• ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

খেলার দুনিয়া

খেলার দুনিয়া

অ্যাসিড হামলায় প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন! বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিরুদ্ধে গোল করে ইতিহাস গড়লেন কঙ্গোর নায়ক

পাঁচ বছর আগে ভয়াবহ এক অ্যাসিড হামলায় বদলে গিয়েছিল তাঁর জীবন। মুখ ঝলসে গিয়েছিল, দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারাতে বসেছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর ফুটবল জীবন হয়তো সেখানেই শেষ। কিন্তু স্বপ্নকে হার মানাতে পারেনি সেই ভয়ঙ্কর আঘাত। আজ সেই ফুটবলারই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।কঙ্গোর তারকা ইয়োয়ান উইসার জীবন যেন এক রূপকথার গল্প। বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিরুদ্ধে তাঁর করা একটি গোল শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, ইতিহাসও তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব এখন তাঁর নামের পাশে।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার থেকে আসা বল দুরন্ত হেডে জালে জড়িয়ে দেন উইসা। সেই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা কঙ্গো। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দেওয়ায় আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে দেশজুড়ে।কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ভয়াবহ এক অধ্যায়। দুই হাজার একুশ সালের এক জুলাই নিজের বাড়িতে ভয়ঙ্কর অ্যাসিড হামলার শিকার হন উইসা। এক নারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে আচমকা মুখে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়। এমনকি তাঁর মেয়েকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকদের একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়। চোখের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। পরে আদালতে উইসা জানিয়েছিলেন, সেই মুহূর্তে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন তাঁর চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর অভিযুক্ত নারীকে হত্যাচেষ্টা এবং অপহরণের দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের রায় এলেও উইসার জীবনের ক্ষত সহজে মুছে যায়নি। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।তবুও তিনি হার মানেননি। ধীরে ধীরে মাঠে ফিরেছেন, নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। পরিবারের সমর্থন এবং সন্তানদের কথা ভেবেই তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শক্তি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।আজ সেই উইসাই বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন। অ্যাসিড হামলার বিভীষিকা থেকে উঠে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে গোল করা শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়, এটি মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ।কঙ্গোর মানুষ আজ তাঁকে শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, আশা এবং সাহসের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন, জীবনে যত বড় ঝড়ই আসুক, স্বপ্নকে থামানো যায় না।

জুন ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির হ্যাটট্রিক, রোনাল্ডোর ব্যর্থতা! শেষ বিশ্বকাপেই কি ভেঙে পড়ছে স্বপ্ন?

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সামনে এখন জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য ট্রফি জিতলেও এখনও বিশ্বকাপ অধরা। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য এবারই সম্ভবত তাঁর শেষ সুযোগ।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজত্ব করছেন রোনাল্ডো। দুই হাজার তিন সালে দেশের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনও পর্তুগালকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। দলের সেরা সাফল্য এখনও উনিশশো ছেষট্টি সালের তৃতীয় স্থান অর্জন।এই বিশ্বকাপে নামার আগে থেকেই রোনাল্ডোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বয়স এখন একচল্লিশ। অনেকের মতে, আগের মতো গতি ও ধার আর নেই তাঁর খেলায়। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর সেই সমালোচনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে একই দিনে লিওনেল মেসির দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক মাধ্যমে রোনাল্ডোকে নিয়ে কটাক্ষও শুরু হয়েছে।পর্তুগালের প্রাক্তন ফুটবলার আন্তোনিও সিমোয়েসের মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, রোনাল্ডো অনেক সময় দলের চেয়ে নিজের খেলাকে বেশি গুরুত্ব দেন। যদিও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পর্তুগাল দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জার্সিতে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যাই প্রমাণ করে তিনি এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।তবে পরিসংখ্যান অন্য আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় জয়ে রোনাল্ডো মাঠে ছিলেন না। সেই কারণে অনেকেই মনে করছেন, তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার সময় এসেছে পর্তুগালের। আবার অন্য একটি অংশের মতে, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচের মানসিক শক্তির জন্য এখনও রোনাল্ডোর বিকল্প নেই।এই বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, রোনাল্ডোর ফুটবল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও হতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ জিততে পারলে তাঁর কেরিয়ার পূর্ণতা পাবে। আর যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার জীবন থেকে বিশ্বকাপ ট্রফির অপূর্ণতা হয়তো কোনও দিন মুছে যাবে না।এখন প্রশ্ন একটাই, শেষ সুযোগে কি ইতিহাস গড়তে পারবেন রোনাল্ডো? নাকি বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে? সেই উত্তর খুঁজতেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জুন ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাত্র ২৮ বছরেই ইতিহাসের দরজায় এমবাপে! আর মাত্র তিন গোল, তারপরই বিশ্ব ফুটবলে মহারেকর্ড

বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস লেখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। সেনেগালের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে জিতিয়ে রেকর্ডের খাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুললেন এই তারকা ফুটবলার।আট বছর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক কিশোরকে দেখে বিস্মিত হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা নজর কেড়েছিল সকলের। সেই কিশোরই আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বয়স এখনও মাত্র ২৮, অথচ ইতিমধ্যেই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে।সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়লেও গোলের দেখা পায়নি। এমবাপেকে কড়া নজরে রেখেছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। ফলে তাঁকে খুব বেশি জায়গা দেওয়া হয়নি।দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি কোচ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন করেন। এমবাপেকে মাঝের জায়গা থেকে সরিয়ে প্রান্তে খেলানো শুরু হয়। আর সেই পরিবর্তনের ফল মিলতে সময় লাগেনি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সতীর্থের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে।এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে দুরন্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের জয়।তবে শুধু ম্যাচ জেতানো নয়, এই দিনটি এমবাপের জন্য বিশেষ হয়ে থাকল আরও একটি কারণে। ফ্রান্সের জার্সিতে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে গেল ৫৮-তে। এর ফলে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন দেশের প্রাক্তন কিংবদন্তি অলিভিয়ের জিরুকে এবং ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এলেন।একই সঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪। প্রথম বিশ্বকাপে চার গোল, পরের আসরে আট গোল এবং এবার শুরুতেই দুই গোল করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন এই মাইলফলকে। এর ফলে তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি জুল ফন্টেকেও।এখন বিশ্ব ফুটবলের নজর একটাই প্রশ্নে। আর মাত্র তিন গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করবেন এমবাপে। বয়স, ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা বিচার করলে সেই রেকর্ড ভাঙা সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও প্রমাণ হল, কিলিয়ান এমবাপে শুধু বর্তমানের তারকা নন, তিনি ভবিষ্যতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। আর সেই কিংবদন্তির নতুন অধ্যায় দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গোলের পর হঠাৎ কেঁদে ফেললেন মেসি! হ্যাটট্রিকের রাতেও কেন চোখে জল আর্জেন্টিনা অধিনায়কের?

ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। একদিকে দুরন্ত হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে চোখে জল। আর সেই মানুষটি যখন লিওনেল মেসি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ঘটনাটি।আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ম্যাচের মাত্র সতেরো মিনিটে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে গোল করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। গোলরক্ষক বল ছুঁয়েও তা আটকাতে পারেননি।গোলটি ছিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বহুবার দেখা মেসি-জাদুর আরেকটি উদাহরণ। কিন্তু গোলের পর যা দেখা গেল, তা আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদযাপনের সময় মেসির চোখে জল ধরা পড়ে। সেই মুহূর্তে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এত আনন্দের মধ্যেও কেন কাঁদছেন তিনি?ম্যাচ শেষে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি জানান, এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটি দিন তাঁর জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে কেটেছে। সেই সময় সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই আবেগের রূপ নিয়েছিল।মেসি আরও বলেন, জীবনে তিনি যা পেয়েছেন, তার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ফুটবল এখনও তাঁকে আনন্দ দেয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করছেন। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর আবার ছন্দে ফিরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির।এই হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও মুগ্ধ। তাঁর কথায়, মেসিকে বর্ণনা করার মতো শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতি ম্যাচেই তিনি নতুন কিছু করে দেখান।মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্বের অন্য তারকারাও। নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, মেসি যেন অন্য গ্রহের ফুটবলার।বয়স প্রায় ঊনচল্লিশের দোরগোড়ায়। তবুও মাঠে তাঁর দাপট, গোল করার ক্ষুধা এবং আবেগ এখনও একই রকম। তাই আবারও প্রমাণ হল, ফুটবলের অভিধানে জাদুর আরেক নাম লিওনেল মেসি।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জাদুতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুড়ন্ত সূচনা! হ্যাটট্রিক করে ছুঁলেন ক্লোজেকে, ইতিহাসের আরও কাছে লিও

বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বড় ম্যাচের নায়ক হওয়ার ক্ষমতা এখনও অটুট। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের পাশে নিজের নামও তুলে দিলেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল আলজেরিয়া। নবম মিনিটে ফারেস চাইবির শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। সেখান থেকেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।এরপর নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায় মেসিকে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। সেই শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান, যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র।প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট গোলকিপারের হাতে প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে সহজেই জালে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।তবে আসল জাদু দেখা যায় ৭৬ মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে, যা তাঁকে মিরোস্লাভ ক্লোজের সমতুল্য স্থানে পৌঁছে দেয়।হ্যাটট্রিকের তিন মিনিট পর কোচ তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। যদিও মেসির মুখে কিছুটা হতাশার ছাপও ধরা পড়ে, কারণ তিনি আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে আগামী ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।এই ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধুমাত্র পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং কুয়েতের বাদার আল-মুতাওয়া।বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য চোট পেয়েছিলেন মেসি। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আগেই নিজের ফিটনেসের বার্তা দিয়েছিলেন।এদিকে মেসির হ্যাটট্রিক কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে বিশ্বফুটবলের আরও দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের পারফরম্যান্সকেও। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপে জোড়া গোল করেছেন সেনেগালের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে দুই গোল করেছেন হালান্ড।বিশ্বকাপ অভিযান জয়ে শুরু করলেও আর্জেন্টিনার সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। তবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এখনও অন্যতম বড় দাবিদার আর্জেন্টিনা।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে জিতেই বিপাকে ইরান! ম্যাচ শেষ হতেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ, ক্ষোভ ফুটবলারদের

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সের পরই নতুন বিতর্কে জড়াল ইরান ফুটবল দল। দলের অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের সময় না দিয়েই তাদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা।সূত্রের খবর, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরান দলকে সীমিত সময়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে ম্যাচ ছাড়া বাকি সময় তারা অন্য দেশে অবস্থান করছে এবং সেখানেই অনুশীলন চালাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রেই একটি রাত কাটানোর কথা ছিল দলের। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি ইরান শিবিরের।দলের অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হতেই তাদের দ্রুত রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই ইরান দলকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হয়। সেখানেই বর্তমানে তাদের বেস ক্যাম্প রয়েছে।ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, খেলোয়াড়দের জন্য ম্যাচের পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তে দলের প্রস্তুতি এবং শারীরিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে।কোচ আরও বলেন, শুরুতে যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ম্যাচের আগে এবং পরে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরান শিবির জানিয়েছিল, তারা মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়াতে চায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের মতে, তাদের প্রতি আলাদা ধরনের আচরণ করা হচ্ছে।অন্যদিকে, অধিনায়ক মেহদি তারেমি নাকি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের অভিযোগের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।

জুন ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাঠে বাঁশি বাজিয়ে কোটি টাকা! বিশ্বকাপের রেফারিদের আয় শুনলে চোখ কপালে উঠবে

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রেফারিরা। একটি সিদ্ধান্ত কখনও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। সেই কারণেই তাঁদের কাজ সবসময় কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করে একজন রেফারি কত টাকা আয় করেন?তথ্য অনুযায়ী, আগের বিশ্বকাপে রেফারিরা নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক হিসেবে প্রায় সত্তর হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি প্রতি ম্যাচ পরিচালনার জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হত। ম্যাচের গুরুত্ব এবং রেফারির অভিজ্ঞতার উপর সেই অঙ্ক নির্ভর করত। সহকারী রেফারি এবং ভিডিও সহায়ক রেফারিরাও উল্লেখযোগ্য পারিশ্রমিক পেতেন।এবার সেই অঙ্ক আরও বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাওয়া রেফারিরা এককালীন প্রায় এক লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। এর পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ পরিচালনার জন্যও আলাদা পারিশ্রমিক থাকবে। প্রতিযোগিতার শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করলে সেই আয় আরও বাড়বে। হিসাব অনুযায়ী, ফাইনাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করা কোনও রেফারির মোট আয় কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।বিশ্বকাপে এবার শুধু পারিশ্রমিকই নয়, প্রযুক্তিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। রেফারিদের চোখের কাছে একটি বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে দর্শকেরা সরাসরি দেখতে পারবেন, ম্যাচ চলাকালীন রেফারি ঠিক কী দেখছেন এবং কোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি রেফারির কাজকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে। দ্রুতগতির খেলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন, তা বোঝার সুযোগও পাবেন দর্শকেরা। এই বিশেষ ক্যামেরা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং রেফারির দৌড় বা নড়াচড়ার সময়ও স্থির চিত্র ধারণ করতে সক্ষম।এছাড়া রেফারিদের কানে থাকে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে তাঁরা সহকারী রেফারি এবং ভিডিও সহায়ক রেফারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারেন। মাঠে কোনও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত মতামত বিনিময় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সব মিলিয়ে, এবারের বিশ্বকাপে রেফারিদের দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে তাঁদের আয় এবং প্রযুক্তিগত সুবিধাও। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এবার নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছেন ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

জুন ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ চলাকালীনই ছাঁটাই কোচ! ফুটবল ইতিহাসে নজির গড়ে লজ্জার রেকর্ড

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। প্রতিযোগিতা চলাকালীনই কোচকে সরিয়ে দিয়ে নতুন নজির গড়ল তিউনিশিয়া। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ সাব্রি লামৌচিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিযোগিতা চলাকালীন চাকরি হারানো প্রথম কোচ হিসেবে নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।সাব্রি লামৌচি চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিউনিশিয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অধীনে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল দলকে। সেই ব্যর্থতার রেশ কাটার আগেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে একের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলে পরাজিত হয় তিউনিশিয়া।এই ফলাফলের পরই কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। নতুন কোচ কে হবেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।এর আগে তিউনিশিয়ার ফুটবল মহলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও নানা আলোচনা চলছিল। কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, দলের উপর কোচের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন সাব্রি। তবে শেষ পর্যন্ত দলের খারাপ ফলাফল তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করে দেয়।এদিকে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে সুইডেন। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তাঁর পরিবারের শিকড় তিউনিশিয়ায়। সেই কারণেই গোল করার পর তাঁকে খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।সুইডেনের জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিয়োকেরেসও। দুজনেই একটি করে গোল করেন এবং আক্রমণভাগে দাপট দেখান। দলের অন্য গোলটি করেন ম্যাথিয়াস ভ্যানবার্গ। তিউনিশিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ওমর রেরিক।প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের ফলে তিউনিশিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কঠিন হয়ে উঠেছে। তার মধ্যেই কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দলকে কতটা সাহায্য করবে, এখন সেটাই দেখার।

জুন ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের মাঝেই নতুন আতঙ্ক! কঙ্গোয় বাড়ছে ইবোলা, চিন্তায় ফুটবল বিশ্ব

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, চলতি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে কঙ্গো। বুধবার তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার কথা।সংক্রমণের পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো দলের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন শিবির করার পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচও বাতিল করতে হয়েছে বলে খবর।পরবর্তীতে দলকে নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখার পরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বেলজিয়ামে কিছুদিন কাটানোর পর কঙ্গো দল সম্প্রতি প্রতিযোগিতার জন্য পৌঁছেছে।তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের যাতায়াত নিয়ে। কঙ্গো থেকে আসা দর্শকদের প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কঠোর নজরদারির কথাই জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইবোলা ভাইরাস সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। সেই কারণে বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সংক্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবুও কোনও রকম ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।গত মে মাসে প্রথম কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের খবর সামনে আসে। তারপর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে।বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে আয়োজক দেশ এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিকেও।

জুন ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

রিচাকে ওপেন করাতে চান হরমন! পাক-বধের পর ভারত অধিনায়কের অকপট স্বীকারোক্তি, দীপ্তির ঘূর্ণিতেই বিশ্বকাপে দুরন্ত সূচনা

ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দাপুটে জয় দিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ম্যাচ শেষে জয়ের নেপথ্যের নায়ক-নায়িকাদের প্রশংসায় ভাসালেন ভারত অধিনায়ক, আর ম্যাচসেরা দীপ্তি শর্মাও জানালেন তাঁর সাফল্যের মন্ত্র।ম্যাচের শুরুটা ভারতের পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল দল। তবে অভিজ্ঞ স্মৃতি মন্ধানা ও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ভারতকে বিপদমুক্ত করে। তাঁদের গড়া গুরুত্বপূর্ণ জুটিই ইনিংসের ভিত তৈরি করে দেয়।খেলা শেষে হরমনপ্রীত জানান, পিচ নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছিল, বাস্তবে তা অতটা কঠিন ছিল না। তাঁর মতে, শুরুতে অযথা চাপ নিয়ে ফেলেছিল ভারতীয় ব্যাটাররা। পরে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করায় দল ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।তবে ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শেষদিকে রান তোলার গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন তিনি। রিচার ব্যাটিংয়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন হরমনপ্রীত যে মজার ছলেই বলে ফেললেন, সুযোগ থাকলে তিনি রিচাকেই ইনিংসের প্রথম বল থেকে ব্যাট করতে পাঠাতেন।অধিনায়কের কথায়, রিচার ব্যাটিং দেখলে মনে হয় ওকে শুরু থেকেই নামানো উচিত। কিন্তু দলের কৌশল অনুযায়ী ওর একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। সেই ভূমিকায় ও অসাধারণ কাজ করছে।ভারতের জয়ের আর এক বড় কারিগর ছিলেন অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা।ম্যাচসেরা হওয়ার পর দীপ্তি জানান, উইকেটের চরিত্র বুঝে তিনি নিজের বোলিংয়ে সামান্য পরিবর্তন এনেছিলেন। বলের গতি কমিয়ে এবং স্টাম্প লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বল করাতেই সাফল্য এসেছে। তাঁর মতে, পিচও স্পিনারদের সাহায্য করেছে, ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়েছে।শুধু বোলিং নয়, পাকিস্তানের ভালো শুরুর পর ভারতীয় দলের ফিল্ডিং ও ক্যাচ ধরার মানও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হরমনপ্রীত বলেন, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেট রানরেট পরবর্তী পর্যায়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই দল শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উৎসাহকেও বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি মন্ধানা ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংকে ভারতের জয়ের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট ও বলদুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল, শিরোপার দৌড়ে তারা অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। এখন দেখার, এই দুরন্ত ছন্দ আগামী ম্যাচগুলিতেও ধরে রাখতে পারে কি না হরমনপ্রীতের দল।

জুন ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কমনওয়েলথ গেমসের দলে নীরজ, তবে কি এখনও পুরোপুরি ফিট নন অলিম্পিক সোনাজয়ী তারকা?

চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতের তারকা জ্যাভলিন নিক্ষেপক নীরজ চোপড়া। তাঁকে শর্তসাপেক্ষে কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ঘোষিত ৩২ সদস্যের ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স দলে রাখা হয়েছে। রবিবার দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। তবে নীরজকে শর্তসাপেক্ষে দলে রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রীড়ামহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই কৌতূহল, অলিম্পিক সোনাজয়ী এই তারকা কি এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি?এবারের দলে রয়েছেন দেশের একাধিক তারকা অ্যাথলিট। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রেকর্ড নিয়ে আলোচনায় থাকা স্প্রিন্টার গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুরের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন তেজস্বিন শঙ্কর, তাজিন্দরপাল সিং তুর এবং সর্বেশ কুশারের মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদরাও।গত মে মাসে রাঁচিতে আয়োজিত ফেডারেশন কাপে বেশ কয়েকজন ভারতীয় অ্যাথলিট দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কমনওয়েলথ গেমসের যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে পুরুষদের চার গুণ একশো মিটার রিলে দলটি সুযোগ হাতছাড়া করে। বিশ্ব রিলে প্রতিযোগিতায় ব্যাটন বদলের সময় দুর্ঘটনার জেরে ভারতীয় দল অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিল। যদিও পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো সময় করলেও শেষ পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।জ্যাভলিন বিভাগে নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারা অ্যাথলিটদের জন্য গত ১৩ জুন জলন্ধরে অতিরিক্ত বাছাইপর্বের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করে যোগ্যতা অর্জন করেন। দুজনেই নির্ধারিত দূরত্বের বেশি জ্যাভলিন ছুড়ে নজর কাড়েন।ফেডারেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন নীরজ। গত বছর দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রথমবার নব্বই মিটারের গণ্ডি পেরনোর পর থেকেই তিনি পিঠের চোটে ভুগছিলেন। তবে ফেডারেশনের দাবি, নীরজ অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় ফিরতে পারেন।ফেডারেশনের আশা, কমনওয়েলথ গেমস শুরুর আগে নীরজ প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করতে পারবেন। তাই তাঁকে দলে রাখা হয়েছে শর্তসাপেক্ষে।এদিকে ট্রিপল জাম্পার সেলভা প্রভুকেও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে নির্ধারিত যোগ্যতা মান অতিক্রম করেছেন। ফলে তাঁকেও নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স মহল।এখন সকলের নজর কমনওয়েলথ গেমসের দিকে। নীরজ চোপড়া কত দ্রুত প্রতিযোগিতায় ফিরতে পারেন এবং ভারতীয় অ্যাথলিটরা কতটা সফল হন, সেটাই দেখার।

জুন ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাঠে নামেননি নেইমার, তবু ব্রাজিলের গোলের নেপথ্যে তিনিই! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা

চোটের কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। শুধু তাই নয়, তিনি রিজার্ভ বেঞ্চেও ছিলেন না। তবু ম্যাচের অন্যতম আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, মাঠে না নেমেও ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ গোলের নেপথ্যে ছিলেন নেইমারই।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল চাপে পড়ে গেলেও ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বাঁদিক থেকে ব্রুনো গিমারেসের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষক ইয়াসির বোনোর কিছুই করার ছিল না।তবে গোলের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, প্রথমার্ধে জলপান বিরতির সময় মাঠের ধারে এসে ভিনিসিয়াসের সঙ্গে কথা বলছেন নেইমার। কিছুক্ষণ পরে ব্রুনো গিমারেসকেও ডেকে পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিও দেখে অনেকের ধারণা, ভিনিসিয়াসকে আরও বেশি করে বক্সের ভিতরে ঢুকে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন নেইমার। কারণ ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বাইরে খেলতে দেখা গিয়েছিল।মজার বিষয় হল, সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই গিমারেসের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়াস। আর সেই কারণেই সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, মাঠের বাইরে থেকেও ব্রাজিলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন নেইমার।যদিও এই ম্যাচে খেলেননি তিনি, তবে পরের ম্যাচে নেইমারকে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সমর্থকের মতে, দলটিকে একেবারেই চেনা ব্রাজিলের মতো লাগেনি। রাফিনহাদের খেলায় ধার ও গতি দুটোরই অভাব ছিল। অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন তারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জুন ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

নেইমারকে ঘিরে বড় সংকট! বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিল শিবিরে অশান্তির আগুন

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিল শিবিরে বাড়ছে উদ্বেগ। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নেইমার। চোটের কারণে এখনও পুরোপুরি ফিট নন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার। ফলে মরক্কোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।জাতীয় দলের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, তাঁর ডান পায়ের চোট প্রথমে যতটা সাধারণ মনে করা হয়েছিল, বাস্তবে তা তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। যদিও সাম্প্রতিক পরীক্ষায় কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল দল।ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেইমারকে বেঞ্চে বসেই খেলা দেখতে হতে পারে। ব্রাজিল শিবিরের লক্ষ্য এখন পরের ম্যাচে তাঁকে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরানো। তবে তা নিয়েও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।এদিকে নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। কারণ ইতিমধ্যেই চোটের জন্য দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিটকে গিয়েছেন। ফলে আক্রমণভাগে চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।তবে কোচ আন্সেলোত্তি এখনও নেইমারের উপর আস্থা হারাননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেইমার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তাঁকে বাদ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কোচের মতে, মাঠে না থাকলেও ড্রেসিংরুমে নেইমারের উপস্থিতি দলের বাকি ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে। অনেকের প্রশ্ন, যখন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস কিংবা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির মতো তারকারা রয়েছেন, তখন কেন এখনও নেইমারকে কেন্দ্র করেই সব পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে?বিশ্বকাপের আগে এই পরিস্থিতি ব্রাজিল সমর্থকদেরও চিন্তায় ফেলেছে। অতীতেও বড় টুর্নামেন্টে নেইমারের চোট ব্রাজিলের স্বপ্নে ধাক্কা দিয়েছে। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। ফলে এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।এখন দেখার, আন্সেলোত্তির নেতৃত্বে ব্রাজিল কি নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে পারে, নাকি বিশ্বকাপের আগেই দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠবে এই চোটের সমস্যা।

জুন ১২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক! সেনেগাল ফুটবলারদের সঙ্গে ‘অপরাধীর মতো’ আচরণের অভিযোগ

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। তার আগেই বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। আমেরিকায় পৌঁছনোর পর সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের কড়া নিরাপত্তা তল্লাশি ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে যেন তাঁরা কোনও অপরাধী।জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমেরিকায় পৌঁছেছিল সেনেগাল দল। বিমানবন্দরে নামার পরই নিরাপত্তাকর্মীরা ফুটবলারদের ব্যাগ, ট্রলি এবং অন্যান্য সামগ্রী বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন। অভিযোগ, মাদকদ্রব্যের সন্দেহে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই তল্লাশি। ঘটনাস্থলের কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় বিতর্ক।শুধু সেনেগাল নয়, উজবেকিস্তান দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। নিউ ইয়র্কে অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর ফুটবলারদের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। সেই সময় মাদক সন্ধানী কুকুর এবং ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ফুটবলারদের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আবার অনেকে জানতে চেয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কেন এই বিতর্ক নিয়ে কোনও অবস্থান স্পষ্ট করছে না।এর আগেও বিশ্বকাপ ঘিরে বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আয়োজক দেশকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মতে, খেলাধুলার মঞ্চ সব সময় দেশ, সংস্কৃতি এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। সেখানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে অতিরিক্ত কড়া বা অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ সামনে আসা উদ্বেগের বিষয়। যদিও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।বিশ্বকাপের মতো বৃহত্তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের।

