন। পরে দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে ওই কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে এখনও সব দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, বৈঠকের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তাঁর দাবি, এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতার সঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের আলোচনায় শুধু ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলিই থাকবে, নাকি জোটের বাইরে থাকা বিজেপি বিরোধী দলগুলিকেও বৈঠকে আনার চেষ্টা হবে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে কোন কোন দল শেষ পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তাঁর দিল্লি সফর এবং বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও সূত্রনির্ভর বলেই জানা যাচ্ছে।সব মিলিয়ে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির ক্ষোভের আবহে দিল্লির সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে বিরোধীরা যৌথ কোনও কর্মসূচি নেয় কি না, কিংবা ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা দলগুলিকে এই সমন্বয়ের মধ্যে আনা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

নিম্নচাপ দুর্বল হলেও বৃষ্টি থামছে না! কোথায় জারি করা হল কমলা সতর্কতা?

নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করলেও দক্ষিণবঙ্গে শনিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রবিবার থেকেও বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমবে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী তিন থেকে চার দিনে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের কাছে অবস্থান করছে। এটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দিকে যেতে পারে। নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে দূরে সরে গেলেও সমুদ্রের উপর ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্যও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে শনিবারের পর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তার দুটোই ধীরে ধীরে কমবে। সেপ্টেম্বর মাসের বাকি দিনগুলিতে দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে শনিবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সোমবার থেকে আরও কমবে বৃষ্টির প্রবণতা। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস।ফলে আগামী কয়েক দিনে বাংলার আবহাওয়ায় দুই রকম ছবি দেখা যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব কাটায় ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমবে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে শনিবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতাতেও শনিবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও রবিবার থেকে ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়ে ক্ষমতায় মমতা, সেই দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গেই ফোনে কথা! কেন এই বদল?

বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। সেই দুই দলের মধ্যে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই পক্ষের মধ্যে চিঠি বিনিময়ের পর এই ফোনালাপ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক হোক। এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এই যোগাযোগের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে একাধিক বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এম এ বেবি বিরোধী নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা এবং যৌথ কৌশল তৈরির কথা বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার জবাবে চিঠি দেন। এরপর দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছে।তবে এই যোগাযোগকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএমের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট হিসেবে দেখানো হয়নি। আপাতত বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা হিসেবেই সামনে এসেছে।এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন এবং আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ফের ভোট নেওয়ার দাবিও তোলেন। এগুলি মমতার রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কমিশনের নিজস্ব বক্তব্যও রয়েছে।এদিকে মমতা ও এম এ বেবির যোগাযোগের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তৃণমূল ও সিপিএমের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে। পশ্চিমবঙ্গে দুই দল বহু বছর ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জাতীয় স্তরে দুদল একই বিরোধী জোটের অংশ হলেও এত দিন তাদের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এম এ বেবির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা করে কথাবার্তা হয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। সেই আলোচনায় ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে মমতা-বেবির বর্তমান ফোনালাপের সঙ্গে ওই আগের কথোপকথনকে এক করে দেখার মতো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগও ওঠে। কয়েক জন কর্মী আহত হন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার খবর সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তি-তেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদন রয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য আলাদা এবং ঘটনাটির দায় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে জাতীয় স্তরের বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির ফোনালাপ এবং দিল্লিতে বিরোধী বৈঠকের উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে এই যোগাযোগ কেবল নির্দিষ্ট একটি ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিরোধী দলগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরি হবে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোরে বাঁশ-লাঠি নিয়ে দফায় দফায় হামলা! মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু, প্রকাশ্যে ভয়াবহ ভিডিয়ো

পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহলকা এলাকায় বিজেপি কর্মী শামসের বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একদল লোক দফায় দফায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা হয়েছিল বলে খবর। পরে পরিস্থিতি সাময়িক ভাবে শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শনিবার ভোরে ফের গোলমাল শুরু হয়। সেই সময়েই শামসেরের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে।প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন ব্যক্তি বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন। এক বার নয়, একাধিক বার হামলার দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই ফুটেজ দেখে এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটির সত্যতা এবং হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।হামলায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হাতিহলকা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশি টহল চলছে।হামলাকারীরা কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অজয় জানা দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরাই হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোলমাল এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছিল। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতির জেরেই ফের উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে শামসের বিশ্বাস আদৌ বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।ফলে এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঠিক কী কারণে শুক্রবার বিকেলে বচসা হয়েছিল, তার সঙ্গে শনিবার ভোরের হামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তিরাই হামলায় জড়িত কি না এবং মৃত শামসেরের রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিলসবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।এখনও পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কারও নাম নিশ্চিত ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
দেশ

তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, এসবিআই গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা! এটিএম থেকে টাকা তুললে লাগবে না বাড়তি টাকা

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রাখার পরিবর্তে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবিসহ একাধিক বিষয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠনগুলি। মাসের শেষে এই ধর্মঘটের কারণে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।স্টেট ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘট চলাকালীন তাদের গ্রাহকেরা দেশের যে কোনও ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন এবং ওই সময় এটিএম লেনদেনের প্রযোজ্য চার্জ নেওয়া হবে না। এমনকি সাধারণ নিয়মে মাসিক বিনামূল্যে লেনদেনের সীমা পেরিয়ে গেলে যে অতিরিক্ত এটিএম চার্জ দিতে হয়, ধর্মঘটের ওই তিন দিনে সেই চার্জও মকুব থাকবে।অর্থাৎ, ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কের শাখায় পরিষেবা ব্যাহত হলেও জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে এসবিআই গ্রাহকদের অতিরিক্ত এটিএম চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তবে কোন এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ রয়েছে, তা এলাকা ও সময় অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় নগদ ব্যবস্থার বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়া ভাল।শুধু এটিএম নয়, ধর্মঘটের সময় এসবিআইয়ের ডিজিটাল পরিষেবাগুলিও চালু থাকবে। ইউপিআই, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ওয়াই-ফাইভো অ্যাপ এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মাধ্যমে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। ফলে টাকা পাঠানো, বিল দেওয়া বা অন্যান্য সাধারণ ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।তবে চেক জমা দেওয়া, ডিমান্ড ড্রাফট তৈরি, ঋণ সংক্রান্ত নথি জমা বা শাখায় গিয়ে করতে হয় এমন অন্য কোনও জরুরি কাজ থাকলে তা ধর্মঘটের আগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ধর্মঘটের দিনগুলিতে শাখার স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ওই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা, দফতর, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং নগদ ভাণ্ডার চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছে।এর ফলে ২৬ সেপ্টেম্বরের ছুটি, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার এবং তার পরের তিন দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় টানা কয়েক দিনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ধর্মঘটের আগে রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ব্যাঙ্ক কর্মীদের সপ্তাহে দুদিন ছুটির দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। এবার ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক পরিষেবা যাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।সব মিলিয়ে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কের কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অসুবিধা হতে পারে। তবে এসবিআইয়ের ঘোষণায় ওই তিন দিন এটিএম থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি চার্জ মকুব থাকবে এবং ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও চালু থাকবে। তাই জরুরি শাখাভিত্তিক কাজ থাকলে তা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেরে নেওয়াই সুবিধাজনক।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal