আবার উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। বিমানবন্দরে নেমেই উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষকে কথা দিয়েছিলেন, বারবার এই অঞ্চলে আসবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই ফের উত্তরবঙ্গে এসেছেন তিনি।
আগামী ১৮ নভেম্বর আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে জনজাতি গৌরব দিবস এবং বীরসা মুন্ডার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও আগামী ২৪ নভেম্বর কোচবিহারের রাস উৎসবের উদ্বোধন করবেন তিনি।
এ দিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে বিজেপির মহামিছিল নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা বিভিন্ন বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার প্রতিবাদ জানাতেই দেশজুড়ে মহামিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। দলের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০-র বেশি মিছিল এবং ১৩৪টি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই এই কর্মসূচি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এ দিন শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কের মিছিলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ অংশ নেবেন।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। শুধু উত্তরকন্যাতেই নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গিয়েও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম থেকেই মাসে দু’বার উত্তরবঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই কথা মেনেই আগামী দিনেও কাজের প্রয়োজনে বারবার উত্তরবঙ্গে আসবেন তিনি।
এ দিন চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলির প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দীপাবলির উপহার হিসেবেই এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উত্তরকন্যা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়াও সেখান থেকে আরও কয়েকটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তাঁদের কটাক্ষও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষ হওয়ার পর রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পরে শিলিগুড়ির বিশিষ্টজনেদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা করার কথা রয়েছে। সমস্ত বৈঠক শেষ করে সরাসরি বাঘাযতীন পার্কে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে বিজেপির মহামিছিলে যোগ দেবেন তিনি। বাঘাযতীন পার্ক থেকে এয়ারভিউ মোড় পর্যন্ত এই মিছিল হবে। ইতিমধ্যেই মিছিল ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ‘বাঘাযতীন পার্ক চলো’ স্লোগানকে সামনে রেখেই এই মহামিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
- More Stories On :
- Suvendu Adhikari
- North Bengal