জুন ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারতীয় দল থেকে বাদ, এবার কি মুম্বই থেকেও বিদায়? সূর্যকুমারকে ঘিরে তুমুল জল্পনা|

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় সূর্যকুমার যাদব। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব হারানোর পর এবার তাঁকে ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধু জাতীয় দল নয়, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গেও কি শেষ হতে চলেছে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক?সোমবার আচমকাই দেখা যায়, নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত পোস্ট সরিয়ে দিয়েছেন সূর্যকুমার। শুধু তাই নয়, তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং দলের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়াকেও অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।কয়েক দিন আগেই ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য ভারতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে। শুধু নেতৃত্ব নয়, দল থেকেও বাদ পড়েছেন সূর্যকুমার। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। গত প্রায় দেড় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।আইপিএলেও খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি সূর্যকে। চলতি মরসুমে ১৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৭০ রান। গড় ছিল ২০.৭৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৫৪। ফলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব একটা বিস্মিত নন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।তবে সব সমালোচনার মাঝেই ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন সূর্য। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। মুম্বইয়ের একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় ট্রায়াম্ফ নাইটস নর্থ ইস্ট মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৩৬ বলে ৭২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার এবং একটি ছক্কা। তাঁর এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলও জয় পায়।ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার বলেন, দলের জন্য রান করতে পারা সবসময়ই বিশেষ আনন্দের। তাঁর এই মন্তব্য এবং দুরন্ত ইনিংসকে অনেকেই জাতীয় নির্বাচকদের উদ্দেশে বার্তা হিসেবে দেখছেন।এদিকে সামাজিক মাধ্যমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও এ বিষয়ে এখনও সূর্যকুমার বা ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

জুন ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টাকা না দিয়েই বিশ্বকাপের টিকিট! ফিফার বড় ভুলে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই টিকিট বিক্রি নিয়ে বড় বিতর্কে জড়াল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কয়েকজন সমর্থক বিনামূল্যে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।সূত্রের খবর, অন্তত ষাট জন ফুটবলপ্রেমী বিশ্বকাপের টিকিট কাটার সময় কোনও টাকা না দিয়েই টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। অভিযোগ, টিকিট বুকিংয়ের শেষ ধাপে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কোনও অর্থ নেওয়া হয়নি। ফলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকিট তাঁদের হাতে চলে যায়।বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। অনেকের অভিযোগ, সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে টিকিটের মূল্য। এই পরিস্থিতিতে কিছু দর্শক বিনামূল্যে টিকিট পাওয়ার খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে টিকিট কিনেছেন, তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে।জানা গিয়েছে, কানাডার টরন্টো শহরে আয়োজিত কয়েকটি ম্যাচের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দেয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অর্থ পরিশোধ ছাড়াই টিকিট ইস্যু হয়ে যায় বলে অভিযোগ।বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ফিফা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ওয়েবসাইটে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। যাঁরা বিনামূল্যে টিকিট পেয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে তাঁদের টিকিট বাতিল করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।এদিকে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে ফিফা। টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে এই ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

জুন ০৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কেকেআর ব্যর্থ, তবু কলকাতার জয়ধ্বনি! দেশের সেরা মাঠ-পিচের মুকুট ফের ইডেনের, নেপথ্যে সৌরভ-সুজন জুটি

আইপিএলের ময়দানে এ বার কলকাতা নাইট রাইডার্সের অভিযান খুব বেশি দূর এগোয়নি। অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে দল শেষ করেছে লিগ তালিকার সপ্তম স্থানে। প্লে-অফের টিকিট অধরাই থেকে গিয়েছে। কিন্তু মাঠের বাইরের এক লড়াইয়ে আবারও দেশের সেরার আসন দখল করল কলকাতা। কারণ, ২০২৬ আইপিএলে সেরা মাঠ ও পিচ-এর সম্মান পেল ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্স।এই নিয়ে চতুর্থবার এই মর্যাদা অর্জন করল ভারতের ক্রিকেটের নন্দকানন। পুরস্কার হিসেবে সিএবি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। আর এই স্বীকৃতির নেপথ্যে রয়েছেন পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।গত মরসুমে ইডেনের পিচ নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ঘরের মাঠে পরপর কয়েকটি ম্যাচে হারের পর কেকেআর শিবির প্রকাশ্যেই অভিযোগ তুলেছিল যে তারা স্পিন-সহায়ক উইকেট চাইলেও তা পায়নি। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফঅনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পিচ প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু তখনও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি সুজন মুখোপাধ্যায়।তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্টপিচ কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী নয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই তৈরি করা হয়। সেই অবস্থানেই এখনও অনড় তিনি। সেরা পিচের পুরস্কার পাওয়ার পরও সুজন জানিয়েছেন, বিতর্ক তাঁকে বিচলিত করে না। ভবিষ্যতেও তিনি একই নীতি মেনেই কাজ করবেন।সুজনের কথায়, চারবার এই সম্মান পাওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। পরিশ্রমের মূল্যায়ন হলে ভাল লাগে। পিচ নিয়ে নানা কথা হয়, কিন্তু আমরা সবসময় বোর্ডের নির্দেশিকা মেনে চলি। অতীতেও চলেছি, ভবিষ্যতেও চলব।এ বারের আইপিএলে ইডেনে সাতটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে একটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। বাকি ছটি ম্যাচে কেকেআর জিতেছে তিনটি এবং হেরেছে তিনটি। অর্থাৎ, উইকেট কোনও এক দলের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক ছিল না। বরং ব্যাটার ও বোলারদুপক্ষের জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করেছে।সংখ্যাতত্ত্বও সেই কথাই বলছে। একদিকে এই মাঠে কেকেআর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ২৪৭ রানের পাহাড় গড়েছে। অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে মোট স্কোর নেমে এসেছে ১৪৮-এ। আবার কেকেআর-লখনউ ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। অর্থাৎ, কখনও ব্যাটারদের স্বর্গ, কখনও বোলারদের লড়াইয়ের মঞ্চক্রিকেটের প্রকৃত ভারসাম্যই তুলে ধরেছে ইডেনের উইকেট।এই ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত বিচারকদের নজর কেড়েছে। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একপেশে ব্যাটিং ট্র্যাক তৈরির প্রবণতা দেখা যায়, সেখানে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করায় বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে ইডেন।তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধু পিচ নয়, রয়েছে গোটা পরিকাঠামোর উন্নয়নও। এখনও ইডেনে প্রবেশ করলেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে চলে যান বাইশ গজের দিকে। ক্রিকেটার ও অধিনায়ক জীবনের পুরনো অভ্যাস আজও অটুট। মাঠের প্রতিটি খুঁটিনাটি, দর্শকদের সুযোগ-সুবিধা, আউটফিল্ডের মানসবকিছু নিয়েই নিয়মিত নজর রাখেন তিনি।সৌরভের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রিকেট মহলে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। মাঠকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সুজনের অভিজ্ঞতা এবং সৌরভ-সঞ্জয়ের তত্ত্বাবধান মিলিয়ে ইডেন আবারও প্রমাণ করল কেন তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের মক্কা বলা হয়।কেকেআরের ট্রফি-স্বপ্ন এ বছর অপূর্ণ থেকে গেলেও কলকাতার ক্রিকেট সংস্কৃতির জয় হল। দেশের সেরা মাঠ ও পিচের স্বীকৃতি ফের একবার তুলে ধরলশুধু ইতিহাস নয়, বর্তমানেও ভারতীয় ক্রিকেটের মানদণ্ড হয়ে রয়েছে ইডেন গার্ডেন্স।

