দিল্লির পথে কি এ বার বাংলা? কালীপুজোর আগেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাতাসে বাড়ছে দূষণের মাত্রা। বাজি ফাটানো শুরু হতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হাওড়া, যাদবপুর ও সল্টলেকের বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। কোথাও কোথাও দূষণের মাত্রা ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে কালীপুজো ও দীপাবলির আগে থেকেই চিন্তায় পরিবেশবিদেরা। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দু’দিন বাজি পোড়ানোর ফলে দূষণ আরও বাড়তে পারে। তা হলে কি দিল্লির মতোই দূষণের কবলে পড়বে কলকাতা?
কালীপুজোয় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক নিয়ম জারি করেছে রাজ্য সরকার। নির্দেশ অনুযায়ী, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। বাজি বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রাখা হয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি কমাতেই এই পদক্ষেপ।
কিন্তু সেই সব নিয়মের মধ্যেও পরিস্থিতি যে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দূষণের পরিসংখ্যানে। কালীপুজোর আগেই বিভিন্ন এলাকায় বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫-এর মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে বেড়েছে। এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র কণা সহজেই শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে। ফলে বাড়তে পারে শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যা।
দূষণের নিরিখে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হাওড়ার ঘুসুরিতে। সেখানে বাতাসে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা পৌঁছেছে ৩৯৭-এ। যাদবপুরেও ছবিটা উদ্বেগজনক। সেখানে এই সূক্ষ্ম ধূলিকণার সর্বোচ্চ মাত্রা ৩১৫। সল্টলেকের বাতাসও দূষণমুক্ত নয়। সেখানে পিএম ২.৫-এর সর্বোচ্চ মাত্রা ৩০৬।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দু’দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ, কালীপুজো ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে এই সময় বাজি পোড়ানোর প্রবণতা বাড়ে। এখনই যদি দূষণের মাত্রা ৩০০ পার করে যায়, তা হলে উৎসবের দিনগুলিতে তা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় এই মাত্রা ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
তাঁদের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে বাতাসের গুণমান আরও খারাপ হতে পারে। বাজির ধোঁয়া এবং বাতাসের পরিবর্তিত পরিস্থিতি মিলিয়ে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্য দিকে, দিল্লির পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতি বছরের মতো এ বারও দীপাবলির আগেই রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা নাগাদ দিল্লির বায়ুর গুণমান সূচক ৫২৫ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করা হয়েছে।
দিল্লির মতো পরিস্থিতি যাতে কলকাতা বা বাংলার অন্য শহরগুলিতে তৈরি না হয়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা। কালীপুজোর আগে থেকেই দূষণের এই বাড়বাড়ন্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বাজি নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে।
- More Stories On :
- Air Pollution
- Delhi
- Kolkata
- West Bengal

