• ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

বর্ধমানে রহস্যজনক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬, বন্ধ মদের দোকান, হানা চোলাইয়ের ঠেকে

হোটেলের খাবার (মদ?) খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় ফের বর্ধমান শহরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন শম্ভু শর্মা ও ভবানীপ্রসাদ সাঁই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মদ খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। এদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। ভাতের হোটেলে মদকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের বক্তব্য, মদ নয় তাঁরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিল।মদ খেয়ে অসুস্থ না খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু? সেই রহস্য রয়েই গিয়েছে। শনিবার বর্ধমান শহরের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ ছিল। কেন মদের দোকান বন্ধ তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি আবগারি দফতর। তবে মদে খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শহরের অভিযুক্ত হোটেলগুলি থেকে সরকারি মদ ক্যাপটেন উদ্ধার হয়েছে। সেই ক্যাপটেন আদৌ সরকারি কাউন্টার থেকে এসেছে না এর পিছনে অন্য রহস্য আছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে।এদিকে এদিন বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় চোলাইয়ের ঠেকে হানা দেয় পুলিশ ও আবগারি দফতর। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধার হওয়ার মদের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহজে প্রকাশ্যে এলেও এক্ষেত্রে রহস্যজনক ভাবে মৃতদের পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্টে কী উল্লেখ আছে তা জানায়নি পুলিশ। তবে ভাতের হোটেলে মদের অবৈধ কারবারের রমরমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বর্ধমানবাসী।

জুলাই ০৯, ২০২২
রাজ্য

ভাতের হোটেলে বেআইনি মদ খেয়ে বর্ধমানে রহস্যমৃত্যু ৪ জনের, গাফিলতি কার?

ভাতের হোটেলে মদ। অভিযোগ, সেই অবৈধ ভাবে বিক্রি হওয়া মদ খেয়ে মৃত্যু হল চার জনের। মৃতরা হলেন শেখ হালিম (৪০), শেখ সুবরতি (৩৪), চিন্ময় দে (৩৮) ও গৌতম দে (৪২)। মৃতদের বাড়ি বর্ধমান শহরে। বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাড়ি হালিম ও সুবরতির। ময়ুরমহলে বাড়ি চিন্ময় ও গৌতমের। অসুস্থরা ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। তাঁদের খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। তবে শহরের নানা ভাতের হোটেলে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রী নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা শহরজুড়ে তল্লাশি শুরু করে। নড়ে-চড়ে বসেছে আবগারি দফতরেও।জানা গিয়েছে, যে হোটেলে মৃতরা মদ খেয়েছিল সেখান থেকে আবগারি দফতরের অনুমোদিত দেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আবগারি দফতর। ওই মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবে তারা। মদ প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আবগারি দফতর।রহস্যজনক ভাবে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় বর্ধমান শহরে। শুক্রবার সকাল থেকে এডিজি ওয়েস্টার্ন জোন সঞ্জয় সিং ও জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেনের নেতৃত্বে বর্ধমান শহরের বিভিন্ন হোটেল ও ধাবায় হানা দেয় পুলিশ। এদিকে মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্ত হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই প্রাথমিকভাবে বোঝা যাবে মৃত্যুর কারণ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরে জিটি রোডের ধারে মৃত ও অসুস্থরা বৃহস্পতিবার রাতে ওই হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা সবাই কি আলাদা আলাদা হোটেল থেকে মদ কিনে খেয়েছিল? এক মৃতের স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামী আরও চারজনের সঙ্গে মদ খেতে বসেছিল। মদ খাওয়ার পরেই তাঁর স্বামীর খিঁচুনি শুরু হয়। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হতে শরু করে। স্বামীকে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাত খাওয়ার হোটেলে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রী নতুন কোন ঘটনা নয়। তাঁদের বক্তব্য, শহর লাগোয়া ও জাতীয় সড়কের পাশের খাওয়ার হোটেলগুলিতে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রি হয়। কোনও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ও আবগারি দফতর এই বেআইনি কারবার বন্ধ করতে কখনও উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ। স্বভাতই বেআইনি কারবার ক্রমশ বেড়েছে। চিন্ময় ও গৌতমের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য় মদ খেয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেনি।জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন এদিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মদ খেয়ে দুজন মারা গেছে বলে আমরা বর্ধমান হাসপাতাল থেকে খবর পাই। এদিন আরও দুজন মারা যাওয়ার খবর আসে। তবে এই মৃতদের পরিবার মদ খাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমানের কোনও হাসপাতালে কেউ ভর্তি হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আবগারি দফতর মদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠিয়েছে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার রিপোর্ট চলে আসবে।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

"ক্লিক করার আগে ভাবুন" পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও ইউ.আই.টি.-র উদ্যোগে এক অভিনব সাইবার সচেতনতার বার্তা

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের উদ্যোগে ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়র ইউ আই টি সহায়তায় বুধবার বর্ধমান শহরের এক বেসরকারি স্কুলে সাইবার সুরক্ষা ও সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কোভিড উত্তর বর্তমান প্রজন্ম অনলাইন ব্যবস্থার সাথে এতটাই ওতোপ্রত ভাবে যুক্ত তাতে করে এই ব্যবস্থাটাকে কোনও ভাবেই এড়িয়ে চলতে পারা যাবে না। এই সুবিধা ভোগ করেও কি ভাবে আরও বেশী সুরক্ষিত থাকা যায় তাঁর জন্যই সাইবার সুরক্ষা ও সচেতনতা সমন্ধে সম্যক ধারনা থাকা দরকার।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়র ইউ আই টি র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক প্রধান ডঃ শিবকালি গুপ্ত জনতার কথা কে জানান, ছাত্রদের পড়াশোনা ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ঔষধ, টাকা পাঠানো থেকে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট এমনকি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় উপস্থিতি-ও বর্তমানে ডিজিটালি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের এই ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সেই উদ্দেশ্যেই পূর্ব-বর্ধমান জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় আমরা এই সচেতনতা প্রোগ্রাম করছি। তিনি জানান, তাদের এই প্রোগ্রামটির নাম ক্লিক করার আগে ভাবুন (Think Before You CLICK)।ওইদিন ডঃ গুপ্ত ক্লিক করার আগে কি করা উচিত মুলত সেই বিষয়ের ওপরই বেশী প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, এই প্রোগ্রামের জন্য আমদের মুলত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরই বেছে নেওয়ার কারন, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মায়েরা ছেলে মেয়েদের ওপর-ই মোবাইল বা নেট সংক্রান্ত বিষয়ে বেশী নির্ভর থাকে। সেক্ষত্রে ছেলে-মেয়েদের এবিষয়ে সম্যক জ্ঞ্যান থাকলে তাঁরা তাঁদের বাবা-মাকে আগে ভাগেই সতর্ক করে দিতে পারবে।সাইবার ক্রাইম সচেতনতা সভাডঃ শিবকালি গুপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কিছু সতর্কবার্তা দেন, কোনওভাবেই কেউ যেন কোনও অপরিচিত লিঙ্ক-এ ক্লিক না করেন, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে যেন ওটিপি বা ব্যাক্তিগত তথ্য না দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ বা এস.এম.এস.-এ কোনও ফ্রী গিফট বা লোভনীয় লিঙ্ক নিজে যেমন ক্লিক করবেন না, ঠিক তেমনই কাউকে শেয়ারও করবেন না। এই ধরনের লিঙ্ক দেখলেই সরাসরি ডিলিট করে দেবেন।পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান সাইবার ক্রাইম থানা-র সাব ইন্সপেক্টর সাহাবুদ্দিন আহমেদ। ভুল করে ফাঁদে পা দিয়ে ক্লিক বা কোনও ব্যক্তিগত তথ্য বলে দিলে তাঁর পর কি করনীয় সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। তাঁর বিষয় ছিল কি ঘটতে পারে যখন আপনি ক্লিক করে ফেলেছেন (What Happens When You Click)। ইন্সপেক্টর সাহাবুদ্দিন ছাত্র ছাত্রীদের জানান যখন কেউ প্রতারিত হয়েছেন তাঁরা যেন সরাসরি পুলিস প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এছাড়াও তিনি প্রতারিত হলে আইনি ভাবে কি কি করতে হবে সে সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করেন।বর্ধমান শহরের বেসরকারি বিদ্যালয় বর্ধমান মডেল স্কুল-র কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, এই ধরনের প্রোগ্রাম যত বেশি হবে তত সাধরন মানুষ উপকৃত হবেন। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা আজকের এই অনুষ্ঠানের ফলে সমৃদ্ধ হল। আজকের সতর্ক বানী তারা তাদের পরিবারকে বলে আরও কিছু মানুষকে প্রতারণা হওয়া থেকে আটকাতে পারবে। অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল পূর্ব-বর্ধমান পুলিস ও ডঃ শিবকালি গুপ্ত কে বিশেশভাবে ধন্যবাদ জানান সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি বাস্তব সমস্যা নিয়ে সচেতনতা সভা বর্ধমান মডেল স্কুল-এ আয়োজন করার জন্য।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

দেওয়ানদিঘীতে পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন কাকলি তা গুপ্ত