জুন ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কোহলির ব্যাটে ইতিহাস, গুজরাতের ঘাঁটিতে পরপর দু’বার আইপিএল জয়ের মুকুট বেঙ্গালুরুর

অহমদাবাদের বিশাল নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম যেন এক সময় বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠে পরিণত হয়েছিল। গ্যালারির অধিকাংশ অংশ জুড়ে ছিল লাল জার্সিধারী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। সেই আবহেই আরও একবার আইপিএলের সিংহাসনে বসল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ফাইনালে গুজরাত টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ল তারা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিরাট কোহলিযিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রানতাড়াকারী বলা হয়।১৫৬ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বেঙ্গালুরুকে। ওপেনিং জুটিতে বিরাট কোহলি ও বেঙ্কটেশ আয়ার গুজরাতের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই হাঁটুতে আঘাত পেলেও বেঙ্কটেশ নিজের স্বাভাবিক খেলা থেকে সরে আসেননি। বরং আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। একের পর এক বাউন্ডারি ও বড় শটে গুজরাতের বোলিং আক্রমণকে ছত্রভঙ্গ করে দেন তিনি।অন্যদিকে কোহলি শুরুতে খানিকটা সময় নিলেও দ্রুত নিজের ছন্দ খুঁজে পান। কাগিসো রাবাডার একটি ওভারেই তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। মাত্র ২১ বলে ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ওঠে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই বেঙ্গালুরু ৭০ রান তুলে ফেলে, যা কার্যত ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।১৬ বলে ৩২ রান করে বেঙ্কটেশ আউট হওয়ার পর কিছুটা আশা জাগে গুজরাত শিবিরে। দেবদত্ত পাডিক্কলও দ্রুত ফিরে যান। কিন্তু কোহলির উপস্থিতি গুজরাতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে থাকে। রশিদ খান মাঝের ওভারে রজত পাটীদার ও ক্রুণাল পাণ্ড্যকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে কোহলি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে।রান তাড়ার শিল্পে তাঁর দক্ষতা আবারও চোখে পড়ে। প্রয়োজনীয় রানরেট কখনও চাপের জায়গায় পৌঁছাতে দেননি। নির্দিষ্ট বোলারদের লক্ষ্য করে আক্রমণ, ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানো এবং ঝুঁকি ও সংযমের নিখুঁত মিশ্রণে এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম দ্রুততম ফিফটিগুলির একটি আসে এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে।পঞ্চম উইকেটে টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের শেষ ধাপটুকু সহজ করে দেন কোহলি। ডেভিডের ২৪ রানের ক্যামিও বেঙ্গালুরুর জয়ের রাস্তা আরও মসৃণ করে দেয়। একবার মাত্র জীবন পান কোহলি, যখন শুভমন গিল তাঁর একটি কঠিন ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগান তিনি।শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে ছক্কা হাঁকিয়েই ম্যাচ শেষ করেন কোহলি। ১২ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে বেঙ্গালুরু। তাঁর ব্যাট থেকে আসে এক চ্যাম্পিয়নের ইনিংস, যা আবারও বড় মঞ্চে তাঁর মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিল।এর আগে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাটীদার। সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন দলের পেসাররা। গুজরাতের সবচেয়ে বড় ভরসা শুভমন গিল ও সাই সুদর্শনকে বিশেষ পরিকল্পনায় বেঁধে ফেলেন জশ হেজ়লউড ও ভুবনেশ্বর কুমার।দুই বোলারই নিয়মিত লেংথ বলের পরিবর্তে শর্ট বলের কৌশল নেন। তাতেই সফলতা আসে। ১০ রান করে শুভমন এবং ১২ রান করে সুদর্শন ফিরে গেলে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাত। এরপর জস বাটলার, নিশান্ত সিন্ধু, রাহুল তেওতিয়াদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।মাঝের ওভারগুলোতে গুজরাতের ব্যাটিং সম্পূর্ণ গতি হারিয়ে ফেলে। পাওয়ার প্লের পর দীর্ঘ সময় কোনও বাউন্ডারি না আসায় চাপ বাড়তে থাকে। একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দর শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। একটি জীবন পাওয়ার পর তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন এবং ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় তাঁর ইনিংস দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দিতে পারেনি।২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে গুজরাতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ রান। বেঙ্গালুরুর হয়ে রাসিখ দার তিনটি উইকেট নেন। হেজ়লউড ও ভুবনেশ্বর দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তাঁদের বোলিংয়েই ম্যাচের ভিত তৈরি হয়েছিল।শেষ পর্যন্ত সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই ব্যাট হাতে কাজ শেষ করেন বিরাট কোহলি। তাঁর নেতৃত্বে নয়, তাঁর ব্যাটের জাদুতেই আবারও আইপিএলের মুকুট উঠল বেঙ্গালুরুর মাথায়। গুজরাতের দুর্গে দাঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে বেঙ্গালুরু শুধু চ্যাম্পিয়নই হয়নি, তারা প্রমাণ করেছেচ্যাম্পিয়নরা চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটাই তুলে ধরে।

জুন ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসি-আয়োজন বিতর্কে বড় মোড়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর; ‘সত্যের জয়’ দাবি উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের

লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগকারী তথা অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত নিজেই সমাজমাধ্যমে এফআইআরের কপি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন।ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শতদ্রু লেখেন, সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ধন্যবাদও জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাঁচটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ, তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ।শতদ্রুর অভিযোগ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত মেসি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আগে তাঁর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল সংখ্যক টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই দাবি পূরণ না করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন শতদ্রু। পরে ওই টিকিটের একটি বড় অংশ কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।মেসির কলকাতা সফর ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ, আমন্ত্রিত অতিথি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী, আমলা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় মাঠের ভিতরে ধাক্কাধাক্কির পরিবেশ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে মেসির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।ঘটনার সময় মেসির সঙ্গে থাকা উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডিপলও বিশৃঙ্খলার শিকার হন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত মাঠের ওই অংশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা।মাঠের বিশৃঙ্খলার রেশ পরে ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে আসে। এই ঘটনার জেরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তকেই। অন্য মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ মে শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাবশালী কয়েকজনের হস্তক্ষেপ এবং নিয়মবহির্ভূত প্রবেশের কারণেই বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠানটি কার্যত ভেস্তে যায়।মেসি-কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠার পরেই অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি অতীতে সরাসরি দায় স্বীকার করেননি।তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক মানের একটি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এত বড় গাফিলতি কীভাবে ঘটল এবং তার দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে বর্তাবে। আপাতত সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীদের নজর মেসি-সফর সংক্রান্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

