মাঝ আকাশে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েও কীভাবে ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর, এবার সেই ঘটনার আরও বিস্তারিত বর্ণনা সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনে স্মিত জানিয়েছেন, ঘটনার শুরুতে সহ-পাইলট প্রার্থনা করার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁকে সম্মান জানাতে পিছনে তাকাননি তিনি। কয়েক মিনিট পর আচমকাই প্রবল আঘাত অনুভব করেন। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো বিমানে কোনও ধাক্কা লেগেছে। পরে দ্বিতীয়বার আঘাত পাওয়ার পর বুঝতে পারেন, তাঁকেই আক্রমণ করা হচ্ছে।
স্মিতের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম হামলার পর তিনি ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সহ-পাইলট দরজাটি আবার বন্ধ করে দেন। সেই সময় মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরিস্থিতি তখন আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত বুঝতে পারেন, সাহায্য পাওয়ার জন্য তাঁকে আরও একবার চেষ্টা করতে হবে। সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
এর পর ফের ককপিটের দরজা খোলেন স্মিত। দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান, বাইরে কয়েক জন সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। সেই মুহূর্তে যাত্রী ও বিমানের অন্য কর্মীরা ককপিটে ঢোকার সুযোগ পান। পরে তাঁরা হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার এই সিদ্ধান্তই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। সহ-পাইলটের হামলার পর বিমানটি আচমকা অনেকটা নীচে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। স্মিতকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর স্মিত মচ্ছরের সাহস এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্মিতকে ভারত, ইজরায়েল এবং গোটা বিশ্বের নায়ক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষভাবে মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণও জানান।
মাঝ আকাশে ঠিক কী উদ্দেশ্যে সহ-পাইলট হামলা চালিয়েছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও স্মিত কীভাবে দ্বিতীয়বার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলেন, তাঁর নিজের মুখে উঠে আসা সেই বর্ণনা এখন এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সেই সিদ্ধান্ত না নিলে বিমানের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- More Stories On :
- Captain Smith
- Flydubai