বর্ধমানের দেওয়ানদিঘীতে সর্বসাধারণের জন্য পানীয় জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। সরাইটিকর গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি রূপায়ন করেছে বর্ধমান রোটারি ক্লাব। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুবিধার্থে এই জল প্রকল্প কাজে আসবে বলে জানিয়েছেন কাকলি তা গুপ্ত। পানীয় জল পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ।দেওয়ানদিঘী মোড়ে বহু মানুষের যাতায়াত। এখান থেকে অনেকেই দূরদূরান্তের বাসে যাতায়াত করেন। নানা কাজে দেওয়ানদিঘী এলাকায় বহু সাধারণ মানুষের আনাগোনা। তীব্র গরমে পথিকদের স্বার্থে এই পানীয় জলপ্রকল্প খুবই উপযোগী, বলেন বিডিএ-র চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত। ব্যক্তিগত ভাবে এই প্রকল্প রূপায়নের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ডা. গোলাম মহম্মদ, বর্ধমান ১-এর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিরূপ ভট্টাচার্য।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

কিডনি বেচে অভাবের সংসার চালাতে ফেসবুকে পোস্ট বর্ধমানের যুবকের, শোরগোল শহরজুড়ে

করোনা শুধু জীবন কাড়েনি, বেঁচে থাকলেও তার রসদ ছিনিয়ে নিয়েছে। করোনা আবহে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের পেশা, কাজ হারিয়ে গিয়েছে। অভাব-অনটন বেড়েছে লাখো লাখো সংসাসারে। এবার বেঁচে থাকার তাগিদে সোশাল মিডিয়ায় কিডন বিক্রি করার আবেদন জানালেন বর্ধমান শহরের প্রতিবন্ধী যুবক। তাঁর এই পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে। বর্ধিষ্ণু শহরের হলটা কী! শেষমেশ কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন একেবারে প্রকাশ্য়ে। তবে জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে।নিজের কিডনি বিক্রি করবে বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বর্ধমানের টিকরহাটের ভাড়া বাড়িতে থাকা প্রতিবন্ধী যুবক সম্রাট গোস্বামী। যুবকের পরিবারের রয়েছে স্ত্রী ও এক সন্তান। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন সম্রাট। পরে কম্পিউটারে কোর্স করে সম্রাট একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটা অপারেটরের কাজে যোগ দেন। লকডাউনের সময়ে সেই কাজ চলে গিয়েছে। সেই থেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সম্রাটের পরিবার। এমনকী অন্নসংস্থানের জন্য লোকের বাড়িতে পরিচারিকারকাজ শুরু করেছেন সম্রাটের স্ত্রী মণীষাদেবী। মণীষা জানিয়েছেন, তিনি দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে পান মাত্র ২৪০০ টাকা। অথচ বাড়ি ভাড়া মেটাতে হয় তিন হাজার টাকা। এরপর রয়েছে খাওয়া ও অন্যান্য খরচ।সম্রাট এদিন বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক চেষ্টা করেও রোজগারের পথ খুঁজে পাইনি। তা নিরুপায় হয়ে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আশা একাটাই, ক্রেতা মিলে গেলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে রুটি রুজি জোগাড়ের একটা পথ তৈরি হবে। মণীষার আবেদন, সরকার বা কোনও সহৃয় ব্যক্তি তাঁর স্বামীর একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা বেঁচে যাবে।সম্রাটের বোন বনশ্রীও কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, লকডাউনে আমাদেরও কাজ চলে গিয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থআকি{ শুনেছি কিডনি বিক্রি করলে মোটা টাকা পাওয়া যায়। তাই আমার স্বামী ও আমি দুজনেই কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার প্রক্রিয়া বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলে বুঝতে পারি আমরা প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছি। তাই আর কিডনি বিক্রি করা হয়নি। আমাদের পরিবারও বহু কষ্টে আছে। ভাই সোশাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির পোস্ট করেছে। কিন্তু চাইলেই তো আর কিডনি বিক্রি করা হবে না, ক্রেতাও তো পেতে হবে। তাছাড়া ভাই মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ। সেদিকটাও মাথায় রাখতে হবে।সম্রাট ও বনশ্রীর বাবা মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরসভার কর্মী ছিলেন। সঙ্কটে সেই পুরসভাও পাশে দাঁড়ায়নি। অভিযোগ, এক হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সামান্যই। তাই ছেলে বউয়ের মুখ চেয়ে এখন সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনির ক্রেতা খুঁজছেন সম্রাট। বিষয়টি জানার পর ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমা শাসক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন,আইন মেনে পরিবারটিকে সমস্ত রকম সাহায্য করা হবে।

জুন ১৯, ২০২২
রাজ্য

আরবি ছেড়ে চিকিৎসক হওয়ার নেশায় মশগুল সপ্তম স্থানাধিকারী ফারুক

হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় সেরা ১০ এ স্থান করে নিলেন শহর বর্ধমানের ছাত্র। পুর্ব-বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষের বারিশাল গ্রামের আদি বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল্লাহ বারিশাল হাইস্কুলের আরবি ভাষার শিক্ষক। মা সৈয়দ আসমা সুলতানা গৃহবধূ। তাঁদের দুই সন্তান। তাঁর মধ্যে ফারুক-ই ছোট। ফারুকের দাদা সৈয়দ মহম্মদ জুবের এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে বর্ধমানের এক স্কুল থেকে। ফারুক সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত তার বাবার যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন সেখানেই পড়তেন। পাঁচ বছর আগে সৈয়দ আব্দুল্লাহ সপরিবারে বর্ধমানের ভাতছালায় বসবাস করতে থাকেন। তিনি ফারুক ওমরকে বর্ধমান হাইমাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছিলেন তিনি।ফারুকের প্রিয় বিষয় আরবি ভাষাশিক্ষা। তাঁর বাবা জানান, ছোট থেকেই তাঁর স্মরণশক্তি ছিল ঈর্ষনীয়। সোমবার হাইমাদ্রাসা পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে জানা যায়, ফারুক মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেছেন। ফারুকের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তিনি জানান, বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে ইচ্ছা। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে আছে। চিকিৎসক হলে বহু মানুষের সেবা করতে পারব।ফারুক বাংলায় ৯৪, ইংরাজিতে ৯১, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৬, জীবনবিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৮, ভূগোলে ৯৬, ইসলামিক পরিচয়ে ৯৫ এবং আরবিতে ৯০ পেয়েছেন। তিনি হাইমাদ্রাসা পরীক্ষায় মোট ৭৬৭ নম্বর পেয়েছেন। বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, ফারুক আরবি ভাষায় খুব দক্ষ। ভেবেছিলাম, ওই ভাষা নিয়ে গবেষণা করবে ছেলে। তিনি বলেন আমি বা পরিবার জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবো না। অর মন যা চায়, তা-ই করবে।বর্ধমান-১ সমষ্টি উন্নয়ন দপ্তরের এলাকায় অবস্তিত বর্ধমান হাইমাদ্রাসার-র ছাত্র হওয়ায় ওই দপ্তরের যুগ্ম-সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারীক সন্দীপ চাঁদ ও বিআইও খন্দেকর জাহির আলি আহমেদ ভাতচালা-য় ফারুকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে আসেন। ব্লকের তরফ থেকে তাঁকে পুষ্প স্তবক, মিষ্টান্ন ও মানপত্র প্রদান করা হয়। বিআইও জাহির জনতার কথা কে জানান, যে কোনও সাফল্য-ই আনন্দের। ফারুক যেভাবে এক প্রত্যন্ত গ্রাম্য পরিবেশ থেকে উঠে এসে নিজেকে রাজ্য স্তরে প্রতিষ্ঠিত করল সেটা সত্যিই তারিফ করার মত। কোভিড অতিমারির যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ছাত্রজীবনে পরেছিল তাঁর জন্য তো এই ফলাফল খুবই দৃষ্টান্তমূলক খানিক্টা শাপমুক্তি।

জুন ০১, ২০২২
রাজ্য

ঝুপড়িবাসী সেজে অপরাধ কাজকর্ম চালাচ্ছিল দুই দাগী দুস্কৃতি-সেই ঝুপড়ি থেকেই উদ্ধার প্রচুর চোরাই সামগ্রী-গহনা-আগ্নেআস্ত্র

রেললাইনের ধারে আলাদা আলাদা ঝুপড়ি ঘরে থকতো দুই যুবক। কেউ ঘুণাক্ষরেরও টের পায়নি ওই যুবকরা আসলে দাগী অপরাধী।তবে তাঁরা এলাকাবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে থাকতে পারলেও পুলিশের চোখ এড়িয়ে বেশিদিন থাকতে পারেনি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ হওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশন লাগোয়া ঝুপড়িতে হানা দিয়ে দুই দুস্কৃতিকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল ইমান হোসেন মোল্লা ওরফে রাজা এবং তপন দাস। পুলিশ জেনেছে, ইমানের আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার বাহেরা গ্রামে। আর অপর ধৃত তপনের আদি বাড়ি নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার বাগদিয়া গ্রামে। দুজনেই ঝাপানডাঙ্গার রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থেকে অপরাধ মূলক কাজকর্ম চালাচ্ছিল। পুলিশের দাবী দুই ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর চোরাই সামগ্রী, গহনা, আগ্নেআস্ত্র ও কার্তুজ। নিরীহ সেজে থাকা ঝুপড়িবাসী যুবকদের এই কীর্তির কথা জেনে স্তম্ভিত ঝাপানডাঙ্গার বাসিন্দারা।বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সুপ্রভাত চক্রবর্তী সোমবার জানিয়েছেন, ঝাপানডাঙ্গা রেল স্টেশনের ধারে ঝুপড়িতে থাকতো ইমান হোসেন মোল্লা ও তপন দাস। তাঁরা যে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত তা এলাকার কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায় নি। সম্প্রতি জামালপুর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে ওই যুবকদের অপরাধ মূলক কাজে জড়িত থাকার কথা জানতে পারে। ঝুপড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ প্রথমে ইমান হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানতে পারে অপরাধ মূলক কাজে ইমানের সঙ্গী হল ঝাপানডাঙ্গায় রেল লাইনের ধারে অপর ঝুপড়িতে বসবাস করা যুবক তপন দাস। পুলিশ তাঁকেও গ্রেপ্তার করে।এসডিপিও আরো জানিয়েছেন, দুই ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে নিয়ে তাঁদের ডেরায় তল্লাশী চালানো হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে দামী মিউজিক সিস্টেম, কম্পিউটার সামগ্রী, দুটি মোবাইল ফোন, বেশ কিছু গহনা, এক রাউণ্ড কার্তুজ সহ একটি আগ্নেআস্ত্র ও একটি চোরাই মোটর বাইক। ধৃতদের অপরাধ চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং তাঁদের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে সেই বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের প্রয়োজনে দুই ধৃতকে ফের পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হতে পারে বলে এসডিপিও র কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।

মে ২৩, ২০২২
রাজ্য

জতীয় সড়কে গ্যাস ভর্তি ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ধাক্কা মারল ল্যাংচার দোকানে

আবার ট্যাঙ্কার বিভ্রাট। শক্তিগড় থানার আমড়া এলাকায় গ্যাস ভর্তি ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ধাক্কা মারল ল্যাংচার দোকানে।ল্যাংচার দোকানের কর্মচারীরা ঐ সময় শেডের নিচে বসে ছিলেন। আঁচ পেয়ে তারা সরে যান। দোকানের সামনের শেড দুমড়ে মুচড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে কেউ আহত হয়নি। দমকলের গাড়ি ও ক্রেনের সাহায্যে গ্যাস ট্যাঙ্কারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শক্তিগড় থানার পুলিশ যান নিয়ন্ত্রনে ব্যস্ত। এই এলাকায় সকালের পর আবার যানজট সৃষ্টি হয়।দোকানের মালিক পারভেজ ইসলাম জানান, বড়সর দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেও দোকানে অনেক টাকার আর্থিক ক্ষতি সম্মুখীন হলাম। তিনি জানান, হঠাৎই ট্যাঙ্কারটি অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে ওই ল্যাংচার দোকানে। ওই এলাকায় পরপর ল্যাংচার দোকানে দিনভর বেচাকেনা চলে। প্রচুর মানুষ থাকেন। সেসময় একজন দোকান কর্মচারী ও দুজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা সেখানে ছিলেন। তাদের একজন জগদীশ ভট্টাচার্য জানান, কী ঘটতে পারত ভাবতেই শিউরে উঠছি। হঠাৎই দেখি বোঝাই ট্যাঙ্কার আমাদের দিকে ছুটে আসছে। আমি ধাক্কা দিয়ে একজনকে সরিয়ে নিজেও ছুটে যাই। নইলে চাপা পড়তাম।এই নিয়ে জাতীয় সড়কে একদিনেই দুবার ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনা ঘটল। সকালেই জাতীয় সড়কে তেলের ট্যাঙ্কার উল্টে বিপত্তি ঘটে। বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের মিরছোবায় সকালের ঘটনা ঘটে।কলকাতা থেকে দুর্গাপুরমুখী একটি তেলের ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় দুর্ঘটনার পরই জাতীয় সড়কের একটি লেন এবং সাইড লেনে তেল ছড়িয়ে পরে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্যাঙ্কারের ঠিক পিছনেই ছিল একটি চারচাকা। চারচাকাটি ট্যাঙ্কারের পিছনে ধাক্কা মারে। আবার ওই চারচাকার পিছনে ধাক্কা মারে একটি লরি। চারচাকা গাড়িতে ৪-৫ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে।আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ পৌঁছায়। যায় দলকল ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়।। দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়কের দুর্গাপুর মুখী লেন বন্ধ থাকে।একদিক দিয়েই আপ এবং ডাউন গাড়ি চলাচল করে। প্রচন্ড অসুবিধায় পড়েন যাত্রীরা। বিকেলেই আবার আমরা গ্রামে একইভাবে ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনা ঘটল।এই আমরা এলাকাটিই শক্তিগড় বলে সাধারণের কাছে পরিচিত। ভাগ্যক্রমে এদিন লোকজন কম থাকায় কেউ হতাহত হন নি।

মে ২২, ২০২২
রাজ্য

ডিভের্সের নোটিশ পেয়েই স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে দিল স্বামী

স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে রেখে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে। অপমানিত বধূ তাঁর স্বামী কামাল শেখের দৃষ্টান্ত মূলক সাজার দাবি করে বৃহস্পতিবার মন্তেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবক কামাল শেখের বাড়ি মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম এলাকায়। তিনি ম্যারেজ রেজিস্ট্রি করে একই এলাকা নিবাসী বছর ২০ বয়সী ওই তরুণীকে বিয়ে করেন। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি এখন মন্তেশ্বর কলেজে পড়েন। কামাল শেখ নিজেকে উচ্চশিক্ষিত বলে তাঁকে জানিয়েছিল। সেই কথা তিন বিশ্বাস করেছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে ম্যারেজ রেজিস্ট্রি করে তাঁর সঙ্গে কামালের বিয়ে হয়। যদিও রেজিস্ট্রি বিয়ের পর তিনি বাপের বাড়িতেই থাকতেন। কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন কামাল স্কুলের গন্ডিও পেরোয়নি। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে তাঁকে বিয়ে করেছে কামাল। তাই সে তার ওই স্বামীকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠায়। আর তার পরেই কামাল বেঁকে বসে।তরুণী দাবী করেছে, ডিভোর্সের নোটিশ পাওয়ার পর তাঁদের বাড়িতে হাজির হয়ে কামাল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে যায়। পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলে যায়, তাঁর যে সব আপত্তিকর ছবি সে তুলে রেখেছিল সেগুলি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে। হুমকি মতোই কামাল সেই কাজটাই করেছে। তার জন্য তিনি সামাজিক ভাবে অসন্মানিত হয়েছেন বলে তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন। মন্তেশ্বর থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মে ২১, ২০২২
রাজ্য

রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে কালনা কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সংঘর্ষ- জখম চার পড়ুয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি নিজেই লজ্জায় মুখ লুকোতেন।কারণ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেবে এমনটা তাঁর কাছে ছিল কল্পনারও অতীত। কিন্তু বাস্তবেই শুক্রবার এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা কলেজে। রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে তৃণমূলের দুদল ছাত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালনা কলেজ চত্ত্বর। সংঘর্ষে আহত হন চার জন।তাঁদের মধ্যে এক ছাত্র আবার রক্তাত হন মাথা ফেটে যাওয়ায় ।এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন কালনা নিবাসী আপামোর রবীন্দ্র অনুরাগী।কালনা কলেজ জেলার একটি ঐতিহ্যশালী কলেজ হিসাবেই পরিচিতি পেয়ে আসছে। সেই কলেজ কবিগুরুর একটি নতুন আবক্ষমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলেজে পৌছান কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও কালনা পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। অনুষ্ঠান শুরুর খানিক আগেই বেঁধে যায় অশান্তি। কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে কেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সেই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য ছাত্র ছাত্রীরা কলেজে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেদেয়। বিক্ষোভের জেরে চেয়ারম্যান ও বিধায়ক কেউই আর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না। তারই মধ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সমর্থক ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে দলের অপর গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি। পরে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে পেটাতে শুরু করে। তা নিয়ে কলেজ চত্ত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে নেয়। মারধোরে মাথা ফেটে রক্তাত্ত হয় এক ছাত্র। বেশ কিছু সময় বাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান কার্যত ভেস্তে যায়।এদিনের সংঘর্ষের ঘটনা বিষয়ে কালনা নিবাসী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহ-সভাপতি শেখ নইম আলী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অনিয়ম করে কলেজে নানা কাজ কর্ম হচ্ছে। তা নিয়ে এর আগে সংগঠনের তরফে আমরা কালনা কলেছের প্রিন্সিপালকে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। তবুও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রিন্সিপাল কোন কাজ করেন নি। এদিন কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেটাতেও কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কাউকে জানানো হয় না। অনুষ্ঠানের বিষয়ে শুধু জানতেন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ও পৌরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। এঁরাই কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষের মধ্যে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করতে চাইছে। এইসব বিষয় নিয়েই এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা কলেজে আন্দোলন করছিল। তখন বিধায়কের অনুগতরা লাঠি-সোটা দিয়ে তাদের মারধোর শুরু করে। মারধোরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সদস্য এক ছাত্র রক্তাত হয়। আরও দুজন ছাত্র আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত বিধায়ক পুত্র সহ কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে শেখ নইম আলী জানিয়েছেন।বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সহসভাপতির এইসব দাবী মানতে চান নি। পাল্টা তিনি দাবী করেন, এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছে বহিরাগতরা। তাঁরা কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছে। বিধায়ক আরো দাবী করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ কাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানাবেন, আর কাদের জানাবেন না সেট কলেজ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যাপার। নিমন্ত্রন তো আর জোর করে নেওয়া যায় না। এদিন যাঁরা কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য হলেও আমি তাঁদের সমর্থন করার মতো কিছু দেখছি না। বিধায়ক এও জানান, যাঁরা এদিন কলেজে অশান্তির ঘটনা ঘটালো তাঁদের সবার শাস্তি হোক সেটাই তিনি চান।প্রিন্সিপাল তাপস সামন্ত জানান, মূলত দুটি ডিপার্টমেন্ট এদিন ছোট খাটো করে কলেজে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। কলেজ পরিচালন সমিতি, দুটি বিভাগের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং এলাকার বিধায়ক, চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তা নিয়ে তারা গত দুদিন ধরে জানতে চাইছিল। প্রিন্সিপাল আরো বলেন, ওদেরকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। ভিড় বাড়লে ক্যাওস হবে। তাই এদিন কলেজে যাতে ভিড় কম থাকে তারজন্য বেশী কাউকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয় নি। এইসব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এদিন কলেজে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এমনটা না হলেই ভালো হত ।