মে ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২২ বছরের অপেক্ষা শেষ হবে? ডার্বির আগে ট্রফি জয়ের হুঙ্কার ইস্টবেঙ্গল কোচের

দেশের সর্বোচ্চ লিগ জয়ের জন্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের অপেক্ষা দীর্ঘ ২২ বছরের। শেষবার ২০০৩-০৪ মরশুমে দেশের সেরা হয়েছিল লাল-হলুদ। তারপর আইলিগ থেকে দেশের প্রধান লিগ হয়ে যায় আইএসএল। কিন্তু এত বছরেও লিগ ট্রফি ঢোকেনি ইস্টবেঙ্গল তাবুতে। কয়েকবার সুযোগ এসেও হাতছাড়া হয়েছে সাফল্য। সেই দীর্ঘ হতাশা ও যন্ত্রণা খুব ভালভাবেই অনুভব করছেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজো।ডার্বির আগে সাংবাদিক বৈঠকে আবেগঘন বার্তা দিলেন লাল-হলুদ কোচ। তিনি বলেন, একজন সমর্থকের কষ্ট তিনি বোঝেন। ক্লাবে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে বা তিনি থাকবেন কি না, এই সব নিয়ে এখন ভাবছেন না। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ইস্টবেঙ্গলকে আবার ট্রফি জেতানো।অস্কার ব্রুজো বলেন, দেড় বছর আগে যে জায়গায় ছিল ইস্টবেঙ্গল, এখন সেই পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। গত কয়েক বছরে দল কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছিল ফুটবলারদের মানসিকতার উপরেও। তবে এখন ধীরে ধীরে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং জয়ের মানসিকতা তৈরি হয়েছে।এর পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের প্রতি নিজের আবেগও লুকোননি ব্রুজো। তিনি স্পষ্ট বলেন, তিনি নিজেকে ইস্টবেঙ্গলের বড় সমর্থক বলেই মনে করেন। তাঁর কথায়, আমার ভেতরে লাল-হলুদ রংই রয়েছে। সমর্থকদের দুঃখ, হতাশা, যন্ত্রণা সবটাই বুঝি। গত কয়েক বছরে কী হয়েছে, তা আমি জানি। প্রায় দুদশক আমরা লিগ পাইনি। কিন্তু এখন আমরা খেতাব জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।ডার্বির গুরুত্ব নিয়েও মুখ খুলেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তিনি বলেন, এই ম্যাচ দল এবং সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এভাবেই সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে চায় ইস্টবেঙ্গল।বর্তমানে আইএসএল লিগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। তেরো ম্যাচে তাদের পয়েন্ট তেইশ। যদিও ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের থেকে দুটি বেশি ম্যাচ খেলেছে তারা। এগারো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের পয়েন্ট বাইশ। গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লাল-হলুদ, তৃতীয় স্থানে সবুজ-মেরুন। ফলে এই ডার্বি ম্যাচ লিগ জয়ের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে দল জিতবে, তারাই ট্রফির দিকে অনেকটা এগিয়ে যাবে।

মে ১৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • ...
  • 72
  • 73
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

‘কোনও যোগ্য উপভোক্তা অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না', জন্মদিনে মোদীর গ্যারান্টিতে উচ্ছ্বাস মহিলাদের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলায় পালিত হল অন্নপূর্ণা দিবস। এই উপলক্ষে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের ১.৫৮ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য মহিলা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।এদিন কলকাতার সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ১.৫৮ কোটি উপভোক্তার মধ্যে অধিকাংশের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।কোনও যোগ্য মহিলা যেন বঞ্চিত না হন, বার্তা মোদিরঅনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ১২ বছরে রাজ্যের মানুষের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো তাঁদের কাছে পৌঁছত না। আগের তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন দরিদ্র পরিবারগুলি। তবে বর্তমানে বিজেপি সরকার আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।মোদির কথায়, বাংলার মহিলাদের হাতে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, তেমনই এগিয়ে যাওয়ার সাহসও থাকা দরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্নপূর্ণা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনও মায়ের কাছে এই ৩ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার খরচ হতে পারে। কোনও বোনের কাছে তা ওষুধ কেনা কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কাজে লাগতে পারে। পরিবারের ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি মহিলারা সংসারের একাধিক দায়িত্ব সামলান। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চিন্তা কমলে তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মা, বোন ও মেয়েদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের জীবনে নতুন শক্তি যোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রকল্পে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা কাটমানি নেই বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, একজন যোগ্য মহিলাও যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরন্তর কাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির ঘোষণাএদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলায় এই প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে চলা সমস্ত নতুন বাড়ির মালিকানা থাকবে মহিলাদের হাতে।মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতে কমিশন গঠনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীররাজ্যে মহিলাদের উপর অপরাধ ও অত্যাচারের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত চার মাসে রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।রাজ্যের কোনও মহিলাকে যাতে অত্যাচারের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, নেশামুক্ত বাংলা গড়ে তুলতে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগরাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী মাতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাঁর সরকারের আমলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়ের বিয়ে হতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এই ধরনের বিয়ে দিয়েছেন বা বিয়েতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রদীপের আলোয় তৈরি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি! মোদীর জন্মদিনে বাংলার বুকে এলাহি আয়োজন চমকে দিতে বাধ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ পুরুলিয়ায়। এক লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হল। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে পুরুলিয়া ইনডোর স্টেডিয়ামে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর এই বিশাল প্রতিকৃতি। ঝাড়খণ্ডের ১১ জন শিল্পী তিন দিন ধরে পরিশ্রম করে বিভিন্ন রঙের এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। প্রদীপ দিয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।শিল্পী সুজয় কুমার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, গিরিডি ও হাজারিবাগের ১১ জন শিল্পী এই কাজে অংশ নিয়েছেন। সাধারণত বিভিন্ন উপকরণ কিংবা বর্জ্য সামগ্রী ব্যবহার করে মোজাইক শিল্প তৈরি করা হয়। তবে এবার প্রায় এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পুরুলিয়ায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ বছর পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। সেবা সংকল্প অভিযান-এর অধীনে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি ঘিরে পুরুলিয়ায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

দায়িত্ব বাড়লেও বদলায়নি শিকড়ের টান! ১৫০ বছরের মনসা মেলায় পুতুলের দোকানে বিকিকিনিতে ব্যস্ত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা

