ইউপিআই লেনদেনে নতুন মাশুল চালু হওয়ার কথা ১৫ অক্টোবর থেকে। তার আগেই দেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যবসায়ীদের একাংশ অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন। কোথাও দোকানের বাইরে পোস্টার দিয়ে জানানো হচ্ছে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হবে না। আবার কোথাও ক্রেতাদের নগদে বিল মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গাজিয়াবাদে এমনই একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে দুই হাজার টাকার বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপর শূন্য দশমিক চার শতাংশ হারে মাশুল বসবে। এই মাশুলের সর্বোচ্চ সীমা প্রতি লেনদেনে ৩০০ টাকা। নিয়মটি ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাধারণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির ইউপিআই লেনদেন এই মাশুলের আওতায় পড়বে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বহু ব্যবসায়িক লেনদেনও মাশুলমুক্ত থাকবে।
সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই মাশুল সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। মাশুল দেওয়ার দায়িত্ব ব্যবসায়ীর। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক এবং অর্থপ্রদানের পরিষেবা সংস্থাগুলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা এই খরচ ক্রেতার উপর চাপিয়ে দিতে না পারেন।
কিন্তু নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাজিয়াবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁর দোকানে সাধারণত দুই হাজার টাকার বেশি দামের পণ্য বিক্রি হয়। ফলে নতুন নিয়মে মাশুলের প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করছেন। সেই কারণেই ক্রেতাদের নগদে টাকা মেটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই ধরনের বক্তব্য এসেছে একটি সৌন্দর্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকেও। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসায় এমনিতেই খরচ বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কম। তার উপর নতুন মাশুলের বোঝা কেন ব্যবসায়ীরা বহন করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ক্রেতাদেরও বুঝতে হবে কোন মাধ্যমে টাকা দিলে ব্যবসায়ীর উপর অতিরিক্ত খরচ তৈরি হবে।
শুধু বড় দামের পণ্য বিক্রির দোকানেই নয়, কিছু মুদিখানা দোকানেও এই নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাধারণত মুদিখানায় দুই হাজার টাকার বেশি অঙ্কের লেনদেন কম হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের কেনাকাটা হয়। তাই নতুন নিয়ম নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের একাংশও সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
মধ্যপ্রদেশের একাধিক পেট্রল পাম্পেও ইউপিআই মাশুল নিয়ে নোটিস দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই কোথাও কোথাও নগদ লেনদেনের উপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মাশুলের অর্থ সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার নিয়ম নেই। কেন্দ্রের বক্তব্য, সাধারণ গ্রাহকের ইউপিআই ব্যবহারে এই মাশুল চাপানো যাবে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের বড় অংশ আগের মতোই মাশুলমুক্ত থাকবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৯৬ শতাংশই এই পরিবর্তনের বাইরে থাকবে।
এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, ব্যবসায়ীদের উপর মাশুল বসলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের একাংশের বর্তমান অবস্থান সেই আশঙ্কাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, কোনও ভাবেই এই খরচ সাধারণ মানুষের উপর চাপানো ঠেকাতে নজরদারি করা হবে।
অর্থাৎ, ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মাশুল চালু হলেও সাধারণ গ্রাহককে ইউপিআই ব্যবহারের জন্য সরাসরি অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যদি মাশুলের আশঙ্কায় ইউপিআই নিতে অস্বীকার করেন বা অন্য ভাবে ক্রেতার উপর অতিরিক্ত খরচ চাপানোর চেষ্টা করেন, তা হলে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
- More Stories On :
- Online Payment
- UPI MDR Charge