মে ২১, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের খাগড়াগড় ফের খবরের শিরোনামে, উদ্ধার জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, গ্রেফতার তিন

জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হিসাবে সংবাদের শিরোনামে এসেছিল বর্ধমানের খাগড়াগড়। দুইজন বাংলাদেশি জেএমবি জঙ্গি বোমা বিষ্ফোরণে নিহত হয়েছে। দেখা গিয়েছিল খাগড়াগড়েই তৈরি হত আইইডির মতো বিষ্ফোরক। এবার ওই অঞ্চলেই জাল নোট তৈরির কারখানার হদিশ পেল পুলিশ। পুলিশি অভিযানে পাওয়া গিয়েছে নকল টাকা, নোট ছাপানোর মেশিনসহ নানান সামগ্রী। পুলিশ জানিয়েছে, এই জাল নোটের কারবারের সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত গোপাল সিং ও বিপুল সরকারের বাড়ি বর্ধমান শহরেই। আরেক ধৃত দীপঙ্কর চক্রবর্তীর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই সূত্র মারফত তাঁরা খবর পাচ্ছিল খাগড়াগড় অঞ্চলে জাল নোটের কারবার চলছে। সেখানো নোট ছাপানো হচ্ছে। খাগড়াগড়ের পূর্ব মাঠপাড়ায় একটি বাড়ির দিকে কড়া নজরদারি চালাতে শুরু করে পুলিশ। খবর নিশ্চিত হতেই আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলেই পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশের জালে ধরা পড়ে তিনজন।এদিন বিকেলে পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেন সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, ধৃতদের থেকে ১২হাজার ৫০০টাকার জাল নোট এবং নোট তৈরির ডাইস, পাউডার, কেমিক্যাল ইত্যাদি উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজত নেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দা সেখ আজাদ জানান, খাগড়াগড় পূর্ব পাড়ায় সিরাজুল ইসলামের বাড়ি। ওই বাড়ি ৪-৫ মাস আগে গোপাল সিং ভাড়া নেয়। তার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি ও একজন পরিচারিকাও থাকে। এলাকায় গোপাল নিজেকে মানবাধিকার কর্মী বলে পরিচয় দিত। গোপাল যে আদতে জাল নোটের কারবারী হতে পারে তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি।

মে ১৯, ২০২২
রাজ্য

কর্মী ঘাটতিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পূর্ব-বর্ধমান সহ রাজ্যের ৪৯০ টি লাইব্রেরির খবরে নড়ে চড়ে বসলো রাজ্য

গ্রন্থাগার অনেক থাকলেও নেই গ্রন্থাগারিক বা গ্রন্থাগার কর্মী। আর তার কারণেই তালা পড়ে গিয়েছে খোদ রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর নিজের জেলা পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ১২ টি গ্রন্থাগ্রারে। আর সারা রাজ্যে তালা পড়েছে ৪৯০ টি গ্রন্থাগারে। এছাড়াও কর্মী হীনতার কারণে রাজ্যের সর্বত্রই এখন দুরাবস্থায় ধুঁকছে গ্রামীন গ্রন্থাগার গুলি। তা নিয়ে হতাশ বাংলার বই প্রেমিরা। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হলেও রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী দাবি করেছেন, কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।যুগযুগ ধরেই বলা হয়ে আসছে অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হল বই। আর গ্রন্থাগার অর্থাৎ লাইব্রেরি হল সেই বইয়েরই আবাসস্থল। তাই মূলত বাঙালির বই পড়ার আগ্রহ থেকেই রাজ্যে ১৫০০টির মতোন গ্রামীন গ্রন্থাগারের উৎপত্তি হয়। তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৫১ টি গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগার দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দেড় শতাধীক গ্রন্থাগার গুলি পরিচালনার জন্যে সরকারী ভাবে প্রথম থেকেই ৩৪০ জন স্টাফ অনুমোদিত হয়ে আছে। আগে ছিলেনও তাই। কিন্তু বর্তমান সময় পর্যন্ত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মী মিলিয়ে ২৬২ জন কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁদের শূণ্য পদে নতুন করে আর কোনও নিয়োগ হয় নি। ফলে এখন পূর্ব বর্ধমান জেলায় কর্মরত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মী মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৮ জন।একই কারণে গোটা রাজ্যেও তৈরি হয়েছে গ্রন্থাগার কর্মীর ঘটতি। দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যে ৪ হাজারের বেশী গ্রন্থাগার কর্মীর পদ এখন শূন্য হয়ে রয়েছে। তারমধ্যে প্রায় হাজারের বেশী গ্রন্থাগারিক (লাইব্রেরিয়ান) শূন্য পদ রয়েছে ।এত বিশাল সংখ্যক গ্রন্থাগার কর্মীর ঘাটতির কারণেই এখন কার্যত ধুঁকছে পূর্ব বর্ধমান সহ গোটা রাজ্যের গ্রামীণ গ্রন্থাগার গুলি।কর্মীদের কথায় জানা গিয়েছে, গ্রন্থাগার গুলির দুরাবস্থা কাটার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তৃণমূল সরকার তৃতীয় বার রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর। গত বছরের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেয়। ২০২১ এর আগষ্ট মাস থেকে গ্রন্থাগারিক শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে রাজ্যের গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের তরফে ঘোষণা করা হয়। তাতে বলা হয়, প্রথম দফায় ৭৩৮ টি গ্রন্থাগারিক শূন্য পদে নিয়োগ হবে। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরিও সেই কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল আজও যেমন দেখা যায়নি, কাজের কাজও কিছু হয়নি। এমনটাই অভিযোগ, দুর্দশাগ্রস্ত গ্রন্থাগার গুলির পরিচালন কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের। তাঁরা এও জানান, সম্প্রতি রাজ্য সরকার রাজ্যের ২৩ জেলা মিলিয়ে মোট ৭৩৭ টি গ্রামীণ লাইব্রেরিতে লাইব্রেরিয়ান শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারও যদি ঘোষণা মতো কাজ না হয় তবে আরো বহু পাঠাগারে তালা পড়ে যাবে।জেলা গ্রন্থাগারিক (পূর্ব বর্ধমান) নির্মাল্য অধিকারী জানিয়েছেন, গ্রন্থাগার কর্মীর সীমাহীন ঘাটতির কারণে জেলায় এখন প্রায় ১২ টি গ্রন্থাগার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাকি গ্রন্থাগার গুলি কোনরকমে সপ্তাহে একদিন বা দুদিন চালু রাখা হচ্ছে শুধুমাত্র সম্পদ টুকু বাঁচিয়ে রাখার জন্যে। তাও সব জায়গায় গ্রন্থাগারিক দিয়েই যে গ্রন্থাগার চালু রাখা যাচ্ছে, এমনটাও নয়। সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার জন্যে এক একজন গ্রন্থাগার কর্মী বা গ্রন্থাগারিককে এখন একাধীক গ্রন্থাগারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এমনকি বহু গ্রন্থাগারিক পদ শূন্য থাকায় বেশীরভাগ জায়গায় গ্রন্থাগার কর্মীদেরকেই গ্রন্থাগার সামলাতে হচ্ছে ।তালা বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা জেলার গ্রন্থাগার গুলির অন্যতম একটি হল জামালপুর সাধারণ পাঠাগার। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে ১৯৩৬ সালে এই পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার পর থেকে ঐতিহ্যশালী এই পাঠাগারটি স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল। কিন্তু গত ৭ মাস কাল যাবৎ এই পাঠাগারটির দরজা তালা বন্ধ হয়েই পড়ে রয়েছে। কারণও সেই একটাই। এই পাঠাগারের পাঠাগারিক ও পাঠাগার কর্মী অবসর নেওয়ার পর তাঁদের শূন্য পদ আজও পূরণ হয় নি। পাঠাগারটির পরিচালন কমিটির সভাপতি অরুপ মল্লিক ও যুগ্ম সম্পাদক দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন,স্বাধীনতার আগে তৈরি হয়েছিল জামালপুর সাধারণ পাঠাগার। কর্মী শূণ্যতার কারণে সেই পাঠাগারের দরজায় যে তালা পড়ে যাবে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধীকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনও অবধি কোন সুরাহার ব্যবস্থা হয় নি। একই রকম পরিণতির অপেক্ষায় দিন গুনছে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুর ব্লকের জাড়গ্রামের মাখনলাল স্মৃতি পাঠাগার। পাঠাগারিক ও পাঠাগার কর্মীরা অবসর নেওয়ার পর এখন একজন মাত্র দপ্তরী কাম বুক বাইন্ডার এই পাঠাগারটির হাল ধরে আছেন। ওই বুক বাইন্ডারই অন্য পাঠাগার সামলে সপ্তাহে ১-২ দিন মাখনলাল স্মৃতি পাঠাগারটি খুল বসছেন। এমন দুরাবস্থায় ধুঁকছে জেলার আরো অনেক পাঠাগার। তাই স্বাভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, কবে কাটবে বাংলার গ্রামীন পাঠাগার গুলির এই দুরাবস্থা?এরই উত্তর পাবার জন্যে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তথা মন্তেশ্বরের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, কাগজে কলমে রাজ্যে লাইব্রেরির সংখ্যা ২৪৮০টি। এর মধ্যে গ্রামে রয়েছে ১৫০০টি লাইব্রেরি। তবে ২৬ টি লাইব্রেরির কোন অস্তিত্বনেই। ২৪৫৪ টি লাইব্রেরির মধ্যে ৪৯০ টি লাইব্রেরি এখন বন্ধ রয়েছে কর্মীর অভাবে। ১৯০০ কিছু বেশী লাইব্রেরি এখন চালু রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৬০০ লাইব্রেরি এখন অ্যাডিশনাল চার্জে চলছে। মন্ত্রী জানান, লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদ পূরণে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হওয়ায় রাজ্যে ৭৩৭টি লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিকঠাক কাজ চললে আগামী চার মাসের মধ্যে ৫০ শতাংশ লাইব্রেরিয়ান শূণ্য পদে ফিলাপ পক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটা হয়েগেলে অ্যাডিশনাল চার্জ আর কাউকে নিতে হবে না। পাশাপাশি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি এও জানান, আমফানে রাজ্যের লাইব্রেরি গুলির প্রায় ১০ লক্ষ বই নষ্ট হয়েছে। আর কোথায় কিভাবে বই নষ্ট হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। গ্রন্থাগার মন্ত্রীর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন লাইব্রেরী খোলা থাকার দিন এবার এবার শেষ হতে চলেছে। এবার থেকে শুধু মাত্র প্রতি সপ্তাহের রবিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে দপ্তর।