বিধায়ক হয়েছেন, বেড়েছে দায়িত্ব। কিন্তু শৈশবের স্মৃতি আর পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ঐতিহ্য আজও অমলিন। বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মনসা পুজোর মেলায় পরিবারের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসে সেই কথাই যেন মনে করিয়ে দিলেন বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলাতে দেখা গেল তাঁকে।বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার কাছে এই মেলা শুধুমাত্র পুজো বা উৎসবের জায়গা নয়। তাঁর শৈশবের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই মেলার সঙ্গে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে দেউচা রঘুনাথপুরের এই মেলায় আসতেন তিনি। মেলায় তাঁর বাবা দোকান বসাতেন। বাবার সঙ্গে সেই দোকানে বসে খদ্দের সামলানো, মেলার ভিড় দেখা সবই ছিল তাঁর ছোটবেলার পরিচিত অভিজ্ঞতা।সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবন। শৈশবের সেই দিনগুলি পেরিয়ে বর্তমানে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। বেড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও। তবে সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরনো মেলার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন তিনি।এবার মনসা পুজো উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় ফিরে পুতুলের দোকানে বসেন বিধায়ক। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলানোর সময় তাঁকে দেখতে ভিড় জমান মেলায় আসা মানুষজন। কেউ দূর থেকে তাঁকে দেখেন, আবার কেউ এগিয়ে এসে কথা বলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর এই উপস্থিতি নজর কাড়ে স্থানীয়দের।কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দায়িত্ব ও পদ একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু শিকড় এবং শৈশবের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই মেলায় পরিবারের দোকান আর শৈশবের স্মৃতি যেন ফের একসূত্রে বাঁধল বিধায়ককে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

ব্রিকসের পর হঠাৎ শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক? ভাইরাল দাবিতে তোলপাড়, কী বলল দিল্লি?

ভারতের মাটিতে সদ্য শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দেন। শি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের দুই অধিবেশনেও অংশ নেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে।চিনের গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে বিশেষ বিমানে শিকে চিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিও জানিয়েছে, দাবিটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।এদিকে চিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভাইরাল দাবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের প্রথম অধিবেশনে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেন। দুই অধিবেশনেই তিনি বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।চিনের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর কর্মসূচি শেষ করে বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ সরকারি নথিতে তাঁর সফর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।শুধু শি জিনপিং নন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্বাস্থ্য নিয়েও এমন আলোচনা শুরু হয়।এই ধরনের দাবির বিরুদ্ধে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত শাখা সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো পোস্টকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর স্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্ত্রোপচারের দাবি কোনও সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। একই সঙ্গে চিনের সরকারও এমন কোনও স্বাস্থ্যগত ঘটনার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই দাবিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে চিনের সরকারি নথি রয়েছে। সম্মেলনের পর তাঁর বেজিং ফেরার বিষয়টিও চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে ছড়ানো অসুস্থতার দাবিকে ভুয়ো বলে সতর্ক করেছে। তাই এই মুহূর্তে শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক বা জরুরি অস্ত্রোপচারের দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

নিজের জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের জন্য মোদীর বড় বার্তা! বললেন, ‘আপনাদের ভরসাই আমার শক্তি’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। বাংলার মা-বোনেরা তাঁকে যে ভাবে ভালবাসা ও ভরসা দিয়েছেন, সেই কথাই নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মহিলাদের ভরসা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মা-বোনেরা সবসময় তাঁকে ভালবাসা ও স্নেহ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মীয়তার অনুভূতি তাঁকে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলার মহিলাদের ভরসাই তাঁর শক্তি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলার মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কর্মসূচি রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৩ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এ বার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারে মহিলাদের উপর অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সামলানোর পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনও রয়েছে। হাতে কিছু অর্থ থাকলে জরুরি খরচ নিয়ে তাঁদের চিন্তা কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি কাজ করা এবং কম কথা বলা। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদের পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প নিয়েও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম কেনার সহায়তা এবং ঋণের সুবিধা পেতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদের প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ রয়েছে। ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ।ফলে মোদীর জন্মদিনে বাংলায় একদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, অন্য দিকে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের বর্ষপূর্তিদুই কর্মসূচিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা এবং কারিগরদের জন্য প্রকল্পের সুবিধা ঘিরে এ দিন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের অর্থসাহায্য এবং বিশ্বকর্মা প্রকল্পের কর্মসূচিদুই ক্ষেত্রেই সরকারি ঘোষণাই এখন মূল বিষয়।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

পথ খরচ নিতে গিয়েই ফাঁদে! চার দশক পর কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেতা আকাশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ব্যাগে মাওবাদী সংগঠনের বই, পুস্তিকা এবং কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি পিপলস ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কাজ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।২০০৪ সালে সিপিআই মাওবাদী সংগঠন তৈরি হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন অসীম। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনে তাঁর সক্রিয়তা আগের মতো ছিল না বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর জঙ্গলমহল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন আকাশ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের বাংলায় আসার চেষ্টা করেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে পুলিশের অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের কয়েক জন সদস্য গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক জন আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়। এরপর বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশ দীর্ঘদিন জঙ্গলে থাকার পর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের ব্যথার কারণে প্রায় চার দশক পর তিনি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। জঙ্গলে একটি একে-৪৭ এবং কিছু নথিপত্র রেখে তিনি গাড়িতে করে বাইরে বেরিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।এর পর আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বরং কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জঙ্গলমহলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই পরিকল্পনার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনের জন্য পরিচিত এবং আত্মীয়দের কয়েক জনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখনও জায়গা বদল, কখনও ছদ্মবেশসব রকম ভাবে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।আকাশের স্ত্রীও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনিও মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।আকাশের গ্রেপ্তারের পর বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মাওবাদী দমনে যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি থেকে সংগঠনের বর্তমান বা অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
কলকাতা

১৩ বছর পর ফের খুলবে মহাকরণের দরজা? মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষের পথে

পুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানায় বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন আমলার জন্যও ঘর তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর আগেই মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্মের একটি বড় অংশ শুরু হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।মহাকরণে সংস্কারের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর এবং আরও পাঁচ মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দারের জন্য মহাকরণে ঘর তৈরির কাজ চলছে। মহাকরণের তৃতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহ্যবাহী এই ভবন থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মহাকরণ সংস্কারের সামগ্রিক দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কী ভাবে সংস্কারের কাজ এগোবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।মহাকরণের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দফতর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েই সেই সময় প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সরানো হয়েছিল।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকরণ সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণে তাঁর জন্য ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।এখন সেই প্রস্তুতিতেই আরও গতি এসেছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পুজোর আগেই কি নবান্নের বদলে মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ও আমলাদের ঘর তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে বহু বছর পর ফের মহাকরণে রাজ্য প্রশাসনের ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal