কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারলেন না তাঁর ঠাকুরদা দেবীচাঁদ আগরওয়াল। নাতির মৃত্যুর পর থেকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল তাঁর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবীচাঁদ। রাত পৌনে দশটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একাত্তর বছর।
গত আঠারো জুন প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে পুণের লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন আগরওয়াল। অভিযোগ, সেখানেই পাহাড়ের ধাক্কা দিয়ে তাঁকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কেতনের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। তদন্তকারীদের দাবি, পরিকল্পনা করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
পরিবারের দাবি, নাতির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই গভীর মানসিক আঘাতে ভুগছিলেন দেবীচাঁদ আগরওয়াল। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। শনিবার রাতে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
এদিকে কেতন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। এবার তদন্তকারীদের নজরে এসেছে সিয়া গোয়েলের এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধু। দু'জনের কথোপকথনের একটি চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে সিয়াকে সাংকেতিক ভাষায় কথা বলতে দেখা গিয়েছে। সেই চ্যাটে তিনি বন্ধুকে লিখেছেন, বিয়ের জন্য বিমানের টিকিট কাটতে হবে এবং আধার কার্ডের ছবি পাঠাতে হবে। পাশাপাশি তিনি আরও লিখেছেন, সেই বিয়ে কোনওদিন হবে না। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এই কথোপকথন হয়েছিল। যদিও ওই চ্যাটের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবুও সেই অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিয়া ও কেতনের বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে তাঁদের বিয়ের দিনও ঠিক ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে বিয়েতে রাজি থাকলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন সিয়া। তাঁর দাবি, পারিবারিক চাপের কারণে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে কেতনকে হত্যার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীও সাহায্য করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
- More Stories On :
- Ketan Murder Case
- Grandfather
- Maharashtra