মে ১৭, ২০২২
রাজ্য

অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে হাজির হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া

এ যেন একেবারেই উলোট পূরাণ। কোভিড অতিমারির প্রভাব কেটে গেলেও অফলাইনে পরীক্ষা দিতে নারাজ কলেজ পড়ুয়ারা। তাঁরা সরব হয়েছে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবীতে। এমনকি দাবি আদায়ের জন্যে হাজার খানেক কলেজ পড়ুয়া মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে জমায়েত করে বিক্ষোভও দেখায়। যদিও পড়ুয়াদের এই দাবির বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন তা তাঁদের কথাতেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে সমস্ত কলেজ আছে সেইসব কলেজের ছাত্রছাত্রীরাই এদিন অনলাইনে পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কাটোয়া কলেজের ছাত্র কিরণময় ভট্টাচার্য বলেন, কোভিড কাল থেকে এতদিন অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। প্র্যাকটিক্যাল ঠিকমতন হয়নি। এই সময় যদি ইউনিভার্সিটি বলে যে সমস্ত পরীক্ষা অফলাইন হবে তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁরা অফলাইনের পরিবর্তে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার দাবী করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না পর্যন্ত এই দাবী মেনে নিচ্ছে ততক্ষণ বিক্ষোভ চলবে বলে জানান ছাত্র-ছাত্রীরা। গুসকরা মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়া চৈতালী দত্ত বলেন, এখন অফলাইনে পরীক্ষা নিলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। তাই তাঁরা চাইছেন ক্লাস যেহেতু অনলাইনে হয়েছে, সেই কারণে পরীক্ষাও হোক অনলাইনে। একই দাবীতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকেও ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।অন লাইন পরীক্ষার দাবীতে বিক্ষোভযদিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা স্পষ্ট জানিয়েদেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছে। এখনো ওই সিদ্ধান্ত বহাল আছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ৬৩ টি কলেজে ৩৫ হাজার পড়ুয়া আছে বলেও উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন।

মে ১৭, ২০২২
রাজ্য

দাগী দুস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ও তৃণমূল নেতার ছবি, সোচ্চার সিপিএম ও বিজেপি

গুলি ভর্তি পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া এক দুস্কৃতি এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে তৃণমূলের নেতাদের। ধৃত ওই দুস্কৃতির নাম সম্পদ জুই ওরফে বাবু। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সেহারাবাজারের পাওয়ার হাউস পাড়ায়। গত মঙ্গলবার ভোররাতে বর্ধমান-অরামবাগ রোডের ফকিরপুর ঢাল এলাকায় নাকা চেকিং চলার সময়ে সে পাইপগান ও কার্তুজ সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়।বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি ধৃত সম্পদ জুই খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের অত্যন্ত ঘনিষ্ট একজন তৃণমূল কর্মী।যদিও বিরোধীদের এই দাবি মানতে চাননি খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক।রায়না থানার পুলিশ অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো ধৃতের রাজনীতির রং বিচার না করে তাঁকে ওইদিনই বর্ধমান আদালতে পেশ করে।বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে সে ওই বেআইনি আগ্নেআস্ত্র কোথা থেকে পেল এবং কি উদ্দেশ্যে সে ওই আগ্নেআস্ত্র নিয়ে স্কুটিচেপে রাতে বাইরে বেরিয়ে ছিল।ধৃতের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার ফের তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে। তবে সম্পদকে এখন শ্রীঘর বাসেই থাকতে হবে বলে পুলিশ কর্তাদের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বোমা, গুলি ও আগ্নেআস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাজ্য জুড়ে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে। সেই মতো রায়না থানার পুলিশও তৎপরতা জারি রাখে। আর তাতেই পাইপগান ও কার্তুজ সহ সম্পদ জুই এর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে।জেলা বিজেপির সহ- সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,সম্পদ জুই তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে যুক্ত।এমনকি সে নিজেকে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের ঘনিষ্ট বলেই এলাকায় জাহির করতো ।এই সম্পদ জুই কেই রায়না থানার পুলিশ ২০১৮ সালে প্রচুর গাঁজা সহ গ্রেপ্তার করেছিল।মাদক সংক্রান্ত সেই মামলায় সম্পদ জুই দীর্ঘদিন জেলও খাটে।তার পর অপকর্ম চালানোর জন্য সে তৃণমূলে ভিড়ে গিয়ে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল সেটাও সবাই জানে।। সেই সম্পদ জুই গত মঙ্গলবার রায়না থানার পুলিশের নাকা চেকিংয়ে গুলি ভর্তি পাইপগান ধরা পড়ে ।এই ঘটনা তুলে ধরে বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বাবু দাবি করেন , সম্পদ জুই শুধু যে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি করতো এমনটা নয়। সে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবিনচন্দ্র বাগেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ট বলেই সবাই জানেন। তৃণমূলের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের সঙ্গেই দেখা যেত।সেই সব ছবি এখনও সামাজিক মাধ্যমে ঘোরা ঘুরি করছে।পাশাপাশি সৌম্যরাজবাবু এও দাবি করেন,সম্পদ জুই গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরও একবার প্রমান হয়েগেল বগটুই কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি আদৌ কোন কাজেই লাগেনি। তাই শাসক দলের লোকজন এখনও বেআইনি আগ্নেআস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত স্পর্ধা দেখাচ্ছেন।অন্যদিকে খণ্ডঘোষ নিবাসী জেলা সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষ বলেন,পাইপগান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাওয়া সম্পদ জুই যে খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ছিল সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করা ছবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।শুধু বিধায়কই নন,ছবিতে সম্পদ জুই এর গা ঘেঁষে খণ্ডঘোষের আর এক তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরা কেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিনোদ বাবুর দাবি , এটা ব্যতিক্রমী কোন ঘটনা নয়। আসলে এই প্রথম রাজ্যে একটা সরকার চলছে যেটা সমাজ বিরোধী (Anti Social) দ্বারা পরিচালিত । সেই কারণেই শাসক দলের নেতা ও বিধায়কদের কাছাকাছি এখন দুস্কৃতি অথবা সমাজ বিরোধীরাই থাকছে ।এটাই বাংলার সব থেকে বড় লজ্জা বলে বিনোদ ঘোষ মন্তব্য করেন।বিরোধীরা এইসব অভিযোগ করলেও ছবি দেখার খণ্ডঘোষের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ বলেন,এটি সেহারাবাজারে হওয়া তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানের ছবি। তবে আমার পাশে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি যে সম্পদ জুই তা তিনি জানেন না। সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনও না। অনুষ্ঠান চলাকালীন ওই ব্যক্তি কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সেটাও আমার আজানা। ছবিটা কিভাবে ছড়িয়ে গেল সেটাই বুঝতে পারছেন না বলে বিধায়ক নবীনচন্দ্রবাগ জানিয়েছেন। অপর তৃণমূল নেতা সঞ্জীব হাজরাও একই ভাবে জানিয়েদেন, সম্পদ জুই কে তিনি চেনেনই না। ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরও কেউ নন। রাস্তার ধারে রাতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠান চলার সময়ে কখন ওই ব্যক্তি তাঁর ও বিধায়কের পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন সেটাও অজানা বলে সঞ্জীব বাবু জানিয়েছেন।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

