বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে যেন গোলবন্যা বইল। দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচজুড়ে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের এই মহারণে ৬-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিল ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে। প্রথম থেকেই একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে। ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন বুকায়ো সাকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি ফরাসি রক্ষণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন। তাঁর গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং বক্সের মধ্যে উপস্থিত বুদ্ধি বারবার বিপাকে ফেলে ফ্রান্সকে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ ছন্দে ছিলেন। তিনি জোড়া গোল করে ম্যাচে ফ্রান্সকে বারবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও আরও বাড়িয়ে নতুন এক কীর্তি গড়েন ফরাসি অধিনায়ক। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
সাকার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়ে আরও তিনটি গোল আসে দলের অন্যান্য আক্রমণভাগের ফুটবলারদের পা থেকে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং ধারাবাহিক কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে ফ্রান্সের রক্ষণকে চাপে রাখে থ্রি লায়ন্স। অন্যদিকে, ফ্রান্সও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় এবং চারটি গোল করে ম্যাচকে টানটান উত্তেজনায় ধরে রাখে।
পুরো ম্যাচে দুই দলের রক্ষণভাগ খুব একটা দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। ফলে আক্রমণভাগের ফুটবলারদের দাপটেই একের পর এক গোল এসেছে। দর্শকদের জন্য এটি ছিল এক নিখাদ বিনোদনের ম্যাচ, যেখানে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ অভিযান ব্রোঞ্জ পদক জিতে শেষ করল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট শেষ করায় স্বস্তির হাসি ফুটেছে ইংল্যান্ড শিবিরে। অন্যদিকে, এমবাপের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সত্ত্বেও চতুর্থ স্থান নিয়েই বিশ্বকাপ শেষ করতে হল ফ্রান্সকে।
১০ গোল, অসংখ্য আক্রমণ, নাটকীয় পাল্টা আক্রমণ এবং সাকার হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।
- More Stories On :
- FIFI World Cup 2026
- Football
- England
- France

