সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেও শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস করাতে পারল না সরকার। এই বিল পেশ ও পাস করানোর উদ্দেশ্যেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি আটকে যায়।
এই সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মূলত মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেই বিলকে আইনে পরিণত করতে নতুন করে সংশোধনী আনা হয়েছিল।
বিলটি নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে এবং ২৩০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩৫২টি সমর্থন, যা জোগাড় করতে পারেনি সরকার।
এই ভোটাভুটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, এতদিন সরকারকে সমর্থন করা বিজেডি-র অবস্থান বদল। দলের নেতা নবীন পট্টনায়কের নেতৃত্বে তাঁদের সাংসদরা আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করেন, যা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।
লোকসভায় শাসক জোটের সাংসদের সংখ্যা ২৯৩, আর বিরোধীদের সংখ্যা ২৩৩। রাজ্যসভাতেও শাসক জোট এগিয়ে থাকলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়ায় আপাতত বাকি দুই বিল নিয়েও এগোবে না কেন্দ্র। এদিকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। এখন কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
- More Stories On :
- Constitution Amendment Bill
- Parliament