টাওয়ার বসানোর নামে বড়সড় প্রতারণাচক্র পুলিশের জালে, বর্ধমানে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

টাওয়ার বসানোর বড়সড় প্রতারণচক্রের পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানা। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীর হাতে তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।মাঝে-মধ্যেই মোবাইলের টাওয়ার বসানো নিয়ে কোনও কোনও না চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর সেই ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। তখন আর হা-হুতাশ করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এবার পরিত্রাতার ভূমিকায় পুলিশ। এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তৎপরতায় সাইবার ক্রাইম থানার প্রচেষ্টায় উদ্ধার হয়েছে প্রতারণার পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান উল্লাসের বাসিন্দা ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জীর কাছে তাঁর হাসপাতালের ছাদে রিলায়েন্স জিও ইনফোকম টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব আসে। একইসঙ্গে মোটা অংকের রিটার্নের প্রলোভন দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন চার্জ, ফিজ, ফিক্সড ডিপোজিট-এর নাম করে ২০ লক্ষের ওপর টাকা ওনার কাছ থেকে নেওয়া হয়। উনি পরে প্রতরণার শিকার হন বুঝতে পেরে গত গতবছর ৮ নভেম্বর এই বিষয়ে ডঃ দেবব্রত ব্যানার্জী পূর্ব বর্ধমান সাইবার থানায় কেস করেন। সাইবার থানা ঘটনার তদন্তে নেমে গতকাল এই কেসের আসামিকে গ্রেফতার করে। প্রতারিত হওয়া পুরো ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা উদ্ধার করে অভিযোগকারীকে ফিরিয়ে দেয়।

মে ১৩, ২০২২
রাজ্য

অজস্র ডিম সমেত একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধার করে আগলে রেখেছেন বন কর্মীরা

বর্ষা নামতেই বনকর্মীদের তৎপরতায় একের পর এক জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে ডিম সমেত বিষধর সাপ। এখন বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে বনদফতরের কর্মীদের রক্ষণাবেক্ষনে ও পরিচর্যার মধ্যে ডিম আগলে রয়েছে বিষধর সাপ গুলি। ডিম ফুটে কবে সাপের বাচ্চা বের হয় তারই অপেক্ষায় এখন অপেক্ষমান বন কর্মীরা।বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দিনের মধ্যে শহর বর্ধমান সহ জেলার অন্য কয়েকটি জায়গা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬টি গোখরো ও ৪ টি চন্দ্রবোড়া রয়েছে। বর্ধমান শহরের সরাইটিকর ভাসাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি ডিম সমেত প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করা হয়। রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। মা সাপটিকে ডিম থেকে সরিয়ে উদ্ধার করতে হিমসিম খেতে হয়। ডিম সমেত সাপটিকে রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। সেখানেই পরে আরো ১১টি ডিম পাড়ে ওই সাপটি। এরপর ফের গত মঙ্গলবার রায়না থানার বাঁকুড়া মোড় এলাকার একটি রাইস মিলের ভিতর থেকে ২৭টি ডিম সহ প্রায় চার ফুট লম্বা একটি মা গোখরো সাপ উদ্ধার করে বন কর্মীরা। এই সাপটি ও তাঁর ডিম গুলিও রমনা বাগান অভয়ারণ্যে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে।রমনাবাগানে কর্মরত বন দফতরের এক আধিকারিক অনিয়েছেন, ডিম সমেত মা সাপ গুলিকে প্রথমে কয়েকদিন একসঙ্গে রাখা হয়। কারণ সেই সময়ে সাপ ক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। ফোঁসফোঁস আওয়াজ করে। ডিমগুলি ছেড়ে যেতে চায় না। ঝুঁকি নিয়ে তাদের সরানো হয়। আধিকারিকের কথায় আরও জানা গিয়েছে, প্রথমে ডিম গুলি দুটি পৃথক বাক্সে রাখা হয়। ডিম ফোটানোর জন্য বিশেষ পদ্ধতি নেওয়া হয়। যাতে বাক্সের মধ্যে তাপমাত্রা ঠিক থাকে।সেই মত ব্যবস্থাও নেওয়া হয় যাতে ২৬ থেকে ২৮দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চা বেরিয়ে আসার পর প্রথম কিছুদিন তাদের পিঁপড়ে খাওয়ানো হবে। পরে মাংস দেওয়া হবে। একটু বড় হয়ে গেলে সেগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। জেলার বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, বর্ষা শুরুর প্রাক্কালে সাপের উপদ্রব বাড়তে শুরূ করায় মানুষজনকে সতর্ক ও সচেতন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে বন দফতর।

মে ১১, ২০২২
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ায় আকাদেমী পুরস্কার ফেরালেন বাংলার লেখিকা

বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আর তা জানার পরেই প্রতিবাদ স্বরুপ অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা ত্যাগ করলেন বর্ধমানের খাগড়াগড় নিবাসী লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন ।পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া অন্নদাশঙ্কর সম্মামনা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যদিও লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।এই বছরই প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যাঁরা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাঁদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি।তারা বাংলার বেশ কাছু পথিতযশা সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে কবিতা বিতান কাব্যগ্রন্থের জন্যে প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনিত করেন। সোমবার ২৫ শে বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্য সরকার আয়োজিত কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা আকাদেমি রিট্রিভার্সিপ পুরস্কার পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দবতরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গান সহ নানা বিষয়ে গবেষণা রয়েছে। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০ টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার। পাশাপাশি রত্নাদেবী এও বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেনে তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন ,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে পাওয়া আকাডমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় দাবী করেন, সোমবার মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। কারণ এতে পুরস্কারের গরিমা রক্ষিত হয়নি। তিনি মনে করেন, সাহিত্য সাধনার বিষয়। সেই সাহিত্য বিষয়ে কাউকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি কোনওভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে না।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

শহর কলকাতার অনুকরণে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের পরিচিতিতেও স্থান করে নিলেন বিশ্বকবি ও বিদ্রোহী কবি

