ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা মাসুদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতেই কি এমন পদক্ষেপ করল ইসলামাবাদ?
মাসুদ আজহার ভারতের একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। ওই আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের নেপথ্যে থাকা মাসুদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছে।
২০২১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা মাসুদ আজহারকে গ্রেফতারির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের দাবি ছিল, জইশ প্রধান পাকিস্তানে নেই, আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাসুদ বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহ এলাকায় রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য সামনে আসেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন রেড বুকে মাসুদের নাম রাখা এবং পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো পাকিস্তানের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।
এর মধ্যেই পাকিস্তানের প্রকাশিত নতুন রেড বুক ঘিরেও চর্চা শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় অর্থ জোগান, হামলাকারীদের নৌকা ও রসদ সরবরাহের অভিযোগে ১৯ জনের নাম সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তালিকায় থাকা ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের ছবি এবং তাঁদের কার্যকলাপের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও বাকি দু’জনের ক্ষেত্রে শুধু নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র এবং কূটনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, পাকিস্তানের নতুন পদক্ষেপকে শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা হিসেবে দেখার আগে তার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাসুদ আজহারের অবস্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর ফারাক রয়েছে।
এখন প্রশ্ন, এফএটিএফের বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের মাথার দাম ২০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। পাকিস্তান সত্যিই মাসুদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করে কি না, নাকি এটি কেবল আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল, তা নিয়েই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।
- More Stories On :
- Masood Azhar
- Pakistan