মনীষীদের নামেই পরিচিতি পেয়ে আসছে বাংলার রাজধানী শহর কলকাতার একাধীক রাজপথ। তা নিয়ে কলকাতাবাসীর গর্বের অন্ত নেই। তবে আর শহর আঁকড়ে থাকা নয়। এবার শহর ছাড়িয়ে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের নামকরণেও জায়গা করে নিলেন বাংলার মনীষীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে চালু হল বাইপাশ রোড। শুধু মনীষীদের নাম দিয়েই দায় সারেননি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্তারা। সুসজ্জিত বেদী তৈরি করে বাইপাশ রোডের এক প্রান্তে কাজী নজরুল ইসলাম আর অপর প্রান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তিও বসানো হয়েছে।কবিগুরুর জন্মদিবস সোমবার ঘটা করে পালিত হয় জামালপুরে। ওই দিনই ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আগামী ২৪ মে বিদ্রোহী কবীর জন্মদিবসের দিন তাঁরও মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কলকাতা শহরের অনুকরণে মূর্তি বসিয়ে গ্রামের সড়ক পথের নামকরণ হওয়ায় যারপরনাই খুশি জামালপুর বাসী।ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গায়েছে ,জেলার মেমারি থেকে ৪০ কিমি পথ পেরিয়ে পৌছানো যায় হুগলীর তারকেশ্বর। সেই দিকে যেতে ১৫ নম্বর এই রাজ্য সড়কে জামালপুরের পুলমাথা এলাকা থেকে বাঁক ঘুরে হাফ কিমির মতো পথ গেলেই পড়ে দোবাঁধি এলাকা। এই দোবাঁধি এলাকাতাতেই একই রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি রাস্তা গিয়েছে দামোদরের উপরে থাকা হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুতে ওঠার জন্য। অপর ভাগটি দিয়ে সোজা তারকেশ্বর যাওয়া যায়। বাইপাস রোডটি জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছ অবধি গিয়ে তারকেশ্বর যাবার রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। এই এলাকাটিকে জামালপুর ব্লকের হেডকোয়ার্টার হিসাবেই ধরা হয়। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি নিজস্ব তহবিল থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে এই দোবাঁধি এলাকাতে প্রতিস্থাপন করেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। আর পুলমাথা এলাকায় কাজী নজরুল ইসলামের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয়েছে।পাশাপাশি সমিতির তরফে আনুমানিক হাফ কিমি-র এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথের নাম করণ করা হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল বাইপাশ।এই বিষয়ে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন বলেন, এলাকার উন্নয়নে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি অনেক কাজ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল বাইপাস রোডের দুই প্রান্তের এক প্রান্তে বিশ্বকবি ও অন্য প্রান্তে বিদ্রোহী কবির পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসিয়ে সড়ক পথে একটা পরিচিতি দেওয়া। কলকাতা কিংবা অন্য জেলার মানুষজন যখন গ্রামীন এলাকার এই পথ ধরে যাবেন তখন তাঁরাও শহরের ছোঁয়া খুঁজে পাবেন। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ্য ভূতনাথ মালিক বলেন, সদিচ্ছা থাকলে গ্রামকেও শহরের আদলে সাজানো যায়। আমরা সেই লক্ষেই যেমন এগিয়ে যেতে চাইছি ,তেমনি চাইছি বাংলার বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও মনীষীদের মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জীবন ও দর্শনকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে। তাই পঞ্চায়েত সমিতি এমন কর্মকাণ্ডে সামিল হয়েছে। জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছে যে জায়গায় বাইপাশ রোডটি শেষ হচ্ছে সেই খানে আগামী আর কয়েক মাসের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হবে। তখন বাইপাশ রোডটির এক প্রান্ত রবীন্দ্র- নজরুল বাইপাশ, আর অপর প্রান্ত রবীন্দ্র -বিবেকানন্দ বাইপাশ নামেই পরিচিতি পাবে। ভূতনাথবাবু এও জানান, শ্রীচৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য জামালপুর ব্লকের কুলীন গ্রামের পরিচিতি সারা দেশ জুড়ে রয়েছে। হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান এই কুলীন গ্রাম। এই গ্রামেরই ভূমিপুত্র মালাধর বসু প্রথম ভাগবত শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেছিলেন। সেই মালাধর বসুকে সন্মান জানিয়ে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি মেমারি-জৌগ্রাম রোডের কুলীনগ্রাম সংলগ্ন দত্তপাড়া মোড়ে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর ওই জায়গাটিকে মালাধর বসু মোড় নামেই পরিচিতি দেওয়া হবে।বিডিও (জামালপুর)শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, জামালপুরের বাইপাশ রোডটি দুই বরেণ্য মানুষের পরিচয়ে পরিচিতি পাবে এটাই সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। মূর্তি প্রতিস্থাপনের মধ্যদিয়ে আগামী দিনে বাংলার আরও অনেক গুণীজন ও মনীষীকে জামালপুর বাসীর সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে পালিত বিশ্বকবির ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী

সোমবার সারা রাজ্যে মহা সমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন পালিত হল। কবিগুরু বাংলা ও বাঙালির আবেগ। মানুষের সুখ দুঃখ হতাশা সহ যেকোনও অনুভূতিতেই তাঁর গান আমাদের প্রেরণা। আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁর কবিতা / গানের ছন্দে ছন্দে বেঁচে থাকার অপার অনুপ্রেরণা। কবির কথায়ঃ- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ক্যাথিড্রাল রো তে কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাট্যকার ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবুল বাসার, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা। বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছর একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করল। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়েই প্রাতঃকালীন কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচন্ড দাবদাহের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অকাল গৃষ্মের ছুটি পরে যাওয়াতে তাঁরা কবি প্রনাম আয়োজন করেন সুর্যাস্তের পর।কবি বরণ অনুষ্ঠানসংস্থার প্রানপুরুষ তথা সভাপতি অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, দাবদাহের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় হটাৎ করে গরমের ছুটি পড়ে যাওয়াতে আমরা প্রথমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়ে পড়ি কচি-কাঁচাদের কথা ভেবে। বিগত দু-বছর তাঁরা করোনার চোখরাঙ্গানীতে গৃহবন্দি ছিল। তাই আমরা বিদ্যালয়ের সকলে বসে ঠিক করি, সুর্যাস্তের পর যদি আমরা অনুষ্ঠানটা করি তাহলে বাচ্চাদের আর গরমে কোনও সমস্যা হবে না।তিনি জনতার কথা কে আরও জানান, ছাত্রদের-ই জন্য বিদ্যালয়, তারা সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলে এ আনন্দে-র কোনও মুল্যই থাকে না। বিদ্যালয় তাঁদের পদধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। আজকের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কোনও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলবো না। ছাত্রদের সকলের অনুষ্ঠান-ই ছিলো মনমুগ্ধকর। কবি প্রনাম আদপে গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজা, কবির কথাতেই বলিঃ-শিশু হবার ভরসা আবারজাগুক আমার প্রাণে,লাগুক হাওয়া নির্ভাবনার পালে,ভবিষ্যতের মুখোশখানাখসাব একটানে,দেখব তারেই বর্তমানের কালে।নৃত্য, সঙ্গীত ও নটকে সাজানো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছিলো জমজমাট। এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী-তে তাদের থিম ছিল তবু মনে রেখো...। বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি ডাকঘর নাটক অবলম্বনে একটি ছোট্ট উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। অমলের ঘর থেকে বাইরে আসার আকুল আর্তি মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন নাগ জনতার কথা কে জানান, ডাকঘর নাটকে কবিগুরুর সৃষ্ট এক অমর চরিত্র অমল। অসুস্থ অমলের গৃহবন্দী দশা-য় যে মনকষ্টে ভুগেছে, তা বিশ্ববাসী বিগত দুই বছরে মরমে মরমে বুঝতে পেরেছে। তিনি এক যুগোত্তীর্ণ কবি সাহিত্যিক, সর্বকালে তাঁর রচনা প্রাসঙ্গিক, তিনি শতবর্ষ পুর্বে লিখে গেছেনঃ- আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে--আজি হতে শতবর্ষ পরে।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

কালবৈশাখি-র দাপটে তছনছ বর্ধমান, দূর্গাপুর, কালনা, কাটোয়া ও আউষগ্রাম

টানা দুমাসের প্রখর দাবদাহের শেষে সস্থির বৃষ্টিতে ভিজল দক্ষিণ বঙ্গ। দুপুর থেকেই মেঘের আনাগোনা আকাশ জুড়ে। তাপমাত্রা ৩৫-৩৮ ডিগ্রী র আসপাসে থাকলেও বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতে হাঁসফাঁস করা গরমে মানুষ জন কাহিল হয়ে পড়ে।বিকাল গড়াতেই পশ্চিমের আকাশ কালো হয়ে আসে। ৫:৩০ এর পর বর্ধমান জুড়ে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। সময় গড়াতেই বাতাসের গতি বাড়তে বাড়তে প্রবল ঝড়ের আকার নেয়। সারা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয় কালবৈশাখীর দাপট। আম, লিচু, জাম-র ব্যপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। শহর বর্ধমানে একাধিক জায়গায় ভেঙে পরে বহু গাছ। কালবৈশাখীর দাপটে বর্ধমান শহর ঢোকার মুখে উল্লাস মোড়ে পৌরসভার স্বাগতম গেট ভেঙে পড়ে ব্যাপক যানযটের সৃষ্টি হয়।দূর্গাপুর, পানাগড় ও কাঁকসা অঞ্চলে ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টি হয়। বহু বাড়ির ও পথ চলতি গাড়ির কাঁচের জানলা ভেঙে যায়। দুর্গাপুর শহড়ের টানা ১০ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টি হয়। যা দেখলে তুষারপাত ভেবে ভ্রম হতেই হবে। এ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় সস্তির বৃষ্টি হয়েছে বিকেল ও সন্ধ্যার সময়। নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যু হয় এক ব্যাক্তির। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়েওই ব্যক্তি যাওয়ার সময় মাথায় ওপর গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়। মৃত ব্যাক্তির নাম রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 18
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • ...
  • 40
  • 41
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় সিআইডি, তারপর যা করলেন অভিষেক জানলে চমকে যাবেন

সিআইডির নোটিস ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাঁর কালীঘাটের বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করার পরও সরাসরি তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে পারেননি তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত নোটিস গ্রহণ করেন তাঁর অফিসের এক কর্মী।শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, তিনি কখনও তদন্ত থেকে পালিয়ে যাননি এবং সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর কথায়, দিল্লি থেকে ফিরে বৃহস্পতিবারই তিনি সিআইডি দফতরে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। আগামী চৌদ্দ তারিখ আবারও সিআইডি দফতরে হাজিরা দেবেন বলেও জানান তৃণমূল সাংসদ।সিআইডিকে এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অভিষেক বলেন, সেদিন দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বৈঠক চলাকালীন তদন্তকারীরা নোটিস দিতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর সহকারীকে নোটিস গ্রহণ করার জন্য বলেছিলেন। তবে যদি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর হাতেই নোটিস দিতে হয়, তাহলে অপেক্ষা করতেই হবে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত এবং তদন্ত এড়ানোর কোনও প্রশ্নই নেই।এদিন সিআইডির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, ভবানীভবনে তাঁকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, সেই তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি নিজে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকেই সেই তথ্য বাইরে এসেছে বলে তাঁর সন্দেহ। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় করা ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তে শুক্রবার বিকেলে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডির একটি দল। কিন্তু সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তদন্তকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও জমতে শুরু করে।সূত্রের খবর, ওই সময় কালীঘাটে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। পরে সন্ধ্যা সাতটার পর তিনি বাড়িতে ফেরেন। সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার পর বাড়ির ভিতরে চলে যান। তবে তদন্তকারীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। কিছুক্ষণ আরও অপেক্ষা করার পর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর অফিসের এক কর্মীর হাতে নোটিস তুলে দেন।জানা গিয়েছে, এই মামলায় আগামী ষোলো জুন সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার আগে সই জালিয়াতি মামলায় চৌদ্দ জুন তাঁকে আবার ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হবে।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

৬৩৫ কোটি টাকার ‘বিজ্ঞাপন কেলেঙ্কারি’! মমতা জমানার খরচ ঘিরে বিস্ফোরক শুভেন্দু

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আয়োজিত শিল্প সম্মেলনকে ঘিরে এবার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মানুষের করের টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে, তার পূর্ণ হিসাব সামনে আনতেই তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছেও বিষয়টি পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, জনগণ তাঁদের দায়িত্ব দিয়েছে বলেই কোনও অভিযোগকে উপেক্ষা করা হবে না।একই সুর শোনা যায় রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের গলায়। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ অপচয় বা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিজিবিএস নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কতগুলি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, কতটা প্রকৃত লগ্নি এসেছে এবং শিল্পের ক্ষেত্রে তার বাস্তব ফল কী হয়েছে, সেই তথ্য আগামী সপ্তাহে সরকারের হাতে পৌঁছাবে বলে জানান তিনি।তাপস রায়ের বক্তব্য, শিল্প সম্মেলন হওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরা আসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে কোনও অনুষ্ঠানের জন্য এত বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি বলেন, বাংলায় নতুন শিল্প আনার জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। তাপস রায়ের দাবি, ভবিষ্যতে টাটা-সহ একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে। শিল্পায়নের জন্য জমি নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত সাফল্য তুলে ধরতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী ঘুরেও দেখেন তিনি।এদিকে, বিজিবিএসকে ঘিরে ৬৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

রক্ষাকবচ মিলেছে, কিন্তু বিপদ কাটেনি! এবার নতুন মামলায় অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি

সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ পেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি কমছে না। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। সেই মামলার নোটিস দিতেই শুক্রবার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা।বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের নির্দেশে ভবানীভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে সেই মামলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও অন্য একটি মামলায় তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিআইডি।জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। প্রথমে এই মামলার তদন্ত করছিল বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার শাখা। পরে সেই তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার দুপুরে সিআইডির একটি দল কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে নোটিস সরাসরি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।ঘটনাস্থলে পরে পৌঁছন অভিষেকের আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মেনেই চলছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যেই হাজিরা দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদক্ষেপ করবেন বলে দাবি আইনজীবীদের।উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।অন্যদিকে সই জালিয়াতি মামলাতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সেই মামলায় একাধিকবার তলবের পর সম্প্রতি সিআইডির সামনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

কল্যাণের বিস্ফোরক আক্রমণের পর অভিষেকের জবাব! যা বললেন, তা শুনে চমকে গেলেন সবাই

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা আরও তীব্র হয়েছে। একদিন আগেই দলের হেভিওয়েট সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেকের আচরণ এবং সিদ্ধান্তের কারণেই দলের বড় ক্ষতি হয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কল্যাণকে রাখবেন, নাকি অভিষেককে।এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হলেও পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অনেকটাই সংযত এবং সম্মানজনক অবস্থান নিলেন তিনি।শুক্রবার নিজের বাড়িতে সিআইডির নোটিস পৌঁছনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর সম্পর্কে কথা বলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। অধিকার রয়েছে চারটে কটূ কথা বলার। ছোট থেকে মানুষ করেছেন, বড় হতে দেখেছেন।এরপর আরও নরম সুরে অভিষেক জানান, তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ব্যক্তিগতভাবে খারাপভাবে নেননি। তাঁর কথায়, হয়তো কোনও বিষয় ওনার খারাপ লেগেছে, তাই বলেছেন। আমার কোনও ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম, এখনও করি এবং ভবিষ্যতেও করব।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করা থেকে সরে দাঁড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যের অভিযোগও তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পরেও তিনি প্রাপ্য সম্মান পাননি।এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের সংযত প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের এই মতপার্থক্য আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা! কারা পাবেন টাকা, কারা পাবেন না জানালেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে এবার অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। গত বছর সেই অনুদানের পরিমাণ ছিল এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন সরকারের আমলেও কি সেই অনুদান চালু থাকবে?এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, যেসব ক্লাব আর্থিক সমস্যার কারণে পুজো আয়োজন করতে অসুবিধায় পড়ে, মূলত তাদেরই সাহায্য করা উচিত। যেসব বড় ক্লাবের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নাও হতে পারে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁদের সত্যিই অর্থের প্রয়োজন, তাঁরাই অনুদান পাবেন। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। ফলে এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এ বছর রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর আশা। সেই কারণেই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবে।উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর অনুদান চালু হয়েছিল দুই হাজার আঠারো সালে। তখন প্রতিটি ক্লাবকে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত গত বছর তা বেড়ে এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। পুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ক্লাব প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে অনুদানের ঘোষণা করা হত। নতুন সরকারের আমলে সেই প্রথা বজায় থাকবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের পর এবার মদন! সই জাল মামলায় সিআইডি নোটিসে তৃণমূলে নতুন অস্বস্তি

বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার নতুন মোড়। শুক্রবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দিল সিআইডি। নোটিস পাওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা।মদন মিত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে এসে একটি নোটিস দিয়ে গিয়েছেন। তবে এখনও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় তদন্তের গতি অনেকটাই বেড়েছে। সম্প্রতি এই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি বলেও সূত্রের দাবি।অভিষেককে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চার মাঝেই মদন মিত্রের কাছে সিআইডির নোটিস পৌঁছনোয় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যাঁরা এখনও দৃঢ়ভাবে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মদন মিত্র। তাই তাঁর কাছে তদন্ত সংস্থার নোটিস পৌঁছনোকে ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে।বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে টানাপোড়েন বেড়েছে। দলের একাংশের বিধায়ক ও সাংসদদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই সই জালিয়াতি মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে সিআইডি।অভিযোগ, কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করে গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তেই একাধিক ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এখন দেখার, মদন মিত্রকে ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় কি না এবং এই মামলার তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে।

জুন ১২, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ! উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে থানায় মামলা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও বাড়ল। বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার তাঁর নামে নতুন করে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, হেয়ারস্ট্রিট থানায় জমা পড়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে।এর আগেই গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের একটি সভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এক আইনজীবী অভিযোগ জানান। এবার আরও একটি বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।চলতি বছরের শুরুতে ভোটের প্রচারের সময় ধর্মতলার একটি জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মুখে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।তবে কয়েক মাস পর ফের সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং তা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। তার মধ্যেই নতুন এই অভিযোগ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে। পুলিশ এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।এদিকে, রানি রাসমণি রোডের সভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অভিযোগ নিয়েও চাপের মুখে রয়েছে তৃণমূল শিবির। দুই মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের প্রধান আলোচনার বিষয়।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপূজার অনুদানে আমূল বদল! ‘সবার জন্য নয়’, নতুন নীতির ইঙ্গিত শুভেন্দুর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে আগের মতো সমস্ত পুজো কমিটিকে এক ছাঁচে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসতে চলেছে সরকার।শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকার আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করতে চায়। সেই কারণেই দুর্গাপূজার অনুদান ব্যবস্থার উপর শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপূজার অনুদান প্রতি বছরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০২৫ সালে রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপূজা কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তার আগের বছর এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, ফায়ার লাইসেন্সের ফি মকুব এবং একাধিক প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল পুজো কমিটিগুলিকে।তবে নতুন সরকার সেই মডেলকে পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর এবং বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুজো কমিটি কর্পোরেট স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের সামর্থ্যে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, তাদের সরকারি অর্থ দেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না, তা সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু যেসব কমিটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে, যাদের এই সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।সরকারি সূত্রে খবর, সম্ভাব্য নতুন নীতিতে পুজো কমিটির আর্থিক অবস্থা, বাজেট, স্পনসরশিপের পরিমাণ এবং স্থানীয় সামাজিক ভূমিকার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে অনুদান পেতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হতে পারে পুজো কমিটিগুলিকে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে যেমন সরকারি ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছে, অন্যদিকে সরকারি সাহায্য প্রকৃত প্রয়োজনমাফিক বণ্টনের বার্তাও দিতে চাইছে। বিরোধীদের মতে, এটি জনপ্রিয় একটি প্রকল্পের পরিধি সংকুচিত করার পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও সরকারের দাবিএটি সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।এখন নজর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আসন্ন বৈঠকের দিকে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় কোন ধরনের কমিটিগুলি সরকারি অনুদানের আওতায় থাকবে এবং নতুন নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক কী হতে চলেছে।কর্পোরেট স্পনসর পাওয়া বড় পুজোগুলির জন্য অনুদান অনিশ্চিত, আর্থিকভাবে দুর্বল কমিটিগুলির পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের।

জুন ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal